পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১১ ২য় পর্ব

সংখ্যা: ২৩৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা) ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-২৩৭), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২০৩তম সংখ্যা), ৩২. হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১২তম সংখ্যা), ৩৩. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২২০তম সংখ্যা থেকে যা এখনো চলছে) পেশ করার পাশাপাশি-

৩৪তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

 

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

 

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো “উলামায়ে সূ”। ইহুদীদের এজেন্ট উলামায়ে ‘সূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে মুসলমান উনাদের বিশেষ বিশেষ ফযীলতযুক্ত আমলের রাত ও দিনসমূহ পালন করাকে বিদয়াত, নাজায়িয ও শিরক বলে ফতওয়া দিয়ে মুসলমান উনাদেরকে অশেষ খায়ের, বরকত, নিয়ামত, নাজাত অর্থাৎ রেযামন্দি বা সন্তুষ্টি মুবারক থেকে মাহরূম করছে। যেমন তারা বলে থাকে যে, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত, শিরক। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র শবে বরাত পালন করা বিদয়াত, নাজায়িয। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ পালন করা বিদয়াত। নাউযুবিল্লাহ! অনুরূপ আরো অনেক বিষয়কেই তারা বিনা দলীলে মনগড়াভাবে নাজায়িয ও বিদয়াত বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!

অপরদিকে বেদ্বীনী-বদদ্বীনী অর্থাৎ কাফির মুশরিক, ইহুদী, নাছারাদের যত পর্ব বা দিবস রয়েছে সেগুলোকে শুধু জায়িযই নয় বরং নিয়ামত বলে আখ্যা দিয়ে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! যেমন বাইতুল মুকাররমের সাবেক খতীব ওবায়দুল হক্ব প্রকৃতপক্ষে উবাই বলেছিল, “পহেলা বৈশাখ আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত।” নাঊযুবিল্লাহ!

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এসব বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত শিরক এবং পহেলা বৈশাখ মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত।” নাউযুল্লিাহ! তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হালাল বা জায়িয বিষয়কে হারাম বা নাজায়িয বলা এবং হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমান উনাদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ উলামায়ে “সূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে “পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা থেকে বিরত থাকবে এবং হারাম পহেলা বৈশাখ পালন করবে” তারা অশেষ খায়ের, বরকত ও নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হওয়ার কারণে কঠিন গুনাহগার অর্থাৎ জাহান্নামী হবে। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ তারা তাদের ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি”  প্রকাশ করা হলো।

সপ্তাহের সাত দিনের নাম

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

انَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِىْ كِتَابِ اللهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّموتِ وَالْاَرْضَ مِنْهَا اَرْبَعَة حُرُم ذلِكَ الدّينُ الْقَيّمُ فَلَا تَظْلِمُوْا فِيهِنَّ اَنْفُسَكُمْ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِيْنَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُوْنَكُمْ كَافَّةً وَاعْلَمُوْا اَنَّ اللهَ مَعَ الْمُتَّقِيْنَ. (سورة التوبة شريف ۳۶ الاية)

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট উনার বিধানে আসমানসমূহ ও যমীনসমূহ সৃষ্টির দিন হতেই গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা ১২টি। তন্মধ্যে ৪টি হারাম (যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ) মাস। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এ মাসগুলোর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। তোমরা মুশরিকদের সাথে সর্বাত্মকভাবে জিহাদ করবে, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ করে থাকে। আর জেনে রাখুন! মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি মুত্তাক্বীনগণের সঙ্গে আছেন। (পবিত্র সূরাতুত তাওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৩৬)

উক্ত ‘পবিত্র সূরাতুত্ তাওবাহ শরীফ’ উনার ৩৬ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে-

পূর্ব প্রকাশিতের পর

৫ম মাস হচ্ছে جمادى الاولى ‘জুমাদাল উলা’: অর্থাৎ বরফ জমার প্রথম মাস।

৬ষ্ঠ মাস হচ্ছে جمادى الاخر ‘জুমাদাল আখির’: جمادى الاخرة ‘জুমাদাল আখিরাহ (তথা جمادى الاخرى জুমাদাল উখরা): অর্থাৎ বরফ জমার দ্বিতীয় মাস। এ দুটি মাসে যেহেতু আরবে বরফ জমতো, এ জন্য এ দুটি মাসকে ‘জুমাদাল ঊলা’ ও জুমাদাল উখরা’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। جمادى ‘জুমাদা’ অর্থ বরফ জমার কাল।

হযরত শায়খ ইলমুদ্দীন সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: আগেকার দিনে আরবদের হিসাব অনুসারে বছরে চন্দ্রমাসগুলো ঘুরে আসতো না, বরং প্রতিটি মাস সর্বদা বছরের একই ঋতুতে স্থিত থাকতো।

আমি (গ্রন্থকার হযরত ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলি: হযরত শায়খ সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ধারণাটি সঠিক নয়। কারণ, আরবদের গণনায় বছরের মাসগুলো চাঁদের সাথে সম্পর্কিত ছিলো। এমতাবস্থায় মাসগুলো বছরের একই ঋতুতে স্থির থাকতে পারে না। মাসগুলো অবশ্যই ঘুরে আসতো। আমার মনে হয়, আরবগণ সর্বপ্রথম যে বছর চন্দ্রবছরের মাসগুলোর নামকরণ করেছিলেন, ঘটনার পরিক্রমায় সেই বছর আলোচ্য দু’ মাস আরবে বরফ জমার ঋতুতে ছিলো। তাই তারা ওইগুলোকে উক্ত নামে অভিহিত করেছিলেন। পরবর্তীকালে উক্ত নামসমূহের সাথে উক্ত মাসগুলোর প্রাকৃতিক মিল না থাকলেও প্রথম নামকরণের অনুকরণে উল্লেখিত নামে অভিহিত হয়ে আসছে।

আরবী কবি বরফ জমার মাসকে جمادى ‘জুমাদা’ নামে অভিহিত করেছেন।

কবিতানুবাদ:

১ম পংক্তি: “বরফ জমা جمادى মাসের অনেক রাতে লোকেরা অন্ধকারে তাবুর আলোটি পর্যন্ত দেখতে পায় না।”

২য় পংক্তি: “বরফ জমার جمادى মাসের রাতগুলোতে কুকুর একবারের বেশি ঘেউ ঘেউ করে না। উক্ত রাতে কুকুর দেহের উপর লেজ গুটায়ে রেখে জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে থাকে।”

হযরত শায়খ সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: جمادى শব্দের বহুবচন হচ্ছে جماديات- যেমন: حبارى শব্দের বহুবচন حباريات – জুমাদা جمادى শব্দটি কখনো পুংলিঙ্গ শব্দ হিসেবে আবার কখনো স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন- বলা হয়ে থাকে جمادى الاولى ‘জুমাদাল ঊলা ও  جمادى الاول ‘জুমাদাল আউয়াল’ এবং جمادى الاخر ‘জুমাদাল আখির’ ও جمادى الاخرة ‘জুমাদাল আখিরাহ’ جمادى الاخرى ‘জুমাদাল উখরা।’

৭ম মাস হচ্ছে رجب রজব: অর্থাৎ সম্মানিত ও হারাম মাস। رجب শব্দটি ترجيب মাছদার থেকে নেয়া হয়েছে। رجب রজব শব্দের অর্থ: তা’যীম, সম্মান, ইজ্জত, মর্যাদা ইত্যাদি। শব্দটির বহুবচন رجبات- رجاب- ارجاب।

৮ম মাস হচ্ছে شعبان শা’বান: شعبان শব্দটি تشعب القبائل হতে উৎকলিত। شعبان অর্থ ছড়িয়ে পড়া। আরবরা এই মাসে নানা উদ্দেশ্যে বাড়ী হতে বের হয়ে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তো, এজন্যই এ মাসকে شعبان ‘শা’বান’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। شعبان শব্দের বহুবচন হচ্ছে شعابين ও شعبانات।

৯ম মাস হচ্ছে رمضان রমাদ্বান: অর্থাৎ গ্রীষ্ম বা গরমের মাস। আরবদেশে এই মাসে অত্যধিক গরম পড়তো বলে এ মাসকে رمضان ‘রমাদ্বান’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। رمضت الفصال অর্থাৎ অতিশয় পিপাসার কারণে গবাদি পশুর বাছুর গরম হয়ে যাওয়া। رمضان শব্দের বহুবচন হচ্ছে رماضين- رمضانات ও ارمضة।

হযরত শায়খ সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, কেউ কেউ বলেছেন, رمضان হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা উনার একটি নাম।” এ বাণীটি ভুল ও উপেক্ষণীয়। কিন্তু আমি (তাফসীরকার ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলি: ‘রমাদ্বান رمضان হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা উনার একখানা নাম মুবারক। এ মর্মে সত্যি একখানা হাদীছ শরীফ আছে। তবে হাদীছ শরীফখানার সনদ ضعيف ‘দ্বয়ীফ’ বা দূর্বল। (অতএব, শায়খ সাখাবীর মতামত গ্রহণযোগ্য নয়। বরং কেউ কেউ যে বর্ণনা করেছেন, সে বর্ণনাটিই সঠিক) আমি উক্ত হাদীছ শরীফখানাকে كتاب الصيام উনার প্রথম দিকে উল্লেখ করেছি।

১০ম মাস হচ্ছে شوال শাওওয়াল: শাওওয়াল শব্দের অর্থ হলো যে মাস রিযিকের ব্যবস্থা করতে পারেনা। এ মাসে আরবের লোকেরা ভ্রমন করে ও শিকার করে রিযিকের ব্যবস্থা করতো এজন্য এ মাসের নাম রাখা হয়েছে শাওওয়াল। এছাড়াও আরো অনেক অর্থ রয়েছে। شوال শব্দটির বহুবচন হচ্ছে- شوالات- شواويل- شواول ।

১১শ মাস হচ্ছে ذوالقعدة ‘যুল কা’দাহ: অর্থাৎ বসে থাকার মাস। القعدة শব্দটির অর্থ বসে থাকা। القعدة শব্দটির ق বর্ণে যবর যোগে পড়তে হবে। আমি (তাফসীরকার) বলি: ق বর্ণটিতে যের যোগে القعدة পঠিত হয়ে থাকে। (অনুবাদক: আমার মতে ق বর্ণে যবর যোগে পড়াই অধিক মাশহূর মত)

আরবগণ এ মাসে যুদ্ধ ও সফর স্থগিত রেখে বাড়িতে বসে থাকতো বলে এ মাসকে ذو القعدة যুল ক্বা’দাহ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। ذو القعدة শব্দের বহুবচন হচ্ছে ذوات القعدة।

১২শ মাস হচ্ছে ذوالحجة ‘যুল হিজ্জাহ’: অর্থাৎ হজ্জের মাস। الحجة শব্দটির ح বর্ণে যের যোগে পঠিত হয়ে থাকে। আমি (তাফসীরকার) বলি: ح বর্ণে যবর যোগে ذوالحجة ‘যুল হাজ্জাহ’ হিসেবে পঠিত হয়ে থাকে। (মূলত দুটি মত সমানভাবে মশহুর)। আরবগণ এ মাসে হজ্জ পালন করতেন বলে মাসটিকে ذوالحجة ‘যুল হিজ্জাহ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। ذوالحجة শব্দের বহুবচন হচ্ছে ذوات الحجة ।

(তাফসীর ইবনে কাছীর সূরা তাওবাহ উনার ৩৬ নম্বর আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ২য় খ- ৫৫৩ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল ফিকর বইরূত- লেবানন)

উল্লেখিত বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য তাফসীরের ইবারত থেকে বুঝা গেল যে, ১২টি মাসের নামকরণের ব্যাপারে কিছু প্রেক্ষাপট রয়েছে। তবে মহান আল্লাহ পাক উনার ইলমে আযালী এবং সাইয়্যিদুনা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমিছাল ইল্ম মুবারকে উক্ত বারটি মাসের নাম ও ধারাবাহিকতা এভাবেই ছিলো। যা পবিত্র সুরাতুত্ তাওবাহ শরীফ উনার ৩৬ নম্বর আয়াত শরীফ, তাফসীরের কিতাব এবং হাদীছ শরীফ ফিক্র করলে স্পষ্ট বুঝা যায়। নিম্নে একই সঙ্গে হিজরী সাল অনুযায়ী ১২টি চন্দ্রমাস উনাদের নাম ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হলো-

১. পবিত্র মুর্হারমুল হারাম শরীফ (محرم الحرام)

২. পবিত্র ছফর শরীফ (صفر)

৩. পবিত্র ও সম্মানিত রবীউল আউয়াল শরীফ (ربيع الاول شريف)

৪. পবিত্র রবীউছ্ ছানী শরীফ (ربيع الثاني)

৫. পবিত্র জুমাদাল ঊলা শরীফ (جمادى الاولى)

৬. পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ (جمادى الاخرى)

৭. পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ (رجب الحرام)

৮. পবিত্র শা’বান শরীফ (شعبان)

৯. পবিত্র ও বরকতময় রমাদ্বান শরীফ (رمضان المبارك)

১০. পবিত্র শাওওয়াল শরীফ (شوّال)

১১. পবিত্র যুল্ ক্বা’দাহ শরীফ (ذو القعدة الحرام)

১২. পবিত্র যুল্ হিজ্জাহ শরীফ (ذو الحجة الحرام)

 

সম্মানিত ইসলামী মাস, বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময়গুলো সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক ধারাবাহিক আলোচনা

 

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالاِنسَ اِلا لِيَعْبُدُونِ.

অর্থ: আমি জিন ও ইনসানকে একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি। (পবিত্র সূরাতুয্ যারিয়াহ শরীফ: ৫৬)

মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষকে আশরাফুল মাখলূকাতের মর্যাদা দান করেছেন। তাদেরকে উনার ইবাদত-বন্দেগী করার আদেশ করেছেন। পবিত্র ঈমান আনার পর প্রধান প্রধান যে সমস্ত ইবাদত তা হচ্ছে- নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত। এ সমস্ত ইবাদত পালনের জন্য তিনি সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এ সময় নির্ধারণে চাঁদ ও সূর্যের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

এছাড়াও সম্মানিত ইসলামী মাস, বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময়গুলো যেমন, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, পবিত্র লাইলাতুর রাগায়িব শরীফ, পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর শরীফ, পবিত্র শবে বরয়াত শরীফ, পবিত্র আশূরা শরীফ ইত্যাদি পবিত্র তারিখ নির্ধারণেও চাঁদ ও সূর্যের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

اَلشَّمْسُ وَالْقَمَرُ‌ بِحُسْبَانٍ.

অর্থ: সূর্য ও চন্দ্র হিসাব মতো চলে থাকে। (পবিত্র সূরার্তু রহমান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৫)

পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লিখিত حُسْبَانٍ শব্দটি কারো মতে, মাছদার তথা ক্রিয়ামূল। এর অর্থ হচ্ছে হিসাব। আর কারো মতে, حساب শব্দের বহুবচন। আয়াতের উদ্দেশ্য হলো চাঁদ ও সূর্যের গতি এবং তার কক্ষপথে বিচরণের অটল ব্যবস্থা।

একটি বিশেষ গতির উপরই মানব জীবনের সমস্ত আমল নির্ভরশীল। এর মাধ্যমেই দিন রাতের পার্থক্য, মাস ও বছর নির্ধারিত হয়।

حُسْبان শব্দটি حساب এর বহুবচন ধরা হলে অর্থ হবে চাঁদ ও সূর্যের পরিভ্রমণের আলাদা আলাদা হিসাব আছে। এর হিসাব এমন অটল ও অনড় যে, লক্ষ লক্ষ বছর অতিক্রম করার পরও এতে এক সেকেন্ড তথা এক মুহূর্তেরও পার্থক্য হয়নি। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক করেন-

وايَة لَهُمُ اللَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَاذَا هُمْ مُظْلِمُوْنَ. وَالشَّمْسُ تَجْرِىْ لِمُسْتَقَرّ لَهَا ذلِكَ تَقْدِيْرُ الْعَزِيْزِ الْعَلِيْمِ. وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتّى عَادَ كَالْعُرْجُوْنِ الْقَدِيْمِ. لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِىْ لَهَا اَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِىْ فَلَكٍ يَسْبَحُوْنَ. (سورة يس صلى الله عليه وسلم ۴۰-۳۷ الايات)

অর্থ: তাদের জন্য এক নিদর্শন রাত্রি, আমি তা থেকে দিনকে অপসারিত করি, তখনই তারা অন্ধকারে থেকে যায়। সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে, এটা মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ মহান আল্লাহ তায়ালা উনার কর্তৃক নির্ধারিত। চাঁদের জন্য আমি নির্ধারিত মঞ্জিলসমূহ নির্দিষ্ট করেছি, অতঃপর সে পুরাতন খেজুর শাখার ন্যায় হয়ে যায়। সূর্য নাগাল পেতে পারে না চাঁদের এবং রাত দিনের আগে চলে না। প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে চলে থাকে। (পবিত্র সূরাহ ইয়াসীন  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: ৩৭-৪০)

উল্লেখ্য, চাঁদের মাধ্যমে বছর, মাস ও দিন তারিখ নির্ধারিত হয়। চাঁদের উপর ভিত্তি করেই পবিত্র হজ্জ, যাকাত ও রোযাসহ অনেক আমলের তারিখ নির্ধারিত হয়।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

يَسْاَلُوْنَكَ عَنِ الْاَهِلَّةِ قُلْ هِىَ مَوَاقِيْتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجّ (سورة البقرة شريف۱۸۹ الاية(

অর্থ: লোকেরা আপনাকে চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলে দিন সেটা হলো মানুষের জন্য সময় নির্ধারক এবং হজ্জের সময় নিরূপক বা সময় ঠিক করার মাধ্যম। (পবিত্র সূরাতুল্ বাক্বারাহ: পবিত্র আয়াত শরীফ-১৮৯)

সুতরাং সূর্য ও চন্দ্র এই দু’টি ইসলামী মাস, রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময় নিরুপনের ব্যাপারে মানদন্ড হিসেবে বিবেচিত। অর্থাৎ সূর্য ও চন্দ্র উভয়ের আবর্তনের কারণে বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময়গুলো সুচারুরূপে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। এজন্য আমরা ইসলামী মাস, রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময় ইত্যাদীর আলোচনার পাশাপাশি চন্দ্র ও সূর্য উভয়ের আবর্তন ও উভয়ের গতিবিধি সম্পর্কে আলোচনা করবো। যাতে করে বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে যায় এবং বুঝতে সহজ হয়। নি¤েœ এ সম্পর্কিত ২৬ খানা পবিত্র আয়াত শরীফ উল্লেখ করে উনাদের তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:

 

  1. ইসলামী মাস, বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময় সমূহ সম্পর্কে এবং চন্দ্র ও সূর্য উভয়ের গতিবিধির ব্যাপারে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার ২৬ খানা পবিত্র আয়াত শরীফ

 

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-১

 

ولقد ارسلنا موسى باياتنا ان اخرج قومك من الظلمت الى النور وذكرهم بايم الله ان فى ذلك لايت لكل صبار شكور. (سورة ابراهيم شريف ۵ الاية)

অর্থ: আমি হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনাকে আমার নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছিলাম এবং বলেছিলাম আপনি আপনার সম্প্রদায়কে অন্ধকার হতে আলোতে নিয়ে আসুন। আর মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ রাত, দিন ও সময়গুলোর কথা তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন। নিশ্চয়ই এতে উপদেশ রয়েছে পরম ধৈর্য্যশীল ও পরম কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য। (পবিত্র সূরাতু ইবরাহীম শরীফ: ৫)

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-২

يَسْاَلُوْنَكَ عَنِ الْاَهِلَّةِ قُلْ هِىَ مَوَاقِيْتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجّ

 (سورة البقرة شريف ۱۸۹ الاية)

অর্থ: লোকেরা আপনাকে চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলে দিন সেটা হলো মানুষের জন্য সময় নির্ধারক এবং হজ্জের সময় নিরূপক বা সময় ঠিক করার মাধ্যম।  (পবিত্র সূরাতুল্ বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-১৮৯)

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-৩

تُولِجُ اللَّيْلَ فِى النَّهَارِ وَتُولِجُ النَّهَارَ فِى اللَّيْلِ وَتُخْرِجُ الْحَى مِنَ الْمَيّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيّتَ مِنَ الْحَى وَتَرْزُقُ مَنْ تَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ. (سورة ال عمران شريف ۲۷ الاية(

অর্থ: আপনি রাতকে দিনের ভিতরে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে দেন। আর আপনিই সজীবকে নির্জীব হতে বের করেন এবং নির্জীবকে সজীব হতে বের করেন। আপনিই যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান করে থাকেন। (পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৭)

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-৪

يايهَا الَّذِينَ امَنُوْا لَا تُحِلُّوْا شَعَائِرَ اللهِ وَلَا الشَّهْرَ الْحَرَامَ … (سورة المائدة شريف ۲ الاية(

অর্থ: হে মু’মিনগণ! তোমরা অবমাননা করো না মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিদর্শন সমূহকে এবং সম্মানিত মাস সমূহকে ..। (পবিত্র সূরাতুল্ মায়িদাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২)

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-৫

 فَالِقُ الْاصْبَاحِ وَجَعَلَ اللَّيْلَ سَكَنًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ حُسْبَانًا ذلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ. (سورة  الانعام شريف ۹۶ الاية(

অর্থ: তিনি প্রভাত রশ্মির উন্মেষক। তিনি রাতকে আরামদায়ক করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসেবের জন্য রেখেছেন। এটি মহান পরাক্রমশীল মহাজ্ঞানী উনার নির্ধারণ। (পবিত্র সূরাতুল্ আনয়াম শরীফ-৯৬)

 

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২০

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২১