পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ওতার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৭)

সংখ্যা: ২৭০তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৫তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আলহামদুলিল্লাহ।

 

খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

 

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরকী ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো “উলামায়ে সূ”। ইহুদীদের এজেন্ট উলামায়ে ‘সূ’রা হারাম টিভি চ্যানেল, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলছে। অর্থাৎ তাদের বক্তব্য হচ্ছে সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্য বাল্য বিবাহকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। তাই বাল্য বিবাহ করা বা দেয়া যাবে না। নাউযুবিল্লাহ!

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এসব বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং হবে। নাউযুবিল্লাহ!

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে বাল্যবিবাহকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। তাই বাল্যবিবাহ করা বা দেয়া যাবে না। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ বাল্য বিবাহ শুধু জায়িযই নয় বরং খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত। আর সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হালাল বা জায়িয বিষয়কে হারাম বা নাজায়িয বলা এবং হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

اِسْتِحْلَالُ الْـمَعْصِيَةِ كُفْرٌ.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমান উনাদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

উল্লেখ্য, বাল্যবিবাহ করতে বা দিতে হবে এরূপ বাধ্যবাধকতা সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে নেই। কারণ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শরীয়ত বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করে দেয়নি। তবে বাল্যবিবাহ যেহেতু সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে জায়িয ও সুন্নত তাই বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলা যাবে না। বললে কুফরী হবে, ঈমান নষ্ট হবে। নাউযুবিল্লাহ!

অনুরূপ উলামায়ে “সূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে প্রয়োজন থাকা স্বত্বেও বাল্যবিবাহ থেকে বিরত থাকবে তারা একটি খাছ সুন্নত পালন করা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অশ্লীল, অশালীন, অসামাজিক কাজে মশগুল হতে পারে। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ তারা তাদের ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ সকল বিষয়ে সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” প্রকাশ করা হলো।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই বাল্যবিবাহ করেছেন যা অসংখ্য পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাই অকাট্যভাবে প্রমাণিত

 

সম্মানিত শরীয়ত উনার দ্বিতীয় দলীল পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অনেক ছহীহ বা বিশুদ্ধ বর্ণনা দ্বারাও বাল্যবিবাহ শুধু জায়িয বা বৈধই প্রমাণিত হয় না বরং খাছ সুন্নত বলেও প্রমাণিত হয়। সুবহানাল্লাহ!

কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই পবিত্র বাল্যবিবাহ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যা ছিহাহ সিত্তাহসহ প্রায় সকল পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাবসমূহে উল্লেখ রয়েছে। যেমন-

আত ত্ববাক্বাতুল কুবরা ৮ম যিলদ ৫৯-৬১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

(৯০)

عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ تَزَوَّجَنِىْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَنَا بِنْتُ سِتِّ سِنِيْنَ وَاَدْخَلْتُ عَلَيْهِ وَاَنَا بِنْتُ تِسْعِ سِنِيْنَ  وَكُنْتُ اَلْعَبُ.

অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার পবিত্র আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয় আমার ৬ বছর বয়স মুবারকে। আর নয় বছর বয়স মুবারকে আমি উনার পবিত্র হুজরা শরীফে প্রবেশ করি। সে সময় আমি (খাদেমাদের সাথে) খুশি মুবারক প্রকাশ করছিলাম।” অর্থাৎ খুব ছোট ছিলাম।

(৯১)

عَنْ حَضْرَتْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنْ اَبِيْهِ اَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَزَوَّجَ اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتِ الصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَهِىَ اِبْنَةُ سِتِّ سِنِيْنَ … وَبَنٰـى بـِهَا وَهِىَ اِبْنَةُ تِسْعٍ.

অর্থ: “হযরত হিশাম ইবনে উরওয়াহ তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। নিশ্চয়ই নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে পবিত্র আক্বদ মুবারক করেন ছয় বছর বয়স মুবারকে ……. আর নয় বছর বয়স মুবারকে পবিত্র হুজরা শরীফে নিয়ে আসেন।”

(৯২)

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ عُبَيْدَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ تَزَوَّجَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةَ الصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَهِىَ بِنْتُ سِتِّ سِنِيْـنَ وَدَخَلَ بِـهَا وَهِىَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِيْنَ وَمَاتَ عَنْهَا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِىَ اِبْنَةُ ثَـمَانِـىْ عَشَرَةَ سَنَةً.

অর্থ: “হযরত আবূ উবাইদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে পবিত্র আক্বদ মুবারক করেন ছয় বছর বয়স মুবারকে। আর নয় বছর বয়স মুবারকে পবিত্র হুজরা শরীফ নিয়ে আসেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন তখন উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বয়স মুবারক ছিলেন আঠার বছর।”

(৯৩)

عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَزَوَّجَهَا وَهِىَ اِبْنَةُ سِتِّ سِنِيْنَ وَبَنٰـى بِـهَا وَهِىَ اِبْنَةُ تِسْعِ سِنِيْنَ وَكَانَتْ عِنْدَه تِسْعِ سِنِيْنَ

অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে ছয় বছর বয়স মুবারকে পবিত্র আক্বদ মুবারক করেন, আর নয় বছর বয়স মুবারকে পবিত্র হুজরা শরীফে তুলে নেন। উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি উনার পবিত্র খিদমত মুবারকে অবস্থান মুবারক করেন নয় বছর।”

(৯৪)

عَنْ حَضْرَتِ الزُّهْرِيِّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ مَلَّكَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُقْدَةً الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَهِيَ اِبْنَةُ سِتِّ سِنِيْنَ وَجَـمَّعَهَا وَهِيَ اِبْنَةُ تِسْعِ سِنِيْنَ وَتُوُفِّـىَ عَنْهَا وَهِيَ اِبْنَةُ ثَـمَانِـىْ عَشَرَةً

অর্থ: “হযরত যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ  ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে পবিত্র আক্বদ মুবারক করেন ছয় বছর বয়স মুবারকে। আর নয় বছর বয়স মুবারকে পবিত্র হুজরা শরীফে নিয়ে আসেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন তখন উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বয়স মুবারক ছিলেন আঠার বছর।”

(৯৫)

عَنْ حَضْرَتْ يَزِيْدَ بْنِ رُوْمَانَ عَنْ حَضْرَتْ  عُرْوَةَ عَنْ حَضْرَتْ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ كُنْتُ أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ عَلٰى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

অর্থ: “হযরত ইয়াযীদ ইবনে রুমান তিনি হযরত উরওয়া থেকে তিনি হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার আক্বদ মুবারক হওয়ার সময় আমি বালিকাদের সাথে খুশি প্রকাশ করতাম, অর্থাৎ তখন আমি খুব ছোট ছিলাম।”

(৯৬)

عَنْ حَضْرَتْ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ دَخَلَ عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا وَأَنَا أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ قَالَ مَا هٰذَا يَا صِدِّيْقَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَقُلْتُ خَيْلُ حَضْرَتْ سُلَيْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَضَحِكَ.

অর্থ: “হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার পবিত্র হুজরা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করলেন, তখন আমি বালিকাদের সাথে খুশি প্রকাশ করছিলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন এটা কি? আমি বললাম হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার ঘোড়া। একথা শুনে তিনি হাসি মুবারক দিলেন।”

এ পবিত্র হাদীছ শরীফও এটাই প্রমাণ করে যে, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম মুবারক অল্প বয়স মুবারকে হয়েছিলেন।

(৯৭)

عَنْ حَضْرَتْ إِبْرَاهِيْمَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتِ الْاَسْوَدِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ تَزَوَّجَ بِـيْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا اِبْنَةُ سِتِّ سِنِيْنَ وَبَنٰى بِيْ وَأَنَا اِبْنَةُ تِسْعِ سِنِيْنَ وَتُوُفِّـيَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا اِبْنَةُ ثَـمَانِـىْ عَشَرَةَ.

অর্থ: “হযরত ইবরাহীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আসওয়াদ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে তিনি হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমার বয়স মুবারক যখন ছয় বছর তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার পবিত্র আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয়। আমার নয় বছর বয়স মুবারকে উনার পবিত্র হুজরা শরীফে আমি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করি। আর আমার বয়স মুবারক যখন আঠারো বছর তখন তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।”

(৯৮)

عَنْ حَضْرَتِ الْقَاسِمِ بْنِ مُـحَمَّدٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ فُضِّلْتُ عَلٰى نِسَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَشْرٍ. قِيْلَ مَا هُنَّ يَا أُمَّ الْـمُؤْمِنِيْنَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ لَـمْ يَنْكِحْ بِكْرًا قَطُّ غَيْـرِىْ…….

অর্থ: “হযরত ক্বাসিম ইবনে মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, অন্যান্য উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের উপর আমার বিশেষ দশটি ফযীলত রয়েছেন। জিজ্ঞাসা করা হলো সেগুলো কি? তিনি বলেন, (তন্মধ্যে প্রথমটি হলো) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকে এত অল্প বয়স মুবারকে আক্বদ মুবারক ও নিসবাতুল আযীম মুবারক করেননি।” সুবহানাল্লাহ!

মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার ২৬৬তম সংখ্যা থেকে ২৭০তম সংখ্যায় প্রদত্ত ছিহাহ্ সিত্তাহ যেমন- বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ ও ইবনে মাজাহ শরীফসহ আরো অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফের কিতাবে যেমন মুসনাদে আহমদ শরীফ, ছহীহ ইবনু হিব্বান শরীফ, মুসনাদে আবূ দাউদ তায়ালাসী শরীফ, মুসনাদে আবী ইয়া’লা শরীফ, সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী শরীফ, ছহীহ আল মুস্তাদরাক লিক হাকীম শরীফ, ছহীহ আল মু’জামুল কবীর লিত ত্ববারানী শরীফ, ছহীহ আল মু’জামুল আওসাত লিত ত্ববারানী শরীফ, মুছান্নিফ ইবনে আবী শায়বা শরীফ, মুছান্নিফে আব্দুর রজ্জাক শরীফ, মুসনাদে ইবনে রাহওয়াইহী শরীফ, সুনানুদ দারিমী শরীফ, ত্ববাক্বাতুল কুবরা শরীফ উনাদের মধ্যে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য রাবীদের ছহীহ সনদে বর্ণিত অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই পবিত্র বাল্য বিবাহ মুবারক করেন। যা খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং পবিত্র বাল্য বিবাহ উনাকে অস্বীকার করার অর্থ হলো অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ ও পবিত্র সুন্নত মুবারক উনাদেরকে অস্বীকার করা, যা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

 

অসমাপ্ত-পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক- (২য় পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪৮

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৪)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৫)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০তম পর্ব)