পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতেম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৩

সংখ্যা: ২৩২তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লী-যোয়াল্লীন উনার শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা) ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)  ২৭. ইসলামের নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করার পর-

 

৩২তম ফতওয়া হিসেবে

 

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”-

পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

 

সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব উনার উপর মউত পর্যন্ত ইস্তিক্বামত থাকা ফরয

 

পূর্ব প্রকাশিতের পর

 

পবিত্র তাফসীর শরীফ উনাদের নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে ‘আত-তাক্বলীদুশ্ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’ উনার সমর্থনে পবিত্র আয়াত শরীফ সমূহ উনাদের ছহীহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও আহকাম

পবিত্র কুরআন মাজীদ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দলীল-আদিল্লাহ মোতাবেক সম্মানিত ইসলামী শরীয়াত উনার যাবতীয় হুকুম-আহকাম মেনে চলার জন্য কারো অনুসরণ করাকে ‘আত-তাকলীদুশ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’ বলে। উনাকে ‘তাকলীদুল ইসলাম’, ‘তাকলীদুদ্ দীন’ ও ‘তাকলীদুদ্ দালায়িলিল আরবায়াহ’ অর্থাৎ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার চারখানা দলীল উনাদের অনুসরণও বলা হয়ে থাকে।

নি¤েœ পবিত্র তাফসীর শরীফ উনাদের নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে ‘আত-তাক্বলীদুশ্ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’ উনার সমর্থনে পবিত্র আয়াত শরীফ সমূহ উল্লেখ করে উনাদের ছহীহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও আহকাম বা বিধি-বিধান আলোচনা করা হলো-

(৩২৪)

{اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} والصراط المستقيم قال ابن عباس وجابر رضي الله عنهما: هو الإسلام وهو قول مقاتل. وقال ابن مسعود رضي الله عنه: هو القرآن أو روي عن علي رضي الله عنه مرفوعا “الصراط المستقيم كتاب الله” وقال سعيد بن جبير رضي الله عنه: طريق الجنة. وقال سهل بن عبد الله: طريق السنة والجماعة. وقال بكر بن عبد الله المزني: طريق رسول الله صلى الله عليه وسلم. وقال أبو العالية والحسن: رسول الله وآله وصاحباه.

(معالم التنزيل اى تفسير البغوى سورة الفاتحة رقم الاية المجيد ۵ المؤلف : محيي السنة علامة حضرت ابو محمد الحسين بن مسعود البغوي الشافعى رحمة الله عليه المتوفى: ۵۱۰ هجرى)

অর্থ: (আয় মহান আল্লাহ তায়ালা! আপনি আমাদেরকে সঠিক পথ দান করুন) الصراط المستقيم ‘সরল-সঠিক পথ’ উনার ব্যাখ্যায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনারা বলেন, তা হচ্ছে পবিত্র ইসলাম। অনুরূপ হযরত মুক্বাতিল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন, তা হচ্ছে পবিত্র কুরআন মাজীদ। অথবা হযরত আলী আলাইহিস্ সালাম উনার থেকে মারফূ’ সূত্রে বর্ণিত আছে যে, ‘সরল-সঠিক পথ’ হচ্ছে, পবিত্র কিতাবুল্লাহ তথা পবিত্র কুরআন মাজীদ। হযরত সাঈদ বিন জুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন, তা হচ্ছে জান্নাত উনার পথ। হযরত সাহ্ল বিন আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল্ জামায়াহ (তথা হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বালী মাযহাব চতুষ্ঠয়ের যে কোন একটির অনুসরণে আজীবন প্রতিষ্ঠিত থাকা) উনাদের পথ। হযরত বকর বিন আব্দুল্লাহ মাযিনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তা হচ্ছে নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ত্বরীকা বা সুন্নাত উনার পথ। হযরত আবুল্ আলিয়াহ ও হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহিমা উনারা বলেন, তা দ্বারা উদ্দেশ্য নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আল-আওলাদ আলাইহিমুস্ সালাম ও হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম ও হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম উনাদের মত-পথ। (মায়ালিমুত্ তানযীল অর্থাৎ তাফসীরুল্ বাগাবী সূরাতুল্ ফাতিহাহ্ শরীফ ৫ নম্বর আয়াত শরীফ লেখক: মুহইস সুন্নাহ আল্লামা হযরত আবূ মুহাম্মাদ হুসাঈন বিন মাসঊদ বাগাবী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত মুবারক: ৫১০ হিজরী)

(৩২৫)

{صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمْتَ عَلَيْهِمْ} همُ الأنبياءُ وأهلُ طاعةِ الله تعالى. (تفسير القرآن العظيم المنسوب للإمام الطبراني سورة الفاتحة رقم الاية المجيد ۶ المؤلف: العلامة المفسر المحدث أبو القاسم سليمان بن أحمد بن أيوب بن مطير اللخمي الشامي الطبراني رحمة الله عليه)

অর্থ: (এমন পথ যে পথের পথিক উনাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন) উনারা হলেন হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস্ সালাম এবং মহান আল্লাহ তায়ালা উনার অনুগত ব্যক্তিত্ব অর্থাৎ ইমাম, মুজতাহিদ, ওলীআল্লাহ ও নেককার-পরহেযগার রহমতুল্লাহি আলাইহিম। (তাফসীরুল কুরআনিল আযীম আল মানছূব লিল ইমাম ত্ববারানী, সূরাতুল ফাতিহা শরীফ ৬ নম্বর আয়াত শরীফ লেখক আল্লামা মুফাসসির, মুহাদ্দিছ আবুল ক্বাসিম সুলাইমান বিন আহমাদ বিন আইয়ূব বিন মুতীর লাখনী শামী ত্ববারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি)

উল্লেখিত ইবারত গুলো থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, ইমাম-মুজতাহিদ ও ওলীআল্লাহ উনাদের অনুসরণ করতে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি স্বয়ং নির্দেশ মুবারক করেছেন। আর ইহাই তো ‘আত-তাকলীদুশ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’। যাকে তাকলীদুল ইসলাম, তাকলীদুদ্ দীন, তাকলীদুল্ মাযাহিবিল আরবায়াহ ও তাকলীদুদ্ দালায়িলিল আরবায়াহ অর্থাৎ দীন ইসলাম উনার চারখানা দলীল উনাদের অনুসরণও বলা হয়ে থাকে। সুবহানাল্লাহ।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ২

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ. (سورة البقرة ۱۳ الاية)

অর্থ: যখন তাদেরকে বলা হয়- তোমরা পবিত্র ঈমান আনো, যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব (হযরত ছাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) উনারা ঈমান এনেছেন। তখন তারা বলে- আমরা কি নির্বোধদের মতো ঈমান আনবো? মনে রাখুন! প্রকৃতপক্ষে তারাই নির্বোধ, কিন্তু তারা তা বুঝে না। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

(৩২৬)

“وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاس” أَصْحَاب النَّبِيّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ “قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاء” الْجُهَّال أَيْ لَا نَفْعَل كَفِعْلِهِمْ قَالَ تَعَالَى رَدًّا عَلَيْهِمْ : “أَلَا إنَّهُمْ هُمْ السُّفَهَاء وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ” ذَلِك .(تفسير الجلالين سورة البقرة رقم الاية الكريمة ۱۳ المؤلف :العلامة جلال الدين محمد بن احمد المحلي رحمة الله عليه المتوفى سنة ৮৬৪ هجرى و الامام جلال الدين عبد الرحمن بن ابي بكر السيوطي الشافعى رحمة الله عليه المتوفى سنة ۹۱۱ هجرى)

অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়- তোমরা পবিত্র ঈমান আনো, যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব ঈমান এনেছেন) উনারা হলেন নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হযরত নাবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা। (তখন তারা বলে- আমরা কি নির্বোধদের মতো ঈমান আনবো?) জাহিল অর্থাৎ কাফির ও মুনাফিকরা বলতো, আমরা উনাদের মতো করবো না। মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের কথার প্রতিবাদে ইরশাদ মুবারক করেন (মনে রাখুন! প্রকৃতপক্ষে তারাই নির্বোধ, কিন্তু তারা তা বুঝে না।) পবিত্র ঈমান উনার হাক্বীক্বত সম্পর্কে তারা উপলব্ধি করে না। (তাফসীরুল্ জালালাঈন সূরাতুল্ বাক্বারাহ পবিত্র আয়াত শরীফ নাম্বার ১৩ লেখক: আল্লামা জালালুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ মাহাল্লী শাফিয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৮৬৪ হিজরী ও ইমাম হযরত জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আবূ বকর সুয়ূতী শাফিয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৯১১ হিজরী)

(৩২৭)

وَإِذا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَما آمَنَ النَّاسُ يعنى المهاجرين والأنصار رضى الله عنهم أو من أمن من اليهود كعبد الله بن سلام رضى الله عنه هذا من تمام النصح فان الاعراض عن الفساد والإتيان بشرائع الايمان كمال الإنسان. (التفسير المظهرى سورة البقرة رقم الاية الشريفة ۱۳ المؤلف: حضرت محمد ثناء الله العثماني المظهرى الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه المتوفى سنة ۱۲۲۶ هجرى)

অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়- তোমরা ঈমান আনো, যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব পবিত্র ঈমান এনেছেন) অর্থাৎ হিজরতকারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ও আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা ঈমান এনেছেন, অথবা হযরত আব্দুল্লাহ বিন সালাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও উনার সঙ্গে পবিত্র ঈমান আনয়নকারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের মত ঈমান আনো। এটা উপদেশের পূর্ণতা। কেননা, ফাসাদ থেকে ফিরে থেকে পবিত্র ঈমান উনার পথে আসা সত্যিকার মনুষত্বের পরিচয়। (আত্ তাফসীরুল্ মাযহারী সূরাতুল্ বাক্বারাহ ১৩ নম্বর আয়াত শরীফ লেখক: হযরত মুহাম্মাদ ছানাউল্লাহ উছমানী মাযহারী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফ মুবারক: ১২১৬ হিজরী)

(৩২৮)

(وَ اذَا قِيلَ لَهُمْ) لليهود (آمِنُواْ) بمحمد عليه الصلاة والسلام والقرآن (كَمَآ آمَنَ الناس) عبد الله بن سلام رضى الله عنه واصحابه رضى الله عنهم (قالوا أَنُؤْمِنُ) بمحمد عليه الصلاة والسلام والقرآن (كَمَآ آمَنَ السفهآء) الجهال الخرقى (الا انَّهُمْ) بلى إنهم (هُمُ السفهآء) الجهال الخرقى (ولكن لاَّ يَعْلَمُونَ) ذلك. (تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضى الله عنهما المتوفى سنة ৬৮ هجرى سورة البقرة رقم الاية الشريفة ۱۳ جمعه: حضرت العلامة محمد بن يعقوب الفيروز آبادى الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه المتوفى: ۸۱۷ هجرى)

অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়-) ইহুদীদেরকে (তোমরা পবিত্র ঈমান আনো,) নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ও পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার প্রতি (যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব উনারা ঈমান এনেছেন।) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও উনার সাথে ঈমান আনয়নকারী ছাহাবাহ কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম (তখন তারা বলে- আমরা কি ঈমান আনবো) নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ও পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার প্রতি (নির্বোধদের ঈমান আনার মতো?) জাহিলদের মতো (মনে রাখুন! প্রকৃতপক্ষে) বরং (তারাই নির্বোধ,) জাহিল বা মুর্খ (কিন্তু তারা তা বুঝে না।) পবিত্র ঈমান উনার হাক্বীক্বাত তারা উপলব্ধি করে না। (তানবীরুল্ মাক্বাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওফাত মুবারক ৬৮ হিজরী পবিত্র সূরাতুল্ বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বার ১৩ জমাকারী: হযরতুল আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফিরোজাবাদী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৮১৭ হিজরী)

(৩২৯)

(كما آمن الناس) يعني بِ “الناس”: المؤمنين الذين آمنوا بمحمد صلى الله عليه و سلم ونبوته وما جاء به من عند الله. (جامع البيان في تأويل القران اى تفسير الطبرى سورة البقرة رقم الاية الكريمة ۱۳ المؤلف : حضرت العلامة محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الآملي أبو جعفر الطبري رحمة الله عليه المتوفى سنة ۳۱۰ هجرى)

অর্থ: (যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব উনারা পবিত্র ঈমান এনেছেন) অর্থাৎ এখানে ‘আন্ নাস’ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছেন, এমন মু’মিনীন-মুসলিমীন উনারা যাঁরা নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি, উনার পবিত্র নুবুওওয়াহ-রিসালাত উনার প্রতি এবং তিনি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট থেকে যাকিছু নিয়ে এসেছেন উনাদের প্রতি পবিত্র ঈমান আনয়ন করেছেন। আর উনারাই তো হলেন হযরত ছাহাবাহ কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম। (জামিউল্ বায়ান ফী তা’বীলিল্ কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুত্ তাবারী পবিত্র সূরাতুল্ ফাতিহাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত কারীমাহ নম্বার ৫ লেখক: হযরতুল আল্লামা মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন জারীর বিন ইয়াযীদ বিন কাছীর বিন গালিব আমালী আবূ জা’ফর তাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৩১০ হিজরী)

(৩৩০)

 (وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ) للمنافقين: (آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ) أي كإيمان الناس بالله وملائكته وكتبه ورسله والبعث بعد الموت والجنَّة والنَّار وغير ذلك، مما أخبر المؤمنين به وعنه وأطيعوا الله ورسوله في امتثال الأوامر وترك الزواجر (قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ) يعنون لعنهم الله اصحابَ رسول الله صلى الله عليه وسلم رضي الله عنهم. (تفسير القران العظيم اى تفسير ابن كثير سورة البقرة رقم الاية الشريفة ۱۳ المؤلف: حضرت العلامة ابو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي الدمشقي الشافعى الاشعرى رحمة الله عليه الولادة سنة ۷۰۰الوفاة سنة ۷۷۴ هجرى)

অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়) মুনাফিকদেরকে (তোমরা ঈমান আনো, যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব পবিত্র ঈমান এনেছেন) ঐ সমস্ত ঈমানদার ব্যক্তিত্ব উনাদের মতো যাঁরা পবিত্র ঈমান এনেছেন এভাবে যে, আমরা পবিত্র ঈমান আনলাম মহান আল্লাহ তায়ালা উনার প্রতি, হযরত মালায়িকা আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের প্রতি, সমস্ত আসমানী কিতাব উনাদের প্রতি, সকল হযরত নাবী-রসূল আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাদের প্রতি, মাঊতের পর পুনরুত্থানের প্রতি, জান্নাত-জাহান্নাম সত্য তার প্রতি এবং অন্যান্য আক্বায়িদী মাসয়ালার প্রতি। যেমননিভাবে মু’মিন-মুসলামানদেরকে জানানো হয়েছে। তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ও উনার রসূল নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করো, উনাদের আদিষ্ট বিষয় সমূহ পালনের ব্যাপারে এবং নিষেধকৃত বিষয়গুলো পরিত্যাগ করার মাধ্যমে। (তখন তারা বলে- আমরা কি নির্বোধদের মতো ঈমান আনবো?) এর অর্থ হচ্ছে- তারা মুনাফিকরা এভাবে করে হযরত ছাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদেরকে অভিশাপ দিতে চায়। নাঊযু বিল্লাহ। (তাফসীরুল্ কুরআনিল্ আযীম অর্থাৎ তাফসীরে ইবনে কাছীর সূরাতুল্ বাক্বারাহ ১৩ নম্বর আয়াত শরীফ লেখক: হযরতুল্ আল্লামা আবুল্ ফিদা ইসমাঈল বিন উমর বিন কাছীর কুরাশী দামিশ্কী শাফিয়ী আশয়ারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি জন্ম মুবারক: ৭০০ হিজরী, ওফাত মুবারক: ৭৭৪ হিজরী)

(৩৩১)

“وَإِذا قِيلَ لَهُمْ” يعنى الـمنافقين فى قول مقاتل وغيره.”امِنُوا كَما آمَنَ النَّاسُ” اى صدقوا بمحمد صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وشرعه كما صدق الـمهاجرون والمحققون من اهل يثرب. (الجامع لاحكام القرآن اى تفسير القرطبي سورة البقرة رقم الاية المجيد ۱۳ المؤلف: علامة ابو عبد الله محمد بن احمد بن ابي بكر بن فرح الانصاري الخزرجي شمس الدين القرطبي رحمة الله عليه المتوفى سنة ۶۷۱ هجرى)

অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়) হযরত মুক্বাতিল রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও অপরাপর অনেকের মতে, যখন মুনাফিকদেরকে বলা হয় (তোমরা পবিত্র ঈমান আনো, যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব পবিত্র ঈমান এনেছেন) অর্থাৎ নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ও উনার আনীত সম্মানিত শারীয়াত উনার প্রতি তারা যেন বিশ্বাস স্থাপন করে। যেরকম পবিত্র ঈমান মক্কা-মাদীনাবাসী হযরত মুহাজিরীন-আনছার রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা এনেছিলেন। (আল্ জামিউ লিআহকামিল্ কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুল্ কুরতুবী সূরাতুল্ বাক্বারাহ ১৩ নম্বর আয়াত শরীফ লেখক: আল্লামা আবূ আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আবূ বকর বিন ফারাহ আনছারী খযরাজী শামসুদ্দীন কুরতুবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত মুবারক: ৬৭১ হিজরী)

(৩৩২)

وقال مقاتل رحمة الله عليه: نزلت هذه الآية في شأن المنافقين، وهكذا قال مجاهد رحمة الله عليه ومعناه: (وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ امِنُواْ) يعني صدِّقوا بقلوبكم كما صدَّق أصحاب محمد  صلى الله عليه وسلم و رضي عنهم (قَالُواْ أَنُؤْمِنُ) يعني المنافقين أنصدِّق كما صدق الجهال. قال الله تعالى (أَلا إِنَّهُمْ هُمُ السفهاء) يعني الجهّال بتركهم التصديق في السر، ولكن لا يعلمون أنهم جهال. (بحر العلوم اى تفسير السمرقندى سورة البقرة رقم الاية الكريمة ۱۳ المؤلف: الامام الفقيه المفسر ابو الليث نصر بن محمد بن أحمد بن إبراهيم السمرقندي الحنفى المتوفى سنة ۳۷۳ هجرى)

অর্থ: হযরত মুক্বাতিল রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: অত্র পবিত্র আয়াত শরীফখানা মুনাফিকদের হাক্বীক্বাত প্রকাশ করতে নাযিল হয়েছে। হযরত মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহিও অনুরূপ বলেছেন। (যখন তাদেরকে বলা হয় তোমরা পবিত্র ঈমান আনো) অর্থাৎ আছহার্বু রসূল রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা যেভাবে ঈমান এনেছেন, সেভাবে অন্তর দ্বারা ঈমান আনো। (তখন তারা বলে- আমরা কি ঈমান আনবো?) অর্থাৎ মুনাফিকরা বলে আমরা কি মুর্খদের মতো ঈমান আনবো? নাঊযু বিল্লাহ। তাদের এ উক্তির জাওয়াবে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি বলেন: (মনে রাখুন! প্রকৃতপক্ষে তারাই নির্বোধ) আন্তরিক বিশ্বাস তরক করার কারণে তারাই জাহিল বা মুর্খ। কিন্তু তারা যে নিজেরাই জাহিল তাও তারা বুঝে না। (বাহরুল্ উলূম অর্থাৎ তাফসীরুস্ সামারকান্দী সূরাতুল্ বাক্বারাহ ১৩ নম্বর আয়াত শরীফ লেখক: আল্লামা আবূ আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আবূ বকর বিন ফারাহ আনছারী খযরাজী শামসুদ্দীন কুরতুবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত মুবারক: ৩৭৩ হিজরী)

(৩৩৩-৩৩৪)

(وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ) أى للمنافقين وقيل لليهود (امِنُوا كَمَا امَنَ النَّاسُ) عبد الله بن سلام رضى الله عنه وغيره من مؤمني اهل الكتاب وقيل كما امن المهاجرون والأنصار رضى الله عنهم. (معالم التنزيل تفسير البغوى سورة البقرة رقم الاية الكريمة ۱۳ المؤلف: محيي السنة ابو محمد الحسين بن مسعود البغوي الشافعى رحمة الله عليه المتوفى سنة ۵۱۰ هجرى)

অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়) অর্থাৎ মুনাফিকদেরকে বলা হয়, কেউ বলেন এখানে ইহূদীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে (তোমরা ঈমান আনো, যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব পবিত্র ঈমান এনেছেন) যেমন আহলুল্ কিতাবদের মধ্য থেকে হযরত আব্দুল্লাহ বিন সালাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও উনার সঙ্গে পবিত্র ঈমান গ্রহণকারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা। কারো কারো মতে, হযরত মুহাজিরূন ও আনছার ছাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের মতো পবিত্র ঈমান গ্রহণ করো। (মায়ালিমুত্ তানযীল অর্থাৎ তাফসীরুল্ বাগবী সূরাতুল্ বাক্বারাহ ১৩ নম্বর আয়াত শরীফ লেখক: মুহ্ইস্ সুন্নাহ আবূ মুহাম্মাদ হুসাঈন বিন মাসঊদ বগবী শাফিয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত মুবারক: ৫১০ হিজরী, অনুরূপ তাফসীরুল্ খাযিনে আছে)

(৩৩৫-৩৩৬)

والمراد من الناس الرسول صلى الله عليه وسلم ومن معه من المؤمنين مطلقاً كما اخرجه ابن جرير رحمة الله عليه عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما. (روح المعاني في تفسير القرآن العظيم والسبع المثاني اى تفسير الالوسي سورة البقرة رقم الاية الكريمة ۱۳ المؤلف: العلامة السيد شهاب الدين محمود ابن عبد الله الحسيني الألوسي رحمة الله عليه المتوفى سنة ۱۲۷۰ هجرى)

অর্থ: পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ‘আন্ নাস’ দ্বারা মুতলাকান উদ্দেশ্য হচ্ছেন- নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার হযরত ছাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা। অর্থাৎ উনাদের প্রদর্শিত বিধান অনুযায়ী পবিত্র ঈমান এনে তা পরিশুদ্ধ রাখতে হবে। যেমনটি হযরত ইবনু জারীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার থেকে বর্ণনা করেছের। (রূহুল্ মায়ানী ফী তাফসীরিল্ কুরআনিল আযীম ওয়াস্ সাবয়িল মাছানী অর্থাৎ তাফসীরুল্ আলূসী সূরাতুল্ বাক্বারাহ ১৩ নম্বর আয়াত শরীফ লেখক: আল্লামা সাইয়্যিদ শিহাবুদ্দীন মাহমূদ বিন আব্দুল্লাহ হুসাইনী আলূসী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ১২৭০ হিজরী, অনুরূপ তাফসীরে রূহুল বয়ান কিতাবে উল্লেখ আছে)

বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর উনার ইবারত গুলো থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, হযরত ছাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা সত্যের মাপকাঠি। উনাদেরকে পবিত্র ঈমান ও আমলের ব্যাপারে অনুসরণ করা মূলত: মহান আল্লাহ তায়ালা ও উনার রসূল হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নির্দেশ মুবারক। চার মাযহাবের ইমামগণ উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ করতেন এবং উনাদের আলোকেই নিজ নিজ মাযহাবকে অকাট্য দলীলের মাধ্যমে ছাবিত করেছেন। এজন্য মাযহাবের অনুসরণ করার অর্থই হলো উনাদেরকে অনুসরণ করা। সুবহানাল্লাহ। আর ইহাই তো ‘আত-তাকলীদুশ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’। যাকে তাকলীদুল ইসলাম, তাকলীদুদ্ দীন, তাকলীদুল্ মাযাহিবিল আরবায়াহ ও তাকলীদুদ্ দালায়িলিল আরবায়াহ অর্থাৎ দীন ইসলাম উনার চারখানা দলীল উনাদের অনুসরণও বলা হয়ে থাকে। সুবহানাল্লাহ।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ৩

الَّذِىْ جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَاَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَاَخْرَجَ بِه مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لّكُمْ فَلَا تَجْعَلُوْا للهِ أَنْدَادًا وَاَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ. (سورة البقرة ۲۲ الاية الكريمة)

অর্থ: তিনিই পবিত্র সত্ত্বা, যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন। আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদরে খাদ্যের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন। অতএব, মহান আল্লাহ তায়ালা উনার সাথে অন্য কাকেও সমকক্ষ মনে করো না। আসলে তোমরা তা জানো। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ- ২২)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

(৩৩৭-৩৩৮)

کسانیکہ اطاعت ایشان بحکم خدا فرض است شش کروہ اند ازا نجملہ پیغنبر اند کہ اطاعت ایشاں در حقیقت اطاعت خداست زیر  انکہ اطلاع بر اوامر نواہی اور تعالے بدون اطاعت ایشاں صورت نمی بندد – اہ- وا زا نجملہ مجتہدین شریعت و شیوخ طریقت اند کہ حکم ایشاں بطریق واجب بخیر  نیز لازم التباع است برعوام امت زیرا نکہ فہم اسرار شریعت و دقائق طریقت ایاشاں را میسر است فاسئلوا اهل الذكر ان كنتم لاتعلمون. (تفسیر فتح العزیز سورۃ البقرۃ رقم الایۃ الکریمۃ ۲۲ ت مؤلف: حضرت شاہ عبد العزیز محدث دہلوی رحمۃ اللہ علیہ ۱۶۴ صفحۃ ، فتاوۓ صدیقیۃ مؤلف: علامۃ حضرت مولانا محمد نثار الدین احمد رحمۃ اللہ علیہ۱۹۵ صفحۃ )

অর্থাৎ: মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আদেশ মত ছয়টি সম্প্রদায়ের অনুসরণ করা ফরয। প্রথমত: হযরত নাবী ও রসূল আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস সালাম উনারা, উনাদের অনুসরণ মূলত: মহান আল্লাহ তায়ালা উনারই অনুসরণ। কেননা, হযরত নাবী ও রসূল আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাদের অনুসরণ না করলে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আদেশ ও নিষেধ জ্ঞাত হওয়া যায় না। দ্বিতীয়ত: শরীয়াতের মুজতাহিদ ও ত্বরীক্বতের শায়েখ উনারা। উনাদের অনুসরণ করাও সর্বসাধারনের জন্য ওয়াজিব বা ফরয। কেননা, শরীয়াতের জটিল রহস্য এবং মা’রিফাতের গভীর তত্ত্ব উনারা অবগত আছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি বলেন, ‘যদি তোমরা না জান, তাহলে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট জেনে নাও’। (তাফসীরে ফাতহুল আযীয সূরাতুল্ বাক্বারাহ ২২ নম্বর আয়াত শরীফ লেখক: হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১৬৪ পৃষ্ঠা, ফতোয়ায়ে ছিদ্দীকিয়া লেখক: আল্লামা হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ নিছারুদ্দীন আহমাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১৯৫ পৃষ্ঠা)

(৩৩৯-৩৪১)

و الجملۃ چوں عبادت مقتضاء ذات حضرت خالق است و فیز مقتضای ذات بندہ و نیز مقتضای انعام و احسان اوبر بندگان در  حکمت الہی از عبادت چارہ نباشد چوں عبادت موقوف بر امتثال اوامر است و اوامر الہی بر چہار طریق در یافت کتاب اللہ و سنت پیغمبران یا اجماع امت با قیاس جلی و اصل ہمہ این امور کتاب اللہ است پس از انزال کتاب ہم نا کریزاست۰  (تفسیر فتح العزیز سورۃ البقرۃ رقم الایۃ الکریمۃ ۲۲ ت مؤلف: حضرت شاہ عبد العزیز محدث دہلوی رحمۃ اللہ علیہ ۱۶۴ صفحۃ ، برہان المقلدین مؤلف: علامۃ حضرت مولانا محمد روح الامین بشیرہاٹی رحمۃ اللہ علیہ ۱۵۹ صفحۃ ، فتاوۓ صدیقیۃ مؤلف: علامۃ حضرت مولانا محمد نثار الدین احمد رحمۃ اللہ علیہ ۲۰۲ صفحۃ)

অর্থাৎ: আসল কথা হলো: বান্দাহ ইবাদত করে, ইহা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার বাঞ্চনীয় এবং খালিক্ব তায়ালা উনার দান, অবদান ও অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বান্দার ইবাদত ও উনার অভিষ্পিত। সব অবস্থায়ই মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইহসান স্বীকর করতে হবে। ইলাহী তায়ালা উনার আদেশ পালন করাই বান্দার কর্তব্য। মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আদেশ নিষেধ পালন করার চারটি পš’া আছে। যথা: পবিত্র কুরআন মাজীদ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ ক্বিয়াস। মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আদেশ জ্ঞাত হবার জন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ ক্বিয়াস মানতে হবে। কারণ, উক্ত বিবিধ প্রণালী বা পš’া পবিত্র কুরআন মাজীদ হতেই প্রমানিত। (তাফসীরে ফাতহুল আযীয সূরাতুল্ বাক্বারাহ ২২ নম্বর আয়াত শরীফ লেখক: হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, বোরহানুল মোকাল্লিদীন লেখক: আল্লামা হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ রূহুল আমীন বশীরহাটী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১৫৯ পৃষ্ঠা, ফতোয়ায়ে ছিদ্দীকিয়া লেখক: আল্লামা হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ নিছারুদ্দীন আহমাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ২০২ পৃষ্ঠা)

বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর উনার ইবারত থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, ইলমুশ শারীয়াত উনার মতো ইলমুত্ ত্বরীক্বত শিক্ষা করা ফরয। আর এজন্য ইজমাউল্ উম্মাহ ও ছহীহ ক্বিয়াস উনাদেরকে মেনে নেয়া এবং উনাদের মাসয়ালা অনুযায়ী আমল করা দায়িত্ব-কর্তব্য। কারণ পবিত্র কুরআন মাজীদ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ তথা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মতো ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ ক্বিয়াস উনাদেরকে মান্য করাও ফরয। কেননা, তা অকাট্য দলীল-আদিল্লার ভিত্তিতে প্রমাণিত আছে। ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ ক্বিয়াস উনাদেরকে মান্য করার অর্থই হচ্ছে মাযহাব মান্য করা অর্থাৎ চার মাযহাবের যে কোন একজন মহান ইমাম উনার তাকলীদ বা অনুসরণ করা। যা সকলের জন্য ফরয। ইহাই তো ‘আত-তাকলীদুশ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’। যাকে তাকলীদুল ইসলাম, তাকলীদুদ্ দীন, তাকলীদুল্ মাযাহিবিল আরবায়াহ ও তাকলীদুদ্ দালায়িলিল আরবায়াহ অর্থাৎ দীন ইসলাম উনার চারখানা দলীল উনাদের অনুসরণও বলা হয়ে থাকে। সুবহানাল্লাহ।

 

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩০