মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিছে দেহ্লবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মাওলানা মুহম্মদ ফযলুল হক
পূর্ব প্রকাশিতের পর
বালা মুছীবতকে বরদাশত করুন, মুছীবতের সময়ে মাতাম এবং কান্নাকাটিকে হজম করা আবশ্যক। বালা মুছীবতের জন্য ভুলেও মাতাম করা উচিত নয়। ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার মাধ্যমে জীবন যাপন করা উচিত। ধৈর্য ধারণ ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। দুনিয়াদারদের একটি নিয়ম এই যে, দুনিয়াতে সে যতদিন জীবিত থাকুক সকল বালা-মুছীবতই সে মোকাবিলা করে এবং মুছীবতের কারণে রোনাজারী ও কান্নাকাটি করে। আবার দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার সময়ও রোনাজারী করে। মানুষকে যেভাবেই কবরে রাখা হোকনা কেন সে কবর থেকে সেভাবেই উঠবে যেভাবে মৃত্যুবরণ করে।
হে ভাই! নাপাকি থেকে পরিপূর্ণরূপে পূতঃপবিত্র হওয়া যা কেবলমাত্র মহান আল্লাহ পাক-এর জন্যই খাছ। অনুরূপ পবিত্রতা কোন বান্দার পক্ষে হাছিল করা অসম্ভব। এটা ইয়াক্বীন কর যে, গুনাহ থেকে পবিত্র থাকা কেবলমাত্র জন্মের পূর্বে এবং মৃত্যুর পরেই সম্ভব। এজন্য কোন কোন বুযূর্গ ব্যক্তি বলেছেন,
اريد عدما لا وجود له
আমি আমার না থাকাকে তলব করছি যাতে আমার কোন অস্তিত্ব না থাকে।
হে ভাই! তুমি যেখানে ক্বদম রেখেছ সে স্থানের লোকদের বক্তব্য এই হয় যে,
قدتحيرت فيك خذ بيدى- يا بلاد لمن تحير فيك
অর্থ: আমি আপনার জাতে পাক-এর জন্যই বেকারার পেরেশান রয়েছি। আপনি অনুগ্রহ করে আমাকে সাহায্য করুন। আপনি এমন ব্যক্তির জন্যই পথ প্রদর্শক যিনি আপনাকে পাওয়ার জন্য পেরেশান।
হে ভাই! এই সমস্ত লেখা পড়া করা এগুলো সবই জাহিরী এবং পর্দার বাইরের বিষয়। অভ্যন্তরীণ বিষয় বা পর্দা হচ্ছে এই যে,
چوں سرازل طعمہ ابدال شود+أں جملہ قیل وقال پامال شود
ہم مفتی شرع را جگر خوگردد+ہم خواجہ عقل را زباں لال شود
অর্থ: আছরারে আজালীই যখন আবদাল ব্যক্তির খোরাক হয় তখন সর্বপ্রকার কিল-কাল বন্ধ হয়ে যায়। শরীয়তের মুফতীর অন্তর চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং আক্বলমন্দ-এর যবান বন্ধ হয়ে যায়।
হযরত শায়খ হুসাইন রহমতুল্লাহি আলাইহি
(৮২০-৯০১ হিজরী)
হযরত শায়খ হুসাইন রহমতুল্লাহি আলাইহি বলখের একজন বিশেষ সম্মানিত ব্যক্তির সন্তান ছিলেন। প্রসিদ্ধ কথা এই যে, তিনি উনার চাচা হযরত শায়খ মুজাফফর রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মুরীদ এবং খলীফা ছিলেন। উনার বয়ান মুবারক দ্বারা এটাও প্রতিভাত হয় যে, তিনি হযরত শায়খ শরফুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর তা’লীমী মজলিসেও বসতেন এবং হযরত শায়খ মুজাফফর রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর তরবিয়ত হাছিল করে খিলাফত লাভ করেছেন, প্রথম জীবনে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করে প্রাথমিক শিক্ষালাভ করেন। এর পরেই তিনি ওলী আল্লাহগণ-এর তরীক্বানুযায়ী সুলুকের পথে পদার্পণের নিমিত্তে হিজাজে ছফর করেন। এবং মদীনা শরীফ-এ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক যিয়ারতে নিজেকে ধন্য করেন। যিয়ারতের সুমহান সৌভাগ্যের কারণেই তাঁর সমস্ত নেক মাকছূদের পূর্ণতা হাছিলপূর্বক স্বীয় জন্মভূমিতে ফিরে আসেন।
উনার শায়খ-এর তর্জ-তরীক্বানুযায়ী কতিপয় মাকতুবাত রয়েছে যাতে তিনি তাওহীদের গুপ্তভেদ ও গোসানিসীন ইখতিয়ারের বর্ণনা দিয়েছেন। তন্মধ্য হতে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ মাকতুব নিম্নে প্রদত্ত হলো-
মাকতুব: আমি যৌবনে পদার্পনের পূর্ব মুহূর্তে এবং ইলম হাছিলের সময় অধিক পরিমাণে গুনাহ, লোভ, খাহেশাতে নফসানী তথা অন্যান্য ক্ষতিকারক বিষয়ের মধ্যে বণী ইসরাঈলদের ন্যায় নিমজ্জিত ছিলাম। ইতোমধ্যে আমার চাচাজান হিজাজে সফর করার ইচ্ছা পোষণ করলেন। দয়া করে আমাকে উনার খাদিম হিসেবে সঙ্গী করে নিলেন। মুহতারাম চাচাজান আমাকে একাধারা পাঁচ বছর পর্যন্ত দিবারাত্রি বিভিন্ন তা’লীম-তরবিয়ত, হাক্বীক্বত-মা’রিফাত ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা দিলেন। যদিও ইতঃপূর্বে আমার মধ্যে এমন কোন যোগ্যতাই ছিল না। কিন্তু যখনই আমি রসূলে মাকবুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নৈকট্য লাভ করলাম তখন আমার মধ্যে পরিপূর্ণতার তাছির পরিলক্ষিত হতে লাগলো। আমি যা কিছু দেখেছি ও উপলব্ধি করেছি তা নিম্নোক্ত হাদীছ শরীফ দ্বারা বর্ণনা করা হয়-
لو تعلمون ما اعلم لضحكتم قليلا ولبكيتم كثيرا.
অর্থ: আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তবে তোমরা কম কম হাসতে ও বেশি বেশি কাঁদতে।
যখন মহান আল্লাহ পাক-এর ইচ্ছায় আমি হিন্দুস্থানে ফিরে আসি তখন পূর্বোক্ত সকল ফয়েজ বরকতে কমতি বা ঘাটতি উপলব্ধি করলাম। (চলবে)