বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৫২ মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিছে দেহ্লবী রহমতুল্লাহি আলাইহি,

সংখ্যা: ১৯৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

ভাষান্তরঃ মাওলানা মুহম্মদ ফযলুল হক

হযরত শায়খ হুসাইন রহমতুল্লাহি আলাইহি

(৮২০-৯০১ হিজরী)

পূর্ব প্রকাশিতের পর

এখন ইবাদত বন্দেগীর চিন্তা না করে সর্বদা কালিমা শাহাদাত পাঠের মাধ্যমে ঈমান নবায়নের ফিকিরে মশগুল থাক। তবেই মৃত্যুর সময় কালিমা শরীফ নছীব হবে। যদি লিসানী ঈমান ও যবানী তাওহীদ নছীব নাই হয় তবে এই ময়দানে (মৃত্যুর সময়) এই কথা বলতে বলতেই চলে যাবে।

در مجلس وصالت خمہاکشند مرداں+ چوں دور خسروا ید مے در سبو نماند.

‘পেয়ালার পর পেয়ালা ভরে পানীয় থাকলেও মৃত্যুর সময় পান করার মত কিছুই পাওয়া যাবে না।’

এখন জীবনের শেষপ্রান্ত জীবনের অধিকাংশ সময়ই চলে গিয়েছে। জীবনের কোন মাস ও বৎসরের ভরসা নেই। আমার বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে কেবল একজনই পাক পবিত্রতার সাথে রয়েছেন। আর এ অধম পুরাতন মূর্তি পূজা ও নফসে আম্মারার পরীক্ষায় যখনই নিপতিত হয় তখন কেবলমাত্র শায়খের দোয়া ও গায়েবী মদদে উহা থেকে মাহফূজ থাকে।

অনুরূপভাবে দ্বিতীয় চিঠিতে মহান আল্লাহ পাক-এর মত পথ অনুসন্ধানের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। উক্ত চিঠিতে লিখা হয়েছে- মহান আল্লাহ পাক-এর একটি খাছ নাম মুবারক নির্দিষ্ট করে সেই নামের যিকির করতে থাক। সুনাম সুখ্যাতি লাভের জন্য তুমি অনেক (নামধারী) বুযূর্গ পাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেটা দুনিয়াবী চাকচিক্য ও বেদ্বীনী হাল। হযরত শায়খ শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া মুনীরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর খানকা শরীফ খুব জাঁক-জমকপূর্ণ ছিলনা তথাপিও তাতে মানুষ হাক্বীক্বী তরীক্বতের দরস লাভ করতো এবং গইরুল্লাহ হতে বিরত হওয়ার পন্থা শিক্ষা করতো। তিনি প্রায়ই বলতেন

بولایت محبت صفریست عاشقاں را.

بجہاں چہ دید أنکس کہ ندید ایں جہاں را.

অর্থ: মুহব্বতের রাজ্যে ঐ আশিকেরই দামান থাকে যিনি এই দুনিয়াতে ইহলৌকিক চাকচিক্যকে দেখেন না বা পরোয়া করেন না।

যে ব্যক্তির পদচারণা মহান আল্লাহ পাক-এর রাস্তায় না হয় তার হাঁটাচলা করার মেহনত ও কষ্টই বৃথা। এমন ব্যক্তির উচিত তার আভ্যন্তরীণ আবর্জনা দূরীভূত করা। এ অবস্থায়ও তার নামায, রোযা অন্যান্য ইবাদত-বন্দিগী কিছুটা ফায়দাদায়ক হবে। পুরুষ ও পুরুষত্বহীনদের কার্যকলাপের মধ্যে আসমান-যমীন পার্থক্য হয়ে থাকে। ফেরেশ্তাদের মূর্তি পূজার সাথে কোনই তায়াল্লুক থাকে না। যে সকল বিষয়াবলী তোমাকে সত্যপথে বাধা দান করে তাই তোমার জন্য ত্বাগুত। (মহান আল্লাহ পাক তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন)

মানুষের প্রতি মেহেরবানী ও দয়া করাটা আমার জন্য কোন প্রতিবন্ধকতা নয়। এর মধ্যেই কল্যাণ ও শান্তি রয়েছে। মানুষ সর্বদা দৃঢ়তা অবলম্বন করবে। যদি মন্দির থেকেও কোন নছীহতমূলক ও কল্যাণকর আওয়াজ আসে তবে তাও যেন গ্রহণ করে। যুবক বয়সে বৃদ্ধদের মত দুর্বল চিন্তা করো না। কখনো মারাত্মক অসুস্থতার মধ্যে পতিত হলেও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়োনা বরং সর্বাবস্থায়ই কল্যাণকর কাজে মশগুল থাক। মূল কাজই হচ্ছে সর্বপ্রকার বদ স্বভাবকে পরিবর্তন করে ভাল কাজে মশগুল হওয়া।

এর দৃষ্টান্ত হচ্ছে- অযু করার পরেও যদি অযু না হয় তবে নামায বা অন্যান্য ইবাদত-বন্দিগী শুদ্ধ হবে না। কেননা ইবাদত শুদ্ধ হওয়ার মূলই হচ্ছে পবিত্রতা বা অযুর বিশুদ্ধতা। পবিত্রতা ব্যতীত ইবাদত যেমন বাতিল হয় তেমনি সালিকের আভ্যন্তরীণ পবিত্রতা হাসিল না হলে কোন কিছুই অর্জন করা সম্ভব নয়।

তুমি প্রশ্ন করেছ যে, ঠা-ার কারণে কষ্ট হচ্ছে, সুতরাং অনুমতি হলে ঠাণ্ডা (শীত) নিবারণের জন্য পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করবো।” এ ব্যাপারে আমি বলব লেবাস-পোশাক, কাফনের কাপড়, জুব্বা ইত্যাদি পরিধান করা একটি রসম মাত্র। কিন্তু ফকিরী, দরবেশী বা আল্লাহওয়ালা হওয়ার পথ পরিপূর্ণতা ও উঁচু মর্যাদা তথা রেজায়ে মাওলা হাসিলের পথ। তার কাপড় পরিধান করাটা শীত নিবারণের জন্য মূল বা গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় নয়। হাক্বীক্বত আল্লাহ পাক বাহ্যিক অবস্থা দেখবেন না বরং আভ্যন্তরীণ অবস্থাই মূল বিষয়।

কাজেই জরুরত আন্দাজ পোশাক ব্যবহার কর। আর আল্লাহমুখী ও হক্ব তালাশীদেরকে যাহিরী ছূরতে চিনা ও বুঝাটা মুশকিল হয় সেজন্য তাঁকে অস্বীকার করা ও তার প্রতি কোনরূপ অপবাদ আরোপ করা পূর্ণতা হাসিলের জন্য নাশুকরী বা অকৃতজ্ঞতা এর নামান্তর।

আমাদের পূর্ববর্তী বুযূর্গানে দ্বীনগণের ক্বওল শরীফ হচ্ছে যদি ক্ষুধার্ত থাকাবস্থায় কোন খাদ্য তোমার সামনে আসে তবে তুমি পেটভরে খেওনা বরং অর্ধেক ক্ষুধা বাকি রাখ। অনুরূপভাবে যদি পেটভরার জন্য পানি যথেষ্ট হয় তবে তাও পেট ভরে পান করো না। কেননা পেট ভরে খানাপিনার দ্বারা আল্লাহ পাক-এর ইচ্ছা ব্যতীত কোন ফায়দা নেই। যেহেতু মানুষের মূল চাহিদা রেজায়ে মাওলা। সুতরাং অন্য কিছু দ্বারা পেট ভরাটা সমিচীন নয়। (চলবে)

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৩

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৪

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৫

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৬

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৭