মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে-মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৫)

সংখ্যা: ২৯২তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য এবং অশেষ-অসীম সম্মানিত ছলাত ও সালাম মুবারক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ। মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খাছ রহমত, বরকত, সাকীনাহ, দয়া-দান, ইহসান মুবারক উনাদের কারণে – “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগ উনার তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের অকাট্ট দলীলের আলোকে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায়-

 “৩৮তম সম্মানিত ফতওয়া মুবারক হিসেবে”

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ ও সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া মুবারক পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

সাদা কাপড়ের ক্বমীছ পরিধান করা খাছ সুন্নত মুবারক যা অতি উত্তম ও

পবিত্র পোশাক

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ سَـمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِلْبَسُوا الثِّيَابَ الْبِيْضَ فَإِنَّـهَا أَطْهَرُ وَأَطْيَبُ وَكَفِّنُـوْا فِيْـهَا مَوْتَاكُمْ

অর্থ: হযরত সামুরা বিন জুনদুব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু হতে বর্ণিত: তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা সাদা লিবাস পরিধান করুন। নিশ্চয়ই তা অধিক পবিত্র ও অতি উত্তম লিবাস মুবারক। এবং উক্ত সাদা লিবাস মুবারক উনার দ্বারা মৃত ব্যক্তির কাফন সম্পাদন করুন। (আহমদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মাযাহ শরীফ)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْه قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ صلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْكُمْ بِهٰذِهِ الْبَـيَاضِ فَـلْيَـلْبِسْهَا اَحْيَائُكُمْ وَكَفِّنُـوْا فِيْـهَا مَوْتَاكُمْ

অর্থ: হযরত সামুরা বিন জুনদুব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের জন্য এই সাদা লিবাস পরিধান করা অপরিহার্য করে নাও। তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে তারা যেন সাদা লিবাসই পরিধান করে এবং যারা ইন্তিকাল করবে তাদের কাফন তোমরা সাদা কাপড়ের দ্বারাই সম্পন্ন করো। (তিরমিযী শরীফ)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-

قَالَ حَضْرَتْ اَبُـوْ ذَرٍّ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْه اَتَـيْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهِ ثَـوْبٌ اَبْـيَضٌ

অর্থ: হযরত আবূ জর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এমতাবস্থায় উপস্থিত হলাম, যে এসে দেখি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মাথা মুবারক) থেকে শুরু করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত (ক্বদম মুবারক) পর্যন্ত সমস্ত নূরুল মুজাসসাম (জিসিম) মুবারক উনাতে তিনি সাদা লিবাস মুবারক পরিধান করে রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْـقَةِ عَلَيْـهَا السَّلَامُ اِنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُفِّنَ فِىْ ثَلَاثَةِ اَثْـوَابٍ يَمَانِيَّةٍ بِيْضٍ سَحُوْلِيَّةٍ مِّنْ كُرْسُفٍ لَيْسَ فِيْـهَا قَمِيْصٌ وَلَا عِمَامَةٌ

অর্থ: উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দীদার মুবারকে তাশরীফ মুবারক নেন, তখন উনার কাফন মুবারক ইয়ামান দেশের তৈরী মোটা সাদা সূতি কাপড়রের তিনটি পোশাক মুবারক উনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছিল। যার মধ্যে ক্বমীছ ও পাগড়ী মুবারক ছিলনা। (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)

ক্বমীছ বা জামা সূতী কাপড়ের হওয়া খাছ সুন্নত মুবারক

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ عَلٰى رَسُوْلِ اللّٰهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ قُمْصٌ مِّنْ قُطْنٍ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি হুদাইবিয়ার দিনে সূতি কাপড়ের জামা মুবারক পরিধান করেছেন। (মাজমাউজ যাওয়ায়িদ লিল হাইছামী)

قَدْ أَخْرَجَ الدِّمْيَاطِيُّ كَانَ قَمِيْصُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُطْنًا

অর্থ: হাফিয দিমইয়াত্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সূতী কাপড়ের ক্বমীছ মুবারক পরিধান করতেন। (ইতহাফুল ক্বরী লি-দূরারিল বুখারী ৯/৯৪, আল-ফাতহুর রব্বানী লি-তারতীবি মুসনাদিল ইমাম আহমদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানী, তুহফাতুল আহওয়াজী, মিরক্বাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ ৭/২৭৭২)

ক্বমীছ বা জামা গোল হওয়া এবং একটি গুটলীযুক্ত হওয়া খাছ সুন্নত মুবারক

 

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ سَلْمَةَ بْنِ الْاَكْوَعِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قُـلْتُ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ صلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنِّىْ رَجُلٌ اُصَيِّدُ اَفَاُصَلِّىْ فِى الْقَمِيْصِ الْوَاحِدِ قَالَ نَـعَمْ وَازْرُرْهُ وَلَوْ بِشَوْكَةٍ

অর্থ: হযরত সালমা ইবনে আকওয়া’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি একজন শিকারী লোক, আমি কি শুধু মাত্র একটি জামা পরিধান করে পবিত্র সলাত আদায় করতে পারব? তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হ্যঁা পারবেন। তবে আপনার গলাবন্ধনীকে আটকিয়ে দিবেন, যদিও তা একটি কাটার দ্বারা হউক। (পবিত্র আবূ দাউদ শরীফ, পবিত্র নাসায়ী শরীফ)

উল্লেখ্য যে, পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখিত ازْرُرْهُ শব্দ মুবারক উনার দ্বারা এবং وَلَوْ بِشَوْكَةٍ শব্দ মুবারক দ্বারা একটি গুটলী ব্যবহার করা পবিত্র সুন্নত প্রমাণিত। এবং শুধুমাত্র একটি জামা পরিধান করে পবিত্র ছলাত আদায় করার অনুমতি প্রদান করার দ্বারা পবিত্র জামাটি কোণাফাঁড়া না হওয়া বরং গোল জামা হওয়া পবিত্র সুন্নত প্রমাণিত।

 

ফুত্হা অর্থাৎ ক্বমীছের গলা সংশ্লিষ্ট ফাড়া অংশ বক্ষের উপরে হওয়া খাছ

সুন্নত মুবারক

 

পবিত্র সুন্নতী ক্বমীছ উনার গলাবন্ধনীর নীচে ফাঁড়া অংশটিকে ফুত্হা বলে। আর গলাবন্ধনী ও সংশ্লিষ্ট ফাড়া অংশকে একত্রে জেব বলে। জেব শব্দটি এক বচন, বহু বচনে جُيُـوْبٌ (জুয়ূবুন)। যা প্রথমে ক্বমীছ পরিধান করতে মাথা প্রবেশ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। তারপর গলাবন্ধনীকে একটি গুটলী দ্বারা আটকিয়ে দেয়া হয়। যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার তিনি পবিত্র সূরা নূর শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,

وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰى جُيُـوْبِهِنَّ

অর্থ: মহিলারা যেন তাদের গলা ও বক্ষদেশ ওড়না দ্বারা ডেকে নেয়।

جُيُوْبِهِنَّ يَعْنِيْ مَوْضِعُ الْجَيْبِ وَهُوْ النَّحْرُ وَالصَّدْرُ

অর্থ: جُيُوبِهِنَّ (জুয়ূবিহিন্না) অর্থাৎ জামায় গলা ও বক্ষ দু’টি স্থানকে জেব বলা হয়। (তাফসীরে ইবনে আব্বাস পৃ:২৯৫, তাফসীরে কুরত্ববী ১২/২৩০, ফতহুল ক্বদীর লিশ-শাওকানী ৪/২৪, তাফসীরে খাযিন ৩/২৯২, তাফসীরে জালালাইন পৃ: ৪৬২ ইত্যাদি)

যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَأَدْخِلْ يَدَكَ فِيْ جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَـيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوْءٍ

অর্থ: আপনি আপনার হাত মুবারক পবিত্র সুন্নতী জামা মুবারক উনার বুকের উম্মুক্ত অংশে প্রবেশ করান। তা ত্রুটিমুক্ত বিচ্ছুরিত শুভ্র আলো হয়ে বের হয়ে আসবে। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নমল শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ-১২)

يَعْنِيْ أَدْخِلْ يَدَكَ بِسُهُوْلَةٍ

অর্থাৎ: আপনি আপনার হাত মুবারক সহজভাবে প্রবেশ করান।

أَدْخِلْ يَدَكَ এবং واسْلُكْ يَدَكَ এর মধ্যে

পার্থক্য হলো:

জামার গুটলী যদি খোলা থাকে তাহলে এক্ষেত্রে إِدْخَالٌ ব্যবহৃত হয়। আর জামার গুটলী যদি বন্ধ থাকে, তাহলে হাতকে কোমলভাবে প্রবেশ করাতে তার জন্য জায়গা প্রশস্ত করার প্রয়োজন হয়। সে কারণে জামার গুটলী যদি বন্ধ থাকে তাহলে হাতকে কোমলভাবে প্রবেশ করানোর ক্ষেত্রে اُسْلُكْ ব্যবহৃত হয়। (তাফসীরুশ শা’রাভী ১৮/১০৭৪৫)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ عُرْوَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُـرَّةَ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْـهُمْ حَدَّثَنِيْ أَبِيْ قَالَ أَتَـيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيْ رَهْطٍ مِّنْ مُزَيْـنَةَ فَـبَايَعْنَاهُ وَإِنَّ قَمِيْصَهٗ لَمُطْلَقُ الْأَزْرَارِ قَالَ فَـبَايَعْنَاهُ ثُمَّ أَدْخَلْتُ يَدِيْ فِيْ جَيْبِ قَمِيْصِهٖ فَمَسَسْتُ الْـخَاتَمَ

অর্থ: হযরত উরওয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত মুয়াবিয়া বিন ক্বুররা রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু থেকে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন, আমার পিতা হযরত ক্বুররা রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু বলেছেন, আমি একদা মুযাইনা গোত্রের একদল লোকের সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে আসলাম এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুরুল মাগফিরাহ্ (হাত মুবারকে) বাইয়াত গ্রহণ করলাম। ঐ সময় উনার সম্মানিত ক্বামিছ মুবারক উনার কাপড়ের গুটলী মুবারক খোলা ছিল। রাবী বলেন, আমরা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুরুল মাগফিরাহ্ (হাত মুবারকে) বাইয়াত গ্রহণ করার পর আমি আমার হাত খানা উনার মহাসম্মানিত ক্বামিছ মুবারক উনার ভিতরে প্রবেশ করালাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মহরে নুবুওওয়াত মুবারক স্পর্শ করলাম। সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ, আহমদ শরীফ, ছহীহ ইবনে হাব্বান, শরহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী ১২/১৫, শুয়াবুল ঈমান ৮/২৮২, মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতুল মাছাবীহ ৭/২৭৭৫)

ক্বমীছ উনার হাতা কব্জি পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া পবিত্র সুন্নত মুবারক

মুজাদ্দিদে আ’যম, মুহইউস সুন্নাহ সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ক্বমীস উনার হাতার দৈর্ঘ্য কব্জি হতে আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত প্রলম্বিত হতে পারবে। তবে কব্জির কম অথবা আঙ্গুলের মাথা হতে বেশি হতে পারবে না। মূল মাসআলা এটাই। যদিও বিভিন্ন কিতাবে বিষয়টি বিভিন্নভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ أَسْمَاءِ بِنْتِ يَزِيْدَ بْنِ السَّكَنِ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْـهَا قَالَتْ كَانَ كُمُّ قَمِيْصِ رَسُوْلِ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الرُّسْغِ

অর্থ: হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ বিন সাকান রদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ক্বমীছ মুবারক উনার হাতা মুবারক কব্জি পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। (তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, শরহুস সুন্নাহ লিল-বাগভী, আল-আদাবু লিল-বাইহাক্বী শরীফ)

অসমাপ্ত-

(পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

 

 

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪২তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া    ১৫দ

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৩তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া   ১৬

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৪তম পর্ব