তাফসীরুল কুরআন: হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামগণকে ‘আমাদের মত বাশার’ বলা কাফিরদের স্বভাব

সংখ্যা: ১৮৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

পূর্ব প্রকাশিতের পর

মূলতঃ بشر مثلكم এর অর্থ হলো হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছূরত বা আকৃতি ও ছিফাতে বাশারীর দিক থেকে অন্যান্য মানুষের মতো অর্থাৎ অন্যান্য মানুষের যেরূপ হাত, পা, নাক, কান, চোখ, মুখ ইত্যাদি রয়েছে এবং তারা যেরূপ পানাহার ও ঘর-সংসার করেন ছূরতান বা বাহ্যিক দৃষ্টিতে তিনিও তদ্রুপ। কিন্তু হাক্বীক্বতান বা প্রকৃত দিক থেকে তিনি কোন দিক দিয়েই অন্য কারো মত নন।

উল্লেখ্য, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাশারী ছূরত ধারণ করার কারণে যদি সাধারণ মানুষের মতো হয়ে যান, তাহলে এটাও স্বীকার করতে হবে যে, ফেরেশ্তারাও মানুষ। কেননা হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালামসহ অনেক ফেরেশ্তাই মানুষের ছূরত ধারণ করেছেন বলে প্রমাণিত রয়েছে। কাজেই, ফেরেশ্তারা যেরূপ ছূরতান মানুষের আকৃতি ধারণ করলেও হাক্বীক্বতান তারা ফেরেশ্তা তদ্রুপ হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছূরতান বাশার হলেও হাক্বীক্বতান তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ। আর এ কারণেই কবি বলেছেন-

گر بصورت ادمی انساں بودے  + احمد وبوجھل ھم ایکسا بودے

ایں کہ مں بینی غلاف ادمند + نیستند ادمی خلاف ادمند

অর্থ: ‘আকৃতির দ্বারাই যদি মানুষ মনুষ্যত্ব লাভ করতো তাহলে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আবু জাহিলের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকতো না। এটা (বাহ্যিক) যা দেখ তা মনুষ্যত্বের গিলাফ। মনুষ্যত্ব নয় বরং মনুষ্যত্বের খিলাফ।’

প্রতিভাত হলো, মেছাল আর হাক্বীক্বত এক বিষয় নয়। সম্পূর্ণ বিপরীত। অর্থাৎ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেছাল অন্যান্য মানুষের মতো কিন্তু হাক্বীক্বত তিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল ও হাবীবুল্লাহ।

এ প্রসঙ্গে কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

وما محمد الا رسول

অর্থ: ‘হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রসূল ব্যতীত অন্য কিছু নন।’

ছহীহ বুখারী শরীফ ও ছহীহ মুসলিম শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, স্বয়ং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমস্ত মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেন- لست كاحدكم

অর্থ: ‘আমি তোমাদের কারো মতো নই।’

ছহীহ বুখারী শরীফ-এ আরো বর্ণিত রয়েছে- একবার হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনবরত রোযা রাখতে শুরু করলেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণও হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দেখাদেখি অনবরত রোযা রাখতে শুরু করলেন। এই অনবরত রোযা রাখার কারণে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ দুর্বল হয়ে পড়েন। তখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে বললেন- ايكم مثلى ‘তোমাদের মধ্যে কে আছো আমার মতো?’ আরো বললেন-  ابيت عند ربى يطعمنى ويسقينى

‘আমি আল্লাহ পাক-এর কাছে রাত্রি যাপন করি, তিনি আমাকে আহার করান এবং পান করান।’

মেছাল ও হাক্বীক্বত যে এক বিষয় নয় সেটা আরবী ক্বাওয়ায়িদের কিতাবেও উল্লেখ রয়েছে। যেমন- زيد كالاسد যা আলিয়া-ক্বওমী সকল নিসাবের ছাত্র ও শিক্ষকরাও পড়ে ও পড়িয়ে থাকে। উক্ত আরবী বাক্যের অর্থ হচ্ছে ‘যায়িদ বাঘের মতো’। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, যায়িদ বাঘ। কাজেই, ‘যায়িদ বাঘের মতো’ বলার কারণে যদি বাঘ না হয়, তাহলে مثلكم ‘তোমাদের মতো’ বলার দ্বারা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি করে অন্যান্য মানুষের মত হন?

তাছাড়া আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে হযরত মরিয়ম আলাইহাস্ সালাম সম্পর্কে ইরশাদ করেন- ليس الذكر كالانثى

অর্থ: “তিনি এমন এক মহিলা যার সমকক্ষ কোন পুরুষও নন।” (সূরা আলে ইমরান-৩৬)

এ আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ ব্যতীত দুনিয়ার কোন পুরুষই উনার মত নন।

অপরদিকে উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ সম্পর্কে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-

ينساء النبى لستن كاحد من النساء

অর্থ: ‘হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আহলিয়াগণ! আপনারা অন্য কোন মহিলার মত নন।’ (সূরা আহযাব-৩২)

এ আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, হযরত উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণের মতো কোন পুরুষ ও কোন মহিলা নেই। অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীনগণও সাধারণ মানুষের মত নন।

প্রশ্ন হলো, হযরত উম্মুল মু’মিনীনগণ উনারাই যদি অন্যান্য মানুষের মতো না হন তাহলে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যান্য মানুষের মত হন কি করে?

হাক্বীক্বত তিনি আদৌ কারো মতো নন। এটাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা বা বিশ্বাস। এর বিপরীত আক্বীদা পোষণ করা কুফরী।

তাফসীরুল কুরআন: মুসলমানের জন্য দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম ও মতবাদের নিয়ম-নীতি গ্রহণ করা কুফরী-৩

তাফসীরুল কুরআন: সুন্নতের ইত্তিবা বা অনুসরণ ব্যতীত জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ পাওয়া অসম্ভব

তাফসীরুল কুরআন: হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামগণকে ‘আমাদের মত বাশার’ বলা কাফিরদের স্বভাব

তাফসীরুল কুরআন: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী

তাফসীরুল কুরআন: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী