পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-২১)

সংখ্যা: ২৮৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৫তম ফতওয়া হিসেবে

“মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আলহামদুলিল্লাহ।

খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ সম্পর্কে উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকদের উত্থাপিত ও প্রচারিত মনগড়া, মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্যসমূহের দলীলভিত্তিক খণ্ডনমূলক জাওয়াব

মহাসম্মানিত শরীয়ত উনার চারখানা দলীল মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি বাল্য বিবাহের অনুমতি দিয়েছেন। স্বয়ং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে বাল্য বিবাহ করেছেন, করিয়েছেন ও সমর্থন করেছেন। মহাসম্মানিত হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম, তাবিয়ীন, তাবে তাবিয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অনেকেই বাল্য বিবাহ করেছেন ও করিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বাল্য বিবাহ জায়িয হওয়ার বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

অথচ এর পরও কতিপয় উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা খাছ সুন্নতী বাল্য বিবাহ সম্পর্কে চু চেরা, ক্বীল ও ক্বাল করে থাকে। নানান মনগড়া, বিভ্রান্তিকর আপত্তিসমূহ উত্থাপন করে থাকে। মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মনগড়া ব্যাখ্যা করে বাল্য বিবাহ সম্পর্কে মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্য পেশ ও প্রচার করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!

নিম্নে উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকদের উত্থাপিত ও প্রচারিত মনগড়া, মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্যসমূহ খণ্ডন করে দলীলভিত্তিক সঠিক জাওয়াব প্রদান করা হলো-

১০ নং আপত্তি ও তার জাওয়াব

উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা বলে থাকে যে, “আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার চেয়ে বয়সে ৫ বছরের বড় ছিলেন। আর হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৩৫ বছর। সে হিসেবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বয়স মুবারক ৪০ হওয়া কথা। আর উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবাতুল আযীম মুবারকের সময় উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক ১৪-১৫ বছর হওয়ার  কথা।” এ ব্যাপারে তারা ইবনে হাজার আসক্বালানীর ‘আল ইছাবা’ কিতাবের বরাত দিয়ে থাকে।

তাদের উক্ত বক্তব্যের জাওয়াবে প্রথমত বলতে হয় যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আক্বদ মুবারক ৬ বছর বয়স মুবারকে আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ ৯ বছর বয়স মুবারকে হয়েছে এ মতটিই ছহীহ, গ্রহণযোগ্য, দলীলভিত্তিক। কেননা অসংখ্য মহাপবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ এবং বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ সহ ছিহাহ সিত্তাহ এবং আরো অসংখ্য নির্ভরযোগ্য কিতাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারক কালীন বয়স মুবারক ৬ বছর আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফকালীন বয়স মুবারক ৯ বছর বলে উল্লেখ আছে, সেখানে এর বিপরীত কিছু ঐতিহাসিক তথ্য বা দূর্বল বর্ণনা দলীল হিসেবে পেশ করা জিহালতী বা গোমরাহীর অন্তর্ভূক্ত। মূলত তা শুধু জিহালতী বা গোমরাহীই নয় বরং সুস্পষ্ট কুফরীও বটে। কারণ এতে মহাপবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে অস্বীকার ও অবজ্ঞা করা হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র আক্বদ মুবারক ও মহাপবিত্র নিসবাতুল আযীম মুবারক কালীন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক সম্পর্কে অসংখ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। যেমন ছহীহ বুখারী শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْـقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّ النَّبِـىَّ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَـزَوَّجَهَا وَهِيَ بِنْتُ سِتِّ سِنِيْنَ وَاَدْخَلَتْ عَلَيْهِ وَهِيَ بِنْتُ تِسْعٍ وَّمَكَثَتْ عِنْدَهٗ تِسْعًا

অর্থ : “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ ছালিছাহ্ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম) উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয় যখন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর তিনি ৯ বছর বয়স মুবারকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন এবং ৯ বছর উনার সাথে অবস্থান মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ছহীহুল বুখারী কিতাবু বাদইল ওয়াহই বাবু ইনকাহির রজুলি ওয়ালাদাহুছ ছিগার)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَتْ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةُ الصِّدِّيْـقَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ تَـزَوَّجَنِىْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَنَا بِنْتُ سِتِّ سِنِيْنَ وَاَدْخَلْتُ عَلَيْهِ وَاَنَا بِنْتُ تِسْعِ سِنِيْنَ وَمَكَثْتُ عِنْدَهٗ تِسْعًا فَـهَلَكَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَنَا بِنْتُ ثَـمَانِىْ عَشَرَةً

অর্থ: হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয় যখন আমার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর আমি ৯ বছর বয়স মুবারকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করি। আর আমি উনার সাথে অবস্থান মুবারক করি ৯ বছর। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ করেন তখন আমার বয়স মুবারক ১৮ বছর।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল আওছাত লিত তাবারানী ৭ম জিলদ, ৯৪ পৃষ্ঠা)

কাজেই, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আক্বদ মুবারককালীন বয়স মুবারক উনার বিষয়টি যেহেতু সরাসরি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেই বর্ণিত রয়েছে, তাই এ বিষয়ে ঐতিহাসিক তথ্য বা কিছু দূর্বল বর্ণনা টেনে এনে ইখতিলাফ বা মতভেদ সৃষ্টি করার কোনোই সুযোগ নেই। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত বয়স মুবারক সম্পর্কিত উক্ত মতকে যদি কেউ প্রত্যাখ্যান করতে চায় তবে তাকে উল্লিখিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহের চেয়েও অধিক মজবুত ও অধিক সংখ্যক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দলীল হিসেবে পেশ করতে হবে।  কোনো ঐতিহাসিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ  অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। যদি কেউ তা করে তবে তা হবে সুস্পষ্ট কুফরী।

অতএব, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৪র্থ বছর পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার ৪ তারিখ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

আর আনুষ্ঠানিক রিসালত মুবারক প্রকাশের ১০ম বছর পবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয় তখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। সুবহানাল্লাহ!

একইভাবে ১ম হিজরীর পবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন তখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৯ বছর।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন ১১ হিজরী সনের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ছিলো ১৮ বছর অর্থাৎ তিনি ৯ বছর উনার সাথে অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

আর ৫৮ হিজরী সনের পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ লাইলাতুল আহাদ প্রায় ৬৭ বছর বয়স মুবারকে তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। এটাই সবচেয়ে ছহীহ নির্ভরযোগ্য ও দলীলভিত্তিক মত।

পক্ষান্তরে আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে মশহূর ও গ্রহণযোগ্য মত হচ্ছে আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী মান মুবারক প্রকাশ করেন আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের প্রায় ৩  বছর পূর্বে, পবিত্র ২০ জুমাদাল উখরা শরীফ। সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ সুবহি ছাদিকের সময়। তখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় ৩৭ বছর। উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (শাদী মুবারক) অনুষ্ঠিত হয়, ২য় হিজরী সনের পবিত্র ২রা যিলহজ্জ শরীফ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ ইছনাইনিল আযীম শরীফ। তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক প্রায় ১৭ বছর ৬ মাস।

আর তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন ১১ হিজরী শরীফ পবিত্র ৩রা রমাদ্বান শরীফ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বাদ আছর। তখন উনার দুনিয়াবী মহাসম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ২৬ বছর ২ মাস ১৩ দিন। এটাই সবচেয়ে ছহীহ মশহূর নির্ভরযোগ্য ও গ্রহনযোগ্য মত। সুবহানাল্লাহ!

এবার আসুন! সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি যদি আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক প্রকাশের ৪র্থ বছর মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যদি আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ৩ বছর পূর্বে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করে থাকেন, তবে উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারকের পার্থক্য ৫ বছর হয় কিভাবে? মূলত উনাদের বয়স মুবারকের পার্থক্য কম হলেও ৭ বছর।

তাছাড়া ইবনে হাজার আসক্বালানী উনার কিতাবে বর্ণিত বক্তব্য দ্বারা ৫ বছরের পার্থক্য অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় না। কারণ উক্ত কিতাবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সন তারিখ নিয়ে অনেক ইখতিলাফ বা মতভেদও উল্লেখ রয়েছে।

কাজেই একটি মতভেদযুক্ত বিষয়কে নিশ্চিত দলীল হিসেবে উল্লেখ করা চরম জিহালতি বৈ কিছুই নয়। তাছাড়া মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র আক্বদ মুবারককালীন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারকের বিষয়টি যেহেতু অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারাই অকাট্যভাবে প্রমাণিত, সেখানে একটি মতভেদযুক্ত ঐতিহাসিক তথ্যকে তার বিপরীতে দলীল হিসেবে পেশ করা চরম জিহালত ও কাট্টা কুফরী বৈ কিছুই নয়।

(অসমাপ্ত- পরববর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৩)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫৬

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৮তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১১ম পর্ব)