প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

সংখ্যা: ২৩৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

৬৬তম পর্ব

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লّীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা) ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২০৩তম সংখ্যা) পেশ করা হয়েছে।

আর বর্তমানে ২৮তম ফতওয়াটি অর্থাৎ “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি” এখনো পত্রস্থ হচ্ছে। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “সূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نـمير فراى فى صفته تـماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله الـمصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী”  উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র তাফসীর শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার শরাহ, পবিত্র ফিক্বাহ-ফতওয়া ও উনাদের ব্যাখ্যামূলক নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য সকল কিতাব উনাদের মধ্যে “প্রাণীর ছবি, মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন,  পুতুল ইত্যাদি তৈরি করা-করানো, তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

সম্মানিত ফিক্বাহ, ফতওয়া ও উনাদের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি হারাম, কুফরী ও শিরকী কাজ

পবিত্র ফিক্বাহ-ফতওয়া ও উনাদের ব্যাখ্যামূলক নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য সকল গ্রন্থসমূহে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি প্রাণীর ছবি ইত্যাদি তৈরি করা, এদের পূজা করা এগুলোর ব্যবসা করা এবং যে কোন অবস্থায় এগুলোর অনুশীলন করাকে নিষেধ করা হয়েছে। এগুলো তৈরি করা হারাম, এগুলোর পূজা করা কুফরী শিরকী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতের বিপরীতে গাইরুল্লাহর ইবাদত করার শামিল। নাউযুবিল্লাহ!

নি¤েœ মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবি নিষেধ সম্পর্কিত বিশ্ববিখ্যাত সর্বজনমান্য পবিত্র ফিক্বা ও ফতওয়া উনাদের কিতাব থেকে ছহীহ সমাধান তুলে ধরা হলো-

সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার ফিকাহ ও ফাতাওয়ার কিতাব থেকে দলীল

‘আল্ বিক্বায়াহ’ লিতাজিশ্ শারীয়াহ

অত্র ‘আল্ বিক্বায়াহ’ কিতাবখানা লিখেছেন, ইমাম ফক্বীহ তাজুশ্ শারীয়াহ মাহমূহ বিন ছদরুশ্ শারীয়াতিল্ আকবার আহমাদ বিন জামালুদ্দীন আবুল মাকারিম উবাইদুল্লাহ বিন ইবরাহীম বিন আহমাদ বিন আব্দুল্ মালিক বিন উমাইর বিন আব্দুল্ আযীয বিন মুহাম্মাদ বিন জা’ফর বিন খাল্ফ বিন হারূন বিন মুহাম্মাদ বিন মাহবূব বিন ওয়ালীদ বিন উবাদাহ বিন ছামিত আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু আব্বাদী মাহবূবী বুখারী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ওফাত মুবারাক: ৬৮০ হিজরী।

(১০৯২)

و صورة امامه او بحذائه او في السقف او معلقة. (الوِقاية كتاب الصلوة باب ما يفسد الصلاة و ما يكره فيها الجلد الاول الصفحة ১৬৮ المؤلف: الامام الفقيه تاج الشريعة محمود بن صدر الشريعة الاكبر احمد بن جمال الدين ابى المكارم عبيد الله العبادى المحبوبى البخارى الحنفى رحمة الله عليه المتوفى: ৬৮০ هجرى)

অর্থ: মুছাল্লীর সামনে, ডানে, বামে, ছাদে কিংবা লটকানো কোন প্রাণীর ছবি থাকা মাকরূহ তাহরীমী। (আল্ বিক্বায়াহ অধ্যায়: ছলাত পরিচ্ছেদ: যা নামাযকে ভঙ্গ ও মাকরূহ করে ১ম খন্ড ১৬৮ পৃষ্ঠা লেখক: ইমাম ফক্বীহ তাজুশ্ শারীয়াহ মাহমূদ বিন ছদরুশ্ শারীয়াতিল্ আকবার আহমাদ বিন জামালুদ্দীন আবুল মাকারিম উবাইদুল্লাহ আব্বাদী মাহবূবী বুখারী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৬৮০ হিজরী)

‘উমদার্তু রিয়ায়াহ আলা শরহিল্ বিক্বায়াহ’ লিল্ লাখনাভী

অত্র ‘উমদাতুর রিয়ায়াহ আলা শরহিল্ বিক্বায়াহ’ কিতাবখানা লিখেছেন, ফক্বীহ হযরত আব্দুল্ হাই লাখনাভী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ওয়াফাত মুবারাক: … হিজরী।

(১০৯৩)

تكره الصلوة اذا كانت الصورة قدام الـمصلى او على الايـمن او الايسر او فوق راسه في السقف او معلقة على السقف او في الستر. (عمدة الرعاية على شرح الوقاية كتاب الصلوة باب ما يفسد الصلاة و ما يكره فيها الجلد الاول الصفحة ১৬৮ رقم الحاشية   ১৮ المؤلف: الفقيه حضرت عبد الحي اللكهنوي الحنفى رحمة الله عليه)

অর্থ: মুছাল্লীর সামনে, ডানে, বামে, মাথার উপর ছাদে, ছাদে লটকানো অথবা কোন পর্দায় প্রাণীর ছবি থাকলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। (উমদাতুর রিয়ায়াহ আলা শারহিল্ বিক্বায়াহ অধ্যায়: ছলাত পরিচ্ছেদ: যা নামাযকে ভঙ্গ ও মাকরূহ করে ১ম খন্ড ১৬৮ পৃষ্ঠা ১৮ নং হাশিয়াহ লেখক: ইমাম ফক্বীহ হযরত আব্দুল্ হাই লাখনাভী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি)

নূরুল হিদায়াহ তরজমায়ে উর্দূ শরহে বিক্বায়াহ

অত্র ‘নূরুল হিদায়াহ তরজমায়ে উর্দূ শরহে বিক্বায়াহ’ কিতাবখানা লিখেছেন, হযরত মাওলানা আল্ হাজ্জ হাফিয মুহাম্মাদ আব্দুল্ গাফ্ফার ছাহেব লাখনাভী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ওয়াফাত মুবারাক: … হিজরী।

(১০৯৪)

تصویر کاہونا سر کے اوپر یا اسکے اگے یا برابر داہنے بائیں, (نور الہدایۃ ترجمۃ اردو شرح وقایۃ کتاب الصلاۃ فصل مکروہات ںماز میں جلد اول الصفحۃ ۱۰۹ المؤلف: حضرت مولانا الحاج الحافظ محمد عبد الغفار صاحب لکہنوی حنفی ماتریدی رحمۃ اللہ علیہ)

অর্থাৎ: মুছাল্লীর সামনে, ডানে, বামে, ছাদে কিংবা লটকানো কোন প্রাণীর ছবি থাকা মাকরূহ তাহরীমী। (নূরুল্ হিদায়াহ তারজামায়ে উর্দূ শরহে বিক্বায়াহ অধ্যায়: ছলাত পরিচ্ছেদ: যা নামাযকে মাকরূহ করে ১ম খন্ড ১০৯ পৃষ্ঠা লেখক: হযরত মাওলানা আল্ হাজ্জ হাফিয মুহাম্মাদ আব্দুল্ গাফ্ফার ছাহেব লাখনাবী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৬৮০ হিজরী)

‘ফাতহু বাবিল্ ইনায়াহ বিশারহিন্ নিক্বায়াহ’ লিমুল্লা আলী ক্বারী

অত্র ‘ফাতহু বাবিল্ ইনায়াহ বিশারহিন্ নিক্বায়াহ’ কিতাবখানা লিখেছেন, ফক্বীহ মাওলানা নূরুদ্দীন আলী বিন সুলতান মুহাম্মাদ ক্বারী হারবী হানাফী মাশহূর: মুল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ওফাত: ১০১৪ হিজরী।

(১০৯৫)

)صورة حيوان في ثوبه و مسجَده) بفتح الجيم اى في موضع سجوده (وجهته) اى او في جهاته السِّتِّ. (فتح باب العناية بشرح النقاية على مختصر الوقاية كتاب الصلوة فصل في مكروهات الصلوة الجلد الاول الصفحة ৩১১ المؤلف: الفقيه مولانا نور الدين علي بن سلطان محمد القاري الهروي الحنفى المشهور ملا على القارى رحمة الله عليه المتوفى : سنة ১০১৪ اربع عشرة وألف هجرى(

অর্থ: (প্রাণীর ছবি নামাযীর পোশাকে, সিজদার স্থানে) এখানে ‘মাসজাদ’ শব্দের জীম বর্ণে যবর যোগে পড়তে হবে। অর্থাৎ সিজদাহ করার স্থানে (ও জিহাতে) অর্থাৎ ছয়টি দিক তথা ডানে, বামে, সামনে, পিছনে, উপরে ও নিচে থাকলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। (ফাতহু বাবিল্ ইনায়াহ বিশারহিন্ নিক্বায়াহ আলা মুখতাছারিল্ বিক্বায়াহ অধ্যায়: ছলাত পরিচ্ছেদ: যা নামাযকে মাকরূহ করে ১ম খন্ড ৩১১ পৃষ্ঠা লেখক: ফক্বীহ মাওলানা নূরুদ্দীন আলী বিন সুলতান মুহাম্মাদ ক্বারী হারবী হানাফী মাশহূর: মুল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ওয়াফাত: ১০১৪ হিজরী।)

‘জামির্উ রুমূয আলান্ নিক্বায়াহ’ লিল্ ক্বাহিস্তানী

অত্র ‘জামির্উ রুমূয আলান্ নিক্বায়াহ’ কিতাবখানা লিখেছেন, ফক্বীহ মুফতী শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন হুস্সামুদ্দীন খুরাসানী ক্বাহিস্তানী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ওফাত: ৯৬২ হিজরী, মতান্তরে: ৯৫৫ হিজরী।

(১০৯৬)

)صورة) اى كره و حرم جعل شكل (حيوان) فلايكره صورة الجماد كالشجر. (جامع الرموز على النقاية كتاب الصلوة فصل ما يفسد الصلوة وما يكره الجلد الاول الصفحة ১৯৫ المؤلف: الفقيه المفتى شمس الدين محمد بن حسام الدين الخراساني القهستانى الحنفى رحمة الله عليه الوفاة ৯৬২ هجرى او ৯৫৫ هجري(

অর্থ: (ছবি) অর্থাৎ দেহধারী প্রাণীর ছবি মাকরূহ তাহরীমা ও হারাম (প্রাণীর) কিন্তু নিষ্প্রাণ বস্তু যেমন গাছ-গাছালীর ছবি মাকরূহ নয়। (জামিউর রুমূয আলান্ নিক্বায়াহ অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: যা নামাযকে ভঙ্গ ও মাকরূহ করে ১ম খন্ড ১৯৫ পৃষ্ঠা লেখক: ফক্বীহ মুফতী শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন হুস্সামুদ্দীন খুরাসানী ক্বাহিস্তানী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৯৬২ হিজরী, মতান্তরে: ৯৫৫ হিজরী)

(১০৯৭)

(و) فى جدار او ثوب (في جهة) من الجهات الست. (جامع الرموز على النقاية كتاب الصلوة فصل ما يفسد الصلوة وما يكره الجلد الاول الصفحة ১৯৬ المؤلف: الفقيه المفتى شمس الدين محمد بن حسام الدين الخراساني القهستانى الحنفى رحمة الله عليه الوفاة ৯৬২ هجرى او ৯৫৫ هجري)

অর্থ: (এবং প্রাণীর ছবি) দেয়ালে অথবা কাপড়ে (জিহাতে) অর্থাৎ ছয়টি দিক তথা ডানে, বামে, সামনে, পিছনে, উপরে ও নিচে থাকলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। (জামিউর রুমূয আলান্ নিক্বায়াহ অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: যা নামাযকে ভঙ্গ ও মাকরূহ করে ১ম খন্ড ১৯৬ পৃষ্ঠা লেখক: ফক্বীহ মুফতী শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন হুস্সামুদ্দীন খুরাসানী ক্বাহিস্তানী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৯৬২ হিজরী, মতান্তরে: ৯৫৫ হিজরী)

শারহুল্ ইল্ইয়াস আলান্ নিক্বায়াহ

অত্র ‘শারহুল্ ইল্ইয়াস আলান্ নিক্বায়াহ’ কিতাবখানা লিখেছেন, ফক্বীহ মুফতী মাওলুবী ইল্ইয়াস হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ওফাত: ১৩৫৬ হিজরী।

(১০৯৮)

ويكره (صورة الحيوان في ثوبه) سواء كانت الصورة منسوجة في الثوب او منقوشة عليه بخلاف صورة غير الحيوان كصورة الشجر والكواكب مثلا و في (مسجده) بان وقع سجوده على الصورة. (شرح الياس على النقاية كتاب الصلوة فصل ما يفسد الصلوة وما يكره الجلد الاول الصفحة ১৫৯ المؤلف: الفقيه المفتى المولوي الياس الحنفى رحمة الله عليه الوفاة ১৩৫৬ هجرى(

অর্থ: মাকরূহ তাহরীমী হলো (নামাযী ব্যাক্তির কাপড়ে প্রাণীর ছবি-মূর্তি থাকা) প্রাণীর ছবি কাপড়ে বুনানো অথবা অংকন করা একই হুকুম তথা মাকরূহ তাহরীমী বা হারাম। তবে প্রাণহীনের ছবি যেমন: গাছ-গাছালী ও তারকারাজীর ছবি ইত্যাদী হারাম নয়। (ও সিজদার স্থানে প্রাণীর ছবি-মূর্তি থাকা মাকরূহ তাহরীমী) কেননা, এতে প্রাণীর ছবি বা মূর্তিতে সিজদাহ করা প্রমানীত হয়। তাই তা হারাম হবে। (শারহুল্ ইল্ইয়াস আলান্ নিক্বায়াহ অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: যা নামাযকে ভঙ্গ ও মাকরূহ করে ১ম খন্ড ১৫৯ পৃষ্ঠা লেখক: ফক্বীহ মুফতী মাওলুবী ইল্ইয়াস হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ওয়াফাত: ১৩৫৬ হিজরী)

(১০৯৯)

)و في جهة) بان يكون الصورة فوق رأسه منقوشة في السقف او معلقة في الهواء او يكون بحذائه في جانب القبلة او على يمينه او شماله. (شرح الياس على النقاية كتاب الصلوة فصل ما يفسد الصلوة وما يكره الجلد الاول الصفحة ১৫৯ المؤلف: الفقيه المفتى المولوي الياس الحنفى رحمة الله عليه الوفاة ১৩৫৬ هجرى(

অর্থ: (নামাযীর জিহাতে প্রাণীর ছবি থাকা মাকরূহ তাহরীমী) অর্থাৎ নামাযীর মাথার উপর ছাদে অংকিত প্রানীর ছবি অথবা লটকানো প্রাণীর ছবি অথবা পবিত্র ক্বিবলা উনার দিকে অথবা ডান দিকে অথবা বাম দিকে প্রানীর ছবি থাকা মাকরূহ তাহরীমী। (শারহুল্ ইল্ইয়াস আলান্ নিক্বায়াহ অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: যা নামাযকে ভঙ্গ ও মাকরূহ করে ১ম খন্ড ১৫৯ পৃষ্ঠা লেখক: ফক্বীহ মুফতী মাওলুবী ইল্ইয়াস হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ওয়াফাত: ১৩৫৬ হিজরী)

হাশিয়াহ আলা শারহি ইল্ইয়াস

আলান্ নিক্বায়াহ

অত্র ‘হাশিয়াহ আলা শারহি ইল্ইয়াস আলান্ নিক্বায়াহ’ কিতাবখানার মুহশী তথা ব্যাখ্যাকার বা লেখক উনার নাম উল্লেখ নেই।

(১১০০-১১০১)

اى لو لبس ثوبا فيه تصاوير يكره الصلوة فيه لانه يشبه حال الصنم كذا في الهداية. (حاشية على شرح الياس على النقاية كتاب الصلوة فصل ما يفسد الصلوة وما يكره الجلد الاول الصفحة ১৫৯ رقم الحاشية   ৭)

অর্থ: নামাযী ব্যক্তি যদি এমন পোশাক পরিধান করে যাতে প্রাণীর ছবি আছে, তাহলে তার নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। কেননা, এতে মূর্তি পূজার সাদৃশ্য হয়ে থাকে। অনুরুপ ‘আল্ হিদায়াহ’ কিতাবে উল্লেখ আছে। (হাশিয়াহ আলা শারহি ইল্ইয়াস আলান্ নিক্বায়াহ অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: যা নামাযকে ভঙ্গ ও মাকরূহ করে ১ম খন্ড ১৫৯ পৃষ্ঠা ৭ নম্বর হাশিয়াহ)

(১১০২-১১০৩)

لان التمثال اذا كان مقطوع الرأس فليس بتمثال لانه لايعبد بدون الرأس تصار كما اذا صلى الى الشمع او السراج كذا في الهداية. (حاشية على شرح الياس على النقاية كتاب الصلوة فصل ما يفسد الصلوة وما يكره الجلد الاول الصفحة ১৬০ رقم الحاشية   ৩)

অর্থ: প্রাণীর ছবির যখন মাথা কেটে দেয়া হয় তখন তা আর প্রাণীর ছবি থাকে না। (অর্থাৎ যে প্রাণীর ছবির মাথা কেটে দিলে প্রাণী বুঝা যায় না) কেননা, যার মাথা নেই তার উপাসনা করা প্রমানীত হয় না। তা মোমবাতি ও প্রদীপ রেখে নামায পড়ার মতো হয়ে যায়। অনুরুপ ‘আল্ হিদায়াহ’ কিতাবে উল্লেখ আছে। (হাশিয়াহ আলা শারহি ইল্ইয়াস আলান্ নিক্বায়াহ অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: যা নামাযকে ভঙ্গ ও মাকরূহ করে ১ম খন্ড ১৬০ পৃষ্ঠা ৩ নম্বর হাশিয়াহ)

 

অসমাপ্ত-

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

 

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩০