কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪১

সংখ্যা: ২০৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহরীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহর বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহর আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা) ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

“কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থঃ ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহিল ইমাম মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজিল কুশাইরী অত্র কিতাবখানা লিখেছেন হযরত মাওলানা মুহম্মদ তক্বী উছমানী হানাফী। উক্ত কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা হারাম সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে-

(৭২৪-৭২৭)

وقد يستدل بعض المتجددين على جواز التصوير بقوله تعالى فى قصة حضرت سليمان عليه السلام: “يعلمون له ما يشاء من محاريب وتماثيل وجفان كالجواب وقدور راسيات” قالوا: ان الاية تدل على ان الجن كانوا يعملون لسليمان عليه السلام تماثيل. وقد ذكره الله تعالى فى سياق نعمه، فدل على أن صنع التماثيل ليس بحرام.

ولكن هذا الاستدلال غير صحيح من وجهين: كما صرح به فى اللسان وغيره. الاول أن  التمثال فى اللغة: كل ما صور على مثل صورة غيره، كما صرح به فى اللسان وغيره. فيمكن ان تكون التماثيل التى يعملها الجن لسليمان عليه السلام لغير ذوى الارواح. قال الزمخشرى فى الكشاف فى تفسير الاية المذكورة: ويجوز ان يكون غير صور الحيوان كصور الاشجار وغيرها، لان التمثال كل ما صور على مثل صورة غيره من حيوان او غير حيوان” ويؤده ان تصوير ذوى الارواح كان محرما فى التوراة ايضا. وهذا حكم موجود حتى اليوم فى التوراة المحرفة بايدينا. جاء فى سفر الخروج ۲۰:۲ : “لا تصنع لك تمثالا منحوتا ولا صورة ما مما فى السماء من فوق، وما فى الارض من تحت وما فى الماء من تحت الارض” وجاء فى سفر التثنية ۴: ۱۸۱۶ “لئلا تفسدوا وتعلموا لانفسكم تمثالا منحوتا صورة مثال ما شبه ذكر او انثى، شبه بهيمة ما مما على الارض، شبه طير ما ذى جناح مما يطير فى السماء، شبه دبيب ما على الارض، شبه سمك ما مما فى الماء من تحت الارض” ومن المعروف ان سيدنا سليمان عليه السلام كان يتبع التوراة، فمن البعيد جدا ان يكون يامر بصناعة التماثيل التى حرمتها التوراة. فالظاهر ان التماثيل التى كان يعملها الجن له هى تصاوير ما لاروح له. كالاشجار والازهار ومشاهد الكون الطبيعة.

والوجه الثانى: انه لو ثبت ان حضرت سليمان عليه السلام اذن بصناعة صور ذوى الارواح، فان شرائع من قبلنا لايصح بها الاستدلال اذا وجد فى شريعتنا ما يعارضه. وقد رايت ان النبى صلى الله عليه وسلم نهى عن الصور نهيا اكيدا، وان نهيه صلى الله عليه وسلم هى الحجة لنا، قال الله تعالى: لكل جعلنا منكم شرعة ومنهاجا. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم الجلد ۴ الصفحة ۱۶۲-۱۶۱)

অর্থ: নতুন উদ্ভাবিত (আগাছা প্রকৃতির) কিছু লোক প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য জায়িয প্রমাণ করতে গিয়ে নবী-রসূল হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম সম্পর্কিত কুরআন মাজীদের একখানা আয়াত শরীফ উল্লেখ করে থাকে। মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি বলেন, “হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার ইচ্ছানুযায়ী উনার জন্য জিনরা দুর্গ, প্রাণহীন জিনিসের আকৃতি, হাউজ সদৃশ বিরাট পাত্র ও চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ তৈরি করতো।” (সূরা সাবা-১৩)

তারা (নতুন উদ্ভাবিত আগাছা প্রকৃতির বিদয়াতী ও গুমরাহ লোকেরা) বলে, এই আয়াত শরীফ প্রমাণ করে যে, হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার জন্য জিনরা تماثيل তথা মূর্তি-ভাস্কর্য-প্রাণীর ছবি তৈরি করতো। আর আল্লাহ পাক তিনি সে বিষয়টিই জানিয়ে দিয়েছেন। অতএব, প্রমাণিত হলো- প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা হারাম নয়। নাঊযুবিল্লাহ!

আমাদের ছহীহ জাওয়াব:

এ ব্যাপারে অত্র দলীল পেশ করা দুটি কারণে শুদ্ধ নয়।

প্রথম কারণ:

প্রত্যেক জিনিসের অনুরূপ কোন কিছু তৈরি করাই হচ্ছে تمثال তিমছাল বা ছবি। যেমন, যবান অথবা অন্য কিছু দ্বারা কোন কিছু স্পষ্ট করা। এ স্থানে বা আয়াত শরীফ-এ তামাছীল দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার জন্য জিনরা রূহহীন (প্রাণহীন) জিনিসের আকৃতি তৈরি করেছেন। হযরত আল্লামা যামাখশারী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজের লিখিত ‘তাফসীরুল কাশশাফ’ এ বর্ণিত আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বলেন, প্রাণহীন জিনিসের ছবি-আকৃতি জায়িয। যেমন- গাছপালা ও অন্যান্য জড়বস্তুর ছবি-আকৃতি। কেননা, নিশ্চয়ই প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য এবং প্রাণহীন জিনিসের ছবি-আকৃতির ব্যাপারে ব্যাপকভাবে ‘তিমছাল’ শব্দটি ব্যবহার হয়। এজন্য দেখা যায়, তাওরাত শরীফ-এ প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য ইত্যাদির অনুশীলনকে হারাম বলা হয়েছে। আমাদের যামানায় পরিবর্তিত তাওরাত-এর কিতাবগুলোতে এই হারাম হুকুমটিই পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেমন: “সিফরুল খুরূজ” ২য় খণ্ড ২০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, ‘তুমি মূর্তি-ভাস্কর্য-প্রতিকৃতি প্রাণীর ছবি তৈরি করবে না। তা আকাশের উপর পর্যন্ত যে কোন প্রাণীই হোক, যমীন ও যমীনের নিচ পর্যন্ত স্থানের যে কোন প্রাণীই হোক, পানি ও পানির নিচের মাটি পর্যন্ত যে কোন প্রাণীই হোক। ‘সিফরুত তাছনিয়াহ’ ৪র্থ খণ্ড ১৮১৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, যাতে তোমরা ফিতনা-ফ্যাসাদ তৈরি না কর, আর পরস্পরে জেনে রাখ ফিতনার বিষয়গুলো হচ্ছে- প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য প্রতিকৃতির অনুশীলন করা। যেমন- পুরুষ অথবা মহিলা, যমীনের বিচরণশীল চতুষ্পদ জন্তু, আকাশে উড্ডিয়মান পাখাবিশিষ্ট পাখি, যমীনে বিচরণশীল যাবতীয় প্রাণী এবং যমীনের খাল-বিল, পুকুর, নদী, সাগরের পানিতে বসবাসকারী মাছ ও অন্যান্য প্রাণী ইত্যাদির অনুরূপ ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য ও প্রতিকৃতি তৈরি করা হারাম ও ফিতনার কারণ।

এ কথাটিই প্রসিদ্ধ যে, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তিনি তাওরাত শরীফ-এর ভিত্তিতে হুকুম করতেন। এ জন্য অতি সহজেই অনুভূত হয় যে, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম হওয়ার ব্যাপারটি তাওরাত শরীফেই বর্ণিত আছে। অতএব, এটাই গ্রহণযোগ্য মত যে, আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত জিনরা যে আকৃতি তৈরি করেছিল, তা ছিল রূহহীন জিনিসের আকৃতি। যেমন- গাছ-পালা ও ফল-ফুল ।

দ্বিতীয় কারণ:

যদিও প্রমাণিত হয় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তিনি প্রাণীর প্রতিকৃতি মূর্তি-ভাস্কর্য-ছবি তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাহলে আমরা বলবো এটা ছিল আমাদের পূর্বের শরীয়ত। যখন আমাদের শরীয়ত তথা দ্বীন ইসলামে এর বিপরীত মতামত পরিলক্ষিত হয়, তখন পূর্ব শরীয়তের দলীল আমাদের জন্য গ্রহণ করা ছহীহ হবে না। নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য- প্রতিকৃতির অনুশীলন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এ বিষয়টি হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে। সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিষেধবাণী আমাদের জন্য দলীল। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি বলেন, “আমি তোমাদের প্রত্যেককেই একটি শরীয়ত ও চলার সুপথ দান করেছি।” (সূরা মায়িদা-৪৮)

(অতএব, প্রমাণিত হলো, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য-প্রতিকৃতি তৈরি করা, এতে সাহায্য করা এবং এগুলো অনুশীলন বা চর্চা করা হারাম। আর হারামকে হালাল জানা কুফরী) (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৬১, ১৬২ পৃষ্ঠা)

(৭২৮)

حكم الصور الشمسية: اما الصورة الشمسية التى تسمى الصو الفوتوغرافية، فهل لها حكم الصور المرسومة او لا؟ اختلاف فيه المعاصرون. ولكن كثيرا من علماء البلاد العرب وجلهم وكلهم فى البلاد الهندية، قد افتوا بانه لا فرق بين الصورة المرسومة والصورة الشمسية فى الحكم. ولنحك لك اقوال بعض المعاصرين من علماء البلاد العربية. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم الجلد ۴ الصفحة ۱۶۲)

অর্থ: আলোকচিত্র তথা আলোর দ্বারা অঙ্কিত ছবির বিধান: আছ ছূরাতুশ শামসিয়াহকে ফটোগ্রাফী বা আলোকচিত্র নামে নামকরণ করা হয়। এই আলোকচিত্র হাতে অঙ্কিত প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের মতো হুকুম রাখে কি না? এ ব্যাপারে এ যামানার আলিমগণ ইখতিলাফ করেছেন। তবে আরব জাহান এবং মুলকে হিন্দের সকল হক্কানী-রব্বানী উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের সর্বসম্মত ফতওয়া হচ্ছে শরয়ী বিধান মতে, হাতে অঙ্কিত প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য এবং আছ ছূরাতুশ শামসিয়্যাহ তথা আলো দ্বারা অঙ্কিত আলোকচিত্রের একই হুকুম (অর্থাৎ হাত- তুলি দ্বারা অঙ্কিত প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য যেমন হারাম, তেমনি আলো দ্বারা অঙ্কিত প্রাণীর চিত্র বা ছবি তৈরি করা ও এগুলোর অনুশীলন করা হারাম।) আমি এখানে আরব জাহানের কতক উলামায়ে কিরামগণের এ সম্পর্কিত ফতওয়া তুলে ধরছি। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৬২ পৃষ্ঠা)

(৭২৯-৭৩০)

قال الشيخ مصطفى الحمامى فى كتاب النهضة الاصلاحية ص ۲۶۴ و ۵۶۵: وانى احب ان تجزم الجزم كله ان التصوير بالة التصوير (الفوتوغرافى) كالتصوير باليد تماما. فيحرم على المؤمن تسليطها للتصوير، ويحرم عليه تمكين مسلطها لا لتقاط صورته بها، لانه بهذا التمكين يعين على فعل محرم غليظ. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم الجلد ۴ الصفحة ۱۶۲)

অর্থ: হযরত শায়েখ মুছতফা হাম্মামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত কিতাব ‘আন নাহদ্বাতুল ইছলাহিয়াহ’-এর ২৬৪ ও ৫৬৫ পৃষ্ঠায় বলেন, আমার মতে শরীয়তের ফায়সালা হলো- ছবি উত্তোলনের যন্ত্র ফটোগ্রাফী বা ক্যামেরা দ্বারা প্রস্তুতকৃত প্রাণীর ছবির হুকুম হাত দ্বারা অঙ্কিত প্রাণীর ছবির মতোই হারাম। মু’মিন-মুসলমানদের উপর এমন কাজ করা হারাম।

অতএব, ফটোগ্রাফী (ক্যামেরা, টিভি, সিসিটিভি ইত্যাদি) দ্বারা প্রস্তুতকৃত প্রাণীর ছবি হারাম ও নাজায়িয। কেননা এমন ছবির চর্চা শক্ত হারাম। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৬২ পৃষ্ঠা)

(৭৩১-৭৩৩)

وقال الشيخ محمد على الصابونى فى رسالته حكم الاسلام ص ۱۵ وفى تفسير ايات الاحكام: ان التصوير الشمسى لا يخرج عن كونه نوعا من انواع التصوير. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم الجلد ۴ الصفحة ۱۶۳)

অর্থ: হযরত শায়েখ মুহম্মদ আলী ছাবূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লেখা “হুকমুল ইসলাম ফিত তাছবীর” কিতাবের ১৫ পৃষ্ঠায় এবং “তাফসীরু আয়াতিল আহকাম” কিতাবে বলেন: নিশ্চয়ই আলোকচিত্র অর্থাৎ আলোর মাধ্যমে অঙ্কিত প্রাণীর ছবির হুকুম স্বাভাবিকভাবে অঙ্কিত ছবির হুকুমের বহির্ভূত নয়। অর্থাৎ হাতে বা তুলিতে আঁকা প্রাণীর ছবি যেমন হারাম, তেমনি ক্যামেরা, টিভি, সিসিটিভি, ভিডিও ইত্যাদির মাধ্যমে অঙ্কিত প্রাণীর ছবিও কাট্টা হারাম ও নাজায়িয। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৬৩ পৃষ্ঠা)

(৭৩৪)

والواقع ان التفريق بين الصور المرسومة والصور الشمسية لا ينبغى على اصل قوى، فالخمر حرام، سواء خمرت باليد او بالما كينات الحديثة، والقتل حرام سواء باشره المرء بسكين او باطلاق الرصاص: فكذلك الصورة قد نهى الشارع عن صنعها واقتناءها، فلا فرق بينهما كانت الصورة قد اتخذت بريشة المصور او بالالات الفوتوغرافية. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم الجلد ۴ الصفحة ۱۶۳)

অর্থ: প্রকৃতপক্ষে হাতে অঙ্কিত প্রাণীর ছবি ও আলো দ্বারা অঙ্কিত প্রাণীর ছবির মধ্যে কোনই পার্থক্য নেই। মূলত যা শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম অর্থাৎ শরীয়ত বহির্ভূত; উপকরণ পরিবর্তন হলেও তার হুকুম পরিবর্তন হবে না। যেমন ১. মদ পান করা হারাম। এখন মদ হাত দ্বারা পান করুক অথবা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা পান করুক, এতে একই হুকুম। ২. কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হারাম। এখন কাউকে তরবারি বা ছুরি দ্বারা হত্যা করুক অথবা বন্দুক (কামান, বোমা ইত্যাদি) দ্বারা হত্যা করুক, এতেও একই হুকুম। অনুরূপ ৩. প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের হুকুম। শারি’ বা শরীয়ত প্রণেতা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করতে ও তার অনুশীলন করতে নিষেধ করেছেন। অতএব, কলম (তুলি, পেন্সিল, পাখা, নিভ ইত্যাদি) দ্বারা অঙ্কিত ছবি এবং ফটোগ্রাফী (ক্যামেরা, ভিডিও, ডিস, টিভি, সিসিটিভি ইত্যাদি যন্ত্র) দ্বারা অঙ্কিত ছবির মধ্যে কোনই পার্থক্য নেই। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৬৩ পৃষ্ঠা)

(৭৩৫)

اما التلفزيون والفديو فلا شك فى حرمة استعما لهما بالنظر الى ما يشتملان عليه من المنكرات الكثيرة، من الخلاعة والمجون والكشف عن النساء المتبرجات او العاريات وما الى ذلك من اسباب الفسوق. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم الجلد ۴ الصفحة ۱۶۴)

অর্থ: টেলিভিশন (ভিসিআর, ডিস, অশ্লীল সিডি ইত্যাদি) এবং রেডিও  (বেতার, অশ্লীল ক্যাসেট) ইত্যাদির হুকুম। বাস্তবিক পক্ষে এগুলোর চর্চা করা, এ সমস্তের অনুষ্ঠান দেখা শ্রবণ করা কাট্টা হারাম এজন্য যে এগুলোর সাথে অসংখ্য নিকৃষ্ট নোংরা অশ্লীল বিষয়ের সম্পর্ক বিদ্যমান। যেমন- অবৈধ মেলামেশা, অশ্লীলতা, বেগানা নারী-পুরুষের নগ্ন প্রদর্শনী এবং যাবতীয় শক্ত গুনাহের ছড়াছড়ি। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৬৪ পৃষ্ঠা)

(৭৩৬)

“الا رقما فى ثوب” به استدل من اجاء الصور التى ليس لها ظل، وقد بسطنا الكلام فى ذلك، وان الجمهور يؤولونه بالنقوش على الثياب مما لاروح لها، كصورة الزهر او الشجر. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم الجلد ۴ الصفحة ۱۶۵)

অর্থ: কাপড়ে রক্বম-এর অন্য হুকুম। যারা প্রাণহীন জড়বস্তুর ছবিকে জায়িয ফতওয়া দেন, তারা এ হাদীছাংশকে দলীল হিসেবে পেশ করেন। এ ব্যাপারে এটাই আমাদের চূড়ান্ত কথা। আর নিশ্চয়ই জমহুর (অধিকাংশ) উলামায়ে কিরামগণ কাপড়ে নুকূশ দ্বারা রূহহীন ছবিকে উদ্দেশ্য করেছেন। যেমন ফুল-ফল ও গাছ-গাছালির ছবি। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৬৫ পৃষ্ঠা)

(৭৩৭)

ققد وقع فى عدة روايات ان النبى صلى الله عليه وسلم اعقب النهى بوعيد العذاب على المصورين. وبان الملائكة لا تدخل بيتا فيه صورة، مما يدل صراحة على ان النهى للتحريم دون التنزيه. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم الجلد ۴ الصفحة ۱۶۷)

অর্থ: হাদীছ শরীফ-এর বর্ণনাসমূহের থেকে স্পষ্ট যে, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য চর্চাকারীদের উপর আযাব দেয়া হবে এমনটি বর্ণনা করেছেন, এর মাধ্যমে এগুলোর চর্চাকে নিষেধ করেছেন। আর ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ওই ঘরে প্রবেশ করেন না যেখানে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে। এতগুলো প্রকাশ্য দলীলের ভিত্তিতে এটাই প্রমাণিত যে, এ নিষেধ দ্বারা হারাম বুঝানো হয়েছে। মাকরূহ তানযীহী বুঝানো হয়নি। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৬৭ পৃষ্ঠা)

(৭৩৮)

وقال قاضى عياض: يحتمل ان الصورة التى صورها هى التى تعذبه بعد ان يجعل فيها روح. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم الجلد ۴ الصفحة ۱۷۶)

অর্থ: হযরত কাযী আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: যে সকল ছবির কারণে তার অঙ্কনকারীদের শাস্তি দেয়া হবে সে সকল ছবি হচ্ছে রূহ বা প্রাণবিশিষ্ট প্রাণীর ছবি। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৭৬ পৃষ্ঠা)

 

(অসমাপ্ত)

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২