পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫১

সংখ্যা: ২৭১তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩২তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”-

পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সম্মানিত চার মাযহাব উনাদের যেকোনো একটি মাযহাব অনুসরণ করা ফরয-ওয়াজিব

সম্মানিত শরীয়ত অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের ফায়ছালা হলো- প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা, জ্বিন-ইনসান সকলের জন্য সম্মানিত চার মাযহাব উনাদের যেকোনো একটি সম্মানিত মাযহাব উনাদের অনুসরণ করা ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। যে বা যারা সম্মানিত মাযহাব অস্বীকার করে বা অনুসরণ করেনা সে বা তারা বিদয়াতী, গুমরাহ ও জাহান্নামী। এ ব্যাপারে সম্মানিত ইমাম-মুজতাহিদ উনাদের মধ্যে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নি¤েœ এ সম্পর্কিত দলীল-আদিল্লাহসমূহ উল্লেখ করা হলো-

মুসলিম শরীফ উনার বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘মুসলিম শরীফ উনার’ টিকায় এবং ইমাম তাহাবী ‘দুররুল মুখতার’ কিতাবের হাশিয়াতে লিখেন-

(১১৫২-১১৫৪)

عَلَيْكُمْ يَا مَعْشَرَ الْـمُؤْمِنِيْنَ اِتِّبَاعُ الْفِرْقَةِ النَّاجِيَةِ الْـمُسَمَّاةِ بِأَهْلِ السُّنَّةِ وَالْـجَمَاعَةِ فَأِنَّ نَصْرَةَ اللهِ وَحِفْظَه وَتَوْفِيْقَه فِيْ مُوَافِقَتِهِمْ وَخَذَلًالَّه وَسَخْطَه وَمَقْتَه فِيْ مُـخَالِفَتِهِمْ وَهٰذِهِ الطَّائِفَةُ النَّاجِيَةُ قَدْ اِجْتَمَعَتِ الْيَوْمَ فِيْ مَذْهَبِ أَرْبَعٍ وَهُمُ الْـحَنَفِيُّوْنَ وَالْـمَالِكِيُّوْنَ وَالشَّفِعِيُّوْنَ وَالْـحَنَبِلِيُّوْنَ رَحِمَهُمُ اللهُ وَمَنْ كَانَ خَارِجًا مِّنْ هٰذِهِ الْأَرْبَعَةِ فَهُوَ أَهْلُ الْبِدْعَةِ وَالنَّارِ.

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! আপনারা নাজিয়া (নাজাতপ্রাপ্ত) দলকে অনুসরণ করে চলুন যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ নামে মশহূর। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার সাহায্য, হিফাযত ও তাওফীক্ব অর্জন সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের অনুসরণের মাধ্যমেই সম্ভব এবং মহান আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টি, গযব ও অপদস্ততা উনাদের সাথে বিরোধিতার কারণেই। আর ‘আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত’ বর্তমান যুগে চার মাযহাবে বিভক্ত। উনারাই হলেন সম্মানিত হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বলী মাযহাব। আর যারাই বর্তমানে এ ৪ মাযহাব বহির্ভূত তারাই বিদয়াতী ও জাহান্নামী। (তাম্বিহ ৪৬৬ পৃষ্ঠা)

বিখ্যাত ‘তাফসীরে আহমদী’ উনার ৫২৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

(১১৫৫)

وَقَدْ وَقَعَ الْإِجْمَاعُ عَلٰى أَنَّ الْاِتِّبَاعَ لِاَنَّـمَا يَـجُوْزُ أَئِمَّةُ الْأَرْبَعَةِ فَلَا يَجُوْزُ الْاِتِّبَاعُ لِمَنْ حَدَثَ مُـجْتَهِدًا أَوْ مُـخَالِفًا لَّـهُمْ.

অর্থাৎ, অনুসরণীয় উলামায়ে কিরাম উনাদের মধ্যে এ ব্যাপারে ইজমা হয়েছে যে, শুধু ৪ ইমাম উনাদের মাযহাবকে অনুসরণ করা জায়িয। সুতরাং উনাদের খিলাফ নতুন কোন মুজতাহিদকে অনুসরণ করা জায়িয নেই।

বিখ্যাত ফক্বীহ আল্লামা ইবনুল হুমাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘তাহরীর ও ফাতহুল ক্বাদীর’ কিতাবে লিখেন-

(১১৫৬-১১৫৭)

اِنْعَقَدَ الْإِجْمَاعُ عَلٰى عَدْمِ الْعَمَلِ بِالْـمَذَاهِبِ الْـمُخَالِفَةِ لِلْاَئِمَّةِ الْأَرْبَعَةِ.

অর্থ: সম্মানিত চার মাযহাব উনাদের বিপরীত কোন মাযহাব উনার অনুসরণ করা যাবে না বলে ইমাম-মুজতাহিদ উনাদের মধ্যে ইজমা শরীফ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিখ্যাত উছূলের কিতাব ‘আশবাহ ওয়ান্নাযায়ির’ উনার ১৩১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

(১১৫৮)

مَنْ خَالَفَ الْأَئِمَّةَ الأَرْبَعَةَ فَهُوَ مُـخَالِفُ الْإِجْمَاعِ

অর্থ: যে ব্যক্তি ৪ ইমাম উনাদের খিলাফ করবে। সে অবশ্যই ইজমা শরীফ বিরোধী, (যার মত গ্রহণীয় নয়)।

বিখ্যাত মুফাসসির কাজী ছানাউল্লাহ পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘তাফসীরে মাযহারী’ উনার মধ্যে লিখেন-

(১১৫৯)

فَاِنَّ أَهْلَ السُّنَّةِ قَدْ اِفْتَرَقَ بَعْدَ القُرُوْنِ الثَّلٰثَةِ عَلٰى أَرْبَعَةِ مَذَاهِبٍ وَلَـمْ يَبْقَ مَذْهَبٌ فِيْ فُرُوْعِ الْـمَسَائِلِ سِوَا هٰذِهِ الْـمَذَاهِبِ الْأَرْبَعَةِ فَقَدْ اَعْقَدَ الْاِجْمَاعُ الْـمُرَكَّبُ عَلٰى بَطَلَانٍ قَوْلٍ يُـخَالِفُ كُلُّهُمْ.

অর্থ: আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত কুরূনে ছালাছা উনাদের পর চার মাযহাবে বিভক্ত হয়েছে এবং আমলী মাসায়ালাসমূহ এ ৪ মাযহাব ভিন্ন অন্য কোন মাযহাবেই নেই এবং যে মত বা মাযহাব উক্ত চার মাযহাব উনার বিপরীত হবে তা বাতিল ও বর্জনীয় হওয়ার ব্যাপারে ইজমা শরীফ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মুজাদ্দিদে যামান হযরত শাহওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘ইক্বদুলজিদ’ নামক কিতাব উনার ৩২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-

(১১৬০)

اِعْلَمْ أَنَّ فِي الْأَخْذِ بِـهٰذِهِ الْـمَذَاهِبِ الْأَرْبَعَةِ مُصْلِحَةٌ عَظِيْمَةٌ وَفِي الْإَعْرَاضِ عَنْهَا كُلُّهَا مُفْسِدَةٌ كَبِيْرَةٌ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِتَّبِعُوْا السَّوَادَ الْأَعْظَمَ فَمَنْ شَذَّ شُذَّ فِي النَّارِ.

অর্থ: জেনে রাখ, বাস্তবিকই এ ৪ মাযহাব অনুসরণ করার মধ্যে বিরাট উপকার এবং উনাদের অনুসরণ না করার মধ্যে বিরাট ফ্যাসাদ ও অপকার। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সতর্ক করে দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন- “তোমরা বড় দলকে অনুসরণ কর। যে তা হতে দূরে সরে যাবে সে জাহান্নামে পতিত হবে।”

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

(১১৬১-১১৬২)

يَدُ اللهِ عَلَى الْـجَمَاعَةِ وَمَنْ شَذَّ شُذَّ فِي النَّارِ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতের হাত মুবারক মু’মিনের বড় জামাতের প্রতি। যে তা হতে দূরে থাকবে সে জাহান্নামে পতিত হবে। (তিরমিযী শরীফ দ্বিতীয় খন্ড ২৪৪ পৃষ্ঠা, মিশকাত শরীফ ৩০ পৃষ্ঠা)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

(১১৬৩)

مَنْ فَارَقَ الْـجَمَاعَةَ شِبْرًا فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الْإِسْلَامِ

অর্থ: “যে ব্যক্তি মুসলমান উনাদের বড় জামায়াত হতে এক বিঘত পথও সরে যাবে অর্থাৎ কিছু আমল হতে কিছুক্ষণের জন্য সরবে, সে অবশ্যই তার গর্দান হতে পবিত্র ইসলাম উনার রশি ফেলে দিল।” (আবূ দাউদ শরীফ)

হযরত মুল্লাজিউন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘তাফসীরে আহমদী’ উনার মধ্যে লিখেন-

(১১৬৪)

وَالْإِنْصَافُ أَنَّ اِنْـحِصَارَ الْـمَذَاهِبِ فِي الْأَرْبَعَةِ وَاِتَّبَاعُهُمْ فَضْلُ إِلٰـهِيٍّ وَقُبُوْلِيَةٍ مِّنْ عِنْدِ اللهِ تَعَالٰى.

অর্থ: “সত্যিকার অর্থে হক মাযহাব চারটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং তার অনুসরণ করা মহান আল্লাহ পাক উনার ফজল ও করম এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মকবুল।” সুবহানাল্লাহ!

আল্লামা আব্দুল হাই লাখনবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘গাইছুল গামাম’ কিতাবে লিখেন-

(১১৬৫)

إِنَّ اِنْـحِصَارَ الْـمَسَالِكِ فِي الْـمَذَاهِبِ الأَرْبَعَةِ الْـمَشْهُوْرَةِ فِي الْأَزْمِنَةِ الْـمُتَأَخِّرَةِ أَمْرُ النَّهْيِ وَفَضْلُ رَبَّانِيٍّ لَا يَـحْتَاج إِلٰـى إِقَامَةِ الدَّلِيْلِ.

অর্থ: পরবর্তী যুগে সম্মানিত শরীয়ত উনার মাসয়ালাসমূহ সম্মানিত চার মাযহাবে সীমাবদ্ধ হওয়া মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক এবং উনারই ফযল ও অনুগ্রহ; যার প্রতি কোন প্রমাণের প্রয়োজন নাই।

(১১৬৬)

আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘ফাতহুল মুবীন’ নামক কিতাবে লিখেন-

اَمَّا فِيْ زَمَانِنَا فَقَالَ أَئِمَّتُنَا لَا يَـجُوْزُ تَقْلِيْدَ غَيْرِ الْأَئِمَّةِ الْأَرْبَعَةِ أَبِيْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهُ عَلَيْهِ وَالشَّافِعِيِّ رَحْمَةُ اللهُ عَلَيْهِ وَمَالكٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَأَحْمَدَ ابْنِ حَنْبَلٍ رَحْمَةُ اللهُ عَلَيْهِ

অর্থ: আমাদের যুগে আমাদের সম্মানিত আলিম উনারা বলেন, চার ইমাম অর্থাৎ ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম শাফিয়ী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের ব্যতীত অন্য কারো অনুসরণ করা জায়িয হবে না।”

স্মর্তব্য, হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি প্রমূখ ইমামগণ উনাদের মতে যে ফতওয়া ও আমল করা হয় তা প্রকৃতপক্ষে উনাদের উস্তাদ হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মত বা রিওয়ায়াত। যেমন শায়েখ আল্লামা শা’রানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘মিজান’ নামক কিতাবে লিখেন –

(১১৬৭)

عَنْ اَصْحَابِ أَبِيْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهُ عَلَيْهِ أَبِيْ يُوْسُفَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمُ الله تَعَالٰى وَزُفَرَ وَالْـحَسَنِ أَنَّـهُمْ كَانُوْا يَقُوْلُوْنَ بِأَنَّ مَا قُلْنَا فِيْ مَسْئَلَةٍ قَوْلًا اِلَّا هُوَ رِوَايَتْنَا عَنْ أَبِيْ حَنِيْفَةَ وَاَقْسَمُوْا عَلٰى ذٰلِكَ إِيْـمَانًا مُغَلَّظًا.

অর্থ: হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনুসারীগণ যেমন হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম যুফার রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, আমরা যে কোন বিষয়ে কোন মাসআলা বলেছি তা শুধু আমাদের উস্তাদ ইমাম আ’যম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকেই বলেছি। এ কথার প্রতি উনারা দৃঢ় ক্বসম করেছেন।

‘মুসাল্লামুছ ছবুত’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে-

(১১৬৮)

قَالَ الْأَمَامُ الرَّازِيُّ أَجْمَعَ الْـمُحَقِّقُوْنَ عَلٰى مَنْعِ الْعَوَامِّ مِنْ تَقْلِيْدِ أَعْيَانِ الصَّحَابَةِ بَلْ عَلَيْهِمُ الْاِتِّبَاعُ الَّذِيْنَ سَيَّرُوْا وَبَوَّبُوْا وَهَذَّبُوْا وَنَقَّحُوْا وَجَمَعُوْا وَفَرَّقُوْا وَطَلُّوْا وَفَصَّلُوْا وَعَلَيْهِ اِكْتَفٰى اِبْنُ الصَّلَاحِ مَنْعَ تَقْلِيْدِ غَيْرِ الْأَئِمَّةِ الْأَرْبَعَةِ لِأَنَّ ذٰلِكَ لَـمْ يَدْرِ فِيْ غَيْرِهِمْ.

অর্থ: “আল্লামা হযরত ইমাম রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হক্কানী উলামায়ে কিরাম উনারা সাধারণের প্রতি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনাদের তাক্বলীদ করা নিষেধ বলে একমত হয়েছেন। বরং যে সকল ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ গবেষণা করে সম্মানিত শরীয়ত উনার যাবতীয় মাসআলা মাসাইল বিস্তারিতভাবে লিখে সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়েছেন এবং লিপিবদ্ধ করেছেন এই সূত্রে যেহেতু ৪ জন ইমাম কামিল তাই আল্লামা ইবনে ছেলাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি চার ইমাম ভিন্ন অন্য কারো অনুসরণ করা নিষেধ করেছেন। কারণ অন্য কারো মধ্যে সব বিষয়ের পূর্ণ ফায়ছালা পাওয়া যায় না।”

উল্লেখ্য, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অধিকাংশ সময় জিহাদ, তাবলীগ ও নানারূপ কঠিন কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে বিশেষ করে উনাদের এ প্রচারের জন্য দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ায় সম্মানিত শরীয়ত উনার যাবতীয় মাসআলা বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করে যেতে পারেননি। এ মহান দায়িত্বপূর্ণ কাজ মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত চার ইমাম উনাদের দ্বারাই পূর্ণভাবে সমাধা করেছেন।

তাই শুধুমাত্র চার ইমামের মাযহাব ধারণ করাই ওয়াজিব। যেমন ‘মুসাল্লাম ও আক্বদুল ফরীদ’ নামক কিতাব উনাদের মধ্যে উল্লেখ আছে যে, সাধারণের পক্ষে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মাযহাব গ্রহণ করা নিষেধ হওয়ার প্রতি ইজমা শরীফ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যেহেতু চার ইমাম প্রয়োজনীয় যাবতীয় বিষয়ে মাসয়ালাসমূহের ব্যবস্থা করে লিপিবদ্ধ করে গেছেন। তাই উনাদের মাযহাব অবলম্বন করা সাধারণ মুসলিমের প্রতি ওয়াজিব। আর ইমামগণ উনারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের মত ধারণ করবেন। ইমামগণ উনারা প্রকৃতপক্ষে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মতই গ্রহন করেছেন। যেহেতু হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কোন কোন বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করতেন তাই উনাদেরই অনুসরণে হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরও বিভিন্ন মত হয়েছে।

তার কয়েকটি উদাহরণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম ও হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনারা বলেন, তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়া ইদ্দত অবধি স্বামীর বাড়িতে থাকার স্থান ও খোরাক পাবে।

(১১৬৯)

আর ‘ছহীহ মুসলিম শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন, উক্ত আহলিয়া খোরাক ও স্থান পাবে না।

হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রথমোক্ত দুই জন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনাদের মত গ্রহণ করেছেন।

আর হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মত গ্রহণ করেছেন।

(১১৭০)

‘মুসলিম শরীফ’ উনার টিকায় উল্লেখ আছে, হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা বলেন, খোলা মাঠে সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার দিকে ইস্তিঞ্জা করা নাজায়িয। আর দেয়াল ঘেরা ঘরে জায়িয।

পক্ষান্তরে হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি, হযরত সালমান ফারিসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি, হযরত আবু আইয়ূব আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা বলেন, উভয় স্থানেই নাজায়িয।

ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা প্রথম দুইজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনাদের মত গ্রহণ করেছেন।

আর হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শেষোক্ত তিনজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মত গ্রহণ করেছেন।

(১১৭১)

‘বুখারী শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যে মাছ নদীতে মরে ভেসে থাকে তা হালাল।

(১১৭২-১১৭৩)

‘আবূ দাউদ শরীফ ও ইবনে মাজাহ শরীফ’ উনাদের মধ্যে উল্লেখ আছে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা বলেন, তা হারাম।

ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা প্রথম ছাহাবী উনাদের মত গ্রহণ করেছেন আর ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা শেষোক্ত ছাহাবী উনাদের মত গ্রহণ করেছেন।

(১১৭৪)

‘মুয়াত্তা ইমাম মালিক’ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নিরুদ্দেশ স্বামীর আহলিয়া ৪ বছর অপেক্ষা করে নিকাহ বসতে পারে।

(১১৭৫)

‘মুসনাদে আব্দুর রযযাক’ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ও হযরত ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা বলেন, আহালের (স্বামী) ইন্তিকালের সংবাদ না পাওয়া পর্যন্ত নিকাহ বসতে পারবে না।

হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রথম ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এবং ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শেষোক্ত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মত গ্রহণ করেছেন।

এরূপভাবে মাযহাব উনার ইমাম উনারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা উনাদের ইখতিলাফ (মতভেদ) সূত্রেই বিভিন্ন মত গ্রহণের কারণেই উনাদের মধ্যেও বিভিন্ন মত হয়েছে এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মত মুবারকে বা উনার মত মুবারক উনার দৃষ্টিতে ইজতিহাদ ও ক্বিয়াস করে চলেছেন এবং এ ইজতিহাদ ও ক্বিয়াস করার অনুমতি মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা  উনাদেরকে দিয়েছেন। আর ইজতিহাদ ও ক্বিয়াস করতঃ যে বিভিন্ন মত হবে, উনাদের ঐ বিভিন্ন মত সবই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট গ্রহণীয় ও মঞ্জুর হবে বলে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা জানিয়ে দিয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে সমস্ত মতই মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের থেকেই হয়েছে যা সম্মানিত শরীয়ত উনার মূল। অতএব, ইমাম উনাদের ইজমা শরীফ মান্য করা মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক উনাকেই মান্য করা। তবে তা শিরক হলো কিভাবে?

আরো জেনে রাখুন যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যে সকল মাসয়ালায় ইজমা (একমত) পোষণ করেছেন। সম্মানিত চার মাযহাব উনাদের ইমামগণ উনারাও সে সম্মানিত মাসয়ালায় একমত হয়েছেন। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যে সকল মাসয়ালায় ভিন্ন মত পোষণ করেছেন ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও সেসকল মাসয়ালায় ভিন্ন মত  পোষন করেছেন।

সুতরাং ইমাম মুজতাহিদ উনাদের অনুসরণ করা প্রকৃতপক্ষে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই অনুসরণ করা। অতএব, যারা ইমাম উনাদের মত মানবে না, তারা অবশ্যই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের তরীক্বারও বিরোধী হবে। নাউযুবিল্লাহ!

তবে কোন কোন মাসয়ালাতে কতিপয় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মতানৈক্য হওয়ায় জমহূর (অধিকাংশ) হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মতের উপর ইমাম মুজতাহিদ উনারা ইজমা শরীফ করেছেন।

অতএব, ইমাম মুজতাহিদ উনাদের ইজমা শরীফ অমান্য করা যাবে না। কারণ ইমাম মুজতাহিদ উনাদের ইজমা শরীফ ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ইজমা শরীফ উভয়ই সম্মানিত শরীয়ত উনার দলীল। অথচ মাযহাব বিদ্বেষীরা ইমাম উনাদের ইজমা অমান্য করে। মূলতঃ ইমাম উনাদের ইজমা অমান্য করা মুর্খতার পরিচায়ক।

মাযহাব বিদ্বেষীদের কিতাব ‘বারকুল মুয়াহেদীনের’ ৪৬ পৃষ্ঠায়, শামছুল মুয়াহেদীনের ৭৭ পৃষ্ঠায়, ‘দুররায়ে মোহাম্মদী’ কিতাবের ১৫ পৃষ্ঠায় এবং ‘রদ্দুত তাক্বলীদ কিতাবের ১৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “শুধুমাত্র হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ইজমা শরীফ দলীল হিসেবে মান্য করা যাবে। তার বিরুদ্ধে চললে জাহান্নামী হবে। অন্য কারো ইজমা শরীফ দলীল হতে পারে না এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের একই তরীক্বা ছিল যে, উনারা শুধু এক ইমাম ও মাযহাব মানতেন না বরং যখন যে ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পেতেন তখন উনার ফতওয়াকেই মানতেন। এ সূত্রে ৪ মাযহাবের মধ্যে কোনো একটি অবলম্বন করলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনাদের ইজমা বা মতের অমান্য করে জাহান্নামী হতে হবে।” নাউযুবিল্লাহ!

তাদের উক্ত জিহালতপূর্ণ বক্তব্যের জাওয়াবে বলতে হয় যে, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ১১৫নং পবিত্র আয়াত শরীফ-

(১১৭৬)

وَمَنْ يُّشَاقِقِ الرَّسُوْلَ الاية

এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বহু বিশ্বস্ত তাফসীর উনার কিতাবে উল্লেখ আছে, মুসলমান উম্মত উনাদের ইজমা অমান্য করলে জাহান্নামী হতে হবে। যা ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার দ্বারাও প্রমাণিত আছে। খাছ করে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ইজমা শরীফ উনার সম্পর্কে বলা হয়নি বরং আমভাবেই বলা হয়েছে।

(১১৭৭-১১৭৯)

যেমন- ‘মুসাল্লাম’ কিতাবের ৫০০ পৃষ্ঠায়, ‘তাওজীহ’ কিতাবের ২৯৩ পৃষ্ঠায় এবং মাযহাব বিরোধী দলের কিতাব ‘তাযকিরুল ইখওয়ান’ কিতাবের ১৮৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, উম্মত উনাদের ইমামদের ইজমা শরীফ সম্মানিত শরীয়ত উনার দলীল হিসেবে গন্য।

তাছাড়া উক্ত মাযহাব বিরোধীদের বক্তব্য অনুযায়ী তো ‘ছিহাহ সিত্তাহ’ ছয়খানা পবিত্র হাদীছ শরীফের কিতাব ছহীহ হওয়া সম্বন্ধে আলিম উনাদের যে ইজমা হয়েছে তা মান্য করা নাজায়িয হবে। কেননা তা তো হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনাদের ইজমা নয়। তদ্রƒপই ধান, কলাই, ইত্যাদির মধ্যে সুদ হওয়া এবং অনেক মাছের প্রতি হালাল হওয়ার ইজমা ইত্যাদি অনেক বিষয় যা পরে হয়েছে তাদের বক্তব্য অনুযায়ী এগুলোর ইজমা যদি না মানে তবে উক্ত হারাম সুদকে হালাল এবং হালাল মাছকে হারাম বলে কি জাহান্নামী হবে না?

অতএব, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ইজমা শরীফ ছাড়াও অন্যান্য উম্মতের ইমাম উনাদের ইজমাও দলীল হিসেবে গন্য। যা পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার উপরোক্ত আয়াত শরীফ উনার তাফসীর, তাফসীরে কবীর ৩/২৫৪ পৃষ্ঠা এবং ‘তাওজীহ’ কিতাবের ২৯৪ পৃষ্ঠার বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত।

(১১৮০)

‘ছহীহ বুখারী শরীফ’ ২/৭৬৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ سُئِلَ عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ فَرَخَّصَ وَبَيْنَه عَلِىٌّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْسُوْخٌ.

অর্থাৎ (‘নিকাহ মুতা’ বা টাকা বা দ্রব্যের বিনিময়ে কিছু দিনের জন্য বিবাহ) এর মধ্যে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম ও হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের মধ্যে মতভেদ ছিল যে, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি জায়িয বলেছেন, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি নাজায়িয বলেছেন।

(১১৮১)

কিন্তু পরবর্তী ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা তা সম্পূর্ণরূপে হারাম হওয়ার প্রতি ইজমা করেছেন। এটা লা-মাযহাবীরাও মান্য ও আমল করে থাকে। যেমন মাযহাব বিদ্বেষী মৌলভী আব্বাস আলী তার ‘মাসায়িলে জরুরীয়া’ গ্রন্থের ২য় খ- ১১১ পৃষ্ঠায় লিখেছে, নিকাহে মুতা’ হারাম।

(১১৮২)

পবিত্র সূরা নাস ও পবিত্র সূরা ফালাক্ব শরীফ সূরা হওয়া সম্পর্কে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। যেমন বুখারী শরীফ ২/৭৪৪ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

কিন্তু পরবর্তী ইমাম উনারা তা পবিত্র কুরআন শরীফ বলে ইজমা করেছেন যা লা-মাযহাবীরা মেনে আমল করছে। যদি অমান্য করে তবে পবিত্র কুরআন শরীফ অস্বীকার করে কাফির হবে।

(১১৮৩)

অনুরূপ আহলিয়াদের ইস্তিঞ্জার রাস্তা দিয়ে নির্জনবাস ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মতে হালাল এবং হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মতে হারাম ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে হযরত ইমাম মুজতাহিদ উনারা তা হারাম হওয়ার প্রতি ইজমা করেছেন। এ ইজমাকে মেনে নেয়া উক্ত মাযহাব বিদ্বেষী আব্বাস আলী তার ‘মাসায়িলে জরুরীয়া’ কিতাবের ২৬ পৃষ্ঠায় তা হারাম লিখেছে।

অসমাপ্ত-পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক- (২য় পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪৮

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৪)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৫)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০তম পর্ব)