পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম (২২) উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত

সংখ্যা: ২৩২তম সংখ্যা | বিভাগ:

-মুহম্মদ সাদী

পূর্বপ্রকাশিতের পর

 

মুবারক শৈশব ও কৈশোর থেকেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার

সুন্নত মুবারক ও শরয়ী পর্দা পালনের একনিষ্ঠ অভ্যস্ততা

 

শরয়ী পর্দাপালন সম্মানিত দ্বীন- ইসলাম উনার অন্যতম এক ফরজ বিধান। এই বিধান সম্মানিত দ্বীন- ইসলাম উনার অন্যতম সৌন্দর্য এবং পুরুষ ও মহিলার অবাধ মেলামেশাজনিত (নাউযুবিল্লাহ!) যাবতীয় অনাচার ও অপকর্মের প্রতিবন্ধক। শরয়ী পর্দা প্রথা মহিলাদের ব্যক্তিত্ব ও আভিজাত্যের প্রতীক। একজন বেগানা মহিলা এবং একজন বেগানা পুরুষে দেখা-সাক্ষাতের ক্ষেত্রে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে কঠিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু একজন মহিলার সঙ্গে অপর একজন মহিলার দেখা-সাক্ষাৎ জায়িয। তবে হিদায়েত-নছীহত-এর উদ্দেশ্য অথবা শরীয়তসম্মত অপরিহার্য প্রয়োজন ছাড়া কোনো বদকার মহিলার সঙ্গে একজন নেককার মহিলার দেখা-সাক্ষাতের নীতিগত বৈধতা নেই। কারণ: الصحبة متأثرة অর্থ: “সংসর্গ তাছীর করে” এবং পরিণতিতে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে লব্ধ নিয়ামতরাজি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম সৃষ্টি হয়।

মহিলাদের জন্য স্বর্ণ, রেশমী কাপড়, লাল কাপড় ইত্যাদি জায়িয হওয়া সত্ত্বেও উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে এসব ব্যবহার করতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিষেধ করেছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: “হে ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম! আপনি কায়িনাতবাসীর অনুসরণীয়, আপনি অনুকরণীয়। আপনি হাদী। আপনার কাছ থেকে মানুষ পবিত্র দ্বীন- ইসলাম শিক্ষা ও দীক্ষালাভ করবে। কাজেই স্বর্ণ, রেশমী কাপড়, লাল কাপড় এসব আপনি ব্যবহার করবেন না। আপনি রূপার গহনা পরতে পারেন।” উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি জানতে চাইলেন: “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তবে কী আমি রূপার গহনাগুলো স্বর্ণের পানিতে চুবিয়ে নিবো?” এতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: “না, স্বর্ণের পানিতে চুবানো যাবে না। আপনি চাইলে জাফরান মিশ্রিত পানিতে চুবিয়ে নিতে পারেন।” সুবহানাল্লাহ!

নৈকট্যধন্য মাহবূব ওলীআল্লাহ এবং সাধারণ নেককার বান্দা-বান্দি উনাদের মধ্যে পার্থক্য  বুঝাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন:

حسنات الابرار سيات الـمقربين

অর্থ : “সাধারণ নেককার উনাদের জন্য যা কল্যাণকর, নৈকট্যশীল ওলীআল্লাহ উনাদের জন্য তা অকল্যাণকর, অর্থাৎ পাপ হিসেবে গণ্য।” যিকির-ফিকিরে, অনুভব-অনুসন্ধিৎসায়, ইবাদত-বন্দেগি ও জাগতিক কর্মসম্পাদনে এবং আখিরাতের কর্মব্যস্ততায় সকলের পথ ও কাজ অভিন্ন নয়। সকল মু’মিন বান্দা-বান্দি উনাদের এ পথ ও কাজ ‘আম’ ও ‘খাছ’ দু’ধারায় বিভাজিত।

মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তিনি একক সত্ত্বা। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও একক সত্ত্বা। কিন্তু উনাদেরকে অনুভব, অনুসরণ ও মুহব্বত করার এবং উনাদের আনুগত্য করার যোগ্যতা, প্রক্রিয়া ও পরিধি এক নয়, ভিন্ন ভিন্ন। সকলের মন, মনন, অনুসরণ, অনুকরণ, আনুগত্য, মুহব্বত-মা’রিফাত, তায়াল্লুক-নিসবতের মাত্রা এক নয়। তাই সাধারণের জন্য যা কল্যাণকর, নৈকট্যশীল উনাদের জন্য তা পাপ। (চলবে)

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৪৯

সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গওছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, ইমামুর রাসিখীন, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি (৩)

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৫০

সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গওছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, ইমামুর রাসিখীন, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪)

হানাফী মাযহাবের আক্বাইদের ইমাম, ইমামু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ হযরত ইমাম আবু মানছূর আল মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বিছাল শরীফ ৩৩৩ হিজরী