পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১২)

সংখ্যা: ২৭৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

 

৩৫তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আলহামদুলিল্লাহ।

খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরকী ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো “উলামায়ে সূ”। ইহুদীদের এজেন্ট উলামায়ে ‘সূ’রা হারাম টিভি চ্যানেল, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলছে। অর্থাৎ তাদের বক্তব্য হচ্ছে সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্য বাল্য বিবাহকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। তাই বাল্য বিবাহ করা বা দেয়া যাবে না। নাউযুবিল্লাহ!

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এসব বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং হবে। নাউযুবিল্লাহ!

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে বাল্যবিবাহকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। তাই বাল্যবিবাহ করা বা দেয়া যাবে না। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ বাল্য বিবাহ শুধু জায়িযই নয় বরং খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত। আর সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হালাল বা জায়িয বিষয়কে হারাম বা নাজায়িয বলা এবং হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

اِسْتِحْلَالُ الْـمَعْصِيَةِ كُفْرٌ.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমান উনাদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

উল্লেখ্য, বাল্যবিবাহ করতে বা দিতে হবে এরূপ বাধ্যবাধকতা সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে নেই। কারণ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শরীয়ত বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করে দেয়নি। তবে বাল্যবিবাহ যেহেতু সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে জায়িয ও সুন্নত তাই বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলা যাবে না। বললে কুফরী হবে, ঈমান নষ্ট হবে। নাউযুবিল্লাহ!

অনুরূপ উলামায়ে “সূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে প্রয়োজন থাকা স্বত্বেও বাল্যবিবাহ থেকে বিরত থাকবে তারা একটি খাছ সুন্নত পালন করা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অশ্লীল, অশালীন, অসামাজিক কাজে মশগুল হতে পারে। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ তারা তাদের ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ সকল বিষয়ে সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” প্রকাশ করা হলো।

 

খাছ সুন্নতী বাল্য বিবাহ সম্পর্কে উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকদের উত্থাপিত ও প্রচারিত মনগড়া, মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্যসমূহের দলীলভিত্তিক খণ্ডন মূলক জাওয়াব

 

সম্মানিত শরীয়ত উনার চারখানা দলীল পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমানিত হয়েছে যে, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি বাল্য বিবাহের অনুমতি দিয়েছেন। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাল্য বিবাহ করেছেন, করিয়েছেন ও সমর্থন করেছেন। হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, তাবিয়ীন, তাবে তাবিয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অনেকেই বাল্য বিবাহ করেছেন ও করিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বাল্য বিবাহ জায়িয হওয়ার বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

অথচ এর পরও কতিপয় উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা খাছ সুন্নতী বাল্য বিবাহ সম্পর্কে চু চেরা, ক্বীল ও ক্বাল করে থাকে। নানান মনগড়া, বিভ্রান্তিকর আপত্তিসমূহ উত্থাপন করে থাকে। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মনগড়া ব্যাখ্যা করে বাল্য বিবাহ সম্পর্কে মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্য পেশ ও প্রচার করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!

নিম্নে উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরা ও বাতিল ফিরক্বার লোকদের উত্থাপিত ও প্রচারিত মনগড়া, মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্যসমূহ খণ্ডন করে দলীলভিত্তিক সঠিক জাওয়াব প্রদান করা হলো-

১নং আপত্তি ও তার জাওয়াব

উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ ও মুনাফিক বিদয়াতী, গোমরা ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা বলে থাকে যে, “কুরআন শরীফ থেকে বিবাহের যোগ্যতা বা উপযুক্ত বয়সের যে দিক নির্দেশনা পাওয়া যায় তাতে এটা প্রতীয়মান হয় যে, শিশু বিবাহ ইসলামে নিষিদ্ধ। যারা আগ্রহী তারা পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: আয়াত শরীফ ৬ ও ২১, পবিত্র সূরা রোম শরীফ: আয়াত শরীফ ২১ ও পবিত্র সূরা ফুরক্বান শরীফ: আয়াত শরীফ ৭৪ এ পবিত্র আয়াত শরীফ গুলো পড়ে দেখতে পারেন।” অর্থাৎ তাদের বক্তব্য হচ্ছে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে এবং শিশু বিবাহ বা বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

জাওয়াব: উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকদের উপরোক্ত বক্তব্যের জবাবে বলতে হয় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এ ধরণের লোকদের সম্পর্কেই পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

يُضِلُّ بِهٖ كَثِيرًا وَّيَهْدِيْ بِهٖ كَثِيْرًا ۚ وَمَا يُضِلُّ بِهٖ إِلَّا الْفَاسِقِيْنَ.

অর্থ: “পবিত্র কুরআন শরীফ উনার দ্বারা অনেক লোক বিভ্রান্ত হয়েছে আবার পবিত্র কুরআন শরীফ উনারা দ্বারা অনেক লোক হিদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে। ফাসিকরা ব্যতীত অন্য কেউ উনার দ্বারা বিভ্রান্ত হয় না। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬)

অর্থাৎ যারা পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে মেনেছেন, তা’যীম তাকরীম করেছেন, সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা করেছেন তারা নিঃসন্দেহে হিদায়েত লাভ করেছেন। আর যারা পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে মানেনি, তা’যীম-তাকরীম করেনি, ভুল ও মনগড়া অর্থ ও ব্যাখ্যা করেছে মূলত তারাই গোমরাহ ও বিভ্রান্ত হয়েছে। আর তারাই হচ্ছে চরম ফাসিক বা কাফির। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

مَنْ فَسَّرَ الْقُرْاٰنَ بِرَائِهٖ فَقَدْ كَفَرَ

অর্থঃ যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মগনড়া অর্থ ও ব্যাখ্যা করলো সে কুফরী করলো।

উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকগুলো সে কাজটিই করেছে। অর্থাৎ তারা পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ৬ ও ২১ নং পবিত্র  আয়াত শরীফ, পবিত্র সূরা রোম শরীফ উনার ২১ নং পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র সূরা ফুরক্বান শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফসমূহের মনগড়া অর্থ ও ব্যাখ্যা করে শিশু বিবাহ বা বাল্য বিবাহ নজায়িয ও অবৈধ করার অপচেষ্টা করে কুফরী করেছেন। নাউযুবিল্লাহ!

মূলতঃ তাদের উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফসমূহের কোথাও বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করা হয়নি এবং বাল্য বিবাহ ও নিষিদ্ধ করা হয়নি। উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ সমূহের সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা তুলে ধরলেই তাদের ধোকাবাজি ও জালিয়াতীপূর্ণ মিথ্যা বক্তব্যটি আমাদের সকলের কাছেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ৬ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা:

وَابْتَلُوا الْيَتَامٰى حَتّٰى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ اٰنَسْتُمْ مِّنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوْا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ ۖ وَلَا تَأْكُلُوْهَا إِسْرَافًا وَبِدَارًا أَنْ يَّكْبَرُوْا ۚ وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ ۖ وَمَنْ كَانَ فَقِيْرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوْفِ ۚ فَإِذَا دَفَعْتُمْ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ فَأَشْهِدُوْا عَلَيْهِمْ ۚ وَكَفٰى بِاللهِ حَسِيْبًا

অর্থ: আর ইয়াতীমদের প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখবে, যে পর্যন্ত না তারা বালিগ হয়। যদি তাদের মধ্যে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ আঁচ করতে পার, তবে তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পন করতে পার। এতীমের মাল প্রয়োজনাতিরিক্ত খরচ করো না বা তারা বড় হয়ে যাবে মনে করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। স্বচ্ছল অভিভাবকরা অবশ্যই ইয়াতীমের মাল খরচ করা থেকে বিরত থাকবে। আর অভাবগ্রস্ত অভিভাবকরা ন্যায় সঙ্গত পরিমাণ খেতে পারে। যখন ইয়াতীমদের হাতে তাদের সম্পদ অর্পণ করবে, তখন সাক্ষী রাখবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি হিসাব নেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট। (পবিত্র সুরা নিসা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)

পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার উল্লিখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার শানে নুযূল সম্পর্কে বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ‘মুয়ালিমুত তানযীল” উনার মধ্যে উল্লেখ আছে যে-

اَلْاٰيَةُ نَزَلَتْ فِـىْ ثَابِتِ بْنِ رِفَاعَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَفِـىْ عَمِّهٖ وَذٰلِكَ اَنَّ رِفَاعَةَ تُوُفِّـىَ وَتَرَكَ اِبْنَه ثَابِتًا وَهُوَ صَغِيْرٌ فَجَاءَ عَمُّه اِلَى النَّبِـىِّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ اِنَّ اِبْنَ اَخِىْ يَتِيْمٌ فِـىْ حِجْرِىْ فَمَا يَـحِلُّ لِـىْ مِنْ مَّالِهٖ مَتٰى اَدْفَعُ اِلَيْهِ مَالَه؟ فَاَنْزَلَ اللهُ تَعَالٰى هٰذِهِ الْاٰيَةَ وَابْتَلُوا الْيَتَامٰى

অর্থ: উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে হযরত ছাবিত ইবনে রিফাআহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং উনার চাচার ব্যাপারে। আর নিশ্চয়ই হযরত রিফাআহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার ছেলে হযরত ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নাবালেগ অবস্থায় রেখে ইন্তিকাল করেন। অতঃপর উনার চাচা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, নিশ্চয়ই আমার ইয়াতীম ভাতিজা আমার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। কাজেই, আমার জন্য উনার সম্পদ থেকে কিছু গ্রহণ করা জায়িয হবে কি এবং আমি কখন উনার নিকট উনার সম্পদ হস্তান্তর করবো? এ পরিপ্রেক্ষিতেই মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করেন-

وَابْتَلُوا الْيَتَامٰى حَتّٰى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ اٰنَسْتُمْ مِّنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوْا إِلَيْهِمْ

অর্থ: আর ইয়াতীমদের প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখবে, যে পর্যন্ত না তারা বালিগ হয়। যদি তাদের মধ্যে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ আঁচ করতে পার, তবে তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পন করতে পার।

অতএব, উক্ত বর্ণনা থেকে প্রতিভাত যে, উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফখানা ইয়াতীমদেরকে তাদের সম্পদ অর্পণ ও সংরক্ষণ করার ব্যাপারে নাযিল বা অবতীর্ণ হয়েছে। পবিত্র আয়াত শরীফ ইয়াতীমদের বিবাহের বয়স নির্ধারণের জন্য অবতীর্ণ হয়নি। বরং ইয়াতীমরা কখন মাল-সম্পদ সংরক্ষণ করার যোগ্যতা হাছিল করবে এবং কখন তাদের মাল-সম্পদ তাদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে সে বিষয়টা ফয়সালা করার লক্ষ্যে পবিত্র আয়াত শরীফ নাজিল করা হয়েছে। অথচ উলামায়ে ‘সূ’ নাস্তিক, মুরতাদ, বাতিল ফিরক্বার লোকেরা অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা বিবাহের বয়স নির্ধারণের অপপ্রয়াস চালিয়ে থাকে।

মূলত উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার সঠিক তাফসীর বা ব্যাখ্যা হলো এখানে ইয়াতীমদেরকে সম্পদ অর্পনের ক্ষেত্রে কি শর্ত তা উল্লেখ করা হয়েছে।

১। শারীরিক শক্তি-সামর্থ যা পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বালিগ হওয়ার বয়সে উন্নীত হওয়াকে বুঝানো হয়েছে।

২। ভাল-মন্দ যাচাই করার ক্ষমতা যা পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বুদ্ধিমত্তা বা জ্ঞানের পরিপক্কতাকে বুঝানো হয়েছে।

কেননা কেউ যদি ইয়াতীমকে শারীরিক শক্তি-সামর্থ ও ভাল-মন্দ যাচাই করার জ্ঞান হাছিলের পূর্বে সম্পদ অর্পন করে অবশ্যই অপূর্ণতার কারণে তার মাল সম্পদ দূরীভুত হয়ে সে নিঃস্ব হয়ে যাবে। ইয়াতীমের ব্যাপারে এই শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যাতে মানুষ ইয়াতীমের মাল সম্পদ অর্পনের ক্ষেত্রে অবহেলা না করে। (তাফসীরে কুরতুবী)

উপরোক্ত দলীল ভিত্তিক আলোচনা দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ৬ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার কোথাও বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করা হয়নি এবং বাল্য বিবাহও নিষিদ্ধ করা হয়নি।

পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ২১ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা

وَكَيْفَ تَأْخُذُوْنَه وَقَدْ أَفْضٰى بَعْضُكُمْ إِلٰى بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنْكُمْ مِّيْثَاقًا غَلِيْظًا .

অর্থ: আর তা তোমরা কেমন করে গ্রহণ করতে পারো। কেননা তোমরা একে অন্যতে গমন করেছ আর তারা তোমাদের থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে?

পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ২১ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার কোথাও বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করার ও বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধ হওয়ার কোন কথাই উল্লেখ নেই। তাহলে তারা কি করে উক্ত আয়াত শরীফকে তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে দলীল হিসেবে পেশ করলো? মূলত এটা সম্পূর্ণই তাদের প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি। আর এ কারণেই তারা উক্ত ৪ খানা আয়াত শরীফ উনাদের অর্থ না করে শুধু সূরা শরীফের নাম ও আয়াত শরীফের নাম্বার উল্লেখ করেছে।

পবিত্র সূরা রূম শরীফ উনার ২১ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা

وَمِنْ اٰيَاتِهٖ اَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوْا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَّوَدَّةً وَّرَحْـمَةً ۚ اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُوْنَ

অর্থ: আর মহান আল্লাহ পাক উনার এক নিদর্শন হচ্ছেন যে তিনি তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন তোমাদের আহলিয়াদেরকে, যেন তোমরা তাদের দ্বারা এতমিনান বা স্বস্তি পেতে পার, আর তিনি তোমাদের পরস্পরের মধ্যে মুহব্বত ও রহমত সৃষ্টি করেছেন। নিঃসন্দেহে এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা চিন্তা করে।

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফে মূলত আহাল থেকে আহলিয়াকে সৃষ্টি করার বিষয়টি এবং দাম্পত্য জীবনের সুখ শান্তির বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেও বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করার ও বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধ হওয়ার কোন কথাই উল্লেখ নেই।

পবিত্র সূরা ফুরক্বান শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা

وَالَّذِيْنَ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَّاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ إِمَامًا

অর্থ: আর যারা বলে, আমাদের রব তায়ালা! আমাদের আহলিয়াদের ও সন্তান-সন্ততিদের দ্বারা চোখ জুড়ানো আনন্দ প্রদান করুন, আর আমাদের আপনি বানিয়ে দিন মুত্তাক্বীনদের ইমাম।

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফে আহলিয়া ও সন্তানদের জন্য দোয়া করার বিষয়টি শিক্ষা দেয়া হয়েছে। এখানেও বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করার ও বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধ হওয়ার কোন কথাই উল্লেখ নেই।

এবার আপনারাই বলুন উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফসমূহের কোথায় কোন অংশে বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করা হয়েছে? আর বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে?

মূলতঃ শুধু উল্লেখিত আয়াত শরীফ সমূহেই নয় বরং পবিত্র কুরআন শরীফ উনার কোথাও বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করা হয়নি ও বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়নি। বরং বাল্যবিবাহ জায়িয ও বৈধ হওয়ার কথাই পবিত্র কুরআন শরীফে উল্লেখ রয়েছে। যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র “সূরা নিসা শরীফ” উনার ৩নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَاِنْ خِفْتُمْ اَلَّا تُقْسِطُوْا فِى الْيَتَامٰى فَانْكِحُوْا مَا طَابَ لَكُمْ مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنٰى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ

অর্থ : “আর যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের হক্ব যথাযথভাবে পূরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্য থেকে যাদের ভালো লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারজন পর্যন্ত।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ নং ৩)

এখন জানতে হবে যে, ইয়াতীম কাকে বলে, ‘লিসানুল আরব’ অভিধানে ইয়াতীমের সংজ্ঞায় বর্ণিত আছে-

اَلْيَتِيْمُ اَلَّذِيْ يَـمُوْتُ اَبُوْهُ حَتّٰى يَبْلُغَ الْـحُلُمَ فَاِذَا بَلَغَ زَالَ عَنْهُ اِسْمُ الْيَتِيْمِ وَالْيَتِيْمَةُ مَا لَـمْ تَتَزَوَّجْ فَاِذَا تَزَوَّجَتْ زَالَ عَنْهَا اِسْمُ الْيَتِيْمَةِ.

অর্থ : “ইয়াতীম এমন সন্তানকে বলা হয়, যার পিতার ইন্তিকাল হয়েছে, বালিগ হওয়া অবধি সে ইয়াতীম হিসাবে গণ্য হবে, বালিগা হওয়ার পর সে আর ইয়াতীম হিসেবে গণ্য হবে না অর্থাৎ ইয়াতীম নামটি তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর মেয়ে সন্তান বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত ইয়াতীম বলে গণ্য হবে, বিয়ের পর তাকে আর ইয়াতীম বলা হবে না।” (লিসানুল আরব ১২/৬৪৫)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইয়াতীম প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে-

قَالَ حَضْرَتْ عَلِيُّ بْنُ اَبِـىْ طَالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَفِظْتُ عَنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‏ ‏لَا يُتْمَ بَعْدَ اِحْتِلَامٍ

অর্থ : “ইমামুল আউওয়াল মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে আমি পবিত্র হাদীছ শরীফ হিফয করে রেখেছি যে, বালিগা হওয়ার পর ইয়াতীম থাকে না।” (আবূ দাঊদ শরীফ ২৮৭৫, সুনানে কুবরা বায়হাক্বী ৬/৫৭ হাদীছ ১১৬৪২, মু’জামুল কবীর ত্ববারানী ৩৪২২, সুনানে ছগীর লি বায়হাকী ২০৪৯, শরহুস সুন্নাহ ৯/২০০, ফতহুল বারী ২/৩৪৬, উমদাতুল ক্বারী ২১/১০৭, কানযুল উম্মাল ৬০৪৬) এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদ উত্তম ও সকল রাবী ছিক্বাহ।

পবিত্র আয়াত শরীফে বর্ণিত “ইয়াতীম” ও তার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং লুগাত থেকে যা বোঝা গেলো, তা হচ্ছে-ইয়াতীম মেয়েদের বিবাহ করা যাবে। আর মেয়েদের মধ্যে ইয়াতীম হচ্ছে সেই সব মেয়ে যাদের পিতা মারা গেছে এবং যারা এখনো বালিগ হয়নি। অর্থাৎ অপ্রাপ্ত বয়স্কা।

এ প্রসঙ্গে একখানা ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ আছে যেখানে ইয়াতীমকে বিবাহ করা বিষয়টা উল্লেখ আছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ  اَلْيَتِيْمَةُ تُسْتَأْمَرُ فِىْ نَفْسِهَا فَاِنْ صَمَتَتْ فَهُوَ اِذْنُـهَا وَاِنْ اَبَتْ فَلَا جَوَازَ عَلَيْهَا.‏ قَالَ وَفِى الْبَابِ عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ مُوْسٰى رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَحَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَحَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ.‏ قَالَ اَبُوْ عِيْسٰى حَدِيْثُ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ حَدِيْثٌ حَسَنٌ

অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ইয়াতীম কুমারী থেকে তার বিবাহের ব্যাপারে সম্মতি গ্রহণ করতে হবে। যদি সে চুপ থাকে তবে তাই তার সম্মতি বলে গণ্য হবে। আর যদি অস্বীকার করে তবে তার উপর তা কার্যকারী হবে না। এই বিষয়ে হযরত আবূ মূসা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার, হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন আছ্ ছালিছাহ্ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকেও পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে। ইমাম হযরত আবূ ঈসা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হাসান।” (ছহীহ আবূ দাঊদ ১৮২৫, তিরমিযী শরীফ ১১০৯)

সুতরাং উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারাও প্রমাণিত হলো যে, ইয়াতীম মেয়েকেও বিবাহ করা যাবে, আর ইয়াতীম হচ্ছে তারা যাদের পিতা মারা গেছে এবং যারা এখনো বালিগ হয়নি। অর্থাৎ অপ্রাপ্ত বয়স্কা।

এ প্রসঙ্গে আরো একটি ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে-

وَقَالَ اَحْمَدُ وَاِسْحَاقُ اِذَا بَلَغَتِ الْيَتِيْمَةُ تِسْعَ سِنِيْنَ فَزُوِّجَتْ فَرَضِيَتْ فَالنِّكَاحُ جَائِزٌ وَلاَ خِيَارَ لَـهَا اِذَا اَدْرَكَتْ وَاحْتَجَّا بِـحَدِيْثِ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَنٰـى بِـهَا وَهِىَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِيْنَ

অর্থ : “হযরত ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও হযরত ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, ইয়াতীম কন্যার বয়স নয় (৯) বছর হলে যদি তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয় এবং সে এতে সম্মতি দান করে তবে এই বিয়ে জায়িয। সাবালিকা হওয়ার পর আর তার ইখতিয়ার (ইচ্ছা-স্বাধীনতা) থাকবে না। উনারা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ ছালিছাহ্ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বিষয়কে দলীল হিসাবে পেশ করেন যে, যখন উনার বয়স মুবারক নয় (৯) বছর হয়, তখন তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুজরা মুবারকে তাশরীফ গ্রহণ করেন।” (তিরযিমী শরীফ ৪র্থ খণ্ড ৪০৬ পৃষ্ঠা)

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

وَاللَّائِيْ يَـئِسْنَ مِنَ الْمَحِيْضِ مِنْ نِّسَائِكُمْ اِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُـهُنَّ ثَلَاثَةُ اَشْهُرٍ وَّاللَّائِىْ لَـمْ يَـحِضْنَ

অর্থ : “তোমাদের (তালাকপ্রাপ্তা) স্ত্রীদের মধ্যে যারা মাজুর হওয়ার কাল অতিক্রম করে গেছে, তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা যদি সংশয়ে থাক তাহলে তাদের ইদ্দতকাল হবে তিন মাস। এবং যারা এখনও বালিগা হওয়ার বয়সে পৌঁছেনি (নাবালিগা) তাদেরও একই হুকুম।” (পবিত্র সূরা ত্বলাক্ব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ নং ৪)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে উল্লেখ আছে-

سَاَلُوا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ اَرَاَيْتَ الَّتِيْ لَـمْ تَـحِضْ وَالَّتِيْ قَدْ يَـئِسَتْ مِنَ الْـمَحِيْضِ فَاخْتَلَفُوْا فِيْهِمَا فَاَنْزَلَ اللهُ تَعَالٰى

অর্থ : “হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ঐ সমস্ত মেয়েরা যারা এখনও বালিগা হওয়ার বয়সে পৌঁছেনি অর্থাৎ অপ্রাপ্ত বয়স্কা এবং ওই সমস্ত মহিলা যারা বালিগা হওয়ার কাল অতিক্রম করে গেছে, তাদের হুকুম কি?

তখন মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-

فَعِدَّتُـهُنَّ ثَلَاثَةُ اَشْهُرٍ وَّاللَّائِىْ لَـمْ يَـحِضْنَ

অর্থ : ওই সমস্ত স্ত্রী লোক যারা এখনো বালিগা হওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি তাদের ইদ্দত তিন মাস।” (তাফসীরে দুররুল মানছূর ১৪তম খণ্ড ৫৪৯ পৃষ্ঠা; তাফসীরে আব্দুর রজ্জাক ৩য় খণ্ড ৩১৮ পৃষ্ঠা)

পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ৩নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইয়াতীম ছেলে মেয়ের নিকাহ বা বিবাহের বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যার অর্থ হচ্ছে নাবালিগ নাবালিগা অর্থাৎ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অপ্রাপ্তা বয়স্কা ছেলে মেয়ের নিকাহ বা বিবাহ বৈধ। আর পবিত্র সূরা ত্বলাক্ব শরীফ উনার ৪নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে যেসকল মেয়েরা বালিগা হওয়ার বয়সে পৌঁছেনি সেসকল মেয়েদের নিকাহ বা বিয়ের বিষয়টি স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যার অর্থ হলো নাবালিগা বা অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়ের নিকাহ বা বিবাহ বৈধ।

অতএব, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার একাধিক পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের দ্বারাই অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই বাল্যবিবাহকে বৈধতা দান করেছেন।

কাজেই, যারা বলে যে, পবিত্র কুরআন শরীফে বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে এবং বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে তারা চরম মিথ্যাবাদী, ধোঁকাবাজ, প্রতারক ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অপব্যাখ্যাকারী অর্থাৎ তারা তাফসীর বির রায়কারী হিসেবে কুফরীকারক ও জাহান্নামী।

 

অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক- (২য় পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪৮

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৪)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৫)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০তম পর্ব)