কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৭

সংখ্যা: ১৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-এর জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি। আল্লাহ পাক-এর অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

“কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-এর দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-এর ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থঃ ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক-এর রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল

রহমতুল্লাহি আলাইহি

 

হাদীছ শরীফের ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য কিতাব ‘মুসনাদু আহমদ বিন হাম্বল।’ যে কিতাবখানা লিখেছেন মাযহাব চতুষ্টয়ের অন্যতম হাম্বলী মাযহাব এর ইমাম ইমামুল আইম্মাহ, হাকিুমল হাদীছ আল মুজতাহিদুল মুতলাক হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি। যিনি ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর উস্তায। জন্ম মুবারক: ১৬৪ হিজরী, ওফাত মুবারক: ২৪১ হিজরী। এতে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

পূর্ব প্রকাশিতের পর

(১৯)

عن سالم عن ابيه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اشد الناس عذابا يوم القيامة المصورون يقال لهم احيوا ما خلقتم.

অর্থ: হযরত ইমাম সালিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর পিতা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ক্বিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তিদেরকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে যারা প্রাণীর ছবি আঁকতো (তুলতো বা দেখতো)। ছবি অঙ্কনকারীদেরকে বলা হবে তোমরা যা তৈরি করেছ তাতে প্রাণ দাও। (কিন্তু এতে তারা সক্ষম হবেনা)। (আল বাব: মুসনাদু আব্দিল্লাহিবনি উমরাবনিল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ২য় খণ্ড ২৬ পৃষ্ঠা)

 (২০)

عن نافع عن ابن عمر رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال المصورون يعذبون يوم القيامة ويقال احيوا ما خلقتم.

অর্থ: হযরত ইমাম নাফি’ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন। নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্রত্যেক প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারীকে ক্বিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে এবং বলা হবে তোমরা যা তৈরি করেছ তাতে প্রাণ দাও। (আল বাব: মুসনাদু আব্দিল্লাহ বিন উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ২য় খণ্ড ৪, ১৪১ পৃষ্ঠা)

(২১)

عن سعيد بن ابى الحسن قال جاء رجل الى ابن عباس فقال يا ابن عباس انى رجل اصور هذه الصور واصنع هذه الصور فافتنى فيها قال ادن منى فدنا منه حتى وضع يده على رأسه قال انبئك بما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول كل مصور فى النار يجعل له بكل صورة صورها نفس تعد به فى جهنم فان كنت لا بد فاعلا فاجعل الشجر  ومالا نفس له.

অর্থ: হযরত সাঈদ ইবনে আবুল হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, একদা এক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিকট আসল এবং বললো, হে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আমি এমন এক ব্যক্তি আমি এই ছবিগুলো তৈরি করেছি। এ ব্যাপারে আমাকে ফায়সালা দিন। তিনি বললেন, তুমি আমার আরো নিকটে আসো। তাই লোকটি নিকটে আসলে তিনি তার হাত মুবারক ঐ ব্যক্তির মাথায় রাখলেন এবং বললেন, আমি কি তোমাকে ঐ সংবাদ দিবনা? যা আমি রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শ্রবণ করেছি। আমি সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন: প্রত্যেক প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারী ব্যক্তি জাহান্নামী হবে। সে যা তৈরি করেছিল সেখানে সেগুলোর প্রাণ দেয়া হবে আর সেগুলো ঐ ব্যক্তিকে আযাব দিতে থাকবে। অতএব, তোমার যদি ছবি আঁকতেই হয়, তাহলে গাছপালা এবং প্রাণহীন বস্তুর ছবি তৈরি করতে পার। (আল বাব: মুসনাদু আব্দিল্লাহ বিন আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ১ম খণ্ড ৩০৮, ৩৬০, ২৪১ পৃষ্ঠা)

(২২)

عن على رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم لا تدخل الملائكة بيتا فيه جنب ولاصورة ولا كلب.

অর্থ: হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ফেরেশ্তাগণ ঐ ঘরে প্রবেশ করেন না, যে ঘরে অপবিত্র ব্যক্তি, প্রাণীর ছবি ও কুকুর থাকে। (আল বাব: মুসনাদু আলী বিন আবি তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ১ম খণ্ড ৮৩, ১০৪ পৃষ্ঠা)

(২৩)

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من صور صورة عذب يوم القيامة حتى ينفخ فيها وليس بنافخ.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি অঙ্কন (তৈরি) করবে, ক্বিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হবে, যতক্ষণ না সে ব্যক্তি ঐ ছবিতে প্রাণ দেয়, কিন্তু সে তাতে প্রাণ দিতে পারবে না। (আল বাব: মুসনাদু আব্দিল্লাহ বিন আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ১ম খণ্ড ২১৬ পৃষ্ঠা)

(২৪)

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من صور صورة  كلف ان ينفخ فيها وليس بنافخ.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তৈরি করবে, তাকে তাতে প্রাণ দিতে চাপ প্রয়োগ করা হবে, কিন্তু সে তাতে প্রাণ দিতে সক্ষম হবে না। (আল বাব: মুসনাদু আব্দিল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ১ম খণ্ড ২৪৬ পৃষ্ঠা)

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال من صور صورة كلف يوم القيامة ان ينفخ فيها وعذب ولن ينفخ فيها.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তৈরি করে ক্বিয়ামতের দিন সে ছবিতে প্রাণ দেয়ার জন্য ঐ ব্যক্তিকে চাপ প্রয়োগ করা হবে এবং কঠিন শাস্তি দেয়া হবে, কিন্তু সে তাতে প্রাণ দিতে সক্ষম হবে না। (আল বাব: মুসনাদু আব্দিল্লাহ বিন আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ১ম খণ্ড ৩৫০, ৩৫৯ পৃষ্ঠা)

(২৬)

عن عبد الله بن عمر رضى الله تعالى عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من صور صورة عذب.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তৈরি করে তাকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। (আল বাব: মুসনাদু আব্দিল্লাহ বিন উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ২য় খণ্ড ১৪৫ পৃষ্ঠা)

(২৭)

عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال من صور صورة عذب يوم القيامة حتى ينفخ فيها الروح وليس بنافخ فيها.

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, যে প্রাণীর ছবি তৈরি করে, ক্বিয়মাতের দিন ঐ ব্যক্তিকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তাতে প্রাণ দিবে। কিন্তু সে প্রাণ দিতে সক্ষম হবে না। (আল বাব: মুসনাদু আবি হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ২য় খণ্ড ৫০৪ পৃষ্ঠা)

(২৮)

عن جابر رضى الله تعالى عنه قال كان فى الكعبة صور فامر النبى صلى الله عليه وسلم عمر بن الخطاب ان يمحوها فبل عمر ثوبا ومحاها به فدخلها رسول الله صلى الله عليه وسلم وما فيها منها شىء.

অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, কা’বা শরীফ-এর ভিতরে অনেক প্রাণীর ছবি ছিল। (মক্কা শরীফ বিজয়ের পর) সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে ঐ ছবিগুলো মুছে ফেলতে নির্দেশ করলেন। তখন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একখানা কাপড় ভিজিয়ে তা দ্বারা ছবিগুলো মুছে ফেললেন। এবার সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কা’বা শরীফ-এর ভিতরে ঢুকলেন এবং মূর্তি ও প্রাণীর ছবি জাতীয় সবকিছুই উৎখাত করলেন। (আল বাব: মুসনাদু জাবির বিন আব্দিল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ৩য় খণ্ড ৩৯৬ পৃষ্ঠা)

(২৯)

عن ابن عمر رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا يصور عبد صورة الا قيل له يوم القيامة احى ما خلقت.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে সকল বান্দা প্রাণীর ছবি তৈরি করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে বলা হবে, তুমি যা তৈরি করেছ তাতে প্রাণ দাও। (কিন্তু এতে সে প্রাণ দিতে সক্ষম হবে না)। (আল বাব: মুসনাদু আব্দিল্লাহ বিন উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ২য় খণ্ড ১৩৯ পৃষ্ঠা)।

(৩০)

عن ابى حجيفة رضى الله تعالى عنه قال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن ثمن الدم وثمن الكلب وكسب البغى ولعن الواشمة والمستوشمة واكل الربا ومؤكله ولعن المصور.

অর্থ: হযরত আবূ জুহাইফাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ১. রক্ত বিক্রয়ের মূল্য ২. কুকুরের মূল্য ৩. ব্যভিচারে উপার্জিত মূল্য (ও ব্যভিচার) এগুলোকে নিষেধ (তথা হারাম) করেছেন। এবং ৪. অঙ্গে উলকি অঙ্কনকারী, ৫. অঙ্গে উলকি ধারণকারী, ৬. মদ পানকারী, ৭. মদ প্রস্তুতকারী ও ৮. প্রাণীর ছবি তৈরিকারীদের উপর আল্লাহ পাক অভিসম্পাত করেছেন। (আল বাব: হাদীছু আবী জুহাইফাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ৪র্থ খণ্ড ৩০৮, ৩০৯ পৃষ্ঠা)

(৩১)

عن ابى زرعة قال دخلت مع ابى هريرة دار مروان بن الحكم فراى فيها تصاوير وهى تبنى فقال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول يقول الله عز وجل ومن اظلم ممن ذهب يخلق خلقا كخلقى فليخلقوا ذرة او ليخلقوا حبة او ليخلقوا شعيرة.

অর্থ: হযরত আবূ যুরয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি একবার হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সঙ্গে মারওয়ান ইবনে হাকাম-এর ঘরে প্রবেশ করি। তিনি ঘরে অনেক প্রাণীর ছবি দেখলেন এবং বললেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছ থেকে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ পাক (হাদীছে কুদসীতে) বলেন, ঐ ব্যক্তির চেয়ে অধিক যালিম কে আছে? যে আমার সৃষ্টির সাদৃশ প্রাণীর কিছু তৈরি করে। তারা যেন একটি ছোট পিঁপড়া অথবা একটি দানা অথবা একটি যব তৈরি করে। (আল বাব: মুসনাদু আবী হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ২য় খণ্ড ২৩২ পৃষ্ঠা)

মুসনাদুত্ তায়ালাসী

‘মুসনাদুত তায়ালাসী’ হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। হযরত ইমাম আবূ দাউদ তায়ালাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি এ কিতাবখানা লিখেছেন। ইন্তিকাল মুবারক: ২০৪ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৩২)

عن عون رحمة الله عليه عن ابيه ان النبى صلى الله عليه وسلم لعن المصور.

অর্থ: হযরত আউন রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। নিশ্চয়ই হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছবি অঙ্কণকারী (বা উত্তোলনকারী)-এর উপর অভিশম্পাত দিয়েছেন। (আল বাব: আহাদীছু আবী জুহাইফা ওয়া ইসমুহু ওয়াহব ১ম খণ্ড ১৪০ পৃষ্ঠা)

(৩৩)

ان عائشة رضى الله عنها اخبرته قالت: اشتريت نمرقة فيها تصاوير فجاء النبى صلى الله عليه وسلم فقام على الباب ولم يدخل فعرفت الكراهية فى وجهه فقلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اتوب الى الله عز وجل مرتين ماذا اتيت قال ما هذه النمرقة قلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اشتريتها لتجلس عليها وتتوسدها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الذين يعملون هذه التصاوير يعذبون يوم القيامة يقال لهم احيوا ما خلقتم وان البيت الذى فيه مثل هذه الصور اوالصورة لا تدخله الـملائكة.

অর্থ: হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি একদা প্রাণীর ছবি বিশিষ্ট একখানা কাপড় ক্রয় করলাম। হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি এসে ঘরে প্রবেশ না করে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। এতে আমি তাঁর চেহারা মুবারকে অসন্তুষ্টির ছাপ দেখতে পেলাম। তখন আমি বললাম হে আল্লাহ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আল্লাহ পাক-এর কাছে এটা থেকে তওবা করছি। তিনি এটা দুবার বললেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এ কাপড়টি কেন কিনেছেন? আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি এটা কিনেছি আপনার বসার জন্য এবং বিছানা হিসেবে ব্যবহারের জন্য। তখন হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই যারা প্রাণীর ছবির চর্চা করে (অর্থাৎ তোলে, আঁকে, রাখে, দেখে) ক্বিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। আর বলা হবে তোমরা যা তৈরি করেছ, তাতে প্রাণ দাও। নিশ্চয়ই ঐ ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না, যে ঘরে প্রাণীর ছবি বিদ্যমান থাকে। (আল বাব: আল কাসিম আন আয়িশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা ১ম খণ্ড ২০২ পৃষ্ঠা)

কিতাবুল আছার লিআবী ইউসুফ

রহমতুল্লাহি আলাইহি

কিতাবুল আছার লি আবী ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি এ কিতাবখানা লিখেছেন। জন্ম মুবারক: ১১৩ হিজরী, ওফাত মুবারক: ১৮২ হিজরী।

এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৩৪)

عن ابى حنيفة رحمة الله عليه عن ابى اسحاق رحمة الله عليه ان النبى صلى الله عليه وسلم علق فى بيته سترا فيه تماثيل فابطأ عنه جبريل ثم اتاه فقال ما بطأك عنى قال انا لا ندخل بيتا فيه كلب ولا تماثيل فابسط هذا الستر واقطعوا رأس التماثيل واخرجوا هذا الكلب.

অর্থ: হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আবূ ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় হুজরা শরীফে (প্রাণীর ছবি নিষেধের পূর্বে) প্রাণীর ছবি সম্বলিত একখানা পর্দা ঝুলালেন। এতে হযরত জিবরীল আলাইহিস্ সালাম আসতে দেরি করলেন অতঃপর আসলেন। তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনি আমার কাছে আসতে কেন দেরি করলেন? তিনি (জিবরীল আলাইহিস্ সালাম) বললেন, নিশ্চয়ই আমরা ফেরেশতারা ঐ সমস্ত ঘরে প্রবেশ করি না, যেখান কুকুর ও প্রাণীর ছবি থাকে। তাই আপনি এ পর্দাটি খুলে ফেলুন, ছবিটির মাথা কেটে দিন এবং এই কুকুরটিকে বের করে দিন। (আল বাব: মা  বাত্বায়াকা আন্নী ক্বালা ইন্না লা ২য় খণ্ড ৭২৯ পৃষ্ঠা)

মুসনাদুল হুমাইদী রহমতুল্লাহি আলাইহি

‘মুসনাদুল হুমাইদী রহমতুল্লাহি আলাইহি’ হাদীছ শরীফ-এর কিতাব। হযরত আবূ বকর আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর বিন ঈসা হুমাইদী রহমতুল্লাহি আলাইহি এ কিতাবখানা লিখেছেন। ওফাত মুবারক: ২১৯ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৩৫)

عن مسلم بن صبيح رحمة الله عليه قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فرأى مسروق فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله بن مسعود يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا يوم القيامة المصورون.

অর্থ: হযরত মুসলিম বিন ছবীহ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমরা একদা হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সাথে হযরত ইয়াসীর বিন নুমাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ঘরে ছিলাম। তখন হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর (হযরত ইয়াসার বিন নুমাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর) ঘরে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন। এবং বললেন, আমি ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে শ্রবণ করেছি, তিনি বলেছেন, আমি হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি তিনি ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন ঐসমস্ত ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে যারা ছবি তোলে বা আঁকে। (আল বাব: আহাদীছু আব্দিল্লাহ বিন মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ১ম খণ্ড ৬৪ পৃষ্ঠা)

(৩৬)

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من صور صورة عذب وكلف ان ينفخ فيها وليس بفاعل.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন প্রাণীর ছবি আঁকে (বা তোলে) তাকে শাস্তি দেয়া হবে। আর তাতে প্রাণ দিতে চাপ দেয়া হবে কিন্তু সে তাতে প্রাণ দিতে পারবে না। (আল বাব: আহাদীছু ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ১ম খণ্ড ২৪৩ পৃষ্ঠা)

মুছান্নাফু ইবনি আবী শাইবাহ

‘মুছান্নাফু ইবনি আবী শাইবাহ’ হাদীছ শরীফ-এর কিতাব। হযরত আবূ বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহম্মদ বিন আবী শাইবাহ হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি কিতাবখানা লিখেছেন। জন্ম মুবারক: ১৫৯ হিজরী, ওফাত মুবারক: ২৩৫ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৩৭)

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه انه كره الصلوة فى الكنيسة اذا كان فيها تصاوير.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকতো, তাতে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী মনে করতেন। (আল বাব: আছছলাহ ফিল কানায়িস ওয়াল বাই ১ম খণ্ড ৪২৩ পৃষ্ঠা)

(৩৮)

عن عبد الله رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اشد الناس عذابا يوم القيامة الـمصورن.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে যারা প্রানীর ছবি তোলে বা আঁকে। (আল বাব: ফিল মুছাব্বিরীনা ওয়ামা জায়া ফীহিম ৫ম খণ্ড ২০০ পৃষ্ঠা)

(৩৯)

عن ابن عمر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يعذبون الـمصورون يوم القيامة ويقال لهم احيوا ما خلقتم.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারীদেরকে ক্বিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে এবং বলা হবে তোমরা যা তৈরি করেছ তাতে প্রাণ দাও। (আল বাব: ফিল মুছাব্বিরীনা ওয়ামা জায়া ফীহিম ৫ম খণ্ড ২০০ পৃষ্ঠা)

(৪০)

عن مقسم رحمة الله عليه قال قال ابن عباس لا يصلى فى بيت فيه تماثيل.

অর্থ: হযরত মুকসিম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে সে ঘরে নামায পড়বে না। (আল বাব: আছ ছলাতু ফিল বাইত ফীহি তামাছীল ১ম – ৩৯৮ পৃষ্ঠা)

(৪১)

عن عائشة رضى الله تعالى عنها قالت دخل على النبى صلى الله عليه وسلم وقد استترت بقرام فيه تماثيل فلما راه تغير لونه وهتكه بيده ثم قال ان اشد الناس عذابا يوم القيامة الذين يشبهون بخلق الله.

অর্থ: হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার ঘরে তাশরীফ নিলেন। তখন আমি ঘরে প্রাণীর ছবিযুক্ত পর্দা ঝুলিয়ে রেখেছিলাম। ইহা দেখে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেহারা মুবারক রঙ্গিন হয়ে গেল। আর তিনি উক্ত পর্দাটি আপন হাত মুবারকে ছিঁড়ে ফেললেন। অতঃপর বললেন, ক্বিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে, যারা আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সাদৃশ কোন কিছু তৈরি করে। (আল বাব: ফিল মুছাব্বিরীনা ওয়ামা জায়া ফীহিম ৫ম খণ্ড ২০০ পৃষ্ঠা)

আল জামিউল মুসনাদুছ ছহীহুল মুখতাছারু মিন উমূরি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সুনানিহী ওয়া আইয়ামিহী (বুখারী শরীফ)

‘আছছহীহু লিল বুখারী’ হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। হযরত ইমাম আবূ আব্দিল্লাহ মুহম্মদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি এ কিতাবখানা লিখেছেন। তার জন্ম মুবারক: ১৯৪ হিজরী, ওফাত মুবারক: ২৫৬ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৪২)

حدثنا ادم قال حدثنا ابن ابى ذئب عن الزهرى عن عبيد الله بن عبد الله ابن عتبة عن ابن عباس عن ابى طلحة قال قال النبى صلى الله عليه وسلم لا تدخل الملئكة بيتا فيه كلب ولا تصاوير وقال الليث حدثنى يونس عن ابن شهاب قال اخبرنى عبيد الله سمع ابن عباس قال سمعت ابا طلحة قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم.

অর্থাৎ, হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফখানা বর্ণনা করেছেন হযরত  আদম (ইবনু আবী আইয়াম) রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত ইবনু আবী যি’ব রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত (শিহাব) যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি হযরত আবূ ত্বলহাহ (যায়িদ ইবনে সাহল আনছারী) রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: রহমতের ফেরেশ্তাগণ ঐ ঘরে প্রবেশ করেন না যে ঘরে কুকুর থাকে এবং ঐ ঘরেও প্রবেশ করেন না যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে। হযরত লাইল রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: (এ বিষয়ে) আমার কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত ইউনুস রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ইবন শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে। তিনি বলেছেন, আমার কাছে খবর দিয়েছেন হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি শ্রবণ করেছি হযরত আবূ ত্বলহা (যায়েদ ইবনে সাহল আনছারী) রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে। তিনি বলেছেন, আমি শ্রবণ করেছি সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে। (আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবুল লিবাস বাবুত তাছাবীর ২য় খণ্ড ৮৮০ পৃষ্ঠা)

(৪৩)

حدثنا الحميدى قال حدثنا سفيان قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله يوم القيامة الـمصورون.

অর্থাৎ- হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত (আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর) হুমাইদী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত সুলাইমান ইবনে মিহরান আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে। তিনি বলেন, আমরা একবার হযরত মাসরূক ইবেন আজদা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সাথে হযত ইয়াসার ইবনে নুমাইর মাদানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ঘরে ছিলাম। তিনি (হযরত মাসরূক ইবনে আজদা রহমতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর (হযরত ইয়াসার ইবন নুমাইর মাদানী রহমতুল্লাহি আলাইহির) ঘরের আঙ্গিনায় কতগুলো প্রাণীর ছবি দেখতে পেয়ে বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন আমি সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছ থেকে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক ক্বিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত ব্যক্তিকে সবচেয়ে কঠিন আযাব দিবেন যারা ছবি আঁকে, বানায়, তোলে, দেখে। (আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবুল লিবাস বাবু আযাবিল মুছাব্বিরীনা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ ২য় খণ্ড ৮৮০ পৃষ্ঠা)

(৪৪)

حدثنا ابراهيم بن المنذر قال حدثنا انس بن عياض عن عبيد الله عن نافع ان عبد الله بن عمر اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الذين يصنعون هذه الصور يعذبون يوم القيامة يقال لهم احيوا ما خلقتم.

অর্থাৎ, হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত ইবরাহীম ইবনুল মুনযির রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আনাস ইবনে ইয়াদ্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আমরী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত ইমাম নাফি রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে। নিশ্চয়ই হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর (হযরত ইমাম নাফি’ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর) কাছে খবর দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: নিশ্চয়ই যারা এজাতীয় (প্রানীর) ছবি তৈরি করে, ক্বিয়ামতের দিন তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে তোমরা যা তৈরি করেছ, এঁকেছ, বানিয়েছ, তুলেছ তাতে প্রাণ দাও। (কিন্তু তারা প্রাণ দিতে পারবে না) (আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবুল লিবাস বাবু আযাবিল মুছাব্বিরীনা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ ২য় খণ্ড ৮৮০ পৃষ্ঠা)

(৪৫)

حدثنا معاذ بن فضالة قال حدثنا هشام عن يحيى عن عمران بن حصان ان عائشة حدثته ان النبى صلى الله عليه وسلم لم يكن يترك فى بيته شيئا فيه تصاليب الا نقضه.

অর্থাৎ, হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত মুয়ায ইবনে ফাদ্বালা রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিন বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ইয়াহইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে তিনি হযরত ইমরান বিন হিছান রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে যে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তাঁর কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয় সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের ঘরের এমন কিছুই না ভেঙ্গে ছাড়তেন না যাতে কোন প্রাণীর ছবি থাকত। (আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবুল লিবাস বাবু নাক্বদ্বিছ ছুওয়ার ২য় খণ্ড ৮৮০ পৃষ্ঠা)

(৪৬)

حدثنا موسى قال حدثنا عبد الواحد قال حدثنا عمارة حدثنا ابو زرعة قال دخلت مع ابى هريرة دار بالمدينة فراها اعلاها مصورا يصور قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ومن اظلم ممن ذهب يخلق كخلقى فليخلقوا حبة وليخلقوا ذرة ثم دعا بثور من ماء فغسل يديه حتى بلغ ابطه فقلت يا ابا هريرة اشىء سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم قال منتهى الحلية.

অর্থাৎ হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত মূসা ইবনে ইসমাঈল রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আব্দুল ওয়াহিদ ইবনু যিয়াদ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত উমারাহ ইবনুল ক্বা’ ক্বা রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আবূ যুরয়াহ হারাম রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমি হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু আানহু-এর সাথে মদীনা শরীফের এক ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি (হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) সেই বাড়ির ছাদের উপর এক ছবি অঙ্কনকারীকে ছবি আঁকতে দেখলেন এবং বললেন আমি সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: (আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন) “ঐ ব্যক্তির চেয়ে অধিক যালিম আর কে আছে যে আমার সৃষ্টির অনুরূপ কোন কিছু তৈরি করে? তাহলে তারা একটি দানা সৃষ্টি করুক অথবা একটি কণা সৃষ্টি করুক।” তারপর তিনি একটি পানির পাত্র আনতে বললেন এবং (অযু করতে গিয়ে) বোগল পর্যন্ত দুহাত ধৌত করলেন। এবার আমি (হযরত আবূ যুরয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞাসা করলাম: হে হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু! এ ব্যাপারে আপনি সাইয়্যিদুনা হযরত রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আরো কিছু শুনেছেন কি? তিনি জবাবে বললেন: (হ্যাঁ শুনেছি) অলঙ্কার পরিধানের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ধোয়া উত্তম। (কিতাবুল লিবাস বাবু নাক্বদিছ ছুওয়ার ২য় খণ্ড ৮৮০ পৃষ্ঠা)

(৪৭)

حدثنا على بن عبد الله قال حدثنا سفيان قال سمعت عبد الرحمن ابن القاسم وما بالـمدينة يومئذ افضل منه قال سمعت ابى قال سمعت عائشة قالت قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم من سفر وقد سترت بقرام لى على سهوة لى فيه تماثيل فلما راه رسول الله صلى الله عليه وسلم هتكه وقال اشد الناس عذابا يوم القيامة الذين يضاهون بخلق الله قالت فجعلناه وسادة او وسادتين.

অর্থাৎ, হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল মাদীনী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত সুফইয়ান ইবনে উয়াইনাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমি হযরত আব্দুর রহমান ইবনুল ক্বাসিম ইবনে মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে শ্রবণ করেছি, যিনি সেই সময় মদীনা শরীফ-এর মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বলেছেন, আমি আমার পিতা (হযরত ক্বাসিম ইবনে মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি) থেকে শ্রবন করেছি। তিনি বলেছেন, আমি উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা থেকে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাবূক যুদ্ধের সফর থেকে প্রত্যাগমন করছেন। আমি আমার ঘরে পাতলা কাপড়ের পর্দা লটকিয়েছিলাম, যাতে ছিল অনেক প্রাণীর ছবি। সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এটা দেখলেন তখনই তা ছিড়ে ফেললেন এবং বললেন, ক্বিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত ব্যক্তির কঠিন আযাব হবে, যারা আল্লাহ পাক-এর সৃষ্টির (প্রাণীর) সাদৃশ্য কিছু তৈরি করে। হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন: এরপর আমরা তা দিয়ে (প্রাণীর ছবি কেটে ফেলে দিয়ে বাকী অংশ দ্বারা) একটি বা দুটি বসার আসন তৈরি করি। (আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবুল লিবাস বাবু মা বুত্বিয়া মিনাত তাছাবীর ২য় খণ্ড ৮৮০ পৃষ্ঠা)

(৪৮)

حدثنا مسدد قال حدثنا عبد الله بن داود عن هشام عن ابيه عن عائشة قالت قدم النبى صلى الله عليه وسلم من سفر وعلقت درنوكا فيه تماثيل فامرنى ان انزعه فنزعته وكنت اغتسل انا والنبى صلى الله عليه وسلم من اناء واحد.

অর্থাৎ হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত মুসাদ্দাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে দাঊদ হামাদানী কূফী বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত হিশাম ইবনে উরওয়াহ ইবনে যুবাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি তার পিতা হযরত উরওয়াহ ইবনে যুবাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা থেকে। তিনি (হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, এক সফর থেকে হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যাগমণ করেন, সেসময় আমি নকশাদার প্রাণীর ছবিযুক্ত কাপড় দিয়ে ঘরে পর্দা লটকিয়েছিলাম, এটা দেখে তিনি আমাকে তা খুলে ফেলার নির্দেশ করেন। তখন আমি তা খুলে ফেলি। আর আমি এবং নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম। (আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবুল লিবাস বাবূ মা বুত্বিয়া মিনাত তাছাবীর ২য় খণ্ড ৮৮০ পৃষ্ঠা)

(৪৯)

حدثنا حجاج بن منهال حدثنا جويرية عن نافع عن القاسم عن عائشة انها اشترت نمرقة فيها تصاوير فقال النبى صلى الله عليه وسلم بالباب فلم يدخل فقلت اتوب الى الله مما اذنبت قال ما هذه النمرقة قلت لتجلس عليها وتوسدها قال ان اصحاب هذه الصور يعذبون يوم القيامة يقال لهم احيوا ما خلقتم وان الملائكة لا تدخل بيتا فيه الصور.

অর্থাৎ, হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত জুওয়াইরিয়াহ ইবনে আসমা রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ইমাম নাফি’ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি ইমাম ক্বাসিম ইবনে মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে। তিনি একবার প্রাণীর ছবিযুক্ত গদি ক্রয় করেন। হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (বাহির থেকে এসে এ অবস্থা দেখে) দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেন। ঘরে প্রবেশ করলেন না। আমি বললাম, আমার অজানা কর্মের জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে তাওবাহ করছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ গদি কিসের জন্য? আমি বললাম, আপনি এতে বসবেন এবং হেলান দিবেন। তিনি বললেন, এসব প্রাণীর ছবি তৈরিকারীদেরকে ক্বিয়ামতের দিন আযাব দেয়া হবে। বলা হবে তোমরা যা তৈরি করেছ সেগুলোতে প্রাণ দাও। আর রহমতের ফেরেশতাগণ ঐ ঘরে প্রবেশ করেন না যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে। (আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবুল লিবাস বাবু মান কারিহাল কুয়ূদা আলাছ ছুওয়ার ২য় খণ্ড ৮৮০, ৮৮১ পৃষ্ঠা)

(৫০)

حدثنا قتيبة قال حدثنا الليث عن بكير عن بسر بن سعيد عن زيد بن خالد عن ابى طلحة صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم انه قال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الملائكة لا تدخل بيتا فيه صورة قال بسر ثم اشتكى زيد فعدناه فاذا على بابه ستر فيه صورة فقلت لعبيد الله ربيب ميمونة زوج النبيى صلى الله عليه وسلم الم يخبرنا زيد عن الصور يوم الاول فقال عبيد الله الم تسمعه حين قال الا رقما فى ثوب وقال ابن وهب اخبرنا عمرو حدثه بكير حدثه بسر حدثه زيد حدثه ابو طلحة عن النبى صلى الله عليه وسلم.

অর্থাৎ, হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত কুতাইবাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত লাইছ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত বুকাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত বুসর ইবনে সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত যাইদ ইবনে খালিদ জুহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি আল্লাহ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছাহাবী হযরত আবূ ত্বলহাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে। নিশ্চয়ই তিনি (হযরত আবূ ত্বলহাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রহমতের ফেরেশতাগণ ঐ ঘরে প্রবেশ করেন না, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে। হাদীছ শরীফ-এর রাবী বুসর রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত যায়িদ ইবনে খালিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি একবার অসুস্থ্য হয়ে পড়লেন। আমরা তাঁর সেবা শুশ্রুষার জন্য গেলাম। তখন তাঁর ঘরের দরজায় ছবিযুক্ত পর্দা দেখতে পেলাম। আমি হযরত উবাইদুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিকে বললাম, যিনি হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আহলিয়া উম্মুল মু’মিনীন হযরত মাইমূনাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহা-এর প্রতিপালিত পুত্র ছিলেন, ছবি সম্পর্কে হযরত যায়িদ রহমতুল্লাহি আলাইহি কি আমাদেরকে প্রথম দিনেই খবর দেননি? তখন হযরত উবাইদুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, তিনি যখন বলেছিলেন তখন আপনি কি শুনেননি যে, الا رقما فى ثوب নকশা করা কাপড় ব্যতীত।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু ওয়াহব রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উক্ত সূত্র সম্পর্কে আমাদের কাছে খবর দিয়েছেন হযরত আমর ইবনুল হারিছ রহমতুল্লাহি আলাইহি, তাঁর কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন হযরত বুকাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি, তাঁর কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত বুসর রহমতুল্লাহি আলাইহি, তাঁর কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত যাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, তাঁর কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন হযরত আবূ ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে। (আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবুল লিবাস বাবু মান কারিহাল কুয়ূদা আলাছ ছুওয়ার ২য় খণ্ড, ৮৮১ পৃষ্ঠা)

(৫১)

حدثنا عمران بن ميسرة قال حدثنا عبد الوارث قال حدثنا عبد العزيز بن صهيب عن انس قال كان قرام لعائشة سترت به جانب بيتها فقال لها النبى صلى الله عليه وسلم اميطى عنى فانه لا يزال تصاويره تعرض لى فى صلاتى.

অর্থাৎ হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত ইমরান ইবনে মাইসারাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আব্দুল ওয়ারিছ ইবনে সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আব্দুল আযীয ইবনে ছুহাইব রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে। তিনি (হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা-এর নিকট কিছু পর্দার কাপড় ছিল, তা দিয়ে তিনি ঘরের একদিক আবৃত করেন। ইহা দেখে সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন, আমার থেকে এটা সরিয়ে নাও। কেননা এর ছবিগুলো আমাকে নামাযের মধ্যে বাঁধার সৃষ্টি করে। (আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবুল লিবাস বাবু কারাহিয়াতিছ ছলাহ ফিত তাছাবীর ২য় খণ্ড ৮৮১ পৃষ্ঠা)

(৫২)

حدثنا يحيى بن سليمان قال حدثنا ابن وهب قال حدثنى عمر بن محمد عن سالم عن ابيه قال وعد النبى صلى الله عليه وسلم جبرائيل فراث عليه حتى اشتد على النبى صلى الله عليه وسلم فخرج النبى صلى الله عليه وسلم فلقيه فشكا اليه ما وجد فقال له انا لا ندخل بيتا فيه صورة ولا كلب قال ابو عبد الله عمر بن محمد زيد بن عبد الله ابن عمر.

অর্থাৎ, হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আবূ আব্দিল্লাহ উমর ইবনে মুহম্মদ ইবনে যাইদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি তাঁর পিতা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে। তিনি (হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস্ সালাম একবার সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আসার ওয়াদা করেন। কিন্তু তিনি আসতে দেরি করেন। এতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কষ্ট অনুভব হচ্ছিল। এরপর হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘর থেকে বের হলে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস্ সালাম উনার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি যে সাময়িক কষ্ট অনুভব করেছিলেন তা তাঁর কাছে বর্ণনা করলেন। তখন হযরত জিব্রাঈল আলাইহি সালাম উনাকে বললেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে এবং কুকুর থাকে সে ঘরে আমরা রহমতের ফেরেশ্তাগণ প্রবেশ করি না। (আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবুল লিবাস বাবুন লা তাদখুলুল মালায়িকাতু বাইতান ফীহি ছূরাহ ২য় খণ্ড ৮৮১ পৃষ্ঠা)

(৫৩)

حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن نافع عن القاسم بن محمد عن عائشة زوج النبى صلى الله عليه وسلم انها اخبرته انها اشترت نمرقة فيها تصاوير فلما راها رسول الله صلى الله عليه وسلم قام على الباب فلم يدخل فعرفت فى وجهه الكراهية وقالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اتوب الى الله والى رسوله ماذا اذنبت قال ما بال هذه النمرقة قالت اشتريتها لتقعد عليها وتوسدها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اصحاب هذه الصور يعذبون يوم القيامة ويقال لهم احيوا ما خلقتم وقال ان البيت الذى فيه الصور لا تدخله الملائكة.

অর্থাৎ, হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি থেকে, তিনি হযরত ইমাম নাফি’ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত ইমাম ক্বাসিম ইবনে মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আহলিয়া হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে। নিশ্চয়ই তিনি (হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর (হযরত ইমাম ক্বাসিম ইবনে মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর) কাছে সংবাদ দিয়েছেন যে, একদা তিনি (হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা) প্রাণীর ছবিযুক্ত গদি ক্রয় করেন। যখন হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা দেখলেন তখন তিনি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেন। ঘরে প্রবেশ করলেন না। উনার চেহারা মুবারকে অসন্তুষ্টির ভাব প্রকাশ পেল। তখন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা বললেন, হে আল্লাহ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আমার অজানা কর্মের জন্য আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট তওবা করছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ গদি কিসের জন্য? হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা উত্তরে বললেন, আমি এটি ক্রয় করেছি এজন্য যে, আপনি এতে বসবেন এবং হেলান দিবেন। অতঃপর হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এসব প্রাণীর ছবি তৈরীকারীদেরকে ক্বিয়ামতের দিন আযাব দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে তোমরা যেগুলো তৈরি করেছ সেগুলোতে প্রাণ দাও। তিনি আরো ইরশাদ করলেন, নিশ্চয়ই রহমতের ফেরেশ্তাগণ ঐ সমস্ত ঘরে প্রবেশ করেন না যে সমস্ত ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে। (আছ ছহীহ লিল বুখারী কিতাবুল লিবাস বাবু মাললাম ইয়াদখুল বাইতান ফীহি ছূরাহ ২য় খণ্ড ৮৮১ পৃষ্ঠা)

(৫৪)

حدثنا محمد بن المثنى قال حدثنا غندر قال حدثنا شعبة عن عون بن ابى جحيفة عن ابيه انه اشترى غلاما حجاما فقال ان النبى صلى الله عليه وسلم نهى عن ثمن الدم وثـمن الكلب وكسب البغى ولعن اكل الربى وموكله والواشمة والـمستوشمة والـمصور.

অর্থ: হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন, হযরত মুহম্মদ ইবনে মুছান্না রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত গুন্দার মুহম্মদ ইবনে জা’ফর রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত শু’বাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আঊন ইবনে আবূ জুহাইফাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি তাঁর পিতা হযরত আবূ জুহাইফাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে। তিনি হযরত আবু জুহাইফাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একদা একজন শিঙ্গা লাগাতে পারদর্র্শী এক হাজ্জাম গোলাম ক্রয় করলেন এবং বললেন, নিশ্চয়ই হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রক্তের মূল্য, কুকুরের মূল্য এবং যিনাকারীর উপার্জন গ্রহন করত নিষেধ করেছেন। আর তিনি সুদ ভক্ষণকারী (গ্রহনকারী), সুদদাতা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উলকি অঙ্কণকারী, উলকি অঙ্কণকরানেওয়ালা ও প্রাণীর ছবি নির্মাণকারীর উপর লা’নত (অভিসম্পাত) করেছেন। (আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবুল লিবাস বাবু মান লায়ানাল মুছাব্বিরা ২য় খণ্ড ৮৮১ পৃষ্ঠা)

(৫৫)

حدثنا عياض بن الوليد قال حدثنا عبد الاعلى قال حدثنا سعيد قال سمعت النضر بن انس بن مالك يحدث قتادة قال كنت عند ابن عباس وهم يسئلونه ولا يذكر النبى صلى الله عليه وسلم حتى سئل فقال سمعت محمدا صلى الله عليه وسلم يقول من صور صورة فى الدنيا كلف يوم القيامة ان ينفخ فيها الروح وليس بنافخ.

অর্থ: হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আইয়াদ্ব ইবনে ওয়ালীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আব্দুল আ’লা ইবনে আব্দুল আ’লা রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণণা করেছেন হযরত সাঈদ ইবনে আবূ উরওয়াহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমি শ্রবন করেছি হযরত নদ্বর ইবনে আনাস ইবনে মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে যে, তিনি হযরত ক্বাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। হযরত ক্বাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি একদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট ছিলাম। আর উপস্থিত লোকজন তাঁর কাছে বিভিন্ন মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করছিল। কিন্তু (কোন কথার জবাবেই) তিনি হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উদ্ধৃতি উল্লেখ করছিলেন না। শেষে তাঁকে (প্রাণীর ছবির বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জবাবে বললেন, আমি সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন প্রাণীর ছবি তৈরি করে ক্বিয়ামতের দিন তাকে কঠোরভাবে নির্দেশ করা হবে ঐ ছবির মধ্যে রূহ-প্রাণ দেয়ার জন্য। কিন্তু সে তাতে রূহ-প্রাণ দিতে পারবে না। (আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবুল লিবাস বাবু মান ছাওয়ারা ছূরাতান কুল্লিফা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি আইইয়ানফুখা ফীহার রূহা ওয়া লাইসা বিনাফিখিন ২য় খণ্ড ৮৮১ পৃষ্ঠা)

আছ ছহীহু লি মুসলিম

এ কিতাবখানা হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। হযরত ইমাম আসাকিরুদ্দীন আবুল হুসাঈন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে দাঊদ কুরাইশী নীসাবূরী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি এ কিতাবখানা লিখেছেন। জন্ম মুবারক: ২০৪ হিজরী, ওফাত মুবারক: ২৬১ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

‘আছ ছহীহ লি মুসলিম’ ২য় খণ্ড كتاب اللباس والزينة অধ্যায়ের

باب تحريم تصوير صورة الحيوان وتحريم اتخاذ ما فيه صور غير ممتهنة بالفرش ونحوه وان الملئكة عليهم السلام لا يدخلون بيتا فيه صورة او كلب

 পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে-

(৫৬)

حدثنى سويد بن سعيد قال حدثنا عبد العزيز بن ابى حازم عن ابيه عن ابى سلمة بن عبد الرحمن عن عائشة انها قالت واعد رسول الله صلى الله عليه وسلم جبرئيل عليه السلام فى ساعة ياتيه فيها فجائت تلك الساعة ولم ياته وفى يده عصا فالقاها من يده وقال ما يخلف الله وعده ولا رسله ثم التفت فاذا جرو كلب تحت سرير فقال يا عائشة متى دخل هذا الكلب ههنا فقالت والله مادريت فامر به فاخرج فجاء جبرئيل عليه السلام فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم واعدتنى فجلست لك فلم تات فقال منعنى الكلب الذى كان فى بيتك انا لا ندخل بيتا فيه كلب ولا صورة.

অর্থাৎ: হযরত ইমাম মুসলিম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমার কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আব্দুল আযীয ইবনে আবূ হাযিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর পিতা (হযরত আবূ হাযিম রহমতুল্লাহি আলাইহি) থেকে, তিনি হযরত আবূ সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে। নিশ্চয়ই উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, কোন নির্দিষ্ট সময়ে সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম আগমণের ওয়াদা করলেন। যখন সে সময় আসলো কিন্তু তিনি (হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম) তাঁর কাছে আসলেন না। সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাত মুবারকে একখানা লাঠি ছিল তিনি তা উনার হাত মুবারক থেকে ফেলে দিলেন এবং বললেন, আল্লাহ পাক, উনার নবী-রসূল আলাইহিস্ ছলাতু ওয়াস সালাম ও ফেরেশ্তা আলাইহিমুস্ সালামগণ ওয়াদা খিলাফ করেন না। এরপর তিনি লক্ষ্য করলেন একটি কুকুরের বাচ্চা উনার খাট মুবারকের নিচে। তিনি বললেন, হে হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা! এ কুকুরের বাচ্চাটি এখানে কখন ঢুকলো। হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা বললেন, আল্লাহ পাক-এর কসম! আমি জানি না। তখন তিনি আদেশ দিলেন, তাই সেটিকে বের করে দেয়া হলো। এবার হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম ঘরে প্রবেশ করলেন। হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনি আমাকে ওয়াদা দিয়েছিলেন, তাই আমি আপনার জন্য বসেছিলাম। কিন্তু আপনি এলেন না। তখন তিনি বললেন, আপনার ঘরে অবস্থিত কুকুরটি আমার আগমণের প্রতিবন্ধক ছিল। কারণ, যে ঘরে কুকুর থাকে কিংবা প্রাণীর ছবি থাকে সে ঘরে আমরা (রহমতের ফেরেশ্তাগণ) প্রবেশ করি না। (আছ ছহীহু লিমুসলিম ২য় খণ্ড ১৯৯ পৃষ্ঠা)

(৫৭)

عن ابى طلحة الانصارى رضى الله تعالى عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب ولا تماثيل.

অর্থ: হযরত আবূ ত্বলহা আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শ্রবন করেছি যে, তিনি ইরশাদ করেছেন, ঐ সমস্ত ঘরে রহমতের ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না, যেসমস্ত ঘরে কুকুর ও প্রাণীর ছবি থাকে। (আল বাব: বাবুন লা তাদখুলুল মালায়িকাতু বাইতান ৬ষ্ঠ খণ্ড ১৫৭ পৃষ্ঠ)

(৫৮)

قال ابن عباس رضى الله تعالى عنه سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: كل مصور فى النار يجعل له بكل صورة صورها نفسا فتعذبه فى جهنم. وقال ان كنت لابد فاعلا فاصنع الشجر ومالا نفس له.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি। তিনি ইরশাদ করেছেন, প্রতেক প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারী (বা উত্তোলনকারী) জাহান্নামী হবে। সে যা তৈরি করেছিল তাতে প্রাণ দেয়া হবে, আর সেগুলিই তাকে জাহান্নামে শাস্তি দিবে।” তিনি (হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তোমার যদি ছবি আঁকতেই হয়, তাহলে গাছ-গাছালী এবং প্রাণহীন বস্তুর ছবি আঁকতে পার। (কিতাবুল লিবাস ওয়ায্ যীনাহ বাবুন লা তাদখুলুল মালায়িকাতু বাইতান ৬ষ্ঠ খণ্ড ১৬১ পৃষ্ঠা)

(৫৯)

قال ابن عباس رضى الله تعالى عنه سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من صور صورة فى الدنيا كلف ان ينفخ فيها الروح يوم القيامة وليس بنافخ.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা বলেন, আমি সাইয়্যিদুনা  হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি। তিনি ইরশাদ করেছেন, যারা দুনিয়াতে প্রাণীর ছবি অঙ্কন করে, কিয়ামতের দিন তাদেরকে ঐ ছবিতে প্রাণ দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হবে, কিন্তু তারা তাতে সক্ষম হবে না। (কিতাবুল লিবাস ওয়ায্ যীনাহ বাবুন লা তাদখুলুল মালায়িকাতু বাইতান ৬ষ্ঠ খণ্ড ১৬২ পৃষ্ঠা)

সুনানু আবী দাঊদ

এ কিতাবখানা হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। কিতাবখানা লিখেছেন ইমাম আবূ দাঊদ সুলাইমান ইবনুল আশয়াস সাজিস্তানী হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম মুবারক: ২০২ হিজরী, ওফাত মুবারক ২৭৫ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৬০)

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه ان النبى صلى الله عليه وسلم قال من صور صورة عذبه الله بها يوم القيامة حتى ينفخ فيها وليس بنافخ.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে সমস্ত ব্যক্তি প্রাণীর ছবি অঙ্কন করবে, মহান আল্লাহ পাক ক্বিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিবেন; সেইগুলোতে প্রাণ দেয়া পর্যন্ত। কিন্তু তারা তাতে প্রাণ দিতে পারবে না। (বাবুন মা জায়া ফির রুইয়া ৪র্থ খণ্ড ৪৬৫ পৃষ্ঠা)

(৬১)

عن ابى طلحة الانصارى رضى الله تعالى عنه قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول: لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب ولا تمثال.

অর্থ: হযরত আবূ ত্বলহা আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন। আমি সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শ্রবণ করেছি। তিনি বলেছেন ঐ সমস্ত ঘরে রহমতের ফেরেশ্তা প্রবেশ করেন না, যে ঘরে কুকুর ও প্রাণীর ছবি থাকে। (কিতাবুল লিবাস বাবুন ফিছ ছুওয়ার ৪র্থ খণ্ড ১২১ পৃষ্ঠা)

(৬২)

عن على رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: لا تدخل الـملائكة بيتا فيه صورة ولا كلب ولا جنب.

অর্থ: হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেছেন, ঐ ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না, যে ঘরে প্রাণীর ছবি, কুকুর ও অপবিত্রতা থাকে। (কিতাবুল লিবাস বাবুন ফিছ ছুওয়ার ৪র্থ খণ্ড ১২১ পৃষ্ঠা)

(৬৩)

عن جابر رضى الله تعالى عنه ان النبى صلى الله عليه وسلم امر عمر بن الخطاب رضى الله عنه زمن الفتح وهو بالبطحاء ان ياتى الكعبة فيمحو كل صورة فيها فلم يدخلها النبى صلى الله عليه وسلم حتى محيت كل صورة فيها.

অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা শরীফ বিজয়ের সময় বাতহা নামক স্থানে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে নির্দেশ দিলেন কা’বা শরীফে প্রবেশ করার জন্য। তিনি প্রবেশ করে সমস্ত প্রাণীর ছবি (ভাস্কর্য-মূর্তি) নিশ্চিহ্ন করলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমস্ত ছবি ধ্বংস করার পর কা’বা শরীফে প্রবেশ করেন। (কিতাবুল লিবাস বাবুন ফিছ ছুওয়ার ৪র্থ খণ্ড ১২২ পৃষ্ঠা)

 

আল জামিউ ওয়াস্ সুনানুত্ তিরমিযী

 

এ কিতাবখানা হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। কিতাবখানা লিখেছেন হযরত ইমাম আবূ ঈসা মুহম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ তিরমিযী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম মুবারক: ২১০ হিজরী, ওফাত মুবারক: ২৭৯ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৬৪)

عن جابر رضى الله تعالى عنه قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الصورة فى البيت ونهى ان يصنع ذلك.

অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরে প্রাণীর ছবি রাখতে নিষেধ করেছেন। আর প্রাণীর ছবি অঙ্কন করতে (তোলতে বা দেখতে) নিষেধ করেছেন। (কিতাবুল লিবাস বাবুছ ছুওয়ার ৪র্থ খণ্ড ২৩০ পৃষ্ঠা)

(৬৫)

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى عليه وسلم من صور صورة عذبه الله حتى ينفخ فيها يعنى الروح وليس بنافخ فيها.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন। সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তৈরি করে তাতে প্রাণ না দেয়া পর্যন্ত মহান আল্লাহ পাক তাকে শাস্তি দিতে থাকবেন, কিন্তু সে তাতে প্রাণ দিতে সক্ষম হবে না। (কিতাবুল লিবাস বাবুল মুছাব্বিরীন ৪র্থ খণ্ড ২৩১ পৃষ্ঠা)

(৬৬)

عن عبد الله بن عباس رضى الله تعالى عنه يقول سمعت ابا طلحة رضى الله تعالى عنه يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب ولا صورة ولا تماثيل.

অর্থাৎ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি হযরত আবূ ত্বলহাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে শ্রবন করেছি যে, তিনি বলেছেন আমি সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ করেছেন; ঐ সমস্ত ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না যে ঘরে কুকুর, প্রাণীর ছবি, মূর্তি বা ভাস্কর্য থাকে। কিতাবুল লিবাস বাবুন ইন্নাল মালায়িকাতা লা তাদখুলু বাইতান ফীহি ৫ম খণ্ড ১১৪ পৃষ্ঠা)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (৩০তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৭তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৩১)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৭৫

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে-মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৮)