কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২২

সংখ্যা: ১৮৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-এর জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি। আল্লাহ পাক-এর অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

“কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-এর দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

“কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ, “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-এর ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থঃ ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক-এর রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

বাতিলপন্থীদের প্রাণীর ছবি সম্পর্কিত আপত্তিকর ও প্রতারণামূলক বক্তব্যসমূহের খন্ডনমূলক জবাব

পূর্ব প্রকাশিতের পর

বাতিলপন্থীদের আপত্তিকর ও

 প্রতারণামূলক বক্তব্য-১৫

প্রতারক, জাহিল ও অপব্যাখ্যাকারী বাতিলপন্থী এ আর শাহ আলম তার মিথ্যা ও অপব্যাখ্যায় ভরা চটি বইয়ের ৯-১০ পৃষ্ঠায় সূরা হাশরের ২৪ নম্বর আয়াত শরীফখানা উল্লেখ করে তার মনগড়া ও কুফরীমূলক ব্যাখ্যা করেছে এভাবে যে

“মোসাব্বির এ শব্দটি ব্যাখ্যা দিয়ে আরনল্ড বলেন, চিত্রকরের যে আরবী শব্দ, তা আরবী ভাষা থেকে ফারসী, তুর্কী ও উর্দু ভাষায় অনুপ্রবেশ করেছে। তার আক্ষরিক অর্থ- গঠন করা। প্রতিকৃতি ও প্রতিমুর্তি সৃষ্টি করা এবং এই অর্থে এটি ভাস্কর্যের প্রতি প্রযোজ্য হতে পারে।”

খন্ডনমূলক জবাব

তথাকথিত আশিকে রসূল এ আর শাহ আলমের উক্ত ব্যাখ্যা ও বক্তব্য কুফরীমূলক হয়েছে। সে তার বক্তব্যের স্বপক্ষে অনুস্মরণীয় কোন মুফাস্সির রহমতুল্লাহি আলাইহিম এবং গ্রহণযোগ্য কোন তাফসীরের কিতাবের উদ্ধৃতি দিতে পারেনি। বরং সে একজন খ্রিস্টান বা কাফির আরনল্ড-এর উদ্ধৃতি দিয়েছে। তাই তার উক্ত ব্যাখ্যা ও বক্তব্য মোটেও গ্রহনযোগ্য নয় বরং সম্পূর্ণই পরিত্যাজ্য।

বিশ্বের অনুসরণীয় ও বিশুদ্ধ তাফসীরের কিতাবসমূহে المصور ‘আল মুছাব্বির’ শব্দের অর্থ করা হয়েছে এভাবে- “আল্লাহ পাক মায়ের পেটে আকৃতি তৈরিকারী, সৃষ্টিকারী, অস্তিত্ত্ব দানকারী ইত্যাদি।”

যেমন এ প্রসঙ্গে হযরত ইমাম আবুল ফারাজ জামালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আলী বিন মুহম্মদ জাওযী হাম্বলী ক্বাদিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৫৯৭ হিজরী) তাঁর বিশ্ব বিখ্যাত সর্বজনমান্য বিশুদ্ধ তাফসীরের কিতাব “যাদুল মাসীর ফি ইলমিত তাফসীর” ৮ম খ- ২১৫-২১৬ পৃষ্ঠায় লিখেছেন-

قوله تعالى: (فى اى صورة ماشاء ركبك) وفى معنى الاية اربعة اقوال:

 احدها: فى اى صورة من صور القرابات ركبك, وهو معنى قول مجاهد.

والثانى: فى اى صورة, من حسن او قبح او طول او قصر او ذكر او انثى, وهو معنى قول الفراء.

والثالث: ان شاء ان يركبك فى غير صورة الانسان ركبك. قاله مقاتل, وقال عكرمة: ان شاء فى صورة قرد وان شاء فى صورة خنزير.

والرابع: ان شاء فى صورة انسان بافعال الخير. وان شاء فى صورة حمار بالبلادة والبله, وان شاء فى صورة كلب بالبخل او خنزير بالشرة, ذكره الثعلبى.

অর্থাৎ (তিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছামত আকৃতিতে তৈরি করেছেন)। অত্র আয়াত শরীফের ৪টি ব্যাখ্যা রয়েছে।

প্রথম ব্যাখ্যা: তিনি তোমাকে তোমার নিকটাত্মীয়দের আকৃতিতে তৈরি করেছেন। ইহা হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ব্যাখ্যা।

দ্বিতীয় ব্যাখ্যা: তিনি সৃষ্টি করেন অতি সুন্দর ছূরতে অথবা স্বাভাবিক ছূরতে, লম্বা করে অথবা খাটো করে, এবং পুরুষ অথবা মহিলা হিসেবে। ইহা হযরত ফারাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ব্যাখ্যা।

তৃতীয় ব্যাখ্যা: তিনি ইচ্ছা করলে তোমাকে মানুষের আকৃতি ব্যতিত অন্য আকৃতিতেও সৃষ্টি করতে পারেন। ইহা হযরত মুক্বাতিল রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর উক্তি। হযরত ইকরামাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি ইচ্ছা করলে বানরের আকৃতিতে তৈরি করতে পারেন আবার ইচ্ছা করলে  খিনযীরের আকৃতিতেও তৈরি করতে পারেন।

চতুর্থ ব্যাখ্যা: তিনি ইচ্ছা করলে উত্তম আমলের কারণে মানুষের আকৃতিতে রূপান্তরিত করতে পারেন, আবার বোকামী ও নির্বুদ্ধিতার কারণে গাধার আকৃতিতেও রূপান্তরিত করতে পারেন। তেমনিভাবে কৃপনতার দরুন কুকুরের আকৃতিতে, আবার খারাবীর কারণে খিনযীরের আকৃতিতে রূপান্তরিত করতে পারেন।

উক্ত আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় হযরত ইমাম হাফিযুদ্দীন আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মাহমুদ নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৭০১ হিজরী) “মাদারিকুত তানযীল ওয়া হাক্বায়িকুত তা’বীল” অর্থাৎ ‘তাফসীরুন নাসাফী বা তাফসীরুল মাদারিক’ এর ৪র্থ খ- ৩৫৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন,

فى اى صورة اقتضتها مشيئته من الصور المختلفة فى الحسن والقبح والطول

অর্থ: তিনি (আল্লাহ পাক) তাঁর ইচ্ছামত বিভিন্ন ছূরতে যেমন- সুন্দর, স্বাভাবিক, লম্বা ও খাটো ইত্যাদি আকৃতিতে মানুষকে তৈরি করনে।

হযরত শাইখ মুহ্ইস সুন্নাহ আলাউদ্দিন আলী বিন মুহম্মদ বিন ইবরাহীম বাগদাদী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৭২৫ হিজরী) “লুবাতুত তাবীল ফী মায়ানিত তানযীল” অর্থাৎ, তাফসীরুল খাযিন বা তাফসীরুল লুবাব’ এর ৪র্থ খ- ৩৫৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন,

فى اى شبه من اب او ام او خال او عم

অর্থাৎ, মানুষকে ইচ্ছামত তার পিতা অথবা মাতা অথবা মামা নতুবা চাচার আকৃতিতে তৈরি করা হয়।

হযরত আল্লামা মাওলানা মুহম্মদ ছানাউল্লাহ উছমানী হানাফী মাতুরীদী মাযহারী নকশবন্দী পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ১১৪৩ হিজরী) তাফসীরুল মাযহারী ১০ম খ- ২১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন,

قال مجاهد والكلبى ومقاتل فى اى شبيه من اب او ام او خال او عم.

অর্থাৎ, হযরত মুজাহিদ, কালবী ও মুক্বাতিল রহমতুল্লাহি আলাইহিম বলেছেন, মানুষকে ইচ্ছামত তার পিতা অথবা মাতা অথবা মামা নতুবা চাচার আকৃতিতে তৈরি করা হয়।

 অনুসরণীয় কোন তাফসীরগ্রন্থেই চিত্রকর অর্থ করা হয়নি। তাই উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা প্রাণীর ছবি, মূর্তি, প্রতিমূর্তি, প্রতিকৃতি ও ভাস্কর্য তৈরি করাকে জায়িয প্রমাণ করার অপচেষ্টা করা কুফরী বৈ কিছুই নয়। কেননা অসংখ্য আয়াত শরীফ, হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রাণীর ছবি তৈরী করা হারাম ও নাজায়িয প্রামাণিত।

বাতিলপন্থীদের আপত্তিকর ও

প্রতারণামূলক বক্তব্য- ১৬

প্রতারক, জাহিল ও অপব্যাখ্যাকারী বাত্বিলপন্থী এ আর শাহ আলম তার মিথ্যা ও অপব্যাখ্যায় ভরা চটি বইয়ের ৪ পৃষ্টায় সূরা ইনফিতারের ৮ নম্বর আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় উদ্ভট, ভিত্তিহীন, মনগড়া, শিরকী ও কুফরীমূলক বক্তব্য পেশ করেছে। যেমন সে লিখেছে, “আল্লাহ পাক যখন আদম আলাইহিস্ সালামকে সৃষ্টি করতে মনস্থ করেন তিনি কোন প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি করবেন এবং তাঁর আকার অবয়ব কি হবে ফেরেস্তারা তা জানতে চান। কারণ হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম-এর সৃষ্টির দায়িত্ব ফেরেস্তাদের উপর অর্পিত হয়েছে। কিতাবে পাওয়া যায়, আল্লাহ পাক একটি দর্পনের সামনে দাঁড়িয়ে ফেরেস্তাদেরকে বল্লেন, এরূপ আকার-আকৃতিতে হযরত আদম আলাইহিস্ সালামকে বানাতে। ফেরেস্তাগন আকৃতি পেয়ে গেলেন। তাদের জন্য আদম আলাইহিস্ সালামকে বানানো সহজ হয়ে গেল। ফেরেস্তাগণ যে আকৃতি দর্শন করে হযরত আদম আলাইহিস্ সালামকে বানালেন তা আল্লাহরই আকৃতি ছিল। তা না হলে ফেরেস্তারা হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম-এর আকৃতিই বা পাবেন কোথায়। হযরত রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাদীছ দ্বারা তাহাই প্রমাণ করেছেন। মানুষের আকৃতি আল্লাহর প্রতিকৃতি প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব বলে বিভিন্নভাবে বলা হয়েছে। যেমনি করে ‘বাইতুল্লাহ’ বা কাবা শরীফকে কোন আকৃতিতে তৈরী করা হয়েছে প্রশ্ন করলে বলা হবে উহা ‘বাইতুল মামুরের’ প্রতিবিম্ব বা প্রতিচ্ছবি।”

খন্ডনমূলক জবাব

জাহিল, বাত্বিলপন্থী এ আর শাহ আলমের উক্ত ব্যাখ্যা ও বক্তব্য কুফরী ও শিরকীমূলক হয়েছে। তার উক্ত বক্তব্যের জবাবে

প্রথমতঃ বলতে হয় যে, প্রতারক শাহ আলম ব্যাখ্যার শুরুতে বলেছে “কিতাবে পাওয়া যায়”। কার লেখা কোন কিতাবে আছে তা কিন্তু উল্লেখ করেনি। আর কিতাবের নাম উল্লেখ না করার কারণ হচ্ছে: আসলে অনুসরণীয় কোন মুফাসসির-এর কোন তাফসীর গ্রন্থেই তার এ কুফরী ব্যাখ্যা উল্লেখ নেই এবং থাকতেও পারে না। তাই সে কোন কিতাবের নাম উল্লেখ করেনি বা করতে পারেনি। আর ইসলামী শরীয়তে বিনা দলীলে কোন কথাই গ্রহনযোগ্য নয়।

দ্বিতীয়তঃ বলতে হয় যে, আল্লাহ পাক খালিক বা স্রষ্টা। তিনি মাখলূক বা সৃষ্টি নন এবং সৃষ্টির মতও নন। আর কোন সৃষ্টির মুখাপেক্ষীও নন এবং কোন সৃষ্টিও তাঁর সমকক্ষ বা মত নয়। শুধু তাই নয় মহান আল্লাহ পাক সর্বপ্রকার ছূরত বা আকার-আকৃতি থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। সুবহানাল্লাহ। এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত এর আক্বীদাহ। তাই, আল্লাহ পাক দর্পন বা আয়নার সামনে দাড়িয়েছেন। তাঁর আকৃতি দর্পনে দেখা গেছে। এধরনের আক্বীদা পোষণ করা বা বক্তব্য পেশ করা স্স্পুষ্ট কুফরী।

অএতব, হযরত আদম আলাইহিস সালাম-এর আকৃতি আল্লাহ পাক-এর আকৃতি নয়। কারণ আল্লাহ পাক আকার আকৃতি বিশিষ্ট নন। বরং আল্লাহ পাক হযরত আদম আলাইহিস সালামকে যে আকৃতিতে তৈরি করার ইরাদা করেছেন, তা সেই আকৃতিই ছিল। হাদীছ শরীফ-এর কোথাও নেই যে, আল্লাহ পাক-এর মত হযরত আদম আলাইহিস সালাম। মানুষের আকৃতি আল্লাহ পাক-এর প্রতিকৃতি, প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব একথা বিশ্বাস করা কুফরী ও শিরকীর অন্তর্ভুক্ত।

(আল ফিকহুল আকবর, শরহুল ফিকহিল আকবর, আক্বীদাতুত্ ত্বহাবী, শরহু আকীদাতিত্্ ত্বহাবী, আল আক্বায়িদুন্্ নাসাফিয়াহ, শরহুল আক্বায়িদিন নাসাফিয়াহ, আল মাওয়াকিফ, শরহুল মাওয়াকিফ, মাকতুবাত শরীফ, আক্বায়িদে হাক্কাহ, ফিরকাতুন্্ নাজিন ইত্যাদী কিতাব দ্রষ্টব্য)

তৃতীয়তঃ বলতে হয় যে, ‘বাইতুল মামুরের’ মতই ‘বাইতুল্লাহ’কে তৈরি করা হয়েছে, এটা বাস্তব ও শরীয়ত সমর্থিত এজন্য যে, বাইতুল মামুর ও বাইতুল্লাহ শরীফ উভয়ই সৃষ্টি। আর এক সৃষ্টি অন্য সৃষ্টির সাদৃশ্য হতে পারে এতে অসুবিধা নেই।

কিন্তু এর উপর ক্বিয়াস করে এটা বলা ও বিশ্বাস করা যাবে না যে, “আল্লাহ পাক-এর প্রতিচ্ছবি বা প্রতিকৃতি তেমনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম।” কারণ, আল্লাহ পাক স্রষ্টা, যিনি ছূরত বা আকার-আকৃতি তৈরিকারী। তাঁর কোন আকার আকৃতি নেই। যার আকার আকৃতি নেই, তাঁর আকৃতি থেকে আবার প্রতিচ্ছবি বা প্রতিবিম্ব আসে কি করে?

অতএব প্রমাণীত হলো যে, এ আর শাহ আলমের ব্যাখ্যা কুফরী ও শিরকীতে ভরা। মূলতঃ উক্ত আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় আমরা ১৪ নং জবাবের ২ নং আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় যা উল্লেখ করেছি তা-ই বিশুদ্ধ গ্রহণযোগ্য ও দলীলসম্মত।

বাতিলপন্থীদের আপত্তিকর ও

প্রতারণামূলক বক্তব্য- ১৭

প্রতারক, জাহিল ও অপব্যাখ্যাকারী বাতিলপন্থী এআর শাহ আলম তার মিথ্যা ও অপব্যাখ্যায় ভরা চটি বইয়ের ৬ পৃষ্ঠায় সূরা মায়িদা-এর ৯০ নম্বর আয়াত শরীফ উল্লেখ করে তার ব্যাখ্যায় ৭ ও ১০ পৃষ্ঠায় প্রাণীর ছবি ও মূর্তিকে জায়িয কারার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। যেমন, সে লিখেছে-

৭নং পৃষ্ঠাঃ (ক) “সুতরাং আনছাব শব্দ দ্বারা পৌত্তলিকতাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং একে সুকুমার শিল্পচর্চার প্রতি ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা ধরা যায় না।”

১০ নং পৃষ্ঠাঃ (খ) “মূর্তি (প্রতিকৃতি) ও ভাস্কর্য কোরআনের কোথাও নিষেধ বলা হয় নাই।”

(গ) “আল্লাহ পাক যা নিষিধ করেন নাই তা হযরত রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি নিষেধ বলতে পারেন না।”

(ঘ) “প্রতিকৃতি অঙ্কনের প্রতি হযরত রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুপ মনোভাব হাদীছ দ্বারা ধর্মবেত্তাগণ প্রমাণ করেছেন। একথা সত্য কিন্তু উক্ত হাদীসগুলো ইসলামের আবির্ভাবের অনেক পরে সংকলিত হয়।”

(ঙ) “সুতরাং একথা বলা যায় যে, ধর্মবেত্তাদের চিত্রকলার প্রতি নিষেধাজ্ঞার পূর্বে শিল্পকলা ও চিত্রকলার চর্চা হতো।”

খন্ডনমূলক জবাব

জাহিল ও অপব্যাখ্যাকারী বাতিলপন্থী শাহ আলমের উল্লেখিত কথাগুলো কুরআন শরীফ-এর অপব্যাখ্যার কারণে কুফরীমুলক হয়েছে। নিম্নে বাতিলপন্থী শাহ আলমের কুফরীমূলক মন্তব্যগুলো খ-ন করে তার সঠিক ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হলো-

(ক) (শাহ আলমের কুফরীমূলক ব্যাখ্যা): “সুতরাং ‘আনছাব’ শব্দ দ্বারা পৌত্তলিকতাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এবং একে সুকুমার শিল্প-চর্চার প্রতি ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা ধরা যায় না।” নাউযুবিল্লাহ।

ছহীহ জাওয়াব: শাহ আলম انصاب ‘আনছাব’ শব্দ দ্বারা শুধু পৌত্তলিকতার কথা উল্লেখ করে পূজনীয় মূর্তি ছাড়া অন্যান্য মূর্তি বা পুতুলকে বৈধ করার কথাই ইঙ্গিত করেছে। অথচ শরীয়ত তথা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস দ্বারা মূর্তি, পুতুল, ভাস্কর্য সবগুলোর চর্চা করা হারাম সাব্যস্ত হয়। সেগুলোর পুজা করা হোক অথবা না করা হোক। সর্বাবস্থায় মূর্তি, পুতুল, ভাস্কর্য, চিত্রকলা ইত্যাদি জাতীয় সবগুলোই তৈরি করা ও এগুলোকে সম্মান-ইজ্জত করা হারাম ও কুফরী।

শাহ আলম তার অপব্যাখ্যায় বলেছে: “একে সুকুমার শিল্প চর্চার প্রতি ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা ধরা যায় না।” নাঊযুবিল্লাহ।

গুমরাহ আলমের এ কথাও শরীয়ত বিরুদ্ধ ও কুফরী। কারণ, আয়াত শরীফ-এর ‘আনছাব’ শব্দ দ্বারা সকল প্রকার মূর্তি ও ভাস্কর্যকে হারাম ও শয়তানী কাজ বলা হয়েছে। যা সুকুমার শিল্পচর্চার প্রতি স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা।

খ. (শাহ আলমের কুফরীমূলক ব্যাখ্যা): মূর্তি (প্রতিকৃতি) ও ভাস্কর্য কুরআনের কোথাও নিষেধ বলা হয় নাই।” নাঊযুবিল্লাহ।

ছহীহ জাওয়াব: উক্ত বক্তব্যও বিশ্বাস কুফরী। মুলত সূরা মায়িদার ৯০ নম্বর আয়াত শরীফখানাতে মূর্তি (প্রতিকৃতি) ও ভাস্কর্যকে শয়তানী কাজ আখ্যায়িত করে তা হারাম ও নাজায়িয বলা হয়েছে। এবং তার থেকে ফিরে থাকতেও বলা হয়েছে।

এখানেও ধোঁকাবাজ শাহ আলম দলীল ছাড়াই নিজের মনগড়া বক্তব্য দ্বারা ফায়দা লুটানোর অপচেষ্টা করেছে। অতএব, আলমের এই বক্তব্য কুফরী ও পরিত্যাজ্য বলে প্রমাণিত হলো।

গ. (শাহ আলমের কুফরীমূলক ব্যাখ্যা): “আল্লাহ পাক যা নিষেধ করেন নাই তা হযরত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করতে পারেন না। নাঊযুবিল্লাহ।

ছহীহ জাওয়াব: ওহী দু’প্রকার। যথা ১. الوحى المتلو ওহীয়ে মাতলূ অর্থাৎ কুরআন শরীফ ২. الوحى غير المتلو ওহীয়ে গাইরে মাতলূ অর্থাৎ হাদীছ শরীফ। উভয়টিই আল্লাহ পাক-এর ওহী ।

অতএব, কোন বিষয়ে কুরআন শরীফ-এ আদেশ বা নিষেধ না থাকলেই যে, তা হাদীছ শরীফে থাকবে না তা নয়। কেননা কুরআন শরীফে নেই অথচ হাদীছ শরীফে রয়েছে এরূপ বহু বিষয় শরীয়তে রয়েছে। যথা:

১.      কুরআন শরীফে নামাযে কথা বলতে নিষেধ করা হয়নি। কিন্তু তা হাদীছ শরীফে নিষেধ করা হয়েছে। (বুখারী শরীফ)

২.     বিবাহিত ও বিবাহিতা পুরুষ ও মহিলা ব্যভিচার করলে তা প্রমাণের ভিত্তিতে রজম করে হত্যা করার বিষয়ে কুরআন শরীফে উল্লেখ নেই। বরং তা হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। (আন্ নাসিখ ওয়াল মানসূখ লিল জাওযী)

৩.     কুরআন শরীফে প্রতি ওয়াক্তের নামায কত রাকায়াত তা উল্লেখ নেই। বরং তা হাদীছ শরীফ দ্বারা ফায়সালা করা হয়েছে। (সমস্ত হাদীছ শরীফের কিতাব)

৪.     ‘দাদী-নানী ও পুতনী-নাতনীকে বিবাহ করা হারাম এ কথা কুরআন শরীফ-এর কোথাও নেই। বরং তা ইজমা ও কিয়াস দ্বারা সাব্যস্ত।

এরকম আরো শত শত বিষয় রয়েছে, যা কুরআন শরীফে আদেশ-নিষেধ করা না হলেও হাদীছ শরীফ তথা সুন্নাহ শরীফে আদেশ বা নিষেধ করা হয়েছে।

অনুরূপভাবে কুরআন শরীফে প্রাণীর ছবি বা প্রতিচ্ছবি হারাম হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও হাদীছ শরীফে আছে। আর হাদীছ শরীফে থাকাই প্রাণীর ছবি হারাম হওয়ার জন্য যথেষ্ট। কেননা হাদীছ শরীফও ওহী বা আল্লাহ পাক-এর বিধান। যার ভাব আল্লাহ তায়ালার আর ভাষা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর। কাজেই, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক প্রাণীর ছবি হারাম করা আর আল্লাহ পাক হারাম করা একই কথা।

ঘ. (শাহ আলমের কুফরীমূলক ব্যাখ্যা): “প্রতিকৃতি অঙ্কনের প্রতি হযরত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরুপ মনোভাব হাদীছ দ্বারা ধর্মবেত্তাগণ প্রমাণ করেছেন। এ কথা সত্য কিন্তু উক্ত হাদীসগুলো ইসলামের আবির্ভাবের অনেক পরে সংকলিত হয়।”

ছহীহ জাওয়াব: প্রতিকৃতি, প্রতিচ্ছবি বা প্রাণীর ছবি যে হাদীছ শরীফ দ্বারা হারাম হয়েছে, এ সত্য কথা শাহ আলম নিজেই স্বীকার করলো।

পরক্ষণেই সে আবার বলতেছে, “কিন্তু উক্ত হাদীছগুলো ইসলামের আবির্ভাবের অনেক পরে সঙ্কলিত হয়।”

তার একথা বলার উদ্দেশ্য হলো যা পরে সঙ্কলিত হয়েছে তার হুকুম মান্য করা যাবে না। নাঊযুবিল্লাহ। বিষয়টি অবশ্যই আলোচনা সাপেক্ষ:

১.      শাহ আলমের মতে, ছবি নাজায়িযের হাদীছ শরীফগুলো অনেক পরে সঙ্কলিত হওয়ার কারণে যদি তা প্রত্যাখ্যান হয়, তাহলে মুর্খ শাহ আলমকে বলতে হবে উমাইয়া যুগে হাদীছ শরীফ-এর সঙ্কলনের ব্যাপক কাজের কারণে তো বিশ্বের সমস্ত হাদীছ শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর কিতাবগুলোকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। শাহ আলম কি তা করবে?

২.     ওহী নাযিলের সময় ওহীয়ে মাতলূ তথা কুরআন শরীফ ব্যতীত হাদীছ শরীফকে লিখতে নিষেধ করা হয়েছিল। যাতে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর মধ্যে মিশ্রন হয়ে না যায়। আর এজন্যই  হাদীছ শরীফ-এর সঙ্কলন পরবর্তীতে হয়েছে। শাহ আলম কি বলবে, প্রথম দিকে হাদীছ শরীফ লিখতে নিষেধ করাতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভুল করেছেন? নাঊযুবিল্লাহ।

৩.     ছহীত মতে, হাদীছ শরীফ উমাইয়া খিলাফতের সময় ব্যাপকভাবে সঙ্কলন করা হয়। তখন প্রাণীর ছবি, প্রতিকৃতি হারাম ও নাজায়িযের হাদীছ শরীফ যেমনভাবে ছহীহ সনদে সঙ্কলিত হয়, তেমনি প্রাণীর ছবির পক্ষে মানসূখ হাদীছ শরীফগুলো যা শাহ আলম উল্লেখ করেছে সেগুলোও সঙ্কলিত হয়। শাহ আলম মানসূখ হাদীছগুলো ঠিকই গ্রহন করলো। অথচ যে হাদীছ শরীফগুলো দ্বারা প্রাণীর ছবি হারাম প্রামাণীত হয় সেগুলো উমাইয়া খিলাফতের সময় সংকলিত হয়েছে বলে প্রত্যাখ্যান করলো। এটা তার গোমরাহী নয় কি?

৪.     হাদীছ শরীফ-এর কিতাব পরে সঙ্কলিত হলেও সমস্ত হাদীছ শরীফগুলো হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের যিহ্ন মুবারকে সঙ্কলিত ছিল। আর তাঁদের কাছ থেকে শুনে শুনে তাবিয়ীন, তাবি তাবিয়ীন ও ইমাম-মুজতাহিগণ পরবর্তীতে মুতাওয়াতির, মারফু ও ছহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন এবং সঙ্কলন করেছেন। এখন শাহ আলমের প্রতি প্রশ্ন! হাদীছ শরীফ-এর এই বর্ণনাভঙ্গি ও সঙ্কলনের প্রতি সন্দেহ করলে ঈমান থাকবে কি? নিশ্চয়ই থাকবে না।

মূল কথা হলো: প্রাণীর ছবি হারাম ও নাজায়িয। যা হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণীত। যা শাহ আলমও স্বীকার করেছে।

ঙ. (শাহ আলমের অপব্যাখ্যা): “সুতরাং একথা বলা যায় যে, ধর্মবেত্তাদের চিত্রকলার প্রতি নিষেধাজ্ঞার পূর্বে শিল্পকলা ও চিত্রকলার চর্চা হতো।”

ছহীহ জবাব: শিল্পকলা ও চিত্রকলার হুকুম রহিত হওয়ার বিষয়টি শাহ আলম নিজেই স্বীকার করে নিল। মূলতঃ এগুলো শরীয়তের দৃষ্টিতেই হারাম ও নাজায়িয। একে হালাল জানা কুফরী।

ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে শিল্পকলা, চিত্রকলা, ছবি, ভাস্কর্য ও বিবিধ হারাম ও কুফরী কাজের চর্চা ছিল বলে তা মানসূখ বা রহিত হওয়ার পর আবার নতুন করে জারী করার কোশেশ করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। যেমন: পূর্ব বিধান রহিত হওয়ার কয়েকটি উদাহরন-

১.      হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম ও তার ছেলেগণের যামানায় আপন বোনের সাথে বিবাহ জায়িয ছিল। এখন তা জায়িয নেই। পূর্ব হুকুমকে গ্রহণকারী শাহআলম ছবি ভাস্কর্য চর্চার সাথে সাথে আপন বোনকে বিবাহ করবে কি?

২.     হযরত সুলাইমান আলাইহিস্ সালাম-এর সময় পর্যন্ত পুজনীয় মূর্তি বা ভাস্কর্য ছাড়া অন্যান্য মূর্তি বা পুতুল জায়িয ছিল। এখন পূজনীয় ও অপূজনীয় সকল প্রকার মূর্তি, ভাস্কর্য ও পুতুল হারাম ও শিরক।

৩.     হযরত ইয়াকুব আলাইহিস্ সালাম এর সময় থেকে হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম পর্যন্ত উটের গোশ্ত হারাম ছিল। ইসলামে তা জায়িয ও সুন্নত।

৪.     হযরত দাঊদ আলাইহিস্ সালাম-এর সময় শনিবার মাছ মারা বা ধরা হারাম ছিল। ইসলামে সপ্তাহে যেকোন দিন মাছ ধরা জায়িয।

৫.     বনী ইসরাঈলের যামানায় নির্দিষ্ট ইবাদতের স্থান বা মসজিদ ছাড়া নামায শুদ্ধ হতো না। কিন্তু দ্বীন ইসলামে সমস্ত যমীন পবিত্র ও সিজদার স্থান হিসেবে যেকোন পবিত্র স্থানে নামায বা ইবাদত করলে শুদ্ধ হবে।

অনুরূপভাবে ভাস্কর্য, ছবি ও অপূজনীয় মূর্তি পূর্বে বৈধ থাকলেও তা দ্বীন ইসলামে জায়িয নেই। কারণ তা কুরআন, সুন্নাহ দ্বারা হারাম প্রমাণীত হয়েছে।

অতএব, মূর্তি, ভাস্কর্য, চিত্রকলা, প্রাণীর ছবি, প্রতিচ্ছবি, প্রতিকৃতি ইত্যাদি শয়তানী কাজ ও হারাম নাজায়িয হিসেবে সাব্যস্ত হলো।

নিম্নে আমরা সূরা মায়িদার ৯০ নম্বর আয়াত শরীফ-এর সঠিক তাফসীর বা ব্যাখ্যা উল্লেখ করছি।

মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-

يايها الذين امنوا انما الخمر والميسر والانصاب والازلام رجس من عمل الشيطان فاجتنبوه لعلكم تفلحون.

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! মদ, জুয়া, প্রতিমা (মূর্তি) ও ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব, তোমরা এগুলো থেকে বেচে থাক। তাহলে তোমরা অবশ্যই সফলকাম হবে। (সূরা মায়িদাহ- ৯০)

উক্ত আয়াত শরীফ-এর انصاب ‘আনছাব’ শব্দ দ্বারা পূজনীয় ও অপূজনীয় সর্বপ্রকার মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য ইত্যাদিকে শয়তানী কাজ ও নিকৃষ্ট ঘৃণ্য কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আর এগুলো থেকে বেঁচে থাকতে বলা হয়েছে। ব্যাখ্যা সাপেক্ষে প্রাণীর ছবি বা প্রতিচ্ছবিও একপ্রকার মূর্তি। কারণ সাধারণত: মূর্তি তৈরি করা হয় পাথর, মাটি, লৌহ, পিতল, স্বর্ণ, রৌপ্য ইত্যাদি উপাদান দ্বারা। তেমনি ছবি তৈরি হয় কলমের কালি, ক্যামেরার আলো ইত্যাদি উপাদান দ্বারা। উপাদান ভিন্ন হলেও উভয়ের মূল উদ্দেশ্য স্রষ্টার সৃষ্টির সাদৃশ্য বস্তু তৈরি করা। যা হারাম ও কুফরী।

উক্ত আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় তাফসীরুল জালালাঈনে উল্লেখ করা হয়েছে-

(والانصاب) الاصنام

অর্থ: (আল আনছাব) মূর্তি, প্রতিমা বা ভাস্কর্য। (এখানে পূজনীয় ও অপূজনীয় হওয়ার শর্ত করা হয়নি)।

‘তাফসীরুল মাদারিক’ ১ম খ- ৪৯০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

(والانصاب) الاصنام لانها تنصب فتعبد

অর্থাৎ, (আল আনছাব) হচ্ছে মূর্তি। যা তৈরি করা হয় এবং যার পূজা করা হয়।

‘তাফসীরে ইবনে কাছীর’ ২য় খ- ১৪৭ পৃষ্ঠায় আছে-

واما الانصاب فقال ابن عباس رضى الله تعالى عنه ومجاهد وعطاء وسعيد بن جبير والحسن وغير واحد: هى حجارة كانوا يذبحون قرابينهم عندها.

অর্থাৎ, আনছাব হলো: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত মুজাহিদ, আত্বা, সাঈদ ইবনে জুবাইর ও হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ বলেন, আনছাব এমন পাথর, মুশরিকরা যার কাছে পশু জবাই করে। (অনুরূপ ব্যখ্যা নির্ভরযোগ্য সমস্ত তাফসীরের কিতাবে উল্লেখ আছে)

উল্লেখিত ব্যাখ্যা দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, পূজনীয় বা অপূজনীয় সর্বপ্রকার মূর্তি, প্রতিমা ও ভাস্কর্য শরীয়তে হারাম ও শয়তানী কাজ।

অতএব, অত্র আয়াত শরীফ চিত্রকলা, শিল্পকলা বা ভাস্কর্যের স্বপক্ষে দলীল নয়। আরো প্রমাণিত হলো যে, অত্র আয়াত শরীফ দ্বারা ছবি বা প্রতিচ্ছবি জায়িয সাব্যস্ত হয় না। ছবি জায়িযের সাথে এ আয়াত শরীফ-এর কোনই সম্পর্ক নেই।

তেমনিভাবে ধোকাবাজ শাহ আলম আল্লাহ পাক ছাড়া অন্য কোন উপাস্য যেমন মূর্তি, প্রতিমা, ইত্যাদি নিষিদ্ধ সম্পর্কিত সূরা ইয়াসীন এর ৭৪-৭৫ নং আয়াত শরীফ উল্লেখ করে প্রসঙ্গহীনভাবে চিত্রকলা, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিচ্ছবি জায়িয করার অপচেষ্টা করেছে। অথচ আয়াত শরীফ ও তার তাফসীরে এগুলো জায়িযের পক্ষে কোনই আলোচনা নেই।

বাতিলপন্থীদের আপত্তিকর ও

প্রতারণামূলক বক্তব্য-১৮

প্রতারক বাতিলপন্থী এর আর শাহ আলম সূরা মায়িদার ১১০নং আয়াত শরীফ উল্লেখ করে চিত্র, ভাস্কর্য, মূর্তি ইত্যাদিকে জায়িয করার চেষ্টা করেছে। নাঊযুবিল্লাহ।

ছহীহ জবাব: প্রতারক শাহ আলম কর্তৃক সূরা মায়িদার ১১০নং আয়াত শরীফ মূর্তি বা ভাস্কর্য জায়িযের পক্ষে পেশ করা কুফরী হয়েছে। কারণ এতে মূর্তি বা ভাস্কর্য জায়িযের পক্ষে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। বরং এতে আল্লাহ পাক-এর কুদরত আর হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম-এর মু’জিযা-ই প্রকাশ পেয়েছে। যেমন আল্লাহ পাক বলেছেন-

واذ تخلق من الطين كهيئة الطير باذنى فتنفخ فيها فتكون طيرا باذنى  وتبرئ الاكمه والابرص باذنى واذ تخرج الموتى باذنى.

অর্থাৎ, আমার অনুমতিক্রমে যখন আপনি মাটি দিয়ে পাখির আকৃতির মত তৈরি করেছিলেন এবং তাতে ফু দিয়েছিলেন। ফলে তা আমার নির্দেশেই জীবন্ত পাখী হয়ে যায়। আর আপনি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে আমার নির্দেশেই সুস্থ করতেন। আর আমার নির্দেশেই মৃতকে জীবিত করতেন। (সূরাতুল মায়িদাহ ১১০ নং আয়াত শরীফ)

অত্র আয়াত শরীফ-এ স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, মহান আল্লাহ পাক হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালামকে পাখির আকৃতির মত তৈরি করতে বলেছিলেন যা উনার জন্য মু’জিযা ছিল। এ আয়াত শরীফ-এর হুকুম উনার জন্যই খাছ।

গুমরাহ শাহ আলম মূর্তি ও ভাস্কর্য জায়িযের পক্ষে এ আয়াত শরীফ উল্লেখ করলো। সে কি বলতে পারবে যে, মহান আল্লাহ পাক এ আয়াত শরীফ-এ বা অন্য কোন আয়াত শরীফে মূর্তি, প্রতিমা বা ভাস্কর্য তৈরি করতে উম্মতদেরকে আমর বা নির্দেশ করেছেন! নিশ্চয়ই না। তাহলে এ আয়াত শরীফ প্রতিমা ও ভাস্কর্যের পক্ষে দলীল হয় কিভাবে?

অতএব এ আর শাহ আলমের দাবি অমূলক ও মিথ্যা বলে প্রতিপন্ন হলো। মূলতঃ মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ছবি, প্রতিচ্ছবি ইত্যাদি তৈরি করা বা অঙ্কন করা হারাম ও নাজায়িয। কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ এগুলো তৈরী করার স্বপক্ষে কোনই নির্দেশ নেই।

বাতিলপন্থীদের আপত্তিকর ও

প্রতারণামূলক বক্তব্য-১৯

প্রতারক, ধোঁকাবাজ, গুমরাহ, জাহিল ও অপব্যাখ্যাকারী বাতিলপন্থী এ আর শাহ আলম তার মিথ্যা ও অপব্যাখ্যায় ভরা চটি বইয়ের ১২ পৃষ্ঠা থেকে ২৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত প্রাণীর ছবি হারাম হওয়ার পূর্বের কিছু বর্ণনা উল্লেখ করে প্রাণীর ছবি, চিত্রকলা, ভাস্কর্য ইত্যাদি জায়িয করার অপচেষ্টা করেছে। এতে সে মূল দলীল হিসেবে সূরা বাক্বারার ২৪৮ নম্বর আয়াত শরীফখানা ও তার ব্যাখ্যায় কিছু অগ্রহনযোগ্য দলীল উল্লেখ করেছে। যেমন তার উক্তি:

“তাবূত বা সিন্দুক সম্বন্ধে তাফসীরে কানজুল ঈমান ও খাজায়েনে এরফানে বলা হয়েছে, শামশাদ কাঠের তৈরি একটা স্বর্ণখচিত সিন্দুক ছিল, যার দৈর্ঘ্য ৩ হাত এবং প্রস্থ ২ হাত ছিল। সেটাকে আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম-এর উপর নাযিল করছিলেন। এর মধ্যে সমস্ত নবী আলাইহিমুস্ সালাম-এর ছবি সংরক্ষিত ছিল। তাদের বাসস্থান ও বাসগৃহের ফটোও ছিল এবং শেষ ভাগে হুজুরে সাইয়্যেদ আম্বিয়া (নবীকুল সরদার) সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়া সাল্লামের এবং হযরত রাসূলে করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্রতম বাসগৃহের ছবি লাল ইয়াকুতের মধ্যে ছিলো, যাতে হুজুর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজেরত অবস্থায় দ-ায়মান, আর হযরত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চতুর্পার্শ্বে তার সাহাবা কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম। আদি পিতা হযরত আদম আলাহিস্ সালাম সেসব ছবি দেখেছেন। সিন্দুকখানা বংশ পরষ্পরায় হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম পর্যন্ত পৌঁছলো। তিনি (হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম) এর মধ্যে তাওরাত কিতাব এবং তাঁর বিশেষ বিশেষ সামগ্রীও রাখতেন। এমনকি এ তাবূতের মধ্যে তাওরাতের ফলকসমূহের টুকরাও ছিল। আর হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম-এর লাঠি, তাঁর পোষাক-পরিচ্ছদ, তাঁর পবিত্র স্যা-েল যুগল এবং হযরত হারূন আলাইহিস্ সালাম-এর পাগড়ী তার লাঠি মোবারক এবং সামান্য পরিমাণ ‘মান্না’ যা বনী ইস্রাঈলের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। (তাফসীরে জালালাইন, জুমাল, খাযিন ও মাদারিক ইত্যাদী)

তাছাড়া বর্ণনার তারতম্যে “খালেদ অনুদিত তিনশত মোজেযা, আব্দুল জলীল মাজাহেরীর তলোয়ারে নয় উদারতায়, মাদারেজুন্নবুওয়াত, তা’রীখুল বুখারী, শওয়াহেদুন্ নবুয়াত, তাফসীরে মা’আরেফুল কোরআন, রশিদুদ্দীনের জামীআত তাওয়ারিখ, আল বেরুনীর আসর আল বাকীয়া, মিরখন্দের রওজাত আস্ সাফা ও নাজম আল জাওয়াহির” ইত্যাদি কিতাবের উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছে।

খ-নমূলক জবাব:

বাতিলপন্থী শাহ আলম প্রাণীর ছবিকে জায়িয প্রমাণ করতে গিয়ে যে দলীল পেশ করেছে, উক্ত দলীল দ্বারা তা কস্মিনকালেও জায়িয প্রমাণ হয় না। কারণ, ইবারতের কোথাও প্রাণীর ছবি জায়িয এমন কোন কথা উল্লেখ নেই। এবং বিশ্ববিখ্যাত কোন তাফসীরের কিতাবে সূরা বাক্বারার ২৪৮ নম্বর আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় অনুস্মরনীয় কোন মুফাস্সিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম প্রাণীর ছবি বা ভাস্কর্যকে জায়িয বলেননি। শাহ আলম মনগড়াভাবে ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষার্থে উক্ত আয়াত শরীফ ও তার ব্যাখ্যায় বর্ণিত ঘটনাবলী উল্লেখ করে জনসাধারণকে বোকা বানানোর অপচেষ্টা করেছে। নিম্নে উক্ত আয়াত শরীফ-এর গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা উল্লেখ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে যে, আসলে কোন তাফসীরে প্রাণীর ছবিকে জায়িয বলা হয়নি। মহান আল্লাহ পাক সূরাতল বাক্বারাহ-এর ২৪৮ নম্বর আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেন-

وقال لهم نبيهم ان اية ملكه ان يأتيكم التابوت فيه سكينة من ربكم وبقية مما ترك ال موسى وال هارون تحمله الملئكة ان فى ذلك لاية لكم ان كنتم مؤمنين.

অর্থাৎ, তাদেরকে (বনী ইসরাঈলদেরকে) তাদের নবী (হযরত শামাবীল আলাইহিস্ সালাম) বললেন, তাঁর (খলীফাহ ওলীআল্লাহ হযরত তালূত আলাইহিস্ সালাম-এর) খিলাফতের নিদর্শন হচ্ছে এই যে, তোমাদের কাছে একটি তাবূত (সিন্দুক) আসবে, তোমাদের রব-এর পক্ষ থেকে তোমাদের মনের প্রশান্তির জন্য। আর তাতে থাকবে হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম, হযরত হারূন আলাইহিস্ সালাম এবং তাঁদের সন্তানগণের কিছু পরিত্যাক্ত সামগ্রী। সিন্দুকটিকে ফেরেশতাগণ বহন করে আনবেন। তোমরা যদি ঈমানদার হয়ে থাক, তাহলে নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। (সূরাতুল বাক্বারাহ-২৪৮)

অত্র আয়াত শরীফখানা আহকাম তথা শরয়ী বিধি-বিধানের আয়াত নয়। বরং এটি ওয়াকিয়া বা অতীতের সত্য ইতিহাস সম্পর্কিত আয়াত শরীফ।

এ আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় ‘তাফসীরে জালালাইন শরীফে’ উল্লেখ আছে-

(ان اية ملكه ان ياتيكم التابوت) الصندوق كان فيه صور الانبياء.

অর্থাৎ, {তাঁর (খলীফাহ ওলীআল্লাহ হযরত তালূত আলাইহিস্ সালাম-এর) খিলাফতের নিদর্শন হচ্ছে এই যে, তোমাদের কাছে একটি তাবুত আসবে অর্থাৎ, ছুন্দূক আসবে। যাতে হযরত নবী-রসূল আলাইহমুছ্ ছলাতু ওয়াস্ সালামগণের আকৃতি মুবারক ছিল।

‘তাফসীরুল খাযিন’-এ উল্লেখ আছে-

(وقال لهم نبيهم ان اية ملكه ان يأتيكم التابوت) وكانت قصة التابوت على ماذكره علماء السير والاخبار ان الله تعالى انزل على ادم عليه السلام تابوتا فيه صورة الانبياء عليهم السلام وكان التابوت من خشب الشمشاد طوله ثلاثة اذرع فى عرض ذراعين فكان عند ادم ثم صار الى شيث ثم توارثه اولاد ادم الى أن بلغ ابراهيم عليه السلام ثم كان عند اسمعيل لانه كان اكبر اولاده ثم صار الى يعقوب ثم كان فى بنى اسرائيل الى ان وصل الى موسى عليه السلام فكان يضع فيه التوراة ومتاعا من متاعه ثم كان عنده الى ان مات ثم تداوله انبياء بنى اسرائيل الى وقت اشمويل وكان فى التابوت ما ذكرالله.

অর্থাৎ, (……) তাবূত বা সিন্দুকের কিচ্ছা তথা সঠিক ঘটনা হচ্ছে, যা ইতিহাস ও হাদীছ বিশারদগণ উল্লেখ করেছেন।

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক এই সিন্দুক হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম-এর নিকট অবতীর্ণ করেছিলেন। যাতে হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস্ সালামগণের আকৃতি মুবারক ছিল। এই সিন্দুক শামশাদ কাঠের তৈরি তিন হাত লম্বা ও দুই হাত প্রস্থ বিশিষ্ট ছিল। তা হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম-এর নিকট ছিল। তাঁর বিছাল শরীফ-এর পর তাঁর ছেলে হযরত শীছ আলাইহিস্ সালাম-এর দায়িত্বে আসে। এমনিভাবে ওয়ারিশত্ব হিসেবে হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম-এর পরবর্তী সন্তানদের নিকট হস্তান্তর হতে থাকে। এমনকি হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম-এর নিকট আসে। এরপর তা হযরত ইসমাঈল আলাইহিস্ সালাম-এর নিকট থাকে, কেননা তিনি পিতার ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে ছিলেন। অতঃপর হযরত ইয়াকূব (ইসরাঈল) আলাইহিস্ সালাম-এর নিকট আসে। যিনি বনী ইসরাঈলের প্রথম নবী। এভাবে তা হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম-এর নিকট আসে। তিনি এই সিন্দুকে তাওরাত ও কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী রেখেছিলেন। তিনি বিছাল শরীফ-এর পূর্ব পর্যন্ত সিন্দুকটি তাঁর কাছেই রাখেন। অতঃপর তা বনী ইসরাঈলের হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামগণের নিকট বংশ পরস্পরায় স্থানান্তরিত হতে হতে হযরত আশমাবীল (শামাবীল) আলাইহিস্ সালাম-এর যামানা পর্যন্ত পৌছে। যিনি সিন্দুকটির বিষয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেন। যেমনটি মহান আল্লাহ পাক উল্লেখ করেছেন।” (সুবহানাল্লাহ)

অনুরূপ বর্ণনা বিশ্বের সমস্ত তাফসীরসমূহে উল্লেখ আছে। অত্র ব্যাখ্যায় শুধু ইতিহাস বা ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে ছবি বা আকৃতি জায়িয এমন কোন হুকুম সাব্যস্ত করা হয়েনি। কারণ উক্ত আয়াত শরীফখানা আহকামের আয়াত নয়। বরং সিয়ার বা ইতিহাসমূলক উপদেশসমৃদ্ধ আয়াত শরীফ।

উক্ত আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যা এবং হাদীছ শরীফ ও ইতিহাসের কিতাবসমূহে এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা সত্যই। তবে এ হুকুম পূর্ববর্তী উম্মতগণের জন্য প্রযোজ্য। দ্বীন ইসলাম নাযিলের পর প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা, তোলা, আঁকা হারাম করা হয়েছে। যা শাহ আলম নিজেও স্বীকার করেছে। যেমন সে তার চটি বইয়ের ১১ পৃষ্ঠায় লিখেছে: “সুতরাং একথা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, ধর্মবেত্তাদের চিত্রকলার প্রতি নিষেধাজ্ঞার পূর্বে শিল্পকলা ও চিত্রকলার চর্চা হতো। এখানে শাহ আলম প্রাণীর ছবিকে হারাম হিসেবে মেনে নিয়েছে বলে প্রমাণীত হচ্ছে।

মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন-

هوالذى ارسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون.

অর্থাৎ, তিনিই মহান আল্লাহ পাক তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন ইসলামসহ প্রেরণ করেছেন। সকল দ্বীনের উপর জয়যুক্ত করে (অর্থাৎ পূর্বের ও পরের সকল দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থাকে বাতিল করে)। যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে থাকে। (সূরাতুত তওবাহ-৩৩, সূরাতুল ফাত্হ-২৮ ও সূরাতুছ ছফ-৯)

আল মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল ঈমান বাবুল ই’তিছাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ আল ফাছলুছ ছানীতে বর্ণিত আছে-

عن جابر رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم حين اتاه عمر فقال انا نسمع احاديث من يهود تعجبنا افترى ان نكتب بعضها فقال امتهوكون انتم كما تهوكت اليهود والنصارى لقد جئتكم بها بيضاء نقيا ولو كان موسى حيا ما وسعه الا اتباعى.

অর্থাৎ, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর ফারূক ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, আমরা ইহুদীদের নিকট থেকে অনেক কথা শ্রবন করে থাকি, যা আমাদের নিকট খুব আশ্চর্যবোধ হয়। আমরা কি উহা থেকে কিছু লিখে রাখতে অনুমতি পেতে পারি? হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরাও কি (তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে) দ্বিধাগ্রস্ত রয়েছ, যেমনি ইহুদী-খ্রিষ্টানরা দ্বিধাগ্রস্তে রয়েছে?

অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট সম্পূর্ণ অতুজ্জল ও সুস্পষ্ট দ্বীন ইসলাম এনেছি। (বনী ইসরাঈলের নবী) হযরত মূসা আলাইহিস্ সালামও যদি আজকে হায়াত মুবারকে থাকতেন, তাহলে তাঁর পক্ষেও আমার অনুসরণ ছাড়া গত্যন্তর থাকতো না। (অর্থাৎ আমার অনুসরণ করা তাঁর জন্য ফরয হয়ে যেত)।” সুবহানাল্লাহ।

হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং শুয়াবুল ঈমানে হযরত ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি হাদীছ শরীফখানা বর্ণনা করেছেন।

উল্লেখিত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণীত হলো যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন, যা হালাল হিসেবে অথবা হারাম হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, তা কুরআন শরীফ-এর হুকুমের মতই হালাল অথবা হারাম হিসেবে সাব্যস্ত হবে। ইসলাম পূর্ব দ্বীনে যদিও তা বিপরীত থাকুক না কেন।

অতএব, প্রাণীর ছবি বা আকৃতি চর্চা করা পূর্ববর্তী শরীয়তে জায়িয থাকলেও দ্বীন ইসলামে তা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয। যার সপক্ষে হাজার হাজার দলীল আদিল্লাহ রয়েছে। অচিরেই ধারাবাহিকভাবে সেই সমস্ত দলীলগুলো উল্লেখ করা হবে। ইনশাআল্লাহ। (চলবে)

(অসমাপ্ত)

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (৩০তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৭তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৩১)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৭৫

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে-মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৮)