পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৬

সংখ্যা: ২৩৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লّীন-যোয়াল্লীন উনার শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা) ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)  ২৭. ইসলামের নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করার পর-

৩২তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”-

পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব উনার উপর মউত পর্যন্ত ইস্তিক্বামত থাকা ফরয

পূর্ব প্রকাশিতের পর

পবিত্র তাফসীর শরীফ উনাদের নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে ‘আত-তাক্বলীদুশ্ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’ উনার সমর্থনে পবিত্র আয়াত শরীফ সমূহ উনাদের ছহীহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও আহকাম

পবিত্র কুরআন মাজীদ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দলীল-আদিল্লাহ মোতাবেক সম্মানিত ইসলামী শরীয়াত উনার যাবতীয় হুকুম-আহকাম মেনে চলার জন্য কারো অনুসরণ করাকে ‘আত-তাকলীদুশ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’ বলে। উনাকে ‘তাকলীদুল ইসলাম’, ‘তাকলীদুদ্ দীন’ ও ‘তাকলীদুদ্ দালায়িলিল আরবায়াহ’ অর্থাৎ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার চারখানা দলীল উনাদের অনুসরণও বলা হয়ে থাকে।

নি¤েœ পবিত্র তাফসীর শরীফ উনাদের নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে ‘আত-তাক্বলীদুশ্ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’ উনার সমর্থনে পবিত্র আয়াত শরীফ সমূহ উল্লেখ করে উনাদের ছহীহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও আহকাম বা বিধি-বিধান আলোচনা করা হলো-

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ১২

كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللهِ. (سورة ال عمران عليه السلام ১১০ الاية)

অর্থ: আপনারাই সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। মানবজাতির কল্যাণের জন্যই আপনাদেরকে পাঠানো হয়েছে অর্থাৎ মনোনীত করা হয়েছে। আপনারা ভালকাজের নির্দেশ দিবেন আর অসৎ কাজ (শরীয়াতের খিলাফ কাজ) থেকে নিষেধ করবেন। আর মহান আল্লাহ তায়ালা উনার প্রতি ঈমান আনবেন। (পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ- ১১০)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

(৩৬৫)

 (كُنْتُمْ) يَا أُمَّة مُحَمَّد فِي عِلْم الله تَعَالَى (خَيْر أُمَّة أُخْرِجَتْ) أُظْهِرَتْ (لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنْ الْمُنْكَر وَتُؤْمِنُونَ بِاَللهِ) الْإِيمَان. (تفسير الجلالين سورة ال عمران عليه السلام ১১০ الاية المؤلف: جلال الدين محمد بن أحمد المحلي الشافعي رحمة الله عليه المتوفى ৮৬৪ هجري و جلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي الشافعي رحمة الله عليه المتوفى ৯১১ هجري)

অর্থ: (আপনারাই) হে উম্মাতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনারা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইলমে শ্রেষ্ঠ উম্মাত হিসেবে বিবেচিত আছেন (সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। আপনাদেরকে পাঠানো হয়েছে অর্থাৎ মনোনীত করা হয়েছে) আপনাদেরকে যাহির করা হয়েছে (মানবজাতির কল্যাণের জন্যই। আপনারা ভালকাজের নির্দেশ দিবেন আর অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবেন। আর মহান আল্লাহ তায়ালা উনার প্রতি ঈমান আনবেন।) বিশ্বাস করবেন। (তাফসীরুল জালালাইন শরীফ পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ- ১১০, লিখক: জালালুদ্দীন মুহম্মদ বিন আহমদ মাহাল্লী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৮৬৪ ও জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আবু বকর সুয়ূতী আশ শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৯১১ হিজরী)

(৩৬৬)

{كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ} كأنه قيل: وجدتم خير أمة أو كنتم في علم الله أو في اللوح خير أمة، أو كنتم في الأمم قبلكم مذكورين بأنكم خير أمة موصوفين به {أُخْرِجَتْ} أظهرت {لِلنَّاسِ} اللام يتعلق ب ্রأخرجتগ্ধ {تَأْمُرُونَ بالمعروف} بالإيمان وطاعة الرسول {وَتَنْهَوْنَ عَنِ المنكر} عن الكفر وكل محظور {وَتُؤْمِنُونَ بالله} وتدومون على الإيمان به. (مدارك التنزيل وحقائق التأويل اى تفسير النسفي سورة ال عمران عليه السلام ১১০ الاية المؤلف: أبو البركات عبد الله بن أحمد بن محمود النسفي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه المتوفى: ৭১০ هجرى)

অর্থ: (আপনারাই সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত।) কেননা বলা হয়: আপনারা শ্রেষ্ঠ উম্মাতের মর্যাদা পেয়েছেন অথবা আপনারা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইল্ম মুবারকে সর্বশ্রেষ্ঠ অথবা আপনারা শ্রেষ্ঠ হওয়ার বিষয়টি লাওহে মাহফূযে লিখিত আছে অথবা আপনারা পূর্ববর্তী উম্মাতের তুলনায় শ্রেষ্ঠ কেননা আপনাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মাত হিসেবেই বিশেষিত করা হয়েছে। (আপনাদেরকে পাঠানো হয়েছে অর্থাৎ মনোনীত করা হয়েছে) আপনাদেরকে যাহির করা হয়েছে (মানবজাতির কল্যাণের জন্যই।) এখানে লামটি উখরিজাত উনার সাথে সম্পৃক্ত (আপনারা ভালকাজের নির্দেশ দিবেন) আপনারা আদেশ দিয়ে থাকেন পবিত্র ঈমান উনার ও নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরনের (আর অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবেন।) কুফরী ও যাবতীয় নাফরমানী কাজ থেকে (আর মহান আল্লাহ তায়ালা উনার প্রতি ঈমান আনবেন।) দায়িমীভাবে বিশ্বাস রাখবেন। (মাদারিকুত তানযীল ওয়া হাক্বায়িকুত তা’বীল অর্থাৎ তাফসীরুন্ নাসাফী পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ-১১০ লেখক: হযরত আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মাহমূদ নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত মুবারক: ৭১০ হিজরী)

(৩৬৭)

{كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ} أنتم خير أمة {أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} كانت للناس ثم بين خيرهم فقال {تَأْمُرُونَ بالمعروف} بالتوحيد واتباع محمد {وَتَنْهَوْنَ عَنِ المنكر} عن الكفر والشرك ومخالفة الرسول {وَتُؤْمِنُونَ بالله} وبجملة الكتب والرسل. (تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضي الله عنهما المتوفى: ৬৮ هجري سورة ال عمران عليه السلام ১১০ الاية جمعه محمد بن يعقوب الفيروز آبادى رحمة الله عليه المتوفى: ৮১৭ هجرى)

অর্থ: (আপনারাই সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত।) আপনারাই সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মাত (মানবজাতির কল্যাণের জন্যই আপনাদেরকে পাঠানো হয়েছে অর্থাৎ মনোনীত করা হয়েছে।) যাঁদেরকে মানব জাতির জন্যে আবির্ভূত করা হয়েছে। তারপর তাদের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা করে বলেন, (আপনারা ভালকাজের নির্দেশ দিবেন) আপনারা আদেশ দিয়ে থাকেন তাওহীদের ও নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরনের জন্যে (আর অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবেন।) এবং মানুষদেরকে নিষেধ করে থাকেন কুফরী, শিরকী ও হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধাচারণ করা থেকে (আর মহান আল্লাহ তায়ালা উনার প্রতি পবিত্র ঈমান আনবেন।) সমস্ত আসমানী কিতাব ও নবী-রসূল আলাইহিমুছ্ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাদের প্রতি। (তানবীরুল মাকবাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওয়াফাত মুবারক: ৬৮ হিজরী পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ-১১০ লেখক: হযরত মুহাম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফীরোজাবাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত মুবারক: ৮১৭ হিজরী)

(৩৬৮)

{كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ} أنتم خير أمة {أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} كانت للناس ثم بين خيرهم فقال {تَأْمُرُونَ بالمعروف} بالتوحيد واتباع محمد صلى الله عليه و سلم {وَتَنْهَوْنَ عَنِ المنكر} عن الكفر والشرك ومخالفة الرسول صلى الله عليه و سلم .(تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضى الله عنهما المتوفى ৬৮ هجري سورة ال عمران عليه السلام ১১০ الاية جمعه محمد بن يعقوب الفيروز آبادى رحمة الله عليه المتوفى ৮১৭ هجرى)

অর্থ: (আপনারাই সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত) আপনারাই উৎকৃষ্ট উম্মত (মানবজাতির কল্যাণের জন্যই আপনাদেরকে পাঠানো হয়েছে অর্থাৎ মনোনীত করা হয়েছে) আপনাদেরকে শেষ্ঠ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। (আপনারা ভালকাজের নির্দেশ দিবেন) তাওহীদে বিশ্বাস স্থাপন করবেন ও নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্তিবা করবেন (আর অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবেন।) কুফরী, শিরকী ও হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিলাফ করা থেকে বিরত রাখবেন। (তানবীরুল মাক্ববাস মিন তাফসীরে ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওয়াফাত মুবারক: ৬৮ হিজরী পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ-১১০ সংকলনকারী: আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফীরোযাবাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৮১৭ হিজরী)

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ১৩

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا. (سورة النساء ৫৯ الاية)

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আনুগত্য করো, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরন-অনুকরণ করো এবং তোমাদের মধ্যে যাঁরা উলিল আমর (আদেশদাতা) উনাদের অনুসরণ করো। তোমাদের মধ্যে যদি কোন বিষয়ে মতবিরোধ হয়, তাহলে উক্ত বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করো অর্থাৎ যেই উলিল আমর উনার পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দলীল বেশি সেই উলিল আমর উনাকেই অনুসরণ করো। যদি তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাকো। এটাই কল্যানকর ও পরিনতির দিক দিয়ে উত্তম। (পবিত্র সূরাতুন্ নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর ৫৯)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার-

 وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ

অংশ দ্বারা হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, উলামা, আউলিয়ায়ে কিরাম ও উমারা-খলীফাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করতে নির্দেশ করা হয়েছে এবং ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ ক্বিয়াস যে সম্মানিত শরীয়ত উনার দলীল তাও প্রমাণ করা হয়েছে। যেমনটি সর্বজনমান্য ও নির্ভরযোগ্য সকল তাফসীর উনার কিতাব উনাদের মধ্যে উল্লেখ আছে-

(৩৬৯)

 (يَا اََيُّهَا الذين امَنُواْ) عثمان بن طلحة واصحابه (اَطِيعُوا الله) فيما امركم (وَاَطِيعُوا الرسول) فيما يأمركم (وَاُولِي الامر مِنْكُمْ) امراء السرايا ويقال العلماء. (تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضي الله عنهما المتوفى ৬৮ هجري سورة النساء شريف رقم الاية العظيمة ৫৯ جمعه حضرت علامة محمد بن يعقوب الفيروزآبادى رحمة الله عليه المتوفى ৮১৭ هجري)

অর্থ: (হে ঈমানদারগণ!) হযরত উছমান বিন ত্বলহাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও উনার সঙ্গি-সাথী উনারা (তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আনুগত্য করো,) তিনি যা তোমাদেরকে নির্দেশ করেন তা মান্য করো (সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরন-অনুকরণ করো) তিনি যা তোমাদেরকে নির্দেশ করেন তা মান্য করো (এবং তোমাদের মধ্যে যাঁরা উলিল আমর-আদেশদাতা উনাদের অনুসরণ করো।) উনারা হলেন জিহাদের ময়দানের সেনাপতি ও হযরত উলামায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম। (তাফসীরুল মাকবাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওয়াফাত মুবারক: ৬৮ হিজরী পবিত্র সূরাতুন্ নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর ৫৯ জমাকারী বা সংকলক: হযরত আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফীরোযাবাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৮১৭ হিজরী)

(৩৭০)

(فَاِن تَنَازَعْتُمْ) اختلفتم (فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ اِلَى الله) الى كتاب الله (والرسول) وسنة الرسول (اِن كُنتُمْ) اِذ كنتم (تُؤْمِنُونَ بالله واليوم الاخر) البعث بعد الموت (ذلك) الرد الى كتاب الله وسنة الرسول (خَيْرٌ وَاَحْسَنُ تَاْوِيلاً) عاقبة. (تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضي الله عنهما المتوفى ৬৮ هجري سورة النساء شريف رقم الاية العظيمة ৫৯ جمعه حضرت علامة محمد بن يعقوب الفيروزآبادى رحمة الله عليه المتوفى ৮১৭ هجري)

অর্থ: (তোমাদের মধ্যে যদি মতবিরোধ হয়) ইখতিলাফ হয় (কোন বিষয়ে, তাহলে উক্ত বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করো) মহান আল্লাহ তায়ালা উনার কিতাব তথা পবিত্র কুরআনুল মাজীদ উনার দিকে (ও উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করো।) সুন্নাতুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে অনুসরণ করো। অর্থাৎ যেই উলিল আমর উনার পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দলীল বেশি সেই উলিল আমর উনাকেই অনুসরণ করো। (যদি তোমরা) যখন তোমরা (মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাকো।) মাউতের পর পুনরুত্থানের প্রতি (এটাই) পবিত্র কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতুর রসূল উনাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করা (কল্যানকর ও পরিনতির দিক দিয়ে উত্তম।) এটাই উত্তম পন্থা। (তাফসীরুল মাকবাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওয়াফাত মুবারক: ৬৮ হিজরী পবিত্র সূরাতুন্ নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর ৫৯ জমাকারী বা সংকলক: হযরত আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফীরোযাবাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৮১৭ হিজরী)

(৩৭১)

(يَا اََيُّهَا الَّذِينَ امَنُوا اَطِيعُوا الله وَاَطِيعُوا الرَّسُول وَاُولِي) اَصْحَاب (الْأَمْر) أَيْ الْوُلَاة (مِنْكُمْ) اِذَا اَمَرُوكُمْ بِطَاعَةِ الله وَرَسُوله. (تفسير الجلالين سورة النساء شريف رقم الاية العظيمة ৫৯ المؤلف: جلال الدين محمد بن أحمد المحلي رحمة الله عليه المتوفى ৮৬৪ هجري و جلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي رحمة الله عليه المتوفى ৯১১ هجري)

অর্থ: (হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আনুগত্য করো, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরন-অনুকরণ করো এবং যাঁরা উলিল্) অধিকারী (আমর) হুকুমের (তোমাদের মধ্যে উনাদের অনুসরণ করো।) উনারা যখন মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আনুগত্যের ব্যাপারে তোমাদেরকে আদেশ করবেন তখন তা পালন করবে। (তাফসীরুল জালালাঈন পবিত্র সূরাতুন্ নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর ৫৯ লেখক: হযরত জালালুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ মাহাল্লী শাফিয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৮৬৪ হিজরী ও হযরত জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আবূ বাকার সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৯১১ হিজরী)

(৩৭২)

(فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ) اخْتَلَفْتُمْ (فِي شَيْء فَرُدُّوهُ اِلَى الله) أَيْ إلَى كِتَابه (وَالرَّسُول) مُدَّة حَيَاته وَبَعْده إلَى سُنَّته أَيْ اكْشِفُوا عَلَيْهِ مِنْهُمَا (اِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْم الْاخِر ذلِكَ) أَيْ الرَّدّ إلَيْهِمَا (خَيْر) لَكُمْ مِنْ التَّنَازُع وَالْقَوْل بِالرَّأْيِ (وَاَحْسَن تَأْوِيْلًا) مَآلًا. (تفسير الجلالين سورة النساء شريف رقم الاية العظيمة ৫৯ المؤلف: جلال الدين محمد بن أحمد المحلي الشافعي رحمة الله عليه المتوفى ৮৬৪ هجري و جلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي الشافعي رحمة الله عليه المتوفى ৯১১ هجري)

অর্থ: (তোমাদের মধ্যে যদি মতবিরোধ হয়) ইখতিলাফ হয় (কোন বিষয়ে, তাহলে উক্ত বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করো) অর্থাৎ উনার কিতাব পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার দিকে (ও উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করো।) উনার যমীনে থাকা অবস্থায়। আর উনার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পর উনার সুন্নাহ তথা হাদীছ শরীফ উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। অর্থাৎ উনাদের মাধ্যমে উক্ত বিষয়ের ফায়ছালা করবে। অর্থাৎ যেই উলিল আমর উনার পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দলীল বেশি সেই উলিল আমর উনাকেই অনুসরণ করো। (যদি তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাকো। এটাই) পবিত্র কুরআন মাজীদ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দিকে প্রত্যাবর্তন (কল্যানকর) তোমাদের ইখতিলাফ থেকে বাঁচার জন্য ও সঠিক সিদ্ধান্ত লাভের জন্য (ও পরিনতির দিক দিয়ে উত্তম।) উত্তম পথ। (তাফসীরুল জালালাঈন পবিত্র সূরাতুন্ নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর ৫৯ লেখক: হযরত জালালুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ মাহাল্লী শাফিয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৮৬৪ হিজরী ও হযরত জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আবূ বাকার সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৯১১ হিজরী)

(৩৭৩)

(ياأيها الذين امَنُواْ أَطِيعُواْ الله) أي في الفرائض (وَأَطِيعُواْ الرسول) أي في السنن. ويقال: أطيعوا الله فيما فرض، وأطيعوا الرسول فيما بيّن. ويقال أَطِيعُواْ الله بقول لا إله إلا الله، وأطيعوا الرسول بقول محمد رسول الله صلى الله عليه و سلم (وَأُوْلِى الامر مِنْكُمْ) يعني أطيعوا أولي الأمر منكم. قال الكلبي ومقاتل: يعني أمراء السرايا. وقال الضحاك: يعني الفقهاء والعلماء في الدين. ويقال: الخلفاء والأمراء ويجب طاعتهم ما لم يأمروا بالمعصية. (بحر العلوم اى تفسير السمرقندي سورة النساء شريف رقم الاية العظيمة ৫৯ المؤلف: حضرت ابو الليث نصر بن محمد بن احمد بن ابراهيم السمرقندي الحنفي رحمة الله عليه المتوفى ৩৭৩ هجري)

অর্থ: (হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আনুগত্য করো,) অর্থাৎ ফরদ্ব সমূহ পালন করো (সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরন-অনুকরণ করো) অর্থাৎ সুন্নাত সমূহ পালন করো। বলা হয়: ফরদ্ব পালনে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আনুগত্য করো। আর তার ব্যাখ্যার ব্যাপারে হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করো। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা হচ্ছে আতীউল্লাহ, আর ‘মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলা হচ্ছে আতীর্উ রসূলা। (এবং তোমাদের মধ্যে যাঁরা উলিল আমর উনাদের অনুসরণ করো।) অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে বিধান দাতা উনাদেরকে অনুসরণ করো। হযরত কালবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত মুকাতিল রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন: উনারা হলেন সমরক্ষেত্রের সেনাপতি। হযরত দ্বহ্হাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: উনারা হলেন, হযরত ফুক্বাহা ও উলামা রহমাতুল্লাহি আলাইহিম। কারো মতে: উনারা হলেন ইসলামী খলীফা ও আমীর-উমারা। উনারা যদি নাফরমানীর আদেশ না দেন তাহলে উনাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব। (বাহরুল উলূম অর্থাৎ তাফসীরুস্ সামারকান্দী পবিত্র সূরাতুন্ নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর ৫৯ লেখক: হযরত আবুল লাইছ নাছ্র বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম সামারকান্দী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত মুবারক: ৩৭৩ হিজরী)

(৩৭৪)

 (فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِى شَىْء) من الحلال والحرام والشرائع (فَرُدُّوهُ إِلَى الله والرسول) يعني إلى أمر الله فيما يأمر بالوحي، وإلى أمر الرسول فيما يخبر عن الوحي، ثم بعد النبي صلى الله عليه وسلم لما انقطع الوحي يرد إلى كتاب الله تعالى، وإلى سنة رسوله عليه الصلاة والسلام. ويقال: معناه إذا أشكل عليكم شيء، فقولوا: الله ورسوله أعلم. وهذا كما قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: الرجوع إلى الحق خير من التمادي في الباطل. وقال الخليل بن أحمد البصري: الناس أربعة: رجل لا يدري ولا يدري أنه لا يدري، فهذا أحمق فاجتنبوه. ورجل لا يدري ويدري أنه لا يدري، فهذا جاهل فعلِّموه. ورجل يدري ولا يدري أنه يدري، فهذا نائم فأيقظوه. ورجل يدري وهو يدري أنه يدري فهذا عالم فاتبعوه. ثم قال تعالى: (إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بالله واليوم الاخر) يعني إن كنتم تصدقون بالله واليوم الاخر ثم قال: (ذلك خَيْرٌ) أي الرد إلى كتاب الله، وإلى سنة رسوله خير من الاختلاف (وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً) أي وأحسن عاقبة. وروي عن علي بن أبى طالب عليه السلام أنه قال: حق على الإمام أن يحكم بالعدل، ويؤدي الأمانة إلى أهلها، فإذا فعل ذلك وجب على المسلمين أن يطيعوه، فإن الله تعالى أمرنا بأداء الأمانة والعدل، ثم أمرنا بطاعتهم. وقال مجاهد: (وَأُوْلِى الامر مِنْكُمْ) العلماء والفقهاء وهكذا روي عن جابر رضي الله عنه. (بحر العلوم اى تفسير السمرقندي سورة النساء شريف رقم الاية العظيمة ৫৯ المؤلف: حضرت ابو الليث نصر بن محمد بن احمد بن ابراهيم السمرقندي الحنفي رحمة الله عليه المتوفى ৩৭৩ هجري)

অর্থ: (তোমাদের মধ্যে যদি কোন বিষয়ে মতবিরোধ হয়,) হালাল, হারাম ও শারয়ী বিষয়ে (তাহলে উক্ত বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ও উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে প্রত্তাবর্তন করো।) অর্থাৎ ওহীর মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালা যা আদেশ করেছেন তার দিকে এবং সম্মানিত ওহী মুবারক উনার মাধমে হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বর্ণনা করেছেন তার দিকে প্রত্যাবর্তন করো। অতপর হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার কারণে সম্মানিত ওহী মুবারক উনার দরজা বন্ধ হওয়ার পর পবিত্র কিতাবুল্লাহ ও পবিত্র সুন্নাতে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আনুগত্য করবে। এর অর্থে এটাও বলা হয় যে, তোমাদের মধ্যে যখন কোন ব্যাপারে মতানৈক্য দেখা দেয় তখন বলো- মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই ভালো জানেন। যেমনটি হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি বলেন: বাতিলের সাথে লেগে থাকার চেয়ে হক্ব উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করা উত্তম। হযরত খলীল বিন আহমাদ বাছরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: মানুষ চার প্রকার। যথা: (১) এমন মুর্খ লোক যে কিছুই জানে না, সে যে জানে না তাও বুঝে না। এমন লোক আহমক তথা গন্ড মুর্খ, তাই তার থেকে দূরে থাকবে।  (২) এমন মুর্খ লোক, যে জানে যে সে মুর্খ, এমন লোক জাহিল, তাই তাকে ইল্ম শিক্ষা দিবে। (৩) এমন জ্ঞানী লোক, যে জানে না যে সে জ্ঞানী। এমন ব্যক্তি ঘুমন্ত, তাই তোমরা তাঁকে জাগিয়ে দাও। (৪) এমন জ্ঞানী লোক, যিনি জানেন যে তিনি জ্ঞানী। এমন ব্যক্তি আলিম, তাই তোমরা উনাকে অনুসরণ করো। অর্থাৎ যেই উলিল আমর উনার পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দলীল বেশি সেই উলিল আমর উনাকেই অনুসরণ করো। (যদি তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাকো।) অর্থাৎ যদি তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ও আখিরাত দিবসের প্রতি ইয়াক্বীন রেখে থাকো। (এটাই কল্যানকর) পবিত্র কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করা ইখতিলাফ থেকে উত্তম। (ও পরিনতির দিক দিয়ে উত্তম।) উত্তম পন্থা। হযরত আলী ইবনে আবূ তালিব আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন: ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে বিচার করা খলীফার জন্য ফরদ্ব-ওয়াজিব। আর অধিনস্থদের মধ্যে আমানত রক্ষা করা। খলীফা এমন স্বভাব সম্পন্ন হলে মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব উনার আনুগত্য করা। কেননা, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি আমাদেরকে ন্যায়-নীতি ও আমানত রক্ষা করতে আদেশ করেছেন এবং এমন লোকদের অনুসরণ করতে আদেশ করেছেন। হযরত মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: উলিল্ আমর হচ্ছেন হযরত উলামা ও ফুক্বাহা কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম। অনুরুপ বর্ণনা করেছেন হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু। (বাহরুল উলূম অর্থাৎ তাফসীরুস্ সামারকান্দী পবিত্র সূরাতুন্ নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর ৫৯ লেখক: হযরত আবুল লাইছ নাছ্র বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম সামারকান্দী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত মুবারক: ৩৭৩ হিজরী)

(৩৭৫)

(ياأيها الذين ءَامَنُواْ أَطِيعُواْ الله وَأَطِيعُواْ الرسول وَأُوْلِي الأمر مِنْكُمْ) أي الولاة أو العلماء. (مدارك التنزيل وحقائق التأويل اى تفسير النسفي سورة النساء شريف رقم الاية العظيمة ৫৯ المؤلف: ابو البركات عبد الله بن أحمد بن محمود النسفي الجنفي الماتريدي رحمة الله عليه المتوفى ৭১০ هجرى)

অর্থ: (হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আনুগত্য করো, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরন-অনুকরণ করো এবং তোমাদের মধ্যে যাঁরা উলিল আমর উনাদের অনুসরণ করো।) অর্থাৎ উলিল্ আমর হলেন: খলীফা ও উলামা কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি। (মাদারিকুত্ তানযীল ওয়া হাক্বায়িকুত্ তা’বীল অর্থাৎ তাফসীরুন নাসাফী পবিত্র সূরাতুন্ নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর ৫৯ লেখক:  আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মাহমূদ নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৭১০ হিজরী)

(৩৭৬)

(فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِى شَيْءٍ) فإن اختلفتم أنتم وأولو الأمر في شيء من أمور الدين (فَرُدُّوهُ إِلَى الله والرسول) أي ارجعوا فيه إلى الكتاب والسنة (إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بالله واليوم الآخر) أي إن الإيمان يوجب الطاعة دون العصيان. (مدارك التنزيل وحقائق التأويل اى تفسير النسفي سورة النساء شريف رقم الاية العظيمة ৫৯ المؤلف: ابو البركات عبد الله بن أحمد بن محمود النسفي الجنفي الماتريدي رحمة الله عليه المتوفى ৭১০ هجري)

অর্থ: (তোমাদের মধ্যে যদি কোন বিষয়ে মতবিরোধ হয়,) পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার কোন ব্যাপারে যদি উলিল্ আমর উনাদের মধ্যে মতোবিরোধ হয় (তাহলে উক্ত বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ও উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে প্রত্তাবর্তন করো।) অর্থাৎ উক্ত ব্যাপারে তোমরা কিতাবুল্লাহ তথা কুরআন মাজীদ ও সুন্নাহ শরীফ তথা হাদীছ শরীফ উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। অর্থাৎ যেই উলিল আমর উনার পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দলীল বেশি সেই উলিল আমর উনাকেই অনুসরণ করো। (যদি তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাকো।) নিশ্চয়ই পবিত্র ঈমান উনার ব্যাপারে আনুগত্য ওয়াজিব, তবে নাফরমানীর ব্যাপারে নয়। (মাদারিকুত্ তানযীল ওয়া হাক্বায়িকুত্ তা’বীল অর্থাৎ তাফসীরুন নাসাফী পবিত্র সূরাতুন্ নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর ৫৯ লেখক:  আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মাহমূদ নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৭১০ হিজরী)

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৪

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪২তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া    ১৫দ

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৩তম পর্ব