পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৫

সংখ্যা: ২৩৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহরীমি সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন উনার শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা) ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)  ২৭. ইসলামের নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করার পর-

৩২তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”-

পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব উনার উপর মউত পর্যন্ত ইস্তিক্বামত থাকা ফরয

পূর্ব প্রকাশিতের পর

পবিত্র তাফসীর শরীফ উনাদের নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে ‘আত-তাক্বলীদুশ্ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’ উনার সমর্থনে পবিত্র আয়াত শরীফ সমূহ উনাদের ছহীহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও আহকাম

 

পবিত্র কুরআন মাজীদ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দলীল-আদিল্লাহ মোতাবেক সম্মানিত ইসলামী শরীয়াত উনার যাবতীয় হুকুম-আহকাম মেনে চলার জন্য কারো অনুসরণ করাকে ‘আত-তাকলীদুশ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’ বলে। উনাকে ‘তাকলীদুল ইসলাম’, ‘তাকলীদুদ্ দীন’ ও ‘তাকলীদুদ্ দালায়িলিল আরবায়াহ’ অর্থাৎ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার চারখানা দলীল উনাদের অনুসরণও বলা হয়ে থাকে।

নি¤েœ পবিত্র তাফসীর শরীফ উনাদের নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে ‘আত-তাক্বলীদুশ্ শারয়ী তথা শরীয়াত সমর্থিত অনুসরণ’ উনার সমর্থনে পবিত্র আয়াত শরীফ সমূহ উল্লেখ করে উনাদের ছহীহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও আহকাম বা বিধি-বিধান আলোচনা করা হলো-

 

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ৬

يايها الذين امنوا ادخلوا فى السلم كافة. (سورة البقرة ۲۰۸ الاية)

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা পবিত্র দীন ইসলাম উনার মধ্যে স¤পূর্ণরূপে প্রবেশ কর। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২০৮)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ প্রমান করতেছে যে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্পষ্ট ও অস্পষ্টাংশ উভয় অংশ গ্রহণ করা মুসলিম-মু’মিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধতাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

(৩৫১-৩৫২)

وقال إمام الحرمين: الذى ذهب إليه أهل التحقيق أن منكرى القياس لايعدون من علماء الأمة وحملة الشريعة؛ لأنهم معاندون مباهتون فيما ثبت استفاضة وتواترًا، ولأن معظم الشريعة صادرة عن الاجتهاد، ولاتفى النصوص بعشر معشارها، وهؤلاء ملتحقون بالعوام. (تهذيب الأسماء واللغات الجزء الاول حرف الدال المهملة المؤلف: حضرت العلامة أبى زكريا محيي الدين بن شرف النووي الشافعي الاشعري رحمة الله عليه المتوفى سنة ۶۷۶ هجري، برهان المقلدين ۷۰ الصفحة للعلامة مولانا محمد روح الامين البشيرهاتي الفرفرابي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه)

অর্থ: হযরত ইমামুল হারামাঈন বলেন, সূক্ষ্মতত্ত্ববিদ উলামাগণ উনাদের মত এই যে, নিশ্চয়ই ক্বিয়াস শরীফ অমান্যকারীরা উম্মাতের উলামা ও শারীয়াত বাহক হতে পারে না। কেননা, যে ক্বিয়াস শরীফ অসংখ্য দলীল দ্বারা প্রমাণীত হয়েছে, তারা সেই ক্বিয়াস শরীফ অমান্য ও অগ্রাহ্য করে থাকে। আরো সম্মানিত শরীয়াত উনার অধিকাংশ বিষয় ক্বিয়াস শরীফ কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে এবং সম্মানিত শরীয়াত উনার এক দশমাংশও পবিত্র কুরআন ও পবিত্র হাদীছ শরীফে স্পষ্টভাবে প্রাপ্ত হওয়া যায় না। সুতরাং লামাযহাবী দল নিরক্ষর শ্রেণীভুক্ত। (তাহযীবুল আসমা ওয়াল্ লুগাত ১ম অধ্যায় হরফুদ্ দালিল্ মুহমালাহ লেখক: হযরতুল আল্লামা আবূ যাকারিয়া মুহ্ইদ্দীন বিন র্শাফ নুবাবী শাফিয়ী আশয়ারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৬৭৬ হিজরী, বুরহানুল মুক্বাল্লিদীন ৭০ পৃষ্ঠা লেখক: আল্লামা মাওলানা মুহাম্মাদ রূহুল আমীন বশীরহাটী ফুরফুরাবী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি)

এখানে ফিকিরের বিষয় যে, যদি পবিত্র দ্বীন ইসলামে ১০ লক্ষ মাসয়ালা থাকে, তবে তন্মধ্যে ১ লক্ষ মাসয়ালা পবিত্র কুরআন মাজীদ ও পবিত্র হাদীছ শরীফে স্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে, আর ৯ লক্ষ মাসয়ালা পবিত্র কুরআন মাজীদ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের থেকে ইজতিহাদ করে তথা ক্বিয়াস শরীফ করে ফায়সালা করা হয়েছে। মহাসম্মানিত ইমাম-মুজতাহিদগণ উনারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সহজভাবে উক্ত মাসয়ালা গুলো প্রকাশ করে মুসলমান উনাদের অশেষ উপকার সাধন করেছেন। প্রকৃত সত্যিকার মু’মিন-মুসলমান হতে গেলে এবং পরিপূর্ণ দীন ইসলাম স্বীকার করতে হলে উক্ত মাসয়ালাগুলিতে চার মাযহাবের ইমাম উনাদের যে কোন একজনের মাযহাব ধরতে হবে। এছাড়া কোনই পথ নেই। এছাড়াও যে একাংশের বর্ণনা পবিত্র কুরআন মাজীদ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফে আছে, তা পূর্ণভাবে জানার জন্য উক্ত ইমাম-মুজতাহিদ উনাদের মত গ্রহণ করতে হবেই। একারণেই পরিপূর্ণ মু’মিন-মুসলমান হতে হলে মাযহাব চতুষ্ঠয়ের যে কোন এক মাযহাবের অনুসরণ করা ফরদ্ব-ওয়াজিব হিসেবে সাব্যস্ত।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ৭

يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ (سورة البقرة ۲۶۹ الاية)

অর্থ: তিনি (মহান আল্লাহ তায়ালা) যাঁকে ইচ্ছা হিকমত (বিশেষ জ্ঞান) দান করেন। আর যাঁকে হিকমত দান করা হয়েছে, তাকে অনেক কল্যান দান করা হয়েছে। আলিমগণ ব্যতীত কেউ উপদেশ গ্রহণ করেন না। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬৯)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে হিকমত তথা ইলমে ফিকাহ ও ইলমে শরীয়ত উনার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই ইলম যাঁদের আছে উনাদেরকেই অনুসরণ করা ইঙ্গিত এ পবিত্র আয়াত শরীফে পাওয়া যায়।

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

(৩৫৩)

{يُؤْتِي الحكمة مَن يَشَآءُ} يعني النبوة لمحمد عليه الصلاة والسلام ويقال تفسير القرآن ويقال إصابة القول والفعل والرأي {وَمَن يُؤْتَ الحكمة} إصابة القول والفعل والرأي {فَقَدْ أُوتِيَ} أعطي {خَيْراً كَثِيراً وَمَا يَذَّكَّرُ} يتعظ بأمثال القرآن والحكمة {إِلاَّ أُوْلُواْ الألباب} ذو العقول من الناس. (تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضي الله عنهما المتوفى: ۶۸ هجري سورة البقرة ۲۶۹ الاية جمعه: علامة محمد بن يعقوب الفيروز آبادى رحمة الله عليه المتوفى: ۸۱۷ هجري)

অর্থ: (তিনি মহান আল্লাহ তায়ালা যাঁকে ইচ্ছা হিকমত বা বিশেষ জ্ঞান দান করেন।) অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত মুহাম্মাদ মুছতফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নুবুওওয়াহ আনুষ্ঠানিকভাবে হাদিয়া করা হয়েছে। কেউ বলেন, তাফসীরুল কুরআন হাদিয়া করা হয়েছে। কারো মতে: কথা, কাজ ও ফায়সালায় যথার্থতা হাদিয়া করা হয়েছে। (আর যাঁকে হিকমত দান করা হয়েছে,) কথা, কাজ ও ফায়সালায় যথার্থতা হাদিয়া করা হয়েছে, (তাকে অনেক কল্যান দান করা হয়েছে।) পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার দৃষ্টান্ত ও হিকমতমূলক নছীহত দান করা হয়েছে। (আলিমগণ ব্যতীত কেউ উপদেশ গ্রহণ করেন না।) মানুষদের মধ্যে আক্বলমান্দরাই উপদেশ গ্রহণ করে থাকেন। (তানবীরুল মাকবাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওয়াফাত মুবারক: ৬৮ হিজরী সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ- ২৬৯ জমাকারী: আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফিরোযাবাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৮১৭ হিজরী)

(৩৫৪)

قوله تعالى: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ} قال السدي: هي النبوة، وقال ابن عباس رضي الله عنهما وقتادة: علم القرآن ناسخه ومنسوخه ومحكمه ومتشابهه ومقدمه ومؤخره وحلاله وحرامه وأمثاله، وقال الضحاك: القرآن والفهم فيه، وقال: في القرآن مائة وتسع آيات ناسخة ومنسوخة وألف آية حلال وحرام، وقال مجاهد: هي القرآن والعلم والفقه، وروى ابن أبي نجيح عنه: الإصابة في القول والفعل، وقال إبراهيم النخعي: معرفة معاني الأشياء وفهمها.{وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ} قال: الورع في دين الله {فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا وَمَا يَذَّكَّرُ} يتعظ {إِلا أُولُو الألْبَابِ} ذو العقول. (معالم التنزيل اى تفسير البغوي سورة البقرة ۲۶۹ الاية المؤلف : محيي السنة ابو محمد الحسين بن مسعود البغوي رحمة الله عليه المتوفى: ۵۱۰ هجري)

অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা উনার বাণী: (তিনি মহান আল্লাহ তায়ালা যাঁকে ইচ্ছা হিকমত বা বিশেষ জ্ঞান দান করেন।) হযরত সুদ্দী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: হিকমত হলো নুবুওওয়াহ। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ও হযরত ক্বতাদাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন: হিকমত হলো- পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার মধ্যে উনার নাসিখ, মানসূখ, মাহকাম, মুতাশাবিহ, মুক্বাদ্দাম, মুয়াখ্খার, হালাল, হারাম ও দৃষ্টান্ত সমূহ। হযরত দ্বহ্হাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: হিকমত হলো- পবিত্র কুরআন মাজীদ ও উনার সংশ্লিষ্ঠ বিষয় সমূহ। তিনি বলেন: পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার মধ্যে ১০৯ খানা পবিত্র আয়াত শরীফ নাসেখ মানসূখ আর এক হাজার আয়াত হালাল ও হারাম বিষয়ক। হযরত মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: হিকমত হলো- পবিত্র কুরআন মাজীদ, ইল্ম ও ফিক্হ। হযরত ইবনু আবী নুজাইহ বর্ণনা করেন, কথা ও কাজের যথার্থতাই হলো হিকমত। হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: বিষয় সমূহের মর্মার্থ ও সঠিক বুঝ সম্পর্কে উপলব্ধি করাই হিকমত। (আর যাঁকে হিকমত দান করা হয়েছে,) মহান আল্লাহ তায়ালা উনার দীন উনার ব্যাপারে পরহিযগারীতাই হলো হিকমত। (তাকে অনেক কল্যান দান করা হয়েছে। জ্ঞানবানগণই উপদেশ গ্রহণ করেন।) মানুষদের মধ্যে আক্বলমান্দরাই উপদেশ গ্রহণ করে থাকেন। (মায়ালিমুত তানযীল অর্থাৎ তাফসীরুল বাগবী সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ- ২৬৯ জমাকারী: মুহইস সুন্নাহ আবূ মুহাম্মাদ হুসাঈন বিন মাসঊদ বাগবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৫১০ হিজরী)

(৩৫৫)

{وَمَا يَذَّكَّرُ إِلاَّ أُوْلُواْ الألباب} وما يتعظ بمواعظ الله إلا ذو العقول السليمة أو العلماء العمال. (مدارك التنزيل وحقائق التأويل سورة البقرة ۲۶۹ الاية المؤلف: الامام حضرت ابو البركات عبد الله بن أحمد بن محمود النسفي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه المتوفى: ۷۱۰ هجري)

অর্থ: (জ্ঞানবানগণই উপদেশ গ্রহণ করেন।) মানুষদের মধ্যে আক্বলমান্দরাই উপদেশ গ্রহণ করে থাকেন। উনারা হলেন পরিশুদ্ধ আক্বলধারী এবং ইছলাছের সাথে আমলকারী উলামায়ে কিরাম। (মাদারিকুত তানযীল ওয়া হাক্বায়িকুত তা’বীল সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ- ২৬৯ লেখক: ইমাম হযরত আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মাহমূত নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৭১০ হিজরী)

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ৮

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا. (سورة البقرة ۲۸۶ الاية)

অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি কারো উপর সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না।  (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮৬)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

এ পবিত্র আয়াত শরীফ থেকে বুঝা যায় যে, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি কারো উপর সাধ্যাতীত কার্যভার চাপিয়ে দেন না। সুতরাং যে সমস্ত ব্যক্তি ইজতিহাদ করতে পারেন না, পবিত্র কুরআন মাজীদ ও সুন্নাহ শরীফ থেকে মাসয়ালা বের করতে পারেন না, উনারা চলবেন কিভাবে? তাই উনারা ইমাম-মুজতাহিদ উনাদেরকে অনুসরণ করে চলবেন। এই পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা ইহাই ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ৯

مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادًا لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ. (سورة ال عمران عليه السلام ۷۹ الاية)

অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা কোন মানুষকে কিতাব, হিকমত ও নুবুওওয়াত দান করার পর তিনি বলবেন যে, ‘তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে পরিত্যাগ করে আমার বান্দা হয়ে যাও’- এটা কখনোই সম্ভব নয়। বরং উনারা বলবেন, তোমরা মহান রবওয়ালা (আল্লাহওয়ালা) হয়ে যাও।  (পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ- ৭৯)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

(৩৫৬)

{وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ} واختلفوا فيه قال علي وابن عباس والحسن: كونوا فقهاء علماء وقال قتادة: حكماء وعلماء وقال سعيد بن جبير: العالم الذي يعمل بعلمه، وعن سعيد بن جبير عن ابن عباس: فقهاء معلمين.  (معالم التنزيل اى تفسير البغوي سورة ال عمران ۷۹ الاية المؤلف : محيي السنة ابو محمد الحسين بن مسعود البغوي رحمة الله عليه المتوفى: ۵۱۰ هجري)

অর্থ: (বরং উনারা বলবেন, তোমরা মহান রবওয়ালা-আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও) এখানে মর্মার্থ সম্পর্কে ইখতিলাফ রয়েছে। হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ও হযরত হাসান বছরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন যে: তোমরা ফক্বীহ ও আলিম হও। হযরত ক্বতাদাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: হিকমতওয়ালা ও আলিম হও। হযরত সাঈদ বিন জুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন: এমন আলিম হও যিনি ইখলাছের সাথে আমলদার। হযরত সাঈদ বিন জুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, তা’লীমদানকারী ফক্বীহ হও। ( মায়ালিমুত তানযীল অর্থাৎ তাফসীরুল বাগবী পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ- ৭৯ লেখক: মুহইস সুন্নাহ আবূ মুহাম্মাদ হুসাঈন বিন মাসঊদ বাগবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৫১০ হিজরী)

(৩৫৭)

{ولكن كُونُواْ رَبَّانِيِّينَ} قال كونوا فقهاءَ علماءَ حكماءَ. (تفسير مجاهد سورة ال عمران ۷۹ الاية المؤلف: ابو الحجاج مجاهد بن جبر التابعي المكي القرشي المخزومي الولادة سنة ۲۱ هجري الوفاة سنة ۱۰۴ هجري)

অর্থ: (বরং উনারা বলবেন, তোমরা মহান রবওয়ালা-আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও) তোমরা ফক্বীহ, আলিম ও হিকমতওয়ালা হও। (তাফসীরু মুজাহিদ পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ- ৭৯ লেখক: আবুল হাজ্জাজ মুজাহিদ বিন জাবর তাবিয়ী মাক্কী কুরাশী মাখযূমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি জন্ম: ২১ হিজরী ওয়াফাত: ১০৪ হিজরী)

(৩৫৮)

{كُونُواْ ربانيين} أي متعبدين ويقال كونوا علماء فقهاء. قال الزجاج: الربانيون أرباب العلم والبيان أي كانوا علماء. (بحر العلوم اى تفسير السمرقندي سورة ال عمران ۶۹ الاية المؤلف : أبو الليث نصر بن محمد بن أحمد بن إبراهيم السمرقندي الحنفي رحمة الله عليه المتوفى ۳۷۳ هجري)

অর্থ: (তোমরা মহান রবওয়ালা-আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও) অর্থাৎ ইবাদতকারী হও। আরো বলা হয়- তোমরা আলিম ও ফক্বীহ হও। হযরত যুজাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: রব্বানিয়্যূন হলেন আলিমগণ। (বাহরুল উলূম অর্থাৎ তাফসীরুস সামারকান্দী পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ- ৭৯ লেখক: হযরত আবুল লাইছ নাছর বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম সামরকান্দী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৩৭৩ হিজরী)

(৩৫৯)

{رَبَّانِيِّينَ} علماء فقهاء عاملين. (تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضي الله عنهما المتوفى: ۶۸ هجري سورة ال عمران ۷۹ الاية جمعه: علامة محمد بن يعقوب الفيروز آبادى رحمة الله عليه المتوفى: ۸۱۷ هجري)

অর্থ: (তোমরা মহান রবওয়ালা-আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও) অর্থাৎ আলিম, ফক্বীহ ও ইখলাছের সাথে আমলকারী হও। (তানবীরুল মাকবাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওয়াফাত মুবারক: ৬৮ হিজরী পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ- ৭৯ জমাকারী: আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফিরোযাবাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৮১৭ হিজরী)

অত্র তাফসীরের ইবারত গুলো থেকে প্রমাণীত হচ্ছে যে, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি বান্দাদেরকে আলিম, ফক্বীহ, আমলকারী, ইবাদতকারী, হিকমত অবলম্বনকারী হতে বলেছেন। আর যাঁরা এই গুনের অধিকারী হবেন উনারাই ইমাম-মুজতাহিদ। উনাদেরকে অনুসরণ করতে অসংখ্য পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে। আর ইহাই মাযহাব মান্য করা।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ১০

قُلْ صَدَقَ اللهُ فَاتَّبِعُوا مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ. (سورة ال عمران عليه السلام ۹۵ الاية)

 অর্থ: হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি সত্য বলে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সঠিক মিল্লাত উনার অনুসরণ করো। আর তিনি তো মুশরিক ছিলেন না। (পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ- ৯৫)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

(৩৬০)

{فاتبعوا مِلَّةَ إبراهيم} وهي ملة الإسلام التي عليها محمد عليه السلام ومن آمن معه.

 (مدارك التنزيل وحقائق التأويل اى تفسير النسفي سورة ال عمران عليه السلام ۹۵ الاية المؤلف: ابو البركات عبد الله بن احمد بن محمود النسفي الحنفي الماتريدي رحمة الله عليه المتوفى ۷۱۰ هجري)

অর্থ: (সুতরাং তোমরা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সঠিক মিল্লাত উনার অনুসরণ করো) আর তা হচ্ছে সম্মানিত ইসলামী বিধান, যার উপর সাইয়্যিদুনা হযরত মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার প্রতি পবিত্র ঈমান আনয়নকারীগণ আছেন। (মাদারিকুত তানযীল ওয়া হাক্বায়িকুত তা’বীল সূরাতুল আলে ইমরান শরীফ- ৯৫ লেখক: ইমাম হযরত আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মাহমূত নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৭১০ হিজরী)

অত্র ইবারত থেকে বুঝা যায় যে, সত্যনিষ্ঠ ঈমানদার উনাদের পথ অনুসরণ করা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আদেশ। আর ইহাই তো মাযহাবের অনুসরণ।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ১১

وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ. (سورة ال عمران عليه السلام ۱۰۴ الاية)

অর্থ: তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল (মাযহাব) থাকা উচিৎ যাঁরা আহবান করবেন নেক কাজের প্রতি, ভালো কাজের নির্দেশ দিবেন এবং অসৎ কাজ (সম্মানিত শরীয়াত উনার খিলাফ কাজ) থেকে নিষেধ করবেন। আর উনারাই হবেন সফলকাম। (পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ- ১০৪)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

(৩৬১)

{وَلْتَكُن مِّنْكُمْ} لا تزل منكم {أُمَّةٌ} جماعة {يَدْعُونَ إِلَى الخير} إلى الصلح والإحسان {وَيَأْمُرُونَ بالمعروف} بالتوحيد واتباع محمد صلى الله عليه وسلم {وَيَنْهَوْنَ عَنِ المنكر} عن الكفر والشرك وترك اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم {وأولئك هُمُ المفلحون} الناجون من السخطة والعذاب. (تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضى الله عنهما المتوفى ۶۸ هجري سورة ال عمران عليه السلام ۱۰۴ الاية جمعه محمد بن يعقوب الفيروز آبادى رحمة الله عليه المتوفى ۸۱۷ هجري)

অর্থ: (তোমাদের মধ্যে থাকা উচিৎ) তোমাদের মধ্যে সর্বদায় থাকা উচিৎ (এমন একটি উম্মাহ বা মাযহাব) জামায়াত বা দল (যাঁরা আহবান করবেন নেক কাজের প্রতি,) ইছলাহী ও কল্যানের প্রতি (ভালো কাজের নির্দেশ দিবেন) তাওহীদ ও নূরুম্ মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ-অনুকরণ উনাদের নির্দেশ দিবেন (এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবেন।) কুফর, শিরক ও সুন্নাতের খিলাফ করা থেকে নিষেধ করবেন (আর উনারাই হবেন সফলকাম।) উনারাই বিরাগ ও আযাব থেকে নাজাত প্রাপ্ত হবেন। (তানবীরুল মাক্ববাস মিন তাফসীরে ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওয়াফাত মুবারক: ৬৮ হিজরী পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ-১০৪ সংকলনকারী: আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফীরোযাবাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৮১৭ হিজরী)

(৩৬২)

ويقال: إن الأمراء يجب عليهم الأمر والنهي باليد والعلماء باللسان والعوام بالقلب. (بحر العلوم اى تفسير السمرقندي سورة ال عمران عليه السلام ۱۰۴ الاية المؤلف : ابو الليث نصر بن محمد بن احمد بن ابراهيم السمرقندي الحنفي رحمة الله عليه المتوفى ۳۷۳ هجري)

অর্থ: বলা হয়: আমির-উমারাগণের উপর ওয়াজিব হাত দ্বারা আদেশ-নিষেধ জারী করা। হযরত উলামায়ে কিরাম উনারা যবান দ্বারা নছীহত করবেন। আর সাধারণ মানুষ অন্তরে পোষণ করবেন অর্থাৎ ভালো কাজকে ভালো মনে করে তা আদায় করবেন আর মন্দ কাজকে মন্দ মনে করে তা থেকে বিরত থাকবেন। (বাহরুল্ উলূম অর্থাৎ তাফসীরুস্ সামারকান্দী পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ-১০৪ লেখক: আল্লামা আবুল্ লাইছ নাছর বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম সামারকান্দী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৩৭৩ হিজরী)

(৩৬৩)

{وَلْتَكُن مِّنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ} أي لِيَكُنْ منكم جَمَاعَةٌ يدعونَ إلى الصُّلح والإحسان ويأمرونَ بالتوحيد واتِّباع مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وسائرِ الطَّاعات الواجبةِ {وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ} والشِّرْكِ وسائرِ ما لا يُعْرَفُ في شريعةٍ ولا سُنَّةٍ {وَأُوْلَـائِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} أي النَّاجُونَ من السَّخَطِ والعذاب. (تفسير القرآن العظيم للإمام الطبراني سورة ال عمران عليه السلام ۱۰۴ الاية المؤلف: أبو القاسم سليمان بن أحمد بن أيوب بن مطير اللخمي الشامي الطبراني رحمة الله عليه)

অর্থ: (তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল-মাযহাব থাকা উচিৎ যাঁরা আহবান করবেন নেক কাজের প্রতি, ভালো কাজের নির্দেশ দিবেন) অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে এমন একটি জামায়াত থাকা দরকার যাঁরা মানুষদেরকে সংশোধন ও কল্যাণের দিকে ডাকবেন। তাওহীদ, সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্তিবা ও সকল প্রকার ওয়াজিব তথা ফরয কাজের দিকে ডাকবেন (এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবেন।) শিরককাজ থেকে নিষেধ করবেন এবং যাবতীয় সম্মানিত শরীয়াত উনার খিলাফ ও পবিত্র সুন্নাত উনার খিলাফ কাজ থেকে বারণ করবেন। (আর উনারাই হবেন সফলকাম।) অর্থাৎ উনারাই বিরাগ ও আযাব থেকে নাজাত লাভ করবেন। (তাফসীরুল কুরআনিল আযীম লিল্ ইমাম ত্ববারানী অর্থাৎ তাফসীরুত্ ত্ববারানী পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ-১০৪ লেখক: আল্লামা আবুল্ কাসিম সুলাইমান বিন আহমাদ বিন আইয়ূব বিন মুত্বীর লাখমী শামী ত্ববারানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি)

(৩৬৪)

(وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّة يَدْعُونَ إلَى الْخَيْر) الْإِسْلَام (وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنْ الْمُنْكَر وَأُولَئِكَ) الدَّاعُونَ الْآمِرُونَ النَّاهُونَ (هُمْ الْمُفْلِحُونَ) الْفَائِزُونَ وَمِنْ لِلتَّبْعِيضِ لِأَنَّ مَا ذُكِرَ فَرْض كِفَايَة لَا يَلْزَم كُلّ الْأُمَّة. (تفسير الجلالين سورة ال عمران عليه السلام ۱۰۴ الاية المؤلف: جلال الدين محمد بن أحمد المحلي رحمة الله عليه المتوفى : ۸۶۴ هجري و جلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي رحمة الله عليه المتوفى: ۹۱۱ هجري)

অর্থ: (তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল-মাযহাব থাকা উচিৎ যাঁরা আহবান করবেন নেক কাজের প্রতি,) পবিত্র দীন ইসলাম উনার প্রতি (ভালো কাজের নির্দেশ দিবেন এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবেন। উনারাই) আহ্বানকারী ভালোকাজের প্রতি আর নিষেধকারী অসৎকাজ থেকে (আর উনারাই হবেন সফলকাম।) কামিয়াব। কেননা, এ কাজটি ফরযে কিফায়াহ। এ কাজের দায়িত্ব উম্মতের সর্বসাধারণ সকলের জন্য নয়।  (তাফসীরুল কুরআনিল আযীম লিল্ ইমাম ত্ববারানী অর্থাৎ তাফসীরুত্ ত্ববারানী পবিত্র সূরাতু আলে ইমরান শরীফ-১০৪ লেখক: আল্লামা আবুল্ কাসিম সুলাইমান বিন আহমাদ বিন আইয়ূব বিন মুত্বীর লাখমী শামী ত্ববারানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি)

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩০