কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪২তম পর্ব

সংখ্যা: ২০৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন- যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

“কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

আদ দীবাজ ফী শরহি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ

ছহীহ মুসলিম শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এ কিতাবখানা লিখেছেন ১০ম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ইমাম হাফিয হযরত জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আবূ বকর সুয়ূত্বী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম মুবারক:

ইন্তিকাল মুবারক: ৯১১ হিজরী।

উক্ত কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে-

(৭৩৯-৭৪১)

وقال الخطابى والقاضى: المراد كلب وصورة يحرم اقتناؤهما، بخلاف ما ليس بحرام من كلب الصيد والزرع والماشية والصورة التى فى البساط ونحوه، وقال النووى: الا ظهر انه عام فى كل كلب وصورة. والسبب فى ذلك: نجاسة الكلب، وان الصور عبدت من دون الله. (الديباج فى شرح مسلم بن الحجاج كتاب اللباس والزينة باب لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب ولا صورة المجلد الرابع الصفحة ۳۱۲ دار الكتب العلمية بيروت- لبنان.

অর্থ: হযরত ইমাম খত্তাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম কাদ্বী আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, হাদীছ শরীফ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে কুকুর ও প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য, যেগুলোর চচা করা হারাম করা হয়েছে। তবে শিকারী, ক্ষেত ও বাড়ি পাহারায় রত কুকুর পোষা এবং প্রাণহীন বস্তুর ছবি বিছানায় ও অন্যকিছুতে আঁকা হারাম নয়। হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ব্যাপকভাবে সর্বপ্রকার কুকুর ও প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের অনুশীলন হারাম। এর কারণ হলো: কুকুর হচ্ছে মৌলিকভাবে নাপাক। আর প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য এগুলোর অনুশীলন হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদতের শামিল। (আদ দীবাজ ফী শরহি মুসলিমিবনিল হাজ্জাজ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: ওই সমস্ত ঘরে বা স্থানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেননা, যে সমস্ত ঘরে বা স্থানে কুকুর ও প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে ৪র্থ খণ্ড ৩১২ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, বইরূত লেবানন)

(৭৪২-৭৪৩)

(كان لنا ستر فيه تمثال طائر) قال النووى هذا محمول على انه كان قبل تحريم اتخاذ ما فيه صورة. (الديباج فى شرح مسلم بن الحجاج كتاب اللباس والزينة باب لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب ولا صورة المجلد الرابع الصفحة ۳۱۴)

অর্থ:(হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমার কাছে একখানা পর্দা ছিলো, যাতে পাখির ছবি ছিলো) হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: এর ব্যাখ্যা হলো এ ঘটনা ঘটেছিলো প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম ঘোষণার পূর্বে। অর্থাৎ প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য যে হারাম তা শরীয়তেরই নির্দেশ। (আদ দীবাজ ফী শরহি মুসলিমিবনিল হাজ্জাজ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: ওই সমস্ত ঘরে বা স্থানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেননা, যে সমস্ত ঘরে বা স্থানে কুকুর ও প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে ৪র্থ খণ্ড ৩১৪ পৃষ্ঠা)

(৭৪৪-৭৪৫)

قال القاضى يحتمل ان معناه ان الصورة التى صورها هى تعذبه بعد ان يجعل فيها الروح. (الديباج فى شرح مسلم بن الحجاج كتاب اللباس والزينة باب لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب ولا صورة المجلد الرابع الصفحة ۳۱۸)

অর্থ: হযরত ইমাম কাদ্বী আয়াদ্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হাদীছ শরীফ-এর তাৎপর্য হলো: জাহান্নামে ওই সকল ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের অনুশীলনকারীদেরকে শাস্তি প্রদান করা হবে যারা রূহ বিশিষ্ট প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করে। (আদ দীবাজ ফী শরহি মুসলিমিবনিল হাজ্জাজ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: ওই সমস্ত ঘরে বা স্থানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেননা, যে সমস্ত ঘরে বা স্থানে কুকুর ও প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে ৪র্থ খণ্ড ৩১৮ পৃষ্ঠা)

মায়ালিমুস সুনান শরহু সুনানি

আবী দাঊদ

সুনানু আবী দাঊদ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এ কিতাবখানা লিখেছেন হযরত ইমাম আবূ সুলাইমান হামাদ বিন মুহম্মদ খত্তাবী বুসতী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ওফাত মুবারক: ৩৮৮ হিজরী। অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে-

(৭৪৬)

فاما الصورة فهو كل ما تصور من الحيوان سواء فى ذلك الصورة المنصوبة القائمة التى لها اشخاص ومالاشخص له. (معالم السنن شرح سنن ابى داؤد كتاب اللباس باب فى الصورة الجلد ۴  الصفحة ۱۹۱ دار الكتب العلمية بيروت لبنان)

অর্থ: হারাম বা নিষিদ্ধ ‘ছূরত’ হচ্ছে জানদ্বার প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য। অনুরূপ দেহধারী প্রাণীর মূর্তি-ভাস্কর্য এবং প্রাণীর দেহহীন ছবি হারাম। (মায়ালিমুস সুনান শরহু সুনানি আবী দাঊদ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান ৪র্থ খণ্ড ১৯১ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ বইরূত, লেবানন)

(৭৪৭)

وفيه دليل على ان الصورة اذا غيرت بان يقطع رأسها او تحل او صالها حتى تغير هيئتها عما كانت لم يكن بها بعد ذلك بأس (معالم السنن شرح سنن ابى داؤد كتاب اللباس باب فى الصورة الجلد ۴  الصفحة ۱۹۲)

অর্থ: দলীল দ্বারা প্রমাণিত যে, যদি প্রাণীর ছবির মাথা কর্তনকরার কারণে তার আকৃতি পরিবর্তন হয়ে (জড় বস্তুর মত দেখা) যায়, তাহলে এমন ছবিতে কোন অসুবিধা নেই। (ময়ালিমুস সুনান শরহু সুনানি আবী দাঊদ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান ৪র্থ খণ্ড ১৯২ পৃষ্ঠা)

 

ফতহুল ওয়াদূদ ফী শরহি

সুনানি আবী দাঊদ

সুনানু আবী দাঊদ-এর এ ব্যাখ্যা গ্রন্থখানা লিখেছেন খাতিমাতুল মুহাক্কিকীন উমদাতুল মুদাক্কিকীন আলিম আমিল হযরত শায়খ আবুল হাসান সিনদী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে-

(৭৪৮)

“ولا تمثال” اى صور ذى الروح. (فتح الودود فى شرح سنن ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۴ الصفحة ۱۵۳ مكتبة لينة. مصر)

অর্থ: “তিমছাল” বিশিষ্ট ঘরে বা স্থানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না” অর্থাৎ রূহ বা প্রাণ বিশিষ্ট প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে রহমতের ফেরেশতাগণ প্রবেশ করে না। এতে প্রমাণিত হয় যে, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য ইত্যাদির অনুশীলন করা হারাম। (ফতহুল ওয়াদূদ ফী শরহি সুনানি আবী দাঊদ অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড ১৫৩ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: মাকতাবাতু লীনাহ মিসর)

(৭৪৯)

(الارقما) اى نفسا فى ثوب. (فتح الودود فى شرح سنن ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۴ الصفحة ۱۵۵)

অর্থ: (তবে যদি ‘রক্বম’ হয় তাহলে জায়িয) অর্থাৎ কাপড়ে প্রাণহীন কিছুর ছবি অঙ্কন করতে দোষ নেই। কিন্তু প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য দোষনীয় বা হারাম। (ফতহুল ওয়াদূদ ফী শরহি সুনানি আবী দাঊদ অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড ১৫৫ পৃষ্ঠা)

আউনুল মা’বূদ লিহাল্লি মুশকালাতি সুনানি আবী দাঊদ

সুনানু আবূ দাঊদ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এ কিতাবখানা লিখেছেন আল মুহাদ্দিছুশ শাহীর আবুত ত্বইয়্যিব শামসুল হক্ব আযীমাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ওয়াত মুবারক: ১৩২৯ হিজরী।

অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত আছে-

(৭৫০)

فاما الصورة فهو كل ما تصورت من الحيوان سواء فى ذلك الصور المنصوبة القائمة التى لها اشخاص وما لا شخص له. (عون المعبود لحل مشكلات سنن ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۴ الصفحة ۱۲۱ فاروقى كتب خانه ملتان)

অর্থ: হারাম বা নিষিদ্ধ ‘ছূরত’ হচ্ছে: প্রানদ্বার প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য। অনুরূপ দেহধারী প্রাণীর মূর্তি-ভাস্কর্য এবং প্রাণীর দেহহীন ছবি হারাম। (আঊনুল মা’বূদ লিহাল্লি মুশকালাতি সুনানি আবী দাউদ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড ১২১ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: ফারূক্বী কুতুবখানা- মুলতান)

(৭৫১-৭৫২)

قال النووى والاظهرانه عام فى كل كلب وكل صورة وانهم يمتنعون من الجميع لاطلاق الحديث. (عون المعبود لحل مشكلات سنن ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۴ الصفحة ۱۲۱)

অর্থ: হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এটাই গ্রহণযোগ্য ফায়সালা যে, নিশ্চয়ই ব্যাপকভাবে কুকুর ও প্রত্যেক প্রকার প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম। এগুলো তৈরি করা, করানো, ঘরে রাখা, রখানো ইত্যাদি সবই হাদীছ শরীফ-এর প্রকাশ্য বর্ণনানুযায়ী নিষেধ তথা হারাম। (আউনুল মা’বূদ লিহাল্লি মুশকালাতি সুনানি আবী দাঊদ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড ১২১ পৃষ্ঠা)

(৭৫৩)

قلت التصوير وكسوة الجدار كلاهما امران منكران انكر عليهما رسول الله صلى الله عليه وسلم. (عون المعبود لحل مشكلات سنن ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۴ الصفحة ۱۲۲)

অর্থ: (ব্যাখ্যাকার হযরত শামসুল হক্ব আযীমাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন) আমি বলি, প্রাণীর ছবি এবং মূর্তি ভাস্কর্য এ দুটি নিকৃষ্ট জিনিষ। যা সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘৃণা করতেন। অর্থাৎ এগুলোর অনুশীলন হারাম ও কুফরী। (আউনুল মা’বূদ লিহাল্লি মুশকালাতি সুনানি আবী দাঊদ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড ১২২ পৃষ্ঠা)

(৭৫৪-৭৫৫)

قال النووى يجمع بين الاحاديث بان المراد باستثناء

الرقم فى الثوب ما كانت الصورة فيه من غير ذوات الارواح كصورة الشجر. (عون المعبود لحل مشكلات سنن ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۴ الصفحة ۱۲۲)

অর্থ: হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, অসংখ্য হাদীছ শরীফ থেকে এটাই মূল ফায়সালা যে, প্রাণহীন কোনকিছুর ছবি যেমন গাছ-পালা ইত্যাদির চর্চা হারাম নয়। (আঊনুল মা’বূদ লিহাল্লি মুশকালাতি সুনানি আবী দাঊদ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড ১২২ পৃষ্ঠা)

(৭৫৬-৭৫৭)

وقال ابن العربى حاصل ما فى اتخاذ الصور انها ان كانت ذات اجسام حرم بالاجماع وان كانت رقما فاربعة اقوال الاول الجواز مطلقا لظاهر حديث. (عون المعبود لحل مشكلات سنن ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۴ الصفحة ۱۲۲)

অর্থ: হযরত ইবনুল আরাবী মালিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এটাই চুড়ান্ত ফতওয়া- দেহধারী প্রাণীর মূর্তি-ভাস্কর্য ইজমা মতে হারাম। তবে যদি রক্বম বা প্রাণহীন বস্তুর ছবি হয় তাহলে এতে চারটি মত। প্রথম মতটি হলো- ইহা জায়িয। যা হাদীছ শরীফ-এর প্রকাশ্য বর্ণনানুযায়ী প্রমাণিত। (আউনুল মা’বূদ লিহাল্লি মুশকালাতি সুনানি আবী দাঊদ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড ১২২ পৃষ্ঠা)

(৭৫৮-৭৫৯)

لان الشجر ونحوه مما لاروح فيه لايحرم صنعته ولا التكسب به من غير فرق بين الشجر المثمرة وغيرها، قال ابن رسلان وهذا مذهب العلماء كافة الا مجاهدا فانه جعل الشجر المثمرة من المكروه. (عون المعبود لحل مشكلات سنن ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۴ الصفحة ۱۲۳)

অর্থ: গাছ ও অনুরূপ রূহহীন উদ্ভিদ বা বস্তু তৈরি করা এবং এর দ্বারা ব্যবসা-বাণিজ্য করা হারাম নয়। এতে ফুল-ফলদার গাছ এবং ফুল ফলবিহীন গাছে কোন হুকুমের পার্থক্য নেই। হযরত ইবনু রাসলান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উক্ত ফায়সালা হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ব্যতীত সকল উলামা কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের। কেননা, হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ফুল-ফলদ্বার গাছের ছবিকে মাকরূহ তানযীহী মনে করতেন। (আউনুল মা’বূদ লিহাল্লি মুশকালাতি সুনানি আবী দাঊদ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড ১২৩ পৃষ্ঠা)

(৭৬০-৭৬১)

وقال الخطابى فى معالم السنن فيه دليل على ان الصورة اذا غيرت بان يقطع راسها او تحل او صالها حتى يغير هيئتها عما كانت لم يكن بها بعد ذلك باس. (عون المعبود لحل مشكلات سنن ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۴ الصفحة ۱۲۳)

অর্থ: হযরত ইমাম খত্তাবী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখা ‘মায়ালিমুস সুনান শরহে আবূ দাঊদ’ কিতাবে বলেন: দলীল দ্বারা প্রমাণিত যে, যদি প্রাণীর ছবির মাথা কর্তন করার কারণে তার আকৃতি পরিবর্তন হয়ে (জড়বস্তুর মত দেখা) যায়, তাহলে এমন ছবিতে কোন অসুবিধা নেই। (আউনুল মা’বূদ লিহাল্লি মুশকালাতি সুনানি আবী দাঊদ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড ১২৩ পৃষ্ঠা)

বযলুল মাজহুদ ফী হাল্লি

আবী দাঊদ

 

সুনানু আবী দাঊদ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এ কিতাবখানা লিখেছেন হযরত আবূ ইবরাহীম খলীল আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে-

(৭৬২)

الا رقما فى ثوب فاستثناه وبهذا يحتج من قال باباحة رقم مطلقا سواء امتهن ام لا، كما هو ههنا وسواء علق فى حائط وهذا مذهب القاسم محمد وغيره وجواب الجمهور عنه انه محمول على رقم على صورة الشجر ونحوه مما ليس بحيوان فانه جائز عندنا. (بذل المجهود فى حل ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۴ الصفحة ۶۹ مكتبة قاسميه ملتان پاكستان)

অর্থ: কাপড়ে ‘রক্বম’ ব্যতীত। যারা প্রাণীর ছবিকে জায়িয ফতওয়া দেয় তারা এ দলীললখানাই পেশ করেন। তা লাঞ্ছনার জন্যই হোক অথবা অলাঞ্ছনার জন্যই হোক।  ইহা জায়িয, যদিও দেয়ালে ঝুলানো থাকে। এ মতামতটি হযরত কাসিম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও উনার মত কতক উলামাগণের।

কিন্তু জমহূর তথা অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম উনারা বলেন, ‘রক্বম’ শব্দটি গাছপালা ও প্রাণহীন বস্তুর ছবির ব্যাপারে প্রয়োগ হয়ে থাকে। আর তা আমাদের মতে জায়িয। (বযলুল মাজহুদ ফী হাল্লি আবূ দাঊদ অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড ৬৯ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: মাকতাবায়ে কাসিমিয়া, মুলতান, পাকিস্তান)

হাশিয়ায়ে সুনানু আবী দাউদ

(৭৬৩-৭৬৭)

قوله لا تدخل الملائكة الخ ظاهره العموم ولكن استثنى الحفظة لانهم لا يفارقون الشخص بكل حال وبذلك جزم الخطابى والداودى وابن وضاح واخرون وقالوا المراد بالملائكة فى هذا الحديث ملائكة الوحى مثل جبريل عليه السلام واسرافيل عليه السلام، واما الحفظة فانهم يدخلون كل بيت لا يفارقون الانسان اصلا الاعند الخلاء والجماع، وقيل المراد ملائكة يطوفون بالرحمة والاستعفار كذا فى العينى. (حاشيه سنن ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۲ الصفحة ۵۷۲ رقم الحاشية ۴ المكتبة الاشرفية بديوبند انڈيا)

অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাণী: “ঐ সমস্ত ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না, যে সকল ঘরে কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে।” হাদীছ শরীফ-এর স্পষ্ট বর্ণনাটি হচ্ছে ব্যাপক। তবে হিফযাহ (সংরক্ষণকারী আমল লিখক) ফেরেশতার হুকুম আলাদা। কেননা, উনারা ব্যক্তির কাছ থেকে কখনোই পৃথক থাকেন না। ইহা ইমাম খত্তাবী, দাঊদী, ইবনু ওয়াদ্বাহ ও অপরাপর উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মত। উনারা বলেন, অত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত ‘মালায়িকা’ দ্বারা ওহীর ফেরেশতা যেমন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসরাফীল আলাইহিস সালাম উদ্দেশ্য। আর ‘হিফযাহ’ ফেরেশতাগণ উনারা প্রত্যেক বাড়ীতে বা স্থানে প্রবেশ করেন, মূলত উনারা কোন মানুষ থেকে সামান্য সময়ের জন্য পৃথক হননা। তবে ইস্তিঞ্জার স্থান ও স্বামী স্ত্রীর একান্ত সাক্ষাতের সময় পৃথক থাকেন। কেউ কেউ বলেন, মালায়িকা দ্বারা রহমত ও মাগফিরাত কামনাকারী ফেরেশতা উদ্দেশ্য, যারা সারা যমীনে পরিভ্রমণ করে থাকেন। অনুরূপ ‘আল আইনী’ তথা উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে উল্লেখ আছে। (হাশিয়ায়ে সুনানু আবী দাঊদ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ২য় খণ্ড ৫৭২ পৃষ্ঠা হাশিয়া নং-৪ প্রকাশনা: আল মাকতাবাতুল আশরাফিয়া দেওবন্দ ইন্ডিয়া)

(৭৬৮)

قوله الارقما الخ المراد به صورة الشجر وغيرها مما ليس بذى روح. (حاشيه سنن ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۲ الصفحة ۵۷۲ رقم الحاشية ۱۱)

অর্থ: হাদীছাংশ ‘কাপড়ে প্রাণহীন নকশা ব্যতীত দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে গাছগাছালী এবং এ ছাড়া যাবতীয় জড়বস্তু যেগুলোর রূহ বা প্রাণ নেই। অর্থাৎ প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা ও এগুলোর অনুশীলন করা হারাম আর প্রাণহীন জড়বস্তু-গাছপালা ইত্যাদির ছবি তৈরি করা জায়িয। (হাশিয়ায়ে সুনানু আবী দাঊদ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ২য় খণ্ড ৫৭২ পৃষ্ঠা হাশিয়া নং-১১)

(৭৬৯-৭৭০)

قال النووى قال اصحابنا وغيرهم من العلماء تصوير صورة الحيوان حرام شديد التحريم وهو من الكبائر واما تصوير صورة الشجر ورحال الابل وغير ذلك مما ليس فيه صورة حيوان فليس بحرام هذا حكم نفس التصوير. (حاشيه سنن ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۲ الصفحة ۵۷۳ رقم الحاشية ۱)

অর্থ: হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের মাযহাবের ও অন্যান্য মাযহাবের উলামায়ে কিরামগণ উনারা বলেন যে, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য ইত্যাদির অনুশীলন করা হারাম, এমনকি শক্ত হারাম। আর তা কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু গাছের ছবি, উটের জিন ও অনুরূপ প্রাণহীন উদ্ভিদ ও জড়বস্তুর ছবি আঁকা হারাম নয়। ইহাই ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের ব্যাপারে মৌলিক হুকুম। (হাশিয়ায়ে সুনানু আবী দাঊদ, অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ২য় খণ্ড ৫৭৩ পৃষ্ঠা হাশিয়া নং-১)

 

(অসমাপ্ত)

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২০

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২১