তাফসীরুল কুরআন: সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

সংখ্যা: ২৫২তম সংখ্যা | বিভাগ:

يايها الناس قد جاءتكم موعظة من ربكم وشفاء لـما فى الصدور وهدى ورحمة للمؤمنين. قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مـما يجمعون.

তরজমা: হে মানুষেরা! তোমাদের রব তায়ালা উনার তরফ থেকে তোমাদের নিকট এসেছেন নছীহতকারী, অন্তরের আরোগ্য দানকারী, হিদায়েত দানকারী এবং মু’মিনদের জন্য রহমত দানকারী। (অতএব হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি (উম্মতদেরকে) বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফদ্বল ও রহমত স্বরূপ আপনাকে যে তারা পেয়েছে, সেজন্য তাদের কর্তব্য তথা ফরয হচ্ছে খুশি প্রকাশ করা। এই খুশি প্রকাশের ইবাদত মুবারক হবে তাদের সমস্ত ইবাদত বা আমল অপেক্ষা উত্তম বা শ্রেষ্ঠ। (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮)

তাফসীর: মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন সমস্ত মাখলূক্বাতের খ¦ালিক্ব, মালিক ও রব হিসেবে একক মর্যাদা ও সম্মান মুবারক উনার অধিকারী তদ্রূপ সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত মাখলুক্বাতের নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে একক মর্যাদা ও সম্মান মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!

স্মরণীয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদিও মাখলূক্ব বা সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত তথাপি কোন সৃষ্টিই উনার সমকক্ষ বা সমপর্যায়ভুক্ত বা সমমর্যাদাসম্পন্ন নন। আর অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদিও নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অন্তর্ভুক্ত তথাপি হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা কেউই উনার সমতুল্য বা সম মর্যাদা বা শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী নন। মোটকথা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং সকল জিন ও ইনসানসহ মাখলুক্বাতের সকলেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত যেরূপ নাকি সমস্ত মাখলূক্বাত মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা ও বান্দী উনাদের অন্তর্ভুক্ত।

কাজেই, কোন বান্দা বা বান্দী যেরূপ মহান আল্লাহ পাক উনার সমতুল্য বা সমমর্যাদা মুবারক উনার অধিকারী কখনোই হতে পারে না। তদ্রূপ যারা উম্মত তাদের পক্ষে কখনোই তাদের যিনি সম্মানিত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমতুল্য বা সমমর্যাদার অধিকারী হওয়া সম্ভব নয়।

প্রকাশ থাকে যে, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের সংখ্যা এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার। উনাদের মধ্যে হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সংখ্যা তিনশত তের থেকে তিনশত পনের জন। আর উনাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব অর্থাৎ হাবীবুল্লাহ হচ্ছেন শুধুমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

অতএব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাত পাক, ওজূদ পাক এবং সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানার্থে খুশি প্রকাশ করে যে মাহফিল করা হয় উক্ত মাহফিল সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম শরীফ, ঈদে আকবার শরীফ, মীলাদ শরীফ অথবা ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলাটাই অধিক ছহীহ। এসকল পরিভাষা দ্বারা খাছভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক প্রকাশের বিষয়টি ফুটে উঠে। সুবহানাল্লাহ!

প্রকাশ থাকে যে, উক্ত মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে যারা মাহফিলের ব্যবস্থা করবেন নিঃসন্দেহে উনারা বেমেছাল ফযীলত, বুযুর্গী ও সম্মান হাছিল করবেন। যেমন এ প্রসঙ্গে বিশ্ব সামদৃত আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

قال حضرت على كرم الله وجهه عليه السلام من عظم مولد النبى صلى الله عليه وسلم وكان سببا لقرائته لايخرج من الدنيا الا بالايمان ويدخل الجنة بغير حساب .

অর্র্থ: “হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিশেষ মর্যাদা প্রদান করলো, সে ব্যক্তি অবশ্যই ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে এবং বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” সুবহানাল্লাহ!

হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

من جمع لـمولد النبى صلى الله عليه وسلم اخوانا وهيا طعاما واخلى مكانا وعمل احسانا وصار سببا لقرائته بعثه الله يوم القيامة مع الصديقين والشهداء والصالحين ويكون فى جنات النعيم .

অর্র্থ: ‘যে ব্যক্তি মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন উপলক্ষে লোকজন একত্রিত করলো, খাদ্য তৈরি করলো, জায়গা নির্দিষ্ট করলো এবং এ জন্য উত্তমভাবে তথা সুন্নাহ ভিত্তিক আমল করলো, তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি হাশরের দিন ছিদ্দীক্ব, শহীদ ছলিহীনগণের সাথে উঠাবেন  এবং উনার ঠিকানা হবে জান্নাতে নায়ীমে।’ সুবহানাল্লাহ!

তাফসীরুল কুরআন: সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

তাফসীরুল কুরআন: সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

তাফসীরুল কুরআন: সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

তাফসীরুল কুরআন: সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

তাফসীরুল কুরআন: সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল