তাফসীরুল কুরআন:  সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

সংখ্যা: ২৬৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

يَا اَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُم مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِّمَا فِىْ الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ. قُلْ بِفَضْلِ اللّـهِ وَبِرَحْمَتِه فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مِّـمَّا يَجْمَعُوْنَ

তরজমা: “হে মানুষেরা! তোমাদের রব তায়ালা উনার তরফ থেকে তোমাদের নিকট এসেছেন মহান নছীহতকারী, অন্তরের মহান আরোগ্য দানকারী, মহান হিদায়েত দানকারী এবং মু’মিনদের জন্য মহান রহমত দানকারী। (অতএব, আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি (উম্মতদেরকে) বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ফদ্বল ও সম্মানিত রহমতস্বরূপ আপনাকে যে তারা পেয়েছে, সেজন্য তাদের প্রতি কর্তব্য তথা ফরয হচ্ছে খুশি প্রকাশ করা। এই খুশি প্রকাশের ইবাদত মুবারক হবে তাদের সমস্ত ইবাদত বা আমল অপেক্ষা উত্তম বা শ্রেষ্ঠ।” (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭, ৫৮)

তাফসীর: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শানে খুশি প্রকাশ করার অনন্য মাধ্যম উনার ছানা-ছিফত মুবারক করা। উনার ছানা-ছিফত করার মধ্য দিয়ে খুশি প্রকাশ করতে হবে। উনার ছানা-ছিফত মুবারক যে যতবেশি করবে সে ততবেশি ফযীলত, বুযুর্গী, সম্মান মুবারক হাছিল করবে। সুবহানাল্লাহ! এলক্ষ্যেই যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ, মুজাদিদে আ’যম, আহলে বাইতে রসূল, নূরে মুকাররম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি প্রবর্তন ও জারি করেন অনন্তকালব্যাপী আযীমুশ শান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল। সুবহানাল্লাহ!

স্বয়ং যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বুলন্দ করেছেন। তাই উনার বুলন্দি শান-মান, ছানা-ছিফত উনার আলোচনা মুবারক শুরু করা যায় কিন্তু শেষ করা যায় না। সুবহানাল্লাহ!

পারস্যের বিখ্যাত বুযুর্গ কবি ও দার্শনিক আশিকে রসূল হযরত শায়েখ মুছলিহুদ্দীন সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার চিন্তা করলেন- এমন একটি কবিতা তিনি রচনা করবেন, যার দ্বারা সম্পূর্ণ স্বার্থকভাবে সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করবেন। মাসের পর মাস তিনি কোশেশ করে চললেন, অসংখ্য পৃষ্ঠা ভরে তিনি কবিতা লিখলেন, কিন্তু শেষ করতে পারছেন না। সর্বশেষ তিনি বলতে বাধ্য হলেন যে, কোনো মানুষ, জিন, ফেরেশতা কারো পক্ষেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ মাহাত্ম্য বর্ণনা করা কখনোই সম্ভব নয়। উনার শান-মান, মাহাত্ম্য মুবারক উনার বর্ণনা বা আলোচনা শুরু করা সম্ভব, কিন্তু শেষ করার ক্ষমতা কারো নেই। তাই উক্ত বুযূর্গ কবি উনার অপারগতার কথা পংতির মাধ্যমে বর্ণনা করলেন-

يا صاحب الجمال ويا سيد البشر

من وجهك الـمنير لقد نور القمر

لا يمكن الثناء كما كان حقه

بعد از خدا بزرغ توئی قصہ مختصر

অর্থ: “আয় সৌন্দর্যের অধিপতি, আয় মানবজাতির সাইয়্যিদ, আপনার চেহারা মুবারক উনার  জ্যোতিতে জোসনার চাঁদ আলোকিত। আপনার যথার্থ ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। কিন্তু এটাই বাস্তব যে, মহান আল্লাহ পাক উনার পরে আপনিই শ্রেষ্ঠ, সম্মানিত। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দা-বান্দী ও উম্মতের প্রতি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক করা ফরয করে দিয়েছেন।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ وَتُسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَاَصِيلًا

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক করো এবং উনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করো এবং উনার ছানা-ছিফত মুবারক করো সকাল-সন্ধ্যা অর্থাৎ দায়িমীভাবে অনন্তকালব্যাপী।” (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোনো জিন-ইনসান-ফেরেশতা বা কোনো সৃষ্টির মতো নন। তিনি নূর মুবারক উনার সৃষ্টি। তিনি সর্বশেষ নবী ও রসূল। উনার পর কোনো নবী ও রসূল আগমন করবেন না। উনার নূরুল বারাকাত (থুথু) মুবারক, নূরুত ত্বীব (ঘাম) মুবারক, নূরুন নাজাত (রক্ত) মুবারক এমনকি নূরুশ শিফা ও নূরুল গইব  (ছোট ও বড় ইস্তিঞ্জা) মুবারকও পবিত্র থেকে পবিত্রতম। উনারা এতো পবিত্রতম যে, উনারা যে সমস্ত শরীরের ভিতর প্রবেশ করেছেন উনাদের জন্যও জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!

 

তাফসীরুল কুরআন: কৃপণতার নিন্দা ও ভয়াবহ পরিণতি

তাফসীরুল কুরআন: গোপন শিরকের অন্তর্ভুক্ত রিয়া নামক বদ খাছলতটির ভয়ানক পরিণতি

তাফসীরুল কুরআন : গদ্বব বা রাগের কুফল ও তার প্রতিকার

তাফসীরুল কুরআন: হিরছ বা লোভের নিকৃষ্ট পরিণতি

তাফসীরুল কুরআন: শরফ বা সম্মান কামনা করা ও তার কুফল