ছহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, আল হাদ্বির ওয়ান নাযীর, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল ক্বাসিম, আল মালিক, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুল কায়িনাত, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, আন নূরুল মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (৫)

সংখ্যা: ২৮৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বতামুন নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সুসংবাদ প্রদানকারী ও সতর্ককারী

(পূর্বপ্রকাশিতের পর)

মহান আল্লাহ পাক তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু; তার ধোকায় পড়ে তার অনুসরণ করে পবিত্র দ্বীন ইসলামে পরিপুর্ণভাবে দাখিল হওয়া থেকে বিরত থেকোনা। পবিত্র দ্বীন ইসলামে কিভাবে দাখিল হতে হবে মহান আল্লাহ পাক তিনি সে বিষয়টিও সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَاعْتَصِمُوا بِـحَبْلِ اللّٰهِ جَـمِيعًا وَلَا تَـفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللّٰهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَـيْنَ قُـلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلٰى شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذٰلِكَ يُـبَيِّـنُ اللّٰهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَـهْتَدُونَ  وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْـخَيْـرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَـنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُولٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ. وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَـفَرَّقُوا وَاخْتَـلَفُوا مِن بَـعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُولٰئِكَ لَـهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ

অর্থ: তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার রুজ্জুকে অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনার আদর্শ মুবারক অর্থাৎ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে সকলে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে যে নিয়ামত মুবারক দিয়েছেন তা স্মরণ করো। যখন তোমরা ছিলে শত্রু। তিনি (ছহিবে নিয়ামত) তোমাদের পরস্পরের অন্তরে মুহব্বত দান করেছেন। সুতরাং নিয়ামত মুবারক উনার উছীলায় তোমরা হয়ে গেলে পরস্পর ভাই। তোমরা ছিলে জাহান্নামের কিনারে, তিনি সেখান থেকে তোমাদের রক্ষা করেছেন। এভাবেই মহান আল্লহ পাক তিনি উনার পবিত্র আয়াত শরীফ তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যাতে তোমরা হেদায়েত লাভ করতে পারো। আর তোমরা তাদের মতো হয়োনা; যাদের কাছে দলীল প্রমাণ আসার পরও ইখতিলাফ করে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩-১০৫)

স্মরণীয় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উম্মতের মাঝে ছহিবে নিয়ামত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন। উনার মুবারক আগমনের পূর্বে তাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা বিরাজ ছিলো এবং সবাই ছিলো জাহান্নামের কিনারে কিন্তু উনার মুবারক আগমনের কারণে শত্রুতা দূর হয়ে পরস্পরের মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন তৈরি হয়েছে; এমনকি তিনি তাদেরকে জাহান্নামের কিনার থেকে রক্ষা করেছেন। এ বিষয়গুলো মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। যাতে মানুষ হেদায়েত লাভ করতে পারে বা হেদায়েতের উপর ইস্তিকামত থাকতে পারে।

তাই, আমাদের সকলকে সম্মিলিতভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ মুবারক অর্থাৎ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধরতে হবে, পৃথকভাবে নয়। পৃথক হলে দ্বীন ইসলাম শক্তিশালী হতে পারবেনা। আর শক্তিশালী না হলে দ্বীন ইসলাম সঠিকভাবে পালন করা কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না। আর ঐ সমস্ত লোকদের মতো হওয়া যাবে না, যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ মুবারক থেকে দূরে সরে গিয়েছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব। কাফিররা চায় মুসলমান যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলে তারা দুর্বল হয়ে পড়বে, তাদের পরাস্ত করা সহজ হবে। নাঊযুবিল্লাহ।

কিন্তু অধিকাংশ মানুষই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ মুবারক গ্রহণ না করে উনার থেকে দূরে সরে যায় অর্থাৎ জাহান্নামের দিকে ধাবিত হয়। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ اَبِيْ هُرَبْرَةَ رضى الله تعالى عنه قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَبْهِ وَسَلَّم مَثَلِىْ كَمَثَلِ رَجُلٍ اِسْتَوْقَدَ نَارًا فَلَمّا اَضَاءَتْ مَا حَوْلَهَا جَعَلَ الْفِرَاشُ وَهذِهِ الدَّوَابُّ الَّتِىْ تَقَعُ فِىْ النِّارِ يَقَعْنَ فِيْهَا وَ جَعَلَ يَحْجُرُهُنَّ وَيَغْلِبْنَه فَيَتَقَحَّمْنَ فِيْهَا فَاَنَا اخِذٌ بِحِجْزِكُمْ عَنِ النَّارِ وَ اَنْـتُمْ تَقَحَّمُوْنَ فِيْهَا.وَهذه رواه البخارى و لمسلم نهوها وَقَالَ فِيْ اخِرِهَا قَالَ فَذلِكَ مَثَلِىْ وَ مَثَلُكُمْ اَنَا اخِذٌ بِحِجْزِكُمْ عَنِ النَّارِ هَلُمَّ عَنِ النَّارِ هَلُمَّ عَنِ النَّارِ فَتَغْلِبُوْنِىْ تَقَهَّمُوْنَ فِيْهَا

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার মেছাল ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে আগুন প্রজ্জলিত করল। অতঃপর যখন তার চারপাশ আলোকিত হল তখন যে সব পোকা-মাকড় আগুনে ঝাপিয়ে পড়ে; সে সব পোকা-মাকড় আগুনে ঝাপিয়ে পড়তে লাগল। ঐ ব্যক্তি (আগুন প্রজ্জলনকারী) তাদেরকে বাধা দিতে লাগলেন। কিন্তু সেই পোকা-মাকড়গুলো বাধা না মেনে আগুনে ঝাপিয়ে পড়ল। অনুরূপ আমি তোমাদেরকে তোমাদের কোমড় ধরে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করছি। তারপরও তোমরা সেখানেই (আগুনে) ঝাপিয়ে পড়ছো। এটা ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণনা। ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি শেষাংশে বলেছেন, এটিই হলো আমার ও তোমাদের উদাহরণ। আমি তোমাদের আগুন থেকে রক্ষা করছি (আর বলছি) তোমরা জাহান্নাম থেকে ফিরে এসো। অথচ তোমরা আমার বাধা অমান্য করে জাহান্নামে ঝাপিয়ে পড়ছো। নাঊযুবিল্লাহ! (অসমাপ্ত)

 

ছহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, আল হাদ্বির ওয়ান নাযীর, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল ক্বাসিম, আল মালিক, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুল কায়িনাত, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, আন নূরুল মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নছীহত শরীফ (১)

ছহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, আল হাদ্বির ওয়ান নাযীর, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল ক্বাসিম, আল মালিক, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুল কায়িনাত, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, আন নূরুল মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নছীহত শরীফ (২)

ছহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, আল হাদ্বির ওয়ান নাযীর, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল ক্বাসিম, আল মালিক, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুল কায়িনাত, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, আন নূরুল মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (৩)

ছহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, আল হাদ্বির ওয়ান নাযীর, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল ক্বাসিম, আল মালিক, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুল কায়িনাত, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, আন নূরুল মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (৪)

ছহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবায়ে নেয়ামত, আল হাদ্বির ওয়ান নাযীর, যিক্রুল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল ক্বাসিম, আল মালিক, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুল কায়িনাত, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, আন নূরুল মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (৬)