মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২য় পর্ব)

সংখ্যা: ২৮৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য এবং অশেষ-অসীম সম্মানিত ছলাত ও সালাম মুবারক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ। মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খাছ রহমত, বরকত, সাকীনাহ, দয়া-দান, ইহসান মুবারক উনাদের কারণে – “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগ উনার তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের অকাট্ট দলীলের আলোকে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায়- “৩৮তম সম্মানিত ফতওয়া মুবারক হিসেবে” মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ ও সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া মুবারক পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

পূর্ব প্রকাশিতের পর

(ফতওয়া  শুরু)

যিনি খলিক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাকসহ মানব জীবনে যা কিছু প্রয়োজন সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট সমাধান দিয়েছেন।

যিনি খলিক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

مَا فَـرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ

অর্থ: আমি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কিতাব, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে কোন কিছুই উল্লেখ করা বাকী রাখিনি। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনয়া’ম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৮)

যিনি খলিক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

وَنَـزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْـيَانًا لِّكُلِّ شَيْءٍ

অর্থ: আমি আপনার প্রতি যে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কিতাব মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ অবতীর্ণ করেছি উনার মধ্যে ছোট-বড়, খুটি-নাটি সকল কিছুই বর্ণনা করেছি। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নাহল শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ-৮৯)

যিনি খলিক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

كُلٌّ فِيْ كِتَابٍ مُّبِيْنٍ

অর্থ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কিতাব, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে সুস্পষ্টভাবে সকল কিছুই বর্ণনা করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হুদ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)

কেননা একমাত্র সম্মানিত ইসলামই হচ্ছেন পরিপূর্ণ দ্বীন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اَلْيَـوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْـنَكُمْ وَأَتْـمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِيْ وَرَضِيْتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِيْـنًا

অর্থ: আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের সম্মানিত দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম। এবং তোমাদের উপর আমার সমস্ত নিয়ামতকে সমাপ্ত করলাম। আর তোমাদের জন্য সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে মনোনীত করলাম। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩)

এরপরও যারা বলে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে নির্দিষ্ট কোন পোশাকের বর্ণনা নাই। সম্মানিত ও পবিত্র সুন্নতী লিবাস বলতে কোন লিবাস নাই। তারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে অপরিপূর্ণ বা অসম্পূর্ণ দ্বীন হিসেবে আখ্যায়িত করার কারণে এবং উল্লেখিত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফগুলিকে অস্বীকার করার কারণে, নিঃসন্দেহে কাট্টা কুফরী করেছে। নাউযুবিল্লাহ!

সম্মানিত ও পবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক মুবারক পরিধান করাই মুসলমানদের

শি‘য়ার বা প্রাথমিক পরিচয়

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক মুবারকই হলো প্রতিটি মুসলিম নর-নারী উনাদের অন্যতম প্রাথমিক শি’য়ার বা বাহ্যিক পরিচয়। যিনি খালিক, যিনি মালিক, যিনি রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ذٰلِكَ مِنْ اٰيَاتِ اللهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُوْنَ

অর্থ: (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী পোশাক) উহা মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন উনার অন্তর্ভুক্ত। যাতে তারা নির্দেশ মুবারক মেনে চলতে পারে। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ- ২৬)

আরবীতে বলা হয়ে থাকে যে,

اَلنَّاسُ يُعْرَفُـوْنَ بِاللِّبَاسِ

অর্থ: পোশাকে মানুষের পরিচয়। অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী পোশাক-পরিচ্ছদ উনার মাধ্যমেই সম্মানিত মুসলমান এবং অন্যান্য তথা-কথিত ধর্মের লোকদের মধ্যে পার্থক্য হয়।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক মুবারক পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অন্যতম একটি অপরিহার্য বিষয়। পোশাক ব্যতিত মানুষের যেমন বাহ্যিক পরিচয় প্রমাণিত হয়না, তেমনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী পোশাক ব্যতিত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার উম্মত বলেও প্রমাণিত হয়না।

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَـهُوَ مِنْـهُمْ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি কোন বিজাতীদের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করলো, সে তাদের দলেরই অন্তর্ভুক্ত। (আবূ দাউদ শরীফ, আহমদ শরীফ)

উল্লেখিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলা হয়েছে-

قَـوْلُهٗ مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَـهُوَ مِنْـهُمْ  يَعْنِيْ مَنْ شَبَّهَ نَـفْسَهٗ بِالْكُفَّارِ فِي اللِّبَاسِ وَغَيْرِهٖ مِنَ الْمُحَرَّمَاتِ فَإِنِ اعْتَـقَدَ تَـحْلِيْلَهٗ فَـهُوَ كَافِرٌ وَإِنِ اعْتَـقَدَ تَحْرِيْـمَهٗ فَـقَدْ أَثِـمَ

অর্থ: উল্লেখিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অর্থ হলো: যে ব্যক্তি কোন বিজাতীয় সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্যতা রাখলো,  সে তাদের দলের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজেকে কোন কাফিরদের সাথে পোশাক পরিধান করার ক্ষেত্রে বা অন্য কোন হারাম কাজের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রাখলো। সে যদি তাদের পোশাক বা অন্য হারাম কাজগুলি বৈধ বলে, তাহলে সে কাফির। আর যদি হারাম জেনে করে থাকে, তাহলে সে ফাসিক। (আল-মাফাতীহু ফী শারহিল মাছাবীহ ৫ম খণ্ড ১৮ পৃষ্ঠা)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা ফরয।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে অবশ্যই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস মুবারক উনার সুষ্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস মুবারক পরিধান করা ফরয উনার অন্তর্ভুক্ত।

যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

مَاۤ اٰتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ وَمَا نَـهَاكُمْ عَنْهُ فَانْـتَـهُوْا وَاتَّـقُوا اللهَ اِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ

অর্থ: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের নিকট যা নিয়ে আগমন করেছেন, তা তোমরা আকড়ে ধরো অর্থাৎ আমল করো। আর যা থেকে তিনি তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে তোমরা বিরত থাকো। আর এই বিষয়ে তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তিনি কঠিন শাস্তি দাতা। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হাশর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ-৭)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰي عَنْهُ قَالَ لَوْ تَـرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَكَفَرْتُمْ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, যদি তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক (অবজ্ঞা করো) ছেড়ে দাও, তাহলে তোমরা কুফরী করলে। নাউযুবিল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ, ফতহুল বারী লি ইবনে রজব ৫ম খণ্ড ৪৪৭ পৃষ্ঠা)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰي عَنْهُ قَالَ لَوْ تَـرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَضَلَلْتُمْ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, যদি তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক  (অবজ্ঞা করো) ছেড়ে দাও, তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে গেলে। নাউযুবিল্লাহ! (সুনানু ইবনে মাজাহ্ শরীফ, ছহীহ মুসলিম শরীফ, সুনানু নাসায়ী শরীফ,শুয়াবুল ঈমান লিল বাইহাক্বী শরীফ ৪র্থ খণ্ড ৩৪১ পৃষ্ঠা, আসমুসনাদু লিশ-শাশী ২/১৫০, মুসনাদু ইবনে আবী শাইবা ১ম খণ্ড ২৩৭ পৃষ্ঠা, মুসনাদু আহমাদ, আল জামিউছ ছহীহু লিস-সুনানি ওয়াল মাসানীদ ১ম খণ্ড ৩৬৬ পৃষ্ঠা, আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব-ত্ববারানী ৯ম খণ্ড ১১৬ পৃষ্ঠা জামিউল বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদ্বলিহী ২য় খণ্ড ১২০৭ পৃষ্ঠা)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,

كَانَ حَضْرَتْ اِبْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْـهُمَا يَـقُوْلُ أَلَيْسَ حَسْبُكُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু তিনি প্রায়ই বলতেন, আপনাদের যিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নবী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত সুন্নত মুবারক কি আপনাদের জন্য যথেষ্ট নয়। (সুনানুদ-দারা ক্বুত্বনিয়্যি ৩য় খণ্ড ২৫০ পৃষ্ঠা)

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,

قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِىْ وَ سُنَّةِ الْـخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّيْنَ وَ تَمَسَّكُوْا بِهَا وَعَضُّوْا عَلَيْـهَا بِالنَّـوَاجِذِ

অর্থ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের উপর কর্তব্য হলো আমার এবং হযরত খুলাফায়ে রাশেদ্বীন আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের পবিত্র সুন্নত মুবারক উনাকে পালন করা। এবং তোমরা মাড়ির দাঁত দিয়ে উক্ত সুন্নত সমূহকে আকড়ে ধরো। (তিরমিযী শরীফ, আহমাদ শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, শরহুত ত্বীবী শরীফ, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, মুযাহিরে হক্ব, মিরয়াতুল মানাজীহ)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোচনা দ্বারা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হলো যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক অনুসরণ করা প্রত্যেকের জন্য ফরয। তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস মুবারক পরিধান করাও প্রত্যেকের জন্য ফরয।

অসমাপ্ত- (পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৭)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৬০

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১৬)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪২তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১৫ম পর্ব)