পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ১৩তম পর্ব

সংখ্যা: ২৫১তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা) ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-২৩৭), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২০৩তম সংখ্যা), ৩২. হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১২তম সংখ্যা), ৩৩. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২২০তম সংখ্যা থেকে যা এখনো চলছে) পেশ করার পাশাপাশি-

৩৪তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

 

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

 

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো “উলামায়ে সূ”। ইহুদীদের এজেন্ট উলামায়ে ‘সূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে মুসলমান উনাদের বিশেষ বিশেষ ফযীলতযুক্ত আমলের রাত ও দিনসমূহ পালন করাকে বিদয়াত, নাজায়িয ও শিরক বলে ফতওয়া দিয়ে মুসলমান উনাদেরকে অশেষ খায়ের, বরকত, নিয়ামত, নাজাত অর্থাৎ রেযামন্দি বা সন্তুষ্টি মুবারক থেকে মাহরূম করছে। যেমন তারা বলে থাকে যে, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত, শিরক। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র শবে বরাত পালন করা বিদয়াত, নাজায়িয। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ পালন করা বিদয়াত। নাউযুবিল্লাহ! অনুরূপ আরো অনেক বিষয়কেই তারা বিনা দলীলে মনগড়াভাবে নাজায়িয ও বিদয়াত বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!

অপরদিকে বেদ্বীনী-বদদ্বীনী অর্থাৎ কাফির মুশরিক, ইহুদী, নাছারাদের যত পর্ব বা দিবস রয়েছে সেগুলোকে শুধু জায়িযই নয় বরং নিয়ামত বলে আখ্যা দিয়ে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! যেমন বাইতুল মুকাররমের সাবেক খতীব ওবায়দুল হক্ব প্রকৃতপক্ষে উবাই বলেছিল, “পহেলা বৈশাখ আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত।” নাঊযুবিল্লাহ!

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এসব বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত শিরক এবং পহেলা বৈশাখ মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত।” নাউযুল্লিাহ! তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হালাল বা জায়িয বিষয়কে হারাম বা নাজায়িয বলা এবং হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমান উনাদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ উলামায়ে “সূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে “পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা থেকে বিরত থাকবে এবং হারাম পহেলা বৈশাখ পালন করবে” তারা অশেষ খায়ের, বরকত ও নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হওয়ার কারণে কঠিন গুনাহগার অর্থাৎ জাহান্নামী হবে। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ তারা তাদের ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি”  প্রকাশ করা হলো।

 

সম্মানিত ইসলামী মাস, বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময় সমূহ সম্পর্কে এবং চন্দ্র ও সূর্যের গতিবিধির ব্যাপারে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার ২৬ খানা পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের তাফসীর

বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

 

সূর্য ও চন্দ্র এই দু’টি ইসলামী মাস, রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময় নিরুপনের ব্যাপারে মানদ- হিসেবে বিবেচিত। অর্থাৎ সূর্য ও চন্দ্র উনাদের আবর্তনের কারণে বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময়গুলো সুচারুরূপে আগমণ করে থাকে। এজন্য আমরা ইসলামী মাস, রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময় ইত্যাদীর আলোচনার পাশাপাশি চন্দ্র ও সূর্যের আবর্তন ও তাদের গতিবিধি সম্পর্কে আলোচনা করবো। যাতে করে বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে যায় এবং বুঝতে সহজ হয়। নিম্নে এ সম্পর্কিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-২৩

يُوْلِجُ اللَّيْلَ فِى النَّهَارِ وَيُوْلِجُ النَّهَارَ فِى اللَّيْلِ وَهُوَ عَلِيْمٌ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ.

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি রাতকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন। তিনি অন্তরের অন্তস্থলের খবরও জানেন। (পবিত্র সূরাতুল্ হাদীদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

قال عز وجل: {يُولِجُ اليل فِى النهار} يعنى يُدخل الليل فى النهار اذا جاء الليل ذهب النهار {وَيُولِجُ النهار فِى اليل} يعنى يُدخل النهار فى الليل اذا جاء النهار ذهب الليل. ومعنى اٰخر: يعنى يدخل زيادة الليل فى النهار يعنى يصير الليل اطول ما يكون خمس عشرة ساعة والنهار اقصر ما يكون تسع ساعات. والليل والنهار اربع عشرون ساعة.

অর্থ: মহান আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: (নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন) অর্থাৎ তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন, যখন রাত আসে আর দিন চলে যায়। (এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন) অর্থাৎ তিনি দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন, যখন দিন আসে আর রাত চলে যায়। অন্য মর্মার্থ: অর্থাৎ রাতের অতিরিক্ত অংশ দিনের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন, তাই তখন রাত ১৫ ঘন্টায় পরিনত হয়ে লম্বা হয়ে যায় আর দিন ৯ ঘন্টায় পরিনত হয়ে ছোট হয়ে যায়। সাধারণত: রাত ও দিন সর্বমোট ২৪ ঘন্টায় হয়ে থাকে। (বাহরুল উলূম অর্থাৎ তাফসীরুস সামারকান্দী পবিত্র সূরাতুল্ হাদীদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬ লেখক: আবুল লাইছ নছর বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম সামারকান্দী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৩৭৩ হিজরী)

}يولج الليل فى النهار} حتى يصير النهار اطول مايكون خمس عشرة ساعة والليل اقصر مايكون تسع ساعات {ويولج النهار فى الليل} حتى يصير الليل اطول مايكون خمس عشرة ساعة والنهار اقصر مايكون تسع ساعات والليل والنهار ابدا اربع وعشرون ساعة.

 অর্থ: (নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন) তাই দিন ১৫ ঘন্টায় পরিনত হয়ে লম্বা হয়ে থাকে, আর রাত ৯ ঘন্টায় পরিনত হয়ে ছোট হয়ে যায়। (এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন) তাই রাত ১৫ ঘন্টায় পরিনত হয়ে লম্বা হয়ে থাকে, আর দিন ৯ ঘন্টায় পরিনত হয়ে ছোট হয়ে যায়। সাধারণত: সর্বদাই রাত ও দিন সর্বমোট ২৪ ঘন্টা হয়ে থাকে। (রূহুল বয়ান ফী তাফসীরিল কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুল হাক্কী পবিত্র সূরাতুল্ হাদীদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬ লেখক: হযরত ইসমাঈল হাক্কী বিন মুছতফা ইস্তাম্বূলী বারূসাবী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১১২৭ হিজরী)

অত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর থেকে প্রমাণিত হলো যে, সাধারণত: সর্বদাই রাত ও দিন সর্বমোট ২৪ ঘন্টা হয়ে থাকে। আর রাত ও দিন সময়ের আবর্তনের কারণে ছোট ও বড় হয়ে থাকে।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-২৪

يايُّهَا الْمُزَّمّلُ. قُمِ اللَّيْلَ الَّا قَلِيْلًا. نِصْفَه اَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيْلًا. اَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتّلِ الْقُرانَ تَرْتِيْلًا. انَّا سَنُلْقِىْ عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيْلًا.

অর্থ: হে কম্বলাবৃত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! রাতে দন্ডায়মান হোন কিছু অংশ বাদ দিয়ে। অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা কিছু কম সময়। অথবা তদপেক্ষা বেশী এবং পবিত্র কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করুন তাজবীদের সাথে অর্থাৎ সুবিন্যস্ত ও স্পষ্টভাবে। নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি গুরুত্বপূর্ণ বাণী। (পবিত্র সূরাতুল্ মুয্যাম্মিল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১-৫)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

}يٰايها المزمل} المتزمل يعنى به النبى صلى الله عليه وسلم قد تزمل بثيابه ليلبسها للصلاة {قُمِ الليل} بالصلوة ثم قال {اِلاَّ قَلِيلًا} ثم بيَّن فقال {نِّصْفَه} اى قم نصف الليل للصلوة {اَوِ انقص مِنْهُ} من النصف {قَلِيلًا} الى الثلث {اَوْ زِدْ عَلَيْهِ} على النصف الى الثلثين فخيره فى قيام الليل ثم قال {وَرَتِّلِ القراٰن تَرْتِيلًا{.

অর্থ: (হে কম্বলাবৃত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) বস্ত্রাবৃত অর্থাৎ এই লক্বম মুবারক দ্বারা উদ্দেশ্য নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হযরত নাবিউল্লাহ রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। (রাতে দন্ডায়মান হোন) তাহাজ্জুহ নামায আদায়ের জন্য। অতপর মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি বলেন (কিছু অংশ বাদ দিয়ে।) অতপর তিনি বর্ণনা করেন, এবং বলেন (অর্ধরাত্রি) অর্থাৎ নামায আদায় করার জন্য অর্ধরাত্রে জাগ্রত হোন (অথবা তদপেক্ষা কিছু কম সময়।) অর্ধরাত্রের থেকে কম সময় হতে রাতের তৃতীয়াংশ পর্যন্ত (অথবা তদপেক্ষা বেশী) অর্ধরাত্র থেকে রাতের দুই তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। ক্বিয়ামুল লাইল অর্থাৎ তাহাজ্জুদ নামাযের ইহাই উত্তম ওয়াক্ত। অতপর তিনি ইরশাদ মুবারক করেন (এবং পবিত্র কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করুন তাজবীদের সাথে)। (তানবীরুল মাক্ববাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওয়াফাত মুবারক: ৬৮ হিজরী পবিত্র সূরাতুল্ মুয্যাম্মিল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১-৪ সংকলক: হযরত মুহাম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফীরোযাবাদী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৮১৭ হিজরী)

قَوْلُه تَعَالٰى: {قُمِ الَّيلَ اِلاَّ قَلِيلًا  نِصْفَه اَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا} اى قُمْ للصَّلوةِ اى صَلِّ اكثرَ الليلِ او قُمْ نصفَ الليلِ او انقُصْ من النِّصفِ قليلًا او انقُصْ من النصفِ {اَوْ زِدْ عَلَيْهِ} خيَّرَهُ الله تعالى فى قيام الليل فى هذه السَّاعات.

قال المفسِّرون رحمة الله عليهم: معنى قولهِ “نِصْفَه اَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا” اى انقُصْ مِن النصفِ الى الثُّلث او زدْ على النِّصف الى الثُّلُثَينِ جعل له سِعَةً فى قيامِ الليل وخيَّرَه فى هذه السَّاعات.

 অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইরশাদ মুবারক: (রাতে দন্ডায়মান হোন, কিছু অংশ বাদ দিয়ে। অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা কিছু কম সময়।) অর্থাৎ নামায আদায় করার জন্য জাগ্রত হোন। নামায পড়–ন অধিক রাতে অথবা অর্ধ রাতে অথবা অর্ধরাত থেকে কিছু কম সময়ে অথবা অর্ধরাত থেকে কম সময়ে (অথবা তদপেক্ষা বেশী) মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি এই ওয়াক্তকে ক্বিয়ামুল লাইল তথা তাহাজ্জুদ নামায পড়াকে উত্তম সময় হিসেবে দিয়েছেন। হযরত মুফাসসিরূন কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন: ‘অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা কিছু কম সময়’ উনার তাৎপর্য হলো- অর্ধরাত থেকে এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত অথবা অর্ধরাত থেকে রাতের দুই তৃতীয়াংশ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামায পড়–ন। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ছলাতুল্ লাইল তথা তাহাজ্জুদ নামাযে প্রভুত কল্যাণ রেখেছেন। আর তিনি এই নামায এই ওয়াক্তে আদায় করাকে উত্তম হিসেবে নির্ধারন করেছেন। (তাফসীরুল কুরআনিল আযীম লিত্ ত্ববারানী পবিত্র সূরাতুল্ মুয্যাম্মিল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১-৪ লেখক: হযরত আবুল ক্বাসিম সুলাইমান বিন আহমাদ বিন আইয়্যূব বিন মুত্বীর লাখমী শামী ত্ববারানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৩৬০ হিজরী)

}يٰايُّهَا الْمُزَّمِّلُ} … وقال السدى رحمة الله عليه: اراد يا ايها النائم قم فصلِّ.

قال العلماء رحمة الله عليهم: كان هذا الخطاب للنبى صلى الله عليه وسلم فى اول الوحى قبل تبليغ الرسالة {قُمِ اللَّيْلَ} اى للصلوة {اِلَّا قَلِيلا} وكان قيام الليل فريضة فى الابتداء وبيَّن قَدْرَه فقال: {نِصْفَه اَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيلا} الى الثلث {اَوْ زِدْ عَلَيْهِ} على النصف الى الثلثين، خيَّره بين هذه المنازل.

অর্থ: (হে কম্বলাবৃত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) … হযরত সুদ্দী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: অত্র আয়াত শরীফ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে- হে ঘুমন্ত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ঘুম থেকে জাগ্রত হোন এবং তাহাজ্জুদ নামায পড়–ন। হযরত উলামা কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন: রিসালত প্রচার করার পূর্বে প্রথম ওয়াহী নাযিলের সময় নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন করা হয়েছে। (রাতে দন্ডায়মান হোন,) নামায আদায় করা জন্য (কিছু অংশ বাদ দিয়ে।) প্রথম দিকে ক্বিয়ামুল লাইল তথা তাহাজ্জুদ নামায পড়া ফরয ছিল, এজন্য মহান আল্লাহ তায়ালা উক্ত নামাযের ওয়াক্ত বর্ণনা করে ইরশাদ মুবারক করেছেন (অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা কিছু কম সময়।) রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত (অথবা তদপেক্ষা বেশী) অর্ধরাত থেকে শুরু করে রাতের দুই তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। এই ওয়াক্তে তাহাজ্জুদ নামায পড়াকে তিনি উত্তম করেছেন। (মায়ালিমুত তানযীল অর্থাৎ তাফসীরুল বাগবী পবিত্র সূরাতুল্ মুয্যাম্মিল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১-৪ লেখক: হযরত মুহ্ইস সুন্নাহ আবূ মুহাম্মাদ হুসাঈন বিন মাসঊদ বাগবী শাফিয়ী আশয়ারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৫১০ হিজরী)

অত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর থেকে প্রমাণিত হলো যে, তাহাজ্জুদ নামাযের উত্তম ওয়াক্ত হচ্ছে: অর্ধরাত্রি থেকে রাতের দুই তৃতীয়াংশ সময় পর্যন্ত। কিন্তু আমভাবে তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত হলো- অর্ধরাত থেকে শুরু করে ছুবহি ছাদিক্ব উদয় হওয়ার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত। আর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়ার পূর্বে তাহাজ্জুদ উনার নামায আদায় করা ফরয ছিল। আর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়ার পর তাহাজ্জুদ নামায নফল বা সুন্নত হিসেবে ঘোষিত হয়।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-২৫

وَالْفَجْرِ. وَلَيَالٍ عَشْرٍ. وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ. وَاللَّيْلِ إِذَا يَسْرِ.

অর্থ: শপথ ফজরের। শপথ দশ রাতের। শপথ তার- যা জোড়  ও শপথ তার- যা বিজোড়। এবং শপথ রাতের যখন তা গত হতে থাকে। (পবিত্র সূরাতুল্ ফজর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১-৪)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

قوله تعالى: {والفجر} هو قسم وجوابه: ان ربك لبالمرصاد اقسم الله تعالى بالفجر يعنى الصبح. … ويقال: اراد به اول يوم من المحرم.

ثم قال عز وجل: {وَلَيالٍ عَشْرٍ} يعنى عشر ذى الحجة، ويقال: انها الايام العشر التى صام فيها موسى عليه السلام وهى قوله “وواعدنا موسى ثلاثين لَيْلَةً وَاَتْمَمْنَاهَا بِعَشْرٍ فَتَمَّ ميقات رَبِّه اَرْبَعِينَ لَيْلَةً وَقَالَ موسى لاَخِيهِ هارون اخلفنى فِى قَوْمِى وَاَصْلِحْ وَلاَ تَتَّبِعْ سَبِيلَ المفسدين” [سورة الاعراف شريف: ۱۴۲]. ويقال: هى ايام عاشوراء.

ثم قال عز وجل: {والشفع والوتر} قال قتادة رحمة الله عليه: الخلق كله شفع ووتر، فاقسم الله تعالى بالخلق. وروى الحارث رحمة الله عليه عن على عليه السلام انه قال: الشفع اٰدم عليه السلام وحواء عليها السلام والوتر الله سبحانه وتعالى. قال ابن عباس رضى الله عنهما: الوتر اٰدم عليه السلام فتشفع بزوجته حواء عليها السلام، وقال عطاء رحمة الله عليه: الشفع الناس والوتر الله سبحانه وتعالى. وقال الحسن رحمة الله عليه: الشفع هو الخلق، والذكر والأنثى والوتر الله تعالى. ويقال: اقسم بالصلوات، والصلوات منها ما هو شفع وهو الفجر والظهر والعصر والعشاء ومنها ما هو وتر وهو الوتر فى المغرب. ويقال: انما هو الاعداد كلها شفع ووتر. وعن ابن عباس رضى الله عنهما: الشفع ايام الذبح والوتر يوم عرفة.

قال عز وجل: {واليل اِذَا يَسْرِ} قال الكلبى رحمة الله عليه: يعنى ليلة المزدلفة.

অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইরশাদ মুবারক: (শপথ ফজরের,) ইহা হচ্ছে ফজরের ক্বসম। যার জাওয়াব হলো- অত্র সূরাহ শরীফ উনার ১৪ নম্বর আয়াত শরীফ

ان ربك لبالـمرصاد

‘নিশ্চয়ই আপনার রব তায়ালা তিনি সতর্ক দৃষ্টি রাখেন’। এখানে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ফজর অর্থাৎ ছুবহি ছাদিক্বের ক্বসম করেছেন। … কেউ বলেন: ইহা দ্বারা পবিত্র মুর্হারমুল হারাম মাসের পহেলা তা’রীখকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। অতপর মহান আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: (শপথ দশ রাতের,) অর্থাৎ পবিত্র যুল্ হিজ্জাহ মাসের দশ দিন। তাফসীরে বলা হয়: ইহা হচ্ছে পবিত্র যুল্ হিজ্জাহ মাসের পহেলা সেই দশ দিন যে দিন সমূহে হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম রোযা রেখেছিলেন। আর ইহাই মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র সূরাতুল আ’রাফ শরীফ উনার ১৪২ নম্বর আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেছেন: ‘আর আমি হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি ত্রিশ রাতের এবং তা পূর্ণ করেছি আরো দশ দ্বারা। এভাবে চল্লিশ রাতের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে। হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার ভাই হযরত হারূন আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, আমার ক্বওমে আপনি আমার প্রতিনিধি হিসেবে থাকুন। তাদেরকে সংশোধন করতে থাকুন, তবে ফিতনা-ফাসাদকারীদের পথে চলবেন না।’ কেউ বলেন: তা হচ্ছে আশূরার মাসের প্রথম দশ দিন। অতপর মহান আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: (শপথ তার- যা জোড়  ও শপথ তার- যা বিজোড়,) হযরত ক্বতাদাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: সৃষ্টি যা কিছু আছে সবকিছুই জোড় ও বিজোড়। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি সেই সৃষ্টির সবকিছুর শপথ করেছেন। হযরত হারিছ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: জোড় হচ্ছেন হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম ও হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম, আর বিজোড় হচ্ছেন স্বয়ং মহান আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা তিনি বলেন: বিজোড় হচ্ছেন হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম, আর উনার সঙ্গে উনার আহলিয়া হয়ে হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম তিনি জোড় হয়েছেন। হযরত আত্বা রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: জোড় হচ্ছেন মানুষ জাতি, আর বিজোড় হচ্ছেন মহান আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা। হযরত হাসান বছরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: সৃষ্টি সবকিছুই জোড়, পুরুষ ও মহিলা জোড়, কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি বিজোড়। কেউ বলেন: মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি নামাযসমূহের শপথ করেছেন। নামাযের মধ্যে কতক আছে জোড়, তা হচ্ছে: ফজর, যুহ্র, আছর ও ইশা। আর কতক আছে বিজোড়, তা হচ্ছে: ছলাতুল বিত্র ও ছলাতুল্ মাগরিব। আবার কেউ বলেন: নিশ্চয়ই সংখ্যাসমূহ কিছু জোড় আর কিছু বিজোড়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে যে: জোড় হলো কুরবানীর দিন অর্থাৎ যুল্ হিজ্জাহ মাসের দশ তা’রীখ, আর বিজোড় হলো আরাফাহ উনার দিন অর্থাৎ যুল্ হিজ্জাহ মাসের নয় তা’রীখ। মহান আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: (এবং শপথ রাতের যখন তা গত হতে থাকে) হযরত কালবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: অর্থাৎ সেই রাত হচ্ছে লাইলাতুল্ মুযদালিফাহ। (বাহরুল উলূম অর্থাৎ তাফসীরুস্ সামারকান্দী পবিত্র সূরাতুল্ ফজর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১-৪ লেখক: হযরত আবুল লাইছ নছর বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম সামারকান্দী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৩৭৩ হিজরী)

قوله تعالى: {والفجر} … قال شيخنا على بن عبيد الله رحمة الله عليه: الفجر ضوء النهار اذا انشق عنه الليل، … ومن هذا سمى الفاجر فاجرًا لانه خرج عن طاعة الله.

وللمفسرين رحمة الله عليهم فى المراد بهذا الفجر ستة اقوال:

احدها: انه الفجر المعروف الذى هو بدء النهار، قاله علىٌّ عليه السلام. وروى ابو صالح رحمة الله عليه عن ابن عباس رضى الله عنهما قال: هو انفجار الصبح كل يوم، وبهذا قال عكرمة رحمة الله عليه وزيد بن اسلم رحمة الله عليه والقرظى رحمة الله عليه.

والثانى: صلاة الفجر، رواه عطية عن ابن عباس رضى الله عنهما.

والثالث: النهار كلُّه فعبَّر عنه بالفجر لانه اوله، وروى هذا المعنى ابو نصر رحمة الله عليه عن ابن عباس رضى الله عنهما.

والرابع: انه فجر يوم النحر خاصة، قاله مجاهد رحمة الله عليه.

والخامس: انه فجر اول يوم من ذى الحجة، قاله الضحاك رحمة الله عليه.

والسادس: انه اول يوم من المحرم تنفجر منه السنة، قاله قتادة رحمة الله عليه.

অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইরশাদ মুবারক: (শপথ ফজরের,) … আমাদের শায়েখ হযরত আলী বিন উবাইদুল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: রাতকে বিদূরিত করে আগত দিনের আলোই হচ্ছে ফজর। … এ জন্যই ফাজিরকে ফাজির বা গুনাহগার নামকরণ করা হয়, যেহেতু সে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আনুগত্যতা থেকে বের হয়ে গিয়েছে।

হযরত মুফাসসিরীন কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ‘আল-ফজর’ শব্দ মুবারক উনার ব্যাখ্যায় ছয় খানা মতামত ব্যক্ত করেছেন: প্রথম: তা হচ্ছে ফজরের ওয়াক্ত। যা দিনের শুরু হিসেবে পরিচিত। এ ব্যাখ্যাটি করেছেন হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম। হযরত আবূ ছালিহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: তা হচ্ছে প্রতিটি দিনের আগত সকাল। আর ইহাই বলেছেন হযরত ইকরামাহ, যায়েদ ইবনে আসলাম ও কুরতুবী রহমাতুল্লাহি আলাইহিম। দ্বিতীয়: ছলাতুল্ ফজর, যা বর্ণনা করেছেন হযরত আত্বিয়্যাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার থেকে। তৃতীয়: সকল দিনই ফজর, এমন ব্যাখ্যা করার কারণ হলো- কেননা, প্রত্যেকটি দিন ফজর দিয়ে শুরু হয়। চতুর্থ: ইহা হচ্ছে বিশেষভাবে ইয়াওমুন্ নাহ্র অর্থাৎ যুল্ হিজ্জাহ মাসের দশম তা’রীখের সকাল। ইহা বলেছেন হযরত মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি। পঞ্চম: ইহা হচ্ছে যুল্ হিজ্জাহ মাসের পহেলা তা’রীখ বা দিনের সকাল। ইহা হযরত দ্বহ্হাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন। ষষ্ঠ: ইহা হচ্ছে মুর্হারমুল হারাম মাসের পহেলা তা’রীখ বা দিন, কেননা এই দিনের মাধ্যমে হিজরী বছর শুরু হয়। ইহা হযরত ক্বতাদাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন।

قوله تعالى: {وليالٍ عشر} فيها اربعة اقوال:

احدها: انه عشر ذى الحجة، رواه العوفى رحمة الله عليه عن ابن عباس رضى الله عنهما، وبه قال مجاهد وقتادة والضحاك والسدى ومقاتل رحمة الله عليهم.

والثانى: انها العشر الاواخر من رمضان، رواه ابو ظبيان رحمة الله عليه عن ابن عباس رضى الله عنهما.

والثالث: العشر الاول من رمضان، قاله الضحاك رحمة الله عليه.

والرابع: العشر الاول من المحرم، قاله يمان بن رئاب رحمة الله عليه.

(শপথ দশ রাতের,) এই আয়াত শরীফ উনার মধ্যে চারটি ব্যাখ্যা রয়েছে: প্রথম: ইহা হচ্ছে পবিত্র যুল্ হিজ্জাহ মাসের প্রথম দশ দিন। ইহা হযরত আওফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। যা হযরত মুজাহিদ, ক্বতাদাহ, দ্বহ্হাক, সুদ্দী ও মুক্বাতিল রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও বলেছেন। দ্বিতীয়: ইহা হচ্ছে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশ দিন। ইহা হযরত আবূ যব্ইয়ান রহমাতুল্লাহি আলাইহি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। তৃতীয়: পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার প্রথম দশ দিন। ইহা হযরত দ্বহ্হাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন। চতুর্থ: পবিত্র মুর্হারমুল হারাম মাসের প্রথম দশ দিন। ইহা হযরত ইয়ামান ইবনে রিয়াব রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন।

قوله تعالى: {والشَّفْعِ والوَتْرِ} قرا حمزة والكسائى وخلف رحمة الله عليهم والوِتْر بكسر الواو وفتحها الباقون وهما لغتان. قال الفراء رحمة الله عليه: الكسر لقريش وتميم واسد والفتح لاهل الحجاز.

وللمفسرين رحمة الله عليهم فى “الشفع والوتر” عشرون قولًا:

احدهما: ان الشفع يوم عرفة ويوم الاضحى والوتر ليلة النحر، رواه ابو ايوب الانصارى رضى الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

والثانى: يوم النحر والوتر يوم عرفة، رواه جابر بن عبد الله رضى الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبه قال ابن عباس رضى الله عنهما وعكرمة رحمة الله عليه والضحاك رحمة الله عليه.

والثالث: ان الشفع والوتر: الصلاة منها الشفع ومنها الوتر، رواه عمران بن حصين رضى الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبه قال قتادة رحمة الله عليه.

والرابع: ان الشفع الخلق كله والوتر الله تعالى، رواه العوفى رحمة الله عليه عن ابن عباس رضى الله عنهما، وبه قال مجاهد رحمة الله عليه فى رواية مسروق وابو صالح رحمة الله عليهما.

والخامس: ان الوتر اٰدم عليه السلام شفع بزوجته عليها السلام، رواه مجاهد رحمة الله عليه عن ابن عباس رضى الله عنهما.

মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইরশাদ মুবারক: (শপথ তার- যা জোড়  ও শপথ তার- যা বিজোড়,) হযরত হামযাহ, কাসায়ী ও খল্ফ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা আল-বিত্র উনার ওয়াও উনার নিচে যের দিয়ে পাঠ করেছেন। আর এছাড়া অন্যান্য ক্বারী উনারা যবর দিয়ে পড়েছেন। তাই এখানে দুইটি ক্বিরায়াত রয়েছে। হযরত র্ফারা রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: কুরাঈশ, তামীম ও আসাদ গোত্র যের দ্বারা পড়েছেন। আর হিজাযবাসীরা যবর দ্বারা পড়েছেন।

হযরত মুফাসসিরীন কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা والشفع والوتر উনার ব্যাপারে ২০টি ব্যাখ্যা করেছেন:

প্রথম: জোড় হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আদ্বহা উনার দিন, আর বিজোড় হচ্ছে আরাফাহ উনার দিন। ইহা হযরত আবূ আইয়্যূব আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি নূরুম মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয়: জোড় হচ্ছে কুরবানীর দিন, আর বিজোড় হচ্ছে আরাফাহ উনার দিন। ইহা হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। যা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা, হযরত ইকারামাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত দ্বহ্হাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারাও বলেছেন।

তৃতীয়: নামাযের মধ্যে কতক নামায জোড় আর কতক নামায বিজোড়। ইহা হযরত ইমরান বিন হুছাঈন রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেছেন।

চতুর্থ: সমস্ত সৃষ্টি জোড়, আর বিজোড় হচ্ছেন মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি। ইহা হযরত আওফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। যা হযরত মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত মাসরূক্ব ও আবূ ছালিহ রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা উনাদের রিওয়ায়েতে বলেছেন।

পঞ্চম: বিজোড় হচ্ছেন হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম, আর উনার আহলিয়া হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম হয়ে উনারা জোড় হয়েছেন । হযরত মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইহা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার থেকে বর্ণনা করেছেন।

والسادس: ان الشفع يومان بعد يوم النحر وهو النفر الاول والوتر اليوم الثالث وهو النفر الاخير، قاله عبد الله ابن الزبير رضى الله عنه، واستدل بقوله تعالى: “فمن تعجَّل فى يومين فلا اثم عليه” [سورة البقرة شريف: ۲۰۳].

والسابع: ان الشفع صلاة الغداة والوتر صلاة المغرب، حكاه عطية رحمة الله عليه.

والثامن: ان الشفع الركعتان من صلاة المغرب والوتر الركعة الثالثة، قاله ابو العالية والربيع بن انس رحمة الله عليهما.

والتاسع: ان الشفع والوتر: الخلق كله، منه شفع ومنه وتر، قاله ابن زيد ومجاهد رحمة الله عليهما فى رواية.

والعاشر: انه العدد، منه شفع ومنه وتر، وهذا والذى قبله مرويان عن الحسن رحمة الله عليه.

ষষ্ঠ: কুরবানীর প্রথম দুই দিন জোড়, আর তৃতীয় দিন বিজোড়। ইহা হযরত আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন। তিনি দলীল হিসেবে পবিত্র সূরাতুল্ বাক্বারাহ শরীফ উনার ২০৩ নম্বর আয়াত শরীফ পেশ করেছেন, ‘অতপর যে ব্যক্তি তাড়াহুড়া করে চলে যাবে শুধু দু’ দিনের মধ্যে, তার জন্য কোন পাপ নেই।’

সপ্তম: ফজরের নামায জোড়, আর মাগরিব উনার নামায বিজোড়। ইহা হযরত আত্বিয়্যাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন।

অষ্টম: ছলাতুল্ মাগরিব উনার ফরযের প্রথম দু’ রাকয়াত জোড়, আর তৃতীয় রাকয়াত বিজোড়। ইহা হযরত আবুল আলিয়াহ ও হযরত রবী’ বিন আনাস রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা উনারা বলেছেন।

নবম: সমস্ত সৃষ্টির কতক জোড়, আবার কতক বিজোড়। হযরত ইবনু যায়েদ ও মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা একই রিওয়ায়েতে বলেছেন।

দশম: ইহা হচ্ছে সংখ্যা। তন্মধ্যে কতক জোড়, আবার কতক বিজোড়। ইহা হযরত হাসান বছরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণনা, যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

والحادى عشر: ان الشفع عشر ذى الحجة والوتر ايام منى الثلاثة، قاله الضحاك رحمة الله عليه.

والثانى عشر: ان الشفع هو الله لقوله تعالى: “ما يكون من نجوى ثلاثة إلا هو رابعهم” [سورة المجادلة شريف: ۷] والوتر هو الله لقوله تعالى: “قل هو الله أحد”، قاله سفيان بن عيينة رحمة الله عليه.

والثالث عشر: ان الشفع هو اٰدم وحواء عليهما السلام والوتر الله تعالى، قاله مقاتل بن سليمان رحمة الله عليه.

والرابع عشر: ان الشفع الايام والليالى والوتر اليوم الذى لا ليلة بعده وهو يوم القيامة، قاله مقاتل بن حيان رحمة الله عليه.

والخامس عشر: الشفع درجات الجنان لانها ثمان والوتر دَرَكات النار لانها سبع، فكأن الله اقسم بالجنة والنار، قاله الحسين بن الفضل رحمة الله عليه.

একাদশ: জোড় হচ্ছে যুল্ হিজ্জাহ মাসের দশ দিন, আর বিজোড় হচ্ছে মিনায় অবস্থানের তিন দিন।

দ্বাদশ: জোড় হচ্ছেন মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি, যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি পবিত্র সূরাতুল্ মুজাদালাহ শরীফ উনার ৭ নম্বর আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন ‘তিন ব্যক্তির এমন কোন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি মহান আল্লাহ তায়ালা চতুর্থজন হিসেবে না থাকেন।’ আর বিজোড়ও মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি, যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি পবিত্র সূরাতুল্ ইখলাছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন ‘হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, তিনি মহান আল্লাহ হচ্ছেন একক’। ইহা হযরত সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন।

ত্রয়োদশ: জোড় হচ্ছেন হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম ও হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম, আর বিজোড় হচ্ছেন মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি। ইহা হযরত মুক্বাতিল বিন সুলাইমান রহিমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন।

চতুর্দশ: জোড় হচ্ছে রাত সমূহ ও দিন সমূহ, আর বিজোড় হচ্ছে এমন দিন যার পরে কোন রাত নেই, তা হচ্ছে ক্বিয়ামত দিবস। ইহা হযরত মুক্বাতিল বিন হাইয়ান রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন।

পঞ্চদশ: জোড় হচ্ছে পবিত্র জান্নাত উনার দরজা সমূহ, কেননা তা আটটি। আর বিজোড় হচ্ছে জাহান্নামের দরজা সমূহ, কেননা তা সাতটি। মনে হয় যেন মহান আল্লাহ তায়ালা এজন্যই জান্নাত ও জাহান্নামের ক্বসম করেছেন। ইহা হযরত হুসাঈন বিন ফদ্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন।

والسادس عشر: الشفع تضاد اوصاف المخلوقين بين عِزٍ وذُلٍّ وقدرة وعجز وقوة وضعف وعلم وجهل وموت وحياة. والوتر انفراد صفات الله عز وجل: عِزٌّ بلا ذل وقدرة بلا عجز وقوة بلا ضعف وعلم بلا جهل وحياة بلا موت، قاله ابو بكر الورَّاق رحمة الله عليه.

والسابع عشر: ان الشفع الصفا والمروة والوتر البيت.

والثامن عشر: ان الشفع مسجد مكة والمدينة والوتر بيت المقدس.

والتاسع عشر: ان الشفع القِرَان بين الحج والتمتع والوتر الافراد.

والعشرون: الشفع العبادات المتكررة كالصلوة والصوم والزكاة والوتر العبادة التى لا تتكرر وهو الحج، حكى هذه الاقوال الاربعة الثعلبى رحمة الله عليه.

ষষ্ঠদশ বা ষোড়শ: জোড় হচ্ছে সৃষ্টির বিপরীতমুখি গুণাগুণ। যেমন: সম্মান ও অপমান, শক্তিমত্তা ও অক্ষমতা, সবল ও দূর্বল, জ্ঞান ও অজ্ঞতা এবং মাঊত ও হায়াত। আর বিজোড় হচ্ছে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার একক গুণাবলী। যেমন: উনার সম্মান-মর্যাদা আছে কিন্তু অপমান নেই, উনার প্রবল শক্তিমত্তা আছে কিন্তু তিনি অক্ষম নন, উনি সবল কিন্তু দূর্বল নন, উনার ইল্ম বা জ্ঞান রয়েছে কিন্তু অজ্ঞতা নেই এবং উনি চির জাগরুক কিন্তু মরণশীল নন। ইহা হযরত আবূ বকর ওর্য়ারক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন।

সপ্তদশ: জোড় হচ্ছে ছফা ও মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়, আর পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ তথা কা’বা শরীফ হচ্ছে বিজোড়।

অষ্টদশ: জোড় হচ্ছে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মাসজিদ তথা কা’বা শরীফ ও পবিত্র মাদীনা শরীফ উনার মাসজিদ তথা মাসজিদুন্ নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আর বিজোড় হচ্ছে বাইতুল মুক্বাদ্দাস শরীফ।

ঊনবিংশ: জোড় হচ্ছে হজ্জ উনার মধ্যে ক্বিরান হজ্জ ও তামাত্তু’ হজ্জ, আর বিজোড় হচ্ছে ইফরাদ হজ্জ।

বিংশ: জোড় হচ্ছে বারংবার পালনীয় ইবাদত সমূহ যেমন নামায রোযা ও যাকাত, আর বিজোড় হচ্ছে যা বারবার পালনীয় ইবাদত নয় যেমন হজ্জ।

সপ্তদশ থেকে বিংশ এই চারখানা ক্বওল বর্ণনা করেছেন হযরত ছা’লাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।  (যাদুল মাসীর ফী ইলমিত্ তাফসীর অর্থাৎ তাফসীরুল্ জাওযী পবিত্র সূরাতুল্ ফজর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১-৪ লেখক: হযরত জামালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ জাওযী হাম্বালী আশয়ারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৫৯৭ হিজরী)

অত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর থেকে প্রমাণিত হলো যে- দিন, তা’রীখ, সময়, মুহুর্ত, বিশেষ বিশেষ সময়ের আলোচনা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনিই ব্যক্ত করেছেন। যা জেনে আমল করা এবং উদ্যাপন করা বান্দাহ ও উম্মাত উনাদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-২৬

وَالْعَصْرِ.

অর্থ: শপথ আছরের অর্থাৎ সময়ের বা যুগের বা আছর নামাযের ওয়াক্তের। (পবিত্র সূরাতুল্ আছর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

قوله تعالى: {والعصر} فيه ثلاثة اقوال:

احدها: انه الدهر، قاله ابن عباس رضى الله عنهما وزيد بن اسلم والفراء وابن قتيبة رحمة الله عليهم، وانما اقسم بالدهر لان فيه عبرة للناظر من مرور الليل والنهار.

والثانى: انه العشى وهو ما بين زوال الشمس وغروبها، قاله الحسن وقتادة رحمة الله عليهما.

والثالث: صلوة العصر، قاله مقاتل رحمة الله عليه.

অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইরশাদ মুবারক: (শপথ আছরে) এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় তিনটি ক্বওল রয়েছে: প্রথম: আছর হচ্ছে যুগ, যামানা, সময়, মুহুর্ত, কাল বা মহাকাল। ইহা বলেছেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা, হযরত যায়েদ বিন আসলাম, হযরত ফাররা ও হযরত কুতাইবাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম। এখানে মহান আল্লাহ তায়ালা যুগের ক্বসম করেছেন, যাতে করে রাত ও দিনের চলমান পরিবর্তন হওয়া অবলোকন করে পর্যবেক্ষকগণ তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে পারেন। দ্বিতীয়: আছর হচ্ছে বিকেল বেলা। যা সূর্য পশ্চিমাকাশে ডলে পড়া থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়। ইহা বলেছেন হযরত হাসান বছরী ও ক্বতাদাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা। তৃতীয়: আছর হচ্ছে ছলাতুল আছর তথা পবিত্র আছর নামায। ইহা হযরত মুক্বাতিল রহমাতুল্লহি আলাইহি তিনি বলেছেন। (যাদুল মাসীর ফী ইলমিত্ তাফসীর অর্থাৎ তাফসীরুল জাওযী পবিত্র সূরাতুল্ আছর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১ লেখক: হযরত জামালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ জাওযী হাম্বালী আশয়ারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৫৯৭ হিজরী)

অত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর থেকে প্রমাণিত হলো যে- আছর হচ্ছে: যুগ, যামানা, সময়, মুহুর্ত, কাল বা মহাকাল, বিকেল, ছলাতুল আছর বা আছর নামায, পবিত্র আছর নামায উনার ওয়াক্ত ইত্যাদী। যার ক্বসম বা শপথ করেছেন স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি। এর থেকে বুঝা যায় যে, বিশেষ বিশেষ সময়, মুহুর্ত, কাল, যুগকে গুরুত্ব দেয়া কত জরুরী। এজন্যই মূলত: এই ফাতাওয়া প্রদানের প্রয়াস।

উপরোক্ত ২৬ খানা আয়াত শরীফ, উনাদের সঠিক অনুবাদ এবং তাফসীর থেকে আমরা চন্দ্র, সূর্য, তারকা, বিশেষ বিশেষ সময়, যামানা, মুহুর্ত, কাল, ওয়াক্ত এবং তৎসংশ্লিষ্ট অসংখ্য বিষয় সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম। এখন আমরা সপ্তাহের সাত দিনের ফযীলত সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক আলোচলা করব। ইন্শা আল্লাহ।

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৩)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫৬

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৮তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১১ম পর্ব)