পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৭)

সংখ্যা: ২৮০তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৫তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আলহামদুলিল্লাহ।

খাছ সুন্নতী বাল্য বিবাহ সম্পর্কে উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকদের উত্থাপিত ও প্রচারিত মনগড়া, মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্যসমূহের দলীলভিত্তিক খণ্ডনমূলক জাওয়াব

 

সম্মানিত শরীয়ত উনার চারখানা দলীল পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি বাল্য বিবাহের অনুমতি দিয়েছেন। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে বাল্য বিবাহ করেছেন, করিয়েছেন ও সমর্থন করেছেন। হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, তাবিয়ীন, তাবে তাবিয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অনেকেই বাল্য বিবাহ করেছেন ও করিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বাল্য বিবাহ জায়িয হওয়ার বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

অথচ এর পরও কতিপয় উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা খাছ সুন্নতী বাল্য বিবাহ সম্পর্কে চু চেরা, ক্বীল ও ক্বাল করে থাকে। নানান মনগড়া, বিভ্রান্তিকর আপত্তিসমূহ উত্থাপন করে থাকে। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মনগড়া ব্যাখ্যা করে বাল্য বিবাহ সম্পর্কে মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্য পেশ ও প্রচার করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!

নিম্নে উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকদের উত্থাপিত ও প্রচারিত মনগড়া, মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্যসমূহ খণ্ডন করে দলীলভিত্তিক সঠিক জাওয়াব প্রদান করা হলো-

৬নং আপত্তি ও তার জাওয়াব

উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা বলে থাকে যে, ঐতিহাসিকদের মতে উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি উনার বড় বোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার চেয়ে ১০ বছরের ছোট ছিলেন। আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি যেহেতু ৭৩ হিজরী সনে ১০০ বৎসর বয়স মুবারকে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, সেহেতু বলা যায় যে, সে হিসেবে  ১লা হিজরীতে উনার বয়স ছিলো ২৭ বছর। উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি যেহেতু উনার ১০ বছরের ছোট, তাই ১লা হিজরী শরীফে উনার বয়স মুবারক ১৭ বছরের কম ছিলো না। অর্থাৎ ১৭  বছর বয়স মুবারকে উনার মহসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফ সম্পন্ন হন। নাউযুবিল্লাহ!

এ ব্যাপারে তারা ‘আল ইকমাল ফী আসমায়ির রিজাল’ ‘তাকরীবুত তাহযীব ও বেদায়া নেহায়ার দলীল দিয়ে থাকে।

তাদের উক্ত বক্তব্যের জাওয়াবে প্রথমত বলতে হয় যে, উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আক্বদ মুবারক ৬ বছর বয়স মুবারকে আর সম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফ ৯ বছর বয়স মুবারকে হয়েছে এ মতটিই ছহীহ, গ্রহণযোগ্য, দলীলভিত্তিক। কেননা অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ এবং বুখারী শরীফ, মুসলিম, শরীফ সহ ছিহাহ সিত্তাহ এবং আরো অসংখ্য নির্ভরযোগ্য কিতাবে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারককালীন বয়স মুবারক ৬ বছর আর নিসবাতুল আযীম শরীফকালীন বয়স মুবারক ৯ বছর বলে উল্লেখ আছে, সেখানে এর বিপরীত কিছু ঐতিহাসিক তথ্য বা দূর্বল বর্ণনা দলীল হিসেবে পেশ করা জিহালত বা গোমরাহী নয় কি? মূলত তা শুধু জিহালত বা গোমরাহীই নয় বরং সুস্পষ্ট কুফরীও বটে। কারণ এতে পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে অস্বীকার ও অবজ্ঞা করা হয়। নাউযুবিল্লাহ!

উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারক ও নিসবাতুল আযীম মুবারককালীন বয়স মুবারক সম্পর্কে অসংখ্য পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। যেমন ছহীহ বুখারী শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّ النَّبِـىَّ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَزَوَّجَهَا وَهِيَ بِنْتُ سِتِّ سِنِيْنَ وَاَدْخَلَتْ عَلَيْهِ وَهِيَ بِنْتُ تِسْعٍ وَّمَكَثَتْ عِنْدَهٗ تِسْعًا.

অর্থ : “হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে (হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম) উনার আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয় যখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর তিনি ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন এবং ৯ বছর উনার সাথে অবস্থান মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ছহীহুল বুখারী কিতাবু বাদইল ওয়াহই বাবু ইনকাহির রজুলি ওয়ালাদাহুছ ছিগার)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَتْ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةُ الصِّدِّيْقَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ تَزَوَّجَنِىْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَنَا بِنْتُ سِتِّ سِنِيْنَ وَاَدْخَلْتُ عَلَيْهِ وَاَنَا بِنْتُ تِسْعِ سِنِيْنَ وَمَكَثْتُ عِنْدَهٗ تِسْعًا فَهَلَكَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَنَا بِنْتُ ثَـمَانِىْ عَشَرَةً.

অর্থ: হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয় যখন আমার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর আমি ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করি। আর আমি উনার সাথে অবস্থান মুবারক করি ৯ বছর। তিনি যখন পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ করেন তখন আমার বয়স মুবারক ১৮ বছর।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল আওছাত লিত তাবারানী ৭ম জিলদ, ৯৪ পৃষ্ঠা)

কাজেই, উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র আক্বদ মুবারককালীন বয়স মুবারক উনার বিষয়টি যেহেতু সরাসরি পবিত্র হাদীছ শরীফেই বর্ণিত রয়েছে, তাই এ বিষয়ে ঐতিহাসিক তথ্য বা কিছু দূর্বল বর্ণনা টেনে এনে ইখতিলাফ বা মতভেদ করার কোনোই সুযোগ নেই। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত বয়স মুবারক সম্পর্কিত উক্ত মতকে যদি কেউ প্রত্যাখ্যান করতে চায় তবে তাকে উল্লিখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ সমুহের চেয়েও অধিক মজবুত ও অধিক সংখ্যক পবিত্র হাদীছ শরীফ দলীল হিসেবে পেশ করতে হবে।  কোনো ঐতিহাসিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে পবিত্র হাদীছ শরীফ  অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। যদি কেউ তা করে তবে তা হবে সুস্পষ্ট কুফরী।

অতএব, পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৪র্থ বছর পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার ৪ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

আর আনুষ্ঠানিক রিসালত মুবারক প্রকাশের ১০ম বছর পবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ উনার পবিত্র আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয় তখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। সুবহানাল্লাহ!

একইভাবে ১ম হিজরীর পবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন তখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৯ বছর।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন ১১ হিজরী সনের মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন উনার বয়স মুবারক ছিলো ১৮ বছর অর্থাৎ তিনি ৯ বছর উনার সাথে অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

আর ৫৮ হিজরী সনের পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ লাইলাতুল আহাদ প্রায় ৬৭ বছর বয়স মুবারকে তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। এটাই সবচেয়ে ছহীহ নির্ভরযোগ্য ও দলীলভিত্তিক মত।

কাজেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার বয়স মুবারকের পার্থক্য বের করতে হলে এর উপর ভিত্তি করেই বের করতে হবে। সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার বয়স মুবারকের উপর ক্বিয়াস করে উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক নির্ধারণ করা যাবে না। কারণ উনার  বয়স মুবারক ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারাই নির্ধারিত।

তাদের উক্ত বক্তব্যের জাওয়াবে দ্বিতীয়ত বলতে হয় যে, ধরে নিলাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি ৭৩ হিজরী সনে ১০০ বৎসর বয়সে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সে হিসেবে ১লা হিজরীতে যদি উনার বয়স মুবারক ২৭ বছর হয় তবে সম্মানিত নুবুওওয়াত উনার ৪র্থ সনে উনার বয়স মুবারক দাঁড়ায় প্রায় ১৫  বছর। অর্থাৎ তাদের বক্তব্য অনুযায়ীই ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার ভিত্তিতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার চেয়ে ১৫ বছরের বড় ছিলেন বলে প্রমাণিত হয়। কারণ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, ৭৩ হিজরী সনে। আর উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বিছালী শান  মুবারক প্রকাশ করেন ৫৮ হিজরী সনে। ৭৩ থেকে ৫৮ বিয়োগ  করলে হয় ১৫। অর্থাৎ উনাদের বয়স মুবারকের পার্থক্য হচ্ছে ১৫ বছর। কাজেই যারা ১০ বছরের পার্থক্যের কথা বলে তাদের কথা সঠিক, গ্রহনযোগ্য ও দলীলভিত্তিক নয়, তাই তা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য।

তাদের বক্তব্যের জবাবে তৃতীয়ত বলতে হয় যে, বাতিল ফিরকার লোকেরা তাদের উক্ত বক্তব্যের স্বপক্ষে যেসকল কিতাবের রেফারেন্স উল্লেখ করে থাকে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘আল ইকমাল ফী আসমায়ির রিজাল’ রেসালাটি। যা ‘মিশকাত শরীফের শেষে অন্তর্ভুক্তি হিসেবে সংযোজিত হয়েছে। অথচ তাদের উল্লেখিত উক্ত রেসালাতেই উল্লেখ আছে যে,

تَزَوَّجَهَا بِـمَكَّةَ فِـىْ شَوَّالٍ سَنَةَ عَشَرٍ مِّنَ النُّبُوَّةِ قَبْلَ الْـهِجْرَةِ بِثَلَاثِ سِنِيْنَ … بَقِيَتْ مَعَهٗ تِسْعَ سِنِيْنَ وَمَاتَ  عَنْهَا وَلَـهَا ثَـمَانِـىْ عَشَرَةَ سَنَةً

অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয় হিজরতের ৩ বছর পূর্বে সম্মানিত নুবুওওয়াত উনার ১০ম বর্ষে পবিত্র মক্কা শরীফে। … তিনি ৯ বছর উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন তখন উনার বয়স মুবারক ১৮ বছর।”

এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, ১১ হিজরী সনে যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন তখন উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস উনার বয়স মুবারক ছিলো ১৮ বছর। সে হিসেবে ১লা হিজরীতে উনার বয়স মুবারক ছিলো ৯ বছর। যখন তিনি হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন, আর সম্মানিত নুবুওওয়াত উনার ১০ম বর্ষে অর্থাৎ হিজরত উনার ৩ বছর পূর্বে উনার বয়স মুবারক ছিলো ৬ বছর, যখন উনার আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয়। সে হিসেবে উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ সম্মানিত নুবুওওয়াত উনার ৪র্থ বর্ষে। যদি তাই হয়ে থাকে  তবে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি কিভাবে উনার ১০  বছরের বড় হন?  তাদের বক্তব্য মতেই কমপক্ষে পনের বছরের বড় হন। অর্থাৎ তাদের উক্ত বক্তব্যটি সম্পূর্ণরূপেই স্ববিরোধী।

তাছাড়া তারা যেসকল কিতাবের রেফারেন্স দিয়েছে, সে সকল কিতাবে বর্ণিত উল্লেখিত বর্ণনাসমূহের ব্যাপারে অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ উনাদের অভিমত হলো- উল্লিখিত বর্ণনাগুলো দূর্বল অগ্রহনযোগ্য ও ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার বিরোধী।

উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র আক্বদ ও পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফকালীন বয়স মুবারক যেহেতু অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত সেখানে কিছু দুর্বল ও অগ্রহনযোগ্য ঐতিহাসিক ভুল তথ্য টেনে আনার হেতু কি তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাহলে কি তারা পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফের চেয়ে ঐতিহাসিক তথ্য ও বর্ণনাকে বেশী প্রাধান্য দেয়? নাউযুবিল্লাহ! মূলত ছহীহ হাদীছ শরীফের চেয়ে ইতিহাসকে বেশী প্রাধান্য দেয়া সুস্পষ্ট কুফরী।

মুল কথা হচ্ছে, উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা যে বলেছে, পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার সময় উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ১৭ বছরের কম ছিল না। তাদের এ বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে ভুল, মনগড়া, দলীলবিহীন ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার সম্পূর্ণ খিলাফ। তাই তা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য। আর পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার সময় উনার বয়স মুবারক ৯ বছর ছিলো এমতটিই সঠিক, গ্রহনযোগ্য, দলীলভিত্তক ও ছহীহ হাদীছ শরীফসম্মত।

অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৩)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫৬

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৮তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১১ম পর্ব)