পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৮তম পর্ব)

সংখ্যা: ২৭৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৪তম ফতওয়া হিসেবে

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরকী ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের অকাট্ট দলীলের আলোকে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত মুহব্বত-মা’রিফত, নিসবত-ক্বুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের সর্বোত্তম ওসীলা মুবারক এবং মানুষের সম্মানিত আক্বীদাহ মুবারক এবং সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক। সুবহানাল্লাহ!

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে সম্মানিত মুসলমান উনাদের সম্মানিত ঈমান এবং সম্মানিত আমল উনাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো “উলামায়ে সূ”। ইহুদীদের এজেন্ট উলামায়ে ‘সূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে সম্মানিত মুসলমান উনাদের বিশেষ বিশেষ ফযীলতযুক্ত আমলের রাত ও দিন মুবারকসমূহ পালন করাকে বিদয়াত, নাজায়িয ও শিরক বলে ফতওয়া দিয়ে সম্মানিত মুসলমান উনাদেরকে অশেষ খায়ের, বরকত, নিয়ামত, নাজাত অর্থাৎ রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক থেকে মাহরূম করছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! যেমন তারা বলে থাকে যে, সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত, শিরক। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ পালন করা বিদয়াত। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! সম্মানিত ও পবিত্র শবে বরাত পালন করা বিদয়াত, নাজায়িয। নাউযুবিল্লাহ! অনুরূপ আরো অনেক বিষয়কেই তারা বিনা দলীলে মনগড়াভাবে নাজায়িয ও বিদয়াত বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!

অপরদিকে বেদ্বীনী-বদদ্বীনী অর্থাৎ কাফির মুশরিক, ইহুদী, নাছারাদের যত পর্ব বা দিবস রয়েছে সেগুলোকে শুধু জায়িযই নয় বরং নি‘য়ামত বলে আখ্যা দিয়ে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! যেমন বাইতুল মুকাররমের সাবেক খতীব ওবায়দুল হক্ব প্রকৃতপক্ষে খবীছ উবাই বলেছিল, “পহেলা বৈশাখ মহান আল্লাহ পাক উনার নি‘য়ামত।” নাঊযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!

তাদের উপরোক্ত বক্তব্য চরম বিভ্রান্তিকর, সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কুফরীমূলক। তাদের এসব বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত এবং আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত শিরক এবং পহেলা বৈশাখ মহান আল্লাহ পাক উনার নি‘য়ামত।” নাউযুল্লিাহ! তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হালাল বা জায়িয বিষয়কে হারাম বা নাজায়িয বলা এবং হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। এ সম্পর্কে কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

اِسْتِحْلَالُ الْـمَعْصِيَةِ كُفْرٌ.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” নাউযুবিল্লাহ! (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে ‘সূ’দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমান উনাদের সম্মানিত আক্বীদাহ্ মুবারক ও সম্মানিত ঈমান উনাদের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ উলামায়ে ‘সূ’দের এই কুফরীমূলক বক্তব্য সম্মানিত মুসলমান উনাদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা, যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফালইয়াফরহূ শরীফ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা থেকে বিরত থাকবে এবং হারাম পহেলা বৈশাখ পালন করবে” তারা অশেষ খায়ের, বরকত ও নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হওয়ার কারণে কঠিন গুনাহগার অর্থাৎ জাহান্নামী হবে। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা এবং হক্বপন্থি ও সমঝদার মুসলমানগণ উনারা যেন উনাদের সম্মানিত ঈমান ও সম্মানিত আমল মুবারক হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ সকল বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ মোতাবেক বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক পোষণ করে এবং সঠিক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী রিযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি”  প্রকাশ করা হলো।

 

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন ও সময়ের গুরুত্ব, ফযীলত ও আহকাম এবং

তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফাতাওয়া-

 

পূর্ব প্রকাশিতের পর

সম্মানিত রবী‘উছ ছানী শরীফ মাসে প্রকাশিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফসমূহ

 

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ দিবস মুবারক = ৫টি

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ = ৬টি

৪) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৮ই রবী‘উছ ছানী শরীফ:

বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দিবস মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলেন-

قُلْتُ يَا خَالَةُ اِنَّكِ لَتَذْكُرِيْنَ شَيْئًا مَّا وَقَعَ ذِكْرُهٗ بِبَلَدِنَا فَاَبِيْنِيْهِ لِـىْ فَقَالَتْ

“আমি বললাম, হে খালাজান! আপনি এমন কিছু কথা বলছেন, যা আমাদের দেশে এখনো প্রকাশ পায়নি, সংঘটিত হয়নি। আপনি আমাকে বিষয়টি খুলে বলুন। তখন তিনি বললেন-

مُـحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) – رَسُوْلٌ مِّنْ عِنْدِ اللهِ. جَاءَ بِتَنْزِيْلِ اللهِ  -يَدْعُوْ بِهٖ اِلَـى اللهِ. ثُـمَّ قَالَتْ مِصْبَاحُهٗ مِصْبَاحُ-  وَدِيْنُهٗ فَلَاحُ. وَاَمْرُهٗ نَـجَاحُ-  وَقَرْنُهٗ نَطَاحُ. ذَلَّتْ لَهٗ الْبِطَاحُ-  مَا يَنْفَعُ الصِّيَاحُ. لَوْ وَقَعَ الـذِّبَاحُ  -وَسُلَّتِ الصِّفَاحُ. وَمُدَّتِ الرِّمَاحُ.

অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মহান আল্লাহ পাক উনার কাছ থেকে অবতীর্ণ কিতাব তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ নিয়ে এসেছেন। এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কিতাব মুবারক উনার মাধ্যমে তিনি মানুষকে মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে আহ্বান মুবারক করেন। উনার সম্মানিত নূর মুবারকই প্রকৃত আলোকদীপ্ত। উনার সম্মানিত দ্বীনই কল্যাণ। উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারকই সাফল্য। সুবহানাল্লাহ! উপত্যকার পর উপত্যকা উনার অনুগত (সমগ্র দেশ, সমস্ত কায়িনাত উনার অনুগত)। জিহাদে কাফেররা নিহত হলে, তরবারি উত্তোলিত হলে এবং বর্শা নিক্ষিপ্ত হলে, হৈ হুল্লোড় করা কোনো উপকারী হবে না।”

আমার খালাজান উনার এসব কথাবার্তা আমার মনে বিরাট প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আমি পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করতে থাকি। আমি অধিকন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার কাছে বসতাম। এরপর একবার উনার কাছে যাই। তখন তিনি একা। যেহেতু তিনি ছিলেন আমার বন্ধু, তাই আমি উনার কাছে আমার খালাজান উনার বক্তব্যের সারকথা বললাম। তিনি বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! আপনি বুদ্ধিমান লোক। আপনি যদি হক্ব ও বাতিলের পার্থক্য না করেন, তা হবে অবাক হওয়ার কথা। আপনার জাতি যে মূর্তির পূজা করে, তা কি পাথরের তৈরি নয়? এগুলো না শুনতে পায়, না দেখতে পায়। না উপকার করতে পারে আর না পারে ক্ষতি করতে। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলেন-

قُلْتُ بَلـٰى وَاللهِ اِنَّـهَا لَكَذٰلِكَ قَالَ وَاللهِ لَقَدْ صَدَقَتْكَ خَالَتُكَ هٰذَا سَيِّدُنَا مَوْلـٰـنَا مُـحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ بَعَثَهُ اللهُ بِرِسَالتهٖ اِلـٰى جَـمِيْعِ خَلْقِهٖ.

অর্থ: “আমি বললাম, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আপনি যা বলছেন, তা একান্ত ঠিকই বলছেন। তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ করে বলছি, আপনার খালাজান যা বলেছেন, অবশ্যই তা ঠিকই বলেছেন। তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে সমস্ত কায়িনাতের জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে প্রেরণ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!

আপনি উনার কাছে যান, তিনি কি বলেন, শুনলে ক্ষতি কি? এক বর্ণনায় রয়েছে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমি তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ গেলাম। অপর বর্ণনায় রয়েছে, এমতাবস্থায় স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই আমাদের এখানে যাহির মুবারক হন। সুবহানাল্লাহ!

অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, হে হযরত সাইয়্যিদুনা যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে সম্মানিত জান্নাত উনার দিকে ডাকছেন। আপনি উনার ডাকে সাড়া দিন।

فَاِنِّـىْ رَسُوْلُ اللهِ اِلَيْكَ واِلـٰى جَـمِيْعِ خَلْقِهٖ.

অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি আপনিসহ সমস্ত কায়িনাতের জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ!

উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ উনাদের মধ্যে কি ছিলেন, তা মহান আল্লাহ পাক তিনিই ভালো জানেন। আমি আর নিজেকে সংবরণ করতে পারিনি। আমি বেকারার হয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিামায়ে শাহাদাত শরীফ পাঠ করে মুসলমান হই। সুবহানাল্লাহ!

ثُـمَّ لَـمْ اَلْبَثْ اَنْ تَزَوَّجْتُ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اَلنُّوْرَ الثَّانِيَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) بِنْتَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

অর্থ: “তারপর অল্প সময়ের মধ্যেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ সুসম্পন্ন মুবারক হন। ” সুবহনাল্লাহ!

সময়টি ছিলেন আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ৩য় বছর পার হয়ে ৪র্থ বছর উনার শুরুতে ১৮ই রবী‘উছ ছানী শরীফ লাইলাতুল জুমু‘য়াহ শরীফ (জুমু‘য়াহবার রাত)। তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ১০ বছর ১৫ দিন। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৩৭ বছর ১ মাস ১৫ দিন। সুবহানাল্লাহ!

বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের মাঝে বেমেছাল মিল-মুহব্বত মুবারক বিদ্যমান ছিলেন। আরবের লোকজন বলাবলি করতো এবং এই কথাটি উপমায় পরিণত হয়েছিলো যে-

اَحْسَنُ زَوْجَيْـنِ رَاٰهُـمَا اِنْسَانٌ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اَلنُّوْرَ الثَّانِيَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) وَزَوْجَهَا سَيِّدَنَا حَضْرَتْ ذَا النُّوْرَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدَنَا حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ).

অর্থ: “মানুষের দেখা সম্মানিত দম্পতি মুবারক উনাদের মধ্যে বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত যাওজুম মুকাররাম সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা সর্বোত্তম ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইছাবাহ ৭/৬৯৮, বিদায়া-নিহায়া ৭/২২৩, মুখতাছারু তারীখে দিমাশক্ব ৫/১৭৫ ইত্যাদি)

৫ (ক) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৯শে রবীউছ ছানী শরীফ :

উম্মুল মু’মিনীন  আস সাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন মোট ১৩ জন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার মুবারক ধারাবাহিকক্রম অনুযায়ী সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘আস সাবি‘য়াহ্ তথা ৭ম’। এ জন্য উনাকে ‘উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। তিনি সকলের মাঝে ‘উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম’ হিসেবে পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!  উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক হচ্ছেন- সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র কুনিয়াত মুবারক হচ্ছেন- সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল হাকাম আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন অত্যন্ত তীক্ষ্ম সমঝ, সীমাহীন ইলম ও হিকমত মুবারক উনাদের অধিকারী, মালিক। এ কারণে উনাকে সবাই ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল হাকাম আলাইহাস সালাম’ এই সম্মানিত ও পবিত্র কুনিয়াত মুবারক-এ সম্বোধন মুবারক করতো। প্রকৃতপক্ষে উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম উনার কোন আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম ছিলেন না।

উম্মুল মু’মিনীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আত্ব ত্বাহিরাহ, আত্ব ত্বইয়্যিবাহ্, মালিকাতুল জান্নাহ, মালিকাতুল কায়িনাত, যাতুল হিজরাতাইন এছাড়াও উনার আরো অসংখ্য-অগণিত লক্বব মুবারক রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

উনার মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম হচ্ছেন- সাইয়্যিদুনা হযরত জাহ্শ ইবনে রিআব আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম হচ্ছেন- সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমাইমাহ্ বিনতে আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি সম্মানিত বনূ আসাদ বংশের অন্তর্গত। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম উনার দিক থেকে ১০ম পুরুষ হয়ে ১১তম পুরুষে যেয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! যেমন-

اُمُّ الْمُؤْمِنِيْـنَ السَّابِعَةُ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اَطْوَلُ يَدًا عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ) بِنْتُ جَحْشِ بْنِ رِئَابِ بْنِ يَعْمَرَ بْنِ صَبْرَةَ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَبِيْـرِ بْنِ غَنْمِ بْنِ دُوْدَانَ بْنِ اَسَدِ بْنِ خُزَيْـمَةَ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ.

১. اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ السَّابِعَةُ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اَطْوَلُ يَدًا عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ)  উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম)।

২. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ جَحْشٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত জাহ্শ আলাইহিস সালাম।

৩. رِئَابٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত রিআব আলাইহিস সালাম।

৪. يَعْمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়া’মার আলাইহিস সালাম।

৫. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ صَبْرَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ছব্রাহ্ আলাইহিস সালাম।

৬. مُرَّةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ  সাইয়্যিদুনা হযরত র্মুরাহ্ আলাইহিস সালাম।

৭. كَبِيْـرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত কাবীর আলাইহিস সালাম।

৮. غَنْمٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত গ¦ন্ম আলাইহিস সালাম।

৯. دُوْدَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত দূদান আলাইহিস সালাম।

১০. اَسَدٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত আসাদ আলাইহিস সালাম।

১১. خُزَيـْمَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত খুযাইমাহ্ আলাইহিস সালাম।

সাইয়্যিদুনা হযরত খুযাইমাহ্ আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা মাতা হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমাইমাহ্ বিনতে আব্দুল মুত্ত্বালিব ইবনে হাশিম আলাইহিমুস সালাম, যিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আপন ফুফু। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আপন ফুফাতো বোন। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার মহাসম্মানিত মাতা আলাইহিস সালাম উনার দিক থেকে ৩য় পুরুষে যেয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! যেমন-

اُمُّ الْمُؤْمِنِيْـنَ السَّابِعَةُ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اَطْوَلُ يَدًا عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ) بِنْتُ اُمَيْمَةَ بِنْتِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ.

১.  اُمُّ الْمُؤْمِنِيْـنَ السَّابِعَةُ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اَطْوَلُ يَدًا عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ)  উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম)।

২.  سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اُمَيْمَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমাইমাহ্ আলাইহাস সালাম।

৩. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِ السَّلَامُ  সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম।

(ইবনে হিশাম, আর রওদ্বুল উন্ফ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, আনসাবুল আশরাফ, মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ্, মিরআতুল আনসাব, ‘উয়ূনুল আছার, আল মুখতাছারুল কাবীর, ইবনে সা’দ, তারীখুল ইসলাম, আছ ছিক্বাত লিইবনে হিব্বান ইত্যাদি)

তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক প্রকাশের ২০ বছর পূর্বে ১৯শে রবী‘উছ ছানী শরীফ ইয়াওমুল জুমু‘য়াহ্ শরীফ ‘বনূ আসাদ গোত্রে’ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সূচনালগ্নে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন দুইবার। প্রথবার সম্মানিত ও পবিত্র হাবশাহ শরীফ। দ্বিতীবার সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফে। সুবহানাল্লাহ!

আল্লামা ইবনে কাছীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

كَانَتْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْـنَ السَّابِعَةُ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اَطْوَلُ يَدًا عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ زَيْنَبُ بِنْتُ جَحْشِ بْنِ رِئَابٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ) مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ الْاَوَّلِ.

অর্থ: “ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাবি‘য়াহ্ আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন সর্বপ্রথম হিজরতকারী মহিলাগণ উনাদের মধ্যে অন্যতম।” সুবহানাল্লাহ! (বিদায়া-নিহায়া ৪/১৬৯)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِسَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقِ الْاَعْظَمِ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عُمَرَ بْنِ الْـخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) اِنَّ اُمَّ الْمُؤْمِنِيْـنَ السَّابِعَةَ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اَطْوَلَ يَدًا عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ) اَوَّاهَةٌ.

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক, “নিশ্চয়ই উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম তিনি অত্যন্ত নরম দিল মুবারক উনার অধিকারী।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/২০৩)

উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন-

وَلَـمْ اَرَ امْرَاَةً قَطُّ خَيْرًا فِـى الدِّيْنِ مِنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْـنَ السَّابِعَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَطْوَلَ يَدًا عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ زَيْنَبَ عَلَيْهَا السَّلَامُ). وَاَتْقٰى لِلّٰهِ وَاَصْدَقَ حَدِيْثًا وَّاَوْصَلَ لِلرِّحْمِ وَاَعْظَمَ صَدَقَةً وَّاَشَدَّ ابْتِذَالًا لِّنَفْسِهَا فِـى الْعَمَلِ الَّذِىْ تَصَدَّقُ بِهٖ وَتَقَرَّبُ بِهٖ اِلَـى اللهِ تَعَالـٰى.

অর্থ: “আমি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার চেয়ে অধিক দ্বীনদার, অধিক পরহেযগার, অধিক সত্যভাষী, অধিক উদার, অধিক দানশীল, সৎকর্মশীল এবং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে বেশি তৎপর কাউকে দেখিনি।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, নাসায়ী শরীফ, আল মু’জামুল আওসাত্ব লিত ত্ববারনী ৯/৮৮)

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন-

كَانَتْ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُعْجِبَةً وَّكَانَ يَسْتَكْثِرُ مِنْهَا وَكَانَتِ امْرَاَةً صَالِـحَةً صَوَّامَةً قَوَّامَةً صَنَاعًا تَصَدَّقُ بِذٰلِكَ كُلِّهٖ عَلَى الْمَسَاكِيْـنِ.

অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অত্যন্ত প্রিয় এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বেশি বেশি উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক, সম্মানিত প্রশংসা মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন  অত্যন্ত নেককার, অধিক রোযা পালনকারিণী, অনেক বেশি নামায আদায়কারিণী এবং হাতের কাজে অত্যন্ত পারদর্শী। তিনি নিজ হাত মুবারক-এ কাজ করে উপার্জিত সমস্ত অর্থ ফক্বীর-মিসকীনদেরকে দান করে দিতেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখে দিমাশক্ব ৩/২১২, ইছাবাহ্ ৮/১৫৪)

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক- (২য় পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪৮

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৪)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৫)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০তম পর্ব)