তাফসীরুল কুরআন: হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামগণকে ‘আমাদের মত বাশার’ বলা কাফিরদের স্বভাব

সংখ্যা: ১৮৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

আখিরী রসুল, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই শুধু নয় অতীতের নবী ও রসূলগণকেও উনারদের ক্বওমের কাফির, মুশরিক, মুনাফিক শ্রেণীর লোকেরা তাদের মতো বাশার বলে অভিহিত করেছিল। নাউযুবিল্লাহ।

যেমন হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম-এর ক্বওম এবং আদ ও ছামূদ গোত্রের লোকেরা নবী-রসূলগণের শানে বে-আদবী করতে গিয়ে বলেছিল

ان انتم الا بشر مثلنا

অর্থাৎ আপনারা তো আমাদের মতোই বাশার (মানুষ)। (সূরা ইব্রাহীম-১০)

একইভাবে ফিরআউনের লোকেরা হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম ও হযরত হারূন আলাইহিস্ সালাম-এর ব্যাপারে বলেছিল

انؤمن لبشرين مثلنا

অর্থাৎ আমরা কি আমাদের মতোই দু’জন বাশার তথা মানুষের উপর ঈমান আনব। (সূরা মু’মিনূন-৪৭)

কাফির সর্দাররা হযরত নূহ আলাইহিস্ সালামকে বলেছিল-

ما نراك الا بشرا مثلنا

অর্থাৎ আমরা তো আপনাকে আমাদের মতোই (বাশার) মানুষ দেখতে পাচ্ছি। (সূরা হুদ-২৭)

হযরত ছালিহ আলাইহিস্ সালামকে কাফিররা বলেছিল-

ما انت الا بشر مثلنا

অর্থাৎ আপনিতো আমাদের মতোই মানুষ। ( সূরা শুয়ারা-১৫৪)

হযরত হূদ আলাইহিস্ সালাম সম্পর্কে কাফিররা বলেছিল-

ما هذا الا بشر مثلكم يأكل مما تأكلون منه ويشرب مما تشربون

অর্থাৎ এই লোকটি তো আমাদের মতোই একজন মানুষ। তোমরা যা আহার করো, তিনিও তা আহার করেন এবং তোমরা যা পান করো  তিনিও তা পান করেন। (সূরা মু’মিনূন-৩৩)

মক্কার কাফির ওলীদ বিন মুগীরা সেও নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মানুষ বলেছিল। যেমন-

ان هذا الا قول البشر

অর্থাৎ- ইহা তো মানুষের কথা ছাড়া আর কিছু নয়। (সূরা মুদ্দাছ্ছির-২৫)

কাজেই, উল্লিখিত আয়াতে কারীমাসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণকে নিজের মতো মানুষ বলা কাফিরদের অন্যতম একটি স্বভাব।

মূলত: কাদিয়ানীরা যেমন  خاتم النبينএর মনগড়া অর্থ ও ব্যাখ্যা করে খতমে নুবুওওয়াতকে অস্বীকার করে থাকে তদ্রুপ বাতিল আক্বীদা ও ফিরক্বার লোকেরা

قل انما انا بشر مثلكم يوحى الى

এর মনগড়া অর্থ ও ব্যাখ্যা করে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাদের মতো মানুষ বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!

প্রকৃতপক্ষে আয়াত শরীফ-এর সঠিক অর্থ ও মর্ম হলো- “হে হাবীব! আপনি ঐ মুশরিকদের বলে দিন যে, আমি তোমাদের মেছাল (মত) একজন মানুষ, আমার নিকট ওহী এসে থাকে।

আয়াত শরীফ-এ কি আল্লাহ পাক-এর হাবীবকে আমাদের মতো বলা হয়েছে? মোটেও নয়। কারণ উক্ত আয়াতের মধ্যেই

يوحى الى

অর্থাৎ ‘আমার নিকট ওহী এসে থাকে’ এ বাক্যটি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সকল মানুষ থেকে আলাদা করে দিয়েছে। যেহেতু অন্যান্য মানুষের নিকট ওহী আসে না।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে حيوان ‘হাইওয়ান’ বা প্রাণী বলতে মানুষকেও বুঝায় এবং অন্যান্য জীব-জন্তুকেও বুঝায়। তবে কি কেউ একথা বলবে যে, গরু-ছাগল, ঘোড়া-গাধা ইত্যাদিও আমাদের মতো ‘হাইওয়ান’।

মুলত মানুষ হাইওয়ান বটে কিন্তু গরু-ছাগল, ঘোড়া-গাধা প্রভৃতি হাইওয়ানের মতো নয়। কেননা মানুষ হলো ‘হাইওয়ানে নাতিক’ অর্থাৎ বাকশক্তি সম্পন্ন জীব। মানুষ বিবেক, জ্ঞান ও বাক শক্তির অধিকারী। যেরূপ এ নাতিক বা ‘বাকশক্তি সম্পন্ন’ শব্দটি মানুষকে অন্যান্য জীব-জন্তু হতে পৃথক করে দিয়েছে ঠিক তেমনি يوحى الى (আমার নিকট ওহী এসে থাকে) বাক্যটি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাধারণ মানুষ থেকে পৃথক করে দিয়েছে।

তাফসীরুল কুরআন: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

তাফসীরুল কুরআন: কুরআন ও সুন্নাহ’র বিধান অনুসারে চলা প্রত্যেকের জন্য ফরয অন্যথায় পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ-১০

তাফসীরুল কুরআন:  কুরআন ও সুন্নাহ’র বিধান অনুসারে চলা প্রত্যেকের জন্য ফরয অন্যথায় পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ-১১

তাফসীরুল কুরআন: মুসলমানের জন্য ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম ও মতবাদের নিয়ম-নীতি গ্রহণ করা কুফরী

তাফসীরুল কুরআন: মুসলমানের জন্য দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম ও মতবাদের নিয়ম-নীতি গ্রহণ করা কুফরী-২