কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩০

সংখ্যা: ১৯৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-এর জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি। আল্লাহ পাক-এর অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

“কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-এর দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-এর ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থঃ ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক-এর রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

শরহুস সুন্নাহ লিল বাগবী

এ কিতাবখানা হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। এ কিতাবখানার লিখক মুহইস সুন্নাহ হযরত ইমাম আবূ মুহম্মদ হুসাইন ইবনে মাসঊদ ফাররা বাগবী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জš§ মুবারক : ৪৩৬ হিজরী। ওফাত মুবারক : ৫১৬ হিজরীর শাওয়াল মাসে ৮০ বছর বয়স মুবারকে। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৪০৬-৪১৬)

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه يقول سمعت ابا طلحة يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب ولا صورة تماثيل.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি হযরত আবূ ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুনেছি। তিনি ইরশাদ করেছেন, ওই সমস্ত ঘরে রহমতের ফেরেশতা উনারা প্রবেশ করেন না, যে ঘরে কুকুর ও প্রাণীর ছবি বা ভাস্কর্য থাকে। (শরহুস সুন্নাহ লিল বাগবী বাবুর রুখছাহ লিন নিসা ফী লুবসিল হারীর ৬ষ্ঠ খণ্ড ১০৩ পৃষ্ঠা, বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল ক্বারী, ইরশাদুস সারী, শরহুল কিরমানী, তাইসীরুল বারী, মুসলিম শরীফ, শরহুন নববী, আল মুফহিম, ফতহুল মুলহিম)

(৪১৭-৪২৭)

عن عائشة عليها السلام ان جبريل عليه السلام وعد النبى صلى الله عليه وسلم فى ساعة ياتيه فيها فذهبت الساعة ولم ياته فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم فاذا جبريل على الباب فقال ما منعك ان تدخل؟ قال ان فى البيت كلبا وانا لا ندخل بيتا فيه كلب ولا صورة.

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, একদা সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার কাছে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম এক নির্দিষ্ট সময়ে আসার ওয়াদা করলেন। নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলো, কিন্তু তিনি আসলেন না। সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘর থেকে বের হলেন এবং দেখলেন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি ঘরের দরজায়। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনাকে ঘরে প্রবেশ করতে কে নিষেধ করলো? তিনি জবাবে বললেন, নিশ্চয়ই ঘরের ভিতর কুকুর আছে। আমরা রহমতের ফেরেশতা উনারা ওই সমস্ত ঘরে প্রবেশ করিনা, যে ঘরে কুকুর ও প্রাণীর ছবি থাকে। (বাবুর রুখছাহ লিন নিসা ফী লুবসিল হারীর ৬ষ্ঠ খণ্ড ১০৪ পৃষ্ঠা, বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল কারী, ইরশাদুস সারী, শরহুল কিরমানী, তাইসীরুল বারী, মুসলিম শরীফ, শরহুন নববী, ফতহুল মুলহিম, আল মুফহিম)

(৪২৮-৪৩৮)

عن عائشة عليها السلام انها اشترت نمرقة فيها تصاوير فلما راها النبى صلى الله عليه وسلم قام على الباب فلم يدخل فعرفت فى وجهه الكراهية فقالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اتوب الى الله والى رسول الله صلى الله عليه وسلم فماذا اذنبت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فما بال هذه النمرقة؟ اشتريتها لك تقعد عليها وتسودها فقال ان اصحاب هذه الصور يعذبون يوم القيامة فيقال لهم احيوا ما خلقتم ثم قال ان البيت الذى فيه الصور لا تدخله الملائكة.

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। একদা তিনি একটি প্রাণীর ছবিযুক্ত গদি ক্রয় করলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা দেখে ঘরে প্রবেশ না করে তিনি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। উনার চেহারা মুবারক-এ অসন্তুষ্টির ভাব প্রকাশ পেল। তখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আল্লাহ পাক ও রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের নিকট আমার এ কাজের জন্য তওবাহ করছি। তখন হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনি গদিটা কেন ক্রয় করেছিলেন? (তিনি জবাবে বললেন) আমি উহা আপনার বসা ও হেলান দেয়ার জন্য ক্রয় করেছিলাম। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, নিশ্চয়ই প্রাণীর ছবি চর্চাকারীদেরকে কিয়ামতের দিন আযাব দেয়া হবে এবং বলা হবে তোমরা যা তৈরি করেছ, তাতে প্রাণ দাও। অতঃপর হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, নিশ্চয়ই যে ঘরে প্রাণীর ছবি (মূর্তি, ভাস্কর্য) থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা উনারা প্রবেশ করেন না। (শরহুস সুন্নাহ লিল বাগবী বাবু ইসতিহবাবি তাখফীফিল মহর ৫ম খণ্ড ৭২ পৃষ্ঠা, বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল কারী, ইরশাদুস সারী, শরহুল কিরমানী, তাইসীরুল বারী, মুসলিম শরীফ, শরহুন নববী, আল মুহফিম, ফতহুল মুলহিম)

(৪৩৯-৪৪৭)

عن ابن مسعود رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اشد الناس عذابا يوم القيامة المصورون.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ক্বিয়ামতে ওই সমস্ত ব্যক্তির কঠিন আযাব হবে, যারা প্রাণীর ছবি তোলে (আঁকে, দেখে)। (বাবুর রুখছাহ লিন নিসা ফী লুবসিল হারীর ৬ষ্ঠ খণ্ড ১১০ পৃষ্ঠা, মিশকাত শরীফ, শরহুত ত্বীবী, মিরকাত, আত তা’লীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ)

আখবারু মক্কাতা লি আযরাক্বী

এ কিতাবখানা লিখেছেন- আবুল ওয়ালীদ মুহম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহম্মদ বিন ওয়ালীদ বিন উক্ববা গাসসানী মাক্কী আযরাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি। অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৪৪৮)

عن جابر بن عبد الله رضى الله تعالى عنه قال زجر النبى صلى الله عليه وسلم عن الصور وامر عمر بن الخطاب زمن الفتح ان يدخل البيت فيمحو ما فيه من صورة ولم يدخله جتى محى.

অর্থ: হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রাণীর ছবিকে অপছন্দ করতেন। তিনি মক্কা শরীফ বিজয়ের সময় হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে কা’বা শরীফ-এ প্রবেশ করতে নির্দেশ করলেন। তিনি প্রবেশ করে সেখানে যত প্রাণীর ছবি- মূর্তি ছিল তা ধ্বংস করলেন। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেগুলো ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত প্রবেশ করেননি। (বাবুন যাজরুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১ম খণ্ড ২০৩ পৃষ্ঠা)

 

মা’রিফাতুছ ছাহাবা লিআবী

নুয়াঈম আছবিহানী

 

এ কিতাবখানা লিখেছেন আবু নুয়াঈম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইসহাক বিন মূসা বিন মিহরান আছবিহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম মুবারক : ৩৩৬ হিজরী, ওফাত মুবারক : ৪৩০ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৪৪৯)

عن ابى طلحة رضى الله تعالى عنه قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول لا يدخل الملائكة بيتا فيه كلب ولا صورة.

অর্থ: হযরত আবূ ত্বলহাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট থেকে শুনেছি। তিনি ইরশাদ করেন, ওই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না, যে ঘরে কুকুর ও প্রাণীর ছবি থাকে। (মা’রিফাতুছ ছাহাবাহ লিআবী নুয়াঈম বাবুন: মিন ইসমিহী যায়িদ ৮ম খণ্ড ১৬০ পৃষ্ঠা)

(৪৫০)

عن جحيفة رضى الله تعالى عنه قال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن ثمن الدم وثمن الكلب وكسب البغى ولعن اكل الربا وموكله والواشمة والموتشمة ولعن المصور.

অর্থ: হযরত আবূ জুহাইফাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রক্তের মূল্য, কুকুরের মূল্য ও ব্যভিচারের মূল্য নিতে নিষেধ করেছেন। আর মদপানকারী, মদ প্রস্তুতকারী, অঙ্গে উঁল্কি অঙ্কনকারী ও উঁল্কি ধারণকারী প্রত্যেকের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন। তেমনি ছবি অঙ্কনকারীকেও লা’নত বা অভিসম্পাত দিয়েছেন। (বাবুন ওয়াহাব বিন আব্দুল্লাহ ১৯তম খণ্ড ৫০ পৃষ্ঠা)

 

জামিউল আহাদীছ লিছ ছুয়ূতী

 

এ কিতাবখানা হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। কিতাবখানা লিখেছেন দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম আব্দুর রহমান বিন আবু বকর জালালুদ্দীন সয়ূতী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম: ৮৪৯ হিজরী, ওফাত : ৯১১ হিজরী। অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে-

(৪৫১-৪৬০)

قال جبريل عليه السلام انا لا ندخل بيتا فيه كلب ولا تصاوير.

অর্থ: হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আমরা রহমতের ফেরেশতাগণ ওই ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে কুকুর ও প্রাণীর ছবি থাকে। (জামিউল আহাদীছ লিস সুয়ূতী পরিচ্ছেদ: হরফুল ক্বাফ ১৫তম খণ্ড ৮৬ পৃষ্ঠা, ত্বয়ালাসী, আহমদ, আবূ ইয়ালা, রূইয়ানী, ত্ববারানী, আদ দ্বিয়া, মুসলিম, বুখারী, আবু দাঊদ)

(৪৬১-৪৬৬)

ان من اشد الناس عذابا يوم القيامة الذين يصورون هذه الصور.

অর্থ: ক্বিয়ামতের দিন ওই সমস্ত ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে, যারা প্রাণীর ছবি তৈরি করে। (পরিচ্ছেদ ইন্নাল মুশাদ্দাদাহ মায়াল হামযাহ ৯ম খণ্ড ২৮১ পৃষ্ঠা, বুখারী, ফতহুল বারী, উমদাতুল কারী, ইরশাদুস সারী, শরহুল কিরমানী)

(৪৬৭-৪৬৯)

اشد الناس عذابا يوم القيامة رجل قتل نبيا او قتله نبى او رجل يضل الناس بغير علم او مصور يصور التماثيل.

অর্থ: ক্বিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে, ১. যে ব্যক্তি কোন নবী আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করেছে, ২. অথবা কোন নবী আলাইহিস সালাম যাকে হত্যা করেছেন, ৩. অথবা এমন ব্যক্তি যে ইলম শূন্যতার কারণে মানুষকে গুমরাহ করে ৪. অথবা প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারী ব্যক্তি। (পরিচ্ছেদ আল হামজাহ মায়াশ শীন ৪র্থ খণ্ড ৪২৬ পৃষ্ঠা, মুসনাদে আহমদ, ত্ববারানী শরীফ)

(৪৭০)

كل مصور فى النار يجعل له بكل صورة صورها نفس تعذبه فى جهنم.

অর্থ: প্রত্যেক প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারী ব্যক্তি জাহান্নামী। প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারী ব্যক্তিকে প্রত্যেকটি ছবির জন্য জাহান্নামে আলাদা শাস্তি দেয়া হবে। (পরিচ্ছেদ: হরফুল কাফ ১৫তম খণ্ড ৩৬৬ পৃষ্ঠা)

গায়াতুল মাক্বছাদ ফী

যাওয়ায়িদিল মুসনাদ

এ কিতাবখানা লিখেছেন হযরত আল্লামা হাফিয আলী বিন আবূ বকর বিন সুলাইমান হাইছামী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম মুবারক: ৭৩৫ হিজরী, ইনতিকাল মুবারক : ৮০৭ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৪৭১)

عن على رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال اتانى جبريل عليه السلام فلم يدخل فقال له النبى صلى الله عليه وسلم ما منعك ان تدخل؟ قال انا لا ندخل بيتا فيه صورة ولا بول.

অর্থ: হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা আমার উদ্দেশ্যে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন কিন্তু ঘরে প্রবেশ করলেন না। তখন হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনাকে আমার কাছে আসতে কে নিষেধ করলো? উত্তরে তিনি বললেন, আমরা রহমতের ফেরেশতাগণ ওই সমস্ত ঘরে প্রবেশ করি না, যেখানে প্রাণীর ছবি ও প্র¯্রাব থাকে। (বাবুন ফী আসাকিনিন নাজাসাহ ১ম খণ্ড ৫৯১ পৃষ্ঠা মাকতাবাহ ছাইদিল ফাওয়ায়িদ)

আল মুস্তাদরাক আলাছ ছহীহাঈন লিল হাকিম

এ কিতাবখানা হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। কিতাবখানা লিখেছেন হযরত আল্লামা আবূ আব্দিল্লাহ মুহম্মদ বিন আব্দুল্লাহ হাকিম নীসাবূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৪৭২)

عن على رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال لا تدخل الملائكة بيتا فيه صورة ولا كلب ولا جنب.

অর্থ: হযরত আলী কাররামাল্লাহ ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রহমতের ফেরেশতা উনারা ওই সমস্ত ঘরে প্রবেশ করেন না, যে ঘরে প্রাণীর ছবি, কুকুর ও নাপাকী থাকে। (কিতাবুতু ত্বহারাহ ১ম খণ্ড ২৭৮ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ- বইরূত)

 

কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল

আকওয়াল ওয়াল আফয়াল

 

এ কিতাবখানা হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। কিতাবখানা লিখেছেন হযরত আল্লামা আলাউদ্দীন আলী বিন হুসসামুদ্দীন মুত্তাক্বী হিন্দী বুরহানপূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ওফাত মুবারক: ৯৭৫ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৪৭৩-৪৭৬)

عن ابن عمر رضى الله تعالى عنه قال قال النبى الله صلى الله عليه وسلم اشد الناس عذابا يوم القيامة المصورون يقول لهم احيوا ما خلقتم.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি ইরশাদ করেন, ক্বিয়ামতের দিন ওই সমস্ত ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে। আর তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যা তৈরি করেছ তাতে প্রাণ দাও। (আল ফাছলুর রাবি ফির মাকাসিব ৪র্থ খণ্ড ৩৫ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: মুওয়াসসাতুর রিসালাহ, আহমদ বিন হাম্বল, মুওয়াত্তা মালিক, আবূ দাঊদ)

(৪৭৭-৪৭৯)

عن عائشة عليها السلام قالت قال النبى صلى الله عليه وسلم ان من اشد الناس عذابا يوم القيامة الذين يشبهون بخلق الله.

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ক্বিয়ামতের দিন ওই সমস্ত ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে, যারা আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন কিছু তৈরি করে। (আল ফাছলুর রাবি ফির মাকাসিব ৪র্থ খণ্ড ৩৫ পৃষ্ঠা, মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ)

(৪৮০-৪৮২)

عن اسامة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قاتل الله قوما يصورون ما لا يخلقون.

অর্থ: হযরত উসামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন- সাইয়্যিদুনা হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ পাক ওই সমস্ত জাতিকে ধ্বংস করুন, যারা যা সৃষ্টি করতে পারে না, কিন্তু তার ছবি তৈরি করে। (আল ফাচলুর রাবিফির মাকাসিব ৪র্থ খণ্ড ৩৬ পৃষ্ঠা, ত্বয়ালাসী, আদ দ্বিয়া)

(৪৮৩)

عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من صور صورة عذب يوم القيامة حتى ينفخ فيها الروح وليس بنافخ فيها.

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যে প্রাণীর ছবি তৈরি করে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে শাস্তি দেয়া হবে। তাকে তাতে প্রাণ দিতে বলা হবে, কিন্তু সে তাতে প্রাণ দিতে পারবে না। (আল ফাছলুর রাবি’ ফিল মাকাসিব ৪র্থ খণ্ড ৪০ পৃষ্ঠা)

(৪৮৪)

عن ابن مسعود رضى الله تعالى عنه قال قال النبى صلى الله عليه وسلم اشد الناس عذابا يوم القيامة رجل قتل نبيا او قتله نبى او رجل يضل الناس بغير علم او مصور يصور التماثيل.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন ওই সকল লোকের কঠিন শাস্তি হবে। তারা হলো- ১. যে কোন নবী আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করেছে ২. অথবা কোন নবী আলাইহিস সালাম যাকে হত্যা করেছেন ৩. অথবা এমন ব্যক্তি যে ইলম না থাকার করণে মানুষকে গোমরাহ করেছে ৪. অথবা এমন অঙ্কনকারী যে প্রাণীর ছবি অঙ্কন করে। (আলফাছলুর রাবি ফিল মাকাসিব ৪র্থ খণ্ড ৩৫ পৃষ্ঠা)

 

(অসমাপ্ত)

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২