পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া১১ ১৫তম পর্ব

সংখ্যা: ২৫৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা) ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-২৩৭), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২০৩তম সংখ্যা), ৩২. হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১২তম সংখ্যা), ৩৩. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২২০তম সংখ্যা থেকে যা এখনো চলছে) পেশ করার পাশাপাশি-

৩৪তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো “উলামায়ে সূ”। ইহুদীদের এজেন্ট উলামায়ে ‘সূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে মুসলমান উনাদের বিশেষ বিশেষ ফযীলতযুক্ত আমলের রাত ও দিনসমূহ পালন করাকে বিদয়াত, নাজায়িয ও শিরক বলে ফতওয়া দিয়ে মুসলমান উনাদেরকে অশেষ খায়ের, বরকত, নিয়ামত, নাজাত অর্থাৎ রেযামন্দি বা সন্তুষ্টি মুবারক থেকে মাহরূম করছে। যেমন তারা বলে থাকে যে, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত, শিরক। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র শবে বরাত পালন করা বিদয়াত, নাজায়িয। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ পালন করা বিদয়াত। নাউযুবিল্লাহ! অনুরূপ আরো অনেক বিষয়কেই তারা বিনা দলীলে মনগড়াভাবে নাজায়িয ও বিদয়াত বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!

অপরদিকে বেদ্বীনী-বদদ্বীনী অর্থাৎ কাফির মুশরিক, ইহুদী, নাছারাদের যত পর্ব বা দিবস রয়েছে সেগুলোকে শুধু জায়িযই নয় বরং নিয়ামত বলে আখ্যা দিয়ে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! যেমন বাইতুল মুকাররমের সাবেক খতীব ওবায়দুল হক্ব প্রকৃতপক্ষে উবাই বলেছিল, “পহেলা বৈশাখ আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত।” নাঊযুবিল্লাহ!

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এসব বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত শিরক এবং পহেলা বৈশাখ মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত।” নাউযুল্লিাহ! তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হালাল বা জায়িয বিষয়কে হারাম বা নাজায়িয বলা এবং হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমান উনাদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ উলামায়ে “সূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে “পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা থেকে বিরত থাকবে এবং হারাম পহেলা বৈশাখ পালন করবে” তারা অশেষ খায়ের, বরকত ও নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হওয়ার কারণে কঠিন গুনাহগার অর্থাৎ জাহান্নামী হবে। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ তারা তাদের ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি”  প্রকাশ করা হলো।

 

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিবস ও সময়ের গুরুত্ব, ফযীলত ও আহকাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-

 

সপ্তাহের সাত দিনের ফযীলত

৪. يوم الخميس ‘ইয়াওমুল খমীস বা খমীস বার (বৃহস্পতিবার) উনার ফযীলত

عن حضرت ابـى هريرة رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه و سلم قال: تفتح ابواب الجنة يوم الاثنين ويوم الخميس فيغفر لكل عبد مسلم لا يشرك بالله شيئا.

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সম্মানিত জান্নাত উনাদের দরজাসমূহ ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার ও খমীস বার বা বৃহস্পতিবার উনাদের দিনে খোলা হয়। এবং র্শিক করে না এমন ব্যক্তিদের অপরাপর গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হয়। সুবহানাল্লাহ! (আল্ মুয়াত্তা লিল্ ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি, লেখক: ইমাম হযরত আবূ আব্দিল্লাহ মালিক বিন আনাস আছবাহী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বিলাদত: ৯৫ হিজরী ওয়াফাত: ১৭৯ হিজরী পরিচ্ছেদ: মা জায়া ফিল্ মুহাজিরাহ, ছহীহ মুসলিম বাবুন নাহয়ি আনিশ্ শাহনা ওয়াত তাহাজুর, আল্ জামিউ ওয়াস সুনানু লিত্ তিরমিযী বাবু মা জায়া ফিল্ মুতাহাজিরীন)

عَن حضرت ابِى هُرَيْرَةَ رضى الله تعالى عنه عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ تُعْرَضُ اَعْمَالُ النَّاسِ فِى كُلّ جُمُعَةٍ مَرَّتَيْنِ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ.

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রতি জুমুয়াহ-এ (প্রতি সপ্তাহে) বান্দার আমল দু’বার উত্তোলন করা হয়, ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার ও খমীস বার বা বৃৃহস্পতিবার উনাদের দিন। সুবহানাল্লাহ! (ছহীহ মুসলিম শরীফ লেখক: হযরত ইমাম আবুল হুসাঈন মুসলিম বিন হাজ্জাজ বিন মুসলিম কুশাইরী নীসাবূরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি পরিচ্ছেদ: আন্ নাহী আনিশ্ শাহনা ওয়াত্ তাহাজুর, আল্ মুয়াত্তা লিল্ ইমাম মালিক লেখক: হযরত ইমাম আবূ আব্দিল্লাহ মালিক বিন আনাস আছবাহী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বিলাদত: ৯০ হিজরী ওয়াফাত: ১৭৯ হিজরী পরিচ্ছেদ: বাবুন মা জায়া ফিল্ মুহাজিরাহ)

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه : ان رسول الله صلى الله عليه و سلم قال تعرض الاعمال يوم الاثنين والـخميس فاحب ان يعرض عملى وانا صائم.

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রতি ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার ও খমীস বার বা বৃৃহস্পতিবার উনার দিন বান্দার আমলসমূহ উত্তোলন করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি আমার আমল রোযা থাকা অবস্থায় উত্থিত হোক। সুবহানাল্লাহ! (আল্ জামিউ ওয়াস্ সুনানু লিত্ তিরমিযী শরীফ লেখক: হযরত মুহাম্মাদ বিন ঈসা আবূ ঈসা তিরমিযী সুলামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি পরিচ্ছেদ: মা জায়া ফী ছাওমি ইয়াওমিল্ ইছনাইন ওয়াল খমীস)

عَنْ حضرت ابِى هُرَيْرَةَ رضى الله تعالى عنه قَالَ اخَذَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِى فَقَالَ  خَلَقَ الله عَزَّ وَجَلَّ التُّرْبَةَ يَوْمَ السَّبْتِ وَخَلَقَ فِيهَا الْجِبَالَ يَوْمَ الأَحَدِ وَخَلَقَ الشَّجَرَ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَخَلَقَ الْمَكْرُوهَ يَوْمَ الثُّلاَثَاءِ وَخَلَقَ النُّورَ يَوْمَ الاَرْبِعَاءِ وَبَثَّ فِيهَا الدَّوَابَّ يَوْمَ الْخَمِيسِ وَخَلَقَ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ بَعْدَ الْعَصْرِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فِى آخِرِ الْخَلْقِ وَفِى آخِرِ سَاعَةٍ مِنْ سَاعَاتِ الْجُمُعَةِ فِيمَا بَيْنَ الْعَصْرِ إِلَى اللَّيْلِ.

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম তিনি আমার হাত ধরে বললেন: মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি সাবত বা শনিবারে মাটি (যমীন) তৈরি করেছেন। তাতে পাহাড় তৈরি করেছেন আহাদ বা রবিবার। গাছ-পালা তৈরি করেছেন ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার। ছুলাছা বা মঙ্গলবার অপছন্দনীয় জিনিষগুলো তৈরি করেছেন। আরবিয়া বা বুধবার পবিত্র নূর মুবারক তৈরি করেছেন। খমীস বা বৃহস্পতিবার জমিনের মধ্যে প্রাণীর বিস্তার ঘটিয়েছেন। জুমুয়াবার বাদ আছর হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে তৈরি করেছেন, এটা ছিল দিনের শেষ সময় আছর থেকে রাত্রি বা মাগরিব আসার পূর্ব মুহুর্ত। (ছহীহ মুসলিম শরীফ লেখক: হযরত ইমাম আবুল হাসাঈন মুসলিম বিন হাজ্জাজ বিন মুসলিম কুশাইরী নীসাবূরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি পরিচ্ছেদ: বাবু ইবতিদায়িল খলক্বি ওয়া খলক্বি আদম আলাইহিস সালাম)

ইয়াওমুল্ খমীছ তথা বৃহস্পতিবার উনার ফযীলত সম্পর্কে উল্লেখিত ইবারত থেকে যা প্রমানিত হল তা হচ্ছে: ১. এই দিন মুবারকে জান্নাত উনার দরজা সমূহ খোলা হয়। ২. এই দিন বান্দাদের আমল সমূহ উত্তোলন করা হয়। ৩. মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি সৃষ্টির শুরুতে খমীস বা বৃহস্পতিবার জমিনের মধ্যে প্রাণীর বিস্তার ঘটিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ।

৫. يوم الجمعة ‘ইয়াওমুল জুমুয়াহ বা জুমুয়াবার (শুক্রবার) উনার ফযীলত

يَا اَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اِذَا نُودِى لِلصَّلوةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا اِلَى ذِكْرِ اللهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ.

অর্থ: হে ঈমানদার গণ! যখন পবিত্র জুমুয়াহ উনার দিনে নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা খুতবাহ শ্রবনের জন্য চলে আসো এবং বেচা-কেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ। (পবিত্র সূরাতুল জুমুয়াহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর ৯)

عَنْ حضرت ابِى هُرَيْرَةَ رضى الله تعالى عنه قَالَ اخَذَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِى فَقَالَ  خَلَقَ الله عَزَّ وَجَلَّ التُّرْبَةَ يَوْمَ السَّبْتِ وَخَلَقَ فِيهَا الْجِبَالَ يَوْمَ الأَحَدِ وَخَلَقَ الشَّجَرَ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَخَلَقَ الْمَكْرُوهَ يَوْمَ الثُّلاَثَاءِ وَخَلَقَ النُّورَ يَوْمَ الاَرْبِعَاءِ وَبَثَّ فِيهَا الدَّوَابَّ يَوْمَ الْخَمِيسِ وَخَلَقَ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ بَعْدَ الْعَصْرِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فِى آخِرِ الْخَلْقِ وَفِى آخِرِ سَاعَةٍ مِنْ سَاعَاتِ الْجُمُعَةِ فِيمَا بَيْنَ الْعَصْرِ إِلَى اللَّيْلِ.

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম তিনি আমার হাত ধরে বললেন: মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি সাবত বা শনিবারে মাটি (যমীন) তৈরি করেছেন। তাতে পাহাড় তৈরি করেছেন আহাদা বা রবিবার। গাছ-পালা তৈরি করেছেন ইছনাইনিল আযীম বা সোমবার। ছুলাছা বা মঙ্গলবার অপছন্দনীয় জিনিষগুলো তৈরি করেছেন। আরবিয়া বা বুধবার পবিত্র নূর তৈরি করেছেন। খ¦মীস বা বৃহস্পতিবার যমীনের মধ্যে প্রাণীর বিস্তার ঘটিয়েছেন। জুমুয়াবার বাদ আছর হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে তৈরি করেছেন, এটা ছিল দিনের শেষ সময় আছর থেকে রাত্রি বা মাগরিব আসার পূর্ব মুহুর্ত। (ছহীহ মুসলিম শরীফ লেখক: হযরত ইমাম আবুল হাসাঈন মুসলিম বিন হাজ্জাজ বিন মুসলিম কুশাইরী নীসাবূরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি পরিচ্ছেদ: বাবু ইবতিদায়িল খলক্বি ওয়া খলক্বি আদম আলাইহিস সালাম)

عن ابي هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه و سلم قال: من اغتسل يوم الجمعة غسل الجنابة ثم راح فى الساعة الاولى فكانما قرب بدنة ومن راح فى الساعة الثانية فكانما قرب بقرة ومن راح فى الساعة الثالثة فكانما قرب كبشا اقرن ومن راح في الساعة الرابعة فكانما قرب دجاجة ومن راح فى الساعة الخامسة فكانما قرب بيضة فاذا خرج الامام حضرت الـملائكة يستمعون الذكر.

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি জুমুয়ার দিন গোসল করবে এবং মাসজিদে প্রথমে গমণ করবে তাকে একটি উট কুরবানীর ফযীলত দেয়া হবে, যে দ্বিতীয় গমন করবে তাকে একটি গরু কুরবানীর ফযীলত দেয়া হবে, যে তৃতীয় গমণ করবে তাকে একটি শিং যুক্ত খাশি কুরবানীর ফযীলত দেয়া হবে, যে চতুর্থ গমণ করবে তাকে একটি মুরগী কুরবানীর ফযীলত দেয়া হবে এবং যে পঞ্চমত: গমণ করবে তাকে একটি ডিম কুরবানীর ফযীলত দেয়া হবে। যখন খতীব ছাহেব খুতবা দেয়ার জন্য বের হন তখন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা খুতবাহ শুনার জন্য উপস্থিত হন। সুবহানাল্লাহ! (আল্ মুয়াত্তা লিল্ ইমাম মালিক লেখক: ইমাম হযরত আবূ আব্দিল্লাহ মালিক বিন আনাস আছবাহী রহমাতুল্লাহি আলাইহি জন্ম মুবারক: ৯০ হিজরী ওয়াফাত মুবারক: ১৭৯ হিজরী পরিচ্ছেদ: আল্ আমাল ফী গুসলি ইয়াওমিল জুমুয়াহ)

عَنْ اوْسِ بْنِ اوْسٍ رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: انَّ مِنْ افْضَلِ ايَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ قُبِضَ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَاكْثِرُوا عَلَىَّ مِنَ الصَّلاَةِ فِيهِ فَانَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَىَّ. قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ ارِمْتَ يَقُولُونَ بَلِيتَ. فَقَالَ اِنَّ الله عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ اجْسَادَ الاَنْبِيَاءِ عليهم الصلوة والسلام.

অর্থ: হযরত আউস বিন আউস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: নিশ্চয়ই তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে উত্তম পবিত্র জুমুয়া উনার দিন। এই দিনে হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে তৈরি করা হয়েছে, এই দিন উনি বিছাল শরীফ লাভ করেছেন, এই দিন শিঙ্গায় ফুৎকার করা হবে এবং এই দিন সকলেই জ্ঞান হারা হয়ে যাবে। তাই এই দিন তোমরা আমার উপর বেশী করে ছলাত-দুরূদ শরীফ পাঠ করো, কেননা তা আমার কাছে পৌছানো হয়। রাবী বলেন, হযরত ছহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কিভাবে আপনার কাছে আমাদের ছলাত পৌছানো হবে, অথচ (কাফির, মুশরিক, মুনাফিকদের বিশ্বাস এই যে,) আপনি রওদ্বা শরীফ উনার মধ্যেই মিশে যাবেন। নাউযুবিল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি যমীনের জন্য হযরত নাবী-রসূল আলাইহিমুছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাদের জিস্ম মুবারককে খাওয়া থেকে হারাম করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (সুনানু আবী দাঊদ লেখক: হযরত আবূ দাঊদ সুলাইমান বিন আশয়াছ সাজিস্তানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি পরিচ্ছেদ: ফাদ্বলি ইয়াওমিল জুমুয়াহ ওয়া লাইলাতিল জুমুয়াহ)

পবিত্র ইয়াওমুল্ জুমুয়াহ তথা পবিত্র জুমুয়াবার উনার ফযীলত সম্পর্কে উল্লেখিত ইবারত থেকে যা প্রমানিত হল তা হচ্ছে: ১. এই দিন মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুদরতীভাবে উনার মহাসম্মানিত আম্মাজান হযরত ত্বাহিরাহ ত্বইয়্যিবাহ আলাইহাছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার খিদমত মুবারকে তাশরীফ মুবারক নেন। সুবহানাল্লাহ! ২. এই দিন মুবারকে পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ মুজাদ্দিদে আ’যম ইমাম মুজতাহিদ আওলাদুর রসূল ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ। ৩. মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি জুমুয়াবার বাদ আছর হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে তৈরি করেছেন। ৪. পবিত্র জুমুয়াহ-র দিন মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহ-র জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে খুতবাহ ও জুমুয়াহ-র নামায পড়ার বিধান রেখেছেন। ৫. পবিত্র জুমুয়াহ-র দিনে গোসল করার অনেক গুরুত্ব ও ফযীলত রয়েছে। ইহা হানাফী মাযহাবে সুন্নত, আর শাফিয়ী মাযহাবে ওয়াজিব। ৬. পবিত্র ইছনাইনিল আ’যীম শরীফ তথা সোমবার উনার পরেই দিনের মধ্যে ইয়াওমুল জুমুয়াহ উনার ফযীলত ও শ্রেষ্ঠত্ব। সুবহানাল্লাহ! এ ছাড়াও এই দিন মুবারকের অসংখ্য ফযীলত রয়েছে।

৬. يوم السبت ‘ইয়াওমুস সাব্ত বা সাব্তবার (শনিবার) উনার ফযীলত

عَنْ حضرت ابِى هُرَيْرَةَ رضى الله تعالى عنه قَالَ اخَذَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِى فَقَالَ  خَلَقَ الله عَزَّ وَجَلَّ التُّرْبَةَ يَوْمَ السَّبْتِ وَخَلَقَ فِيهَا الْجِبَالَ يَوْمَ الأَحَدِ وَخَلَقَ الشَّجَرَ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَخَلَقَ الْمَكْرُوهَ يَوْمَ الثُّلاَثَاءِ وَخَلَقَ النُّورَ يَوْمَ الاَرْبِعَاءِ وَبَثَّ فِيهَا الدَّوَابَّ يَوْمَ الْخَمِيسِ وَخَلَقَ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ بَعْدَ الْعَصْرِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فِى آخِرِ الْخَلْقِ وَفِى آخِرِ سَاعَةٍ مِنْ سَاعَاتِ الْجُمُعَةِ فِيمَا بَيْنَ الْعَصْرِ إِلَى اللَّيْلِ.

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম তিনি আমার হাত ধরে বললেন: মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি সাবত বা শনিবারে মাটি (যমীন) তৈরি করেছেন। তাতে পাহাড় তৈরি করেছেন আহাদ বা রবিবার। গাছ-পালা তৈরি করেছেন ইছনাইন বা সোমবার। ছুলাছা বা মঙ্গলবার অপছন্দনীয় জিনিষগুলো তৈরি করেছেন। আরবিয়া বা বুধবার পবিত্র নূর তৈরি করেছেন। খ্বমীছ বা বৃহস্পতিবার যমীনের মধ্যে প্রাণীর বিস্তার ঘটিয়েছেন। জুমুয়াবার বাদ আছর হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে তৈরি করেছেন, এটা ছিল দিনের শেষ সময় আছর থেকে রাত্রি বা মাগরিব আসার পূর্ব মুহুর্ত। (ছহীহ মুসলিম শরীফ লেখক: হযরত ইমাম আবুল হাসাঈন মুসলিম বিন হাজ্জাজ বিন মুসলিম কুশাইরী নীসাবূরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি পরিচ্ছেদ: বাবু ইবতিদায়িল খলক্বি ওয়া খলক্বি আদম আলাইহিস সালাম)

ইয়াওমুস্ সাব্ত তথা শনিবার উনার ফযীলত সম্পর্কে উল্লেখিত ইবারত থেকে যা প্রমানিত হল তা হচ্ছে: ১. মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি সৃষ্টির সূচনায় এই দিনে মাটি তথা যমীন তৈরি করেছিলেন। ২. এ ছাড়াও ইয়াহূদী ক্বাওম এই দিনকে সপ্তাহের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ দিন মনে করে থাকে।

৭. يوم الاحد ‘ইয়াওমুল আহাদ বা আহাদবার (রবিবার) উনার ফযীলত

عَنْ حضرت ابِى هُرَيْرَةَ رضى الله تعالى عنه قَالَ اخَذَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِى فَقَالَ  خَلَقَ الله عَزَّ وَجَلَّ التُّرْبَةَ يَوْمَ السَّبْتِ وَخَلَقَ فِيهَا الْجِبَالَ يَوْمَ الأَحَدِ وَخَلَقَ الشَّجَرَ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَخَلَقَ الْمَكْرُوهَ يَوْمَ الثُّلاَثَاءِ وَخَلَقَ النُّورَ يَوْمَ الاَرْبِعَاءِ وَبَثَّ فِيهَا الدَّوَابَّ يَوْمَ الْخَمِيسِ وَخَلَقَ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ بَعْدَ الْعَصْرِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فِى آخِرِ الْخَلْقِ وَفِى آخِرِ سَاعَةٍ مِنْ سَاعَاتِ الْجُمُعَةِ فِيمَا بَيْنَ الْعَصْرِ إِلَى اللَّيْلِ.

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম তিনি আমার হাত ধরে বললেন: মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি সাবত বা শনিবারে মাটি (যমীন) তৈরি করেছেন। তাতে পাহাড় তৈরি করেছেন আহাদ বা রবিবার। গাছ-পালা তৈরি করেছেন ইছনাইন বা সোমবার। ছুলাছা বা মঙ্গলবার অপছন্দনীয় জিনিষগুলো তৈরি করেছেন। আরবিয়া বা বুধবার পবিত্র নূর তৈরি করেছেন। খ¦মীছ বা বৃহস্পতিবার যমীনের মধ্যে প্রাণীর বিস্তার ঘটিয়েছেন। জুমুয়াবার বাদ আছর হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে তৈরি করেছেন, এটা ছিল দিনের শেষ সময় আছর থেকে রাত্রি বা মাগরিব আসার পূর্ব মুহুর্ত। (ছহীহ মুসলিম শরীফ লেখক: হযরত ইমাম আবুল হাসাঈন মুসলিম বিন হাজ্জাজ বিন মুসলিম কুশাইরী নীসাবূরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি পরিচ্ছেদ: বাবু ইবতিদায়িল খলক্বি ওয়া খলক্বি আদম আলাইহিস সালাম)

ইয়াওমুল্ আহাদ তথা আহাদবার উনার ফযীলত সম্পর্কে উল্লেখিত ইবারত থেকে যা প্রমানিত হল তা হচ্ছে: ১. মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি সৃষ্টির সূচনায় এই দিনে পাহাড়-পর্বত তৈরি করেছিলেন। ২. এ ছাড়াও নাছারা তথা খ্রিস্টান ক্বাওম এই দিনকে সপ্তাহের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ দিন মনে করে থাকে।

উল্লেখিত সাত দিনের আলোচনায় প্রত্যেক দিনের বৈশিষ্ট্য ও ফযীলত আলোচনা করা হয়েছে। যা জানা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা ইনসান-জিন সকলের জন্য জরুরী।

 

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২০

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২১