জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২

সংখ্যা: ১৯৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-এর জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি। আল্লাহ পাক-এর অশেষ রহমতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান) পেশ করার পাশাপাশি-

২৯তম ফতওয়া হিসেবে

“জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-এর দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

 

“জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” দেয়ার কারণ

 

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরকী ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেল, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

অনুরূপভাবে তারা এখন জুমুয়ার খুৎবা বাংলায় দেয়ার কথা বলছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্যে হলো মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ জুমুয়ার নামাযকে নষ্ট করে দিয়ে তাদেরকে জাহান্নামী করে দেয়া। কাজেই বাতিলপন্থীরা যেন মুসলমানদের ঈমান-আমল নষ্ট করে মুসলমানদেরকে জাহান্নামী করতে না পারে অর্থাৎ মুসলমানগণ যেন তাদের ঈমান-আমল হিফাযত করতে পারে সেজন্যই মাসিক আল বাইয়্যিনাতে “জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” প্রকাশ করা হলো।

আমাদের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সমস্ত ইমাম, মুজতাহিদগণ এ ব্যাপারে (ইজমায়) ঐকমত্যে পৌঁছেছেন যে, খুৎবা আরবী ভাষায়ই দিতে হবে। কারণ খুৎবা আরবীতে দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় দেয়া নাজায়িয ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ অর্থাৎ মাকরূহ্ তাহ্রীমী।

এমনিভাবে দুই খুৎবার একটি আরবী ভাষায় অপরটি অন্য কোন ভাষায় অথবা এক খুৎবার অংশ বিশেষ আরবী ভাষায় এবং  অংশ  বিশেষ অন্য  কোন ভাষায় দেয়া  অথবা  আরবী খুৎবা প্রদানকালে বাংলা, উর্দু, ইংরেজি, ফারসী অর্থাৎ এক কথায় পৃথিবীর অন্য যে কোন আজমী (অনারবী) ভাষায় অনুবাদ করা বা আরবীতে খুৎবা দেয়াকালে অন্য কোন ভাষায় মাঝে মধ্যে শে’র বা কাসিদা পাঠ করাও শরীয়তের দৃষ্টিতে সুন্নত পরিপন্থী, নাজায়িয ও বিদয়াত। সুতরাং জুমুয়া ও ঈদাইনের উভয় খুৎবা সম্পূর্ণটাই আরবী ভাষায় দিতে হবে।

বাতিলপন্থীদের ভ্রান্ত ক্বিয়াস

যারা জুমুয়ার খুৎবা আরবী ভাষা ব্যতীত অন্য ভাষায় দেয়ার পক্ষে তাদের বক্তব্য হলো (خطبة) খুৎবা শব্দের লুগাতী বা শাব্দিক অর্থ হলো বক্তৃতা, ভাষণ বা ওয়াজ। সুতরাং বক্তৃতা, ভাষণ বা ওয়াজ যেমন যে কোন ভাষায় দেয়া যেতে পারে তদ্রুপ জুমুয়ার খুৎবা ও যেকোন ভাষায়ই দেয়া যেতে পারে। এর উপর ক্বিয়াস করে আমাদের দেশের কোন কোন স্থানে জুমুয়ার খুৎবা বাংলা ভাষায় দেয়া হয়ে থাকে। মূলতঃ তাদের উক্ত কিয়াস সম্পূর্ণই ভ্রান্তমূলক ও বাতিল।

কেননা শরীয়তে এমন কতক শব্দ রয়েছে, যাদের শুধু লুগাতী বা শাব্দিক অর্থ গ্রহণ করলে তা যথার্থ হবে না বরং তার প্রচলিত শরয়ী অর্থের উপরই আমল করতে হবে। তার মধ্যে একটি হলো জুমুয়ার খুৎবা। লুগাতে খুৎবা শব্দের অর্থ যদিও বক্তৃতা, ভাষণ বা ওয়াজ কিন্তু শরীয়তে খুৎবা শব্দের অর্থ ব্যাপক। খুৎবার আহ্কাম, গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলেই সকলের নিকট এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, খুৎবা শুধু বক্তৃতা, ভাষণ বা ওয়াজ নয় বরং জুমুয়ার নামাযের একটি বিশেষ অঙ্গ।

পূর্ব প্রকাশিতের পর

(১৬) নামায বড় করা ও উভয় খুৎবা নামাযের তুলনায় ছোট করা। কেননা খুৎবা নামাযের চেয়ে দীর্ঘ করা সুন্নতের খিলাফ বা মাকরূহ।

খুৎবার সুন্নতসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি সুন্নত হলো উভয় খুৎবা নামাযের সূরা কিরাতের তুলনায় ছোট করা অর্থাৎ খুৎবা ছোট করা ও নামায বড় করা।

অথচ আজকাল আমাদের দেশের প্রায় স্থানেই খতীব সাহেবদেরকে দেখা যায় যে, তারা জুমুয়ার খুৎবা নামায অপেক্ষা বহু বড় করে থাকেন, যা সম্পূর্ণ সুন্নত পরিপন্থী কাজ। কাজেই আমাদের প্রত্যেকের উচিত হবে, উভয় খুৎবা নামাযের কিরাতের চেয়ে ছোট করা এবং উভয় খুৎবা সূরায়ে তিওয়ালে মুফাচ্ছালের সমপরিমাণ অথবা তার চেয়ে ছোট করা। এর চেয়ে বড় করা মাকরূহে তাহ্রীমী।

নিম্নে হাদীছ শরীফ, ফতওয়া ও ফিক্বাহের নির্ভরযোগ্য ও বিশ্ব বিখ্যাত কিতাবসমূহ হতে তার অকাট্য ও প্রামাণ্য দলীলসমূহ পেশ করা হলো-

عن عمار بن ياسر ان طول صلوة الرجل وقصر خطبة مئنة من فقهه فاطيلو الصلوة واقصر والخطبة. یعنی نماز کو طویل کرنا اور خطبہ کو مختصر کرنا ادمی کی فقہات کی علامت ھے.

অর্থ: হযরত আম্মার ইবনে ইয়াছির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। নিশ্চয় নামায বড় করা এবং খুৎবা ছোট করা জ্ঞানী লোকের লক্ষণ, সুতরাং তোমরা নামায (অর্থাৎ কিরাত) বড় কর এবং খুৎবা তদাপেক্ষা ছোট কর। অর্থাৎ নামায বড় করা এবং খুৎবা ছোট করা জ্ঞানী লোকের আলামত। (দরসে তিরমিযী, ২য় জিঃ পৃঃ ২৮০, মুসলিম শরীফ ১ম জিঃ পৃঃ ২৮৬, বুখারী শরীফ, আবু দাউদ, নাসাঈ, মসনদে আহমদ, ফিকহুস সুন্নাহ্ ১ম জিঃ পৃঃ ৩১১, ফিকহুস সুনানে ওয়াল আছার, পৃঃ ১১৭, কিফায়াতুল মুফতী ৩য় জিঃ পৃঃ ২২৬)

ولا يطول الخطبة وقال ابن مسعود رضى الله تعال عنه طول الصلوة وقصرا الخطبة مئنة من فقه الرجل. وقال القدورى فى كتابه و يكون قدر الخطبتين مقدار سورة من طوال المفصل.

অর্থ: খুৎবা (কিরাতের চেয়ে) বড় করবেনা, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নামায বড় করা খুৎবা ছোট করা জ্ঞানী লোকের লক্ষণ, কুদূরী কিতাবে উল্লেখ করা হয়, উভয় খুৎবা তিওয়ালে মুফাচ্ছাল সুরার সমপরিমাণ হতে হবে। (তাতারখানিয়া ২য় জিঃ পৃঃ ৬২, কুদূরী, নঈমিয়া)

(সূরায়ে হুজুরাত হতে সূরায়ে বুরুজ পর্যন্ত সূরাগুলোকে তিওয়ালে মুফাচ্ছাল বলা হয়)

سنت ھے کہ خطبہ مختصر پرھا جائے زیادہ طویل نہ ھو. اور حد اسکی یہ ھے کہ طوال مفصل کی سورتوں میں سے کسے سورة کے برابر ھو اس سے زیادہ طویل پرھنا مکروہ ھے.

অর্থ: খুৎবা অতিরিক্ত বড় না করে ছোট করা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত, আর এটার পরিমাপ হলো তিওয়ালে মুফাচ্ছাল সূরার সমপরিমাণ, এর থেকে বড় করা মাকরূহে তাহ্রীমী। (গায়াতুল আওতার ১ম জিঃ পৃঃ ৩৭৩, সামী, বাহরুর রায়িক, আলমগীরী)

وقصر الخطبه مندوب جاء عن عمر رضى الله تعالى عنه قال طولوا الصلوة وقصر والخطبة.

অর্থ: খুৎবা  ছোট করা সুন্নত, হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামায বড় কর এবং খুৎবা ছোট কর। (কিতাবুল আছল মারুফ বিল মাবছূত ১ম জিঃ পৃঃ ৩৫১, আইনী শরহে হেদায়া ১ম জিঃ পৃঃ ১০১৪)

ومن الفقه والسنة تقصيرها وتطويل الصلوة و فى البدائع قدرها قدر سورة من طوال مفصل.

অর্থ: নামায বড় করা এবং খুৎবা ছোট করা সুন্নত ও ফিক্বাহ হতে বর্ণিত। বাদায়ে কিতাবে উভয় খুৎবার পরিমাপ তিওয়ালে মুফাচ্ছালের সমপরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। (ফাতহুল ক্বাদীর ২য় জিঃ পৃঃ ২৮, বাদায়িউস সানায়ে)

(১৭) একমাত্র আরবী ভাষায়ই খুৎবা দেয়া। স্মর্তব্য যে, উলামায়ে কিরাম আমভাবে আরবী ভাষায় খুৎবা দেয়াকে সুন্নত বলার কারণ হলো- যেহেতু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরবীতে খুৎবা দিয়েছেন। তাই আম ফতওয়া মতে আরবীতে খুৎবা দেয়া সুন্নত। তবে খাছ ফতওয়া মতে বা আহকাম-এর দিক দিয়ে আরবী ভাষায় খুৎবা দেয়া ওয়াজিব। যেহেতু আরবী ভাষা ব্যতীত অন্য ভাষায় খুৎবা দিলে ফতওয়াগ্রাহ্য মতে নামায শুদ্ধ হবেনা এবং তা বিদয়াত ও মাকরূহ তাহরীমী হবে। তাই আরবী ভাষাতেই খুৎবা দেয়া ওয়াজিব। যেমন আমভাবে সকলেই জানে যে, দাড়ী রাখা সুন্নত। যেহেতু রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাড়ী মুবারক রেখেছেন। তবে খাছভাবে অর্থাৎ আহকাম-এর দিক দিয়ে দাড়ী রাখা হচ্ছে ফরয-ওয়াজিব। যেহেতু সকলের মতেই এক মুষ্টির কমে দাড়ী কাটা-ছাঁটা হারাম। আর এর থেকে বেঁচে থাকা সর্বসম্মতিক্রমেই ফরয। অনুরূপভাবে আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় খুৎবা দেয়া যেহেতু সকলের মতেই বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও মাকরূহ তাহরীমী। আর বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ বা মাকরূহ তাহরীমী থেকে বেঁচে থাকা যেহেতু ওয়াজিব। তাই আরবীতে খুৎবা দেয়াও ওয়াজিব। এটাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ছহীহ ও ফতওয়াগ্রাহ্য মত।

আর যেহেতু আরবী ভাষায় খুৎবা দেয়া আল্লাহ পাক-এর রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খাছ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত সেহেতু উক্ত সুন্নতের খিলাফ অন্য ভাষায় খুৎবা দেয়া বিদয়াত ও মাকরূহ্ তাহ্রীমী।

সুন্নতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

মনে রাখতে হবে যে, ‘মুসলমান’ শব্দের অর্থ হলো আনুগত্যতার সাথে আত্মসমর্পণকারী। অর্থাৎ মুসলমানদেরকে প্রতিটি অবস্থায়ই আল্লাহ পাক-এর মতে ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পথে পরিপূর্ণ ইস্তিক্বামত থাকতে হবে। এর ব্যতিক্রম করলে কখনো পরিপূর্ণ মুসলমান হওয়া সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন-

يايها الذين امنوا ادخلو فى السلم كافة.

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ, তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ কর।” (সূরাতুল বাক্বারাহ-২০৮) অন্য আয়াত শরীফে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-

ما اتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا واتقوالله.

অর্থ: “আমার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে আদর্শ নিয়ে এসেছেন তা আঁকড়িয়ে ধর এবং যা নিষেধ করেছেন তার থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহ্ পাককে ভয় কর।” (সূরাতুল হাশর-৭)

কাজেই আমাদেরকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নতসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে। কেননা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ আল্লাহ পাক-এর মুহব্বত, মা’রিফাত ও সন্তুষ্টি অর্জনের পূর্ব শর্ত। আল্লাহ পাক-এর রসূলের অনুসরণ করা ব্যতীত আল্লাহ পাক-এর সন্তুষ্টি অর্জন করা কোন দিনও সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন-

قل انكنتم تحبون الله فاتبعوانى يحببكم الله ويغفرلكم ذنوبكم والله غفور رحيم.

অর্থ: “হে হাবীব, আপনি বলে দিন যদি তোমরা আল্লাহ পাকের ভালবাসা পেতে চাও, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। (তবে) আল্লাহ পাক তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন এবং তোমাদের গুনাহ্খাতা ক্ষমা করবেন এবং আল্লাহ্ পাক ক্ষমাকারী ও দয়াশীল।” (সূরা আলে ইমরান-৩১)

আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

عن العرباض بن سارية رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عليكم بسنتى وسنة الخلفاء الراشدين المهديين.

অর্থ: “হযরত ইরবাদ্ব ইবনে সারিয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের জন্য আমার সুন্নত ও আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সুন্নত অবশ্যই পালনীয়।” (মুসনাদু আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি, আবু দাউদ শরীফ ২য় খ- ২৮৭ পৃষ্ঠা, তিরমিযী শরীফ, ইবনু মাজাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ ৩০ পৃষ্ঠা)

কাজেই আরবী ভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা পাঠ করে উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর উপর আমল করা ও তার জাযা হাসিল করা ক্বিয়ামত পর্যন্ত সম্ভব নয়।

তদুপরি আল্লাহ পাক-এর রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

احبوا العرب لثلثة لانى عربى ولسان القران عربى ولسان اهل الجنة عربى.

অর্থ: “তোমরা আরবীকে তিন কারণে ভালবাস। কেননা আমি আরবী, কুরআন শরীফ-এর ভাষা আরবী এবং বেহেশ্তবাসীর ভাষা আরবী।” (ত্ববারানী শরীফ, কানযুল উম্মাল)

অন্ততঃ এ হাদীছ শরীফ-এর ফযীলত ও গুরুত্বের দিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের প্রত্যেকের উচিত আরবী ভাষাকে সমস্ত ভাষার উপর প্রাধান্য দেয়া। কেননা আরবী ভাষা সরাসরি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সম্পর্কিত। যাঁকে সৃষ্টি না করলে কোন ভাষারও সৃষ্টি হতো না। সুতরাং আরবী ভাষাকে আমাদের অবশ্যই প্রাধান্য দেয়া ও মুহব্বত করা উচিত। কেননা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং আরবী ভাষাকে মুহব্বত করার আদেশ করেন।

যদিও মাতৃভাষাকে মহব্বত করা ঈমানের অঙ্গ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন,

وما ارسلنا من رسول الا بلسان قومه

অর্থ: “আমি কোন রসূলকেই তাঁর গোত্রীয় ভাষা ছাড়া অর্থাৎ মাতৃভাষা ছাড়া প্রেরণ করিনি।” (সূরা ইব্রাহীম-৪)

এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ করা হয়,

حب السان من الايمان

অর্থ:“নিজের ভাষাকে (মাতৃভাষা) মুহব্বত করা ঈমানের অঙ্গ।” (লুগাতুল হাদীছ)

এর অর্থ এই নয় যে, আরবী ভাষাকে বাদ দিয়ে মাতৃভাষাকে মুহব্বত করতে হবে। বরং সমস্ত ভাষার উপর আরবীকে প্রাধান্য দিতে হবে। কারণ আমাদের প্রিয় রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভাষা আরবী, পবিত্র কুরআন শরীফ-এর ভাষা আরবী এবং বেহেশ্তবাসীর চিরস্থায়ী ভাষা হবে আরবী। কাজেই প্রত্যেক ক্ষেত্রেই আমাদের আরবী ভাষাকে প্রাধান্য দিতে হবে। মূলতঃ আর এই আরবী ভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য না বুঝার কারণে এবং তাকে প্রাধান্য না দেয়াতেই আজ আমরা কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর সঠিক বুঝ থেকে দূরে সরে আছি।

আর এই আরবী না বুঝার কারণেই কিছু লোক খুৎবা মাতৃভাষায় দিতে হবে বলে ফতওয়া ছাপিয়ে সমাজে ফিৎনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, এভাবে মাতৃভাষা করতে করতে দেখা যাবে একদিন তারা ফতওয়া দেবে আযান, নামাযের সূরা কিরাআত ইত্যাদি বাংলা বা মাতৃভাষায় হতে হবে। আর এটাই স্বাভাবিক কেননা ইসলামের শত্রুরা সব সময় চায় মুসলমানদের মধ্যে মতবিরোধ, ফিৎনা ফ্যাসাদ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে। কাজেই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত হবে ইসলামের শত্রুদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা।

সুতরাং উপরোক্ত বিস্তারিত আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই প্রামাণিত হলো যে, খুৎবা হলো জুমুয়ার নামাযের একটি অংশ বিশেষ। তাই খুৎবা আরবীতে দেয়া ওয়াজিব। নামাযে যেরূপ আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষা ব্যবহার করা জায়িয নেই খুৎবাও তদ্রুপ আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষা ব্যবহার করা ও অন্য কোন ভাষায় দেয়া জায়িয নেই। বরং আরবী ছাড়া অন্য কোন ভাষায় খুৎবা পাঠ করা মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদয়াত।

জুমুয়ার খুৎবা আরবী ভাষায় দিতে হবে

এর উপর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

জুমুয়ার খুৎবা আরবীতে দেয়া ওয়াজিব। এর উপর উম্মতের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা অস্বীকার করা গোমরাহীর নামান্তর। কেননা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক পূণ্যতার সাক্ষ্য প্রদত্ত তিন যুগে (খাইরুল কুরুনে) অর্থাৎ স্বয়ং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, খুলাফায়ে রাশিদীন, ছাহাবায়ে কিরাম, তাবিয়ীন ও তাবে তাবিয়ীনদের যুগে কেউ আরবী ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষায় জুমুয়ার খুৎবা দিয়েছেন বলে কোন নজীর কেউ পেশ করতে পারবে না। এমনকি পরবর্তীতে ইমাম, মুজতাহিদ-এর যুগেও কেউ আরবী ভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দিয়েছেন বলে তথ্য পরিদৃষ্ট হয় না।

সুতরাং এটার উপর ইমামদের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিধায় ওটার বিরোধিতা করে আরবী ভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা পাঠ করা প্রকাশ্য গোমরাহী।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

ومن يشاقق الرسول من بعد ما تبين له الهدى ويتبع غير سبيل المؤمنين نوله ما تولى.

অর্থ: “যদি কারো নিকট হিদায়েত প্রকাশ হবার পর রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরুদ্ধাচরণ করে, আর মু’মিনদের পথ রেখে ভিন্ন পথের অনুসরণ করে, তবে আমি তাকে সেদিকেই ফিরাবো যেদিকে সে ফিরেছে ।” (সূরা নিসা-১১৫)

শায়খ আহমদ ইবনে আবু সাঈদ মোল্লা জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহি এ আয়াত শরীফ-এর  তাফসীরে    উল্লেখ   করেন,

فجعلت مخالفة المؤمنين مثل مخالفة الرسول فيكون اجماعهم كخبر الرسول حجة قطعية.

অর্থ: এ আয়াত শরীফে মু’মিনদের বিরোধিতাকে রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরোধিতা হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অতএব রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছ শরীফ-এর মতো তাঁদের ইজমাও অকাট্য ও প্র্রামান্য দলীল বলে পরিগনিত হবে। (নুরুল আনওয়ার)

সুতরাং মু’মিনদের প্রচলিত পথের বিরোধিতা করে আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা প্রদান করা আল্লাহ্ পাক ও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এরই বিরোধিতা করার নামান্তর। যার থেকে বেঁচে থাকা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব।

মোটকথা হলো জুমুয়ার খুৎবা আরবীতে দেয়া ওয়াজিব। এর বিপরীতে অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেওয়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্। এর উপর সমস্ত ইমাম, মুজতাহিদগণ একমত।

আরবী ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদয়াত হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল

মহান আল্লাহ্ পাক রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআন শরীফে খুৎবাকে  ذكر বলে সম্বোধন করেন, যেমন ইরশাদ হয়েছে,

(১)

يايهالذين امنوا اذا نودى للصلوة من يوم الجمعة فاسعوا الى ذكرالله.

অর্থ: “হে ইমানদারগণ, যখন জুমুয়ার দিন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন তোমরা আল্লাহ পাক-এর যিকরের দিকে ধাবমান হও (অর্থাৎ খুৎবা শুনার জন্য আস)।” (সূরা জুমুয়াহ- ৯ )

উক্ত আয়াত শরীফে অধিকাংশ মুফাস্সিরীনে কিরাম একমত যে, ذكر ‘যিক্র’ শব্দ দ্বারা খুৎবাকে বুঝান হয়েছে। তাফসীরে ইবনে কাছীর ৯ম খন্ড পৃঃ৪৫৬, বুখারী শরীফ ১ম জিঃ পৃঃ১২৭, মাবছুত লিস সারাখসী ২য় জিঃ পৃঃ ২৬-৩১, কবীরী পৃঃ৮৭, হিদায়া ১ম জিঃ পৃঃ১৩৯)

এমনিভাবে ফুকাহায়ে কিরামের অনেকেই খুৎবাকে আল্লাহ পাক-এর যিক্র ও ইবাদতের দিক দিয়ে নামাজের ন্যায় বলেছেন। যেমন হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন,

(২)

انما قصرت الجمعة لاجل الخطبة

অর্থ: জুমুয়ার নামাযকে (চার রাকায়াতের স্থলে দুই রাকায়াতে) সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে একমাত্র খুৎবার কারণেই। (ইযালাতুল খফা)

(৩)

وبعض مشايخنا قالو: الخطبة تقوم مقام ركعتين

অর্থ: কতক মাশায়িখে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম বলেন, খুৎবাহ দু’ রাকায়াত নামাযের স্থলাভিষিক্ত। (আল ফাতাওয়াত তাতারখানিয়াহ লিল আলায়িল আনছারী আনদারীতী হানাফী দিহলবী হিন্দী কিতাবুছ ছলাত আল ফছল ফী ছলাতিল জুমুয়াত ২য় খ- ৫৯ পৃষ্ঠা)

(৪)

وبعض مشايخنا رحمهم الله قالو: الخطبة تقوم مقام ركعتين, ولهذا لايجوز الا بعد دخول وقت الجمعة, وفى حديث ابن عمر و عائشة رضى الله عنهم “انما قصرت الصلوة لمكان الخطبة” دليل على ان الخطبة شطر الصلوة.

অর্থ: কতক মাশায়িখে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম বলেন, খুৎবাহ দু’রাকায়াত নামাযের স্থলাভিষিক্ত। এজন্য ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে খুৎবাহ জায়িয হবে না। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হতে বর্ণিত আছে যে, “জুমুয়ার নামাযকে খুতবাহ-এর জন্য সংক্ষেপ করা হয়েছে।” এ থেকে প্রমাণিত হয় নিশ্চয়ই খুৎবাহ নামাযেরই অংশ। (আল মুহীতুল বুরহানী ফিল ফিকহিন নু’মানী লিল আল্লামাহ ইমাম মাহমূদ ইবনে আহমদ বুখারী হানাফী কিতাবুছ ছলাহ আল ফাছলুল খমীছ ওয়াল ইশরূনা ফী ছলাতিল জুমুয়াহ ২য় খ- ১৮৪ পৃষ্ঠা)

হযরাতুল আল্লামাহ্ আলাউদ্দীন আল কাসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি “আল বাদায়ে”-এর হাওলায় “আল বাহর” এ উল্লেখ করেন যে, জুমুয়ার খুৎবা হলো দুই রাকায়াত জুমুয়ার নামাজের স্থলাভিষিক্ত। অনুরূপভাবে আলমগীরী, বাহরুর রায়িক, নিযামুল ফতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে।

আবার খুলাছাতুল ফতওয়ায় উল্লেখ আছে-

(৫)

كل عمل حرم فى الصلاة حرم فيها اى فى الخطبة فيحرم اكل وشرب وكلام ولو تسبيحا او رد سلام.

অর্থ: “যে সকল কাজ-কর্ম নামাযের মধ্যে হারাম সেগুলো খুৎবার মধ্যেও হারাম ও নিষিদ্ধ। সুতরাং খুৎবা দানকারী ও শ্রবণকারীদের জন্য খাওয়া, পান করা, কথা-বার্তা বলা যদিও তা তাসবীহ্ হোক না কেন এবং সালামের জবাব দেয়াও জায়িয নয়।

(৬)

اعلم بان ما يحرم فى الصلوة يحرم فى الخطبة حتى لا ينبغى يأكل او يشرب الامام فى الخطبة ويحرم الكلام سواء.

অর্থ: জেনে রাখুন নিশ্চয়ই নামাযে যা হারাম খুতবাতেও তা হারাম। অতএব, খতীবের জন্য খুৎবাহ অবস্থায় খাওয়া ও পান করা জায়িয হবে না। অনুরূপ (খুৎবাহ-এর বাইরের) অন্য কথা বলাও হারাম। (খূলাছাতুল ফাতাওয়া লিল ইমাম ত্বাহির ইবনে আব্দুর রশীদ বুখারী হানাফী কিতাবুছ ছলাহ আল ফাছলুছ ছালিছ ওয়াল ইশরূনা ফী ছলাতিল জুমুয়াহ ১ম খ- ২০৬ পৃষ্ঠা)

অনুরূপ বর্ণনা “আল বাহরুর রায়িক শরহু কানযিদ দ্বাক্বায়িক্ব কিতাবুছ ছলাহ বাবু ছলাতিল জুমুয়াহ এবং আল ফাতাওয়াল আলমগীরিয়াহ কিতাবুছ ছলাহ আল বাবুস সাদিস আশার ফী ছলাতিল জুমুয়াহ” কিতাবে বর্ণিত আছে-

(৭)

(وكل ما حرم فى الصلوة حرم فيها) اى فى الخطبة خلاصة وغيرها فيحرم اكل وشرب وكلام ولو تسبيحا او رد سلام او امرا بمعروف بل يحجيب عليه ان يستمع ويسكت.

অর্থ: নামাযে যা হারাম খুতবাতেও তা হারাম) সেসময় খাওয়া, পান করা, কথা বলা ইত্যাদি হারাম। এমনকি তাসবীহ পাঠ করা, সালামের জাওয়াব দেয়া, সৎ কাজের আদেশ দেয়া ইত্যাদি হারাম। বরং মুছল্লীদের জন্য ওয়াজিব হলো, খুৎবাহ শ্রবণ করা এবং চুপ থাকা। (আদ দুররুল মুখতার আলা তানবীরিল আবছার কিতাবুছ ছলাহ বাবুল জুমুয়াহ)

(৮)

(الصحيح) ويشترط ان لا يفصل بين الخطبة والصلوة يأكل وعمل قاطع.

অর্থ: (এটাই বিশুদ্ধ কথা যে) খুৎবাহ-এর একটি শর্ত হলো- খুৎবাহ ও নামাযের মধ্যে কোন পার্থক্য সৃষ্টি করবে না। খাওয়া-দাওয়া ও ভঙ্গকারী আমল করবে না। (মারাক্বিউল ফালাহ শরহু নূরিল ঈদ্বাহ কিতাবুছ ছলাহ বাবুল জুমুয়াহ)

আর এ প্রসঙ্গে কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

(৯)

واذا قرء القران فاستمعوا له وانصتوا لعلكم ترحمون.

অর্থ: “যখন কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা হয়, তখন তোমরা অতি মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ করো। অবশ্যই তোমরা রহমত প্রাপ্ত হবে।” (সূরা আ’রাফ- ২০৪)

অনেক মুফাস্সিরীনে কিরাম এ অভিমত ব্যাক্ত করেন যে, উক্ত আয়াত শরীফ খুৎবাকে উদ্দেশ্য করে অবতীর্ণ হয়েছে।

আমাদের হানাফী মাযহাবের ইমাম, ইমামে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উক্ত আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বলেন, নামাযে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত শ্রবণ করা যেরূপ ওয়াজিব, তদ্রুপ সর্বপ্রকার খুৎবাও মনোযোগসহকারে শ্রবণ করা ওয়াজিব। তাফসীরে কামালাইনের লেখক আল্লামা সালামুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতেও উক্ত অভিমত নকল করেন। অনুরূপভাবে তাফসীরে মায়ারিফুল কুরআনেও উল্লেখ রয়েছে।

হাদীছ শরীফে আরো উল্লেখ আছে যে-

(১০)

وقد روى البيهقى بسند صحيح اذا خرج الامام فلا صلاة ولا كلام, فتح الودود.

অর্থ: হযরত ইমাম বাইহাক্বী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ছহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, ইমাম ছাহেব যখন খুৎবা দেওয়ার জন্য হুজরা হতে বের হবেন, তখন সর্বপ্রকার নামায পড়া ও কথাবার্তা বলা নিষিদ্ধ। (আবূ দাউদ শরীফ-এর ১ম খ- ১৬৬ পৃষ্ঠা ৪ নং হাশিয়া)

ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর মুয়াত্তা শরীফে উল্লেখ করেন, ইবনে শিহাব জুহুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

(১১)

خروج الامام يقطع الصلوة وخطبته يقطع الكلام

অর্থ: ইমামের আগমন নামাযকে বন্ধ করে দেয়, আর তাঁর খুৎবা কথা-বার্তাকে বন্ধ করে দেয়।” অর্থাৎ ইমাম ছাহেব যখন খুৎবার জন্য হুজরা (রুম) থেকে বের হবেন, তখন নামায (সুন্নত বা নফল) পড়া নিষেধ। আর যখন খুৎবা শুরু করে দিবেন, তখন নামাযের সাথে সাথে কথা-বার্তা বলাও নিষেধ।

অন্য হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে-

(১২)

عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال من قال لصاحبه يوم الجمعة والامام يخطب انصت فقد لغا.

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন, জুমুয়ার দিন ইমামের খুৎবা প্রদানকালে যদি কেউ অন্যকে বলে চুপ কর, তবে সেটাও অন্যায় হবে। (নাসাঈ শরীফ ১ম খ- ২০৭ পৃষ্ঠা)

(১৩)

واما كونها عربية  فلاستمرارى عمل المسلمون فى المشارق والمغارب به مع ان فى كثير من الاقاليم كان المخاطبون اعجميين.

অর্থ: আরবী ভাষায় খুৎবা এ জন্যেই দিতে হয় যে, সুচনা হতে পরবর্তী যুগ সমূহে সমগ্র মুসলিম জাহানে এ নিয়ম চলে আসছে। অথচ বহু দেশে অনারব লোকজনই খুৎবার শ্রোতা হিসাবে উপস্থিত থাকতেন। (আল মুসাওয়া পৃঃ১৫৪)

(১৪)

فانا لاشك فى ان الخطبة بغير العربية خلاف السنة التوارثة من النبى صلى الله عليه وسلم والصحابة رضى الله تعالى عنهم اجمعين فيكون مكروها تحريما وكذا فرئة الاشعار الفارسية والهندية فيها.

অর্থ: কেননা এতে কোন সন্দেহ নেই যে, অনারবী ভাষায় খুৎবা দেয়া নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এবং সকল ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সুন্নতে মুওয়াক্কাদার (ওয়াজিবের) খিলাফ। সুতরাং এভাবে দেয়া মাকরূহে তাহরীমী। অনুরূপভাবে উর্দু বা ফার্সী কাছীদা বা শের বলাও খুৎবার মধ্যে মাকরূহে তাহরীমী। (উমদাতুর রিয়ায়া ১ম জিঃ পৃঃ২৪২)

মূলতঃ মাযহাব চতুষ্টয়ের চুড়ান্ত ফায়সালা এই যে, জুমুয়াহ, ঈদ ও নিকাহ ইত্যাদি খুৎবাহ আরবীতে হওয়াই শর্ত। আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় খুৎবাহ শুদ্ধ হবে না।

(১৫)

ثالثها: ان تكونا بالعربية على تفصيل فى المذاهب ….

الحنابلة: قالو: لا تصح الخطبة بغير العربية

الشافعية: قالوا: يشترط ان تكون اركان الخطبتين باللغات العربية.

المالكية: قالوا: يشترط فى الخطبة ان تكون باللغة العربية.

অর্থাৎ, খুৎবাহ-এর তৃতীয় শর্ত হলো, দুটি খুতবাই আরবী ভাষায় দিতে হবে। এ ব্যাপারে (অন্যান্য) মাযহাবের ফায়সালা-

হাম্বলী মাযহাব: হাম্বলী মাযহাবের ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ বলেন, আরবী ভাষা ছাড়া খুৎবাহ ছহীহ হবে না।

শাফিয়ী মাযহাব: শাফিয়ী মাযহাবের ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ বলেন, দুটি খুৎবাহ আরবী ভাষাতেই হওয়ার শর্ত করা হয়েছে।

মালিকী মাযহাব: মালিকী মাযহাবের ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ বলেন, খুৎবাহ শুদ্ধ হওয়ার শর্ত হলো তা আরবী ভাষায় হবে।

(মুখতারুল ফিক্বহি আলাল মাযাহিবিল আরবায়াহ লি আব্দির রহমান জাযীরী হানাফী কিতাবুছ ছলাহ মুবাহিছুল জুমুয়াহ ১ম খ- ২৪৩ পৃষ্ঠা)

(১৬)

اگر خطبہ عربی کی جگہ اردو فارسے میں پرھا جاوے تو امام صاحب کے نزدیک مکروہ تحریمی ھوگا اور  صاحبین کے نزدیک ایک قول میں خطبہ صحیح نہ ھوگا اور جبکہ خطبہ ادا نہ ھوگا تو نماز جمعہ بھی نہ ھوگی کیونکہ جمعہ کی اداکے شرائط میں سے خطبہ بھی ھے.

অর্থ: খুৎবা যদি আরবীর স্থলে উর্দু-ফার্সী ভাষায় দেয়া হয়, তা ইমাম ছাহেবের মতে মাকরূহে তাহরীমী হবে এবং ছাহিবাইনের অভিমতে খুৎবা শুদ্ধ হবে না এবং আদায়ও হবে না। আর খুৎবা যখন আদায় হবে না তখন জুমুয়ার নামাযও হবে না। কেননা জুমুয়া আদায়ের শর্ত সমূহের মধ্যে একটি শর্ত হলো খুৎবা। (ফতওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ ১ম জিঃ পৃঃ২৭০)

(১৭-১৮)

خطبہء جمعہ و عیدین کا عربی میں ھونا اور اس کے خلاف دوسری زبانوں میں پرھنا بدعت ھے.

অর্থ: জুমুয়া এবং দুই ঈদের খুৎবা আরবীতে দিতে হবে। এর বিপরীতে অন্য ভাষায় দেয়া বিদয়াত। (মুছাফফা শরহে মুয়াত্তা নিশ্শাহ ওয়ালীউল্লাহ, কিতাবুল আজকার লিন্নুবুবী, দুররুল মুখতার)

(১৯)

عربی میں خطبہء جمعہ پر ھا کر اسکا ترجمہ ملکی زبان میں قبل از نماز سنانا بدعت ھے جس سے بچنا ضروری ھے.

অর্থ: আরবীতে জুমুয়ার খুৎবা দিয়ে নামাজের পূর্বে তার অনুবাদ শুনানো বিদয়াত, যার থেকে বাঁচা জরুরী অর্থাৎ ওয়াজিব। (দরসে তিরমীযী ২য় জিঃ পৃঃ২৮১)

(২০)

غیر عربی میں خطبہ پرھنا یا عربی کے ساتہ دوسری زبان خطبہ میں خلط کرنا خلاف سنت ھے.

অর্থ: আরবী ছাড়া খুৎবা দেয়া অথবা আরবীর সাথে খুৎবায় অন্য ভাষা মিশানো সুন্নতে মুওয়াক্কাদার (ওয়াজিব-এর) খিলাফ বা বিপরীত। (বাহারে শরীয়ত ৪র্থ জিঃ পৃঃ৮০)

(২১)

عربی کے علاوہ ھرایک زبان میں خطبہ دینا خواہ فارسی ھوں یاغیر فارسی بغیر عذر وعجز کے امام اعظم کے تزدیک جائز ھے البت خلاف افضل ھے (یعنی مکروہ محریمی ھے) اور صاحبین کے نزدیک جائز نھیں.

অর্থ: হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মতে আরবী ছাড়া অন্য যে কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া, ফার্সী হোক অথবা ফার্সী ছাড়া যে কোন ভাষা হোক বিনা অপারগতায় এবং ওজরে জায়িয তবে উত্তমতার বিপরীত (অর্থাৎ মাকরূহে তাহরীমী)। তবে ছাহিবাইনের নিকট জায়িয নেই। (ছাহিবাইনের মতের উপরই ফতওয়া) (ফতওয়া আব্দুল হাই, পৃষ্ঠা-২২৪)

(২২)

يشترط كونها بالعربية.

অর্থ: খুৎবা সঠিক হওয়ার শর্ত আরবী ভাষায় হওয়া। (শরহে ইহ্ইয়া লিয্ যুবাইদী ৩য় জিল্দ পৃষ্ঠা ৩২৬)

(২৩-২৪)

دونوں خطبوں کا عربی زبان میں ھونا اور کسی زبان میں خطبہ پرھنا یا اسکے ساتہ کسی اور زبان کے اشعار و غیرہ ملا دیناجیسا کہ ھمارے زمانہ میں بعض عوام کا دستورھے خلاف سنت موء کدہ اور مکروہ تحریمی ہے.

অর্থ: উভয় খুৎবা আরবী ভাষায় হতে হবে। অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া অথবা তার সাথে অন্য কোন ভাষার কাছীদা যোগ করা যেটা আমাদের এ যুগে প্রচলিত আছে এটা সুন্নতে মুয়াক্কাদার (ওয়াজিব-এর) খিলাফ এবং মাকরূহে তাহরীমী। (বেহেস্তী জিওর জিঃ ১১ পৃঃ ৮১, ইমদাদুল আহকাম ১ম জিঃ পৃঃ ৬৩২)

(২৫-২৬)

خطبہ صرف عربی نثر میں مسنون ھے اور یھی صورت سلف صلحین اور ائمہ متبوعین سے منقول ھے اس کا خلاف مکروہ ھے.

অর্থ: খুৎবা শুধু আরবীতে দেয়া সুন্নত (ওয়াজিব) এবং এই নিয়মেই ছলফে ছালিহীন এবং আইম্মায়ে মাতবুঈন থেকে বর্ণিত, এর বিপরীত করা মাকরূহ তাহরীমী। (কিফায়াতুল মুফতী ৩য় জিঃ পৃঃ ১৭২, ফতওয়ায়ে রশীদিয়া পৃঃ ৩৭৭)

(২৭)

خطبہء جمعہ عربی کے سوا کسی زبان میں پرھنا یا عربی میں پرہ کردوسری زبان میں اس وقت ترجمہ کرنا بدعت و ناجائز ھے.

অর্থ: জুমুয়ার খুৎবা আরবী বাদে অন্য কোন ভাষায় দেয়া অথবা আরবীতে দিয়ে সাথে সাথে অন্য ভাষায় তরজমা করা বিদয়াত এবং নাজায়িয। (জাওয়াহিরুল ফিক্বহ ১ম জিঃ পৃঃ ৩৫৮)

(২৮)

حضرت فقھاء کرام کا فیصلہ ھے کہ خطبہ جمعہ و عیدین عربی میں ھونا چاہئے. عربی کے علاوہ کس اور زبان میں خطبہ پرھنا مکروہ تحریمی ہے.

অর্থ: ফিক্বাহ্বিদগণের ফয়ছালা হলো জুমুয়া এবং উভয় ঈদের খুৎবা আরবী ভাষাতেই দিতে হবে। আরবী ছাড়া অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহে তাহরীমী। (ফতওয়ায়ে রহীমিয়া ১ম জিঃ পৃঃ২৬১)

(২৯)

دونوں خطبوں کا عربی زبان میں ھونا کسی اور زبان میں خطبہ پرھنا یا اس کے ساتھ کسی اور  زبان کے اشعار و غیرة ملانا خلاف سنت مؤکدہ اور مکروہ تحریمی ہے.

অর্থ: উভয় খুৎবা আরবী ভাষায় দিতে হবে অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া অথবা অন্য কোন ভাষার কাছীদা ইত্যাদি যোগ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদার (ওয়াজিব-এর) খেলাফ এবং মাকরূহে তাহরীমী। (ইলমুল ফিক্বাহ্ ২য় জিঃ পৃঃ২৮২)

(৩০)

خطبہء جمعہ  اور عیدین وغیرہ کا عربی میں ھونا سنت اور اس کے خلاف دوسری زبانوں میں پرھنا بدعت ھے.

অর্থ: জুমুয়া এবং উভয় ঈদের খুৎবা আরবীতে দেয়াই সুন্নতে মুওয়াক্কাদা (ওয়াজিব)। এর বিপরীতে অন্য ভাষায় দেয়া বিদয়াত অর্থাৎ বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ। (আহসানুল ফতওয়া পৃঃ২৯৮)

(৩১-৩২)

জুমুয়ার খুৎবা এবং ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় হওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা (ওয়াজিব)। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া বিদয়াত এবং মাকরূহে তাহ্রীমী। (খুৎবাতুল আহ্কাম পৃঃ২, বেহেস্তী গাওহার, পৃঃ৮১)

(৩৩-৩৪)

খুৎবার মধ্যে উর্দু কাছীদা বা বাংলা অনুবাদ করা মাকরূহে তাহ্রীমী। (মজমুয়ায়ে ফতওয়া, বাহ্রুল মাসায়েল, পৃঃ৮৪)

(৩৫)

অধিকাংশ ফিকাহ্বিদ হানাফীদের মতে আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহে তাহ্রীমী। (ইসলামী ফেকাহ্ ১ম খন্ড, পৃঃ১২৯)

(৩৬)

খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া সুন্নতে মুওয়াক্কাদা (ওয়াজিব), অন্য ভাষায় দেয়া মাকরূহে তাহরীমী। (উমদাতুল ইসলাম পৃঃ১৪২)

(৩৭)

আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় খুৎবা দেয়া বা অন্য ভাষার কাছীদা ইত্যাদি মিলায়ে বলা মাকরূহে তাহ্রীমী। (সীরাতুন নাযাত পৃঃ ২০৫)

খুৎবার পুর্বে ওয়াজ-নছীহত করা সুন্নত

মুসল্লীদেরকে খুৎবার বিষয়বস্তু বুঝানোর জন্য প্রথম আযানের পূর্বে বা পরে এবং সানী আযানের অবশ্যই পূর্বে ওয়াজ নছীহত করা জায়িয এবং ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত। (তবে ওয়াজের পর খুৎবার আজানের পূর্বে অবশ্যই মুসল্লীদেরকে ক্বাবলাল জুমুয়া পড়ার সময় দিতে হবে) যেমন হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়- (১) হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জুমুয়ার দিন খুৎবার পূর্বে মিম্বরের সম্মুখে দাঁড়ায়ে হাদীছ বর্ণনা করতেন। অতঃপর হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খুৎবা প্রদান করতেন। (মুস্তাদরিকে হাকিম ১ম জিঃ ১০৮ পৃষ্ঠা) (২) হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে বুছর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জুমুয়ার দিন লোকদিগকে ওয়াজ নছীহত করতেন এবং খতীব খুৎবার জন্য আগমন করলে তিনি তাঁর ওয়াজ নছীহত বন্ধ করে দিতেন। (মুস্তাদরিকে হাকিম) (৩) হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত উছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর খিলাফতকালে বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত তামীমদারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খুৎবার পূর্বে ওয়াজ নছীহত করতেন। (মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল ৩য় জিঃ পৃষ্ঠা ৪৪৯)

এছাড়াও অনুরূপ বর্ণনা মওজুয়াতে কবীর, ইক্বামাতুল হুজ্জাহ্, ইছাবাহ্, ফতওয়ায়ে রহীমিয়া ইত্যাদি আরো অনেক কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। (কলেবর বৃদ্ধির আশংকায় ইবারত দেয়া হলো না)

কাজেই খুৎবার বিষয়বস্তু বুঝানোর জন্য খুৎবার পূর্বে অর্থাৎ ছানী আযানের পূর্বে ওয়াজ করা যেতে পারে কিন্তু তথাপিও সানী আজানের পর অর্থাৎ খুৎবাতে আরবী ভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষা ব্যবহার করা জায়িয নেই বরং তা মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্।

মূলকথা হলো- আমাদের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সমস্ত ইমাম, মুজতাহিদগণ এ ব্যাপারে (ইজমায়) ঐক্যমতে পৌঁছেছেন যে, খুৎবা আরবী ভাষায়ই দিতে হবে, আরবীতে খুৎবা দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় দেয়া নাজায়িয ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্ অর্থাৎ মাকরূহ্ তাহ্রীমী।

এমনিভাবে দুই খুৎবার একটি আরবী ভাষায় অপরটি অন্য কোন ভাষায় অথবা এক খুৎবার অংশ বিশেষ আরবী ভাষায় এবং  অংশ  বিশেষ অন্য  কোন ভাষায় দেওয়া  অথবা  আরবী খুৎবা প্রদানকালে বাংলা, উর্দু, ইংরেজী, ফার্সী অর্থাৎ এক কথায় পৃথিবীর অন্য যে কোন আজমী (অনারবী) ভাষায় অনুবাদ করা বা আরবীতে খুৎবা দেওয়াকালে অন্য কোন ভাষায় মাঝে মধ্যে শে’র বা কাছীদা পাঠ করাও শরীয়তের দৃষ্টিতে ওয়াজিবের খিলাফ নাজায়িয ও বিদয়াত। সুতরাং জুমুয়া ও ঈদাইনের উভয় খুৎবা সম্পূর্ণটাই আরবী ভাষায় দিতে হবে।

(অসমাপ্ত)

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২০

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২১