পবিত্র মাহে রজব এবং উনার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

সংখ্যা: ২২৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শুয়াইব আহমদ

 

আরবী সপ্তম মাস রজবুল হারাম। এ মাস হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম সদস্য এবং ইমামতি ধারার প্রথম ইমাম, হযরত খুলাফায়ে রাশিদা উনাদের চতুর্থ খলীফা, জান্নাত উনার সুসংবাদপ্রাপ্ত, বাবুল ইলম, আসাদুল্লাহিল গালিব সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উনার মাস।

বর্ণিত রয়েছে, তিনি ২৩ হিজরী পূর্বাব্দের ১৩ রজব জুমুআর দিন পবিত্র কা’বা ঘর উনার অভ্যন্তরে বিলাদত শরীফ লাভ করেন। বর্ণিত আছে, পবিত্র কা’বা ঘর উনার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার আম্মা আলাইহাস সালাম উনার প্রসব বেদনা শুরু হলে তিনি সেখানেই বসে পড়েন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে প্রার্থনা করতে থাকেন। হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ওইসময় সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখতে পান কুদরতিভাবে পবিত্র কা’বা শরীফ উনার দেয়াল ফাঁক হয়ে গেছে। হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার আম্মা সেই ফাঁক দিয়ে পবিত্র কা’বা শরীফ উনার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। তারপর সেই ফাঁক বন্ধ হয়ে যায়। এই আশ্চর্য ঘটনা দেখে হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এবং উনার সাথের লোকজন অবাক হয়ে যান। উনারা দৌড়ে এসে পবিত্র কা’বা ঘর উনার দরজা মুবারক খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই দরজা মুবারক খুলতে পারলেন না। এই অলৌকিক ঘটনার খবর সবখানে ছড়িয়ে পড়ে।

পবিত্র কা’বা ঘর উনার ভিতরে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করলেন। শিশু সাইয়্যিদুনা হযরত আলী আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে উনার মা পবিত্র কা’বা ঘর উনার বাইরে এসে প্রথমেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখতে পান। নবজাতক শিশু উনাকে কোল মুবারক-এ নেয়ার জন্যে তিনি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি দু’হাত মুবারক বাড়িয়ে শিশু আলাইহিস সালাম উনাকে বুকে তুলে নেন। শিশু সাইয়্যিদুনা হযরত আলী আলাইহিস সালাম তিনি চোখ খুলেই আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সালাম জানালেন ‘আসসালামু আলাইকা ইয়া রসূলাল্লাহ’। তা শুনে সকলেই অবাক হয়ে যান। পবিত্র কা’বা শরীফ উনার অভ্যন্তরে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার বিলাদত শরীফ এক অনন্য সাধারণ ঘটনা। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোন মানুষের বিলাদত শরীফ কা’বা শরীফ উনার অভ্যন্তরে হয়নি।

একেবারে শিশু বয়স মুবারক থেকেই হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিবারে লালিত পালিত হন। উনার বয়স মুবারক যখন মাত্র পাঁচ বছর তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চাচা আবু তালিবের কাছ থেকে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে নিজের তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সাহচর্যে থেকেই তিনি বড় হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি নিজেই বলেন, আমি যখন শিশু ছিলাম, তখনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে উনার আশ্রয় মুবারক-এ নিয়েছিলেন। তিনি আমাকে উনার বুক মুবারক-এ জড়িয়ে ধরতেন এবং উনার পাশে শয়ন করাতেন। আমি উনার শরীর মুবারক স্পর্শ করেছি এবং উনার শরীর মুবারক উনার ঘ্রাণ মুবারক নিয়েছি। উনার সুরক্ষার জন্য দিন-রাত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নিয়োজিত ছিলেন। আমি উনাকে অনুসরণ করতাম যেমন উট শাবক তার মাকে অনুসরণ করে।

আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের পর পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বাণী প্রচার করতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন উনার সহকারী ও সাহায্যকারী হিসেবে কাউকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানালেন, তখন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ছাড়া আর কেউ এগিয়ে আসেননি। তখন তিনি একজন অল্প বয়স্ক কিশোর মাত্র। এভাবে শুরু থেকেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একান্ত সহকারী হিসেবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার জন্যে ত্যাগ স্বীকার করার ব্যাপারে এগিয়ে এসেছিলেন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম।

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। একবার পবিত্র সূরা তওবা শরীফ উনার কয়েকখানি পবিত্র আয়াত শরীফ মক্কাবাসীদের নিকট পাঠ করে শোনাবার জন্য নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনাকে পাঠান। হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত আয়াত শরীফসমূহ নিয়ে রওয়ানা হওয়ার পরে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি এসে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জানান যে, এই পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ পড়ে শোনাতে স্বয়ং উনি কিংবা উনার পবিত্র হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কেউ যান। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে এ কাজের জন্য তাড়াতাড়ি প্রেরণ করেন। অতঃপর তিনি রওয়ানা হয়ে পথিমধ্যে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার নিকট থেকে সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পবিত্র মক্কা শরীফ-এ গিয়ে জনগণকে সেই পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ পাঠ করে শোনান।

মাহে যিলহজ্জ এবং তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে মুহররম এবং তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা -হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শুয়াইব আহমদ

মাহে ছফর এবং তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

সাইয়্যিদুল আসইয়াদ, সাইয়্যিদুশ শুহূর, শাহরুল আ’যম মাহে রবীউল আউয়াল শরীফ ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে রবীউছ ছানী ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা