পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৫৬তম পর্ব

সংখ্যা: ২২৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহরীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহর বা ইহতিয়াতুয্ যোহর আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা) পেশ করা হয়েছে।

আর বর্তমানে ২৮তম ফতওয়াটি অর্থাৎ “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি” এখনো পত্রস্থ হচ্ছে। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বরতমান ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نـمير فراى فى صفته تـماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله الـمصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী”  উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্করয তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও পবিত্র ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র তাফসীর শরীফ থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি হারাম, কুফরী ও শিরকী কাজ

 

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে এবং ব্যাখ্যায়, তাফসীর গ্রন্থসমূহে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি প্রাণীর ছবি ইত্যাদি তৈরি করা, এদের পূজা করা এগুলোর ব্যবসা করা এবং যে কোন অবস্থায় এগুলোর অনুশীলন করাকে নিষেধ করা হয়েছে। এগুলো তৈরি করা হারাম, এগুলোর পূজা করা কুফরী শিরকী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতের বিপরীতে গাইরুল্লাহর ইবাদত করার শামিল।

লক্ষণীয় যে, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত تماثيل জাতীয় শব্দগুলো দ্বারা কোন কোন অবস্থায় সরাসরি প্রাণীর ছবি বুঝানো না হলেও প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এগুলোও একপ্রকার মূর্তি বা ভাস্কর্য। পূর্ব যামানা থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি তৈরি হয় পাথর, কাচ, তামা, লোহা, কাঠ, মাটি, স্বর্ণ, রৌপ্য ইত্যাদি উপকরণ দ্বারা। আর প্রাণীর ছবিগুলো তৈরি হয় কলমের কালি, তুলি ও আলো দ্বারা। এই কালি, তুলি ও আলো এগুলোও তো পাথর কাচ ও মাটির মতোই একেকটি উপকরণ। সুতরাং পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বর্ণিত تماثيل তামাছীল, শব্দ দ্বারা যদিও প্রাণীর ছবি সরাসরি নিষেধ হয় না। কিন্তু ব্যাখ্যা সাপেক্ষ্যে প্রাণীর ছবিগুলোও একপ্রকার মূর্তি হওয়ায় এগুলোর অনুশীলন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ভিত্তিতে হারাম, কুফরী ও শিরকী হিসেবে সাব্যস্ত। এটাই গ্রহণযোগ্য ফয়সালা।

নিম্নে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবি নিষেধ সম্পর্কিত আয়াত শরীফগুলো উল্লেখ করে বিশ্ববিখ্যাত সর্বজনমান্য পবিত্র তাফসীর শরীফ উনার কিতাব থেকে তার ছহীহ সমাধান তুলে ধরা হলো-

 

পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ

উনাদের তাফসীর

 

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর : ৫

وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَـذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الأَصْنَامَ. رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ فَمَن تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

অর্থ : যখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি দোয়া মুবারক করলেন, হে আমার প্রতিপালক! এ পবিত্র (মক্কা) শহরকে নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার সন্তান-সন্ততি তথা বংশধরকে মূর্তিসমূহের পূজা থেকে দূরে রাখুন।

হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই এ সকল মূর্তিগুলো অসংখ্য লোককে বিপথগামী করেছে। অতএব, যে আমার অনুসরণ করে সে আমার দলভুক্ত, কিন্তু কেউ আমার অবাধ্য হলে নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (পবিত্র সূরাতু ইবরাহীম আলাইহিস সালাম : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৫-৩৬)

(৯৮১-৯৮২)

)وَاِذْ قَالَ) وقد قال (اِبْرَاهِيمُ) بعد ما بنى البيت (رَبِّ) يا رب (اجعل هذا البلد) مكة (امِناً) من ان يهاج فيه ويأمن فيه الخائف (واجنبنى) احفظنى (وَبَنِىَّ اَن نَّعْبُدَ الاَصْنَامَ) من عبادة الاصنام والنيران ويقال اعصمنى (رَبِّ) يا رب (اِنَّهُنَّ اَضْلَلْنَ كَثِيراً مِّنَ الناس) اى اضل بـهن كثير من الناس ويقال اضل بهن كثير من الناس (فَمَن تَبِعَنِىْ) تبع ديني وأطاعني (فَاِنَّهُ مِنِّىْ) على ديني (وَمَنْ عَصَانِى) فخالف ديني (فَاِنَّكَ غَفُورٌ) متجاوز لـمن تاب منهم اى يتوب عليهم (رَّحِيمٌ) لـمن مات على التوبة . (تنوير الـمقباس من تفسير ابن عباس رضى الله عنه الـمتوفى : ۶۸ هجرى جمعه : محمد بن يعقوب الفيروز آبادى الـمتوفى : ۸۱۷ هـجرى(

অর্থ : وَاِذْ قَالَ اِبْرَاهِيمُ স্মরণ করুন, যখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি বলেছিলেন, কা’বা শরীফ উনাকে নির্মাণের পর رَبِّ اجْعَلْ হে প্রতিপালক! হে আমার খালিক্ব মালিক রব! هَذَا الْبَلَدَ এই পবিত্র নগরী উনাকে, মক্কা নগরী উনাকেامِنًا  নিরাপদ করে দিন, তাতে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া থেকে এবং ভীত ব্যক্তিও যেন সেখানে নির্ভয়ে থাকে।

واجنبنى وَبَنِىَّ اَنْ نَعْبُدَ الْاَصْنَامَ

এবং আমাকে ও আমার পুত্রগণকে প্রতিমা পূজা থেকে দূরে রাখুন। অপর ব্যাখ্যায় পবিত্র রাখুন।

رَبِّ اِنَّهُنَّ اَضْلَلْنَ كَثِيْرًا مِّنَ النَّاسِ হে আমার রব! প্রতিপালক! নিশ্চয়ই এ সকল প্রতিমা বহু লোককে বিভ্রান্ত করেছে। অর্থাৎ এগুলোর মাধ্যমে বহু লোককে পথভ্রষ্ট করা হয়েছে। অপর ব্যাখ্যায় এগুলোর মাধ্যমে বহু লোক পথভ্রষ্ট হয়েছে فَمَنْ تَبِعَنِىْ সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে, আমার দ্বীনের অনুসরণ ও আমার আনুগত্য করবে فَاِنَّه مِنِّىْ নিশ্চয়ই সেই আমার দলভুক্ত বা আমার দ্বীনভুক্ত وَمَنْ عَصَانِىْ আর যে আমার অবাধ্য হবে, আমার পবিত্র দ্বীন উনার বিরুদ্ধাচরণ করবে فَاِنَّكَ غَفُورٌ আপনি তো ক্ষমাশীল, তাদের মধ্যে যারা তাওবা করে, তাদের পাপ মোচনকারী অর্থাৎ তাদের তাওবা কবূল করেন رَّحِيمٌ পরম দয়ালু, যে তাওবা উনার উপর মৃত্যুবরণ করেন তার জন্যে। (তানবীরুল মাক্বাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ওফাত মুবারক : ৬৮ হিজরী- জমাকারী : মুহম্মদ বিন ইয়া’কূব ফিরোযাবাদী ওফাত : ৮১৭ হিজরী)

(৯৮৩-৯৮৪)

وَإِذْ قالَ إِبْراهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ يعنى مكة آمِناً أى ذا أمن لـمن فيها فالـمسئول من هذا القول ازالة الخوف وجعل مكة أمنا ، واما فى قوله تعالى اجْعَلْ هذا بَلَداً آمِناً جعل تلك الوادي بلدا من البلاد الامنة وَاجْنُبْنِي بعّدنى وَبَنِيَّ من أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنامَ أى اجعلنا منها فى جانب – وفيه دليل على ان عصمة الأنبياء بتوفيق اللّه تعالى وحفظه إياهم ولفظ بنىّ لا يشتمل الأحفاد وإطلاقها على ما يعم الأحفاد فى قوله تعالى يا بَنِي آدَمَ – يا بَنِي إِسْرائِيلَ من قبيل عموم الـمجاز فلا يشكل بانه قد عبد كثير من أولاد إسماعيل عليه السلام الأصنام – وأخرج ابن أبى حاتم عن ابن عيينة ان أولاد إسماعيل لـم يعبدوا الصنم محتجا بهذه الآية – وقال انـما كانت لـهم حجارة يدورون بـها ويسمون الدوار- ويقولون البيت حجر فحيثما نصبنا حجرا فهو بـمنزلته – وزاد فى الدر الـمنثور قيل وكيف لـم يدخل ولد إسحاق وسائر ولد ابراهيم عليه السلام – قال لأنه دعا لاهل هذه البلدان لا يعبدوا إذ أسكنهم وقال اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِناً – ولـم يدع لجميع البلدان بذلك – قال وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنامَ فيه وقد خص اهله – وقال رَبَّنا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي – وقول ابن عيينة هذا مردود بالكتاب ج ۵ ، ص : ۲۷۵

والسنة والإجماع والخبر الـمتواتر عن حال أهل مكة – فان الـمشركين فى كتاب اللّه تعالى عبارة عن أهل مكة غالبا وقد قال اللّه تعالى سَيَقُولُ الَّذِينَ أَشْرَكُوا لَوْ شاءَ اللَّهُ ما أَشْرَكْنا وَلا آباؤُنا وَلا حَرَّمْنا من دونه مِنْ شَيْ ءٍ وغير ذلك واللّه اعلم.

رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيراً مِنَ النَّاسِ نسب الاضلال اِليهن بالـمجاز باعتبار السببية يعنى ضل بـهن كثير من الناس عن طريق الـهدى حين عبدوهن فَمَنْ تَبِعَنِي فى الدين فَإِنَّهُ مِنِّي أى بعضى لا ينفك عنى فى الدنيا والاخرة حتّى يدخل معى الجنة وَمَنْ عَصانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ تقديره فاغفر له ذا رحمه فانك غفور رحيم – قال السدّى معناه من عصانى ثم تاب – وقال مقاتل بن حبان من عصانى فيما دون الشرك – والظاهر انه قال ذلك قبل ان يعلمه اللّه انه تعالى لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ – فلما علم ذلك قال وارزقهم مِنَ الثَّمَراتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ. (التفسير الـمظهرى اى تفسير البانيباتى اى تفسير ثناء الله الـمؤلف : القاضى الامام حضرت علامة محمد ثناء الله العثمانى الـمظهرى البانيباتى النقشبندى الـمجددى الحنفى الـماتريدى رحمة الله عليه الـمتوفى : ۱۲۲۵ هجرى(

অর্থ : وَإِذْ قالَ إِبْراهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِناً  (স্মরণ করুন , হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি বলেছিলেন, হে আমার খালিক্ব মালিক রব! এ পবিত্র নগরী উনাকে নিরাপদ করুন) অর্থাৎ পবিত্র মক্কা নগরী উনাকে তার অধিবাসীদের জন্য সর্বপ্রকার ভয়-ভীতি হতে নিরাপদ করুন। অন্যত্র বলা হয়েছে : رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ امِنًا “হে আমার রব তায়ালা! একে নিরাপদ শহরে পরিণত করুন।” পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ ১২৬নং পবিত্র আয়াত শরীফ। অর্থাৎ এ উপত্যকায় একটি নিরাপদ শহর প্রতিষ্ঠা করুন।

وَاجْنُبْنِىْ وَبَنِىَّ اَنْ نَعْبُدَ الْاَصْنَامَ (এবং আমাকে ও আমার পুত্রগণ উনাদেরকে প্রতিমা পূজা হতে দূরে রাখুন) : এ পবিত্র আয়াত শরীফ প্রমাণ করে যে, হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাদের ইছমত বা নিষ্পাপ হওয়া মহান আল্লাহ তায়ালা উনার তওফীক্ব ও উনার হিফাযতক্রমেই হয়ে থাকে। بنى শব্দের মাঝে নাতি অর্থাৎ সন্তানের সন্তান দাখিল নয়। হ্যাঁ রূপকার্থের ব্যাপকতায় পৌত্র , প্রপৌত্র সবই শামিল হতে পারে। يا بنى ادم (হে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সন্তান) ও يا بنى اسرائيل (হে ইসরাঈল সন্তান) প্রভৃতির মাঝে সে হিসাবেই বংশধরগণ শামিল। কাজেই হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার বংশধরদের  শাখার অনেকে পূজায় লিপ্ত হয়েছিল বলে আলোচ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার সাথে তার কোন বিরোধ নেই।

হযরত ইব্নু আবূ হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত সুফ্ইয়ান ইব্নু উয়াইনা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার বংশধররা কখনই মূর্তিপূজা করেননি। তিনি প্রমাণ হিসেবে এ পবিত্র আয়াত শরীফ পেশ করেন।

তাফসীরে ‘দুররুল মানছূর’-এ উল্লেখ আছে, হযরত সুফইয়ান ইবনে উয়াইনা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। এ প্রার্থনায় হযরত ইসহাক্ব আলাইহিস সালাম উনার বংশধর এবং হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার সকল অধ:স্তন পুরুষকে শামিল না করার কারণ কি? উত্তরে তিনি বললেন, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এ নগরবাসীদের জন্যেই দুয়া করেছিলেন যে, এ নগরে তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করার পর তারা যেন মূর্তিপূজায় লিপ্ত না হয়। আর এ নগরকে যেন তাদের জন্য নিরাপদ করে দেয়া হয়। উনার এ দুয়া মুবারক সকল নগরের জন্য ছিল না। (এ কারণেই বংশধরদের অন্যরা এ দুয়ায় শামিল হয়নি)। হযরত ইবনে উয়াইনা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنامَ

পবিত্র আয়াতাংশের মাঝে বিশেষভাবে পবিত্র মক্কা নগরী এবং  رَبَّنا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي পবিত্র আয়াতাংশের মাঝে পবিত্র মক্কাবাসীদের কথাই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি উল্লেখ করেছেন।

কিন্তু হযরত উয়াইনা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বক্তব্য পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ ক্বিয়াস দ্বারা প্রত্যাখ্যাত। কেননা, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র মক্কাবাসী উনাদেরকেই মুশরিক (প্রতিমা পূজারী) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

و قال الذين اشركوا لو شاء الله ما اشركنا و لا اباؤنا و لا حرمنا من دونه من شىء.

“যারা র্শিক করেছে তারা বলে, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি যদি ইচ্ছা করতেন, তবে আমরা ও আমাদের পূর্বপূরুষগণ র্শিক করতাম না এবং কোন নিষিদ্ধ কাজ করতাম না।” (পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪৮)। (বলা বাহুল্য, পবিত্র মক্কাবাসী বলতে হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার বংশধরকে বুঝায়)।

رب انـهن اضللن كثيرا من الناس

(হে আমার খালিক্ব মালিক রব! এ সকল প্রতিমা বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে) : অর্থাৎ এ পূজায় লিপ্ত হয়ে বহু মানুষ সরল পথ হতে বিভ্রান্ত হয়েছে। প্রতিমা যেহেতু বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ, তাই রূপকার্থে বলা হয়েছে, এরা বিভ্রান্ত করেছে।

فَمَنْ تَبِعَنِىْ فَاِنَّه مِنِّىْ

(যে আমার অনুসরণ করবে সে-ই আমার দলভুক্ত) : অর্থাৎ দুনিয়া ও আখিরাতে সে আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না-যতক্ষণ না সে আমার সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

وَمَنْ عَصَانِىْ فَاِنَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

(আর কেউ অবাধ্য হলে, আপনি তো ক্ষমাশীল) অর্থাৎ আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন, যেহেতু আপনি ক্ষমাশীল। ইমাম সুদ্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, যার অবাধ্যতা শিরকের পর্যায়ে নয়, তার কথা বলা হয়েছে। তবে বাহ্যত এটা সেই সময়কার কথা যখন উনাকে জানানো হয়নি যে-

ان الله لا يغفر ان يشرك به و يغفر ما دون ذلك

“মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না। এছাড়া যত অপরাধ ইচ্ছা করলে ক্ষমা করবেন। ” (পবিত্র সূরাতুন নিসা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৬) কিন্তু জানার পর তিনি নিম্নরূপ দুয়া মুবারক করেন:

وارزقهم من الثمرات من امن منهم بالله و اليوم الاخر

“আর উনার অধিবাসীদের মধ্যে যারা মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে ও পরকালে বিশ্বাসী তাদেরকে ফলমূল হতে জীবিকা প্রদান করুন।” (পবিত্র সূরাতুল্ বাক্বারাহ শরীফ পবিত্র শরীফ ১২৬)। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১২৬)। (আত্ তাফসীরুল মাযহারী তথা তাফসীরুল পানিপথী তথা তাফসীরে ছানাউল্লাহ- ক্বাযী ইমাম মুজতাহিদ হযরত আল্লামা মুহম্মদ ছানাউল্লাহ উছমানী মাযহারী পানিপথী নক্বশাবন্দী মুজাদ্দিদী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত : ১২২৫ হিজরী)

(৯৮৫-৯৮৬)

يذكر تعالى في هذا الـمقام محتجا على مشركي العرب، بأن البلد الحرام مكة إنما وضعت أول ما وضعت على عبادة الله وحده لا شريك له، وأن إبراهيم الذى كانت عامرة بسببه، آهلة تبرأ ممن عبد غير الله، وأنه دعا لـمكة بالأمن فقال: (رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِنًا ) وقد استجاب الله له، فقال تعالى: ( أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا جَعَلْنَا حَرَمًا آمِنًا وَيُتَخَطَّفُ النَّاسُ مِنْ حَوْلِهِمْ) [العنكبوت: ۶۷]، وقال تعالى 🙁 إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِى بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ فِيهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا ) [آل عمران: ۹۶، ۹۷]، وقال فى هذه القصة: ( رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِنًا) فعرفه كأنه دعا به بعد بنائها؛ ولهذا قال: (الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَهَبَ لِى عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ) [إبراهيم: ۳۹]، ومعلوم أن إسماعيل أكبر من إسحاق بثلاث عشرة سنة، فأما حين ذهب بإسماعيل وأمه وهو رضيع إلى مكان مكة، فإنه دعا أيضا فقال: (رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آمِنًا ) [البقرة: ۱۲۶]، كما ذكرناه هنالك في سورة البقرة مستقصى مطولا.

وقال: ( وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الأصْنَامَ ) ينبغي لكل داع أن يدعو لنفسه ولوالديه ولذريته.

ثم ذكر أنه افتتن بالأصنام خلائق من الناس وأنه برئ ممن عبدها، ورد أمرهم إلى الله، إن شاء عذبهم وإن شاء غفر لـهم كما قال عيسى، عليه السلام: ( إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ) [الـمائدة: ۱۱۸]، وليس في هذا أكثر من الرد إلى مشيئة الله تعالى، لا تجويز (۵) وقوع ذلك.

عن عبد الله بن عمرو، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم تلا قول إبراهيم: ( رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِى فَإِنَّهُ مِنِّى وَمَنْ عَصَانِى فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ) وقول عيسى عليه السلام : ( إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ) ورفع يديه ثم  قال : “اللهم أمتى، اللهم أمتى، اللهم أمتى” و بكى فقال الله : يا جبريل اذهب إلى محمد صلى الله عليه و سلم و ربك أعلم وسله ما يبكيك ؟ فأتاه جبريل عليه السلام فسأله فأخبره رسول الله صلى الله عليه وسلم ما قال، فقال الله: اذهب إلى محمد صلى الله عليه و سلم ، فقل له : إنا سنرضيك فى أمتك ولا نسوءك . (تفسير القرآن العظيم اى تفسير ابن كثير الـمؤلف : حضرت علامة أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشى الدمشقى الشافعى الاشعرى رحمة الله عليه  ۷۰۰  -۷۷۴  هـجرى(

অর্থ : উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ উনাদের মধ্যে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র মক্কা শহর উনাকে সর্বপ্রকার  শিরক হতে পবিত্র করে কেবলমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত উনার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল। হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তিনি শিরক হতে মুক্ত ছিলেন। তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ উনার নিরাপত্তার জন্য দুয়া মুবারক করেছিলেন। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফে বলেন-

رب اجعل هذا البلد امنا

অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক ! আপনি এই পবিত্র নগরী উনাকে শান্তি ও নিরাপত্তা দান করুন। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি উনার এই দুয়া মুবারককে কবূল করেছিলেন। ইরশাদ মুবারক হয়েছে- او لـم يروا انا جعلنا حرما امنا তারা কি দেখে না যে আমি পবিত্র মক্কা শরীফ উনাকে সম্মানিত ও নিরাপদ করেছি। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

 ان اول بيت وضع للناس للذى ببكة مباركا و هدى للعالـمين فيه ايات بينات مقام ابراهيم و من دخله كان امنا

“মানুষের জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর মুবারক তৈরি করা হয়েছিল তা হলো পবিত্র বাক্কা (মক্কা) শরীফ উনার মধ্যে অবস্থিত ঘর মুবারক। যা বরকতময় এবং সারা বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াত ও দিক দর্শনকারী। এতে বহু নিদর্শন রয়েছে এবং মাক্বামে ইবরাহীমও রয়েছে। যে ব্যক্তি তথায় প্রবেশ করবে সে নিরাপত্তা লাভ করবে।” আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

رب اجعل هذا البلد امنا

অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক ! আপনি এই পবিত্র নগরী উনাকে নিরাপত্তা দান করুন। এখানে البلد শব্দটির পূর্বে الف لام এসে এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করেছে যে, এ নামের শহর যে শহরের জন্য পূর্বেও একবার দুয়া মুবারক করেছিলেন। আর এ দুয়া মুবারক কা’বা গৃহ নির্মাণ করার পর করেছিলেন। এ কারণে তিনি বললেন-

الحمد لله الذى وهب لى على الكبر اسماعيل و اسحاق

“যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান সত্তা উনার জন্য যিনি আমাকে বৃদ্ধাবস্থায় হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসহাক্ব আলাইহিস সালাম উনাদের ন্যায় সন্তান হাদিয়া করেছেন।” আর ইহা জানা কথা যে, হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ইসহাক্ব আলাইহিস সালাম উনার থেকে তের (১৩) বছরের বড়। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি পূর্বে যখন হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম ও উনার মাতা উনাকে নিয়ে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার এ স্থানে গমন করেছিলেন তখনো তিনি একবার এ দুয়া মুবারক করেছিলেন رب اجعل هذا البلد امنا পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ উনার মধ্যে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

وَاجْنُبْنِىْ وَبَنِىَّ اَنْ نَعْبُدَ الْاَصْنَامَ (এবং আমাকে ও আমার পুত্রগণ উনাদেরকে প্রতিমা পূজা হতে দূরে রাখুন) : অত্র আয়াত শরীফ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে, প্রত্যেক প্রার্থনাকারীর পক্ষে উচিৎ, সে যেন নিজের জন্য এবং তার পিতা-মাতা ও সন্তান-সন্ততির জন্য দুয়া করে। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর পর এ মূর্তিসমুহের ক্ষতি সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, এ মূর্তিসমূহ দ্বারা বহু মানুষ পথভ্রষ্ট হয়েছে। তিনি স্বয়ং এগুলোর পূজা হতে বিরত ছিলেন এবং আর যারা এগুলোর উপাসনা করে তিনি তাদেরকে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার উপর ন্যস্ত করেছেন। তিনি ইচ্ছা করলে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন আর ইচ্ছা করলে তিনি ক্ষমাও করে দিতে পারেন। যেমন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-

ان تعذبهم فانهم عبادك و ان تغفرلـهم فانك انت العزيز الحكيم

“আপনি যদি তাদেরকে শাস্তি দান করেন তবে তারা আপনারই বান্দা, আর যদি আপনি ক্ষমা করে দেন তবে তাও করতে পারেন। আপনি তো মহা শক্তিশালী হিকমতওয়ালা।” এখানে স্মরণ রাখতে হবে যে, এখানে শাস্তি দান ও ক্ষমা করার ব্যাপারটি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইচ্ছা মুবারক উনার উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এতে তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়ার কোন প্রস্তাব দেয়া হয়নি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, একদা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার কথা

رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ

এবং হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার কথা-

ان تعذبهم فانهم عبادك

তিলাওয়াত মুবারক করলেন, অত:পর তিনি হাত মুবারক উত্তোলন করে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পবিত্র দরবার শরীফে ক্রন্দন করতে করতে বললেন-

اللهم امتى اللهم امتى اللهم امتى

তখন মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, কি কারণে তিনি কাঁদছেন? হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার কাছে এসে উনার ক্রন্দনের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি ক্রন্দনের কারণ বলে দিলেন। হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট প্রত্যাবর্তন করে ক্রন্দনের কারণ বললেন। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! আপনি আবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট যান এবং উনাকে বলুন, আমি আপনার উম্মতের ব্যাপারে অবশ্যই আপনাকে সন্তুষ্ট করব। আপনাকে কষ্ট দিব না। (তাফসীরুল কুরআনিল আযীম তথা তাফসীরে ইবনে কাছীর-হযরত আল্লামা আবুল ফিদা ইসমাঈল ইবনে উমর ইবনে কাছীর কুরাশী দামিশকী শাফিয়ী আশয়ারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি জন্ম মুবারক : ৭০০ ওফাত মুবারক : ৭৭৪ হিজরী)

(৯৮৭)

“رَبّ إنَّهُنَّ” أَيْ الْأَصْنَام “أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاس” بِعِبَادَتِهِمْ لَهَا . (تفسير الجلالين(

অর্থ : “আয় খালিক্ব মালিক রব তায়ালা! নিশ্চয়ই এগুলো” অর্থাৎ মূর্তি-ভাস্কর্য “অসংখ্য লোককে গোমরাহ করেছে।” এগুলোর উপাসনা করার করণেই। (তাফসীরুল জালালাঈন শরীফ)

(৯৮৮)

(وَاجْنُبْنِى وَبَنِىَّ اَن نَّعْبُدَ الأَصْنَامَ ) : والصنم ما يعبد من دونه . (لطائف الاشارات  اى تفسير القشيرى الـمؤلف : حضرت علامة الصوفى عبد الكريم بن هوازن بن عبد الـملك القشيرى رحمة الله عليه الـمتوفى : ۴۶۵ هـجرى(

(وَاجْنُبْنِىْ وَبَنِىَّ اَنْ نَعْبُدَ الْاَصْنَامَ এবং আমাকে ও আমার পুত্রগণ উনাদেরকে প্রতিমা পূজা হতে দূরে রাখুন) : মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত যারই উপাসনা করা হয় তাকেই মূর্তি বা প্রতিমা বলা হয়ে থাকে। (লাত্বায়িফুল ইশারাত তথা তাফসীরুল কুশাইরী-হযরত আল্লামা ছূফী আব্দুল করীম বিন হাওয়াযিন বিন আব্দুল মালিক কুশাইরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত মুবারক : ৪৬৫ হিজরী)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ এবং উনার নির্ভরযোগ্য তাফসীর শরীফ থেকে যে সকল মাসয়ালা বের হয়েছে তাহলো-

১. নিজের, জাতীর, বংশের নিরাপত্তার জন্য দুয়া করা সুন্নত।

২. মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য প্রাণীর ছবি যাবতীয় হারাম ও কুফরী শিরকী থেকে নিজে ও নিজের বংশধরগণকে হিফাযতে রাখার জন্য দুয়া করা সুন্নত।

৩. মূর্তি, প্রতিমা, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি তা হাত দ্বারা তৈরি করা এবং ক্যামেরা বা যন্ত্র দ্বারা তোলা হারাম।

৪. মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবিগুলো মানুষকে গোমরাহ করে এবং কাফির বানিয়ে দেয় অর্থাৎ গোমরাহ ও কাফির হওয়ার কারণ।

৫. উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ভিত্তিতেই প্রমাণিত হয় যে, পবিত্র মক্কা শরীফ, পবিত্র মদীনা শরীফ ও পবিত্র স্থানসমূহে মূর্তি ও প্রাণীর ছবি রাখা হারাম ও কুফরী। আর এ কাজটি পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে অস্বীকার করার শামিল।

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৪

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪২তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া    ১৫দ

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৩তম পর্ব