পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩

সংখ্যা: ২২২তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন উনার শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহতিয়াতুয্ যোহ্র আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা) ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করার পর-

৩২তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”-

পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব উনার উপর মউত পর্যন্ত ইস্তিক্বামত থাকা ফরয

কতিপয় শব্দার্থ ও পরিভাষা

(৬৬-৬৭)

মোছাল্লামের টিকার  (৬২৪ পৃষ্ঠায়) লিখিত আছে, “উক্ত কথাটি দলীল বিরুদ্ধ নহে, তবে সাধারণে উহার দলীল অবগত না হইয়াও মান্য করিয়া থাকে, ইহাই তাক্বলীদ শব্দের প্রকৃত অর্থ।” (বোরহানুল মোকাল্লেদীন বা মজহাব মীমাংসা- হযরত আল্লামা মোহাম্মদ রুহুল আমীন বশীরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ১১ পৃষ্ঠা বশিরহাট, ‘নবনূর প্রেস’ হইতে মুদ্রিত।)

(৬৮)

ইমামগণ উনাদের তাকলীদের প্রকৃত অর্থ এই যে, ইমাম উনাদের লিখিত মাসয়ালাগুলি দলীলসঙ্গত। কিন্তু অজ্ঞ লোক ঐ সমস্ত দলীল বুঝিতে না পারিয়া উনাদের অগাধ বিদ্যা, সূক্ষ্মজ্ঞান ও সত্য পরায়ণতার প্রতি বিশ্বাস করিয়া ঐ মাসয়ালা গ্রহণ ও মান্য করিয়া থাকেন। এইরূপ করাকে তাকলীদ অথবা মাযহাব মান্য করা বলে। (ছায়ফোল মোকাল্লেদীন বা মাসায়েলে হানাফিয়া ২৫৩ পৃষ্ঠা, মুফতী আল্লামা মুহম্মদ ইবরাহীম মুহব্বতপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, পোঃ পাঁচবিবি, বগুড়া, পহেলা অগ্রহায়ণ ১৩৬৮ ফসলীসন।)

(৬৯)

ইমামগণ উনাদের তাকলীদের মূল মর্ম এই যে, ইমামগণ উনাদের প্রকাশিত প্রত্যেক মাসয়ালা দলীলসঙ্গত, কেননা, উনারা প্রত্যেক মাসয়ালার ব্যবস্থা হয় পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের স্পষ্টাংশ হইতে প্রকাশ করিয়াছেন, না হয় পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের অস্পষ্টাংশ হইতে প্রকাশ করিয়াছেন, যাহাকে ইজমা ও কিয়াছ বলে। এই ইজমা শরীয়ত উনার অকাট্ট দলীল এবং কিয়াস সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার মতে শরীয়ত উনার চতুর্থ দলীল। এক্ষেত্রে ইমামগণ উনাদের প্রত্যেক মাসয়ালা দলীল সঙ্গত। কিন্তু অজ্ঞ লোক ঐ দলীলসমূহ বুঝিতে না পারিয়া উনাদের অগাধ বিদ্যা, সূক্ষ্মজ্ঞান ও সত্য পরায়ণতার প্রতি বিশ্বাস করিয়া উক্ত মাসয়ালাগুলি গ্রহণ ও মান্য করিয়া থাকেন, ইহাকে তকলীদ, ইমাম কিংবা মাযহাব মান্য করা বলে।  (বোরহানোল-মোকাল্লেদীন বা মাযহাব মীসাংসা- হযরত আল্লামা মোহাম্মদ রুহুল আমীন বশীরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি ১১ পৃষ্ঠা, বশীরহাট ‘নবনূর প্রেস’ হইতে মুদ্রিত।)

২৩. التقليد الشخصى (ব্যক্তি বিশেষ অনুস্বরণ) :

(৭০-৭২)

কেবল মাত্র একজন ইমামের ফাতাওয়া মান্য করাকে ‘আত্ তাকলীদুশ শাখছী’ বা ব্যক্তি বিশেষ অনুস্বরণ বলে। (সাইফুল মুক্বাল্লিদীন ২৫৬ পৃষ্ঠা, সাইফুল মাযাহিব, বুরহানুল মুক্বাল্লিদীন ইত্যাদী)

২৪. التقليد غير الشخصى (একাধিক ইমামকে অনুস্বরণ):

(৭৩-৭৫)

ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ইমামের ফাতাওয়া মান্য করাকে ‘আত্ তাক্বলীদু গাইরুশ শাখছী’ বা একাধিক ইমামকে অনুস্বরণ বলে। (সাইফুল মুক্বাল্লিদীন ২৫৬ পৃষ্ঠা, সাইফুল মাযাহিব, বুরহানুল মুক্বাল্লিদীন ইত্যাদী)

২৫. اَلْاِمَامُ (আল্ ইমাম) :

(৭৬)

الامام هو الذى له الرياسة العامة فى الدين و الدنيا جميعا فى الامامة الكبرى و الخليفة عند الـمتكلمين و من يقتدى به فى الصلوة فى الامامة الصغرى . (التعريفات الفقهية للمفتى السيد محمد عميم الاحسان الـمجددى البركتى الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه ۱۹۰ الصفحة(

অর্থ : যিনি দীনী ও দুনিয়াবী ব্যাপারে ব্যাপকভাবে নেতৃত্ব দেন উনাকে ইমাম বলা হয়। একে ইমামাতুল কুবরাও বলা হয়। আক্বায়িদ বিশারদগনের মতে এমন ইমাম উনাকে খলীফাও বলা হয়ে থাকে। আর ছলাত বা নামাযে যাঁর ইক্তিদা করা হয় এমন ইমামতকে ইমামতে ছুগরা বলা হয়ে থাকে। (আত্ তা’রীফাতুল ফিক্হিয়্যাহ-মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল ইহ্সান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১৯০ পৃষ্ঠা)

২৬.   اَلْمُجْتَهِدُ(আল্ মুজতাহিদ) :

(৭৭-৭৮)

من يحوى علم الكتاب و وجوه معانيه و علم السنة بطرقها و متونها و وجوه معانيها و يكون مصيبا فى القياس عالما بعرف الناس . (التعريفات الفقهية للمفتى السيد محمد عميم الاحسان الـمجددى البركتى الحنفى الـماتريدى رحمة الله عليه ۴۶۵ الصفحة . كنز الوصول الى معرفة الاصول اى اصول البزدوى للامام فخر الاسلام على بن محمد البزدوى الحنفى رحمة الله عليه المتوفى ۴۸۲ هجرى ۲۷۸ الصفحة(

অর্থ :  কিতাবুল্লাহ তথা পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার থেকে এবং পবিত্র সুন্নাহ শরীফ তথা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মতন থেকে নিগুঢ় অর্থসহ যিনি ইল্ম অর্জন করেন অর্থাৎ মাসয়ালা বের করেন উনাকে মুজতাহিদ বলা হয়। আর উনার ক্বিয়াসটি বিশুদ্ধ হয়, এর ভিত্তিতে তিনি আলিম হিসেবে প্রসিদ্ধ হন। (আত্ তা’রীফাতুল ফিক্হিয়্যাহ-মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল ইহ্সান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৪৬৫ পৃষ্ঠা, কান্যুল উছূল্ ইলা মা’রিফাতিল উছূল তথা উছূলুল্ বায্দুবী- ইমাম ফখরুল ইসলাম আলী বিন্ মুহম্মদ বায্দুবী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৪৮২ হিজরী ২৭৮ পৃষ্ঠা)

(৭৯-৮০)

الـمجتهد : هو الفقيه الـمستفرغ لوسعه لتحصيل ظن بحكم شرعىّ. (الـمعجم الوسيط بقلم الدكتور ابراهيم مدكور ۱۴۲ الصفحة . الـمعجم الوجيز بقلم الدكتور ابراهيم مدكور ۱۲۲ الصفحة

অর্থ : মুজতাহিদ এমন ফক্বীহ যিনি পবিত্র কুরআন মাজীদ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের থেকে ফিকির করে শরয়ী বিধি-বিধান বের করেন। (আল্ মু’জামুল ওয়াসীত্ব- ডক্টর ইবরাহীম মাদ্কূর ১৪২ পৃষ্ঠা, আল্ মু’জামুল্ ওয়াজীয- ডক্টর ইবরাহীম মাদ্কূর ১২২ পৃষ্ঠা )

২৭. اَلْاِجْتِهَادُ (আল্ ইজতিহাদ) :

(৮১)

الاجتهاد ان يحوى علم الكتاب بمعانيه . (المنار لعلامة عبد الله بن احمد بن محمود ابى البركات النسفى الحنفى الـماتريدى رحمة الله عليه ۲۴۶ الصفحة(

অর্থ :  কিতাবুল্লাহ তথা পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার থেকে নিগুঢ় অর্থসহ ইল্ম অর্জন করাকে ইজতিহাদ বলা হয়। (আল্ মানার-আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন্ আহমদ বিন্ মুহম্মদ আবুল বারাকাত নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ২৪৬ পৃষ্ঠা)

(৮২)

الاجتهاد ان يحوى علم الكتاب بمعانيه اللغوية و اللشرعية . (نور الانوار على الـمنار لعلامة ملا على القارى الحنفى الـماتريدى رحمة الله عليه ۲۴۶ الصفحة(

অর্থ : কিতাবুল্লাহ তথা পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার থেকে লুগাবী ও শরয়ী নিগুঢ় অর্থসহ ইল্ম অর্জন করাকে ইজতিহাদ বলা হয়। (নূরুল আনওয়ার আলাল্ মানার-আল্লামা মুল্লা আলী ক্বারী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ২৪৬ পৃষ্ঠা)

(৮৩)

الاجتهاد : فى اللغة بذل الوسع و فى الاصطلاح استفراغ الفقيه الوسع ليحصل له الظن بحكم شرعىّ. (التعريفات الفقهية للمفتى السيد محمد عميم الاحسان المجددى البركتى الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه ۱۶۰ الصفحة(

অর্থ : ইজতিহাদ শব্দের লুগাতী অর্থ- চেষ্টা করা। আর শরীয়াতের পরিভাষায় ফক্বীহ কর্তৃক পবিত্র কুরআন মাজীদ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের থেকে ফিকির করে শরয়ী বিধি-বিধান বের করাকে ইজতিহাদ বলা হয়। (আত্ তা’রীফাতুল ফিক্হিয়্যাহ-মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল ইহ্সান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১৬০ পৃষ্ঠা)

(৮৪-৮৫)

الاجتهاد فى الاصطلاح الفقهى : استفراغ الفقيه الوسع ليحصل له ظن بحكم شرعىّ . (المعجم الوسيط بقلم الدكتور ابراهيم مدكور ۱۴۲ الصفحة . المعجم الوجيز بقلم الدكتور ابراهيم مدكور ۱۲۲ الصفحة

অর্থ : ফিক্হী পরিভাষায় ফক্বীহ কর্তৃক পবিত্র কুরআন মাজীদ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের থেকে ফিকির করে শরয়ী বিধি-বিধান বের করাকে ইজতিহাদ বলা হয়। (আল্ মু’জামুল ওয়াসীত্ব- ডক্টর ইবরাহীম মাদ্কূর ১৪২ পৃষ্ঠা, আল্ মু’জামুল্ ওয়াজীয- ডক্টর ইবরাহীম মাদ্কূর ১২২ পৃষ্ঠা )

২৮. اَلْاِسْتِحْسَانُ (আল্ ইস্তিহ্সান) :

(৮৬)

و انما الاستحسان عندنا احد القياسين.(كنز الوصول الى معرفة الاصول اى اصول البزدوى للامام فخر الاسلام على بن محمد البزدوى الحنفى رحمة الله عليه الـمتوفى ۴۸۲ هجرى ۲۷۶ الصفحة(

অর্থ : দু’প্রকার ক্বিয়াসের একপ্রকার (ক্বিয়াসে খফী)কে ইসতিহসান বলা হয়। (কান্যুল উছূল্ ইলা মা’রিফাতিল উছূল তথা উছূলুল্ বায্দুবী- ইমাম ফখরুল ইসলাম আলী বিন্ মুহম্মদ বায্দুবী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৪৮২ হিজরী ২৭৬ পৃষ্ঠা)

(৮৭)

الاستحسان طلب السهولة فى الاحكام فيما يبتلى فيه الخاص و العام . (المبسوط الجلد ۱ الصفحة ۱۴۵ . احسن المنار فى حل نور الانوار(

অর্থ : বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে বিশেষ ও সর্বসাধারণ জড়িত তাতে সহজতা গ্রহণ করাই হলো ইস্তিহসান। (আল্ মাব্সূত ১ম খন্ড ১৪৫ পৃষ্ঠা, আহসানুল মানার ফী হাল্লে নূরিল আনওয়ার)

(৮৮)

الاستحسان ترك القياس و الاخذ بما هو رفق للناس .(احسان المنار فى حل نور الانوار الصفحة ۳۷۰(

অর্থ : জাহির বা প্রকাশ্য বিষয় গ্রহণ না করে আভ্যন্তরীণ বা হাক্বীক্বতকে গ্রহণ করে জনগনের কল্যাণের সাথে সাদৃশ্যশীল পন্থা গ্রহণকেই ইসতিহসান বলা হয়। (আহসানুল মানার ফী হাল্লে নূরিল আনওয়ার ৩৭০)

(৮৯-৯০)

الاستحسان هو ترك القياس و الاخذ بما هو ارفق للناس قال السيد هو فى اللغة عد الشىء و اعتقاده حسنا و اصطلاحا هو اسم لدليل من الادلة الاربعة يعارض القياس الجلى و يعمل به اذا كان اقوى منه و سموه بذلك لانه فى الاغلب يكون اقوى من القياس الجلى فيكون قياسا مستحسنا قال الله تعالى “فبشر عبادى الذين يستمعون القول فيتبعون احسنه” قال البزدوى هو احد القياسين و المراد بالاستحسان فى كتاب الاستحسان استخراج المسائل الحسان. (التعريفات الفقهية للمفتى السيد محمد عميم الاحسان المجددى البركتى الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه الصفحة ۱۷۱ (

অর্থ : জাহির বা প্রকাশ্য বিষয় গ্রহণ না করে আভ্যন্তরীণ বা হাক্বীক্বতকে গ্রহণ করে জনগনের কল্যাণের সাথে সাদৃশ্যশীল পন্থা গ্রহণকেই ইসতিহসান বলা হয়। সাইয়্যিদ বলেছেন, আভিধানিক অর্থে কোন বিষয়কে উত্তম-ভাল মনে করাই ইস্তিহসান। আর ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায়, জাহির বা প্রকাশ্য বিষয় গ্রহণ না করে আভ্যন্তরীণ বা হাক্বীক্বতকে গ্রহণ করে উৎকৃষ্ট ভেবে যার উপর আমল করা হয় তাকে ইস্তিহ্সান বলে। ইহা ক্বিয়াসে জলী থেকে অগ্রগন্য  ও শক্তিশালী বলেই একে ইস্তিহসান বলে নাম করণ করা হয়েছে। তাই তা মুস্তাহসান বা উৎকৃষ্ট ক্বিয়াস হিসেবে পরিনত হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আপনি ঐ সমস্ত বান্দাদেরকে উপদেশ দিন যাঁরা উপদেশ শ্রবণ করে এবং তা উত্তম ভাবে অনুস্বরণ করে।” হযরত ইমাম বায্দুবী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, দু’প্রকার ক্বিয়াসের একপ্রকার (ক্বিয়াসে খফী)কে ইসতিহসান বলা হয়। ‘কিতাবুল্ ইসতিহসান’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে, সর্বসাধারণের কল্যাণমূলক সহজ মাসয়ালা নির্ণয় করাকে ইস্তিহসান বলা হয়। (আত্ তা’রীফাতুল ফিক্হিয়্যাহ-মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল ইহ্সান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১৭১ পৃষ্ঠা)

 

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৪

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪২তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া    ১৫দ

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৩তম পর্ব