বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৫১

সংখ্যা: ১৯২তম সংখ্যা | বিভাগ:

মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিছে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি,

ভাষান্তরঃ মাওলানা মুহম্মদ ফযলুল হক

 

হযরত শায়খ হুসাইন রহমতুল্লাহি আলাইহি

(৮২০-৯০১ হিজরী)

মাকতূব: (সন্তানগণের প্রতি নছীহত) হে ছেলে! কাজী আমজাদ (আমাকে) কিছু কথা বা ফায়দাদায়ক কতিপয় নছীহত করার জন্য দরখাস্ত করলেন। একথা বলেই তিনি খুব আনন্দ প্রকাশ করলেন। বুযূর্গানে দ্বীনগণ যদিও নছীহত করার ক্ষেত্রে কোন কথাই তরক করেন না। আমি এখানে তোমাদেরকে শুধুমাত্র এতটুকুই নছীহত করব তা হচ্ছে- নিজের নফসকে সর্বদা দুশমন মনে করবে। আর সর্বাবস্থায় খাহেশাতে নফসানী-এর খিলাফ আমল করবে। যেকোন (ভাল) কাজে মশগুল থাকাকে মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত মনে করবে। এ অবস্থা হাছিল করার পদ্ধতি এই যে, নিজের ক্বলবকেই নিজের রক্ষক মনে করবে। তোমার যতটুকু সময় আল্লাহ পাক উনার যিকির বা স্মরণে অতিবাহিত হয় ততক্ষণই নিজেকে মুসলমান মনে কর। আর যতটুকু সময় তুমি যিকরুল্লাহ থেকে গাফিল থাক ততক্ষণ নিজেকে কুফর ধারণা কর। দুশমন থেকে হিফাযত থাকার জন্য একথাগুলিই তোমার জরুরী।

এছাড়া তোমার জন্য জরুরী নছীহত হচ্ছে নিজের হাত, পা তথা সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সর্বপ্রকার ছগীরা ও কবীরা গুনাহ থেকে হিফাযত রাখবে। দিবারাত্রি সর্বদা তওবা ইস্তিগফারে মশগুল থাকবে। নিজের দিলের অবস্থা সম্পর্কে ফিকির করবে এবং আমার (শায়খণ্ডএর) পক্ষ থেকে যত অযীফা বা ছবক দেয়া হয় তা যথার্থ তা’যীম-তাকরীমের সাথে পালন করবে। সকল কাজের মূলই হচ্ছে তওবা। তওবার মাক্বামের মিছাল হচ্ছে ঐ যমীন যাতে একটি বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছে (এবং উহার উপরে যত খুশি তত তলা বিল্ডিং তৈরি করা যাবে) যার আশপাশে কোন যমীনই নেই সেখানে কোন বিল্ডিংই তৈরি করা যাবে না। আমার এবং তোমাদের সকলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ও অনুসরণীয় বিষয় হচ্ছে- সর্বাবস্থায়ই নিজের হাত, পা, নাক, কান, চোখ, মুখ ইত্যাদি সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সর্বপ্রকার ছগীরা, কবীরা গুনাহ থেকে হিফাযত রাখা। দিবারাত্রি সর্বদা এ চিন্তায় মশগুল থাকবে যে, সারাদিন আমার যবান পবিত্রভাবে অতিবাহিত হল কিনা, আমার হাত, পা নেক কাজে ব্যবহৃত হলো নাকি খারাপ কাজে ব্যবহৃত হয়েছে? যদি এটা জানা যায় যে, অন্যায় কাজেই নিজের শরীর ব্যবহৃত হয়েছে তবে তৎক্ষণাতই তওবা করে নিবে এবং ঈমানকে নবায়ন করে ইবাদতে ইলাহীতে মশগুল হয়ে যাবে। যদি তুমি এমন চিন্তায়ই মশগুল থাকতে পার এবং ঐ সকল দুশ্চিন্তা থেকে বিরত থাকতে পার তবেই অন্যান্য সকল মাখলুক্বাতের নেকীর বদলা তোমার আমলনামায়ও দান করা হবে।

এ যামানায় হালাল রুজি খানেওয়ালা এবং গুনাহ থেকে বাঁচনেওয়ালাই হযরত জুনায়িদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ন্যায়। আর চিন্তা ফিকির করেই যদি কাজ করা হয় তবেই উহার আসল বা প্রকৃত ফলাফল পাওয়া যাবে।

দ্বিতীয় কথা এমন যে, পানির ফোটা যমীনে পড়েই তৎক্ষণাৎ নিঃশেষ  হয়ে যায়। যখন কারো এ অবস্থা হাসিল হয় তখনই তার শুকরিয়া আদায় করা আবশ্যক। আর যদি এ অবস্থা না হয় তবে তাকেও পরিপূর্ণভাবে শরীয়তের উপর চলা প্রয়োজন। এজন্য যে, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে পরিপূর্ণ শরীয়তের উপর চলতে পারবে পরকালে সে নিরাপদে পুলসিরাত পার হতে পারবে। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে শরীয়ত অনুযায়ী চলতে ভুল করবে অবশ্যই সে পরকালে পুলসিরাত পার হতে ভুল করবে।

دوزخ و جنت ار یں جامں برند+راحت ومحنت ازینجا مں برند

দোযখ ও জান্নাতে এই দুনিয়ার লোকেরাই প্রবেশ করবে। সুখ শান্তি ও কষ্ট ক্লেশ এই দুনিয়ার লোকেরাই লাভ করবে।

অর্থাৎ এই দুনিয়াই আখিরাতের কামাইয়ের স্থান। জান্নাত ও জাহান্নাম এ দুনিয়াতে কামাইয়েরই প্রতিফল।

যেখানে যে অবস্থায়ই থাক না কেন শরীয়তের পরিপূর্ণ পাবন্দি কর যাতে বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীন সর্বপ্রকার সৌভাগ্যশীলতা হাসিল করতে পার। আফসুস! সারা জীবনই ফুসুক ও ফুজুরীতে অতিবাহিত হলো, সারা জীবনে আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবুলযোগ্য দু রাকায়াত নামাযও আদায় করতে পারিনি, এমন কোন রোযাও জীবনে রাখতে পারিনি যাকে প্রকৃত রোযা বলা হয়। আমাদের অবস্থা এমনই যে, সকালে মুসলমান হয়ে জাগ্রত হই আর সারাদিন কুফরী অবস্থায় গুনাহর কাজে মশগুল থাকি।

কোন এক কবি বলেছেন-

فسق است وفجور کار ہر روزۂ ماہ پرشد زحرام کا سہ وکوزۂ ما

می خندد وروگاز ومی گوید عمر ہرطاعت وبر نماز و بر روزۂ ما

দিবা রাত্রি আমরা গুনাহের মধ্যেই মশগুল থাকি, আমাদের সকল পাত্রই হারামে পরিপূর্ণ। যামানা বা কাল (আমার আমল দেখে) হাসছে আর আমার বয়স আমার নামায, রোযা ইত্যাদি ইবাদতে কাঁদছে। (চলবে)

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৩

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৪

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৫

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৬

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৭