তাফসীরুল কুরআন: সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

সংখ্যা: ২৫০তম সংখ্যা | বিভাগ:

يايها الناس قد جاءتكم موعظة من ربكم وشفاء لـما فى الصدور وهدى ورحمة للمؤمنين. قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مـما يجمعون.

তরজমা: হে মানুষেরা! তোমাদের রব তায়ালা উনার তরফ থেকে তোমাদের নিকট এসেছেন নছীহতকারী, অন্তরের আরোগ্য দানকারী, হিদায়েত দানকারী এবং মু’মিনদের জন্য রহমত দানকারী। (অতএব হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি (উম্মতদেরকে) বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফদ্বল ও রহমত স্বরূপ আপনাকে যে তারা পেয়েছে, সেজন্য তাদের কর্তব্য তথা ফরয হচ্ছে খুশি প্রকাশ করা। এই খুশি প্রকাশের ইবাদত মুবারক হবে তাদের সমস্ত ইবাদত বা আমল অপেক্ষা উত্তম বা শ্রেষ্ঠ। (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮)

তাফসীর: যিনি খ¦ালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ও সম্মানিত এবং মর্যাদা-মর্তবার অধিকারী হলেন উনার যিনি শ্রেষ্ঠতম নবী ও রসূল, যিনি সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, যিনি ইমামুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, যিনি খাতামুন নাবিয়্যীন, যিনি রহমাতুল্লিল আলামীন, যিনি নূরুম মুজাসসাম, যিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

যার কারণে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি খ্বালিক্ব মালিক রব তায়ালা হওয়া সত্বে উনার প্রিয় হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক দায়িমীভাবে করছেন এবং করতেই থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি যেরূপ অনন্ত ও চিরজীবি তদ্রূপ নূরুম মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মহান আল্লাহ পাক উনার কৃত আমল মুবারকও অনন্তকাল ও চিরকালব্যাপী। সুবহানাল্লাহ!

শুধু তাই নয়, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন আকবার ও আ’যম অর্থাৎ সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে মহান ও সম্মানিত তেমনি উনার কৃত আমল মুবারকখানিও মহাসম্মানিত ও সর্বশ্রেষ্ঠ। সেটাই পবিত্র আয়াতে কারীমা উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে-

هو خير مـما يجمعون

অর্থাৎ: সৃষ্টির সেরা মাখলূক্ব মানুষ যত আমল-ইবাদত করুক না কেন তাদের সমস্ত ইবাদত-বন্দিগী অপেক্ষা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে ‘ফালইয়াফরাহূ’ তথা খুশি প্রকাশ করা অর্থাৎ সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম ইবাদত। সুবহানাল্লাহ!

স্মরণীয় যে, অন্য যত ইবাদত-বন্দিগী আছে তা কবুল হওয়ার ব্যাপারে শক-শোবাহ, সন্দেহ রয়েছে, ইখলাছের অভাবের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, রিয়া বা লৌকিকতার বিষয় সম্পৃক্ত রয়েছে। কিন্তু সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের বিষয়টি এমন এক ফযীলতপূর্ণ ও মর্যাদামণ্ডিত ইবাদত যা কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে কোনরূপ প্রতিবন্ধকতা নেই। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী উক্ত মহাসম্মানিত ইবাদত যে যতবেশি সাখাওয়াতির সাথে উত্তমভাবে করবেন তিনি ততবেশি ফযীলত ও সম্মানের অধিকারী হবেন। সুবহানাল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ইমামুল মুহাদ্দিছীন ওয়াল মুহাক্কিক্বীন হযরত শায়েখ শাহ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বসমাদৃত গ্রন্থ “আখবারুল আখইয়ার” কিতাবের ৬২৪ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-

اے اللہ! میرا کوئی عمل ایسا نہیں ہے جسے آپکے دربار میں پیش کرنے کے لائق سمجھوں، میرے تمام اعمال میں فساد نیت موجود رہتی ہے، البتہ مجھ حقیر فقیر کا ایک عمل صرف تیری ذات پاک کی عنایت کیوجہ سے بہت شاندار ہے اور وہ یہ ہے کہ مجلس میلاد کے موقع پر میں کھڑے ہو کر سلام پڑھتاہوں اور نہایت ہی عاجزی وانکسار ی محبت وخلوص کے ساتھ تیری حبیب پاک صلی اللہ علیہ وسلم پر درود سلام بھیجتا رہا ہوں. اے اللہ! وہ کون سا مقام ہے جہاں میلاد مبارک سے زیادہ تیری خیر وبرکت کانزول ہوتا ہے! اس لئے اے ارحم الراحمین مجھے پکا یقین ہے کہ میرا یہ عمل کبھی بیکار نہ جائیگا بلکہ یقینا تیری بارگاہ میں قبول ہوگا اور جوکوئی درود وسلام پڑھے اور اس کےذریعہ دعا کرے وہ کبھی مسترد نہیں ہو سکتی

অর্থ: “আয় আল্লাহ পাক! আমার এমন কোনো আমল নেই; যা আপনার মুবারক দরবারে পেশ করার উপযুক্ত মনে করি। আমার সমস্ত আমলের নিয়তের মধ্যেই ত্রæটি রয়েছে। তবে এই অধমের শুধুমাত্র একটি আমল আপনার মহান যাত পাক উনার দয়ায় অনেক মর্যাদাবান। আর তা হচ্ছেন মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে মজলিস করি। উক্ত মজলিসে ক্বিয়ামের সময় দাঁড়িয়ে সালাম পেশ করি এবং একান্ত আযীযী, ইনকিসারী, মুহব্বত ও খুলূছিয়াতের সাথে আপনার হাবীব পাক পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত-সালাম পেশ করি। আয় আল্লাহ পাক! এমন কোনো মর্যাদা সম্পন্ন ইবাদত আছে কি, যার মধ্যে মীলাদ মুবারক উনার চেয়ে অধিক খায়ের বরকত নাযিল হয়? আয় আরহামুর রাহিমীন! আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আমার এই ইবাদত কখনো বৃথা যাবে না। বরং অবশ্যই আপনার মহান দরবারে কবুল হবে এবং যে কেউ দুরূদ ও সালাম পাঠ করতঃ উনাকে উসীলা সাব্যস্ত করে দোয়া করবে, সে কখনোই মাহরূম হতে পারে না। অর্থাৎ সে অবশ্যই কবুলযোগ্য হবে।”

তাফসীরুল কুরআন: মিথ্যার কুফল ও ভয়াবহ পরিণতি

তাফসীরুল কুরআন

তাফসীরুল কুরআন

তাফসীরুল কুরআন: কৃপণতার নিন্দা ও ভয়াবহ পরিণতি

তাফসীরুল কুরআন: গোপন শিরকের অন্তর্ভুক্ত রিয়া নামক বদ খাছলতটির ভয়ানক পরিণতি