পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৬৮

সংখ্যা: ২৩৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লّীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা) ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২০৩তম সংখ্যা) পেশ করা হয়েছে।

আর বর্তমানে ২৮তম ফতওয়াটি অর্থাৎ “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি” এখনো পত্রস্থ হচ্ছে। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার

অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “সূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نـمير فراى فى صفته تـماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله الـمصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী”  উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র তাফসীর শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার শরাহ, পবিত্র ফিক্বাহ-ফতওয়া ও উনাদের ব্যাখ্যামূলক নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য সকল কিতাব উনাদের মধ্যে “প্রাণীর ছবি, মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন,  পুতুল ইত্যাদি তৈরি করা-করানো, তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

সম্মানিত ফিক্বাহ, ফতওয়া ও উনাদের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি হারাম, কুফরী ও শিরকী কাজ

পবিত্র ফিক্বাহ-ফতওয়া ও উনাদের ব্যাখ্যামূলক নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য সকল গ্রন্থসমূহে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি প্রাণীর ছবি ইত্যাদি তৈরি করা, এদের পূজা করা এগুলোর ব্যবসা করা এবং যে কোন অবস্থায় এগুলোর অনুশীলন করাকে নিষেধ করা হয়েছে। এগুলো তৈরি করা হারাম, এগুলোর পূজা করা কুফরী শিরকী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতের বিপরীতে গাইরুল্লাহর ইবাদত করার শামিল। নাউযুবিল্লাহ!

নিম্নে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবি নিষেধ সম্পর্কিত বিশ্ববিখ্যাত সর্বজনমান্য পবিত্র ফিক্বা ও ফতওয়া উনাদের কিতাব থেকে ছহীহ সমাধান তুলে ধরা হলো-

সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার ফিকাহ ও ফাতাওয়ার কিতাব থেকে দলীল

তানবীরুল্ আবছার

অত্র ‘তানবীরুল আবছার’ কিতাবখানা লিখেছেন, আল্লামা হযরত শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ গাযী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ওয়াফাত: ৯৯৫ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি মূর্তি সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে, তা উল্লেখ করা হলো-

(১১৩১)

وَلُبْسُ ثَوْبٍ فِيهِ تَمَاثِيلُ. (تنوير الابصار كتاب الصلوة بَابُ مَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَمَا يُكْرَهُ فِيهَا المؤلف: العلامة حضرت شمس الدين محمد بن عبد الله الغزي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه المتوفى سنة ৯৯৫ هجري)

অর্থ: প্রাণীর ছবিযুক্ত কাপড় পরিধান করে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। (তানবীরুল আবছার অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফসিদুছ্ ছলাতা ওয়া মা ইউকরাহু ফীহা লেখক: আল্লামা হযরত শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ গাযী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৯৯৫ হিজরী)

(১১৩২)

بِحِذَائِه تِمْثَالٌ وَاخْتُلِفَ فِيمَا إذَا كَانَ خَلْفَهُ وَالْأَظْهَرُ الْكَرَاهَةُ. (تنوير الابصار كتاب الصلوة بَابُ مَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَمَا يُكْرَهُ فِيهَا المؤلف: العلامة حضرت شمس الدين محمد بن عبد الله الغزي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه المتوفى سنة ৯৯৫ هجري)

অর্থ: নামাযীর ডানে বামে প্রাণীর ছবি থাকা মাকরূহ তাহরীমী। কিন্তু পিছনে থাকলে মাকরূহ হবে কি না এ ব্যাপারে মতোবিরোধ রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ মতে, মাকরূহ তাহরীমী হবে। (তানবীরুল আবছার অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফসিদুছ্ ছলাতা ওয়া মা ইউকরাহু ফীহা লেখক: আল্লামা হযরত শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ গাযী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৯৯৫ হিজরী)

(১১৩৩)

و لَوْ … مَقْطُوعَةَ الرَّأْسِ أَوْ الْوَجْهِ أَوْ لِغَيْرِ ذِي رُوحٍ لَا. (تنوير الابصار كتاب الصلوة بَابُ مَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَمَا يُكْرَهُ فِيهَا المؤلف: العلامة حضرت شمس الدين محمد بن عبد الله الغزي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه المتوفى سنة ৯৯৫ هجري)

অর্থ: যদি মাথা কাটা হয় অথবা মুখমন্ডল কাটা হয় (মাথা কাটার পর যদি গাছের মত দেখা যায়) অথবা প্রাণহীনের (গাছ-পালা, নদী-নালা, সমুদ্র ও চাঁদ-সূর্য ইত্যাদির) ছবি হয় তাহলে মাকরূহ তাহরীমী হবে না। (তানবীরুল আবছার অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফসিদুছ্ ছলাতা ওয়া মা ইউকরাহু ফীহা লেখক: আল্লামা হযরত শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ গাযী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৯৯৫ হিজরী)

আদ্ দুররুল মুখতার আলা

তানবীরিল্ আবছার

অত্র ‘আদ্ দুররুল মুখতার আলা তানবীরিল্ আবছার’ কিতাবখানা লিখেছেন, মুফতিউশ্ শাম আল্লামা হযরত আলাউদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম হাছকাফী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ওয়াফাত: ১০৮৮ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি মূর্তি সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে, তা উল্লেখ করা হলো-

(১১৩৪)

(وَلُبْسُ ثَوْبٍ فِيهِ تَمَاثِيلُ) ذِي رُوحٍ. (الدر المختار على تنوير الابصار كتاب الصلوة بَابُ مَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَمَا يُكْرَهُ فِيهَا المؤلف: مفتى الشام العلامة حضرت علاء الدين محمد بن على بن محمد بن عبد الرحيم الحصكفى الحنفي المتوفى سنة ১০৮৮ هجري)

অর্থ: (প্রাণীর ছবিযুক্ত কাপড় পরিধান করে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী) প্রাণীর ছবি হলে। (অর্থাৎ প্রাণহীনের ছবি যেমন- গাছপালা ইত্যাদি মাকরূহ নয়) (আদ্ দুররুল মুখতার আলা তানবীরিল্ আবছার অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফসিদুছ্ ছলাতা ওয়া মা ইউকরাহু ফীহা লেখক: মুফতিউশ্ শাম আল্লামা হযরত আলাউদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম হাছকাফী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১০৮৮ হিজরী)

(১১৩৫)

 وَأَنْ يَكُونَ فَوْقَ رَأْسِهِ أَوْ بَيْنَ يَدَيْهِ أَوْ (بِحِذَائِهِ) يَمْنَةً أَوْ يَسْرَةً أَوْ مَحَلَّ سُجُودِهِ (تِمْثَالٌ) وَلَوْ فِي وِسَادَةٍ مَنْصُوبَةٍ … (وَاخْتُلِفَ فِيمَا إذَا كَانَ) التِّمْثَالُ (خَلْفَهُ وَالْأَظْهَرُ الْكَرَاهَةُ). (الدر المختار على تنوير الابصار كتاب الصلوة بَابُ مَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَمَا يُكْرَهُ فِيهَا المؤلف: مفتى الشام العلامة حضرت علاء الدين محمد بن على بن محمد بن عبد الرحيم الحصكفى الحنفي المتوفى سنة ১০৮৮ هجري)

অর্থ: নামাযীর মাথার উপরে সামনে অথবা (হিযায়ে) ডানে অথবা বামে অথবা সিজদার স্থানে (প্রাণীর ছবি) ও বালিশে থাকা মাকরূহ তাহরীমী। (কিন্তু পিছনে থাকলে মাকরূহ হবে কি না এ ব্যাপারে মতোবিরোধ রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ মতে, মাকরূহ তাহরীমী হবে)। (আদ্ দুররুল মুখতার আলা তানবীরিল্ আবছার অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফসিদুছ্ ছলাতা ওয়া মা ইউকরাহু ফীহা লেখক: মুফতিউশ্ শাম আল্লামা হযরত আলাউদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম হাছকাফী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১০৮৮ হিজরী)

(১১৩৬)

(أَوْ مَقْطُوعَةَ الرَّأْسِ أَوْ الْوَجْهِ) أَوْ مَمْحُوَّةَ عُضْوٍ لَا تَعِيشُ بِدُونِهِ ( أَوْ لِغَيْرِ ذِي رُوحٍ لَا ) يُكْرَهُ لِأَنَّهَا لَا تُعْبَدُ. (الدر المختار على تنوير الابصار كتاب الصلوة بَابُ مَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَمَا يُكْرَهُ فِيهَا المؤلف: مفتى الشام العلامة حضرت علاء الدين محمد بن على بن محمد بن عبد الرحيم الحصكفى الحنفي المتوفى سنة ১০৮৮ هجري)

অর্থ: (যদি মাথা কাটা হয় অথবা মুখমন্ডল কাটা হয়) অথবা যা কেটে ফেললে বাচা যায় না এমন অঙ্গ মিটিয়ে দেয়া হয় (অথবা প্রাণহীনের ছবি হয়) তাহলে মাকরূহ তাহরীমী হবে না। কেননা এতে এগুলোর উপাসনা করা প্রমাণীত হয় না। (আদ্ দুররুল মুখতার আলা তানবীরিল্ আবছার অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফসিদুছ্ ছলাতা ওয়া মা ইউকরাহু ফীহা লেখক: মুফতিউশ্ শাম আল্লামা হযরত আলাউদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম হাছকাফী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১০৮৮ হিজরী)

রদ্দুল্ মুহতার আলাদ্ দুররিল্ মুখতার (ফাতাওয়াশ্ শামী)

অত্র ‘রদ্দুল্ মুহতার আলাদ্ দুররিল মুখতার আলা তানবীরিল্ আবছার’ কিতাবখানা লিখেছেন, আল্লামা হযরত মুহাম্মাদ আমীন বিন উমর বিন আব্দুল আযীয ইবনে আবিদীন শামী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ওয়াফাত: ১২৫২ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি মূর্তি সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে, তা উল্লেখ করা হলো-

(১১৩৭)

فِي الْمُغْرِبِ: الصُّورَةُ عَامٌّ فِي ذِي الرُّوحِ وَغَيْرِهِ، وَالتِّمْثَالُ خَاصٌّ بِمِثَالِ ذِي الرُّوحِ وَيَأْتِي أَنَّ غَيْرَ ذِي الرُّوحِ لَا يُكْرَهُ. (رد المحتار على الدر المختار على تنوير الابصار كتاب الصلوة بَابُ مَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَمَا يُكْرَهُ فِيهَا الجلد الاول الصفحة ৬৪৭ المؤلف: علامة حضرت محمد امين بن عمر بن عبد العزيز ابن عابدين الشامي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه تاريخ الوفاة ১২৫২ هجري)

অর্থ: ‘আল্ মুগরিব’ কিতাবে বর্ণিত আছে: সাধারণভাবে প্রাণীর ছবি ও প্রাণহীনের ছবিকে ছূরত বলা হয়। আর তামছীল শব্দটি বিশেষ করে প্রাণীর ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। অতএব প্রাণহীনের ছবি থাকলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে না। (রদ্দুল্ মুহতার আলাদ্ দুররিল মুখতার আলা তানবীরিল্ আবছার অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফসিদুছ্ ছলাতা ওয়া মা ইউকরাহু ফীহা ১ম খন্ড ৬৪৭ পৃষ্ঠা লেখক: আল্লামা হযরত মুহাম্মাদ আমীন বিন উমর বিন আব্দুল আযীয ইবনে আবিদীন শামী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১২৫২ হিজরী)

(১১৩৮-১১৩৯)

قَالَ فِي الْبَحْرِ : وَفِي الْخُلَاصَةِ وَتُكْرَهُ التَّصَاوِيرُ عَلَى الثَّوْبِ صَلَّى فِيهِ أَوْ لَا، وَهَذِهِ الْكَرَاهَةُ تَحْرِيمِيَّةٌ. (رد المحتار على الدر المختار على تنوير الابصار كتاب الصلوة بَابُ مَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَمَا يُكْرَهُ فِيهَا الجلد الاول الصفحة ৬৪৭ المؤلف: علامة حضرت محمد امين بن عمر بن عبد العزيز ابن عابدين الشامي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه تاريخ الوفاة ১২৫২ هجري(

অর্থ: ‘আল্ বাহর’ কিতাবে উল্লেখ আছে: ‘আল্ খুলাছা’ কিতাবে আছে, পোশাকে প্রাণীর ছবি থাকুক অথবা অন্য কিছুতে থাকুক নামায মাকরূহ হবে। এ কারাহাত দ্বারা মাকরূহ তাহরীমী উদ্দেশ্য। (রদ্দুল্ মুহতার আলাদ্ দুররিল মুখতার আলা তানবীরিল্ আবছার অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফসিদুছ্ ছলাতা ওয়া মা ইউকরাহু ফীহা ১ম খন্ড ৬৪৭ পৃষ্ঠা লেখক: আল্লামা হযরত মুহাম্মাদ আমীন বিন উমর বিন আব্দুল আযীয ইবনে আবিদীন শামী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১২৫২ হিজরী)

(১১৪০-১১৪১)

وَظَاهِرُ كَلَامِ النَّوَوِيِّ فِي شَرْحِ مُسْلِمٍ الْإِجْمَاعُ عَلَى تَحْرِيمِ تَصْوِيرِ الْحَيَوَانِ ، وَقَالَ : وَسَوَاءٌ صَنَعَهُ لِمَا يُمْتَهَنُ أَوْ لِغَيْرِهِ ، فَصَنْعَتُهُ حَرَامٌ بِكُلِّ حَالٍ لِأَنَّ فِيهِ مُضَاهَاةَ لِخَلْقِ اللَّهِ تَعَالَى ، وَسَوَاءٌ كَانَ فِي ثَوْبٍ أَوْ بِسَاطٍ أَوْ دِرْهَمٍ وَإِنَاءٍ وَحَائِطٍ وَغَيْرِهَا، فَيَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ حَرَامًا لَا مَكْرُوهًا إنْ ثَبَتَ الْإِجْمَاعُ أَوْ قَطْعِيَّةُ الدَّلِيلِ بِتَوَاتُرِهِ.

(رد المحتار على الدر المختار على تنوير الابصار كتاب الصلوة بَابُ مَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَمَا يُكْرَهُ فِيهَا الجلد الاول الصفحة ৬৪৭ المؤلف: علامة حضرت محمد امين بن عمر بن عبد العزيز ابن عابدين الشامي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه تاريخ الوفاة ১২৫২ هجري)

অর্থ: মুসলিম শরীফের শরাহ ‘শরহুন নুবাবী’র স্পষ্ট বর্ণনা মুতাবিক- প্রাণীর ছবি মূর্তি ভাস্কর্য এগুলোর চর্চা করা ইজমা’ মতে হারাম। তিনি আরো বলেন, তা ইহানতের জন্য করুক অথবা ইহানত ব্যতীত সাধারণভাবে করুক তা সর্বাবস্থায় হারাম। কেননা, এতে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার সৃষ্টির সাদৃশ্যতা দাবি করা হয়। অনুরুপ কাপড়ে, বিছানায়, দিরহাম বা রুপার টাকায়, পাত্রে, দেয়ালে অথবা এছাড়া অন্য কিছুতে প্রাণীর ছবি থাকা হারাম। যখন তা ইজমা’ দ্বারা ও মুতাওয়াতির বর্ণনা দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণীত তখন তা মাকরূহ না হয়ে হারাম হওয়ারই যোগ্য। (রদ্দুল্ মুহতার আলাদ্ দুররিল মুখতার আলা তানবীরিল্ আবছার অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফসিদুছ্ ছলাতা ওয়া মা ইউকরাহু ফীহা ১ম খন্ড ৬৪৭ পৃষ্ঠা লেখক: আল্লামা হযরত মুহাম্মাদ আমীন বিন উমর বিন আব্দুল আযীয ইবনে আবিদীন শামী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১২৫২ হিজরী)

(১১৪২-১১৪৩)

وَفِي الْبَحْرِ قَالُوا : وَأَشَدُّهَا كَرَاهَةً مَا يَكُونُ عَلَى الْقِبْلَةِ أَمَامَ الْمُصَلِّي ، ثُمَّ مَا يَكُونُ فَوْقَ رَأْسِهِ ثُمَّ مَا يَكُونُ عَنْ يَمِينِهِ وَيَسَارِهِ عَلَى الْحَائِطِ ، ثُمَّ مَا يَكُونُ خَلْفَهُ عَلَى الْحَائِطِ أَوْ السِّتْرِ. (رد المحتار على الدر المختار على تنوير الابصار كتاب الصلوة بَابُ مَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَمَا يُكْرَهُ فِيهَا الجلد الاول الصفحة ৬৪৮ المؤلف: علامة حضرت محمد امين بن عمر بن عبد العزيز ابن عابدين الشامي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه تاريخ الوفاة ১২৫২ هجري(

অর্থ: “আল্ বাহর” কিতাবে উল্লেখ আছে: মুছাল্লীর সামনে প্রাণীর ছবি থাকা শক্ত মাকরূহ তাহরীমী। অতপর মাথার উপর, অতপর ডানে ও বামে দেয়ালের উপর অতপর পিছনে দেয়ালের উপর অতপর কোন পর্দায় প্রাণীর ছবি থাকা মাকরূহ তাহরীমী হবে। (রদ্দুল্ মুহতার আলাদ্ দুররিল মুখতার আলা তানবীরিল্ আবছার অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফসিদুছ্ ছলাতা ওয়া মা ইউকরাহু ফীহা ১ম খন্ড ৬৪৮ পৃষ্ঠা লেখক: আল্লামা হযরত মুহাম্মাদ আমীন বিন উমর বিন আব্দুল আযীয ইবনে আবিদীন শামী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১২৫২ হিজরী)

(১১৪৪)

) قَوْلُهُ أَوْ لِغَيْرِ ذِي رُوحٍ ) لِقَوْلِ ابْنِ عَبَّاسٍ لِلسَّائِلِ ” فَإِنْ كُنْت لَا بُدَّ فَاعِلًا فَاصْنَعْ الشَّجَرَ وَمَا لَا نَفْسَ لَهُ ” رَوَاهُ الشَّيْخَانِ ، وَلَا فَرْقَ فِي الشَّجَرِ بَيْنَ الْمُثْمِرِ وَغَيْرِهِ. (رد المحتار على الدر المختار على تنوير الابصار كتاب الصلوة بَابُ مَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَمَا يُكْرَهُ فِيهَا الجلد الاول الصفحة ৬৪৯ المؤلف: علامة حضرت محمد امين بن عمر بن عبد العزيز ابن عابدين الشامي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه تاريخ الوفاة ১২৫২ هجري(

অর্থ: (প্রাণহীনের ছবি থাকলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হয় না) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা একজন প্রশ্নকারীকে বলেছিলেন “তোমার যদি ছবি আঁকতেই হয় তাহলে গাছগাছালীর ছবি আঁক এবং প্রাণহীনের ছবি আঁক।” বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে। ফলদার গাছ ও ফলহীন গাছের মধ্যে হুকুমের কোন পার্থক্য নেই। (রদ্দুল্ মুহতার আলাদ্ দুররিল মুখতার আলা তানবীরিল্ আবছার অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফসিদুছ্ ছলাতা ওয়া মা ইউকরাহু ফীহা ১ম খন্ড ৬৪৯ পৃষ্ঠা লেখক: আল্লামা হযরত মুহাম্মাদ আমীন বিন উমর বিন আব্দুল আযীয ইবনে আবিদীন শামী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১২৫২ হিজরী)

(১১৪৫)

) قَوْلُهُ فِي امْتِنَاعِ مَلَائِكَةِ الرَّحْمَةِ ) قَيَّدَ بِهِمْ إذْ الْحَفَظَةُ لَا يُفَارِقُونَ الْإِنْسَانَ إلَّا عِنْدَ الْجِمَاعِ وَالْخَلَاءِ كَذَا فِي شَرْحِ الْبُخَارِيِّ وَيَنْبَغِي أَنْ يُرَادَ بِالْحَفَظَةِ مَا هُوَ أَعَمُّ مِنْ الْكِرَامِ الْكَاتِبِينَ. (رد المحتار على الدر المختار على تنوير الابصار كتاب الصلوة بَابُ مَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَمَا يُكْرَهُ فِيهَا الجلد الاول الصفحة ৬৪৯ المؤلف: علامة حضرت محمد امين بن عمر بن عبد العزيز ابن عابدين الشامي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه تاريخ الوفاة ১২৫২ هجري(

অর্থ: (প্রাণীর ছবি বিশিষ্ট স্থানে রহমাতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রবেশ নিষেধ) কিন্তু হাফাযা ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা একান্ত বাসের সময় ও হাজত পুরনের সময় ছাড়া মানুষের থেকে কখনই পৃথক হন না। যেমনটি বুখারী শরীফ উনার শরাহ সমূহে আছে। আর সাধারণভাবে কিরামান কাতিবীন তথা সম্মাণিত আমল লেখক ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনারা কখনো পৃথক হন না। (রদ্দুল্ মুহতার আলাদ্ দুররিল মুখতার আলা তানবীরিল্ আবছার অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফসিদুছ্ ছলাতা ওয়া মা ইউকরাহু ফীহা ১ম খন্ড ৬৪৯ পৃষ্ঠা লেখক: আল্লামা হযরত মুহাম্মাদ আমীন বিন উমর বিন আব্দুল আযীয ইবনে আবিদীন শামী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১২৫২ হিজরী)

(১১৪৬)

وَأَمَّا فِعْلُ التَّصْوِيرِ فَهُوَ غَيْرُ جَائِزٍ مُطْلَقًا لِأَنَّهُ مُضَاهَاةٌ لِخَلْقِ اللهِ تَعَالَى كَمَا مَرَّ. (رد المحتار على الدر المختار على تنوير الابصار كتاب الصلوة بَابُ مَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَمَا يُكْرَهُ فِيهَا الجلد الاول الصفحة ৬৫০ المؤلف: علامة حضرت محمد امين بن عمر بن عبد العزيز ابن عابدين الشامي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه تاريخ الوفاة ১২৫২ هجري(

অর্থ: সাধারণত: প্রাণীর ছবি মূর্তি ভাস্কর্য ইত্যাদীর অনুশীলন করা নাজায়িয। কেননা, এতে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য তৈরি হয়। যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। (রদ্দুল্ মুহতার আলাদ্ দুররিল মুখতার আলা তানবীরিল্ আবছার অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফসিদুছ্ ছলাতা ওয়া মা ইউকরাহু ফীহা ১ম খন্ড ৬৫০ পৃষ্ঠা লেখক: আল্লামা হযরত মুহাম্মাদ আমীন বিন উমর বিন আব্দুল আযীয ইবনে আবিদীন শামী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১২৫২ হিজরী)

(১১৪৭)

وَيَنْبَغِي أَنْ يَجِبَ عَلَيْهِ ؛ وَلَوْ اسْتَأْجَرَ مُصَوِّرًا فَلَا أَجْرَ لَهُ لِأَنَّ عَمَلَهُ مَعْصِيَةٌ كَذَا عَنْ مُحَمَّدٍ. (رد المحتار على الدر المختار على تنوير الابصار كتاب الصلوة بَابُ مَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَمَا يُكْرَهُ فِيهَا الجلد الاول الصفحة ৬৫০ المؤلف: علامة حضرت محمد امين بن عمر بن عبد العزيز ابن عابدين الشامي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه تاريخ الوفاة ১২৫২ هجري(

অর্থ: কারো জন্য আবশ্যক এই যে, প্রাণীর ছবির ব্যবসা করে তার বিক্রিত মূল্য গ্রহণ করা যাবে না। কেননা, একাজটি গুনাহের কাজ। অনুরুপ ইমাম মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত আছে। (রদ্দুল্ মুহতার আলাদ্ দুররিল মুখতার আলা তানবীরিল্ আবছার অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: বাবু মা ইউফসিদুছ্ ছলাতা ওয়া মা ইউকরাহু ফীহা ১ম খন্ড ৬৫০ পৃষ্ঠা লেখক: আল্লামা হযরত মুহাম্মাদ আমীন বিন উমর বিন আব্দুল আযীয ইবনে আবিদীন শামী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১২৫২ হিজরী)

 

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩০