পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৫৭তম পর্ব

সংখ্যা: ২২৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহরীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহর বা ইহতিয়াতুয্ যোহর আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা) পেশ করা হয়েছে।

আর বর্তমানে ২৮তম ফতওয়াটি অর্থাৎ “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি” এখনো পত্রস্থ হচ্ছে। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نـمير فراى فى صفته تـماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله الـمصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী”  উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও পবিত্র ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র তাফসীর শরীফ থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি হারাম, কুফরী ও শিরকী কাজ

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে এবং ব্যাখ্যায়, তাফসীর গ্রন্থসমূহে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি প্রাণীর ছবি ইত্যাদি তৈরি করা, এদের পূজা করা এগুলোর ব্যবসা করা এবং যে কোন অবস্থায় এগুলোর অনুশীলন করাকে নিষেধ করা হয়েছে। এগুলো তৈরি করা হারাম, এগুলোর পূজা করা কুফরী শিরকী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতের বিপরীতে গাইরুল্লাহর ইবাদত করার শামিল।

লক্ষণীয় যে, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত تماثيل জাতীয় শব্দগুলো দ্বারা কোন কোন অবস্থায় সরাসরি প্রাণীর ছবি বুঝানো না হলেও প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এগুলোও একপ্রকার মূর্তি বা ভাস্কর্য। পূর্ব যামানা থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি তৈরি হয় পাথর, কাচ, তামা, লোহা, কাঠ, মাটি, স্বর্ণ, রৌপ্য ইত্যাদি উপকরণ দ্বারা। আর প্রাণীর ছবিগুলো তৈরি হয় কলমের কালি, তুলি ও আলো দ্বারা। এই কালি, তুলি ও আলো এগুলোও তো পাথর কাচ ও মাটির মতোই একেকটি উপকরণ। সুতরাং পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বর্ণিত تماثيل তামাছীল, শব্দ দ্বারা যদিও প্রাণীর ছবি সরাসরি নিষেধ হয় না। কিন্তু ব্যাখ্যা সাপেক্ষ্যে প্রাণীর ছবিগুলোও একপ্রকার মূর্তি হওয়ায় এগুলোর অনুশীলন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ভিত্তিতে হারাম, কুফরী ও শিরকী হিসেবে সাব্যস্ত। এটাই গ্রহণযোগ্য ফয়সালা।

নিম্নে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবি নিষেধ সম্পর্কিত আয়াত শরীফগুলো উল্লেখ করে বিশ্ববিখ্যাত সর্বজনমান্য পবিত্র তাফসীর শরীফ উনার কিতাব থেকে তার ছহীহ সমাধান তুলে ধরা হলো-

পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ

উনাদের তাফসীর

পবিত্র আয়াত নম্বর : ৬

(৯৮৯)

وَلَقَدْ آتَيْنَا إِبْرَاهِيمَ رُشْدَهُ مِن قَبْلُ وَكُنَّا بِه عَالِمِينَ. إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا هَذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ. قَالُوا وَجَدْنَا آبَاءنَا لَهَا عَابِدِينَ. قَالَ لَقَدْ كُنتُمْ أَنتُمْ وَآبَاؤُكُمْ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ. قَالُوا أَجِئْتَنَا بِالْحَقِّ أَمْ أَنتَ مِنَ اللَّاعِبِينَ. قَالَ بَل رَّبُّكُمْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الَّذِي فَطَرَهُنَّ وَأَنَا عَلَى ذَلِكُم مِّنَ الشَّاهِدِينَ. وَتَاللَّهِ لَأَكِيدَنَّ أَصْنَامَكُم بَعْدَ أَن تُوَلُّوا مُدْبِرِينَ. فَجَعَلَهُمْ جُذَاذًا إِلَّا كَبِيرًا لَّهُمْ لَعَلَّهُمْ إِلَيْهِ يَرْجِعُونَ. قَالُوا مَن فَعَلَ هَذَا بِآلِهَتِنَا إِنَّهُ لَمِنَ الظَّالِمِينَ. قَالُوا سَمِعْنَا فَتًى يَذْكُرُهُمْ يُقَالُ لَهُ إِبْرَاهِيمُ. قَالُوا فَأْتُوا بِهِ عَلَى أَعْيُنِ النَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَشْهَدُونَ. قَالُوا أَأَنتَ فَعَلْتَ هَذَا بِآلِهَتِنَا يَا إِبْرَاهِيمُ. قَالَ بَلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَذَا فَاسْأَلُوهُمْ إِن كَانُوا يَنطِقُونَ. فَرَجَعُوا إِلَى أَنفُسِهِمْ فَقَالُوا إِنَّكُمْ أَنتُمُ الظَّالِمُونَ. ثُمَّ نُكِسُوا عَلَى رُؤُوسِهِمْ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا هَؤُلَاء يَنطِقُونَ. قَالَ أَفَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكُمْ شَيْئًا وَلَا يَضُرُّكُمْ. أُفٍّ لَّكُمْ وَلِمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ. قَالُوا حَرِّقُوهُ وَانصُرُوا آلِهَتَكُمْ إِن كُنتُمْ فَاعِلِينَ. قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَى إِبْرَاهِيمَ. وَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا فَجَعَلْنَاهُمُ الْأَخْسَرِينَ.

অর্থ : আর আমি ইতিপূর্বে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে উনার সৎপথের জ্ঞান হাদিয়া করেছিলাম এবং আমি উনার সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাতও ছিলাম। যখন তিনি উনার চাচা ও সম্প্রদায়কে বললেন, এই মূর্তিগুলো কী, যাদের তোমরা পূজারী হয়ে বসে আছ? তারা বললো, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এদের পূজা করতে দেখেছি। তিনি বললেন, তোমরা প্রকাশ্য গোমরাহীতে আছ এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও। তারা বললো, আপনি কি আমাদের কাছে সত্যসহ আগমন করেছেন, না আপনি কৌতুক করছেন? তিনি বললেন, না, তিনিই তোমাদের পালনকর্তা যিনি নভোম-ল ও ভূম-লের পালনকর্তা, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং এ বিষয়ে আমিই অন্যতম সাক্ষী। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! তোমরা চলে গেলে আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে একটা হিকমত অবলম্বন করবো। অতঃপর তিনি সেগুলো কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন ওদের প্রধানটি ব্যতীত। যাতে তারা তার দিকে ফিরে আসে। তারা বললো, আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ ব্যবহার কে করলো? সে নিশ্চয়ই সীমালঙ্ঘনকারী। কতক লোক বললো : আমরা একজন যুবক উনাকে তাদের সম্পর্কে বিরূপ আলোচনা করতে শুনেছি, উনাকে হযরত ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) বলা হয়। তারা বললো, উনাকে জনসম্মুখে উপস্থিত করো, যাতে সকলে দেখতে পায়। তারা বললো, হে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আপনিই কি আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ ব্যবহার করেছেন? তিনি বললেন, বরং ইহাদের মধ্যে যে বড় সেই তো ইহা করেছে। এদেরকে জিজ্ঞাসা কর, যদি এরা কথা বলতে পারে। তখন তারা মনে মনে চিন্তা করলো এবং বললো : লোকসকল! তোমরাই তো সীমালঙ্ঘনকারী। অতঃপর এতে তাদের মস্তক অবনত হলো এবং তারা বললো, “আপনি তো জানেন যে, এরা কথা বলে না।” তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তোমরা কি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পরিবর্তে এমন কিছুর উপাসনা কর, যা তোমাদের কোন উপকারও করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারেনা? ধিক তোমাদের জন্যে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার পরিবর্তে যাদের উপাসনা কর তাদের জন্যে। তোমরা কি বুঝ না? তারা বললো, উনাকে আগুনে পুড়ে ফেলো, এভাবে তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য কর, যদি তোমরা কিছু করতে চাও। আমি (মহান আল্লাহ পাক) বললাম, হে আগুন, তুমি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার জন্য শীতল আরামদায়ক হয়ে যাও। তারা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার বিরুদ্ধে ফন্দি আঁটতে চাইল, অতপর আমি তাদেরকে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত করে দিলাম। (সূরাতুল আম্বিয়া : আয়াত শরীফ ৫১-৭০)

অত্র আয়াত শরীফ উনাদের বিশদ তাফসীর অসংখ্য তাফসীরের কিতাব সমূহে বর্ণিত আছে। এখানে শুধু একখানা ছহীহ তাফসীর গ্রন্থ ‘আততাফসীরুল মাযহারী’ উনার ইবারত তুলে ধরে আলোচনা করা হলো। যাতে প্রাণীর ছবি, মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য ইত্যাদী অনুশীলন করা হারাম, কুফ্রী ও র্শিক হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর এতে অসংখ্য নছীহতও বিদ্যমান রয়েছে।

(৯৯০)

وَلَقَدْ آتَيْنا جواب قسم محذوف إِبْراهِيمَ رُشْدَهُ أى صلاحه يعنى التوحيد والاجتناب عن عبادة الأوثان وإضافته ليدل على ان له شانا عظيما في الرشد مِنْ قَبْلُ يعنى قبل موسى وهارون ومحمد صلى اللّه عليه وسلم يعنى ما أوحينا إلى محمد صلى اللّه عليه وسلم ليس امرا مبدعا بل جرى به السنة الالـهية لاصلاح الخلق وقيل معناه من قبل البلوغ حين خرج من السرب وهو صغير حين قال انى وجهت يعنى أعطيناه النبوة صغيرا كما قال ليحيى اتيناه الحكم صبيا أو المعنى قبل استنبائه وَكُنَّا بِهِ أى بإبراهيم عالِمِينَ انه أهل للهداية وو النبوة حيث كان مبدأ تعينه صفة العلم والهداية من صفات اللّه تعالى.

إِذْ قالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ الظرف متعلق بايتنا أو برشده أو بمحذوف أى اذكر من اوقات رشده وقت قوله ما هذِهِ التَّماثِيلُ الَّتِي أَنْتُمْ لَها عاكِفُونَ تحقير لشانها وتوبيخ على اجلالـها فان التمثال صورة لا روح فيها فلا يضر ولا ينفع واللام للاختصاص دون التعدية فان العكوف يتعدى بعلى يعنى أنتم فاعلون العكوف لها أو يأول بعلى يعنى أنتم عليها أى على عبادتها تعلمون أو تضمن العكوف معنى العبادة يعنى أنتم لـها عابدون.

قالُوا وَجَدْنا آباءَنا لَها عابِدِينَ جواب عما لزم الاستفهام من السؤال عن الـمقتضى لعبادتها يعنى حملنا على عبادتها تقليدنا بآبائنا.

قالَ لَقَدْ كُنْتُمْ أَنْتُمْ وَآباؤُكُمْ فِي ضَلالٍ مُبِينٍ فى خطأ بيّن حيث تعبدون حجارة لا تضر ولا تنفع وتقليد من هو في خطأ بيّن خطأ بيّن.

قالُوا استبعاد التضليل ابائهم وظنا انه يقول ذلك ملاعبة أَجِئْتَنا بِالْحَقِّ أى بعلم مستند على دليل قطعى فتجدّد بـهذا القول أَمْ أَنْتَ فى هذا القول مِنَ اللَّاعِبِينَ استفهام لانكار الإنكار عليهم واستبعاد ان يكون ما هم عليه ضلالا.

قالَ بَلْ رَبُّكُمْ رَبُّ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ الَّذِى فَطَرَهُنَّ صلى خلقهن على غير مثال سبق وصف رب السموات والأرض بـهذا دفعا لقول الجهلة فى اطلاق الرب على السلطان وقول نـمرود انا احيى وأميت وهذا ضراب عن كونه لاعبا باقامة البرهان بان السموات والأرض تشهدان لـهما خالق لامكانهما وكونهما محلا للحوادث والخالق للممكنات لا بد ان يكون واجبا وجوده متصغا بصفات الكمال واحدا غير متمانع وهو يستحق العبادة لا غير وَأَنَا عَلى ذلِكُمْ الـمذكور من التوحيد مِنَ الشَّاهِدِينَ الـمعترفين الـمحققين الـمبرهنين باللسان والجنان كما ان السموات والأرض وسائر الـممكنات شاهد عليه بلسان الحال.

وَتَاللّهِ لَأَكِيدَنَّ أَصْنامَكُمْ والكيد الـمكر والحيلة والـمراد هاهنا لافعلن بها سوء أو لاجتهدن في كسرها بنوع من الاحتيال قال البيضاوي والتاء في القسم بدل من الواو الـمبدلة من الباء وفيها تعجب ولفظ الكيد وما في التاء من التعجب لصعوبة الأمر وتوقفه على نوع من الحيل لكونه على رغم نمرود وخلق كثير مع قوة سلطنته عطف على قوله قال بتأويل هذا القول يعنى قال هذا القول وهذا القول بَعْدَ أَنْ تُوَلُّوا عنها مُدْبِرِينَ لها منطلقين إلى عبيدكم قال البغوي قال مجاهد وقتادة انما قال ابراهيم هذا سرا من قومه ولم يسمع ذلك الا رجل واحد فافشاه عليه وقال انا سمعنا فتى يذكرهم يقال له ابراهيم قال السدى كان لهم في سنة مجمع وعيد وكانوا إذا رجعوا من عيدهم دخلوا على الأصنام فسجدوا لها ثم عادوا إلى منازلهم فلما كان ذلك العيد قال لابراهيم أبوه يا ابراهيم لو خرجت معنا إلى عيدنا أعجبك ديننا فخرج معهم ابراهيم فلما كان ببعض الطريق القى نفسه وقال انى سقيم يقول اشتكى رجلى فلما مضوا نادى في آخرهم وقد بقي ضعفاء الناس تاللّه لاكيدن أصنامكم فسمعوها منه ثم رجع ابراهيم إلى بيت الالهة وهن في بهو عظيم مستقبل باب البهو صنم عظيم إلى جنبه أصغر منه والأصنام بعضها إلى جنب بعض كل صنم يليه أصغر منه إلى باب البهو وإذا هو قد جعلوا طعاما فوضعوا بين أيدي الالهة قالوا إذا رجعنا وقد بركت الالـهة في طعامنا أكلنا فلما نظر إليهم ابراهيم والى ما بين أيديهم من الطعام قال لهم على طريق الاستهزاء الا تأكلون فلما لم يجبه أحد قال مالكم لا تنطقون فراغ عليهم ضربا باليمين يعنى مال على الأصنام بضربـهم ضربا باليمين لكونها أقوى من اليسار أو بسبب اليمين الّذي قال تاللّه لاكيدن أصنامكم.

فَجَعَلَهُمْ يعنى الأصنام جُذاذاً قرأ الجمهور بضم الجيم فعال بمعنى الـمفعول كالحطام من الجذ بمعنى القطع وقيل جمع لا واحد له من لفظه وقرأ الكسائى بكسر الجيم وهو لغة بمعنى المفعول أو جمع جذيذ كخفاف وخفيف يعنى كسر ابراهيم كلهن إِلَّا كَبِيراً لَهُمْ يعنى الا الصنم الأكبر حيث لـم يكسرها وعلق الفأس في عنقه ذكر اللّه سبحانه ضمير جمع المذكر على زعمهم الهة لَعَلَّهُمْ إِلَيْهِ يَرْجِعُونَ يعنى إلى ابراهيم يرجعون إليه لتفرده واشهاره بعداوة الآلهة فيحاجهم بكونها عجزة عن مقاومة رجل على ابطال الوهيتهم أو إلى الكبير يرجعون إليه فيسئلونه عن كاسرهن إذ من شان المعبود العلم والاجابة فيكبتهم بذلك أو إلى اللّه يرجعون عند ثبوت عجز الالهة.

قالُوا حين رجعوا من العيد مَنْ فَعَلَ هذا بِآلِهَتِنا من استفهامية وجاز ان يكون موصولة مع صلتها مبتدأ خبره إِنَّهُ لَمِنَ الظَّالِمِينَ بجرأته على الالهة أو بافراطه على حطمها أو على نفسه بتعريضه للاهلاك وهذه جملة مستانفة على تقدير كون ما قبلها استفهامية.

অর্থ : ( ولقد اتينا ابراهيم رشدهআমি তো হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে সঠিক পথ উনার জ্ঞান হাদিয়া করেছিলাম।) অর্থাৎ তাওহীদ উনার উপর দৃঢ় থাকার ও মূর্তিপূজা থেকে উনাকে বিরত থাকার জ্ঞান হাদিয়া করেছিলাম।

(من قبل উনার পূর্বে) : হযরত মূসা আলাইহিস সালাম, হযরত হারূন আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পূর্বে। মূলত: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি আমি যা নাযিল করেছি, তা নতুন কোন বিষয় নয়। বরং মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি মাখলূকাতের সংশোধনের ও কল্যাণের জন্য পূর্ব হতে এ নিয়ম বলে আসছেন।  কোন কোন তাফসীরকার বলেন, من قبل উনার অর্থ হলো, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি উনার যুবক বয়স মুবারকে পদার্পণ করার পূর্বে যখন গুহা থেকে বের হয়েছিলেন এবং শৈশবকালেই তিনি যখন বলেছিলেন (انى وجهت আমি নিবিষ্ট হয়েছি) এ ব্যাখ্যানুযায়ী পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যা হবে : আমি শৈশবকালেই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে আনুষ্ঠানিকতার সাথে নুবুওওয়াত হাদিয়া করেছিলাম। যেমন হযরত ইয়াহ্ইয়া আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, اتيناه الحكم صبيا আমি উনাকে শৈশবকালেই নুবুওওয়াত দিয়েছিলাম।

অথবা من قبل এর অর্থ আনুষ্ঠানিকতার সাথে নুবুওওয়াত হাদিয়া করার পূর্বে অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকতার সাথে নুবুওওয়াত হাদিয়া করার পূর্বে আমি উনাকে তাওহীদ ও মূর্তিপূজা থেকে বেঁচে থাকার জ্ঞান দিয়েছিলাম।

(و كنا به عالـمين এবং আমি উনার সম্পর্কে ছিলাম সম্যক পরিজ্ঞাত) : আমি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার সম্বন্ধে জানতাম যে, তিনিই হিদায়াতের কাজে ও নুবুওওয়াত উনাদের যোগ্য। কারণ উনার হাদী ও আলিম দুটি গুনবাচক নাম মুবারক ছিল। উনার এ ছিফাত মুবারক মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পক্ষ থেকেই হাদিয়া করা হয়েছিল।

)و اذ قال لابيه و قومه ما هذه التماثيل التى انتم لها عاكفو

যখন তিনি উনার চাচা ও সম্প্রদায়ের লোকদেরকে বললেন, এ মূর্তিগুলো কী, তোমরা যাদের পূজায় রত আছ !) : হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি মূর্তির প্রতি তাচ্ছিল্য প্রকাশ করেও তাদের কাছে একথা জিজ্ঞেস করেছিলেন এবং তাদেরকে ধমক দিয়ে সতর্ক করেছিলেন যে, যে সকল মূর্তির প্রতি তারা এত শ্রদ্ধা নিবেদন করছে, সেগুলোতো নির্জীব ও প্রাণহীন। সেগুলো কারোর কোন ক্ষতি করতে সক্ষম নয়, আর কোন উপকার করারও ক্ষমতা রাখে না।

( قالوا وجدنا ابائنا لها عابدين তারা বললো, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষগণকে এদের পূজা করতে দেখেছি) : অর্থাৎ আমাদের পিতৃপুরুষগণের অনুকরণই আমাদেরকে এদের পূজা করতে অনুপ্রাণিত করছে।

(قال لقد كنتم انتم ابائكم فى ضلال مبين তিনি বললেন, তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষগণও স্পষ্ট গোমরাহীতে রয়েছ।) : কারণ তোমরা পাথর পূজা করছো, যা না ক্ষতি করতে পারে আর না উপকার করার ক্ষমতা রাখে। বস্তুত: যারা স্পষ্ট গোমরাহীতে আছে, তাদের অনুকরণ করাও স্পষ্ট গোমরাহী।

(قالوا তারা বললো) : অর্থাৎ তাদের পূর্বপুরুষরা গোমরাহীকে অসম্ভব মনে করে এবং সাথে সাথে এ ধারণা পোষণ করে বলে যে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি যা কিছু বলছেন তাতো কৌতুক করে বলছেন। তারা বললো;

(اجئتنا بالحق ام انت من اللعبين আপনি কি আমাদের নিকট সত্য এনেছেন, না আপনি কৌতুক করছেন ?) : অর্থাৎ আপনি যা বলেছেন তা অকাট্য ও নিশ্চিত দলীল প্রমাণের ভিত্তিতে বলছেন, না কি একথা বলে আপনি কৌতুক করছেন ? তাদের পিতৃপুরুষদেরকে যে বিভ্রান্ত বলা হয়েছে তার প্রতিবাদের জন্য এ প্রশ্ন এবং এ কথা প্রকাশ করাও এর উদ্দেশ্য যে তাদের পিতৃপুরুষদের বিভান্ত হওয়া অসম্ভব। কিন্তু তারা বিভ্রান্তই ছিল।

(قال بل ربكم رب السموت و الارض الذى فطرهن তিনি বললেন, না, তোমাদের রব তো তিনিই যিনি আকাশম-লী ও পৃথিবীর রব! যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন) : অর্থাৎ পূর্বের কোন নজীর ছাড়াই তিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রবের সাথে পুনরায় নজীর ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন কথাটা ব্যবহার করার কারণ হলো, মূর্খরা ‘রব’ শব্দ ‘বাদশা’ এর উপর প্রয়োগ করে থাকে, তাদের এ ভুল প্রয়োগের প্রতিবাদ করাই এ বাক্যটা ব্যবহার করার কারণ। নমরূদ তো বলেই ফেলেছিল- انا احيى و اميت ‘আমি জীবিত করি ও মৃত্যু ঘটাই’। নাঊযুবিল্লাহ। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি নিজ কথা দ্বারা কৌতুক করেছেন এটা কেউ ধারণা করতে পারে, এ কারণে তিনি بَلْ বরং শব্দ দ্বারা তার প্রতিবাদ করেছেন এবং দলীল-প্রমাণ পেশ করেছেন যে, আকাশম-লী ও পৃথিবী সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, তাদের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন। কারণ উভয়টিই ‘মুমকিন’ অর্থাৎ অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান নয়। এতে নিত্য-নতুন ঘটনা ঘটে থাকে। অতএব এমন বস্তুর জন্য এমন সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন,যাঁর অস্তিত্ব অবশ্যম্ভাবী, অনাদি-অনন্ত। যিনি হবেন যাবতীয় উত্তম গুনাবলীর অধিকারী। এক অদ্বিতীয় যিনি উনার কোন কাজেই বাধা প্রাপ্ত নন, তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এমন মহান সত্তাই হবেন ইলাহ ও মা’বূদ। অন্য কেউ নয়।

(و انا على ذلكم এবং আমি এ বিষয়ে) : অর্থাৎ তাওহীদ বিষয়ে।

(من الشاهدين অন্যতম সাক্ষী) : অর্থাৎ আমি এ বিষয়ে মুখে স্বীকার করছি, দলীল-প্রমাণ পেশ করছি এবং অন্তরে বিশ্বাস করছি। যেমন আসমান ও যমীন এবং মুমকিন বস্তুত এ বিষয়ের নীরব সাক্ষী।

(تالله لاكيدن اصنامكم মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ক্বসম ! আমি তোমাদের মূর্তিগুলো সম্বন্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।) : আল্ কাইদ অর্থ কৌশল বা হিকমত অবলম্বন করা। এখানে পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ- আমি অবশ্যই তোমাদের মূর্তিগুলো ধ্বংস করবো। অথবা হিকমতের সাথে মূর্তিগুলো ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করবো।

( بعد ان تولوا مدبرينতোমরা চলে যাবার পর) :

অর্থাৎ তোমরা যখন খেলার মাঠে যাবে , তখন আমি অবশ্যই মূর্তিগুলো ভেঙ্গে ফেলব। হযরত মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ক্বাতাদাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম একথা উনার সম্প্রদায় থেকে গোপনে বলেছিলেন। এক ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ একথা শুনতে পায়নি। পরে সে-ই একথা ছড়িয়ে দিয়েছিল। সে বলেছিল, এক যুবক যিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে আমি এ মূর্তিগুলোর আলোচনা করতে শুনেছি। হযরত সুদ্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তাদের বছরে একটা মেলা অনুষ্ঠিত হতো। মেলা থেকে যখন তারা ফিরে আসতো, তখন প্রথমেই তারা মুর্তির নিকট প্রবেশ করতো এবং তার সামনে সিজদায় লুটিয়ে পড়তো। এ কাজ শেষ করেই তারা তাদের বাড়ীতে ফিরতো। মেলার সময় যখন সমাগত হলো, তখন হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার চাচা আযর উনাকে বললো, হে হযরত ইবরাহীম আলাইহস সালাম আপনি যদি আমাদের সাথে আমাদের মেলায় গমন করেন, তবে আমাদের ধর্ম আপনার ভাল লাগবে। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মেলায় যাবার জন্য তাদের সাথে বের হলেন। কিন্ত কিছু পথ চলেই তিনি পড়ে গেলেন মাটিতে এবং বললেন, আমি অসুস্থ। তিনি বললেন, আমার পায়ে ব্যথা হয়েছে। তারা যখন চলে গেল এবং দুর্বল লোকেরাই পেছনে রয়ে গেল, তখন তিনি উচ্চস্বরে বললেন-

 تالله لاكيدن اصنامكم ‘মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ক্বসম!

আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর সম্বন্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’ তখন সেই দুর্বল লোকেরা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার এ কথা শুনতে পেল। এরপর তিনি তাদের মন্দিরে প্রবেশ করলেন। সমস্ত মূর্তি একটা বড় ঘরে সারিবদ্ধভাবে রাখা ছিল। মন্দিরের দরজায় সর্ববৃহৎ মূর্তি রাখা ছিল। তার পাশেই তার চেয়ে ছোট মূর্তি ছিল। তার পাশে তার চেয়ে ছোট মূর্তি এমনিভাবে পর্যায়ক্রমে মূর্তিগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। সব মূর্তির সামনে খাবারও রাখা ছিল। তাদের সামনে খাবার রেখে তারা একথা বলতো : আমরা যখন ফিরে আসব এবং আমাদের উপাস্যদের মাধ্যমে খাবারে উন্নতি হবে। তখন আমরা আহার করব।

হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি যখন তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং তাদের সামনে যে খাদ্য দ্রব্য রয়েছে তাও তিনি দেখলেন, তখন তিনি বললেন, তোমরা খাচ্ছনা কেন? কোন জবাব না পেয়ে তিনি বললেন : তোমরা কথা বলছনা কেন? এ কথা বলেই তিনি ডান হাত মুবারক দ্বারা তাদের উপর আঘাত হানলেন, কারণ বাঁ হাতের তুলনায় ডান হাত অধিক শক্তিশালী। অথবা পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ তিনি মূর্তিগুলো সম্বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবার জন্য যে ক্বসম খেয়েছিলেন, সে ক্বসমের কারণে তিনি মূর্তিগুলোর প্রতি আঘাত হানলেন।

(فجعلهم جذاذا এরপর তিনি সেগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন) :  অর্থাৎ হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সব মূর্তিগুলোকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলেন।

(الا كبيرا لهم সেগুলোর প্রধানটি ব্যতীত) : অর্থাৎ প্রধান মূর্তিটি না ভেঙ্গে তার গলায় কুড়ালটি ঝুলিয়ে রাখলেন।

(لعلهم اليه يرجعون যাতে তারা উনার দিকে ফিরে আসে) : অর্থাৎ তারা যেন হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দিকে ফিরে আসে এবং উনাকে জিজ্ঞাসা করে যে, তাদের মূর্তিগুলো কে ভেঙ্গেছে? কারণ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি মূর্তির প্রতি শত্রুতা পোষণ করেন এবং তার বিরোধীতা করেন বলে সকলের জানা ছিল। যখন তারা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করবে, তখন তিনি তাদেরকে জানিয়ে দিবেন যে, তাদের এসব মূর্তি একেবারেই অক্ষম। একজন মানুষেরই মুকাবিলা করার ক্ষমতা তারা রাখে না। এভাবে তিনি প্রমাণ করবেন, ‘এগুলো ইলাহ হবার যোগ্য নয়’। অথবা আয়াত শরীফ উনার অর্থ হলো : ‘যাতে তারা প্রধান মূর্তির নিকট আসে এবং প্রধান মূর্তির নিকট তারা জিজ্ঞেস করে যে, ছোট মূর্তিগুলো কে ভেঙ্গেছে ?’ যে ইলাহ হবে তার অবশ্যই জ্ঞান থাকতে হবে এবং তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। কিন্তু কোন জবাব না পেয়ে তারা লজ্জিত হবে এবং তারা নিজেরাই নীরব হয়ে যাবে। অথবা পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ হলো : তাদের উপাস্যদের অক্ষমতা প্রমাণীত হবার পর তারা যাতে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার প্রতি ফিরে আসে।

(قالوا তারা বললো) : যখন তারা মেলা থেকে ফিরে এলো।

(من فعل هذا بالـهتنا انه لـمن الظالـمين আমাদের উপাস্যগুলোর প্রতি এরূপ করলো কে? সে অবশ্যই সীমালঙ্ঘনকারী।) : উপাস্যদের উপর আক্রমণ করার কারণে অথবা মূর্তিগুলোকে গুড়িয়ে দেয়ার কারণে তিনি সীমালঙ্ঘনকারী। অথবা সীমালঙ্ঘনকারী একারণে বলা যেতে পারে যে, তিনি নিজেকে ধ্বংসের মুখে উপস্থাপন করেছেন। নাঊযুবিল্লাহ।

 

৩২তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”-

পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব উনার উপর মউত পর্যন্ত ইস্তিক্বামত থাকা ফরয

কতিপয় শব্দার্থ ও পরিভাষা

পূর্ব প্রকাশিতের পর

৪১. الحرام  (আল্ হারাম) :

(১১৫)

الحرام : ضد الحلال قال الراغب الحرام الـممنوع منه. (التعريفات الفقهية للمفتى السيد محمد عميم الاحسان الـمجددى البركتى الحنفى الـماتريدى رحمة الله عليه الصفحة ۲۶۲)

অর্থাৎ : হারাম : হালালের বিপরীতই হলো হারাম। আল্লামা রাগিব ইস্পাহানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: পবিত্র কুরআন মাজীদ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস উনাদের দলীলের ভিত্তিতে যা কিছু নিষেধ করা হয়েছে তা-ই হারাম। (আত্ তা’রীফাতুল ফিকহিয়্যাহ : মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ২৬২ পৃষ্ঠা)

৪২.  مكروه تحريـمى(মাকরূহ তাহরীমী) :

(১১৬)

الْمَكْرُوه تَحْرِيمًا : وَ هُوَ مَا كَانَ إلَى الْحَرَامِ أَقْرَبُ، و يُسَمِّيه مُحَمَّدٌ رحمة الله عليه حَرَامًا ظَنِّيًّا. (حاشية رد الـمحتار على الدر الـمختار شرح تنوير الابصار الـمؤلف : علامة حضرت ابن عابدين محمد امين بن عمر الشامى الحنفى الـماتريدى رحمة الله عليه الـمتوفى : ۱۲۵۲ هـ باب سنن الوضوء مَطْلَبٌ فِي تَعْرِيفِ الْمَكْرُوهِ)

অর্থ : যে বিধান হারামের কাছাকাছি হুকুম রাখে তথা হারামের মতই হুকুম রাখে তাকে মাকরূহ তাহরীমী বলা হয়। হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি মাকরূহ তাহরীমীকে ‘হারামে যন্নী’ নামে নামকরণ করেছেন। (হাশিয়াতু রদ্দিল মুহতার আলাদ্ দুররিল্ মুখতার শরহে তানবীরুল আবছার-আল্লামা হযরত ইবনু আবিদীন মুহম্মদ আমীন বিন উমর শামী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ১২৫২ হিজরী পরিচ্ছেদ: উযুর সুন্নাত অনুচ্ছেদ: মাকরূহ পরিচিতি )

৪৩. مكروه تنزيهى  (মাকরূহ তানযীহী) :

(১১৭)

الْمَكْرُوه تَنْزِيهًا : وَ هُوَ مَا كَانَ تَرْكُهُ أَوْلَى مِنْ فِعْلِهِ، وَ يُرَادِفُ خِلَافَ الْأَوْلَى. (حاشية رد الـمحتار على الدر الـمختار شرح تنوير الابصار الـمؤلف : علامة حضرت ابن عابدين محمد امين بن عمر الشامى الحنفى الـماتريدى رحمة الله عليه الـمتوفى : ۱۲۵۲ هـ باب سنن الوضوء مَطْلَبٌ فِي تَعْرِيفِ الْمَكْرُوهِ)

অর্থ : যে কাজ করার থেকে তরক করাই উত্তম তা-ই মাকরূহ তানযীহী। একই ভাবে যা উত্তমতার বিপরীত তা-ই মাকরূহ  তানযীহী। (হাশিয়াতু রদ্দিল মুহতার আলাদ্ দুররিল্ মুখতার শরহে তানবীরুল আবছার-আল্লামা হযরত ইবনু আবিদীন মুহম্মদ আমীন বিন উমর শামী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ১২৫২ হিজরী পরিচ্ছেদ: উযুর সুন্নাত অনুচ্ছেদ: মাকরূহ পরিচিতি )

৪৪. النفاق  (নিফাক্ব বা মুনাফিক্বী):

(১১৮)

النفاق فى الدين : هو ستر الرجل كفره بقلبه و اظهاره ايمانه بلسانه فهو منافق. (التعريفات الفقهية للمفتى السيد محمد عميم الاحسان الـمجددى البركتى الحنفى الـماتريدى رحمة الله عليه الصفحة ۵۳۰)

অর্থ : পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে, কোন ব্যক্তি কর্তৃক তার অন্তরে কুফরী গোপন রেখে বাহ্যিকভাবে ঈমান প্রকাশ করাকে নিফাক্ব (মুনাফিক্বী) বলে। আর এমন ব্যক্তিকে মুনাফিক্ব (কপটচারী) বলা হয়ে থাকে। (আত্ তা’রীফাতুল ফিকহিয়্যাহ : মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৫৩০ পৃষ্ঠা)

৪৫. المرتدّ  (মুরতাদ্দ) :

(১১৯)

الـمرتد : هو الراجع عن دين الاسلام او هو الذى كفر بعد الايـمان. (التعريفات الفقهية للمفتى السيد محمد عميم الاحسان الـمجددى البركتى الحنفى الـماتريدى رحمة الله عليه الصفحة ۴۷۷)

অর্থ : যে পবিত্র দ্বীন ইসলাম থেকে প্রত্যাবর্তণ করেছে তাকে মুরতাদ্দ বলা হয়, অথবা যে পবিত্র ঈমান গ্রহণ করার পর কুফরী করেছে তাকে মুরতাদ্দ বলা হয়ে থাকে। (আত্ তা’রীফাতুল ফিকহিয়্যাহ : মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৪৭৭পৃষ্ঠা)

৪৬. الصحابى  (ছাহাবী) :

(১২০)

الصحابى : هو من لقى النبى صلى الله عليه و سلم مؤمنا به و مات على الايمان. (التعريفات الفقهية للمفتى السيد محمد عميم الاحسان الـمجددى البركتى الحنفى الـماتريدى رحمة الله عليه الصفحة ۳۴۶)

অর্থ : যিনি পবিত্র ঈমানের সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছেন এবং পবিত্র ঈমানের উপর ইন্তিকাল করেছেন, উনাকেই ছাহাবী বলা হয়ে থাকে। (আত্ তা’রীফাতুল ফিকহিয়্যাহ : মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৩৪৬পৃষ্ঠা)

৪৭. التابعى  (তাবিয়ী) :

(১২১)

التابعى : هو من لقى الصحابى مؤمنا بالنبى صلى الله عليه وسلم و مات على الايمان. (التعريفات الفقهية للمفتى السيد محمد عميم الاحسان الـمجددى البركتى الحنفى الـماتريدى رحمة الله عليه الصفحة ۶۱۳ )

অর্থ : সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান গ্রহণকারী একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাকেও যিনি দেখেছেন এবং ঈমানের উপর ইন্তিকাল বরণ করেছেন উনাকেই তাবিয়ী বলা হয়ে থাকে। (আত্ তা’রীফাতুল ফিকহিয়্যাহ : মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৬১৩ পৃষ্ঠা)

৪৮. تابع التابعى  (তাবিউত্ তাবিয়ীন) :

(১২২)

تابع التابعى هو من شافه التابعى مؤمنا بالنبى صلى الله عليه وسلم. (منهج النقد فى علوم الحديث تأليف: نور الدين عتر الناشر: دار الفكر دمشق- سورية)

অর্থ : সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ঈমান গ্রহণকারী একজন হযরত তাবিয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকেও যিনি দেখেছেন এবং ঈমানের উপর ইন্তিকাল বরণ করেছেন উনাকেই তাবিউত্ তাবিয়ীন বলা হয়ে থাকে। (মিনহাজুন্ নাক্দ ফী উলূমিল হাদীছ- নূরুদ্দীন আতার প্রকাশনা: দারুল্ ফিক্র-দামেশক্ব)

(১২৩)

 ৪৯. মুতাক্বাদ্দিমীন(متقدمين)  :

ইমাম আ’যম হযরত আবূ হানীফাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ছাহিবাঈন (হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি) উনারা এবং উনাদের সমসাময়িক ফক্বীহগণ হচ্ছেন উলামায়ে মুতাক্বাদ্দিমীন অগ্রগণ্য উলামায়ে কিরাম। কারো মতে, হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার পর্যন্ত পূর্বের ফক্বীহগণই মুতাক্বাদ্দিমীন।

(১২৪)

৫০. মুতাআখখিরীন(متاخرين)  :

হযরত মুতাক্বাদ্দিমীন উনাদের পরবর্তী ফক্বীহগণ হলেন উলামায়ে মুতাআখখিরীন। কারো মতে, হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার পর হতে হযরত ইমাম হাফিযুদ্দীন বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি পর্যন্ত সকল ফক্বীহ। আল্লামা হযরত যাহাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি তৃতীয় হিজরী শতাব্দীর পূর্বের ফক্বীহগণকে মুতাক্বাদ্দিমীন আর পরবর্তীগণকে মুতাআখখিরীন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

(১২৫)

৫১. আল্ মাযাহিবুল্ আরবায়াহ্  (الـمذاهب الاربعة):

 (১) হানাফী মাযহাব (২) মালিকী মাযহাব (৩) শাফিয়ী মাযহাব (৪) হাম্বালী মাযহাব। এ চার মাযহাব উনাদেরকে একত্রে আল মাযাহিবুল আরবায়া বলে।

(১২৬)

৫২. আল্ আইম্মাতুল্ আরবায়াহ্  (الائمة الاربعة):

মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের প্রতিষ্ঠাতা উনাদেরকে আইম্মাহ আরবায়াহ্ বলা হয়। উনারা হলেন, (১) হানাফী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আ’যম হযরত ইমাম নু’মান বিন ছাবিত বিন যাওতী হযরত আবূ হানীফাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি, (২) মালিকী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা হযরত ইমাম মালিক বিন আনাস রহমাতুল্লাহি আলাইহি, (৩) শাফিয়ী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (৪) হাম্বালী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা হযরত ইমাম আহমদ বিন মুহম্মদ বিন হাম্বাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি।

(১২৭)

৫৩. আইম্মাতুনাছ্ ছালাছাহ্  (ائمتنا الثلاثة):

হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকে একই সাথে আইম্মাতুনাছ্ ছালাছাহ্ বলা হয়।

(১২৮)

৫৪. শায়খাঈন  (شيخين):

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের মধ্যে ছিদ্দীকে আকবার আফদ্বালুন নাস, বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম ও ফারূক্বে আ’যম হযরত উমর ইবনুল্ খত্তাব আলাইহিস সালাম উনাদেরকে শায়খাঈন বলা হয়।

(১২৯)

৫৫. শায়খাঈন  (شيخين):

হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারা দু’জন হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার শায়েখ বা শিক্ষক ছিলেন বলেই উনাদেরকে শায়খাঈন বা দু’উস্তায বলা হয়ে থাকে।

(১৩০)

৫৬. শায়খাঈন  (شيخين):

হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী ও সংকলনের দৃষ্টিতে হযরত ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকে একই সাথে শায়খাঈন বলা হয়ে থাকে।

(১৩১)

৫৭. ছাহিবাঈন  (صاحبين):

হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারা দু’জন হযরত আবূ হানীফাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রধান ছাত্র। এ হিসেবে উভয়ে পরস্পর সাথী।

(১৩২)

৫৮. ত্বরফাঈন  (طرفين):

হযরত ইমাম আবূ হানীফাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদের দু’জনকে একত্রে ত্বরফাঈন বলা হয়।

(১৩৩)

৫৯. সালাফ  (سلف):

হযরত ইমাম আবূ হানীফাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি হতে হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি পর্যন্ত ফক্বীহগণ সালাফ বা প্রাচীণ ফক্বীহ।

(১৩৪)

৬০. খালাফ  (خلف):

হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার পর হতে হযরত ইমাম শামসুল আইম্মাহ হালওয়ানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি পর্যন্ত ফক্বীহগণ খালাফ বা তৎপরবর্তী ফক্বীহ।

(১৩৫)

৬১. রিওয়াইয়াতুয্ যাহির  (رواية الظاهر):

হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক লিখিত ৬ খানা কিতাবকে রিওয়াইয়াতুয্ যাহির বা প্রকাশ্য বর্ণনা বলা হয়ে থাকে। সেগুলো হলো: (১) আল্ জামিউছ্ ছগীর (২) আল্ জামিউল্ কবীর (৩) আস্ সিয়ারুছ্ ছগীর (৪) আস্ সিয়ারুল্ কবীর (৫) আল্ মাব্সূত (৬) আয্ যিয়াদাত।

(১৩৬)

৬২. কুতুবুন্ নাওয়াদির  (كتب النوادر):

রিওয়াইয়াতুয্ যাহির ৬ খানা কিতাব ছাড়া হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি রচিত অন্যান্য কিতাবগুলোকে কুতুবুন্ নাওয়াদির বলা হয়।

(১৩৭)

৬৩. খইরুল্ কুরূন  (خير القرون):

প্রথম তিন যুগ তথা হযরত ছাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম, হযরত তাবিয়ীন রহমাতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত তাবিউত্ তাবিয়ীন রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের যুগকে একই সাথে খইরুল্ কুরূন বা সর্বোত্তম যুগ বলা হয়ে থাকে। এ যুগকে ‘আছ্ ছদরুল আউয়াল’ও বলা হয়।

(১৩৮)

৬৪. শায়েখ  (شيخ):

পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষাদাতা রাবীকে উনার ছাত্রের তুলনায় ‘শায়েখ’ বলা হয়ে থাকে।

(১৩৯)

৬৫. মুহাদ্দিছ  (محدث):

যিনি হাদীছ শরীফ চর্চা করেন এবং বহুসংখ্যক হাদীছ শরীফ উনার সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন উনাকে ‘মুহাদ্দিছ’ বলে।

(১৪০-১৪১)

৬৬. হাফিযুল্ হাদীছ  (حافظ الحديث): হযরত ছাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ও হযরত তাবিয়ীন রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের যুগের পর যিনি সনদ ও মতনের সমস্ত বৃত্তান্তসহ এক লক্ষ হাদীছ শরীফ আয়ত্ত করেছেন উনাকে ‘হাফিযুল্ হাদীছ’ বলে। মুফতী আ’যম হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল্ ইহসান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত ‘মীযানুল্ আখবার’ কিতাবের বর্ণনা মতে, যিনি সনদ ও মতনের সমস্ত বৃত্তান্তসহ এক হাজার হাদীছ শরীফ আয়ত্ত করেছেন উনাকে ‘হাফিযুল্ হাদীছ’ বলে। তবে, কেউ কেউ হাফিযুল্ হাদীছ হওয়ার জন্য ইলমে লাদুন্নী শর্ত করেছেন।

(১৪২)

৬৭. হুজ্জাত  (حجة): হযরত ছাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ও হযরত তাবিয়ীন রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের যুগের পর যিনি সনদ ও মতনের সমস্ত বৃত্তান্তসহ তিন লক্ষ হাদীছ শরীফ আয়ত্ত করেছেন উনাকে ‘হুজ্জাত’ বলে। তবে, কেউ কেউ হুজ্জাত হওয়ার জন্য ইলমে লাদুন্নী শর্ত করেছেন।

(১৪৩)

৬৮. হাকিমুল হাদীছ  (حاكم الحديث): হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ও হযরত তাবিয়ীন রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের যুগের পর যিনি সনদ ও মতনের সমস্ত বৃত্তান্তসহ সমস্ত হাদীছ শরীফ আয়ত্ত করেছেন উনাকে ‘হাকিমুল্ হাদীছ’ বলে। তবে, কেউ কেউ হাকিমুল্ হাদীছ হওয়ার জন্য ইলমে লাদুন্নী শর্ত করেছেন।

অসমাপ্ত – পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪২তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া    ১৫দ

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৩তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া   ১৬

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৪তম পর্ব