তাফসীরুল কুরআন: কৃপণতার নিন্দা ও ভয়াবহ পরিণতি

সংখ্যা: ২১১তম সংখ্যা | বিভাগ:

সাখাওয়াত বা দানশীলতার বিপরীত হচ্ছে বুখল তথা কৃপণতা। মানুষ যেসব বদস্বভাবের কারণে আল্লাহ পাক উনার রহমত ও সন্তুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়ে চির লা’নত ও অসন্তুষ্টির মধ্যে নিপতিত হয় কৃপণতা হচ্ছে তারমধ্যে একটি।

এই কৃপণতার পরিণাম ফল সম্পর্কে কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

ولا يحسبن الذين يبخلون بما اتهم الله من فضله هو خيرا لهم بل هو شرلهم سيطوقون ما بخلوا به يوم القيامة ولله ميراث السموت والارض والله بما تعملون خبير.

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি আপন অনুগ্রহে বান্দাদেরকে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এই কার্পণ্য তাদের জন্য কল্যাণকর হবে বলে তারা যেনো ধারণা না করে। বরং এটা তাদের জন্য একান্তই ক্ষতিকর বলে প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পণ্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর তোমরা যা কিছু করো সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পূর্ণাঙ্গরূপে অবহিত। (সূরা আলে ইমরান: আয়াত শরীফ ১৮০)

ومن يبخل فانما يبخل عن نفسه

অর্থ: যারা কৃপণতা করে তারা মূলত নিজেদের প্রতিই কৃপণতা করে। (সূরা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: আয়াত শরীফ ৩৮)

অর্থাৎ আল্লাহ পাক উনার পথে ব্যয় করতে বলা হলে যে ব্যক্তি তাতে কৃপণতা করে, সে আসলে আল্লাহ পাক উনার কোন ক্ষতি করে না; বরং এর মাধ্যমে সে নিজেরই ক্ষতি করে। কারণ এতে করে সে পরকালের ছওয়াব বা নেকী থেকে বঞ্চিত হয় এবং ফরয তরক করার কারণে শাস্তির যোগ্য হয়।

الذين يبخلون ويأمرون الناس بالبخل ويكتمون ما اتهم الله من فضله واعتدنا للكافرين عذابا مهينا

অর্থ: যারা নিজেরা কার্পণ্য করে এবং অপরকেও কৃপণতা শিক্ষা দেয় আর গোপন করে সেসব বিষয় যা আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে দান করেছেন- বস্তুত এসব অস্বীকারকারী ব্যক্তিদের জন্য আমি অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। (সূরা নিসা: আয়াত শরীফ ৩৭)

হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

البخيل بعيد من الله بعيد من الجنة بعيد من الناس قريب من النار ولجاهل سخى احب الى الله من عابد بخيل

অর্থ: কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ পাক উনার থেকে দূরে, বেহেশত থেকে দূরে, মানুষ থেকে দূরে, তবে দোযখের নিকটে। এবং নিশ্চয়ই মুর্খ দানশীল কৃপণ আবিদ (ইবাদতকারী) অপেক্ষা আল্লাহ পাক উনার নিকট প্রিয়। (তিরমিযী শরীফ)

হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে-

لا يدخل الجنة خب ولا بخيل ولا منان

অর্থ: প্রতারক, বখীল এবং যে ব্যক্তি দান করে খোটা দেয়-এ তিন ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করবে না। (তিরমিযী শরীফ)

হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে-

الشح شجرة فى النار فمن كان شحيحا اخذ بغضن منها فلم يتركه الغصن حتى يدخله النار

অর্থ: কৃপণতা হচ্ছে দোযখের একটি বৃক্ষ। যে ব্যক্তি কৃপণ সে যেনো উক্ত বৃক্ষের একটি শাখা ধরেছে আর শাখা তাকে ছাড়বে না, যে পর্যন্ত না তাকে দোযখে পৌঁছিয়ে দেয়। (বাইহাক্বী, মিশকাত)

হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, তিনটি কার্য দ্বারা মানুষের ধ্বংস সাধিত হয়-

(১) বখীলী বা কৃপণতা (২) নফসের পায়রবী (৩) আত্মগরিমা।

হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, বখীলী হতে পরহিয করো। কেননা বখীলী পূর্ববর্তী উম্মতগণকে ধ্বংস করেছিল। হারামকে হালাল করতে বখীলী তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, ঈমানদারের মধ্যে দু’টি স্বভাব থাকতে পারে না- বখিলী এবং বদস্বভাব।

কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর উপরোক্ত সংক্ষিপ্ত বর্ণনা থেকে প্রতিভাত হয় যে, বখীলী বা কৃপণতা মু’মিন ব্যক্তির স্বভাব-বৈশিষ্ট্য নয়। বরং কুফরী বা কাফিরের স্বভাব এবং তার পরিণতি জাহান্নামের কঠিন শাস্তি।

কাজেই, প্রত্যেক মু’মিন মুসলমানের জন্য কৃপণতা ত্যাগ করে সাখাওয়াত বা দানশীলতার স্বভাব অর্জন করা অপরিহার্য কর্তব্য। আর এ জন্য ইলমে তাছাউফ হাছিলই হচ্ছে একমাত্র উপায়।

তাফসীরুল কুরআন: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী

তাফসীরুল কুরআন: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী

তাফসীরুল কুরআন: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী

তাফসীরুল কুরআন: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী

তাফসীরুল কুরআন: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী