তাফসীরুল কুরআন: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

সংখ্যা: ২৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَآءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَشِفَآءٌ لِّمَا فِىْ الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ. قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْـمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَـلْيَـفْرَحُوْا هُوَ خَيْـرٌ مِّـمَّا يَـجْمَعُوْنَ

তাফসীর: মহান আল্লাহ পাক তিনি উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে খাছভাবে মু’মিনদের জন্য আর আমভাবে কায়িনাতবাসী সকলের জন্য সম্মানিত ফদ্বল ও সম্মানিত রহমত মুবারক হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং সর্বশ্রেষ্ঠ এই নিয়ামত মুবারক লাভ করার কারণে তাদেরকে আদেশ মুবারক করেছেন, তারা যেন অবশ্যই খুশি মুবারক প্রকাশ করে। এই খুশি মুবারক প্রকাশ করাটা তাদের সমস্ত ইবাদত থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। সুবহানাল্লাহ!

প্রকাশ থাকে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেকে প্রকাশ করা ও পরিচয় দান করার জন্য সর্বপ্রথম উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনার মহাসম্মানিত  মহাপবিত্র ওজূদ মুবারক “মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক” সৃষ্টি করেন। আর উক্ত “মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক” থেকেই সম্মানিত আরশ, কুরসী, লওহ, কলম, জান্নাত, ফেরেশতা, জিন, ইনসান, আসমান, যমীন ইত্যাদি সবকিছু সৃষ্টি করেন।

শুধু তাই নয়, মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশার্থে সদাসর্বদা পবিত্র ছলাত শরীফ পেশ করে যাচ্ছেন অর্থাৎ ছানা-ছিফত মুবারক করে যাচ্ছেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারকে সকল হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম উনারাও সদাসর্বদা ছানা-ছিফত মুবারক  করে যাচ্ছেন। একইভাবে যারা ঈমানদার বান্দা-বান্দী ও উম্মত উনাদেরকেও মহান আল্লাহ পাক তিনি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক সদাসর্বদা ছলাত মুবারক ও সালাম মুবারক পেশ করার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন।

স্মরণীয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত শরীফ ও সালাম মুবারক পেশ করা অর্থাৎ ছানা-ছিফত মুবারক করার আমল বা ইবাদত মুবারকের তাজদীদী নাম মুবারকই হচ্ছে “পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ”। অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীন ইসলামে যত খুশি মুবারকের বিষয় রয়েছে, উপলক্ষ রয়েছে, দিবস, রাত, সময়, বার, তারিখ, মাস ও বছর রয়েছে সকলের শ্রেষ্ঠ হচ্ছে “পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ”। যা প্রকাশ করেন মহাসম্মানিত আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম-মাক্বামে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল উমাম পবিত্র রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

মোট কথা, যিনি খলিক্ব যিনি মালিক যিনি রব্বুল আলামীন মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তাআলা উনার দায়িমী আমল মুবারকের নাম-ই হচ্ছে “পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ”। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত “পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ” আমল মুবারক সম্পর্কে বলেন, মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাফাআত-সুপারিশ, তাআল্লুক-নিছবত, ক্বুরবত, রেযামন্দী-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে হলে “পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ” পালন করতে হবে। অর্থাৎ উম্মত মাত্রই সকলের জন্য ফরয হচ্ছে, “পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ” পালন করা। এ সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

إِنَّ اللهَ وَمَلآئِكَتَهٗ يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّـهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُـوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا

অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার সকল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত শরীফ পেশ করেন। হে ঈমানদাররা! উনার প্রতি তোমরাও ছলাত শরীফ পেশ করো এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক সালাম মুবারক পেশ করো।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)

তাফসীরুল কুরআন: কৃপণতার নিন্দা ও ভয়াবহ পরিণতি

তাফসীরুল কুরআন: গোপন শিরকের অন্তর্ভুক্ত রিয়া নামক বদ খাছলতটির ভয়ানক পরিণতি

তাফসীরুল কুরআন : গদ্বব বা রাগের কুফল ও তার প্রতিকার

তাফসীরুল কুরআন: হিরছ বা লোভের নিকৃষ্ট পরিণতি

তাফসীরুল কুরআন: শরফ বা সম্মান কামনা করা ও তার কুফল