পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৮

সংখ্যা: ২২৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন উনার শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা) ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)  ২৭. ইসলামের নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করার পর-

৩২তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”-

পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব উনার উপর মউত পর্যন্ত ইস্তিক্বামত থাকা ফরয

যে কোন একটি পবিত্র মাযহাব ইন্তিকাল পর্যন্ত মান্য করা ফরয-ওয়াজিব এবং পবিত্র মাযহাব পরিবর্তন করা হারাম বা নাজায়িয হওয়ার প্রমাণ

 

পূর্ব প্রকাশিতের পর

‘মাযহাব’ শব্দের সমার্থবোধক লাফ্য বা শব্দ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের অনেক স্থানেই রয়েছে

الـمذهب (আল মাযহাব) শব্দটি একবচন। এর বহুচন مذاهب ‘মাযাহিব’। এর আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- পথ, পদ্ধতি, দ্বীন, জীবন ব্যবস্থা, মত, আদর্শ, বিশ্বাস, কর্মপন্থা, চলার পথ, মূল, ছিরাত, সাবীল, হিয্ব, হাব্ল, মাযহাব, মুসলমানগণের চলার পথ, আহলুস সুন্নত ওয়াল জামায়াত ইত্যাদি। পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায়-

(২০৪-২০৭)

الـمذهب : الدين، الـمعتقد الذى يذهب اليه. (التعريفات الفقهية الصفحة ۴۷۶، لسان العرب الجلد ۳ الصفحة ۱۵۲۲، افرات الموارد فى فصح العربية والشوارد الجلد ۱ الصفحة ۳۷۴، المعجم الوجيز الصفحة ۲۴۷)

অর্থ: সঠিক হিসেবে বিশ্বাস রেখে যে পবিত্র দ্বীনী পথে চলা হয়, সে পথকেই মাযহাব বলে। (আত তা’রীফাতুল ফিক্বহিয়্যাহ ৪৭৬ পৃষ্ঠা, লিসানুল আরব ৩য় খ- ১৫২২ পৃষ্ঠা, আফরাতুল মাওয়ারিদ ফী ফুছাহিল আরাবিয়াহ ওয়াশ শাওয়ারিদ ১ম খ- ৩৭৪ পৃষ্ঠা, আল মু’জামুল ওয়াজীয ৩৪৭ পৃষ্ঠা)

আর مذاهب الاسلام (মাযাহিবুল ইসলাম) উনার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সঠিক পথ বা পন্থাসমূহ। ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায়-

(২০৮)

مذاهب الاسلام اربعة الحنفى وهو مذهب السلطان لعصرنا والشافعى والحنبلى والـمالكى. (افرات الـموارد فى فصح العربية والشوارد الجلد ۱ الصفحة ۳۷۵)

অর্থ: ‘মাযাহিবুল ইসলাম’ তথা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সঠিক পথ বা পন্থাসমূহ চারটি। ১. সম্মানিত হানাফী মাযহাব, ইহাই আমাদের যুগে মাযহাব উনাদের বাদশাহ। ২. শাফিয়ী মাযহাব ৩. হাম্বলী মাযহাব ও ৪. মালিকী মাযহাব। (আফরাতুল মাওয়ারিদ ফী ফুছাহিল আরাবিয়াহ ওয়াশ শাওয়ারিদ ১ম খ- ৩৭৫ পৃষ্ঠা)

(২০৯)

مذاهب الاسلام: اربعة الحنفى والشافعى والـمالكى والحنبلى. (التعريفات الفقهية الصفحة ۴۷۵)

অর্থ : ‘মাযাহিবুল ইসলাম’ তথা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সঠিক ও পূর্ণ পথ চারটি। ১. হানাফী ২. শাফিয়ী ৩. মালিকী ও ৪. হাম্বলী। (আত তা’রীফাতুল ফিকহিয়্যাহ ৪৭৫ পৃষ্ঠ)

‘মাযহাব’ উনার সমার্থবোধক লাফ্য বা শব্দ মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যে যথেষ্ট পাওয়া যায়। যেমন-

 صِرَاط، سَبِيْل، حِزْب الله، حَبْل الله، اِسْلَام، دِيْن، شَرِيْعَة، سُنَّة.

ছিরাত, সাবীল, হিয্বুল্লাহ, হাব্লুল্লাহ, ইসলাম, দ্বীন, শারীয়ত, সুন্নত ইত্যাদি।

১.صراط (ছিরাত) : শব্দটি মাযহাব শব্দের সমার্থবোধক। মাযহাব শব্দটির মতোই ছিরাত শব্দ উনার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- পথ, চলার পথ, পন্থা, রাস্তা, মাযহাব, পদ্ধতি, শরীয়ত, নিয়ম-নীতি, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ ইত্যাদি। আর পারিভাষিক দৃষ্টিতেও ছিরাত শব্দটি মাযহাব শব্দের মতোই অর্থ প্রদান করে।

মহান আল্লাহ তায়ালা রব্বুল আলামীন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

(২১০)

وان هذا صراطى مستقيما فاتبعوه ولا تتبعوا السبل فتفرق بكم عن سبيله. (سورة الانعام شريف ۱۵۳ الاية شريف)

অর্থ : নিশ্চয়ই এটা (সম্মানিত দ্বীন ইসলাম তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ) আমার সরল সঠিক পথ, অতএব এ পথের অনুসরণ করুন। এছাড়া অন্যান্য পথের অনুসরণ করবেন না। তাহলে সে পথগুলো তোমাদেরকে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। (পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫৩)

(২১১)

اهدنا الصراط الـمستقيم. صراط الذين انعمت عليهم. (سورة الفاتحة شريف رقم الاية شريف ۶-۵)

অর্থ : আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনি আমাদেরকে সঠিক পথ দান করুন। এমন পথ যে পথের পথিক উনাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন। (পবিত্র সূরাতুল ফাতিহাহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫-৬)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পবিত্র তাফসীর শরীফ অন্য একখানা আয়াত শরীফ দ্বারা করা হয়। যেখানে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

(২১২)

انعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين. (سورة النساء شريف رقم الاية شريف ۶۹)

অর্থ : মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র নিয়ামত সম্মান হাদিয়া করেছেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাদেরকে, হযরত ছিদ্দীক্বীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে, হযরত শুহাদা রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে ও হযরত ছালিহীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে। (পবিত্র সূরাতুন নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৯)

পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে চার শ্রেণী উনাদের পথ তালাশ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মূলত উক্ত চার শ্রেণী দুই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। যথা- ১. হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাদের পথ, ২. ছিদ্দীক্বীন, শুহাদা ও ছালিহীন অর্থাৎ উম্মতের তবক্বা।

আর ২য় তবক্বার উনারা হলেন- ইমাম, মুজতাহিদ, চার মাযহাব উনাদের ইমাম, ফক্বীহ, উলামায়ে কিরাম, আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম প্রমুখ।

অতএব পবিত্র আয়াত শরীফ উনার থেকে নির্গত ছিরাত উনার সংজ্ঞা নিম্নরূপ-

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রদর্শিত পথ, সে আলোকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের চলার পথকে ‘ছিরাত’ বলা হয়।

(২১৩)

الصراط : الطريق الـمستقيم قاله الراغب وايضا يطلق على جسر جهنم هو على متن جهنم ادق من الشعر واحد من السيف (التعريفات الفقهية الصفحة ۳۴۸(

অর্থ: সরল-সঠিক পথ বা নিয়ম-কানুনকে ছিরাত বলা হয়। যা হযরতুল আল্লামা রাগিব ইস্পাহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উক্তি। এছাড়াও জাহান্নামের পৃষ্ঠে অবস্থিত চুলের চেয়ে চিকন এবং তরবারির চেয়ে ধারালো পুলকে ব্যাপকভাবে ছিরাত বলা হয়। (আত তা’রীফাতুল ফিক্বহিয়্যাহ ৩৪৮ পৃষ্ঠা)

এখন স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে যে, পবিত্র কুরআন মাজীদ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যে ব্যবহৃত ছিরাত উনার অনেক অর্থের মধ্যে মাযহাব বা মুসলমানদের সঠিকভাবে চলার পথও একটি অর্থ।

২. سَبِيْل (সাবীল) : শব্দটি মাযহাব শব্দের সমার্থবোধক। মাযহাব শব্দটির মতোই সাবীল শব্দ উনার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- পথ, চলার পথ, পন্থা, রাস্তা, মাযহাব, পদ্ধতি, শরীয়ত, নিয়ম-নীতি, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ ইত্যাদি। আর পারিভাষিক দৃষ্টিতেও সাবীল শব্দটি মাযহাব শব্দের মতোই অর্থ প্রদান করে।

মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

(২১৪)

و ان تطع اكثر من فى الارض يضلوك عن سبيل الله. (سورة الانعام شريف ۱۱۶ الاية شريف)

অর্থ: আর যদি আপনি যমীনের অধিকাংশ লোকের অনুসরণ করেন, তাহলে তারা আপনাকে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পথ থেকে বিপথগামী করে দিবে। (পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৬)

(২১৫)

و على الله قصد السبيل و منها جائر. (سورة النحل شريف ۹ الاية شريف)

অর্থ : সঠিক পথ মহান আল্লাহ তায়ালা পর্যন্ত পৌঁছে এবং পথগুলোর মধ্যে কিছু বক্র পথও আছে। (পবিত্র সূরাতুন নাহল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৯)

(২১৬)

ادع الى سبيل ربك بالحكمة و الموعظة الحسنة. (سورة النحل شريف ۱۲۵ الاية شريف)

অর্থ : আপনি আপনার রব তায়ালা উনার পথে হিকমতপূর্ণ কথা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন। (পবিত্র সূরাতুন্ নাহ্ল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১২৫)

(২১৭)

و اتبع سبيل من اناب الى. (سورة لقمان عليه السلام ۱۵ الاية شريف)

অর্থ: উনার পথ অনুসরণ করবেন, যিনি আমার অভিমুখী। (পবিত্র সূরাতু লুকমান আলাইহিস সালাম : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)

(২১৮)

و لا تقربوا الزنى انه كان فاحشة و ساء سبيلا. (سورة الاسراء شريف ۳۲ الاية شريف)

অর্থ: (ব্যভিচার করা তো দূরের কথা) ব্যভিচারের নিকটেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ। (পবিত্র সূরাতুল ইসরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)

(২১৯)

قل كل يعمل على شاكلته فربكم اعلم بمن هو اهدى سبيلا. (سورة الاسراء شريف ۸۴ الاية شريف)

অর্থ: বলুন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ পদ্ধতি অনুযায়ী কাজ করেন। অতঃপর আপনার রব তিনি বেশি জানেন, কে অধিক সৎ পথে আছেন। (পবিত্র সূরাতুল ইসরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৪)

(২২০)

و ان هذا صراطى مستقيما فاتبعوه و لا تتبعوا السبل فتفرق بكم عن سبيله. (سورة الانعام شريف ۱۵۳ الاية شريف)

অর্থ: নিশ্চয়ই এটা (দ্বীন ইসলাম তথা আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ) আমার সরল-সঠিক পথ, অতএব এ পথের অনুসরণ করুন। এছাড়া অন্যান্য পথের অনুসরণ করবেন না। তাহলে সেপথগুলো তোমাদেরকে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। (পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫৩)

(২২১)

و الذين جاهدوا فينا لنهدينهم سبلنا و ان الله لمع المحسنين. (سورة العنكبوت شريف ۶۹ الاية شريف)

অর্থ : যাঁরা আমাকে পাওয়ার পথে কোশেশে আত্মনিয়োগ করেন, আমি অবশ্যই উনাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করি। আর নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি নেককার বান্দা উনাদের সাথে আছেন। (পবিত্র সূরাতুল আনকাবূত শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৯)

এখন বুঝা যাচ্ছে যে, পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার মধ্যে ব্যবহৃত ‘সাবীল’ শব্দ উনার অনেক অর্থের মধ্যে ‘মাযহাব’ বা মুসলমানদের সঠিকভাবে চলার পথও একটি অর্থ।

৩. حزب (হিয্ব) : শব্দটি একবচন, এর বহুবচন احزاب ‘আহযাব’। হিয্ব শব্দটি মাযহাব শব্দের সমার্থবোধক। ‘মাযহাব’ শব্দটির মতোই হিয্ব শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- দল, মত, পথ, পন্থা, মাযহাব, পক্ষ, জনসমষ্টি, জনসমাগম, অস্ত্র, অংশ, নিয়ম-নীতি, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ ইত্যাদি। আর পারিভাষিক দৃষ্টিতে হিয্ব ও হিযবুল্লাহ শব্দ-বাক্যাংশ মাযহাব শব্দের মতোই অর্থ প্রদান করে। শরীয়ত উনার পরিভাষায়-

(২২২)

الـحزب كل طائفة جمعها الاتجاه الى غرض واحد. وفى القران الكريم : “كل حزب بما لديهم فرحون” (الـمعجم الوجيز ص ۱۴۸)

অর্থ: প্রত্যেক দল ১টি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে একই মনোভাবে একত্রিত হওয়াকে ‘হিয্ব’ বলে। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “প্রত্যেক দল নিজেদের নিয়ে খুশি।” পবিত্র সূরাতুর রূম-৩২। (আল মু’জামুল ওয়াজীয ১৪৭ পৃষ্ঠা)

(২২৩-২২৪)

كل قوم تشاكلت قلوبـهم واعمالـهم فهم احزاب (لسان العرب الجلد ۲ الصفحة ۸۵۳، افرات الـموارد فى فصح العربية والشوارد الجلد ۱ الصفحة ۱۸۶)

অর্থ: প্রত্যেক দল পবিত্র ঈমান, আমল ও পবিত্র আক্বীদায় সাদৃশ্যপূর্ণ বা মিলযুক্ত হওয়াকে ‘আহযাব’ (একবচন : হিয্ব) বলে। (লিসানুল আরব ২য় খ- ৮৫৩ পৃষ্ঠা, আফরাতুল মাওয়ারিদ ফী ফুছাহিল আরাবিয়াহ ওয়াশ শাওয়ারিদ ১ম খ- ১৮৬ পৃষ্ঠা)

حزب الله (হিয্বুল্লাহ) অর্থ : মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত দল, মত, পথ, পদ্ধতি, শরীয়ত, পন্থা, নিয়ম-নীতি ইত্যাদি।

মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি উনার পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

(২২৫)

انما وليكم الله ورسوله والذين امنوا الذين يقيمون الصلوة ويؤتون الزكوة وهم راكعون. ومن يتول الله ورسوله والذين امنوا فان حزب الله هم الغلبون. (سورة المائدة ۵۶-۵۵)

অর্থ : তোমাদের বন্ধুতো মহান আল্লাহ পাক তিনি, উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মু’মিনগণ, মু’মিন উনারা ছলাত ক্বায়িম করেন, যাকাত দেন এবং বিনয়-নম্রতা সম্পন্ন। আর যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মু’মিনগণ উনাদেরকে বন্ধুরূপে (বা অভিভাবক হিসেবে) গ্রহণ করেন, উনারাই হিযবুল্লাহ (বা মহান আল্লাহ পাক উনার দল) এবং উনারাই চির বিজয়ী। (পবিত্র সূরাতুল মায়িদাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৫-৫৬)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ভিত্তিতে হিযবুল্লাহ-উনার সংজ্ঞা নি¤œরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয়-

“মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ণ অনুসরণ এবং হক্কানী মু’মিন তথা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও ইমাম-মুজতাহিদ আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের চলার পথকেই ‘হিযবুল্লাহ’ বলা হয়।” এটাই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ভিত্তিতে সঠিক সংজ্ঞা। আর ইহাই তো মাযহাব উনারও শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা। অতএব হিয্ব ও মাযহাব শব্দ দুটি সমার্থবোধক শব্দ।

এখন স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে যে, পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার মধ্যে ব্যবহৃত হিয্ব অর্থই ছিরাত, সাবীল, মাযহাব বা সঠিক পথ ইত্যাদি।

৪. حبل الله (হাবলুল্লাহ) : حبل ‘হাব্ল’ শব্দটি মাযহাব শব্দের সমার্থবোধক। মাযহাব শব্দটির মতোই হাবীলুল্লাহ বাক্যাংশ মুবারক উনার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে রজ্জু, নিয়ম-নীতি, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র দ্বীন ইসলাম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মত, পথ, পন্থা, পদ্ধতি, মাযহাব, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ ইত্যাদি। আর পারিভাষিক দৃষ্টিতেও হাবলুল্লাহ বাক্যাংশ মুবারক মাযহাব শব্দের মতোই অর্থ প্রদান করে।

মহান আল্লাহ তায়ালা রব্বুল আলামীন তিনি উনার পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

(২২৬)

واعتصموا بحبل الله جميعا ولاتفرقوا. (سورة ال عمران شريف ۱۰۳)

অর্থ: তোমরা সকলেই মহান আল্লাহ পাক উনার রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)

নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে, حبل الله হাবলুল্লাহ হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং তিনি এবং উনার আনিত পবিত্র কুরআন মাজীদ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র শরীয়াত, পবিত্র দ্বীন ইসলাম, মা’রিফত ও যাবতীয় হক্ব পথ উনার বিধানাবলী।

অতএব, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার যাবতীয় বিধানাবলী এবং বিধান বিশেষজ্ঞগণ উনাদের পথই হচ্ছে হাব্লুল্লাহ। আর মাযহাব উনার উদ্দেশ্যও সেটাই।

এখন স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে যে, পবিত্র কুরআন মাজীদ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যে ব্যবহৃত হাব্ল ও হাবলুল্লাহ অর্থই ছিরাত, সাবীল, মাযহাব বা সঠিক পথ ইত্যাদি।

৫. الاسلام (আল ইসলাম) : এ শব্দটি বাবে افعال -এর মাছদার বা ক্রিয়ামূল। ইসলাম শব্দটিও মাযহাব শব্দের সমার্থবোধক। মাযহাব শব্দটির মতোই ইসলাম উনার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- অনুগত হওয়া, আত্মসমর্পণ করা, নিরাপত্তা দান, শিরোধার্য করা, বিনয় প্রকাশ করা, আনুগত্যতার সাথে আত্মসমর্পণ করা, শান্তি, ইত্তিবা, পবিত্র ইসলাম পালন করা, আছ্ ছিরাতুল মুস্তাক্বীম তথা সরল-সঠিক মত পথ মান্য করা, মাযহাব অনুসরণ করা ইত্যাদি। আর পারিভাষিক দৃষ্টিতে ইসলাম শব্দটিও মাযহাব শব্দের মতোই অর্থ প্রদান করে। শরীয়ত উনার পরিভাষায়-

(২২৭)

ان الاسلام هو الخضوع والانقياد بمعنى قبول الاحكام والاذعان بـها. (شرح العقائد النسفية الصفحة ۱۲۸)

অর্থ : মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের যাবতীয় বিধান গ্রহণার্থে এবং ওইগুলোর প্রতি আনুগত্য স্থাপন উদ্দেশ্যে বশ্যতা স্বীকার করাকে ‘পবিত্র ইসলাম’ বলা হয়। (শরহুল আক্বায়িদিন নাসাফিয়্যাহ ১২৮ পৃষ্ঠা)

(২২৮-২৩২)

الاسلام : فى الدر الـمختار هو تصديق سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم فى جميع ما جاء به عن الله تعالى مـما علم مجيئه ضرورة.

(التعريفات الفقهية ۱۷۷. الدر الـمختار شرح تنوير الابصار، لسان العرب لابن منظور الجلد ۴ الصفحة ۲۰۸۰ دار المعارف. المعجم الوسيط، المعجم الوجيز)

অর্থ: ‘আদ দুররুল মুখতার’ কিতাবে উল্লেখ আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন খাতামুন নাবিয়্যীন, সাইয়্যিদুনা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান রব তায়ালা উনার কাছ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন বলে জানা গেছে ওইসব কিছুর প্রতি তাছদীক্ব বা বিশ্বাস স্থাপন করা (মেনে নেয়া)কে পবিত্র ইসলাম বলে। (আত-তা’রীফাতুল ফিকহিয়্যাহ ১৭৭ পৃষ্ঠা, আদ দুররুল মুখতার শরহু তানবীরিল আবছার, লিসানুল আরব লিইবনি মানযূর ৪র্থ খ- ২০৮০ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : দারুল মায়ারিফ, আল মু’জামুল ওয়াসীত্ব, আল মু’জামুল ওয়াজীয)

মূলত : মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, সাইয়্যিদুনা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পবিত্র ওহী মুবারক উনার মাধ্যমে নাযিলকৃত পূর্ণাঙ্গ মনোনীত জীবন ব্যবস্থাকে পবিত্র ইসলাম বলা হয়। আর যিনি পবিত্র ইসলাম উনাকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে মেনে নেন উনাকে মুসলিম বলা হয়।

৬. دين (দ্বীন) : শব্দটি একবচন, এর বহুবচন اديان আদইয়ান। দ্বীন শব্দটিও মাযহাব শব্দের সমার্থবোধক। মাযহাব শব্দটির মতোই দ্বীন উনার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- দ্বীন, আক্বীদাহ, ইসলাম, বিশ্বাস, ধার্মিকতা, দ্বীনদারি, বিচার, প্রতিদান, আনুগত্য, ধর্মপরায়ণতা, চরিত্র, অভ্যাস, অবস্থা, রক্ষনশীলতা, ক্ষমতা, ফায়সালা, পরিণাম, বিবেচনা, ক্বিয়ামত দিবস, শরীয়াত, নিয়ম-নীতি, পদ্ধতি, মত, পথ, পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা, মাযহাব, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ ইত্যাদি। আর পারিভাষিক দৃষ্টিতে দীন ইসলাম শব্দটিও মাযহাব শব্দের মতোই অর্থ প্রদান করে।

মহান আল্লাহ তায়ালা রব্বুল আলামীন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

(২৩৩)

ان الدين عند الله الاسلام. (سورة ال عمران شريف ۱۹ الاية شريف)

অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট পছন্দনীয় দ্বীন (পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা) হচ্ছে পবিত্র ইসলাম। (পবিত্র সূরাহ আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৯)

ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায়-

(২৩৪)

الدين : بالكسر وضع التى يدعو اصحاب العقول الى القبول ما هو عند الرسول الله صلى الله عليه وسلم، والدين والـملة متحدان بالذات مختلفان بالاعتبار فان الشريعة من حيث انها تطاع تسمى دينا ومن حيث انها تجمع تسمى ملة ومن حيث انها يرجع اليها تسمى مذهبا وقيل الدين منسوب الى الله والـملة منسوبة الى الرسول والـمذهب منسوب الى الـمجتهد. (التعريفات الفقهية للسيد محمد عميم الاحسان المجددى البركتى الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه الصفحة ۲۹۵)

অর্থ: الدين শব্দটির دال বর্ণে যের যোগে পড়তে হবে। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, সাইয়্যিদুনা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি নাযিলকৃত যে পবিত্র জীবন ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে বিচক্ষণ ইমাম-মুজতাহিদ উলামা কিরাম উনারা আহবান করে থাকেন সেই পবিত্র জীবন ব্যবস্থাকেই পবিত্র দ্বীন বলা হয়।

দ্বীন ও মিল্লাত শব্দ দুটি মৌলিকভাবে একই অর্থজ্ঞাপক। কিন্তু ব্যাখ্যা সাপেক্ষে শব্দ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার ইত্তিবা করার নাম পবিত্র দ্বীন, আর যখন সকলেই একই সিদ্ধান্তে জমা হয় তখন তাকে মিল্লাত বলা হয়। আর যখন মিল্লাত তথা ইমাম-মুজতাহিদ উনাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়, তখন তাকে মাযহাব বলে।

এজন্য বলা হয় : ‘পবিত্র দ্বীন’ শব্দটি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত, ‘মিল্লাত’ শব্দটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং ‘পবিত্র মাযহাব’ শব্দটি মুজতাহিদ (ইমাম উলামা আউলিয়া) উনাদের সাথে সম্পর্কযুক্ত। (আত তা’রীফাতুল ফিক্বহিয়্যাহ লিস্ সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ২৯৫ পৃষ্ঠা)

অতএব প্রমাণিত হচ্ছে যে: দ্বীন, মিল্লাত ইত্যাদি শব্দগুলো মাযহাব অর্থেই ব্যবহার হয়ে থাকে। কারণ দ্বীন, মিল্লাত, ইসলাম, শরীয়ত ইত্যাদিকে সুষ্ঠুভাবে পালন করাই মাযহাব উনার মূল উদ্দেশ্য। সুবহানাল্লাহ।

৭. شريعة (শরীয়ত) : শব্দটি একবচন, এর বহুবচন شرائع ‘শারায়িউন’। শারীয়ত শব্দটিও মাযহাব শব্দের সমার্থবোধক। মাযহাব শব্দটির মতই শারীয়ত উনার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- বিধান, ফায়সালা, শরীয়াত, নিয়ম-নীতি, আইন, মত, পথ, পন্থা, পদ্ধতি, ইসলাম, দ্বীন, পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা, মাযহাব, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ ইত্যাদি। আর পারিভাষিক দৃষ্টিতে দ্বীন ইসলাম শব্দটিও মাযহাব শব্দের মতোই অর্থ প্রদান করে।

মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন

(২৩৫)

لكل جعلنا منكم شرعة و منهاجا. (سورة المائدة شريف ۴۸ الاية شريف)

অর্থ : আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি শরীয়ত (বা নিয়ম-নীতি) ও চলার পথ তরীক্বত বা তাসাউফ দিয়েছি। (পবিত্র সূরাতুল মায়িদাহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৮)

(২৩৬)

ثم جعلناك على شريعة من الامر فاتبعها و لا تتبع اهواء الذين لا يعلمون. (سورة الجاثية شريف ۱۸ الاية شريف)

অর্থ : এরপর আমি আপনাকে রেখেছি দ্বীনের এক বিশেষ শরীয়ত উনার উপর। অতএব আপনি এর অনুসরণ করুন এবং মূর্খদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। (পবিত্র সূরাতুল জাছিয়াহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮)

এখন স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে যে, পবিত্র কুরআন মাজীদ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যে ব্যবহৃত শরীয়ত অর্থই ছিরাত, সাবীল, মাযহাব বা সঠিক পথ ইত্যাদি।

 

অসমাপ্ত-

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪২তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া    ১৫দ

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৩তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া   ১৬

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৪তম পর্ব