তাফসীরুল কুরআন: সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

সংখ্যা: ২৫৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

يايها الناس قد جاءتكم موعظة من ربكم وشفاء لـما فى الصدور وهدى ورحمة للمؤمنين. قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مـما يجمعون.

তরজমা: হে মানুষেরা! তোমাদের রব তায়ালা উনার তরফ থেকে তোমাদের নিকট এসেছেন নছীহতকারী, অন্তরের আরোগ্য দানকারী, হিদায়েত দানকারী এবং মু’মিনদের জন্য রহমত দানকারী। (অতএব হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি (উম্মতদেরকে) বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফদ্বল ও রহমত স্বরূপ আপনাকে যে তারা পেয়েছে, সেজন্য তাদের কর্তব্য তথা ফরয হচ্ছে খুশি প্রকাশ করা। এই খুশি প্রকাশের ইবাদত মুবারক হবে তাদের সমস্ত ইবাদত বা আমল অপেক্ষা উত্তম বা শ্রেষ্ঠ। (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮)

তাফসীর: উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পেয়ারা রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উদ্দেশ্যে খুশি প্রকাশ করার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। ফলে বান্দা-বান্দী ও উম্মতের জন্য খুশি প্রকাশ করা ফরয হয়ে গেছে।

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার হুকুম যদিও খাছভাবে মানুষ ও জিন জাতির জন্য তবে আমভাবে কায়িনাতের সকল সৃষ্টিরই জন্য। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধু মানুষ ও জিন জাতির জন্যেই নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে প্রেরিত হননি বরং সমস্ত মাখলুক্বাত বা সৃষ্টিরাজীর জন্যেই তিনি নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামরূপে প্রেরিত হয়েছেন। যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কিতাব কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

قُلْ يا اَيُّهَا النَّاسُ اِنِّىْ رَسُولُ اللّـهِ اِلَيْكُمْ جَمِيعًا

অর্থ: (আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলে দিন, হে মানুষেরা! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। (পবিত্র আ’রাফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং ১৫৮)

উক্ত ইরশাদ মুবারককৃত সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার মধ্যে শুধু আননাস বা মানুষকে সম্বোধন করা হলেও হুকুম সকল বা সমস্ত সৃষ্টির জন্য।

যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اُرْسِلْتُ اِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً

অর্থ: আমাকে সমস্ত সৃষ্টির জন্য রসূল হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে বা আমি সমস্ত সৃষ্টির জন্য রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রূপে প্রেরিত হয়েছি। (মুসলিম শরীফ)

কাজেই, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন কায়িনাতের সকল সৃষ্টির জন্য খ্বালিক মালিক রব সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তেমনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতের সকল সৃষ্টির জন্য প্রেরিত মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

অতএব, কায়িনাতের সকলেই যেরূপ খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার তাসবীহ পাঠ করে থাকে তদ্রূপ কায়িনাতের সকলের যিনি নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে ছলাত ও সালাম মুবারক পাঠ ও পেশ করার মাধ্যমে খুশি প্রকাশ করতে হবে।

বস্তুত মানুষ ও জিন সম্প্রদায়ের মধ্যে নাফরমানরা ব্যতীত বাকী সকলেই মহান আল্লাহ পাক উনার তাসবীহ পাঠ তথা ছানা-ছিফত করার সাথে সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে ছলাত শরীফ বা ছানা-ছিফত করে থাকে। সুবহানাল্লাহ! যেমন পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

كُلٌ قَدْ عَلِمَ صَلَاتَه وَتَسبِيْحَه

অর্থ: “প্রত্যেকেই তার ছলাত ও তাসবীহ সম্পর্কে অবহিত।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং ৪১)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ছলাত শরীফ দ্বারা কুল মাখলূক্বাতের যিনি নবী ও রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক করাকে বুঝানো হয়েছে। আর তাসবীহ মুবারক দ্বারা কুল-কায়িনাতের যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ছানা-ছিফত মুবারক করার বিষয়টিকে বুঝানো হয়েছে।

মোট কথা, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সম্মানিত রুবূবিয়াত প্রকাশ করার জন্যে কুল মাখলূক্বাত সৃষ্টির ১২ হাজার বছর পূর্বে উনার পেয়ারা হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনার সম্মানিত অজুদ পাক নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি করেন। অতঃপর উক্ত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে কুদরতীভাবে সম্মানিত আরশ মুবারক, সম্মানিত কুরসী মুবারক, সম্মানিত আরশ মুবারক বহনকারী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম, সম্মানিত কুরসী মুবারক তত্ত্বাবধানকারী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম, সম্মানিত ক্বলম মুবারক, সম্মানিত লাওহ মুবারক, জান্নাত মুবারক, অন্য সকল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম, সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজী ইত্যাদি পর্যায়ক্রমে সবকিছু সৃষ্টি করেন। সুবহানাল্লাহ!

তাফসীরুল কুরআন: কৃপণতার নিন্দা ও ভয়াবহ পরিণতি

তাফসীরুল কুরআন: গোপন শিরকের অন্তর্ভুক্ত রিয়া নামক বদ খাছলতটির ভয়ানক পরিণতি

তাফসীরুল কুরআন : গদ্বব বা রাগের কুফল ও তার প্রতিকার

তাফসীরুল কুরআন: হিরছ বা লোভের নিকৃষ্ট পরিণতি

তাফসীরুল কুরআন: শরফ বা সম্মান কামনা করা ও তার কুফল