পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৫৯তম পর্ব

সংখ্যা: ২২৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

 

 

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা) ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২০৩তম সংখ্যা) পেশ করা হয়েছে।

আর বর্তমানে ২৮তম ফতওয়াটি অর্থাৎ “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি” এখনো পত্রস্থ হচ্ছে। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “সূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نـمير فراى فى صفته تـماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله الـمصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী”  উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও পবিত্র ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে এবং ব্যাখ্যায়, তাফসীর গ্রন্থসমূহে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি প্রাণীর ছবি ইত্যাদি তৈরি করা, এদের পূজা করা এগুলোর ব্যবসা করা এবং যে কোন অবস্থায় এগুলোর অনুশীলন করাকে নিষেধ করা হয়েছে। এগুলো তৈরি করা হারাম, এগুলোর পূজা করা কুফরী শিরকী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতের বিপরীতে গাইরুল্লাহর ইবাদত করার শামিল।

লক্ষণীয় যে, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত تماثيل জাতীয় শব্দগুলো দ্বারা কোন কোন অবস্থায় সরাসরি প্রাণীর ছবি বুঝানো না হলেও প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এগুলোও একপ্রকার মূর্তি বা ভাস্কর্য। পূর্ব যামানা থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি তৈরি হয় পাথর, কাচ, তামা, লোহা, কাঠ, মাটি, স্বর্ণ, রৌপ্য ইত্যাদি উপকরণ দ্বারা। আর প্রাণীর ছবিগুলো তৈরি হয় কলমের কালি, তুলি ও আলো দ্বারা। এই কালি, তুলি ও আলো এগুলোও তো পাথর কাচ ও মাটির মতোই একেকটি উপকরণ। সুতরাং পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বর্ণিত تماثيل তামাছীল, শব্দ দ্বারা যদিও প্রাণীর ছবি সরাসরি নিষেধ হয় না। কিন্তু ব্যাখ্যা সাপেক্ষ্যে প্রাণীর ছবিগুলোও একপ্রকার মূর্তি হওয়ায় এগুলোর অনুশীলন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ভিত্তিতে হারাম, কুফরী ও শিরকী হিসেবে সাব্যস্ত। এটাই গ্রহণযোগ্য ফয়সালা।

নিম্নে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবি নিষেধ সম্পর্কিত আয়াত শরীফগুলো উল্লেখ করে বিশ্ববিখ্যাত সর্বজনমান্য পবিত্র তাফসীর শরীফ উনার কিতাব থেকে তার ছহীহ সমাধান তুলে ধরা হলো-

পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ

উনাদের তাফসীর

 

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর : ১০

(১০১৬)

وَاِذْ وَاعَدْنَا مُوسى اَرْبَعِيْنَ لَيْلَةً ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِن بَعْدِه وَاَنْتُمْ ظَالِمُوْنَ. ثُمَّ عَفَوْنَا عَنْكُم مّن بَعْدِ ذلِكَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ. وَاِذْ اتَيْنَا مُوْسَى الْكِتَابَ وَالْفُرْقَانَ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ. وَاِذْ قَالَ مُوْسى لِقَوْمِه يَا قَوْمِ اِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ اَنفُسَكُمْ بِاتِّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ فَتُوْبُوْا اِلى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُوْا اَنْفُسَكُمْ ذلِكُمْ خَيْر لَّكُمْ عِنْدَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ اِنَّه هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ. (سُوْرَةُ الْبَقَرَة ۵۱-۵۴ اَلْايَاتُ)

অর্থ : আর যখন আমি হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে ওয়াদা করেছি চল্লিশ রাত্রির, অতঃপর তোমরা গো-বৎস মূর্তিকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছ হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার অনুপস্থিতিতে। বস্তুত তোমরা ছিলে যালিম। এরপরও আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর অর্থাৎ তোমরা শোকরগুজার বান্দা হও। যখন আমি হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে পবিত্র কিতাব এবং সত্য মিথ্যার পার্থক্য বিধানকারী নির্দেশ মুবারক দান করেছি, যাতে তোমরা সরল পথ প্রাপ্ত হতে পার। আর যখন হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্প্রদায়কে বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! এই গো-বৎস মূর্তি নির্মাণ করে তোমরা তোমাদেরই ক্ষতি সাধন করেছ। কাজেই এখন স্বীয় রব উনার নিকট তওবা কর এবং নিজ নিজ প্রাণ বিসর্জন দাও। তোমাদের স্রষ্টা উনার নিকট এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণময়। তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হবেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল দয়ালু। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫১-৫৪)

অত্র আয়াত শরীফ উনাদের বিশদ তাফসীর অসংখ্য তাফসীরের কিতাব সমূহে বর্ণিত আছে। যাতে প্রাণীর ছবি, মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য ইত্যাদি তৈরী করা হারাম, কুফরী ও শিরক হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

নিম্নে তাফসীর উনার কিতাব থেকে কিন্তু ইবারত অর্থসহ তুলে ধরা হলো-

(১০১৭)

وانما قال (وَاِذْ وَاعَدْنَا مُوْسى) لان الله تعالى وعده الوحى ووعده هو المجيء للميقات الى الطور.وعدنا حيث كان بصري . لما دخل بنو اسرائيل مصر بعد هلاك فرعون ولم يكن لهم كتاب ينتهون اليه ، وعد الله تعالى موسى عليه السلام ان ينزل عليه التوراة وضرب له ميقاتاً ذا القعدة وعشر ذى الحجة ، وقال  (اَرْبَعِيْنَ لَيْلَةً) لان الشهور غررها بالليالى … (ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ) اى الها … (مِن بَعْدِه) من بعد ذهابه الى الطور، (وَأَنتُمْ ظَالِمُوْنَ) اى بوضعكم العبادة غير موضعها والجملة حال اى عبدتموه ظالمين. (ثُمَّ عَفَوْنَا عَنْكُمْ) محونا ذنوبكم عنكم . (مِن بَعْدِ ذلِكَ) من بعد اتخاذكم العجل . (لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ) لكى تشكروا النعمة فى العفو عنكم. (وَاِذْ اتيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَالْفُرْقَانَ) يعنى الجامع بين كونه كتابًا منزلًا وفرقانًا يفرق بين الحق والباطل وهو التوراة … او التوراة والبرهان الفارق بين الكفر والايمان من العصا واليد وغيرهما من الايات، او الشرع الفارق بين الحلال والحرام … (لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ) لكى تهتدوا. (وَاِذْ قَالَ مُوْسى لِقَوْمِه) للذين عبدوا العجل (يَاقَوْمِ اِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ اَنفُسَكُمْ بِاتّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ) معبودًا (فَتُوْبُوْا اِلى بَارِئِكُمْ) هو الذى خلق الخلق بريئًا من التفاوت … (فَاقْتُلُوْا اَنفُسَكُمْ) قيل : هو على الظاهر وهو البخع. وقيل : معناه قتل بعضهم بعضًا . وقيل : امر من لم يعبد العجل ان يقتلوا العبدة فقتل سبعون الفًا. (ذلِكُمْ) التوبة والقتل (خَيْر لَّكُمْ عِنْدَ بَارِئِكُمْ) من الاصرار على المعصية. (فَتَابَ عَلَيْكُمْ اِنَّه هُوَ التَّوَّابُ) المفضال بقبول التوبة وان كثرت (الرَّحِيْمُ) يعفو الحوبة وان كبرت. (مدارك التنزيل وحقائق التأويل”تفسير النسفى” سُوْرَةُ الْبَقَرَة ۵۱-۵۴ اَلْايَاتُ المؤلف: حضرت العلامة الامام ابو البركات عبد الله بن احمد بن محمود النسفى الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه المتوفى: ۷۱۰ هـجرى)

অর্থ : নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, (আর যখন আমি হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে ওয়াদা করেছি।) কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে ওহী মুবারক হাদিয়া করবেন বলে ওয়াদা করেছিলেন এবং এও ওয়াদা করেছিলেন যে, যাতে তিনি নির্দিষ্ট দিনের জন্য পবিত্র তূর পাহাড়ে গিয়ে অবস্থান করেন। যখন তিনি বছরা এলাকায় ছিলেন তখনই এই ওয়াদা করা হয়েছিল। ফিরআউন সম্প্রদায় ধ্বংস হওয়ার পর বনী ইসরাঈল উনারা মিশরে প্রবেশ করলেন, সে সময় উনাদের কাছে হিদায়াত বর্তিকা হিসেবে কোন আসমানী কিতাব ছিলনা। এজন্য মহান আল্লাহ তায়ালা রব্বুল আলামীন তিনি হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উপর পবিত্র তাওরাত শরীফ নাযিল করার জন্য ওয়াদা দিলেন। আর এ জন্য তিনি উনাকে পূর্ণ পবিত্র যুল্ কা’দাহ মাস ও পবিত্র যুল্ হিজ্জাহ মাস উনার প্রথম দশ দিন তূর পাহাড়ে অবস্থানের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দিলেন। এটাই তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, (চল্লিশ রাত্রির,) কেননা মাসগুলো দিনের সাথে রাত আবর্তনের মাধ্যমেই তো পূর্ণ হয়ে থাকে। (অতঃপর তোমরা গো-বৎস মূর্তিকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছো,) অর্থাৎ ইলাহ, মা’বূদ তথা সিজদার পাত্র তৈরি করে নিয়েছো (হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার অনুপস্থিতিতে।) অর্থাৎ হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মুবারক ওহী নিতে পবিত্র তূর পাহাড়ে যাওয়ার পর (বস্তুত তোমরা ছিলে যালিম।) অর্থাৎ তোমরা অনুপোযুক্ত উপাস্যের উপাসনা করে যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছো (এরপরও আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি।) অর্থাৎ গো-বৎস মূর্তিকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করার পরও আমি তোমাদের গুনাহসমূহ মুছে দিয়ে তোমাদেরকে পবিত্র করেছি (যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর অর্থাৎ তোমরা শোকরগুজার বান্দা হও।) অর্থাৎ যাতে তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করার ব্যাপারে তোমরা আমার নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় কর। (আর স্মরণ করুন! যখন আমি হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে পবিত্র কিতাব এবং সত্য মিথ্যার পার্থক্য বিধানকারী নির্দেশ মুবারক হাদিয়া করেছি,) অর্থাৎ আমি আসমানী পবিত্র কিতাব নাযিল করেছি ও ফুরকান, যা হক্ব ও বাত্বিলের মধ্যে পার্থক্যকারী। তা হচ্ছে পবিত্র তাওরাত শরীফ। অথবা পবিত্র তাওরাত শরীফ ও পবিত্র বুরহান শরীফ অবতীর্ণ করেছি, বুরহান শরীফ হলো- লাঠি মুবারক, হাত মুবারক ও মু’জিযা শরীফ উনার অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ঈমান ও কুফ্রের মধ্যে পার্থক্য সূচিত করা। অথবা হালাল ও হারাম উভয়ের মধ্যে পার্থক্য বিধানকারী শরীয়ত উনার কথা বলা হয়েছে। (যাতে তোমরা সরল পথ প্রাপ্ত হতে পার।) যাতে তোমরা হিদায়াতের পথে চলতে পার। (আর যখন হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্প্রদায়কে বললেন,) অর্থাৎ গো-বৎস মূর্তির উপাসনায় রত দলকে বললেন (হে আমার সম্প্রদায়! এই গো-বৎস প্রতিমা নির্মাণ করে তোমরা তোমাদেরই ক্ষতি সাধন করেছ।) মা’বূদ, ইলাহ বা সিজদাহ যোগ্য বানিয়ে নেয়ার কারণে (কাজেই এখন স্বীয় রব উনার নিকট তাওবাহ কর) তিনি এমন আল্লাহ তায়ালা যিনি সমস্ত সৃষ্টি জগৎকে সৃষ্টি করেছেন (এবং নিজ নিজ প্রাণ বিসর্জন দাও।) কেউ বলেন: প্রকাশ্য বর্ণনা মতে, নিজে নিজেকেই হত্যা কর। আবার কেউ বলেন: পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাৎপর্য হলো- তারা যেন একে অপরকে হত্যা করে। কারো মতে: যাঁরা গো-বৎস মূর্তির উপাসনা করেননি উনাদেরকে নির্দেশ মুবারক দেয়া হয়েছিল যে উনারা গো-বৎস মূর্তির উপাসনাকারীদেরকে হত্যা করবে, এতে উনারা সত্তর হাজার লোককে হত্যা করেছিলেন। (এটাই তোমাদের জন্য) তাওবা তথা পাপ থেকে ফিরে থাকার অঙ্গীকার ও নিজেকে হত্যা করা (তোমাদের স্রষ্টা উনার নিকট এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণময়।) বারবার গুনাহ করা থেকে এটাই তোমাদের জন্য উত্তম (তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হবেন। তিনি অতিশয়  তাওবাহ কবূলকারী।) অপরাধ যত বেশিই হোক তিনি তাওবাহ কবূল করে তোমাদেরকে সম্মানিত করবেন (ও মেহেরবান।) তিনি গুনাহ মুছে দিবেন তা যত বড়ই হোক। সুবহানাল্লাহ। (মাদারিকুত্ তানযীল ওয়া হাক্বায়িকুত্ তা’বীল ‘তাফসীরুন্ নাসাফী শরীফ’ পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ : ৫১-৫৪ মুয়াল্লিফ: হযরত আল্লামা ইমাম আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মাহমূদ নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৭১০ হিজরী)

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর : ১১

(১০১৮)

وَجَاوَزْنَا بِبَنِىْ اِسْرَائِيْلَ الْبَحْرَ فَاَتَوْا عَلى قَوْمٍ يَّعْكُفُوْنَ عَلى اَصْنَامٍ لَّهُمْ قَالُوْا يَا مُوْسَى اجْعَل لَّنَا اِلـهًا كَمَا لَهُمْ الِهَة قَالَ اِنَّكُمْ قَوْم تَجْهَلُوْنَ. اِنَّ هـؤُلَاءِ مُتَبَّر مَّا هُمْ فِيهِ وَبَاطِل مَّا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ. قَالَ اَغَيْرَ اللهِ اَبْغِيْكُمْ الـهًا وَهُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَى الْعَالَمِيْنَ. (سُوْرَةُ الْاَعْرَاف شريف ۱۳۸-۱۴۰ اَلْايَاتُ شريف)

অর্থ : আর যখন আমি বনী ইসরাঈলদিগকে সাগর পার করে দিয়েছি, তখন তারা এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট গিয়ে উপস্থিত হলো, যারা স্বহস্ত নির্মিত মূর্তি পূজায় নিয়োজিত ছিল। তারা (বনী ইসরাঈল) বললো, হে হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আমাদের জন্যও তাদের মূর্তির মতোই একটি মূর্তি তৈরি করে দিন। তিনি বললেন, তোমরা তো এক মূর্খ সম্প্রদায়। এরা যে কাজে নিয়োজিত রয়েছে তা ধ্বংস হবে এবং তারা যা কিছু করছে তা তো বাতিল-গোমরাহী। হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তাহলে কি মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ব্যতীত তোমাদের জন্য অন্য কোন উপাস্য অনুসন্ধান করবো? অথচ তিনিই তোমাদেরকে সারা বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। (পবিত্র সুরাতুল আ’রাফ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩৮-১৪০)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের বিশদ তাফসীর অসংখ্য তাফসীরের কিতাব সমূহে বর্ণিত আছে। যাতে প্রাণীর ছবি, মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য ইত্যাদি তৈরি করা হারাম, কুফরী ও শিরক হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

নিম্নে তাফসীর উনার কিতাব থেকে কিছু ইবারত অর্থসহ তুলে ধরা হলো-

(১০১৯)

قوله تعالى: (وَجَاوَزْنَا بِبَنِىْ اِسْرَائِيْلَ الْبَحْرَ) قال الكلبى رحمة الله عليه: عبر بهم موسى عليه السلام البحر يوم عاشوراء بعد مهلك فرعون وقومه فصامه شكرا لله عز وجل (فَاَتَوْا) فمروا (عَلى قَوْمٍ يَعْكُفُوْنَ عَلى اَصْنَامٍ) اوثان (لَهُمْ) يعبدونها من دون الله. قال ابن جريج رحمة الله عليه: كانت تماثيل بقر، وذلك اول شأن العجل. (قَالُوْا يَا مُوسَى اجْعَلْ لَنَا اِلهـًا) اى مثالا نعبده (كَمَا لَهُمْ الِهَة) ولم يكن ذلك شكا من بنى اسرائيل فى وحدانية الله، وانما معناه: اجعل لنا شيئا نعظمه ونتقرب بتعظيمه الى الله عز وجل وظنوا ان ذلك لا يضر الديانة وكان ذلك لشدة جهلهم. (قَالَ) موسى عليه السلام (اِنَّكُمْ قَوْم تَجْهَلُوْنَ) عظمة الله. (انَّ هؤُلاءِ مُتَبَّر) مهلك، (مَا هُمْ فِيْهِ) والتتبير الاهلاك، (وَبَاطِل مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ. قَالَ) يعنى موسى عليه السلام (اَغَيْرَ اللهِ اَبْغِيْكُمْ) اى: ابغى لكم واطلب، (اِلهـًا وَهُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَى الْعَالَمِيْنَ) اى: على عالـمي زمانكم. عن ابى واقد الليثى رضى الله عنه قال: خرجنا مع النبى صلى الله عليه وسلم قِبَلَ حنين، فمررنا بسدرة، فقلنا: يا رسول الله صلى الله عليه و سلم اجعل لنا ذات اَنواط كما كان للكفار ذات اَنواط، وكان الكفار ينوطون سلاحهم بسدرة يعكفون حولها، فقال النبى صلى الله عليه وسلم: الله اكبر، هذا كما قالت بنو اسرائيل لموسى عليه السلام “اجعل لنا الها كما لهم الـهة” انكم تركبون سنن من قبلكم. (معالم التنزيل “تفسير البغوى” سُوْرَةُ الْاَعْرَاف ۱۳۸-۱۴۰ اَلْايَاتُ المؤلف : محي السنة العلامة الامام ابو محمد الحسين بن مسعود البغوى الشافعى الاشعرى رحمة الله عليه المتوفى: ۵۱۰ هجرى)

অর্থ : (আর যখন আমি বনী ইসরাঈলদিগকে সাগর পার করে দিয়েছি,) হযরত কালবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: কাফির অত্যাচারী ফিরআউন ও তার দলবল ধ্বংস হবার পর হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র মুহররম উনার দশ তারিখ পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন সাগর পারি দিয়েছিলেন। এজন্য তিনি মহান আল্লাহ তায়ালা আযযা ওয়া জাল্লা উনার প্রতি শুকরিয়াস্বরূপ ওই দিন রোযা রেখেছিলেন (তখন তারা গিয়ে উপস্থিত হলো) অতিক্রম করল (এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট, যারা স্বহস্ত নির্মিত মূর্তি পূজায় নিয়োজিত ছিল।) তারা মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে ব্যতীত আওছান তথা প্রতিমার উপাসনা করতেছিল। হযরত ইবনু জুরাইজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: এটা ছিল একটা গরুর মূর্তি। যা ছিল একটি গরুর বাছুর। (তারা-বনী ইসরাঈলরা বললো, হে হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আমাদের জন্যও পূজনীয় মূর্তি তৈরি করে দিন) আমরা তাদের মতো তার উপাসনা করব (তাদের পূজনীয় মূর্তির মতোই।) বনী ইসরাঈলগণের অন্তরে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার তাওহীদ উনার প্রতি বিশ্বাসে কোন সন্দেহ ছাড়াই তারা এ উক্তি করেছিল। এর তাৎপর্য হলো- তারা বলেছিল আমাদেরকে ওরকম প্রতিমা তৈরি করে দিন আমরা তাকে সম্মান করব এবং তাকে সম্মান করার মাধমে মহান আল্লাহ তায়ালা আয্যা ওয়া জাল্লা উনার নৈকট্য অর্জন করবো। তারা ধারনা করেছিল যে, তাদের এই কর্ম তাদের দীনদারীর উপর কোনই খারাপ প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু তাদের এ ধারণা কঠিন অজ্ঞতার কারণেই জন্মেছিল। (তিনি বললেন,) হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন (তোমরা তো এক মূর্খ সম্প্রদায়।) মহান আল্লাহ তায়ালা উনার মর্যাদা-মর্তবা উপলব্ধির ব্যাপারে (নিশ্চয়ই এগুলো ধ্বংস হবে) হালাক হবে (এরা যে কাজে নিয়োজিত রয়েছে তা ধ্বংস হবে) এগুলো হালাকীতে নিপতীত হবেই (এবং তারা যা কিছু করছে তা তো বাতিল-গোমরাহী। তিনি বললেন,) অর্থাৎ হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, (তাহলে কি মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ব্যতীত তোমাদের জন্য অনুসন্ধান করব?) আমি কি তোমাদের জন্য তলব করব? (অন্য কোন উপাস্য? অথচ তিনিই তোমাদেরকে সারা বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।) অর্থাৎ তোমাদের যুগে তোমাদেরকে সকলের উপর মর্যাদাশালী করেছেন। বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবূ ওয়াক্বিদ আল-লাইছী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন: সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে আমরা একদা হুনাইন অভিমুখে রওয়ানা দিলাম। আমরা একটি কুলগাছের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। আমরা আরয করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কাফিরদের ঝুলন্ত প্রতীকের মতো আমাদেরকেও ঝুলন্ত প্রতীক দিন। কাফিররা তাদের তরবারি গুলোকে কুলগাছে ঝুলিয়ে রেখে তাকে প্রদক্ষিণ করত। জাওয়াবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন: আল্লাহু আকবার ‘আল্লাহ তায়ালা তিনি মহান’। আপনারা যা বলছেন, তাতো দেখছি বনী ইসরাঈলগণ হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে যা বলছিলো তার মতোই! তারা বলেছিল “হে হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আমাদের জন্যও তাদের মূর্তির মতোই একটি মূর্তি তৈরি করে দিন।” হে আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম আপনারা কি পূর্ব জাতির অগ্রহণযোগ্য রীতি-নীতি গ্রহণ করতে চান! যা কখনই গ্রহণ করা হবে না। (মায়ালিমুত্ তানযীল ‘তাফসীরুল বাগবী’ পবিত্র সূরাতুল আ’রাফ : ১৩৮-১৪০ মুয়াল্লিফ: মুহ্ইস্ সুন্নাহ আল্লামা ইমাম আবূ মুহাম্মদ হুসাইন বিন মাসঊদ বাগবী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৫১০ হিজরী)

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর : ১২

(১০২০)

وَاتَّخَذَ قَوْمُ مُوْسى مِن بَعْدِه مِنْ حُلِيِّهِمْ عِجْلاً جَسَدًا لَّه خُوَار اَلَمْ يَرَوْا اَنَّه لَا يُكَلّمُهُمْ وَلَا يَهْدِيْهِمْ سَبِيْلًا اتَّخَذُوْهُ وَكَانُوْا ظَالِمِيْنَ. وَلَمَّا سُقِطَ فِىْ اَيْدِيْهِمْ وَرَاَوْا اَنَّهُمْ قَدْ ضَلُّوْا قَالُوْا لَئِن لَّمْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ. وَلَمَّا رَجَعَ مُوْسى اِلى قَوْمِه غَضْبَانَ اَسِفًا قَالَ بِئْسَمَا خَلَفْتُمُوْنِىْ مِن بَعْدِى اَعَجِلْتُمْ اَمْرَ رَبّكُمْ وَاَلْقَى الاَلْوَاحَ وَاَخَذَ بِرَاْسِ اَخِيْهِ يَجُرُّه اِلَيْهِ قَالَ ابْنَ اُمَّ اِنَّ الْقَوْمَ اسْتَضْعَفُوْنِىْ وَكَادُوْا يَقْتُلُوْنَنِىْ فَلَا تُشْمِتْ بِىَ الاَعْدَاء وَلَا تَجْعَلْنِىْ مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِيْنَ. قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِى وَلاَخِىْ وَاَدْخِلْنَا فِىْ رَحْمَتِكَ وَاَنْتَ اَرْحَمُ الرَّاحِمِيْنَ. اِنَّ الَّذِيْنَ اتَّخَذُوْا الْعِجْلَ سَيَنَالُهُمْ غَضَب مّن رَّبّهِمْ وَذِلَّة فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَكَذلِكَ نَجْزِى الْمُفْتَرِيْنَ. وَالَّذِيْنَ عَمِلُوْا السَّيّئَاتِ ثُمَّ تَابُوْا مِن بَعْدِهَا وامَنُوْا اِنَّ رَبَّكَ مِن بَعْدِهَا لَغَفُور رَّحِيم. وَلَمَّا سَكَتَ عَن مُّوْسَى الْغَضَبُ اَخَذَ الأَلْوَاحَ وَفِىْ نُسْخَتِهَا هُدًى وَرَحْمَة لّلَّذِيْنَ هُمْ لِرَبّهِمْ يَرْهَبُوْنَ. (سورة الاعراف شريف ۱۴۸-۱۵۴ الايات شريف)

অর্থ : হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্প্রদায় উনার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলঙ্কারাদি দ্বারা একটি গরুর বাছুর মূর্তি বানিয়ে নিল, তা থেকে হাম্বা হাম্বা শব্দ বেরুচ্ছিল। তারা কি একথাও লক্ষ্য করল না যে, সেটি তাদের সাথে কথা বলছে না এবং তাদেরকে কোন পথও বাতলে দিচ্ছে না। তারা সেটিকে উপাস্য বানিয়ে নিল। মূলত তারা ছিল যালিম। অতঃপর যখন তারা অনুতপ্ত হলো এবং বুঝতে পারলো যে, আমরা নিশ্চয়ই গোমরাহ হয়ে পড়েছি, তখন বলতে লাগলো আমাদের প্রতি যদি আমাদের পালনকর্তা অনুগ্রহ না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো। যখন হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে এসে রাগান্বিত ও চিন্তিত হলেন, তখন বললেন, আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার কি নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্বই না করেছ। তোমরা তোমাদের রব উনার আদেশ মুবারক উনার পূর্বে কি তাড়াহুড়া করলে? তিনি পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার তখতাগুলো রেখে দিলেন এবং নিজের ভাই উনার মাথার চুল মুবারক ধরে নিজের দিকে টেনে নিলেন। হযরত হারূন আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে আমার আপন ভাই! এ লোকেরা তো আমাকে একা পেয়ে প্রায় শহীদ করেই ফেলেছিল। আপনি আমার সাথে এমন কিছু করবেন না যাতে শত্রুরা আনন্দিত হয় এবং আমাকে যালিমদের সারিতে গণ্য করবেন না। হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে হিফাযত করুন এবং আমার ভাই উনাকে হিফাযত করুন আর আমাদেরকে আপনার রহমতের মধ্যে দাখিল করে নিন। আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ মেহেরবান। যারা গো-বৎস মূর্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে, পার্থিব জীবনে তাদের উপর তাদের প্রতিপালক উনার গযব ও লাঞ্ছনা আপতিত হবেই। আর এভাবেই আমি অপবাদ আরোপকারীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি। আর যারা মন্দ কাজ করে অতঃপর তওবা করে নেয় এবং সম্মানিত ঈমান আনে, তবে নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক তওবার পর অবশ্য ক্ষমাকারী করুণাময়। তারপর যখন হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার জালালিয়ত নিবারণ হলো, তখন তিনি পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার তখতাগুলো তুলে নিলেন। আর তাতে যা কিছু লেখা ছিল, তা ছিল সে সকল লোকের জন্য পবিত্র হিদায়াত ও পবিত্র রহমত যারা নিজেদের প্রতিপালক উনাকে ভয় করে। (পবিত্র সূরাতুল আ’রাফ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪৮-১৫৪)

অত্র আয়াত শরীফ উনাদের বিশদ তাফসীর অসংখ্য তাফসীরের কিতাব সমূহে বর্ণিত আছে। যাতে প্রাণীর ছবি, মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য ইত্যাদি তৈরি করা হারাম, কুফরী ও শিরক হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

নিম্নে তাফসীর উনার কিতাব থেকে কিছু ইবারত অর্থসহ তুলে ধরা হলো-

(১০২১)

(واتخذ) صاغ (قَوْمُ موسى مِن بَعْدِه) من بعد انطلاق موسى عليه السلام الى الجبل (مِنْ حُلِيّهِمْ) من ذهبهم (عِجْلًا جَسَدًا) مجسدًا صغيرًا (لَّه خُوَار) صوت صاغ لهم السامرى (اَلَمْ يَرَوْا) الم يعلم قوم موسى عليه السلام (اَنَّه لَا يُكَلّمُهُمْ) يعنى العجل بشيء (وَلَا يَهْدِيهِمْ سَبِيلًا) طريقًا (اتخذوه) عبدوه بالجهل (وَكَانُوْا ظَالِمِيْنَ) صاروا ضارين لانفسهم بعبادتهم اِياه (وَلَمَّا سُقِطَ فى اَيْدِيْهِمْ) ندموا على عبادتهم العجل (وَرَاَوْا) علموا واَيقنوا (اَنَّهُمْ قَدْ ضَلُّوْا) عن الحق والهدى (قَالُوْا لَئِن لَّمْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا) فيعذبنا (لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الخَاسِرِيْنَ) بالعقوبة (وَلَمَّا رَجَعَ موسى الى قَوْمِه غَضْبَانَ اسِفًا) حزينًا حين سمع صوت الفتنة (قَالَ بِئْسَمَا خَلَفْتُمُوْنِىْ مِنْ بَعْدِىْ) بئس ما صنعتم بعبادة العجل من بعد انطلاقِى الى الجبل (اَعَجِلْتُمْ اَمْرَ رَبّكُمْ) اَسبقتم بعبادة العجل وعد ربكم (وَاَلْقَى الْاَلْوَاحَ) من يده فانكسر منها لوحان (وَاَخَذَ بِرَاْسِ اَخِيْهِ) اى بشعر هارون عليه السلام (يَجُرُّه اِلَيْهِ) الى نفسه (قَالَ) هارون عليه السلام (ابْنَ أُمّ) وقد كان اَخاه من اَبيه واُمه واِنما ذكر الاُم لكى يرفق به (اِنَّ الْقَوْمَ اسْتَضْعَفُوْنِىْ) استذلونيى (وَكَادُوْا يَقْتُلُوْنَنِىْ) بخلافهم اِياي (فَلَا تُشْمِتْ بِيَ الاَعْدَاءَ) فلا تفرح بِىَ الاَعداء اَصحاب العجل (وَلَا تَجْعَلْنِىْ مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِيْنَ) لا تعذبنى فى اصحاب العجل. (قَالَ) موسى عليه السلام (رَبّ اغفر لِىْ وَلِاَخِىْ وَاَدْخِلْنَا فِىْ رَحْمَتِكَ) فى جنتك (وَاَنْتَ اَرْحَمُ الرَّاحِمِيْنَ) بنا (اِنَّ الَّذِيْنَ اتَّخَذُوا) عبدوا (الْعِجْلَ) ومن اقتدى بهم (سَيَنَالُهُمْ) سيصيبهم (غَضَب) سخط (مّن رَّبّهِمْ وَذِلَّة) مذلة بالجزية (فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا و كذلك) هكذا (نَجْزِى الْمُفْتَرِيْنَ) الكاذبين على الله (وَالَّذِيْنَ عَمِلُوا السَّيّئَاتِ) فى الشرك بالله (ثُمَّ تَابُوْا مِن بَعْدِهَا) بعد الشرك ويقال بعد السيئات (وامنُوْا) وحدوا واقروا بالله (اِنَّ رَبَّكَ) يا موسى عليه السلام ويقال يا محمد صلى الله عليه و سلم (مِن بَعْدِهَا) من بعد التوبة والاِيمان (لَغَفُوْر) متجاوز (رَّحِيْم وَلَمَّا سَكَتَ) سكن (عَن مُّوْسَى الْغَضَبُ اَخَذَ الاَلْوَاحَ وَفِىْ نُسْخَتِهَا هُدًى) من الضلالة (ورَحْمَة) من العذاب (لّلَّذِيْنَ هُمْ لِرَبّهِمْ يَرْهَبُوْنَ) يخافون. (تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضى الله عنه المتوفى: ۶۸ هجرى سورة الاعراف ۱۴۸-۱۵۴ الايات جمعه العلامة حضرت محمد بن يعقوب الفيروز آبادى رحمة الله عليه المتوفى : ۸۱۷ هـجرى)

অর্থ : (তৈরি করে নিল) প্রস্তুত করল (হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্প্রদায় উনার অনুপস্থিতিতে) হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি তূর পাহাড়ে যাওয়ার পর (নিজেদের অলঙ্কারাদি দ্বারা) সোনার অলঙ্কার দ্বারা (একটি গরুর বাছুরের মূর্তি প্রতিমা,) ছোট আকৃতির একটি বাছুরের মূর্তি (তা থেকে হাম্বা হাম্বা শব্দ বেরুচ্ছিল।) বাছুরের মূর্তি তৈরিকারী ‘সামিরী’ ব্যক্তি সে এ আওয়াযটিই তাতে সংযুক্ত করেছিল (তারা কি একথাও লক্ষ্য করল না যে,) হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ক্বওম কি এটা উপলব্ধি করতে পারলনা যে (সেটি তাদের সাথে কথা বলছে না) অর্থাৎ গরুর বাছুর নামক মূর্তিটি কোন কথাই বলছে না (এবং তাদেরকে কোন পথও বাতলে দিচ্ছে না।) রাস্তা দেখিয়ে দিচ্ছেনা (তারা সেটিকে উপাস্য বানিয়ে নিল।) মূর্খতার কারণে তারা তার উপাসনা শুরু করে দিল (মূলত তারা ছিল যালিম।) তারা বাছুরের মূর্তির পূজা করার কারণে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল (অতঃপর যখন তারা অনুতপ্ত হলো) তারা লজ্জিত হয়ে যখন বাছুরের মূর্তির উপাসনা পরিত্যাগ করল (এবং বুঝতে পারলো যে,) জানল ও বিশ্বাস করল (নিশ্চয়ই এটা ছিল তাদের গোমরাহী,) হক্ব ও হিদায়াত থেকে (তখন বলতে লাগলো আমাদের প্রতি যদি আমাদের পালনকর্তা অনুগ্রহ না করেন এবং ক্ষমা না করেন,) তাহলে আমরা আযাবের উপযুক্ত হয়ে যাব (তবে অবশ্যই আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো।) শাস্তি প্রাপ্তির কারণে। (যখন হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে এসে অসন্তুষ্ট ও চিন্তিত হলেন,) মূর্তির কঠিন ফিতনার কথা শ্রবণ করে পেরেশান হলেন (তখন বললেন, আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার কি নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্বই না করেছ।) আমি পাহাড়ে যাওয়ার পর তোমরা বাছুরের মূর্তির পূজা করে আমার কতই না নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্ব করেছ! (তোমরা তোমাদের রব উনার আদেশ মুবারক উনার পূর্বে কি তাড়াহুড়া করলে?) তোমাদের রব উনার ওয়াদা পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই তোমরা কি বাছুরের পূজা শুরু করে দিলে? (তিনি পবিত্র তাওরাত উনার তখতাগুলো রেখে দিলেন) তিনি নিজ হাত মুবারক থেকে পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার তখতাগুলো রাখতে দুটি তখতা ভেঙ্গে গেল (এবং নিজের ভাই উনার মাথা মুবারক ধরে) অর্থাৎ হযরত হারূন আলাইহিস সালাম উনার মাথা মুবারক ধরে (নিজের দিকে টেনে নিলেন) নিজের কাছে (তিনি বললেন,) হযরত হারূন আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, (হে আমার আপন ভাই!) হযরত হারূন আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার আপন ভাই (এ লোকেরা তো আমাকে একা মনে করেছিল) তারা আমাকে গুরুত্ব দেয়নি (এবং প্রায় শহীদ করেই ফেলেছিল।) তাদেরকে বাধা দেয়ার কারণে (আপনি আমার সাথে এমন কিছু করবেন না যাতে শত্রুরা আনন্দিত হয়) আমার ব্যাপারে বাছুরের মূর্তি পূজারী শত্রুদেরকে খুশি হওয়ার সুযোগ দিবেন না (এবং আমাকে যালিমদের সারিতে গণ্য করবেন না।) বাছুর পূজারী শাস্তি যোগ্যদের মধ্যে আমাকে গণ্য করবেন না (তিনি বললেন,) হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, (হে আমার প্রতিপালক! আমাকে হিফাযত করুন এবং আমার ভাই উনাকে হিফাযত করুন আর আমাদেরকে আপনার রহমত উনার মধ্যে দাখিল করে নিন।) অর্থাৎ আপনার জান্নাতে দাখিল করুন (আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ মেহেরবান।) আমাদের প্রতি।  (যারা উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে) উপাসনা করেছে (গো-বৎস মূর্তিকে,) আর যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে (তারা নিপতিত হবে) অচিরেই তারা পতিত হবে (প্রতিপালক উনার পক্ষ থেকে গযবে) ক্রোধে (ও লাঞ্ছনায়) ফলস্বরূপ তারা অপমানের স্বীকার হবে (এই দুনিয়াবী জিন্দেগীতেই। আর এভাবেই) এরূপেই (আমি অপবাদ আরোপকারীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি) মহান আল্লাহ তায়ালা রব্বুল আলামীন উনার ব্যাপারে মিথ্যারোপকারীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি (আর যারা মন্দ কাজ করে) মহান আল্লাহ তায়ালা উনার সাথে শিরক করে (অতঃপর তওবা করে নেয়) শিরক করার পর এবং যে কোন গুনাহ করার পর খাছ তাওবাহ করে (এবং পবিত্র ঈমান আনে) মহান আল্লাহ তায়ালা উনার তাওহীদে বিশ্বাস করে এবং মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত পবিত্র বিধান পাঠ করে বা মান্য করে (তবে নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক) হে হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম, কারো মতে- হে হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, (তওবার পর) তাওবাহ করে পবিত্র ঈমান আনার পর বান্দাদের জন্য (তিনি অবশ্য ক্ষমাকারী করুণাময়। তারপর যখন নিবারণ হলো) স্বাভাবিক হলো (হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার গোস্বা, তখন তিনি পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার তখতাগুলো তুলে নিলেন। আর তাতে যা কিছু লেখা ছিল, তা ছিল পবিত্র হিদায়াত) গুমরাহী থেকে বাঁচার জন্য (ও পবিত্র রহমত) আযাব থেকে রক্ষার জন্য (সে সকল লোকদের জন্য যাঁরা নিজেদের প্রতিপালক উনাকে ভয় করে।) উনার ভীত সন্ত্রস্ত থাকে। (তানবীরুল্ মাকবাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ওফাত মুবারক: ৬৮ হিজরী পবিত্র সূরাতুল আ’রাফ : ১৪৮-১৫৪ পবিত্র আয়াত শরীফ সংকলক: হযরত আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইয়া’কূব ফিরোজাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৮১৭ হিজরী)

ভাষার তারতম্যসহ অনুরূপ ব্যাখ্যাসমূহ তাফসীরুল্ মাতুরীদী (তা’বীলাতু লিআহলিস্ সুন্নাহ), তাফসীরুত্ ত্ববারী, তাফরীরুল্ কুশাইরী, তাফরীরুল্ জীলানী, তাফসীরুল্ জালালাইন, আদ-দুররুল্ মানছূর, তাফসীরুল্ বাইযাবী, তাফরীরুল্ কুরতুবী, তাফসীরুল্ মাযহারী (তাফসীরুল পানীপথী), আত-তাফসীরুল্ কবীর (তাফসীরুর রাযী), তাফসীরে রূহুল্ মায়ানী (তাফসীরুল আলূসী), তাফসীরে রূহুল্ বয়ান (তাফসীরুল হাক্কী), তাফরীরুল্ খাযিন, তাফসীরুন্ নীসাবূরী, যাদুল্ মাসীর লিল্ জাওযী, তাফসীরুল্ মাজিদী লিদ্ দরিয়াবাদী ইত্যাদি তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।

উল্লিখিত পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ ও তাফসীরগ্রন্থ উনাদের তিনখানা ইবারত ও তার অনুবাদ থেকে যেসকল বিধান ও বিষয় প্রমাণিত হলো তা হচ্ছে-

১.গরুর বাছুরের প্রতিকৃতি বা মূর্তি তৈরি করা এবং তার থেকে হাম্বা হাম্বা শব্দ বের হওয়া দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, বর্তমানে ভিডিও, টিভি, সিনেমা ইত্যাদির মাধ্যমে প্রাণীর ছবি বিস্তারের পাশাপাশি আওয়াজ বের হওয়া ও শ্রবণ করা বনী ইসরাঈলের গরুর বাছুর মূর্তির পূজার শামিল; যা কুফরী ও শিরকী কাজ হিসেবে বিবেচিত।

২. পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের থেকে জানা যায় যে, দুনিয়ার শুরু থেকে সর্বযুগেই মূর্তি, প্রতিকৃতি, প্রাণীর ছবি ইত্যাদির পূজা করা হারাম কুফরী ও শিরকী ছিল। এ জন্য দেখা যায় যে, সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনারা এ কাজগুলো থেকে ফিরে থাকতে উনাদের জাতিকে নির্দেশ মুবারক করেছেন।

৩. মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, পুতুল, ম্যানিকিন, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি তৈরি করা এগুলোকে সম্মান দেখানো এগুলোর অনুশীলন করা জিহালতী বা মূর্খতাসূচক কাজ। মহান আল্লাহ তায়ালা রব্বুল আলামীন উনার দৃষ্টিতে এ সকল ব্যক্তি জাহিল বা মূর্খ হিসেবে বিবেচিত। যদিও সে ব্যক্তি দুনিয়াবী সমাজে নামধামের অধিকারী হোক।

৪. মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, পুতুল, ম্যানিকিন, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি তৈরি করা, এগুলোকে সম্মান দেখানো, এগুলোর অনুশীলন করা ইত্যাদি বাতিল বা গুমরাহীমূলক কাজ। এখানে বাতিল অর্থ শিরক, কুফর, নাফরমানী ও যাবতীয় গুনাহের কাজ। অর্থাৎ মূর্তি ও প্রাণীর ছবি জাতীয় কাজ গুলোর অনুশীলন করা একাধারে শিরক, কুফর, নাফরমানী ও মহাপাপের অন্তর্ভুক্ত।

৫. মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, পুতুল, ম্যানিকিন, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি তৈরি করা, এগুলোর পূজা করা, উপাসনা করা মূলত যালিমদেরই কাজ। এ কাজে যারা জড়িত তারা আসলেই মহা যালিম বা অত্যাচারী।

৬. হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার যামানায় মূর্তি পূজা করার শাস্তি ছিল খাছ তাওবাহ করার সঙ্গে নিজ জীবনকে বিসর্জন দেয়া। তাহলেই তাওবাহ কবূল হতো, অন্যথায় তাওবাহ কবূল হতো না। কিন্তু আমাদের সম্মানিত দ্বীন ইসলামী শরীয়ত জীবন বিসর্জন দেয়ার হুকুমটি রহিত হয়েছে। শুধু খাছ তাওবাহ করলেই মূর্তি পূজা জাতীয় কাজের অপরাধ এবং যাবতীয় নাফরমানী ক্ষমা হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ।

৭. ইলাহ বা উপাস্য তিনিই যিনি প্রার্থনা শোনেন, উপকার করেন, ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন, ইচ্ছা করলে নাফরমানকে শাস্তি দিতে পারেন, সৃষ্টি করেন, পথ প্রদর্শন করেন, খাদ্য ও পানীয় দান করেন, রোগাক্রান্তকে আরোগ্য দান করেন, মউত ঘটান, ইন্তিকালের পর কবরে জীবন দান করেন এবং তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করে থাকেন।

৮. কিন্তু মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন, পুতুল, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি উপাস্য হওয়ার, ঘরে আলমারিতে থাকার, সঙ্গে থাকার এবং সম্মান পাওয়ার কোনই যোগ্যতা রাখে না। কারণ এগুলো নিথর-নিস্তব্ধ, শক্তিহীন, অকেজো ও বাকশক্তিশূন্য। তাই এগুলোর পূজা করা, সম্মান করা, দেখা, ঘরে রাখা, দেখতে সাহায্য করা, এগুলো বিস্তারকারী যন্ত্র ঘরে রাখা, এগুলোর চর্চা করা ইত্যাদি সবই হারাম কুফরী শিরক ও বড় ধরনের নাফরমানী।

৯. মূর্তি পূজা করা, প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা, দেখা ইত্যাদি অনুশীলন করার অর্থই হলো মহান আল্লাহ তায়ালা উনার প্রতি অবিশ্বাস করা এবং উনার সাথে শরীক করা।

১০. মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন, পুতুল, প্রাণীর ছবি ইত্যাদির পূজা করা, সম্মান করা, দেখা, ঘরে রাখা, দেখতে সাহায্য করা, এগুলো বিস্তারকারী যন্ত্র যেমন টিভি ইত্যাদি ঘরে রাখা, এগুলোর চর্চা করা ইত্যাদি সবই হারাম কুফরী শিরক ও বড় ধরনের নাফরমানী। এগুলোর অনুশীলনকারী ব্যক্তি জাহান্নামী। ক্বিয়ামতের দিন এদের জন্য কোন সাহায্যকারী থাকবে না।

১১. মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন, পুতুল, প্রাণীর ছবি ইত্যাদির অনুশীলন করা হারাম, কুফরী ও শিরক। এগুলোকে সম্মান দেখানোর অর্থ হলো মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পরিবর্তে অন্য ইলাহ বা উপাস্যকে গ্রহণ করা। নাঊযুবিল্লাহ।

১২. কুফরী, শিরকী ও যত বড় গুনাহই হোক না কেন, যদি বান্দা তার থেকে খাছ তাওবাহ করে পবিত্র ঈমান ও আমলে ছালেহ উনাদের দিকে ফিরে আসে, তাহলে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি তাদের জীবনের সকল গুনাহ-খতা ক্ষমা করে দিয়ে নিষ্পাপ করে দেন এবং নেককার বান্দা-বান্দী হিসেবে কবূল করে নেন। সুবহানাল্লাহ।

এ জন্য সকল মু’মিন-মুসলমান জিন-ইনসান পুরুষ-মহিলা সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো এই যে, উল্লিখিত ও যাবতীয় হারাম, কুফর, শিরক ও নাফরমানীমূলক কাজ থেকে ফিরে এসে খাছ তাওবাহ করে পবিত্র ঈমান ও আমলে ছালেহ উনাদের দিকে ধাবিত হওয়া। আর মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দী মুবারক অর্জন করা। মহান আল্লাহ তায়ালা রব্বুল আলামীন তিনি সকলকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। (আমীন)

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৬

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২০