কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁ, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩২

সংখ্যা: ১৯৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গেঁাফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

“কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি অঁাকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি অঁাকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নিভীর্ক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা অঁাকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থঃ ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি অঁাকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, অঁাকা-অঁাকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, অঁাকা-অঁাকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

ফতহুল বারী শরহু ছহীহিল বুখারী

কিতাবখানা লিখেছেন ইমাম হাফিয হযরত আহমদ বিন আলী বিন হাজার আসক্বালানী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম মুবারক: ৭৭৩ হিজরী, ওফাত মুবারক: ৮৫২ হিজরী। অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো:

(৫১৩)

قال الخطابى: والصورة التى لا تدخل الملئكة البيت الذى هي فيه ما يحرم اقتناؤه، وهو ما يكون من الصور التى فيها الروح مما لم يقطع راسه. (كتاب اللباس باب التصاوير المجلد ۱۰ الصفحة ۳۸۲  دارالفكر)

অর্থ: হযরত ইমাম খত্তাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এমন ছবি যা ঘরে থাকলে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেননা, তা ঘরে রাখা হারাম। উহা প্রাণীর ছবি, যার মাথা কাটা হয়নি। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য-এর বিধান ১০ম খণ্ড ৩৮২ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল ফিকর)

(৫১৪)

والجواب ان ذلك كان جائزا فى تلك الشريعة وكانوا يعلمون اشكال الانبياء والصالحين. (كتاب اللباس باب التصاوير المجلد ۱۰ الصفحة ۳۸۲  دارالفكر)

অর্থ: জওয়াব হলো: পূর্ববর্তী শরীয়তে ছবি অঙ্কন জায়িয মনে করা হতো (বর্তমান শরীয়তে জায়িয নেই)। তারা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম ও নেক বান্দাগণের ছবি অঙ্কন করতো। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: ছবি-মূর্তি ভাস্কর্য এর বিধান ১০ম খণ্ড ৩৮২ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারুল ফিকর)

(৫১৫)

وقد قال ابو العالية لم يكن ذلك فى شريعتهم حراما ثم جاء شرعنا بالنهى عنه. (كتاب اللباس باب التصاوير المجلد ۱۰  الصفحة ۳۸۲  دارالفكر)

অর্থ: হযরত আবুল আলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পূর্ববর্তী শরীয়তে প্রাণী ছবি তোলা-অঁাকা-দেখা হারাম ছিল না। কিন্তু আমাদের শরীয়তে তা নিষেধ তথা হারাম করা হয়েছে। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: ছবি- মূতি-ভাস্কর্য এর বিধান ১০ম খণ্ড ৩৮২ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল ফিকর)

(৫১৬-৫১৮)

وقد ثبت فى الصحيحين حديث عائشة عليها السلام فى قصة الكنيسة التى كانت بارض الحبشة وما فيها من التصاوير وانه صلى الله عليه وسلم قال كانوا اذا مات فيهم الرجل الصالح بنوا على قبره مسجدا وصوروا فيه تلك الصورة اولئك شرار الخلق عند الله فان ذلك يشعر بانه لوكان ذلك جائزا فى ذلك الشرع ما اطلق عليه صلى الله عليه وسلم ان الذى فعله شر الخلق، فدل على أن فعل صور الحيوان فعل محدث احدثه عباد الصور. (كتاب اللباس باب التصاوير المجلد ۱۰  الصفحة ۳۸۲  دارالفكر)

অর্থ: বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ-এ বর্ণিত উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফ-এ হাবশা এলাকার খ্রিস্টানদের গির্জার ঘটনা বর্ণিত আছে যে, সেখানে প্রাণীর ছবি ছিল। এ সম্পর্কে সাইয়্যিদুনা রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন: “পূর্ববর্তী উম্মতেরা যখনই তাদের সৎ ব্যক্তি ইন্তিকাল করতেন, তারা তাঁর কবরে মসজিদ নির্মাণ করত এবং সেই মসজিদে উক্ত প্রাণীর ছবি অঙ্কন করত। ওই সমস্ত লোক আল্লাহ পাক উনার নিকট সৃষ্টির নিকৃষ্ট।” যদি পূর্ববর্তী শরীয়তে প্রাণীর ছবি অঙ্কন জায়িয হতো তাহলে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এভাবে বলতেন না যে, যারা ছবি অঁাকে তারা সৃষ্টির নিকৃষ্ট। এটা থেকে প্রমাণিত হয় যে, প্রাণীর ছবি অঙ্কনের কাজ একটি মনগড়া উদ্ভাবিত কাজ। যা উদ্ভাবন করেছে ছবি অঙ্কনকারীরাই। (অধ্যায় পোশাক পরিচ্ছদ: ছবি মূর্তি ভাস্কর্য এর বিধান ১০ম খণ্ড ৩৮২ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারুল ফিকর)

(৫১৯)

قال النووى قال العلماء: تصوير صورة الحيوان حرام شديد التحريم وهو من الكبائر لانه متوعد عليه بهذا الوعيد الشديد، وسواء صنعه لما يمتهن ام  لغيره فصنعه حرام بكل حال وسواء كان فى ثوب او بساط او درهم او دينار او فلس او اناء او حائط او غيرها، فاما تصوير ما ليس فيه صورة حيوان فليس  بحرام. قلت: ويؤيد التعميم فيما له ظل و فيما لا ظل له. (كتاب اللباس باب عذاب المصورين يوم القيامة المجلد ۱۰  الصفحة ۳۸۴  دارالفكر)

অর্থ: হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেছেন: প্রাণীর ছবির অঁাকা বা তৈরি করা হারাম, এমনকি কঠিন হারাম। উহা কবীরা গুনাহ। কেননা প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারীদের ব্যাপারে হাদীছ শরীফ-এ কঠিন আযাব-গযবের প্রতিশ্রম্নতি রয়েছে। ইহানত (তিরস্কার) করার জন্য তৈরি করুক অথবা ইহানত না করার জন্য তৈরি করুক, উহা তৈরি করা সর্বাবস্থায় হারাম। অনুরূপ কাপড়ে, বিছানায়, রৌপ্য মুদ্রায়, স্বর্ণ মুদ্রায়, টাকা-পয়সায়, পাত্রে, দেয়ালে অথবা এছাড়া অন্যান্য কিছুতে প্রাণীর ছবি অঁাকা হারাম। কিন্তু প্রাণহীন বস্তুর ছবি আঁকা হারাম নয়। (হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন) আমি বলি, প্রাণীর ছূরত যে হারাম এ ফতওয়া আমভাবে মূর্তি-ভাস্কর্য ও ছবির ব্যাপারে সমানভাবে প্রযোজ্য। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: ক্বিয়ামতের দিন প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারীদের শাস্তি প্রদান সম্পর্কে ১০ম খণ্ড ৩৮৪ পৃষ্ঠা)

(৫২০)

وقال الخطابى: انما عظمت عقوبة المصور لان الصور كانت تعبد من دون الله، ولان النظر اليها يفتن، بعض النفوس اليها تميل قال: والمراد بالصور هنا التماثيل التى لها روح. (كتاب اللباس باب عذاب المصورين يوم القيامة المجلد ۱۰ الصفحة ۳۸۴  دارالفكر)

অর্থ: হযরত ইমাম খত্তাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারীর জন্য বড় শাস্তি আছে এজন্য যে, প্রাণীর ছবি মূর্তি চর্চা হলো আল্লাহ পাক উনি ছাড়া অন্যের উপাসনা, তারা তাই করে থাকে। ছবি-মূর্তির প্রতি দৃষ্টি দেয়া ফিতনার কারণ। কতক ব্যক্তি সেদিকে ঝুঁকে যায়। উনি বলেন, ছুওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন জিনিসের ছবি যাতে প্রাণ আছে। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: ক্বিয়ামতের দিন প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারীদেরকে শাস্তি প্রদান প্রসঙ্গে ১০ম খণ্ড ৩৮৪ পৃষ্ঠা)

(৫২১)

قال ابن بطال: فى هذا الحديث دلالة على انه صلى الله عليه وسلم كان ينقض الصورة سواء كانت مما له ظل ام لا وسواء كانت مما توطأ ام لا، سواء فى الثياب وفى الحيطان وفى الفرش والاوراق وغيرها. (كتاب اللباس باب نقض الصور المجلد ۱۰  الصفحة ۳۸۵  دارالفكر)

অর্থ: হযরত ইবনে বাত্তাল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: অত্র হাদীছ শরীফ প্রমাণ করে যে, প্রাণীর ছবি অপসারণ করতে হবে, তা দেহধারী (মূর্তি) হোক অথবা দেহহীন (ছবি) হোক। অনুরূপ খসখসে হোক অথবা মসৃণ ছবি হোক। অনুরূপ প্রাণীর ছবি কাপড়ে, দেয়ালে-বিছানায়, পত্র-পল্লবে ও অন্য যেকোন জিনিসেই হোক না কেন তা অপসারণ করতে হবে। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি অপসারণ প্রসঙ্গে, ১০ম খণ্ড ৩৮৫ পৃষ্ঠা)

(৫২২)

قال ابن بطال: فهم ابو هريرة رضى الله تعالى عنه ان التصوير يتناول ما له ظل وما ليس له ظل، فلهذا انكر ما ينقش فى الحيطان. قلت: هو ظاهر من عموم اللفظ. (كتاب اللباس باب نقض الصور المجلد ۱۰  الصفحة ۳۸۶)

অর্থ: হযরত ইবনে বাত্তাল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ছাহাবী হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তাছবীর-এর ব্যাখ্যা করেছেন, দেহধারী মূর্তি এবং দেহহীন প্রাণীর ছবি। এজন্য তিনি দেয়ালে ছবি অঙ্কন করাকে অপছন্দ করতেন। অর্থাৎ মূর্তি তৈরি করা এবং প্রাণীর ছবি তোলা অঁাকা হারাম। (হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,) আমি বলি: সাধারণত এই ব্যাখ্যাই তাছবীর এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি অপসারণ প্রসঙ্গে ১০ম খণ্ড ৩৮৬ পৃষ্ঠা)

(৫২৩)

قال النووى: وهو قول جمهور العلماء من الصحابة والتابعين وهو قول الثورى ومالك وابى حنيفة والشافعى، لا فرق فى ذلك بين ماله ظل ومالا ظل له، فان كان معلقا على حائط او ملبوس او عمامة او نحو ذلك مما لا يعد ممتهنا فهو حرام. منها ان ابن العربى من المالكية نقل ان الصورة اذا كان لها ظل حرم بالاجماع سواء كانت مما يمتهن ام لا. (كتاب اللباس باب ماوطى من التصاوير المجلد ۱۰ الصفحة ۳۸۸ )

অর্থ: হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: অধিকাংশ ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম, হযরত ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের মতে, দেহধারী মূর্তি ও দেহহীন প্রাণীর ছবি হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোন পার্থক্য নেই। অতএব প্রাণীর ছবি যদি দেয়ালে লটকানো থাকে অথবা কাপড়ে অঁাকা থাকে যদিও তা অপমানের জন্য না হয় সর্বাবস্থায় তা হারাম। মালিকী মাযহাবের মুজতাহিদ হযরত ইবনুল আরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, দেহধারী মূর্তি ইজমা মতে হারাম, তা অপমান করার জন্য তৈরি করুক অথবা অপমানের জন্য না করুক। (অধ্যায় পোশাক পরিচ্ছদ: ছবিকে লাঞ্ছিতকরণ ১০ম খণ্ড ৩৮৮ পৃষ্ঠা)

(৫২৪)

نقل الرافعى عن الجمهور ان الصورة اذا قطع راسها ارتفع المانع. (كتاب اللباس باب ماوطى من التصاوير المجلد ۱۰  الصفحة ۳۸۸ )

অর্থ: হযরত ইমাম রাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জমহুর উলামা থেকে নকল করেছেন, প্রাণীর ছবির মাথা কাটা হলে, (যদি তা গাছ-পালা, তরু-লতার মত বুঝা যায়) তা আর নিষেধের আওতায় থাকে না। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: ছবিকে লাঞ্ছিতকরণ, ১০ম খণ্ড ৩৮৮ পৃষ্ঠা)

(৫২৫)

قال النووى: وذهب بعض السلف الى ان الممنوع ما كان له ظل واما مالا ظل له فلا بأس باتخاذه مطلقا وهو مذهب باطل. (كتاب اللباس باب ماوطى من التصاوير المجلد ۱۰  الصفحة ۳۸۸  )

অর্থ: হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: কতক সালাফের মতে শুধু দেহধারী মূর্তি নিষেধ, কিন্তু দেহহীন প্রাণীর ছবি নিষেধ নয়। মূলত কতক সালাফের এ মতামত বাতিল বা পরিত্যাজ্য। অর্থাৎ মূর্তি ও প্রাণীর ছবি উভয়ই হারাম। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: ছবিকে লাঞ্ছিতকরণ ১০ম খণ্ড ৩৮৮ পৃষ্ঠা)

(৫২৬)

ويستفاد منه انه لا فرق فى تحريم التصوير بين ان تكون الصورة لها ظل اولا، ولا بين ان تكون مدهونة او منقوشة او منقورة او منسوجة. (كتاب اللباس باب كره القعود على الصور المجلد ۱۰ الصفحة ۳۹۰)

অর্থ: তাছাবীর হারাম। ইহা দেহধারী মূর্তি হোক অথবা দেহহীন প্রাণীর ছবি হোক এতে কোন পার্থক্য নেই। তা তৈল দ্বারা অঁাকা হোক, তুলি দ্বারা নকশা করা হোক, কোন উপকরণ দ্বারা হোক অথবা সূতা দ্বারা বুনানো হোক তাতে কোন পার্থক্য নেই। অর্থাৎ যা কিছু দিয়ে মূর্তি, ছবি তৈরি করা হোক না কেন তা সর্বাবস্থায় হারাম। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: প্রাণীর ছবির উপর বসা প্রসঙ্গে ১০ম খণ্ড ৩৯০ পৃষ্ঠা)

(৫২৭)

قال النووى: يجمع بين الاحاديث بان المراد باستثناء الرقم فى الثوب ما كنت الصورة فيه من غير ذوات الارواح كصورة الشجر ونحوها. (كتاب اللباس باب من كره القعود على الصور المجلد ۱۰  الصفحة ۳۹۱)

অর্থ: হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: হাদীছ শরীফসমূহ দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য যে, যদি কাপড়ে প্রাণহীন বস্তুর নকশা থাকে যেমন গাছ ও অন্যান্য জড়বস্তু। তাহলে তা শরীয়তে নিষিদ্ধ নয়। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: প্রাণীর ছবির উপর বসা প্রসঙ্গে ১০ম খণ্ড ৩৯১ পৃষ্ঠা)

(৫২৮)

قال ابن العربى: حاصل مافى اتخاذ الصور انها ان كانت ذات اجسام حرم بالاجماع، وان كانت رقما فاربعة اقوال: الاول يجوز مطلقا (كتاب اللباس باب من كره القعود على الصور المجلد ۱۰  الصفحة ۳۹۱)

অর্থ: হযরত ইবনুল আরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: মূলকথা হলো, পূর্ণ দেহধারী প্রাণীর ছবি ইজমা মতে হারাম। তবে যদি প্রাণহীন বস্তু অঙ্কন করা হয় এ ব্যাপারে চারটি মতামত আছে। প্রথম হলো সাধারণত ইহা জায়িয। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: প্রাণীর ছবির উপর বসা প্রসঙ্গে ১০ম খণ্ড ৩৯১ পৃষ্ঠা)

(৫২৯)

وقال القرطبى فى المفهم انما لم تدخل الملائكة البيت الذى فيه الصورة لان متخذ ها قد تشبه بالكفار لانهم يتخذون الصور فى بيوتهم. (كتاب اللباس باب لا تدخل الملائكة بيتا فيه صورة المجلد ۱۰  الصفحة ۳۹۱)

অর্থ: হযরত কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি আল মুফহিম কিতাবে বলেন, প্রাণীর ছবিবিশিষ্ট ঘরে রহমতের ফেরেশতা ঢুকেন না, কেননা উহা কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য স্বরূপ। আর কাফিররা তাদের ঘরে উহা রেখে থাকে এবং উহাকে সম্মান করে, এজন্যই ফেরেশতাগণ উনারা উহা অপছন্দ করেন। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: ওই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে ১০ম খণ্ড ৩৯১ পৃষ্ঠা)

(৫৩০)

قال الرافعى: وفى دخول البيت الذى فيه الصورة وجهان، قال الاكثر: يكره وقال ابو محمد: يحرم. (كتاب اللباس باب من لم يدخل بيتا فيه صوره المجلد ۱۰  الصفحة ۳۹۳)

অর্থ: হযরত ইমাম রাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: প্রাণীর ছবি বিশিষ্ট ঘরে প্রবেশের হুকুম দু ধরনের। অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম বলেন: উহা মাকরূহ তাহরীমী। হযরত আবূ মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উহা হারাম। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: ওই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে ১০ম খণ্ড ৩৯৩ পৃষ্ঠা)

(৫৩১)

واستدل به على جواز تصوير ما لا روح له من شجر او شمس وقمر. (كتاب اللباس باب من لعن المصور المجلد ۱۰  الصفحة ۳۹۴)

অর্থ: প্রাণহীন জিনিষের ছবি জায়িয আছে। যেমন: গাছপালা, সূর্য, চন্দ্র ইত্যাদি। (অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারীর উপর লা’নত প্রসঙ্গে ১০ম খণ্ড ৩৯৪ পৃষ্ঠা)

(অসমাপ্ত)

পরবতীর্ সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২