পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-২০)

সংখ্যা: ২৮৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৫তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আলহামদুলিল্লাহ।

খাছ সুন্নতী বাল্য বিবাহ সম্পর্কে উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকদের উত্থাপিত ও প্রচারিত মনগড়া, মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্যসমূহের দলীলভিত্তিক খ-নমূলক জাওয়াব

সম্মানিত শরীয়ত উনার চারখানা দলীল পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি বাল্য বিবাহের অনুমতি দিয়েছেন। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে বাল্য বিবাহ করেছেন, করিয়েছেন ও সমর্থন করেছেন। হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, তাবিয়ীন, তাবে তাবিয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অনেকেই বাল্য বিবাহ করেছেন ও করিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বাল্য বিবাহ জায়িয হওয়ার বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

অথচ এর পরও কতিপয় উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা খাছ সুন্নতী বাল্য বিবাহ সম্পর্কে চু চেরা, ক্বীল ও ক্বাল করে থাকে। নানান মনগড়া, বিভ্রান্তিকর আপত্তিসমূহ উত্থাপন করে থাকে। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মনগড়া ব্যাখ্যা করে বাল্য বিবাহ সম্পর্কে মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্য পেশ ও প্রচার করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!

নিম্নে উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকদের উত্থাপিত ও প্রচারিত মনগড়া, মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্যসমূহ খ-ন করে দলীলভিত্তিক সঠিক জাওয়াব প্রদান করা হলো-

৯ নং আপত্তি ও তার জাওয়াব

উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা বলে থাকে যে, “হাম্বলী মাযহাবের ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, “হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খাওলা নামক এক মহিলা ২টি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসেন। যার মধ্যে হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার কথা উল্লেখ করার সময় ‘একজন পূর্ণ বয়স্ক যুবতী হিসেবেই উল্লেখ করেন, কোনো ছোট্ট শিশু হিসেবে নয়।’

তাদের উক্ত বক্তব্যের জাওয়াবে প্রথমত বলতে হয় যে, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আক্বদ মুবারক ৬ বছর বয়স মুবারকে আর সম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফ ৯ বছর বয়স মুবারকে হয়েছে এ মতটিই ছহীহ, গ্রহণযোগ্য, দলীলভিত্তিক। কেননা অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ এবং বুখারী শরীফ, মুসলিম, শরীফ সহ ছিহাহ সিত্তাহ এবং আরো অসংখ্য নির্ভরযোগ্য কিতাবে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারককালীন বয়স মুবারক ৬ বছর আর নিসবাতুল আযীম শরীফকালীন বয়স মুবারক ৯ বছর বলে উল্লেখ আছে, সেখানে এর বিপরীত কিছু ঐতিহাসিক তথ্য বা দূর্বল বর্ণনা দলীল হিসেবে পেশ করা জিহালতী বা গোমরাহীর অন্তর্ভূক্ত। মূলত তা শুধু জিহালতী বা গোমরাহীই নয় বরং সুস্পষ্ট কুফরীও বটে। কারণ এতে পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে অস্বীকার ও অবজ্ঞা করা হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

কারণ উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারক ও নিসবাতুল আযীম মুবারককালীন বয়স মুবারক সম্পর্কে অসংখ্য পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। যেমন ছহীহ বুখারী শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّ النَّبِـىَّ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَزَوَّجَهَا وَهِيَ بِنْتُ سِتِّ سِنِيْنَ وَاَدْخَلَتْ عَلَيْهِ وَهِيَ بِنْتُ تِسْعٍ وَّمَكَثَتْ عِنْدَهٗ تِسْعًا.

অর্থ: “হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে (হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম) উনার আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয় যখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর তিনি ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন এবং ৯ বছর উনার সাথে অবস্থান মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ছহীহুল বুখারী কিতাবু বাদইল ওয়াহই বাবু ইনকাহির রজুলি ওয়ালাদাহুছ ছিগার)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَتْ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةُ الصِّدِّيْقَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ تَزَوَّجَنِىْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَنَا بِنْتُ سِتِّ سِنِيْنَ وَاَدْخَلْتُ عَلَيْهِ وَاَنَا بِنْتُ تِسْعِ سِنِيْنَ وَمَكَثْتُ عِنْدَهٗ تِسْعًا فَهَلَكَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَنَا بِنْتُ ثَـمَانِىْ عَشَرَةً.

অর্থ: হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয় যখন আমার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর আমি ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করি। আর আমি উনার সাথে অবস্থান মুবারক করি ৯ বছর। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ করেন তখন আমার বয়স মুবারক ১৮ বছর।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল আওছাত লিত তাবারানী ৭ম জিলদ, ৯৪ পৃষ্ঠা)

কাজেই, উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র আক্বদ মুবারককালীন বয়স মুবারক উনার বিষয়টি যেহেতু সরাসরি পবিত্র হাদীছ শরীফেই বর্ণিত রয়েছে, তাই এ বিষয়ে ঐতিহাসিক তথ্য বা কিছু দূর্বল বর্ণনা টেনে এনে ইখতিলাফ বা মতভেদ করার কোনোই সুযোগ নেই। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত বয়স মুবারক সম্পর্কিত উক্ত মতকে যদি কেউ প্রত্যাখ্যান করতে চায় তবে তাকে উল্লিখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ সমুহের চেয়েও অধিক মজবুত ও অধিক সংখ্যক পবিত্র হাদীছ শরীফ দলীল হিসেবে পেশ করতে হবে।  কোনো ঐতিহাসিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে পবিত্র হাদীছ শরীফ  অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। যদি কেউ তা করে তবে তা হবে সুস্পষ্ট কুফরী।

দ্বিতীয়ত বলতে হয় যে, উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা ‘মুসনাদে আহমাদ শরীফ’ উনার  বরাতে যা উল্লেখ করেছে তাও সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও জালিয়াতপূর্ণ। কারণ তারা উল্লেখ করেছে যে, ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে ‘পূর্ণ বয়স্ক যুবতী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ ‘মুসনাদে আহমাদ শরীফে’ বিষয়টি এভাবে উল্লেখ আছে যেমন-

لَـمَّا هَلَكَتْ حَضْرَتْ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلَـى الْكُبْـرٰى عَلَيْهَا السَّلَامُ جَائَتْ خَوْلَةُ بِنْتِ حَكِيْمٍ اِمْرَأَةُ عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُوْنَ قَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلَا تَزَوَّجُ قَالَ مَنْ قَالَتْ اِنْ شِئْتَ بِكْرًا اَوْ ثَيِّبًا قَالَ فَمَنِ الْبِكْرُ قَالَتْ اِبْنَةُ اَحَبُّ خَلْقِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ اِلَيْكَ حَضْرَتْ عَائِشَةُ بِنْتُ اَبِـىْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ

অর্থ: যখন উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন তখন হযরত উছমান ইবনে মাযউন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়া হযরত খাওলা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট তাশরীফ নিয়ে  বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি কি নিসবাতুল আযীম মুবারক করবেন না? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া  সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কার কথা  বলছেন? খাওলা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, আপনি চাইলে অল্প বয়স্ক কুমারী বালিকা অথবা পূর্ণ বয়স্ক বিবাহিতা বা অকুমারী করতে পারেন। জিজ্ঞাসা করা হলো অল্প বয়স্ক কুমারী বালিকা কার কথা বলছেন। তিনি বললেন, সৃষ্টিজগতে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার কন্যা হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি। …”

এখানে উল্লেখ্য যে, বাতিল ফিরক্বার লোকেরা উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত بِكْرًا শব্দের মনগড়া বানোয়াট অর্থ করেছে। তারা উক্ত بِكْرًا শব্দের অর্থ করেছে ‘পূর্ণবয়স্ক যুবতী’ অথচ আরবী অভিধানের কোথাও بِكْرًا শব্দের এরূপ অর্থ উল্লেখ নেই। বরং আরবী লুগাত বা অভিধানসমূহে بِكْرًا শব্দের অর্থ কুমারী বা অবিবাহিত বালিকা বলে উল্লেখ আছে।

তাছাড়া আরবী লুগাত বা অভিধানে بِكْرًا ও جَارِيَةً শব্দ দুটি সমার্থবোধক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ উক্ত শব্দ দুটি একই অর্থ প্রকাশ করে।

যেমন ছহীহ বুখারী শরীফে একটি বাব বা অধ্যায় এর নামকরণ করা হয়েছে এভাবে-

بَابٌ اِذَا حَـمِلَ جَارِيَةٌ صَغِيْرَةٌ عَلٰى عُنُقِهٖ فـِى الصَّلٰوةِ

অর্থাৎ, যখন নামাযের মধ্যে ছোট শিশু ঘাড়ের উপর উঠবে, সম্পর্কিত অধ্যায়।

আরো উল্লেখ আছে-

(جَارِيَةٌ) وَهِىَ الْاُنْثٰى دُوْنَ الْبُلُوْغِ

অর্থ: (জারিয়া) অপ্রাপ্তা বয়স্কা বালিকা।

(اَلْـجَوَارِىُ) جَـمْعُ جَارِيَةٍ وَهِىَ الْاُنْثَى الصَّغِيْرَةُ

অর্থ: (জাওয়ারী) যা ‘জারিয়াহ’ শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হচ্ছে শিশু কন্যা বা ছোট বালিকা।

(جَارِيَةٌ) اَىْ بِكْرًا

অর্থ: (জারিয়া) বা (বিকরান) এর অর্থ হচ্ছে কুমারী বা অবিবাহিতা।

(جَارِيَةٌ) وَهِىَ بِنْتُ الصَّغِيْرَةِ

অর্থ: (জারিয়াহ) অর্থাৎ ছোট মেয়ে।

(جَارِيَةٌ) حَدِيْثَةُ السِّنِّ

অর্থ: ‘জারিয়াহ’ অল্পবয়সী মেয়ে।

(جَارِيَةٌ) هِىَ الْـمَرْأَةُ الْـمَمْلُوْكَةُ الشَّابَّةُ هُنَا لَا الْاَمَةُ

অর্থ: (জারিয়াহ) এখানে ‘জারিয়া’ অর্থ হচ্ছে তরুনী বা যুবতী মেয়ে। বাঁদি উদ্দেশ্য নয়।

(جَارِيَةٌ) وَهِىَ الْمَرْأَةُ الْـمَمْلُوْكَةُ تُطْلَقُ عَلٰى بِنْتِ الصَّغِيْرَةِ

অর্থ: (জারিয়াহ) পরাধীন নারী বা দাসী। এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে ছোট মেয়ে।

উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে,

(جَارِيَةٌ) ‘জারিয়াহ’ শব্দটি আরবী এবং একবচন। এর বহুবচন (جَوَارِيْ) জাওয়ারী ও (جَارِيَاتٌ) জারিয়াত। শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যথা কন্যাশিশু, অল্পবয়সী কন্যা বা মেয়ে, তনয়া, দুহিতা, কুমারী বালিকা, তরুণী, বাঁদী, চাকরানী, নৌকা, জাহাজ, নৌযান ইত্যাদি।

কাজেই, ‘মুসনাদে আহমদে’ উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে পূর্ণ বয়স্ক যুবতী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।” বাতিল ফিরক্বার লোকদের এ দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রমাণিত হলো।

তাছাড়া সরাসরি পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتِ الزُّهْرِىِّ رَحْـمِةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ تَزَوَّجَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَضْرَتْ اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْنَ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ بَعْدَ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلَـى الْكُبْـرٰى عَلَيْهَا السَّلَامُ وَكَانَ قَدْ اُرٰى فِـى النَّوْمِ مَرَّتَيْنِ يُقَالُ هِىَ اِمْرَأَتُكَ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةُ الصِّدِّيْقَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ يَوْمَئِذٍ بِنْتُ سِتِّ سِنِيْنَ بِـمَكَّةَ ثُـمَّ اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَنٰى اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةَ الصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ بَعْدَ مَا قَدِمَ الْـمَدِيْنَةَ وَاُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةُ الصِّدِّيْقَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ يَوْمَ بَنٰى بِـهَا بِنْتَ تِسْعِ سِنِيْنَ.

অর্থ: হযরত হিশাম ইবনে উরওয়াহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পর (উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছছালিছাহ) হিসেবে হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে গ্রহণ করেন। তখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। উনাকে স্বপ্ন মুবারকে দুবার দেখানো হয় এবং বলা হয় ইনি আপনার সম্মানিত যাওজুম মুকাররামা। আর তা সংঘটিত হয় পবিত্র মক্কা শরীফে। আর উনার বয়স মুবারক যখন ৯ বছর তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ তাশরীফ মুবারক নেয়ার পর উনাকে নিজ হুজরা শরীফে নিয়ে আসেন। সুবহানাল্লাহ! (সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী, কিতাবুন নিকাহ,  বাবু তাসমিয়াতু আযওয়াযিন নাবিয়্যি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

عن حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ تَزَوَّجَنِىْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاِنِّـىْ لَاَلْعَبُ مَعَ الْـجِوَارِىْ فَمَا دَرَيْتُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَزَوَّجَنِىْ حَتّٰى اَخَذَتْنِىْ اُمِّىْ فَجَسَّتْنِىْ فِى الْبَيْتِ عَنِ الْـخُرُوْجِ فَوَقَعَ فِىْ نَفْسِىْ اَنِّـىْ تَزَوَّجْتُ فَمَا سَأَلْتُهَا حَتّٰى كَانَتْ أُمِّىْ هِىَ الَّتِىْ أَخْبَـرَتْنِىْ.

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার যখন পবিত্র আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয় তখন আমি আমার বান্ধবীদের সাথে খুশিতে মশগুল ছিলাম। অর্থাৎ খুব ছোট ছিলাম। তখন আমার আক্বদ মুবারক উনার বিষয়ে কোনো ধারণাই ছিল না। যখন আমার সম্মানিতা মাতা তিনি আমাকে বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে বাধা প্রদান করলেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, আমার পবিত্র আক্বদ মুবারক হয়েছে। তাছাড়া আমার সম্মানিতা মাতা তিনি আমাকে এ বিষয়ে খুব ভালভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে, আক্বদ মুবারক উনার সময় উনার বয়স মুবারক অল্প ছিল। কারণ যদি তিনি ঐ সময় পূর্ণ বয়স্কা যুবতীই থাকতেন। তবে উনাকে এ বিষয়ে বুঝানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না।

عَنْ حَضْرَتْ عَطِيَّةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا قَالَتْ خَطَبَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ بِنْتَ اَبِـىْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَهِىَ صَبِيَّةٌ.

অর্থ: হযরত আতিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার নিকট উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে প্রস্তাব দেয়া হয়, তখন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বালিকা ছিলেন।

এ হাদীছ শরীফে তো স্পষ্টভাবে صَبِيَّةٌ শব্দ উল্লেখ আছে। যার অর্থ হচ্ছে বালিকা।

عَنْ حَضْرَتِ الْقَاسِمِ بْنِ مُـحَمَّدٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ فُضِّلْتُ عَلٰى نِسَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَشْرٍ. قِيْلَ مَا هُنَّ يَا أُمَّ الْـمُؤْمِنِيْنَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ لَـمْ يَنْكِحْ بِكْرًا قَطُّ غَيْـرِىْ…….

অর্থ: “হযরত ক্বাসিম ইবনে মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, অন্যান্য উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের উপর আমার বিশেষ দশটি ফযীলত রয়েছেন। জিজ্ঞাসা করা হলো সেগুলো কি? তিনি বলেন, (তন্মধ্যে প্রথমটি হলো) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকে এত অল্প বয়স মুবারকে আক্বদ মুবারক ও নিসবাতুল আযীম মুবারক করেননি।” সুবহানাল্লাহ!

এ পবিত্র হাদীছ শরীফও প্রমাণ করে যে, بِكْرًا (বিকরান) শব্দের অর্থ কখনোই পূর্ণ বয়স্কা মহিলা বুঝায় না। কারণ এটা সকলেরই জানা যে, তিনি ব্যতীত সকল উম্মুল মু’মিনীন উনারা ছিলেন পূর্ণ বয়স্ক। আর এজন্য তিনি বলেছেন ‘আমি ব্যতীত অন্য কাউকে এত অল্প বয়সে নিসবাতুল আযীম করেননি।

অতএব প্রমাণিত হলো যে, উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার উক্ত বক্তব্যটি ভুল, মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও জিহালতপূর্ণ হয়েছে। যা সম্পূর্ণরূপেই পরিত্যাজ্য।

অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন।

 

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৩)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫৬

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৮তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১১ম পর্ব)