পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১০

সংখ্যা: ২২৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লّীন-যোয়াল্লীন উনার শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা) ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)  ২৭. ইসলামের নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করার পর-

 

৩২তম ফতওয়া হিসেবে

 

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”-

পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

 

সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব উনার উপর মউত পর্যন্ত ইস্তিক্বামত থাকা ফরয

যে কোন একটি পবিত্র মাযহাব ইন্তিকাল পর্যন্ত মান্য করা ফরয-ওয়াজিব এবং পবিত্র মাযহাব পরিবর্তন করা হারাম

বা নাজায়িয হওয়ার প্রমাণ

 

পূর্ব প্রকাশিতের পর

 

‘আত-তাক্বলীদু গাইরুশ্ শারয়ী তথা শরীয়াত বহির্ভুত অনুসরণ’ এর আলোচনা ও বিধান

التقليد غير الشرعى আত-তাকলীদু গাইরুশ্ শারয়ী তথা সম্মানিত শরীয়াত বহির্ভুত অনুসরণ: পবিত্র কুরআন মাজীদ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস উনাদের দলীল-আদিল্লাহ উনাদের বিপরীতে নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো শায়তান ও তাগূতী যাবতীয় বাতিল মত-পথ মেনে চলাকে ‘আত-তাকলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা শারীয়াত বহির্ভুত অনুসরণ’ বলে। একে ‘তাকলীদুন নাফ্স’ ও ‘তাকলীদুল হাওয়া’ তথা প্রবৃত্তির অনুসরণও বলা হয়ে থাকে।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, হযরত আহলু বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের ও হযরত ইমাম মুজতাহিদ-আওলিয়া কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ফায়সালার বিপরীত অনুসরণই হলো ‘আত-তাকলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা সম্মানিত শারীয়াত উনার বহির্ভুত অনুসরণ’।

অনুরূপভাবে: অভিশপ্ত ইবলীস-শয়তান, তাগূত, নাফ্স, প্রবৃত্তি, খেয়াল-খুশি, কাফির, মুশরিক, মুরতাদ্দ, মুনাফিক্ব, যিন্দীক্ব, ইহুদী, নাছারা বা খ্রিষ্টান, মাজূসী বা অগ্নী উপাসক, হুনূদ বা হিন্দু, বৌদ্ধ, ৭২ বাত্বিল ফিরক্বা, বিদ্য়াতী, গোমরাহ, পথভ্রষ্ট, ভন্ড, বেআদব, যাবতীয় বিধর্মী ও বদ্ দীনী ইত্যাদীদেরকে অনুসরণ করাই ‘আত-তাক্বলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা সম্মানিত শারীয়াত উনার বহির্ভুত অনুসরণ’।

সম্মানিত শারীয়াত উনার বহির্ভুত অনুসরণ করা হারাম। সম্মানিত শারীয়াত উনার সমর্থিত অনুসরণ করা ফরযে আইন। কারণ, সম্মানিত শারীয়াত উনার বহির্ভুত অনুসরণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। সম্মানিত শারীয়াত উনার বহির্ভুত অনুসরণ করা যে হারাম ও নাজায়িয এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন মাজীদ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যে যথেষ্ট আলোচনা উল্লেখ আছে। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি উনার কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

(২৫১)

غير الـمغضوب عليهم و لا الضالين. (سورة الفاتحة ۹ الاية)

অর্থ: আয় আল্লাহ তায়ালা! আমরা তাদের পথ চাই না, যারা গযবপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্ট হয়েছে। (পবিত্র সূরাতুল ফাতিহা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)

নির্ভরযোগ্য বিশ্ববিখ্যাত সমস্ত তাফসীর উনাদের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে যে: ইহুদী, নাছারা, কাফির, মুশরিক, মুনাফিক্ব, মুরতাদ্দ, শয়তান, ইবলীস, তাগূত, যাবতীয় বেদীনী, বদ্ দীনী, বাতিল ৭২ ফিরক্বার অনুসারী ইত্যাদী লোকেরাই গযবপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্ট। নাঊযু বিল্লাহ। আর এদেরকে অনুসরণ করাই ‘আত-তাকলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা সম্মানিত শারীয়াত উনার বহির্ভুত অনুসরণ’। যা হারাম ও নাজায়িয। ক্ষেত্র বিশেষে কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি উনার কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

(২৫২)

واذا قيل لهم اتبعوا ما انزل الله قالوا بل نتبع ما الفينا عليه اباءنا او لو كان اباؤهم لا يعقلون شيئا و لا يهتدون. (سورة البقرة ۱۷۰ الاية)

অর্থ: যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা সে বিধানোর আনুগত্য কর, যা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি নাযিল করেছেন। তখন তারা বলে কখনো না, বরং আমরা তো সে বিষয়ের অনুসরণ করব, যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে পেয়েছি। যদিও তাদের বাপ-দাদারা আক্বলমন্দ ছিলনা ও কিছুই জানত না এবং হিদায়াতের উপরও ছিল না। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭০)

অত্র পবিত্র আয়াতে কারীমায় যারা হিদায়াত প্রাপ্ত ও আক্বলমন্দ নয় এবং জ্ঞানবান নয় তাদেরকেই অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু যাঁরা হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং বিচক্ষণ ইমাম-মুজতাহিদ উনাদেরকে তাক্বলীদ বা অনুসরণ করার ইঙ্গীত সম্মানিত এ আয়াত শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। কাজেই যারা গোমরাহ ও অজ্ঞ তাদেরকে অনুসরণ করাই ‘আত-তাকলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা সম্মানিত শারীয়াত  উনার বহির্ভুত অনুসরণ’।

(২৫৩)

يايها الذين امنوا ادخلوا فى السلم كافة ولا تتبعوا خطوات الشيطان انه لكم عدو مبين. (سورة البقرة ۲۰۸ الاية)

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা সম্পুর্নরূপে দীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ কর। আর ইবলীস-শয়তানের পথকে অনুসরণ কর না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২০৮)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইবলীস-শয়তানকে ও ইবলীস-শয়তানের যাবতীয় পথ ও পন্থাকে বর্জন করতে বলা হয়েছে। কারণ শয়তানের পথ অনুসরণ করাই হচ্ছে ‘আত-তাকলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা সম্মানিত শারীয়াত বহির্ভুত অনুসরণ’।

(২৫৪)

 واذا قيل لهم تعالوا الى ما انزل الله و الى الرسول قالوا حسبنا ما وجدنا عليه اباءنا او لوكان اباؤهم لا يعلمون شيئا ولايهتدون. (سورة المائدة ۱۰۴ الاية)

অর্থ: যখন তাদেরকে (কাফিরদেরকে) বলা হয়, তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি যা নাযিল করেছেন তার দিকে এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে আস, তখন তারা বলে- আমাদের জন্য তা-ই যথেষ্ট যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে পেয়েছি। যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই জানতো না এবং হিদায়াতের উপর ছিল না। (পবিত্র সূরাতুল মায়িদাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৪)

অত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে অজ্ঞ ও গোমরাহ বাপ-দাদা বা পূর্বপুরুষদেরকে অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এও বলা হয়েছে যে, এ খাছলতটি মূলত: কাফির ও মুনাফিক্বদের। এমন অনুসরণই হলো ‘আত-তাকলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা সম্মানিত শারীয়াত উনার বহির্ভুত অনুসরণ’।

(২৫৫)

وان تطع اكثر من فى الارض يضلوك عن سبيل الله ان يتبعون الا الظن وان هم الا يخرصون. (سورة الانعام ۱۱۶ الاية)

অর্থ: আর যদি আপনি (মূলত: আপনার উম্মত) পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে (মূলত: আপনার উম্মতদেরকে) মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পথ থেকে বিপথগামী করে দিবে। তারা শুধু জল্পনা-কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পুর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথা-বার্তা বলে থাকে। (পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৬)

বুঝাই যাচ্ছে যে, অধিকাংশ লোকরাই গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট থাকবে আর অল্পসংখ্যক লোকরা হিদায়াত উনার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবেন। গোমরাহদের নিদর্শন হলো- দলীল বিহীনভাবে তারা জল্পনা, কল্পনা,অনুমান ও খেয়ালখুশি মতো চলবে। তারা নাফসের পায়রবী করবে এবং অন্যকেও এ পথে চলতে আহবান করবে। নাফ্স বা কুপ্রবৃত্তিকে ইত্তিবা করার নামই হলো ‘আত-তাকলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা সম্মানিত শারীয়াত বহির্ভুত অনুসরণ’।

(২৫৬)

اتخذوا احبارهم و رهبانهم اربابا من دون الله و المسيح ابن مريم وما امروا الا ليعبدوا الها واحدا لا اله الا هو سبحنه عما يشركون. (سورة التوبة ۳۱ الاية)

অর্থ: তারা (মুশরিক, ইহুদী ও নাছারারা) মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে ছেড়ে তাদের বিদ্বান ও দরবেশ (সাধু)দেরকে এবং হযরত মাসীহ বিন র্মাইয়াম হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে রব হিসেবে গ্রহণ করেছে। অথচ তারা আদিষ্ট ছিলো একমাত্র ইলাহ মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইবাদত করার জন্য। তিনি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ বা মা’বূদ নেই। তারা উনার সম্পর্কে যা শরীক সাব্যস্ত করে, তার থেকে তিনি পূত:পবিত্র। (পবিত্র সূরাতুত তাওবাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)

মুশরিক, ইহুদী ও নাছারাদের খাছলত হলো- মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে ছেড়ে বান্দাদেরকে ইলাহ বা মা’বূদ মনে করা এবং তাদেরকে অনুসরণ করা। এটা হিদায়াতপ্রাপ্ত লোকদের বৈশিষ্ট্য নয়। মুশরিক, ইহুদী ও নাছারাদের এরকম অনুসরণই হলো- ‘আত-তাকলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা সম্মানিত শারীয়াত উনার বহির্ভুত অনুসরণ’।

(২৫৭)

فلا تك فى مرية مما يعبد هؤلاء ما يعبدون الا كما يعبد اباؤهم من قبل وانا لموفوهم نصيبهم غير منقوص. (سورة هود عليه السلام ۱۰۹ الاية)

অর্থ: অতএব, তারা যেসবের উপাসনা করে সেব্যাপারে তোমরা কোনরূপ ধোকায় পড়বে না। তাদের পূর্ববর্তী বাপ-দাদারা যেমন পূজা-উপাসনা করতো, এরাও তেমন করছে। আর নিশ্চয়ই আমি তাদের আযাবের ভাগ কিছুমাত্র কম না করেই পুরোপুরি দান করব। (পবিত্র সূরাতু হূদ আলাইহিস সালাম: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৯)

কাফির মুশরিক কর্তৃক বাপ-দাদাদের কুফরী ও শিরকীমূলক অনুসরণজাতীয় ধোকায় পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, এ অনুসরণ হলো- ‘আত-তাকলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা সম্মানিত শারীয়াত উনার বহির্ভুত অনুসরণ’।

(২৫৮)

ولا تطع من اغفلنا قلبه عن ذكرنا و اتبع هواه و كان امره فرطا. (سورة الكهف ۲۸ الاية)

 অর্থ: ঐ সমস্ত লোকদের ইতায়াত (আনুগত্য) কর না, (যার বদআমলের দরুন) তার ক্বলবকে আমার যিক্্র থেকে গাফিল করে দিয়েছি। (আর আমার যিক্র থেকে গাফিল হওয়ার কারণেই) সে নাফ্সের পায়রবী করে থাকে। আর তার কাজগুলো সম্মানিত শরীয়াত উনার খিলাফ। (পবিত্র সূরাতু কাহ্ফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮)

এখানে ক্বলবে যিক্র জারী নেই এমন ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। অতএব, দীল ইছলাহ নেই এমন ব্যক্তিদেরকে অনুসরণ করাই ‘আত-তাকলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা সম্মানিত শারীয়াত উনার বহির্ভুত অনুসরণ’।

(২৫৯)

ووصينا الانسان بوالديه حسنا وان جاهدك لتشرك بى ما ليس لك به علم فلا تطعهما الى مرجعكم فانبئكم بما كنتم تعملون. (سورة العنكبوت ۸ الاية)

অর্থ: আমি মানুষদেরকে পিতা-মাতা উনাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করতে জোর নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু যদি তারা (পিতা-মাতা) তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরীক করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালায়, যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য করো না। আমারই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতপর আমি তোমাদেরকে বলে দেব, যা কিছু তোমরা করতে। (পবিত্র সূরাতুল আনকাবূত শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮)

(২৬০)

وان جاهدك على ان تشرك بى ما ليس لك به علم فلا تطعهما و صاحبهما فى الدنيا معروفا واتبع سبيل من اناب الى ثم الى مرجعكم فانبئكم بما كنتم تعملون. (سورة لقمان عليه السلام ۱۵ الاية)

অর্থ: পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই, তবে তুমি তাদের আনুগত্য করবে না। কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সাথে সৎ আচরণ করে চলবে। তুমি উনার পথ অনুসরণ করো, যিনি আমার দিকে রুজূ’ হয়েছেন। অতপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে। আমি তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো সে বিষয়ে, যা তোমরা করতে। (পবিত্র সূরাতু লুক্বমান আলাইহিস সালাম: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)

উল্লেখিত দু’খানা পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে দুনিয়ায় পিতা-মাতা উভয়ের সাথে ভালো ব্যবহার ও  উত্তম আচরণ করতে বলা হয়েছে। যদিও তারা মুশরিক হয়। কিন্তু কখনোই তাদের কুফরী ও র্শিকীমূলক কথা ও কাজকে অনুমোদন দেয়া যাবে না এবং এমন কথা ও কাজের অনুসরণ করাও যাবে না। কুফরী, র্শিকী ও হারাম কাজে পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন ও দুনিয়ার কোন মানুষকে অনুসরণ করা হারাম ও নাজায়িয। তবে পিতা-মাতা যদি শরীয়াত সম্মত নির্দেশ দেয় তাহলে সন্তানদের জন্য তা পালন করা ফরয-ওয়াজিব। অতএব, পিতা-মাতা ও দুনিয়ার কোন মানুষের শরীয়াত বিরুদ্ধ অনুসরণকে মূলত: ‘আত-তাকলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা সম্মানিত শারীয়াত উনার বহির্ভুত অনুসরণ’ বলা হয়ে থাকে। যা অসংখ্য পবিত্র আয়াত শরীফ ও উনাদের তাফসীর শরীফ থেকে প্রমাণিত আছে।

‘আত-তাক্বলীদুশ্ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’ উনার সমর্থনে পবিত্র আয়াত শরীফ সমূহ

التقليد الشرعى আত-তাক্বলীদুশ্ শারয়ী তথা সম্মানিত শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ: পবিত্র কুরআন মাজীদ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ ক্বিয়াস উনাদের দলীল-আদিল্লাহ মোতাবেক পবিত্র ইসলামী শরীয়াত উনার যাবতীয় হুকুম-আহকাম মেনে চলার জন্য কারো অনুসরণ করাকে ‘আত-তাকলীদুশ শারয়ী তথা সম্মানিত শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’ বলে। উনাকে ‘তাকলীদুল ইসলাম’, ‘তাকলীদুদ্ দীন’ ও ‘তাকলীদুদ্ দালায়িলিল আরবায়াহ’ অর্থাৎ দীন ইসলাম উনার চারখানা দলীল উনাদের অনুসরণও বলা হয়ে থাকে।

এই পবিত্র আয়াত শরীফ সমূহ পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার সূরা শরীফ ও আয়াত শরীফ উনাদের তারতীব অনুসারে উল্লেখ করা হলো-

(২৬১)

اهدنا الصراط الـمستقيم صراط الذين انعمت عليهم. (سورة الفاتحة رقم الاية ۶-۵)

অর্থ: “আয় মহান আল্লাহ তায়ালা! আপনি আমাদেরকে সঠিক পথ দান করুন। এমন পথ যে পথের পথিক উনাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন।” (পবিত্র সূরাতুল ফাতিহাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫-৬)

(২৬২)

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ. (سورة البقرة ۱۳ الاية)

অর্থ: যখন তাদেরকে বলা হয়- তোমরা ঈমান আনো, যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব (হযরত ছাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) ঈমান এনেছেন। তখন তারা বলে- আমরা কি নির্বোধদের মতো ঈমান আনবো? মনে রাখুন! প্রকৃতপক্ষে তারাই নির্বোধ, কিন্তু তারা তা বুঝে না। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)

(২৬৩)

الَّذِى جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ (سورة البقرة ۲۲ الاية)

অর্থ: তিনিই পবিত্র সত্ত্বা, যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন। আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদরে খাদ্যের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন। অতএব, মহান আল্লাহ তায়ালা উনার সাথে অন্য কাকেও সমকক্ষ মনে করো না। আসলে তোমরা তা জানো। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২২)

(২৬৪)

وَقَالُوا لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ كَانَ هُودًا أَوْ نَصَارَى تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (سورة البقرة ۱۱۱ الاية)

অর্থ: ওরা বলে, ইহুদী অথবা খৃষ্টান ব্যতীত কেউ জান্নাতে যাবে না। এটা ওদের মনের বাসনা। (হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, তোমরা সত্যবাদী হলে দলীল পেশ করো। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১১)

(২৬৫)

وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنْتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّنْ يَنْقَلِبُ عَلَى عَقِبَيْهِ وَإِنْ كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ (سورة البقرة ۱۴۳ الاية)

অর্থ: অনুরূপ আমি তোমাদেরকে সত্যপরায়ণ উম্মত হিসেবে স্থির করেছি, যাতে তোমরা সকল মানুষদের জন্য সাক্ষ্যদাতা হও এবং যাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাক্ষদাতা হন তোমাদের জন্য। আপনি যে ক্বিবলার উপর ছিলেন, উনাকে আমি এজন্যই ক্বিবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রমাণ হয় বা জানা হয়ে যায় যে, কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করে আর কে গুমরাহীর দিকে ফিরে যায় অর্থাৎ অবাধ্য হয়। নিশ্চয়ই এটা অত্যন্ত কঠিন বিষয়, কিন্তু তাঁদের জন্য নয় যাঁদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পথপ্রদর্শন করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা এমন নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দেবেন।

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি মানুষদের প্রতি খুবই দয়াশীল ও করুনাময়। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪৩)

(২৬৬)

وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ (سورة البقرة ۱۷۰ الاية)

অর্থ: যখন তাদেরকে বলা হয় তোমরা সে বিধানের আনুগত্য করা, যা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি  নাযিল করেছেন। তখন তারা বলে কখনো না, বরং আমরা তো সে বিষয়ের অনুসরণ করব, যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে পেয়েছি। যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই জানতো না এবং হিদায়াতের উপর ছিল না। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭০)

(২৬৭)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ (سورة البقرة ۲۰۸ الاية)

অর্থ: হে মু’মিনগণ! সম্পুর্ণরূপে সম্মানীত দীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ করো। আর শয়তানের পথকে অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২০৮)

(২৬৮)

يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ (سورة البقرة ۲۶۹ الاية)

অর্থ: তিনি (মহান আল্লাহ তায়ালা) যাঁকে ইচ্ছা হিকমত (বিশেষ জ্ঞান) দান করেন। আর যাঁকে হিকমত দান করা হয়েছে, তাকে অনেক কল্যাণ দান করা হয়েছে। জ্ঞানবাগণই উপদেশ গ্রহণ করেন। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬৯)

(২৬৯)

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا (سورة البقرة ۲۸۶ الاية)

অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি কারো উপর সাধ্যাতীত কোন কাজেন ভার দেন না।  (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮৬)

(২৭০)

مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادًا لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ. (سورة ال عمران عليه السلام ۷۹ الاية)

অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা কোন মানুষকে কিতাব, হেকমত ও নুবুওওয়াত দান করার পর তিনি বলবেন যে, ‘তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে পরিত্যাগ করে আমার বান্দা হয়ে যাও’- এটা কখনোই সম্ভব নয়। বরং উনারা বলবেন, তোমরা মহান রবওয়ালা (আল্লাহওয়ালা) হয়ে যাও।  (পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৯)

(২৭১)

قُلْ صَدَقَ اللَّهُ فَاتَّبِعُوا مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ. (سورة عمران عليه السلام ۹۵ الاية)

 অর্থ: হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি সত্য বলে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সঠিক মিল্লাত উনার অনুসরণ করো। আর তিনি তো মুশরিক ছিলেন না। (পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯৫)

(২৭২)

وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ. (سورة ال عمران عليه السلام ۱۰۴ الاية)

অর্থ: তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিৎ যাঁরা আহবান করবেন নেক কাজের প্রতি, ভালো কাজের নির্দেশ দিবেন এবং অসৎ কাজ (শরীয়াতের খিলাফ কাজ) থেকে নিষেধ করবেন। আর উনারাই হবেন সফলকাম। (পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৪)

(২৭৩)

كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ. (سورة ال عمران عليه السلام ۱۱۰ الاية)

অর্থ: তোমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। মানবজাতির মধ্য থেকে তোমাদেরকে মনোনীত করা হয়েছে। তোমরা ভালকাজের নির্দেশ দিবে আর অসৎ কাজ (শরীয়াতের খিলাফ কাজ) থেকে নিষেধ করবে। আর মহান আল্লাহ তায়ালা উনার প্রতি ঈমান আনবে। (পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১০)

(২৭৪)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا. (سورة النساء ۵۹ الاية)

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আনুগত্য করো, সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরন-অনুকরণ করো এবং তোমাদের মধ্যে যাঁরা উলিল আমর (আদেশদাতা) উনাদের অনুসরণ করো। তোমাদের মধ্যে যদি কোন বিষয়ে মতবিরোধ হয়, তাহলে উক্ত বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করো। যদি তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার প্রতি ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাকো। এটাই কল্যাণকর ও পরিনতির দিক দিয়ে উত্তম। (পবিত্র সূরাতুন্ নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৯)

(২৭৫)

وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا. (سورة النساء ۶۹ الاية)

অর্থ: যে কেউ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আনুগত্য করবেন, উনারা নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের সঙ্গী হবেন। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি নিয়ামত হাদিয়া করেছেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাদেরকে, হযরত ছিদ্দীক্বীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে, হযরত শুহাদা রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে ও হযরত ছালিহীন রহমতুল্লাহি আল্ইাহিম উনাদেরকে। আর উনারাই সঙ্গী হিসেবে উত্তম। (পবিত্র সূরাতুন নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৯)

(২৭৬)

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا. (سورة النساء ۸۲ الاية)

অর্থ: তারা কি পবিত্র কুরআন মাজীদ উনাকে নিয়ে ফিকির বা গবেষণা করে না? যদি ইহা মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তাহলে তোমরা এতে অনেক বৈপরিত্য দেখতে পেতে।  (পবিত্র সূরাতুন নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)

(২৭৭)

وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَاتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قَلِيلًا. (سورة النساء ۸۳ الاية(

অর্থ: আর যখন তাদের নিকট শান্তি কিংবা আতঙ্কের কোন সংবাদ উপস্থিত হয়, তখন তারা তা প্রচার করে থাকে। কিন্তু যদি তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে এবং তাদের মধ্যে উলুল্ আমর (ইমাম-মুজতাহিদগণের) উনাদের কাছে উক্ত বিষয়টি উপস্থিত করতো, তবে অবশ্য উনাদের মধ্যে যাঁরা ইজতিহাদ (ক্বিয়াছ) দ্বারা উহা উৎঘাটন করতে সক্ষম উনারা তা অবগত হতে পারতেন। মূলত: যদি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ফযল (অনুগ্রহ) ও রহমত (দয়া-করুনা) তোমাদের উপর বিদ্যমান না থাকতো, তবে তোমাদের মধ্যে অল্প কতিপয় লোক ব্যতীত সবাই শয়তানের অনুসরণ করতে শুরু করতো। (পবিত্র সূরাতুন নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৩)

(২৭৮)

وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا (سورة النساء ۱۱۵ الاية)

অর্থ: যে ব্যক্তি তার কাছে হিদায়াত (সত্যপথ) প্রকাশিত হওয়ার পর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধাচরণ (খিলাফ) করে এবং ঈমানদারগণের পথ ব্যতীত অন্য পথের ইত্তিবা (অনুসরণ-পায়বরী) করে, আমি তাকে সে পথে নিয়ে যাব, সে যে পথ পছন্দ করে এবং তাকে জাহান্নামে পৌঁছাবো। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান। (পবিত্র সূরাতুন নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৫)

(২৭৯)

 وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ وَاتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا. (سورة النساء ۱۲۵ الاية)

অর্থ: যে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আদেশের সামনে মাথা অবনত করে সৎকাজে নিয়োজিত থাকে এবং হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মিল্লাতের অনুসরণ করে, যিনি একনিষ্ঠ ছিলেন, উনার চেয়ে উত্তম দ্বীন কার আছে বা উনার চেয়ে উত্তম দ্বীনদার কে আছেন?

মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে খলীল (বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। (পবিত্র সূরাতুন নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১২৫)

অসমাপ্ত-

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৪

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪২তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া    ১৫দ

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৩তম পর্ব