পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২

সংখ্যা: ২২১তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহতিয়াতুয যোহ্র আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা) ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করার পর-

৩২তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে  সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”-

পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব উনার উপর মউত পর্যন্ত ইস্তিক্বামত থাকা ফরয

কতিপয় শব্দার্থ ও পরিভাষা

৬. الفقه (আল ফিক্বহ) : শব্দটির অর্থ হচ্ছে: বুঝ, জ্ঞান, ইসলামী আইন, উন্মোচন, স্পষ্টকরণ, খোলা ইত্যাদি।

শরীয়তের পরিভাষায় ফিক্বহ উনার পরিচিতি-

(২০)

الفقه فى الاصطلاح هو العلم بالاحكام الشرعية العملية الـمكتسب من ادلتها التفصيلية (التعريفات الفقهية لعميم الاحسان المجددى البركتى رحمة الله عليه ص ۴۱۴ اشرفى بکڈپو ديوبند الهند

অর্থ: (পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, পবিত্র ইজমা উল উম্মাহ ও পবিত্র ক্বিয়াস উনাদের থেকে) বিস্তারিত দলীল-প্রমানাদীর ভিত্তিতে উদ্ঘাটিত শরীয়তের আমল সংক্রান্ত বিধানসমূহ জানাকে ফিক্বহ বলে। (আত তা’রীফাতুল ফিক্বহিয়্যাহ লিআমীমিল ইহসান মুজাদ্দিদী বরকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৪১৪ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: আশরাফী বুক ডিপো দেওবন্দ হিন্দ)

(২১-২২)

وفى التوضيح: والفقه معرقة النفس مالـها وما عليها وهذا التعريف منقول عن ابى حنيفة رحمة الله عليه. (التعريفات الفقهية لعميم الاحسان المجددى البركتى رحمة الله عليه ص ۴۱۴ اشرفى بکڈفو ديوبند الهند)

অর্থ: ‘আত তাওদ্বীহ’ কিতাবে উল্লেখ আছে; কল্যানময় ও ক্ষতিকর বিষয়ের ব্যাপারে আত্মানুভূতিকে ফিক্বহ বলা হয়। এ পরিভাষাটি হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত হয়েছে। (আত তা’রীফাতুল ফিক্বহিয়্যাহ লিআমীমিল ইহসান মুজাদ্দিদী বরকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৪১৪ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: আশরাফী বুক ডিপো দেওবন্দ হিন্দ)

(২৩)

الفقه فى علم الشريعة الاسلامية اصول الدين. (المعجم الوجيز للدكتور ابراهيم مدكور الصفحة ۴۷۸)

অর্থ: ইসলামী শরীয়ত উনার (পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও পবিত্র ক্বিয়াস উনাদের) পূর্ণ জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতিকে ফিক্বহ বলা হয়। (আল মু’জামুল ওয়াজীয- ডক্টর ইবরাহীম মাদকূর ৪৭৮ পৃষ্ঠা)

(২৪)

وقد يطلق الفقه على علم النفس بما لها وما عليها، فيشتمل جميع العلوم الدينية، ولذا سمى ابو حنيفة رحمه الله الكلام بالفقه الاكبر. (كشاف اصطلاحات الفنون للشيخ العلامة محمد على بن على بن محمد الحنفى رحمة الله عليه المتوفى ۱۱۵۸ هجرى المجلد الثالث الصفحة ۴۷۸ مكتبة نعمانيه كانسى روڈ كوئٹه)

অর্থ: মূলতঃ কল্যাণময় ও ক্ষতিকর বিষয়ের ব্যাপারে অন্তরের উপলব্ধিকে ফিক্বহ বলা হয়। এক্ষেত্রে সকলপ্রকার পবিত্র দ্বীনী শিক্ষা ফিক্বহের অন্তর্ভুক্ত। এজন্যই হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইলমে কালাম শরীফ তথা ইলমে আক্বায়িদ শরীফ সম্পর্কিত স্বহস্ত মুবারক-এ লিখিত কিতাবের নাম রাখেন الفقه الاكبر ‘আল ফিক্বহুল আকবার’ অর্থাৎ আক্বায়িদ সম্পর্কিত মহান কিতাব। (কাশশাফু ইস্তিলাহাতিল ফুনূন- শায়েখ আল্লামা মুহম্মদ আলী বিন আলী বিন মুহম্মদ হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত : ১১৫৮ হিজরী ৩য় খ- ৪৭৮ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: নু’মানিয়াহ কান্সী রোড, কুয়েটা)

৭. الفقيه (আল্ ফক্বীহ) : শব্দটির বহুবচন الفقهاء ‘আল্ ফুক্বাহা।’ এর আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থ হচ্ছে : ফিক্বহ শাস্ত্রবিদ, ফিক্বহ বিশারদ, ফক্বীহ, পারদর্শী, বিশেষজ্ঞ, প-িত, বিচক্ষণ, সমঝদার, জ্ঞানী, অধিক বুদ্ধিমান, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও পবিত্র ক্বিয়াস উনাদের উপর পূর্ণ জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি ইত্যাদি।

ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় ‘ফক্বীহ’ উনার পরিচিতি :

(২৫)

والفقيه من اتصف بهذا العلم وهو الـمجتهد (كشاف اصطلاحات الفنون للشيخ العلامة محمد على بن على بن محمد الحنفى رحمة الله عليه المتوفى ۱۱۵۸ هجرى المجلد الثالث الصفحة ۴۷۸ مكتبة نعمانيه كانسى روڈ كوئٹه)

অর্থ : যিনি ফিক্বহী ইলিম (পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও পবিত্র ক্বিয়াস) বিষয়ে পূর্ণদক্ষ হিসেবে বিশেষিত তিনিই ফক্বীহ। উনাকে মুজতাহিদও বলা হয়। (কাশশাফু ইস্তিলাহাতিল ফুনূন- শায়েখ আল্লামা মুহম্মদ আলী বিন আলী বিন মুহম্মদ হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাতঃ ১১৫৮ হিজরী ৩য় খ- ৪৭৮ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: নু’মানিয়াহ কান্সী রোড, কুয়েটা-পাকিস্তান)

(২৬)

من يعلم الفقه وان لـم يكن مجتهد (التعريفات الفقهية الصفحة ۴۱۵

অর্থ: যিনি ইলমে ফিক্বহ উনার  ব্যাপারে পূর্ণ দক্ষ, উনি যদি মুজতাহিদ নাও হন, তবুও তিনি ফক্বীহ। (আত তা’রীফাতুল ফিক্বহিয়্যাহ ৪১৫ পৃষ্ঠা)

(২৭)

قيل الفقيه هو الزاهد فى الدنيا الراغب فى الاخرة البصير بذنبه الـمداوم على عبادة ربه الورع الكاف عن اعراض الـمسلمين. (التعريفات الفقهية للمفتى السيد محمد عميم الاحسان المجددى البركتى الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه الصفحة ۴۱۶ اشرفى بکڈپو ديوبند الهند)

অর্থ: বলা হয়: তিনিই ফক্বীহ যিনি দুনিয়া থেকে বিরাগ, আখিরাতের প্রতি ঝুঁকে আছেন, গুনাহ না করার ব্যাপারে সতর্ক, সর্বদা মহান রব তায়ালা উনার ইবাদতে মশগুল, পরহেযগার এবং মুসলমানদের সুনাম সুখ্যাতি ইজ্জত-সম্মান নষ্ট করেন না। (আত তারীফাতুল ফিক্বহিয়্যাহ- মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৪১৬ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: আশরাফী বুক ডিপো, দেওবন্দ, হিন্দ)

(২৮)

الفقيه هو العالـم باصول الشريعة واحكامها. (المعجم الوجيز الصفحة ۴۷۸)

অর্থ : যে আলিম ব্যক্তি শরীয়তের মূলনীতি ও শরীয়তের যাবতীয় বিধানাবলী সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত তিনিই ফক্বীহ। (আল মু’জামুল ওয়াজীয ৪৭৮ পৃষ্ঠা)

৮. الـمذهب (আল মাযহাব) : শব্দটি একবচন। এর বহুচন مذاهب ‘মাযাহিব’। এর আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- পথ, পদ্ধতি, দ্বীন, জীবন ব্যবস্থা, মত, আদর্শ, বিশ্বাস, কর্মপন্থা, চলার পথ, মূল, ছিরাত, হিযব, আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, মাযহাব।

উল্লেখ্য, কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস অনুযায়ী বর্তমানে মাযহাব চারটা। যথা: হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বলী।

শরীয়ত উনার পরিভাষায় ‘মাযহাব’ উনার পরিচিতি-

(২৯-৩২)

الـمذهب : الدين، الـمعتقد الذى يذهب اليه. (التعريفات الفقهية الصفحة ۴۷۶ ، لسان العرب الجلد ۳ الصفحة ۱۵۲۲، افرات الموارد فى فصح العربية والشوارد الجلد ۱ الصفحة ۳۷۴ ، المعجم الوجيز الصفحة ۲۴۷)

অর্থ: সঠিক হিসেবে বিশ্বাস রেখে যে পবিত্র দ্বীনী পথে চলা হয়, সে পথকেই মাযহাব বলা হয়। (আত তা’রীফাতুল ফিক্বহিয়্যাহ ৪৭৬ পৃষ্ঠা, লিসানুল আরব ৩য় খ- ১৫২২ পৃষ্ঠা, আফরাতুল মাওয়ারিদ ফী ফুছাহিল আরাবিয়াহ ওয়াশ শাওয়ারিদ ১ম খ- ৩৭৪ পৃষ্ঠা, আল মু’জামুল ওয়াজীয ৩৪৭ পৃষ্ঠা)

৯. مذاهب الاسلام (মাযাহিবুল ইসলাম) : এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- দ্বীন ইসলামের সঠিক পথ বা পন্থাসমূহ। ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় ‘মাযাহিবুল ইসলাম’- এর পরিচিতি-

(৩৩)

مذاهب الاسلام اربعة الحنفى وهو مذهب السلطان لعصرنا والشافعى والحنبلى والـمالكى. (افرات الـموارد فى فصح العربية والشوارد الجلد ۱ الصفحة ۳۷۵)

অর্থ: ‘মাযাহিবুল ইসলাম’ তথা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সঠিক পথ বা পন্থাসমূহ চারটি। ১. হানাফী মাযহাব, ইহাই আমাদের যুগে মাযহাব উনার বাদশা। ২. শাফিয়ী মাযহাব ৩. হাম্বলী মাযহাব ও ৪. মালিকী মাযহাব। (আফরাতুল মাওয়ারিদ ফী ফুছাহিল আরাবিয়াহ ওয়াশ শাওয়ারিদ ১ম খ- ৩৭৫ পৃষ্ঠা)

(৩৪)

مذاهب الاسلام: اربعة الحنفى والشافعى والـمالكى والحنبلى. (التعريفات الفقهية الصفحة ۴۷۵)

অর্থ : মাযাহিবুল ইসলাম তথা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সঠিক ও পূর্ণ পথ বা পন্থাসমূহ চরটি। ১. হানাফী ২. শাফিয়ী ৩. মালিকী ও ৪. হাম্বলী। (আত তা’রীফাতুল ফিকহিয়্যাহ ৪৭৫ পৃষ্ঠ)

১০. الصراط (আছ ছিরাত) : এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- পথ, পন্থা, রাস্তা, মাযহাব, পদ্ধতি, নিয়ম-নীতি ইত্যাদি।

ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় ছিরাত-এর পরিচিতি-

(৩৫-৩৬)

اهدنا الصراط الـمستقيم صراط الذين انعمت عليهم. (سورة الفاتحة رقم الاية ۶-۵ ) انعم الله عليهم من النبيين والصدقين والشهداء والصالحين. (سورة النساء رقم الاية ۶۹)

অর্থ: “আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনি আমাদেরকে সঠিক পথ দান করুন। এমন পথ যে পথের পথিক উনাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন।” (পবিত্র সূরাতুল ফাতিহা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫-৬)

মহান আল্লাহ পাক তিনি নিয়ামত দান করেছেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাদেরকে, হযরত ছিদ্দীক্বীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে, হযরত শুহাদা রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে ও হযরত ছালিহীন রহমতুল্লাহি আল্ইাহিম উনাদেরকে। (পবিত্র সূরাতুন নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৯)

পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে চার শ্রেণী উনাদের পথ তালাশ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মূলত: উক্ত চার শ্রেণী দুই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। যথা: ১. হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাদের পথ, ২. ছিদ্দীক্বীন, শুহাদা ও ছালিহীন উম্মতের তবক্বা।

আর উনারা হলেন- ইমাম, মুজতাহিদ, ফক্বীহ, উলামায়ে কিরাম, আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম প্রমুখ।

অতএব আয়াত শরীফ উনার থেকে নির্গত ছিরাত উনার সংজ্ঞা নিম্নরূপ-

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রদর্শিত পথ, সে আলোকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের চলার পথকে ‘ছিরাত’ বলা হয়।

(৩৭)

الصراط : الطريق الـمستقيم قاله الراغب وايضا يطلق على جسر جهنم هو على متن جهنم ادق من الشعر واحد من السيف (التعريفات الفقهية الصفحة ۳۴۸(

অর্থ: সরল-সঠিক পথ বা নিয়ম-কানূনকে ছিরাত বলা হয়। যা আল্লামা রাগিব ইস্পাহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উক্তি।

এছাড়াও জাহান্নামের পৃষ্ঠে অবস্থিত চুলের চেয়ে চিকন এবং তরবারীর চেয়ে ধারালো পুলকে ব্যাপকভাবে ছিরাত  বলা হয়। (আত তা’রীফাতুল ফিক্বহিয়্যাহ ৩৪৮ পৃষ্ঠা)

১১. الـحزب (আল হিযব) : শব্দটি একবচন। এর বহুবচন احزاب ‘আহযাব’। এর শাব্দিক অর্থ হলো: দল, মত, পথ,, পন্থা, পক্ষ, জনসমষ্টি, জনসমাগম, অস্ত্র, অংশ ইত্যাদি। শরীয়ত উনার পরিভাষায় ‘হিযব’-উনার সংজ্ঞা-

(৩৮)

الـحزب كل طائفة جمعها الاتجاه الى غرض واحد. وفى القران الكريم : “كل حزب بما لديهم فرحون” (الـمعجم الوجيز ص ۱۴۸)

অর্থ: প্রত্যেক দল ১টি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে একই মনোভাবে একত্রিত হওয়াকে ‘হিযব’ বলে। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, প্রত্যেক দল নিজেদের নিয়ে খুশি। (আল মু’জামুল ওয়াজীয ১৪৭ পৃষ্ঠা)

(৩৯-৪০)

كل قوم تشاكلت قلوبـهم واعمالـهم فهم احزاب (لسان العرب الجلد ۲ الصفحة ۸۵۳، افرات الـموارد فى فصح العربية والشوارد الجلد ۱ الصفحة ۱۸۶)

অর্থ: প্রত্যেক দল পবিত্র ঈমান, আমল ও পবিত্র আক্বীদায় সাদৃশ্যপূর্ণ বা মিলযুক্ত হওয়াকে ‘আহযাব’ (একবচন : হিযব) বলে। (লিসানুল আরব ২য় খ- ৮৫৩ পৃষ্ঠা, আফরাতুল মাওয়ারিদ ফী ফুছাহিল আরাবিয়াহ ওয়াশ শাওয়ারিদ ১ম খ- ১৮৬ পৃষ্ঠা)

১২. حزب الله (হিযবুল্লাহ) : অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার দল (পথ, শরীয়ত, পন্থা, নিয়ম-নীতি ইত্যাদি)।

শরীয়ত উনার পরিভাষায় ‘হিযবুল্লাহ’-উনার সংজ্ঞা:

(৪১)

انما وليكم الله ورسوله والذين امنوا الذين يقيمون الصلوة ويؤتون الزكوة وهم راكعون. ومن يتول الله ورسوله والذين امنوا فان حزب الله هم الغلبون. (سورة المائدة ۵۶-۵۵)

অর্থ: তোমাদের বন্ধুতো মহান আল্লাহ পাক, উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মু’মিনগণ-উনারা মু’মিনগণ ছলাত ক্বায়িম করেন, যাকাত দেন এবং বিনয়-নম্রতা সম্পন্ন। আর যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মু’মিনগণ উনাদেরক বন্ধুরূপে (বা অভিভাবক হিসেবে) গ্রহণ করে, উনারাই হিযবুল্লাহ (বা মহান আল্লাহ পাক উনার দল) এবং উনারাই চির বিজয়ী। (পবিত্র সূরাতুল মায়িদাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৫-৫৬)

অত্র আয়াত শরীফ উনার ভিত্তিতে হিযবুল্লাহ-উনার সংজ্ঞা নিম্নরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয়।

“মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ণ অনুস্বরণ এবং হক্কানী মু’মিন তথা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও ইমাম-মুজতাহিদ আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের চলার পথকেই ‘হিযবুল্লাহ’ বলা হয়।” এটাই আয়াত শরীফ উনার ভিত্তিতে সঠিক সংজ্ঞা।

১৩. حزب الشيطان (হিযবুশ শাইত্বান) : অর্থ ইবলীস শয়তানের দল, পথ ও মত ইত্যাদি।

‘হিযবুশ শাইত্বান’-এর শরয়ী সংজ্ঞা :

(৪২)

استحوذ عليهم الشيطان فانسهم ذكر الله اولئك حزب الشيطان الا ان حزب الشيطان هم الخسرون. (سورة الـمجادلة رقم الاية ۱۹)

অর্থ: শয়তান তাদেরকে (কাফির, মুনাফিক, মিথ্যুক ও যালিমদেরকে) বশীভূত করে নিয়েছে অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার যিক্র থেকে ভুলিয়ে দিয়েছে। তারাই হিযবুশ শাইত্বান বা ইবলীস শয়তানের দল। সাবধান! শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্থ। (পবিত্র সূরাতুল মুজাদালাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৯)

উক্ত আয়াত শরীফ উনার ভিত্তিতে হিযবুশ শয়তানের সংজ্ঞা নিম্নরূপ :

“তাওহীদ, রিসালাত, নুবুওওয়াত, বিলায়াত এক কথায় পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, পবিত্র ইজমা, পবিত্র ক্বিয়াস, পবিত্র শরীয়ত, পবিত্র মারিফত ইত্যাদি সন্তুষ্টির পথের বিপরীত যে পথের অবস্থান সে পথকেই ‘হিযবুশ শাইত্বান’ বা ইবলীস শয়তানের পথ বলা হয়।

১৪. حبل الله (হাবলুল্লাহ) : حبل শব্দটি একবচন। এর বহুবচন حبال وحبول واحبل واحبال মুরক্কাবে ইদ্বাফী এই বাক্যটির অর্থ হলো : মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে রজ্জু, নিয়ম-নীতি, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র দ্বীন ইসলাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় হাবলুল্লাহ উনার পরিচিতি-

(৪৩)

واعتصموا بحبل الله جميعا ولاتفرقوا. (سورة ال عمران ۱۰۳)

অর্থ: তোমরা সকলেই মহান আল্লাহ পাক উনার রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)

নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে, حبل الله হাবলুল্লাহ হচ্ছেন- হাবীবুল্লাহ নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনিত পবিত্র কুরআন মাজীদ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র শরীয়ত, পবিত্র দ্বীন ইসলাম, মা’রিফত ও যাবতীয় হক্ব পথ উনার বিধানাবলী।

অতএব, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার যাবতীয় বিধানাবলী এবং বিধান বিশেষজ্ঞগণ উনাদের পথই হচ্ছে হাবলুল্লাহ।

১৫. الاسلام (আল ইসলাম) : এ শব্দটি বাবে افعال -এর মাছদার বা ক্রিয়ামুল। سلم মাদ্দাহ বা মূল ধাতু থেকে নির্গত। এর শাব্দিক অর্থ: অনুগত হওয়া, আত্ম সমর্পন করা, নিরাপত্তা দান, শিরধার্য করা, বিনয় প্রকাশ করা, আনুগত্যতার সাথে আত্মসমর্পন করা, শান্তি, ইত্তিবা, পবিত্র ইসলাম পালন করা ইত্যাদি।

ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় ‘পবিত্র ইসলাম’-উনার পরিচিতি-

(৪৪)

ان الاسلام هو الخضوع والانقياد بمعنى قبول الاحكام والاذعان بـها. (شرح العقائد النسفية الصفحة ۱۲۸)

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাবতীয় বিধান গ্রহনার্থে এবং ঐগুলোর প্রতি আনুগত্য স্থাপন উদ্দেশ্যে বশ্যতা স্বীকার করাকে ‘পবিত্র ইসলাম’ বলা হয়। (শরহুল আক্বায়িদিন নাসাফিয়্যাহ ১২৮ পৃষ্ঠা)

(৪৫-৪৬)

الاسلام : فى الدر الـمختار هو تصديق سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم فى جميع ما جاء به عن الله تعالى مـما علم مجيئه ضرورة. (التعريفات الفقهية ۱۷۷. الدر الـمختارشرح تنوير الابصار.

অর্থ: ‘আদ দুররুল মুখতার’ কিতাবে উল্লেখ আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন খাতামুন নাবিয়্যীন, সাইয়্যিদুনা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান রব তায়ালা উনার কাছ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন বলে জানা গেছে ঐসব কিছুর প্রতি তাছদীক্ব বা বিশ্বাস স্থাপন করা (মেনে নেয়া) কে পবিত্র ইসলাম বলে। (আত তা’রীফাতুল ফিকহিয়্যাহ ১৭৭ পৃষ্ঠা, আদ দুররুল মুখতার শরহু তানযীরিল আবছার)

(৪৭-৪৮)

الاسلام اظهار الـخضوع والقبول لـما اتى به سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم.

الاسلام من الشريعة : اظهار الخضوع واظهار الشريعة والتزام ما اتى به النبى صلى الله عيه وسلم. (لسان العرب لابن منظور الجلد ۴ الصفحة ۲۰۸۰ دار المعارف. المعجم الوسيط)

অর্থ: ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায়- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, সাইয়্যিদুনা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার প্রতি বিনয় প্রকাশ করা ও আনুগত্যতার সাথে গ্রহণ করাকে ‘পবিত্র ইসলাম’ বলে। (লিসানুল আরব লিইবনি মানযূর ৪র্থ খ- ২০৮০ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : দারুল মায়ারিফ, আল মু’জামুল ওয়াসীত্ব)

(৪৯)

الاسلام هو الدين الذى نزله الله على محمد صلى الله عليه وسلم. (الـمعجم الوجيز الصفحة ۳۱۹)

অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হযরত মুহম্মদ মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যে পরিপূর্ণ পবিত্র দ্বীন (জীবন ব্যবস্থা) নাযিল করেছেন, তাকেই পবিত্র ইসলাম বলা হয়। (আল মু’জামুল ওয়াজিয ৩১৯ পৃষ্ঠা))

মুলত : মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, সাইয়্যিদুনা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট ওহী উনার মাধ্যমে নাযিলকৃত পূর্ণাঙ্গ মনোনীত জীবন ব্যবস্থাকে পবিত্র ইসলাম বলা হয়। আর যিনি পবিত্র ইসলাম উনাকে আভ্যন্তরীন ও বাহ্যিকভাবে মেনে নেন উনাকে মুসলিম বলা হয়।

১৬. الدين (আদ্দীন) : শব্দটি একবচন, এর বহুবচন اديان এর শাব্দিক অর্থ দ্বীন, আক্বীদাহ, ইসলাম, বিশ্বাস, ধার্মিকতা, দীনদারি, বিচার, প্রতিদান, আনুগত্য, ধর্ম পরায়নতা, চরিত্র, অভ্যাস, অবস্থা, রক্ষনশীলতা, ক্ষমতা, ফয়সালা, পরিনাম, বিবেচনা, ক্বিয়ামত দিবস ইত্যাদি।

ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় ‘দ্বীন’-এর পরিচিতি-

(৫০)

والدين لله من هذا انـما هو طاعته والتعبد له. (لسان العرب لابن منظور الجلد ۳ الصفحة ۱۴۶۹)

অর্থাৎ: মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে উনার আনুগত্য ও ইবাদত করাকে ‘দ্বীন’ বলা হয়। (লিসানুল আরব লিইবনিল মানযূর ৩য় খ- ১৪৬৯ পৃষ্ঠা)

(৫১)

الدين الاعتقاد بالجنان والاقرار باللسان وعمل الجوارح بالاركان. (المعجم الوسيط الصفحة ۳۰۷)

অর্থ: আন্তরিক বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রতঙ্গ দ্বারা রুকন সমূহের আমল করাকে দীন বলা হয়। (আল মু’জামুল ওয়াসীত্ব ৩০৭ পৃষ্ঠা)

(৫২)

الدين : بالكسر وضع التى يدعو اصحاب العقول الى القبول ما هو عند الرسول عليه السلام، والدين والـملة متحدان بالذات مختلفان بالاعتبار فان الشريعة من حيث انها تطاع تسمى دينا ومن حيث انها تجمع تسمى ملة ومن حيث انها يرجع اليها تسمى مذهبا وقيل الدين منسوب الى الله والـملة منسوبة الى الرسول والـمذهب منسوب الى الـمجتهد. (التعريفات الفقهية للسيد محمد عميم الاحسان المجددى البركتى الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه الصفحة ۲۹۵)

অর্থ: الدين শব্দটির دال বর্ণে যের যোগে পড়তে হবে।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, সাইয়্যিদুনা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি নাযিলকৃত যে পবিত্র জীবন ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে বিচক্ষন ইমাম-মুজতাহিদ উলামা উনারা আহবান করে থাকেন সেই পবিত্র জীবন ব্যবস্থাকেই পবিত্র দ্বীন বলা হয়।

দ্বীন ও মিল্লাত শব্দ দুটি মৌলিকভাবে একই অর্থজ্ঞাপক। কিন্তু ব্যাখ্যা সাপেক্ষে শব্দ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইসলামী শরীয়ত উনার ইত্তিবা করার নাম পবিত্র দ্বীন, আর যখন সকলেই একই সিদ্ধান্তে জমা হয় তখন তাকে মিল্লাত বলা হয়। আর যখন মিল্লাত তথা ইমাম-মুজতাহিদ উনাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়, তখন তাকে মাযহাব বলে।

এজন্য বলা হয় : ‘পবিত্র দ্বীন’ শব্দটি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত, ‘মিল্লাত’ শব্দটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং ‘পবিত্র মাযহাব’ শব্দটি মুজতাহিদ (ইমাম উলামা আউলিয়া) উনাদের সাথে সম্পর্কযুক্ত। (আত তা’রীফাতুল ফিক্বহিয়্যাহ লিস সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ২৯৫ পৃষ্ঠা)

১৭. اهل السنة والجماعة (আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াত) : اهل অর্থ: দল, ফিরক্বা, মিল্লাত, পরিবার-পরিজন, স্ত্রী, অধিকারী, যোগ্য, উপযুক্ত, বাসিন্দা, অধিবাসী, লোকজন ইত্যাদি। السنة অর্থ: পবিত্র সুন্নত, পবিত্র আদর্শ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র রীতি, পবিত্র নীতি, পবিত্র নিয়ম, পবিত্র পথ, পবিত্র পন্থা, পবিত্র স্বভাব ইত্যাদি। الجماعة অর্থ: দল, জামায়াত, উম্মত, সম্প্রদায়, বড় দল ইত্যাদি।

একত্রে اهل السنة والجماعة অর্থ: পবিত্র সুন্নত উনার পূর্ণ অনুসারী বড় হক্ব দল।

ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার পরিচিতি :

(৫৩)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, সাইয়্যিদুনা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ছাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং ইমাম মুজতাহিদ মুজাদ্দিদ ফক্বীহ গাউছ কুতুব ওলী আবদাল নক্বীব, নজীব রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা যে পবিত্র মত ও পবিত্র পথ উনার উপর প্রতিষ্ঠিত তাকে ‘আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াত’ বা সুন্নত উনার পূর্ণ অনুসারী বড় হক দল বলে।

আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার অন্যান্য নাম : ১. الفرقة الناجية অর্থাৎ জাহান্নাম থেকে মুক্তিদানকারী ও মুক্তিপ্রাপ্ত দল। ২. اهل الـحق অর্থাৎ সত্যনিষ্ঠদল। ৩. الصراط الـمستقيم অর্থাৎ হিদায়াত উনার সরল-সঠিক পথ। ৪.  حزب الله অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার দল। ৫. فرقة الصديقين অর্থাৎ ওলীআল্লাহ উনাদের পথ। ৬. الـمذاهب الاربعة অর্থাৎ হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বলী পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয়। ৭. عقائد الحنفية অর্থাৎ হানাফী আক্বায়িদ। ৮. مذهب الـماتريدى অর্থাৎ মাযহাবুল মাতুরীদী। হানাফীগণ এই আক্বীদায় বিশ্বাসী। ৯. مذهب الاشعرى অর্থাৎ মাযহাবুল আশয়ারী। মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বলীগণ এই আক্বীদায় বিশ্বাসী। ১০. اهل القبلة অর্থাৎ পবিত্র ইসলাম ও মুসলিম উনাদের নামাযের ক্বিবলা যে ক্বা’বা শরীফ এই আক্বীদায় বিশ্বাসী দল।

১৮. আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বায়িদী মাযহাব : মূলত: ‘আহলুস্ সুন্নাত ওয়াল জামায়াত’ বা ‘আল ফিরক্বাতুন্ নাজিয়াহ’ এর আক্বায়িদের মৌলিক মাসয়ালা সমূহ নির্ণয় করেন ইমামে আ’যম হাকিমুল হাদীছ তাবিয়ী হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি। সেখান থেকে পরবর্তীতে সে মাসয়ালা সমূহের দলীলভিত্তিক বিস্তারিত রূপ দান করেন।

১. হযরত আবূ মানছূর মাতুরীদী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (ওফাত: ৩৩৩ হিজরী)

২. হযরত আবুল হাসান আশয়ারী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (ওফাত: ৩৩০ হিজরীর কিছু বেশী)

তাই ‘আহলুস্ সুন্নাত ওয়াল জামায়াত’ বা ‘আল ফিরক্বাতুন্ নাজিয়াহ’-এর আক্বায়িদী মাযহাব হলো ২টি।

১. ‘আক্বায়িদুল মাতুরীদী’: হানাফী মাযহাবের অনুসারীগণ এ আক্বীদায় বিশ্বাসী।

২. ‘আক্বায়িদুল্ আশয়ারী’: মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের অনুসারীগণ এ আক্বীদায় বিশ্বাসী।

মূলত: আক্বায়িদুল মাতুরীদী ও আক্বায়িদুল আশয়ারী উনাদের মূল ভিত্তি হলো ‘আক্বায়িদুল হানাফী’। ইহাই অধিক ছহীহ্ মত।

আহলুস্ সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনাদের ফিক্বহী মাযহাব

‘আহলুস্ সুন্নাত ওয়াল জামায়াত’ বা ‘আল ফিরক্বাতুন্ নাজিয়াহ’ ফিক্বহী মাসয়ালার দৃষ্টিতে ৪ ভাগে বিভক্ত।

১. ‘মাযহাবুল হানাফী’ বা হানাফী মাযহাব:

ত্বাবিয়ী ইমামে আ’যম হাকিমুল হাদীছ হযরত ইমাম নু’মান বিন ছাবিত আবূ হানীফা কুফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (জন্ম: ৮০ হিজরী, ওফাত: ১৫০ হিজরী) উনার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাযহাব হচ্ছে ‘হানাফী মাযহাব’। ইহাই সর্বশ্রেষ্ঠ মাযহাব। সারাবিশ্বে ৯০ শতাংশ লোক এ মাযহাবের অনুসারী।

২. মাযহাবুল মালিকী বা মালিকী মাযহাব:

তাবি তাবিয়ীন হযরত ইমাম মালিক বিন আনাস মাদানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (জন্ম: ৯৩ মতান্তরে ৯৫ হিজরী, ওফাত: ১৭৯ হিজরী) উনার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাযহাব হচ্ছে ‘মালিকী মাযহাব’।

৩. ‘মাযহাবুশ্ শাফিয়ী বা শাফিয়ী মাযহাব:

হযরত ইমাম আবূ আব্দিল্লাহ মুহম্মদ শাফিয়ী আসক্বালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (জন্ম: ১৫০ হিজরী, ওফাত: ২০৪ হিজরী) উনার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাযহাব হচ্ছে ‘শাফিয়ী মাযহাব’।

৪. ‘মাযহাবুল হাম্বলী বা হাম্বলী মাযহাব:

হযরত ইমাম আহমদ ইবনে মুহম্মদ হাম্বল বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি (জন্ম; ১৬৪ হিজরী, ওফাত: ২৪১ হিজরী) উনার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাযহাব হচ্ছে ‘হাম্বলী বা হানাবালা মাযহাব’।

স্মরণীয় যে, এই চার মাযহাবই হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত। প্রত্যেক মুসলমান নর ও নারীর জন্য এই চার মাযহাবের যেকোন একটি মাযহাবের অনুসরণ করা ফরযে আইন। মাযহাব প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকার করা হারাম ও কুফরী। লা মাযহাবীরাই মূলতঃ বাতিল ফিরক্বার অন্তর্ভূক্ত। যে ব্যক্তি যে মাযহাবের অনুসারী তাকে আজীবন সেই মাযহাবেরই আনুগত্য করে যেতে হবে। মাযহাব পবিরর্তন করা হারাম ও নাজায়িয। ইহাই ছহীহ মত।

১৯. عبادة (ইবাদত) : শব্দটির শাব্দিক অর্থ গোলামী উপাসনা, বন্দেগী, ইবাদত, বিনয়ের সাথে আনুগত্য ইত্যাদি। ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় ইবাদত উনার পরিচিতি:

(৫৪)

العبادة وهى نهاية التعظيم لله تعالى. (افرات الـموارد فى فصح العربية والشوارد تاليف : سعيد الخورى الشرتونى اللبنانى الجزء الثانى الصفحة ۷۳۶)

অর্থ: শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখানোর আনুগত্যকে ইবাদত বলা হয়। (আফরাতুল মাওয়ারিদ ফী ফুছাহিল আরাবিয়াহ ওয়াশ শাওয়ারিদ সাঈদুল খাওরী শারতূনী লেবনানী ২য় খ- ৭৩৬ পৃষ্ঠা)

عبادة ইবাদত শব্দটি মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য উনার ব্যাপারে খাছ। যিনি ইবাদত করেন তিনি আব্দ। আর যাঁর ইবাদত করা হয় তিনি معبود মা’বূদ। মহান আল্লাহ পাক তিনি একমাত্রই মা’বূদ বা ইবাদত পাওয়ার উপযুক্ত। এ ছাড়া দ্বিতীয় কেউ মা’বূদ হওয়ার যোগ্য নেই।

(৫৫)

اما العبادة فلا يجوز لغيره سبحانه وتعالى. (التعريفات الفقهية للمفتى السيد محمد عميم الاحسان المجددى البركتى الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه الصفحة ۳۶۰)

অর্থ: ‘ইবাদত’ শব্দটি মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি ব্যতীত আর কারো ব্যাপারে প্রয়োগ করা জায়িয নেই। (আত তা’রীফাতুল ফিক্বাহয়্যাহ- মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৩৬০ পৃষ্ঠা)

২০. اتباع (ইত্তিবাউন) : শব্দটির অর্থ: অনুসরণ করা, অনুকরণ করা, অনুসারী হওয়া, মেনে চলা, মান্য করা, পিছনে পিছনে চলা, পিছনে লেগে থাকা, ইত্তিবা করা ইত্যাদি। ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় ইত্তিবা উনার পরিচিতি-

(৫৬)

قال الفراء : ان الاتباع ان يسير الرجل وانت تسير وراءه. (لسان العرب الجلد ۱ الصفحة ۴۱۶)

অর্থ: নাহুবীদ হযরত ফাররা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন : কোন বিশেষ ব্যক্তি যে পথে চলে, তোমার পক্ষে ঐ ব্যক্তির পিছনে চলাকেই ইত্তিবা তথা অনুসরণ- অনুকরণ বলা হয়। (লিসানুল আরব ১ম খ- ৪১৬ পৃষ্ঠা)

(৫৭)

سار وراءه وتطلبه، ويقال اتبع الامام : حذا حذوه. و القران والحديث : عمل بـما فيهما. (المعجم الوجيز الصفحة ۷۲)

অর্থ : সে উনার পিছনে চলেছে এবং উনাকে তালাশ করেছে। বলা হয় যে, সে ব্যক্তি মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ইত্তিবা করেছে। এছাড়াও পবিত্র কুরআন মাজীদ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের প্রদর্শিত বিধান অনুযায়ী আমল করাকে ইত্তিবা বলা হয়। (আল মু’জামুল ওয়াজীয ৭২ পৃষ্ঠা)

২১. اطاعة (ইত্বায়াতুন) : اطاعة ও طاعة শব্দের অর্থ হলো : ইত্বায়াত, আনুগত্য, বশ্যতা, নির্দ্বিধায় মেনে নেয়া, অনুযায়ী হওয়া, অনুকুল হওয়া ইত্যাদি। ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় ‘ইত্বায়াত’ উনার পরিচিতি-

(৫৮)

الطاعة : هى موافقة الامر طوعا. وهى قد تجوز لغير الله تعالى لقوله تعالى “اطيعوا الله واطيعوا الرسول واولى الامر منكم” اما العبادة فلا يجوز لغيره سبحانه وتعالى. (التعريفات الفقهية للمفتى السيد محمد عميم الاحسان المجددى البركتى الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه الصفحة ۳۶۰)

অর্থ: দীনী শরীয়ত উনার নির্দেশ অনুযায়ী যথাযথ আনুগত্যকেই ত্বা’য়াত বা ইত্বায়াত বলা হয়। এ ত্বায়াত বা ইত্বায়াত শব্দটি মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অন্যের ব্যাপারেও ব্যবহার করা জায়িয। যেমনটি, মহান আল্লাহ পাক উনার বানী: “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য কর, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন খাতামুন নাবিয়্যীন সাইয়্যিদুনা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যে অবস্থিত উলিল আমর (খলীফা, ইমাম, মুজতাহিদ, উলামা ও আউলিয়া কিরাম) রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের আনুগত্য (ইত্বায়াত) কর।” (পবিত্র সূরাতুন নিসা শরীফ: আয়াত শরীফ ৫৯)

কিন্তু ‘ইবাদত’ শব্দটি মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি ব্যতীত আর কারো ব্যাপারে প্রয়োগ করা জায়িয নেই। (আত তা’রীফাতুল ফিকহিয়্যাহ- মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দিদী বরকতী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৩৬০ পৃষ্ঠা)

২২. التقليد (আত তাক্বলীদ) : শব্দটির আভিধানিক অর্থ হল : গলায় হার পরানো, কর্তৃত্ব প্রদান করা, পদমর্যাদা দেয়া, দায়িত্ব ন্যস্ত করা, নক্বল করা, অন্ধ অনুসরণ করা, অন্ধ অনুকরণ করা, ভালোকে ভালো আর মন্দকে মন্দ হিসেবে মেনে নেয়া, পবিত্র চার মাযহাব উনাদের যে কোন একটি মাযহাব উনাকে অনুস্বরণ করা ইত্যাদি। ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় তাক্বলীদ-এর পরিচিতি-

(৫৯-৬১)

التقليد تسليم قول الغير من حسن الظن بغير دليل. (بديع الاصول، برهان المقلدين للامام العلامة روح الامين بشيرهارتى الحنفى والماتريدى رحمة الله عليه الصفحة ۱۰، سيف الـمقلدين للمفتى العلامة ابراهيم محبتپوری رحمة الله عليه الصفحة ۲۵۳)

অর্থ: কারো (দলীলসঙ্গত) কথায় দলীল অবগত না হয়ে উত্তম ধারণায় মেনে নেয়াকে তাকলীদ বলা হয়। (বাদিউল উছূল, বুরহানুল মুক্বাল্লিদীন-ইমাম আল্লামা রূহুল আমীন বশীরহাটী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ১০ পৃষ্ঠা, সাইফুল মুক্বাল্লিদীন-মুফতী আল্লামা ইবরাহীম মুহব্বতপূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি ২৫৩ পৃষ্ঠা)

(৬২)

التقليد العمل بقول الغير من غير حجة. (مسلم الثبوت)

অর্থ: (দলীলসঙ্গত) কারো উক্তির ব্যাপারে কোন দলীল প্রমাণ না জেনেই তদনুযায়ী আমল করাকে তাক্বলীদ বলে। (মুসাল্লামুছ ছুবূত)

(৬৩)

التقليد هو قبول قول بلا حجة. (كتاب الـمصطفى للامام الغزالى رحمة الله عليه الجلد ۲ الصفحة ۳۸۷)

অর্থ: (দলীলসম্মত) কারো কথাকে বিনা দ্বিধায় গ্রহণ করাকেই তাকলীদ বলে। (কিতাবুল মুছত্বফা লিল ইমাম গাযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি ২য় খ- ৩৮৭ পৃষ্ঠা)

(৬৪)

التقليد اتباع الرجل غيره فيما سمعه يقول او فى فعله على زعم انه محقق بلا نظر فى الدليل كذا فى مختصر الـمنار. (قمر الاقمار لنور الانوار ۲۱۶ رقم الحاشية ۱۸)

অর্থ : দলীল সম্মত কথায় কোন দলীল প্রমাণের প্রতি নজর না দিয়ে কোন মুহাক্কিক আলিম উনার উক্তি শুনে অথবা আমল দেখে উনার অনুস্বরণ করাকে তাকলীদ বলে। অনুরূপ মুখতাছারুল মায়ানী কিতাবে আছে। (ক্বমারুল আক্বমার লিনূরিল আনওয়ার ২১৬ পৃষ্ঠা ১৮নং হাশিয়া)

(৬৫)

التقليد عبارة عن اتباع الانسان غيره معتقدا للحقية فيه من غير نظر فى الدليل اوهو عبارة عن قبول قول الغير من غير حجة. (التعريفات الفقهية لعميم الاحسان رحمة الله عليه ۲۳۴)

অর্থ: দলীল প্রমাণ তালাশ করা ছাড়াই কোন হক্কানী আলিম উনাকে হক্ব হিসেবে বিশ্বাস রেখে অনুস্বরণ-অনুকরণ করাকে তাক্বলীদ বলে। অথবা কারো দলীলসম্মত উক্তিকে প্রমাণ অন্বেষণ ছাড়াই গ্রহণ করাকে তাক্বলীদ বলে। (আত তা’রীফাতুল ফিক্বহিয়্যাহ লিআমীমিল ইহসান রহমতুল্লাহি আলাইহি ২৩৪ পৃষ্ঠা)

 

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৬

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২০