কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৬

সংখ্যা: ১৯৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-এর জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি। আল্লাহ পাক-এর অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

“কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-এর দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-এর ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থঃ ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক-এর রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

আল মুছান্নাফ লি আব্দির রযযাক

রহমতুল্লাহি আলাইহি

হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য কিতাব ‘আল মুছান্নাফ লি আব্দির রযযাক রহমতুল্লাহি আলাইহি।’ এ কিতাবখানা লিখেছেন, তাবি’ তাবিয়ীন, আল হাফিযুল কবীর, আল্লামা হযরত ইমাম আবূ বকর আব্দুর রযযাক ইবনে হুমাম ইবনে নাফি’ হুমাইরী ছানয়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি। যিনি হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর উস্তায ছিলেন। (জন্ম মুবারক: ১২০ হিজরী মতান্তরে ১২৬ হিজরী, ওফাত মুবারক: ২১১ হিজরী)। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

পূর্ব প্রকাশিতের পর

(১৩)

اخبرنا عبد الرزاق قال اخبرنا معمر عن ايوب عن عكرمة قال لا اعلم الا عن ابن عباس رضى الله عنه ان النبى صلى الله عليه وسلم قال من صور صورة كلف يوم القيامة ان ينفخ فيها الروح وليس بنافخ فيها ابدا.

অর্থাৎ “হযরত আব্দুর রযযাক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত মুয়াম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত আইউব রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে। তিনি হযরত ইকরামাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে। তিনি (হযরত ইকরামাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফ সম্পর্কে ভালো করেই জানি যে, তিনি বলেছেন। নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তৈরি করে, ক্বিয়ামতের দিন তার উপর চাপ সৃষ্টি করা হবে সে যেন তাতে রূহ ফুঁকে দেয়। কিন্তু সে কখনোই তাতে রূহ ফুঁকে দিতে পারবে না।” (কিতাবুল জামি’ বাবুত তামাছীলি ওয়া মা জায়া ফীহি ১০ম খণ্ড ৩৯৯ পৃষ্ঠা)

(১৪)

اخبرنا عبد الرزاق عن معمر عن قتادة ان كعبا قال يطلع عنق من النار يوم القيامة فيقول امرت ان اخذ ثلاثة من دعا مع الله الها وكل جبار عنيد قال معمر ونسيت الثالثة قال فيأخذهم قال ثم يطلع عنق اخر فيقول امرت ان اخذ ثلاثة من كذب الله ومن كذب على الله ومن اذى الله فاما من كذب الله فمن قال ان الله لا يبعثه واما من كذب على الله فمن ادعا له ولدا واما من اذى الله فالذين يعملون الصور فيقال لهم احيوا ما خلقتم فيلتقطهم كما يلتقط الطائر الحب.

অর্থাৎ “হযরত আব্দুর রযযাক রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুয়াম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত ক্বাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। হযরত কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে আগুনের গলা বের হবে ও বলবে আমাকে নির্দেশ  করা হয়েছে তিন প্রকার ব্যক্তিকে পাকড়াও করার জন্য: ১. যে আল্লাহ পাক-এর সাথে অন্য কিছুকে শরীক করে ২. প্রত্যেক অত্যাচারী শাসক ব্যক্তি ৩. হযরত মুয়াম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, আমি তৃতীয় প্রকারটি ভুলে গেছি। রাবী বলেন, এই আগুন এই তিন প্রকার ব্যক্তিকে গ্রাস করে নিবে। রাবী বলেন, আবারো একটি গলা বের হবে ও বলবে: আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তিন প্রকার ব্যক্তিকে পাকড়াও করার জন্য: ১. যারা আল্লাহ পাক সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে ২. যারা আল্লাহ পাক সম্পর্কে মিথ্যা তোহমত দেয় ৩. যারা আল্লাহ পাক-কে কষ্ট দেয়। (তাদের পরিচয় হলো) ১. যারা আল্লাহ পাক সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে; তারা বলে থাকে যে, আল্লাহ পাক কোন নবী ও রসূল আলাইহিমুছ্্ ছলাতু ওয়াস সালাম পাঠাননি; ২. যারা আল্লাহ পাক সম্পর্কে মিথ্যা তোহমত দেয়; তারা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ পাক-এর সন্তান-সন্ততি আছে ৩. আর যারা আল্লাহ পাক-কে কষ্ট দেয়; তারা ঐ ব্যক্তি, যারা প্রাণীর ছবি অঙ্কন করে। তখন তাদেরকে বলা হবে তোমরা যেগুলো তৈরি করেছ, এতে প্রাণ দাও। (কিন্তু তারা প্রাণ দিতে সক্ষম হবে না)। উক্ত আগুনের গলা উক্ত ব্যক্তিগুলোকে খুঁজে খুঁজে বের করবে, যেমনিভাবে পাখি তার খাবারের শস্যকে খুঁজে খুঁজে বের করে।” (কিতাবুল জামি’ বাবুত তামাছীলি ওয়া মা জায়া ফীহি ১০ম খণ্ড ৪০০ পৃষ্ঠা)

(১৫)

اخبرنا عبد الرزاق عن معمر عن قتادة قال يكره من التماثيل ما فيه الروح فاما الشجر فلا بأس به.

অর্থাৎ “হযরত আব্দুর রযযাক রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুয়াম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত ক্বাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (হযরত ক্বাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, তিনি যে সমস্ত প্রাণীর প্রাণ আছে তাদের ছবি অঙ্কন করাকে মাকরূহ তাহরীমী তথা হারাম মনে করতেন। কিন্তু গাছের ছবি অঙ্কনে কোন গুনাহ নেই।” (কিতাবুল জামি’ বাবুত তামাছীলি ওয়া মা জায়া ফীহি ১০ম খ- ৩৯৯ পৃষ্ঠা)

(১৬)

اخبرنا عبد الرزاق عن معمر عن بعضهم ان رجلا من اصحاب ابن مسعود نظر الى رجل صور فى الارض عصفورا فضرب يده.

অর্থাৎ “হযরত আব্দুর রযযাক রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুয়াম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি কিছু সংখ্যক রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন। নিশ্চয়ই হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সঙ্গীগণের মধ্যে একজন দেখলেন জনৈক একব্যক্তি মাটির উপরে চড়ুই পাখির ছবি অঙ্কন করছে। এ অবস্থা দেখে তিনি উক্ত অঙ্কিত ছবিটি মিশিয়ে দিলেন।” (কিতাবুল জামি’ বাবুত তামাছীলি ওয়া মা জায়া ফীহি ১০ম খণ্ড ৪০১ পৃষ্ঠা)

(১৭)

اخبرنا عبد الرزاق عن معمر عن قتادة انه كان فى باب صفته تماثيل فقيل له يا ابا الخطاب! ما هذا فقال هذا شىء لم امر به ولم اصنعه امر به غيرى وشنعت به.

অর্থাৎ “হযরত আব্দুর রযযাক রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুয়াম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত ক্বাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেছেন, একদা হযরত ক্বাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ঘরে প্রাণীর ছবি দেখা গেল। তখন একজন জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবুল খত্তাব হযরত ক্বাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি! এটা কি? উত্তরে তিনি বললেন, এটা এমন একটি জিনিস যা আমার নির্দেশে হয়নি এবং আমি ইহা তৈরিও করিনি। এটি অন্য কেউ করেছে। এমনকি এটি খুলে ফেলা হলো।” (কিতাবুল জামি’ বাবুত তামাছীলি ওয়া মা জায়া ফীহি ১০ম খণ্ড ৪০১ পৃষ্ঠা)

মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল

রহমতুল্লাহি আলাইহি

হাদীছ শরীফের ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য কিতাব ‘মুসনাদু আহমদ বিন হাম্বল।’ যে কিতাবখানা লিখেছেন মাযহাব চতুষ্টয়ের অন্যতম হাম্বলী মাযহাব এর ইমাম ইমামুল আইম্মাহ, হাকিুমল হাদীছ আল মুজতাহিদুল মুতলাক হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি। যিনি ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর উস্তায। জন্ম মুবারক: ১৬৪ হিজরী, ওফাত মুবারক: ২৪১ হিজরী। এতে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(১৮)

فقال مسروق اما انى سمعت عبد الله بن مسعود رضى الله عنه يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اشد الناس عذابا يوم القيامة المصورون.

অর্থ: হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে শুনেছি। তিনি বলেছেন যে, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তিদের কঠিন শাস্তি হবে যারা প্রাণীর ছবি আঁকে (তোলে বা দেখে)। (আল্ বাব: মুসনাদু আব্দিল্লাহ বিন মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু ১ম খ- ৩৭৫ পৃষ্ঠা)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২০

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২১