তাফসীরুল কুরআন: সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

সংখ্যা: ২৫৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

يايها الناس قد جاءتكم موعظة من ربكم وشفاء لـما فى الصدور وهدى ورحمة للمؤمنين. قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مـما يجمعون.

তরজমা: হে মানুষেরা! তোমাদের রব তায়ালা উনার তরফ থেকে তোমাদের নিকট এসেছেন নছীহতকারী, অন্তরের আরোগ্য দানকারী, হিদায়েত দানকারী এবং মু’মিনদের জন্য রহমত দানকারী। (অতএব হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি (উম্মতদেরকে) বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফদ্বল ও রহমত স্বরূপ আপনাকে যে তারা পেয়েছে, সেজন্য তাদের কর্তব্য তথা ফরয হচ্ছে খুশি প্রকাশ করা। এই খুশি প্রকাশের ইবাদত মুবারক হবে তাদের সমস্ত ইবাদত বা আমল অপেক্ষা উত্তম বা শ্রেষ্ঠ। (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮)

তাফসীর: যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার রুবূবিয়াত প্রকাশের এবং মুহব্বত-মা’রিফাত, সন্তুষ্টি-রেযামন্দী, কুরবত-নৈকট্য মুবারক হাছিলের উসীলা বা উপলক্ষ্য হলেন উনার যিনি হাবীব, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। যার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই উনার সবচেয়ে প্রিয় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বোত্তম এবং দায়িমীভাবে ছানা-ছিফত মুবারক করে যাচ্ছেন। অনুরূপভাবে তিনি সকল মাখলূক্বাতকে আদেশ মুবারক করেছেন যে, তারাও যেনো খুশি বা আনন্দের সাথে, তা’যীম-তাকরীম, খিদমত তথা সাখাওয়াতি সহকারে দায়িমীভাবে উনার ছানা-ছিফত মুবারক করে। এটাই সমস্ত ইবাদত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও উত্তম এবং বেমেছাল কামিয়াবী হাছিলের কারণ। যেমন এ সম্পর্কে প্রসিদ্ধ ও বিখ্যাত সীরাতগ্রন্থ খাছায়িছুল কুবরা, হিলইয়াতুল আউলিয়া ইত্যাদি কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, “বনী ইসরাইলের এক ব্যক্তি যে দুইশ বছর হায়াত পেয়েছিল। ওই ব্যক্তি তার এই দীর্ঘ হায়াতে কোন নেককাজই করেনি। যখন তার ইন্তিকাল হলো তখন তার প্রতিবেশী ও এলাকার লোকেরা ওই ব্যক্তিকে একটি আবর্জনাময় স্তূপে ফেলে রাখলো। এদিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি জলীলুল ক্বদর রসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট ওহী করলেন, অমুক এলাকায় আমার এক মুহব্বতের বান্দা ইন্তিকাল করেছে। আপনি সেখানে গিয়ে তার গোসল-কাফন দাফনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’

হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সে এলাকায় গেলেন। এলাকাবাসীকে বললেন, ‘এখানে একজন লোক নাকি ইন্তিকাল করেছেন?’ এলাকাবাসী বললো, ‘হ্যাঁ- ইন্তিকাল করেছে। তারা আরো বললো, লোকটা দুইশ বছর হায়াত পেয়েছিল। কিন্তু সে কোন নেককাজ করেনি। যার কারণে তারা তার গোসল কাফন-দাফনের কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

একথা শুনে হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার পরিচয় দিলেন যে, ‘আমি হলাম এ যামানার রসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম।’

তিনি যখন উনার পরিচয় দিলেন, তখন এলাকাবাসী সমস্ত লোক আঁতকে উঠলো। তারা বললো, আপনি এসেছেন এই ব্যক্তির গোসল, কাফন, দাফনের জন্য; অথচ আমরা তাকে পছন্দ করি না। কারণ সে একটা পাপী লোক ছিল।’

হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে বললেন, ‘আয় বারে ইলাহী! এই লোকটা নাকি বড় গুনাহগার ছিল। এলাকার লোকেরা তাকে পছন্দ করে না।

মহান আল্লাহ পাক তিনি তখন বললেন, এলাকাবাসী সঠিক কথাই বলেছে। তবে সে এমন একটা আমল করেছে যার কারণে তার দুইশ বছরের গুনাহখতা মাফ করে আপনার মতো একজন জলীলুল ক্বদর রসূল আপনাকে তার গোসল, কাফন-দাফনের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।’

তখন হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ‘আয় বারে ইলাহী! আপনি আমাকে দয়া করে সেই আমলটি জানিয়ে দিন। যে আমলের কারণে আপনি তাকে কবুল করেছেন। সেই আমল আমি নিজে করবো এবং আমার উম্মতদেরকে শিক্ষা দিবো।’

মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আমি আপনাকে সেই আমলটির কথা জানাবো তা হচ্ছে, আপনার প্রতি নাযিলকৃত যে কিতাব ‘তাওরাত শরীফ’ উনার একখানা নুসখা এই লোক একদিন খুলেছিল। খুলে আমার যিনি হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক দেখতে পেয়ে চুম্বন করে, চোখে লাগায় এবং সাথে সাথে উনার প্রতি ছলাত-সালাম তথা দুরূদ শরীফ পাঠ করে। আমি তার এই আমলকে তৎক্ষণাত কবুল করে নিয়ে তার দুইশ বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দিয়ে জান্নাত ওয়াজিব করে দেই এবং আপনার মতো একজন জলীলুল ক্বদর রসূল আলাইহিস সালাম, আপনাকে নির্দেশ দেই তার গোসল, কাফন-দাফনের জন্য। সুবহানাল্লাহ! (খাছায়িছুল কুবরা ১ম খ- ২৯ পৃষ্ঠা, হিলইয়াতুল আউলিয়া)

উক্ত ঘটনা মুবারক দ্বারা প্রতিভাত হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে খুশি প্রকাশ করার ফযীলত কত বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ!

তাফসীরুল কুরআন: মুসলমানের জন্য দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম ও মতবাদের নিয়ম-নীতি গ্রহণ করা কুফরী-২

তাফসীরুল কুরআন: মুসলমানের জন্য দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম ও মতবাদের নিয়ম-নীতি গ্রহণ করা কুফরী-৩

তাফসীরুল কুরআন: সুন্নতের ইত্তিবা বা অনুসরণ ব্যতীত জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ পাওয়া অসম্ভব

তাফসীরুল কুরআন: হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামগণকে ‘আমাদের মত বাশার’ বলা কাফিরদের স্বভাব

তাফসীরুল কুরআন: হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামগণকে ‘আমাদের মত বাশার’ বলা কাফিরদের স্বভাব