পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১২

সংখ্যা: ২৩১তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে æগবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র æমাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহরীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লিন-যোয়াল্লীন উনার শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা) ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)  ২৭. ইসলামের নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে æকুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করার পর-

৩২তম ফতওয়া হিসেবে

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”-

পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব উনার উপর মউত পর্যন্ত ইস্তিক্বামত থাকা ফরয

পূর্ব প্রকাশিতের পর

পবিত্র তাফসীর শরীফ উনাদের নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে ‘আত-তাক্বলীদুশ্ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’ উনার সমর্থনে পবিত্র আয়াত শরীফ সমূহ উনাদের ছহীহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও আহকাম

পবিত্র কুরআন মাজীদ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দলীল-আদিল্লাহ মোতাবেক সম্মানিত ইসলামী শরীয়াত উনার যাবতীয় হুকুম-আহকাম মেনে চলার জন্য কারো অনুসরণ করাকে ‘আত-তাকলীদুশ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’ বলে। উনাকে ‘তাকলীদুল ইসলাম’, ‘তাকলীদুদ্ দীন’ ও ‘তাকলীদুদ্ দালায়িলিল আরবায়াহ’ অর্থাৎ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার চারখানা দলীল উনাদের অনুসরণও বলা হয়ে থাকে।

নি¤েœ পবিত্র তাফসীর শরীফ উনাদের নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে ‘আত-তাক্বলীদুশ্ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’ উনার সমর্থনে পবিত্র আয়াত শরীফ সমূহ উল্লেখ করে উনাদের ছহীহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও আহকাম বা বিধি-বিধান আলোচনা করা হলো-

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ১

اهدنا الصراط الـمستقيم صراط الذين انعمت عليهم. (سورة الفاتحة رقم الاية ۶-۵)

অর্থ: æআয় মহান আল্লাহ তায়ালা! আপনি আমাদেরকে সঠিক পথ দান করুন। এমন পথ যে পথের পথিক উনাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন।” (পবিত্র সূরাতুল ফাতিহাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫-৬)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

(৩১৫)

{اهدنا الصراط المستقيم} أرشدنا للدين القائم الذي ترضاه وهو الإسلام، ويقال ثبتنا عليه ويقال هو كتاب الله يقول اهدنا إلى حلاله وحرامه وبيان ما فيه. (تنوير الـمقباس من تفسير ابن عباس رضى الله عنهما المتوفى سنة ۶۸ هجرى سورة الفاتحة رقم الاية الشريفة ۵ جمعه: حضرت العلامة محمد بن يعقوب الفيروز آبادى الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه المتوفى: ۸۱۷ هجرى)

অর্থ: (আয় মহান আল্লাহ তায়ালা! আপনি আমাদেরকে সঠিক পথ দান করুন।) আমাদেরকে আপনার পছন্দনীয় সরল-সঠিক পবিত্র দীন উনার দিকে পথ প্রদর্শণ করুন, আর তা হচ্ছে পবিত্র ইসলাম। বলা হয়, আপনি আমাদেরকে ওই পবিত্র দীন ইসলাম উনার উপর দৃঢ় রাখুন। আরো বলা হয় যে, মহান আল্লাহ তায়ালা উনার কিতাব হচ্ছে ‘আছ্ ছিরাতুল্ মুস্তাক্বীম’। তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার মধ্যে বর্ণিত হালাল ও হারাম এবং উনার মধ্যে যা কিছু আছে উনাদের বিধান মতো আমাদেরকে চলার সুযোগ করে দিন। (তানবীরুল্ মাক্বাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওফাত মুবারক ৬৮ হিজরী পবিত্র সূরাতুল্ ফাতিহাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর ৫ জমাকারী: হযরতুল আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফিরোজাবাদী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৮১৭ হিজরী)

(৩১৬)

قال أبو جعفر: أجمعت الأمة من أهل التأويل جميعًا على أن “الصراط المستقيم” هو الطريق الواضح الذي لا اعوجاج فيه. وكذلك ذلك في لغة جميع العرب. (جامع البيان في تأويل القران اى تفسير الطبرى سورة الفاتحة رقم الاية الكريمة ۵ المؤلف : حضرت العلامة محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الآملي أبو جعفر الطبري رحمة الله عليه المتوفى سنة ۳۱۰ هجرى)

অর্থ: ইমাম আবূ জা’ফর তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সমস্ত মুফাসসিরীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা একমত যে, الصراط الـمستقيم উনার অর্থ হলো- সেই সরল, সঠিক ও সুস্পষ্ট পথ, যার কোন অংশই বাঁকা নয়। সকল আরবী অভিধানেও শব্দ দু’টির অর্থ অনুরূপ। (জামিউল্ বায়ান ফী তা’বীলিল্ কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুত্ তাবারী)

পবিত্র সূরাতুল্ ফাতিহাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত কারীমাহ নম্বার ৫ লেখক: হযরতুল আল্লামা মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন জারীর বিন ইয়াযীদ বিন কাছীর বিন গালিব আমালী আবূ জা’ফর তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৩১০ হিজরী)

(৩১৭-৩১৮)

(صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ) إبانةٌ عن الصراط المستقيم أيُّ الصراط هو؟ إذْ كان كلّ طريق من طرُق الحق صراطًا مستقيمًا. فقيل لمحمد صلى الله عليه وسلم: قُلْ يا محمد: اهدنا يا ربنا الصراط المستقيم صراط الذين أنعمت عليهم بطاعتك وعبادتك من مَلائكتك وأنبيائك والصديقين والشهداء والصالحين. وذلك نظير ما قال ربنا جلّ ثناؤه في تنزيله: (وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا مَا يُوعَظُونَ بِهِ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتًا وَإِذًا لآتَيْنَاهُمْ مِنْ لَدُنَّا أَجْرًا عَظِيمًا وَلَهَدَيْنَاهُمْ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ) [سورة النساء: ۶۶-۶۹]. (جامع البيان في تأويل القران اى تفسير الطبرى سورة الفاتحة رقم الاية الكريمة ৬ المؤلف : حضرت العلامة محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الآملي أبو جعفر الطبري رحمة الله عليه المتوفى سنة ۳۱۰ هجرى)

অর্থ: (এমন পথ যে পথের পথিক উনাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন) ইহা মূলত: ‘আছ্ ছিরাতাল্ মুস্তাক্বীম’ উনারই ব্যাখ্যা। প্রত্যেক সঠিক পথই ‘আছ্ ছিরাতাল্ মুস্তাক্বীম’ উনার অন্তর্ভুক্ত। নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে: হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, আয় আল্লাহ তায়ালা! আমাদেরকে ছিরাতুল্ মুস্তক্বীম দান করুন, এমন পথ যে পথের পথিক উনাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন। অর্থাৎ হযরত নাবী-রসূল আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস্ সালাম, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস্ সালাম, হযরত ছিদ্দীক্বীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম, হযরত শুহাদা রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও ছালিহীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পথ। আলোচ্য পবিত্র আয়াত শরীফখানা নি¤েœাক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনারই সাদৃশ্য। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, æতাদেরকে যা করার জন্য উপদেশ দেয়া হয়েছিল যদি তারা তা করত তাহলে তাদের ভাল হত। এবং চিত্তস্থিরতায় তারা দৃঢ়তর হত। এবং আমি নিশ্চয় তখন তাদেরকে প্রদান করতাম আমার নিকট হতে মহাপুরুস্কার। এবং অবশ্যই আমি তখন তাদেরকে সহজ ও সরল পথে পরিচালিত করতাম। কেহ মহান আল্লাহ তায়ালা উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযরত রসূলুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করলে সে নাবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, ছাদিক্বীন, শুহাদা ও ছালিহীন যাঁদের প্রতি মহান আল্লাহ তায়ালা নিয়ামত দ্বারা ধন্য করেছেন উনাদের সঙ্গী হবে।” পবিত্র সূরাতুন্ নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৬। (জামিউল্ বায়ান ফী তা’বীলিল্ কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুত্ তাবারী পবিত্র সূরাতুল্ ফাতিহাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত কারীমাহ নম্বার ৬ লেখক: হযরতুল আল্লামা মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন জারীর বিন ইয়াযীদ বিন কাছীর বিন গালিব আমালী আবূ জা’ফর তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৩১০ হিজরী। অনুরূপ উল্লেখ রয়েছে এ তাফসীর গ্রন্থে- তাফসীরুল্ কুরআনিল্ আযীম অর্থাৎ তাফসীরে ইবনে কাছীর পবিত্র সূরাতুল্ ফাতিহাহ্ আয়াত শরীফ নম্মর-৫ লেখক: হযরতুল্ আল্লামা আবুল্ ফিদা ইসমাঈল বিন উমর বিন কাছীর কুরাশী দামিশ্কী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি জন্ম: ৭০০ হিজরী, ওফাত: ৭৭৪ হিজরী)

(৩১৯)

وبنحو ما قلنا فى ذلك رُوِى الخبر عن ابن عباس وغيره. حدثنا محمد بن العلاء، قال: حدثنا عثمان بن سعيد، قال: حدثنا بشر بن عُمَارة قال: حدثنا أبو رَوْق عن الضحاك عن ابن عباس: “صراطَ الذين أنعمت عليهم” يقول: طَريقَ من أنعمتَ عليهم بطاعتك وعبادتك من الـملائكة والنبيين والصديقين والشهداء والصالحين الذين أطاعوك وعبَدُوك. حدثني أحمد بن حازم الغفارى قال: أخبرنا عبيد الله بن موسى عن أبي جعفر عن ربيع: “صراط الذين أنعمتَ عليهم” قال: النبيّون. حدثني القاسم قال: حدثنا الحسين قال: حدثني حجاج عن ابن جريج قال: قال ابن عباس: “انعمت عليهم” قال: المؤمنين. حدثنا القاسم قال: حدثنا الحسين قال: قال وكيع: “انعمت عليهم” المسلمين. حدثني يونس بن عبد الأعلى قال أخبرنا ابن وهب قال: قال عبد الرحمن بن زيد في قول الله “صراط الذين أنعمت عليهم” قال: النبيّ صلى الله عليه وسلم ومن معه. (جامع البيان في تأويل القران اى تفسير الطبرى سورة الفاتحة رقم الاية الكريمة ۶ المؤلف : حضرت العلامة محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الآملي أبو جعفر الطبري رحمة الله عليه المتوفى سنة ۳۱۰ هجرى)

অর্থ: আমাদের উপরোক্ত বর্ণনানুযায়ী এ মর্মে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা তিনিসহ অনেকের সূত্রে বিভিন্ন রিওয়ায়েত বর্ণিত আছে:

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা তিনি বলেছেন যে-

صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ

উনার অর্থ হলো- আয় মহান আল্লাহ তায়ালা! আপনি আমাদেরকে ঐ সব হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম, হযরত নাবী-রসূল আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস্ সালাম, হযরত ছিদ্দীক্বীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত ছালিহীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পথে পরিচালিত করুন, যাঁদেরকে আপনি আপনার আনুগত্য ও ইবাদতের কারণে পুরস্কৃত করেছেন।

হযরত রবী’ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, উনার অর্থ হচ্ছে হযরত নাবিয়্যূন তথা আম্বিয়া আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস্ সালাম। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার মতে, أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ উনার দ্বারা মু’মিন উনাদের পথকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। হযরত ওয়াকী’ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে, أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ উনার দ্বারা মুসলমান উনাদের পথকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। হযরত আব্দুর রহমান বিন যায়েদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ উনার ব্যাখ্যায় বলেন, উনার দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে- নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ নাবিউল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা। (জামিউল্ বায়ান ফী তা’বীলিল্ কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুত্ তাবারী পবিত্র সূরাতুল্ ফাতিহাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত কারীমাহ নম্বার ৬ লেখক: হযরতুল আল্লামা মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন জারীর বিন ইয়াযীদ বিন কাছীর বিন গালিব আমালী আবূ জা’ফর তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৩১০ হিজরী)

(৩২০)

(صِراطَ الَّذِينَ اَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ) والمراد بالذين انعمت عليهم كل من ثبّته الله تعالى على الايمان والطاعة مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَداءِ وَالصَّالِحِينَ. (التفسير الـمظهرى سورة الفاتحة رقم الاية الشريفة ۶ المؤلف: حضرت محمد ثناء الله العثماني المظهرى الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه المتوفى سنة ۱۲۱۶ هجرى)

অর্থ: (এমন পথ যে পথের পথিক উনাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন) এখানে নিয়ামত প্রাপ্ত দ্বারা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি পবিত্র ঈমান ও আনুগত্যের উপর যাঁদেরকে মনোনীত করেছেন উনাদেরকে উদ্দেশ্য করেছেন। উনারা হচ্ছেন হযরত নাবী-রসূল আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস্ সালাম, হযরত ছিদ্দীক্বীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম, হযরত শুহাদা রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত ছালিহীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম। (আত্ তাফসীরুল্ মাযহারী সূরাতুল্ ফাতিহাহ ৬ নম্বর আয়াত শরীফ লেখক: হযরত মুহাম্মাদ ছানাউল্লাহ উছমানী মাযহারী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফ মুবারক: ১২১৬ হিজরী)

(৩২১)

{صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} مفسر للصراط المستقيم. وهو بدل منه عند النحاة، ويجوز أن يكون عطف بيان. و {الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} هم المذكورون في سورة النساء، حيث قال: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا  ذَلِكَ الْفَضْلُ مِنَ اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ عَلِيمًا} [النساء: ۶۹ ، ۷۰]. وقال الضحاك عن ابن عباس: صراط الذين أنعمت عليهم بطاعتك وعبادتك من ملائكتك وأنبيائك والصديقين والشهداء والصالحين وذلك نظير ما قال ربنا تعالى: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ} الآية [النساء: ۶۹]. وقال أبو جعفر عن الربيع بن أنس: {صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} قال: هم النبيون. وقال ابن جُرَيْج عن ابن عباس: هم المؤمنون. وكذا قال مجاهد. وقال وَكِيع: هم المسلمون. وقال عبد الرحمن بن زيد بن أسلم: هم النبي صلى الله عليه وسلم ومن معه. والتفسير المتقدم عن ابن عباس أعم وأشمل. (تفسير القران العظيم اى تفسير ابن كثير سورة الفاتحة رقم الاية الشريفة ৬ المؤلف: حضرت العلامة ابو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي الدمشقي الشافعى الاشعرى رحمة الله عليه الولادة سنة ۷۰۰ الوفاة سنة ۷۷۴ هجرى)

অর্থ: (এমন পথ যে পথের পথিক উনাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন) এ পবিত্র আয়াত শরীফখানা উনার পূর্বে উল্লেখিত الصراط الـمستقيم উনারই ব্যাখ্যা। নাহুবিদ উনাদের মতে, ইহা বদল। একে আতফে বয়ান হিসেবে ব্যাখ্যা করাও জায়িয। (যাঁদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন) উনাদের কথা পবিত্র সুরাতুন্ নিসা উনার মধ্যে উল্লেখ করে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: æযে বা যাঁরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ও উনার রসূল নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে অনুসরণ করে উনারা নিয়ামতপ্রাপ্তদের সঙ্গে অবস্থান করবেন, উনারা হলেন হযরত নাবিয়্যূন আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস্ সালাম, হযরত ছিদ্দীক্বীন (ইমাম-মুজতাহিদ) রহমতুল্লাহি আলাইহিম, হযরত শুহাদা রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত ছালিহীন (নেককার) রহমতুল্লাহি আলাইহিম। উনারা কতইনা উত্তম সঙ্গি। ইহা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পক্ষ থেকে ফযল-করম। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইল্ম-ই যথেষ্ট।” (পবিত্র সূরাতুন্ নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৯,৭০)

হযরত যিহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার থেকে বর্ণনা করেছেন, صِراطَ الَّذِينَ اَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ উনার তাৎপর্য হচ্ছে: আপনার আনুগত্য ও ইবাদতে যাঁরা ধন্য উনাদের পথ। উনারা হচ্ছেন- হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস্ সালাম, হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস্ সালাম, হযরত ছিদ্দীক্বীন (ইমাম-মুজতাহিদ) রহমতুল্লাহি আলাইহিম, হযরত শুহাদা রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত ছালিহীন (নেককার-পরহেযগার) রহমতুল্লাহি আলাইহিম।

নি¤েœাক্ত পবিত্র আয়াত শরীফও আলোচ্য পবিত্র আয়াত উনার অনুরূপ: æযে বা যাঁরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ও উনার রসূল নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে অনুসরণ করে উনারা নিয়ামতপ্রাপ্তদের সঙ্গে অবস্থান করবেন উনারা হলেন হযরত নাবিয়্যূন আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস্ সালাম, হযরত ছিদ্দীক্বীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম (ইমাম-মুজতাহিদ), হযরত শুহাদা রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত ছালিহীন (নেককার) রহমতুল্লাহি আলাইহিম। উনারা কতইনা উত্তম সঙ্গি। ইহা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পক্ষ থেকে ফযল-করম। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইল্ম-ই যথেষ্ট।” (পবিত্র সূরাতুন্ নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৯)

হযরত আবূ জা’ফর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত রবী’ বিন আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, صِراطَ الَّذِينَ اَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছেন, হযরত নাবিয়্যূন অর্থাৎ নাবী-রসূল আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস্ সালাম।

হযরত ইবনুল্ জুরাইজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করে বলেন, নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাহ উনারা হলেন- মু’মিনূন তথা ঈমানদারগণ। অনুরূপ হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন।

হযরত ইমাম ওয়াকী’ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাহ উনারা হলেন- মুসলিমূন তথা মুসলমানগণ। হযরত আর্ব্দু রহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম রহমতুল্লাহি আলাইহুহ তিনি বলেন, নিয়ামতপ্রাপ্ত উনারা হলেন- সাইয়্যিদুল্ মুরসালীন, ইমামুল্ মুরসালীন, নূরুম্ মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার ছুহবাত অর্জনকারী ও অনুসরণকারী উনারা। মূলত: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত পূর্বোল্লিখিত তাফসীর বা ব্যাখ্যাই অধিকতর ব্যাপক ও প্রশস্ত। (তাফসীরুল্ কুরআনিল্ আযীম অর্থাৎ তাফসীরে ইবনে কাছীর সূরাতুল্ ফাতিহাহ ৬ নম্বর আয়াত শরীফ লেখক: হযরতুল্ আল্লামা আবুল্ ফিদা ইসমাঈল বিন উমর বিন কাছীর কুরাশী দামিশ্কী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি জন্ম মুবারক: ৭০০ হিজরী, ওফাত মুবারক: ৭৭৪ হিজরী)

(৩২২)

اهدنا الصراط المستقيم، صراط الذين أنعمت عليهم ممن تقدم وصفهم ونعتهم، وهم أهل الهداية والاستقامة والطاعة لله ورسله، وامتثال أوامره وترك نواهيه وزواجره. (تفسير القران العظيم اى تفسير ابن كثير سورة الفاتحة رقم الاية الشريفة ৭ المؤلف: حضرت العلامة ابو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي الدمشقي الشافعى الاشعرى رحمة الله عليه الولادة سنة ۷۰۰ الوفاة سنة  ۷۷۴ هجرى)

অর্থ: পবিত্র আয়াত শরীফ ত্রয়ের তাৎপর্য এই যে: æআয় মহান আল্লাহ তায়ালা! আপনি আমাদেরকে সঠিক পথ দান করুন। এমন পথ যে পথের পথিক উনাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন” এখানে নিয়ামত প্রাপ্ত উনাদের পথ তালাশ করতে বলা হয়েছে। পূর্বে উনাদের গুনাগুন বর্ণনা করা হয়েছে। উনারাই হলেন হিদায়াত প্রাপ্ত ও হিদায়াত উনার উপর ইস্তিক্বামাত তথা দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত। মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আনুগত্য ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্যে প্রতিষ্ঠিত। উনারা উনাদের আদেশ গুলো পালনকারী, নিষেধ সমূহ তরককারী এবং অভিশপ্তদের পথ বর্জনকারী। (তাফসীরুল্ কুরআনিল্ আযীম অর্থাৎ তাফসীরে ইবনে কাছীর সূরাতুল্ ফাতিহাহ ৭ নম্বর আয়াত শরীফ লেখক: হযরতুল্ আল্লামা আবুল্ ফিদা ইসমাঈল বিন উমর বিন কাছীর কুরাশী দামিশ্কী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি জন্ম মুবারক: ৭০০ হিজরী, ওফাত মুবারক: ৭৭৪ হিজরী)

(৩২৩)

صِراطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ… واختلف الناس في المنعم عليهم، فقال الجمهور من المفسرين: إنه أراد صراط النبيين والصديقين والشهداء والصالحين. وانتزعوا ذلك من قوله تعالى:”وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَالرَّسُولَ فَأُولئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَداءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولئِكَ رَفِيقاً [النساء: ۶۹]. فالآية تقتضي أن هؤلاء على صراط مستقيم. (الجامع لاحكام القرآن اى تفسير القرطبي سورة الفاتحة رقم الاية المجيد ۶ المؤلف : علامة ابو عبد الله محمد بن احمد بن ابي بكر بن فرح الانصاري الخزرجي شمس الدين القرطبي رحمة الله عليه المتوفى : ۶۷۱ هجرى)

অর্থ: এমন পথ যে পথের পথিক উনাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন। … হযরত মুফাসসিরূন কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা নিয়ামত প্রাপ্তদের ব্যাপারে ইখতিলাফ করেছেন। কিন্তু অধিকাংশ মুফাসসিরীন কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেছেন যে- নিশ্চয়ই এখানে হযরত নাবিয়্যূন আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস্ সালাম, হযরত ছিদ্দীক্বীন (ইমাম-মুজতাহিদ) রহমতুল্লাহি আলাইহিম, হযরত শুহাদা রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত ছালিহীন (নেককার-পরহেযগার) রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পথকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। ইখতিলাফ বা মতোবিরোধের সমাধান করা হয় নি¤েœাক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, æযে বা যাঁরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ও উনার রসূল নূরুম্ মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে অনুসরণ করে উনারা নিয়ামতপ্রাপ্তদের সঙ্গে অবস্থান করবেন উনারা হলেন হযরত নাবিয়্যূন আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস্ সালাম, হযরত ছিদ্দীক্বীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম (ইমাম-মুজতাহিদ), হযরত শুহাদা রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত ছালিহীন (নেককার) রহমতুল্লাহি আলাইহিম। উনারা কতইনা উত্তম সঙ্গি।” (পবিত্র সূরাতুন্ নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৯)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ প্রমাণ করে যে, উনারাই সরল-সঠিক পথের মধ্যে আছেন। (আল্ জামিউ লিআহকামিল্ কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুল্ কুরতুবী সূরাতুল্ ফাতিহাহ শরীফ ৬ নম্বর আয়াত শরীফ লেখক: আল্লামা আবূ আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আবূ বকর বিন ফারাহ আনছারী খযরাজী শামসুদ্দীন কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত মুবারক: ৬৭১ হিজরী)

 

 

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৬

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২০