পবিত্র মাহে শাওওয়াল শরীফ ও উনার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

সংখ্যা: ২৩৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ শুয়াইব আহমদ

আরবী দশমতম মাস উনার নাম পবিত্র শাওওয়াল শরীফ। এ পবিত্র মাস উনার পহেলা তারিখ দিনটি পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার মুবারক দিন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার মুবারক রাত ও দিন উভয়টি অতিশয় ফযীলতপূর্ণ। মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার মুবারক রাতে একদল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আসমান হতে যমীনে আগমন করে উচ্চস্বরে ঘোষণা করতে থাকেন, হে মহান আল্লাহ পাক  উনার প্রিয় বান্দাগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দির জন্য এক মাস রোযা রেখেছো, বিনিময়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তোমাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি জান্নাতে এমন সব বালাখানা তৈরি করে দিবেন, যা অন্য কারো পক্ষে লাভ করা সম্ভব হবে না। শুধুমাত্র যারা তোমাদের মতো নেক আমল করবে তারাই সেই মর্যাদা লাভে সক্ষম হবে।

আর এ মুবারক দিনটির ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার দিন যখন মুছল্লীগণ পবিত্র ঈদ উনার নামায আদায় করার জন্য ঈদগাহে জমায়েত হন তখন মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়, ‘হে আমার বান্দাগণ! তোমরা আমারই রিযামন্দি মুবারক লাভের আশায় এক মাস রোযা রেখেছো এবং আজ আমার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের আশায় ঈদগাহে সমবেত হয়েছো। কাজেই, আমি আজ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। যাও, তোমরা আজ চিরমুক্ত ও নির্মল। সুবহানাল্লাহ!

স্মরণীয় যে, পবিত্র ঈদ উনার নামায সকাল সকাল পড়া সুন্নত মুবারক। পবিত্র ঈদ উনার নামাযের সম্মানার্থে এবং পবিত্র ঈদ উনার নামায আদায়ে যাতে দেরি না হয় সেজন্য পবিত্র ঈদ উনার দিন ইশরাকসহ অন্যান্য নফল নামায পড়া নিষিদ্ধ।

মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ফজর উনার নামায পড়ে পবিত্র হুজরা শরীফে গিয়ে সকাল সকাল গোসল করতেন এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার দিন বিজোড় সংখ্যক (৩, ৫, ৭) খেজুর খেয়ে ঈদগাহে যেতেন। আর পবিত্র ঈদুল আযহা উনার দিন কিছু না খেয়ে সরাসরি ঈদগাহে যেতেন। অতঃপর পবিত্র ঈদ উনার নামাযের ওয়াক্ত হবার সাথে সাথে পবিত্র ঈদ উনার নামায আদায় করতেন। তারপর খুতবাহ দিতেন ও নছীহত পেশ করতেন।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ঈদ ও পবিত্র জুমুয়ার খুতবা দানকালে লাঠি মুবারক উনার উপর ভর দিতেন। অর্থাৎ খুতবা মুবারক দেয়ার সময় ইমাম ছাহিবের জন্য লাঠি ব্যবহার করা একটি সুন্নত মুবারক এবং খুতবা মুখস্থ দেয়াও সুন্নত মুবারক। খুতবার ভাষা আরবী হওয়া শর্ত। আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় খুতবা দেয়া জায়িয নেই।

বর্তমানে কোন কোন এলাকায় মহিলাদেরকে ঈদ ও জুমুয়া পড়ার জন্য ঈদগাহে ও মসজিদে যেতে দেখা যায়। নাউযুবিল্লাহ! এটা সম্পূর্ণরূপে মহাসম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার খিলাফ। সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার আম বা সাধারণ ফতওয়া মতে এটা মাকরূহ তাহরীমী, আর খাছ ফতওয়া মতে কুফরী। কাজেই, মহিলারা মসজিদ ও ঈদগাহে গিয়ে নামায পড়লে নামায তো হবেই না, উল্টা কঠিন গুনাহে গুনাহগার হবে। কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মহিলাদের নামাযের উত্তম স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে তাদের নিজ নিজ ঘরের প্রকৌষ্ঠ বা কামরা এবং সেখানে নামায আদায়ে ২৫ গুণ ছওয়াবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশ থাকে যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের যামানায় উনারা এবং উনাদের অবর্তমানে উনাদের স্থলাভিষিক্ত হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের যামানায় উনারা হচ্ছেন রহমত লাভ করার মহান উসীলা। আর এ কারণে দেখা যায়, প্রক্যেক মাসেই হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কেউ না কেউ পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেছেন অথবা পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেছেন অথবা উনাদের কোনো না কোনো বিশেষ ঘটনা মুবারক সংঘটিত হয়েছে; যাকে উপলক্ষ্য করে মহান আল্লাহ পাক তিনি খাছ রহমত নাযিল করে থাকেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عند ذكر الصالـحين تنـزيل الرحمة.

অর্থ: “নেককার বা আল্লাহওয়ালা উনাদের যেখানে আলোচনা হয় সেখানে রহমত নাযিল হয়।

অতএব, রহমত, বরকত ও মাগফিরাতপূর্ণ পহেলা শাওওয়াল মুবারক দিনটিতে পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেছেন ওলীয়ে মাদারযাদ, লখতে জিগারে হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম, ক্বায়িম-মাক্বামে বিনতে রসূল হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, বাহরুল উলূম সাইয়্যিদাতুন নিসা, নাক্বীবাতুল উমাম হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

আবার এ পবিত্র মাস উনার ২৫ তারিখ বিছাল শরীফ গ্রহণ করেছেন যামানার লক্ষস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল, মুজাদ্দিদে আ’যম ইমাম ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা মাতা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মু রসূলিল্লাহ হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম, আওলাদুর রসূল আমাদের সম্মানিতা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মাহে রবীউছ ছানী ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে জুমাদাল উখরা ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে রজব ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে রমাদ্বান শরীফ ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে শাওওয়াল ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা