মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৭২

সংখ্যা: ২৯২তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৩তম ফতওয়া হিসেবে

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”- পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

 

সম্মানিত হানাফী মাযহাব প্রণয়নে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার উপর গুরুত্বারোপ

পূর্বেই বলা হয়েছে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার পর প্রধান অবলম্বনই ছিল মহাসম্মানিত ও মহাসম্মানিত সুন্নাহ শরীফ। হানাফী মাযহাব প্রণয়নের ক্ষেত্রে  তিনি অক্ষরে অক্ষরে এ মূলনীতি অনুসরণ করেছেন। একান্ত অপারগতা ছাড়া মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত ছেড়ে কিয়াস কিংবা ইজমার দিকে ধাবিত হননি। যদিও মূর্খতার কারণে কেউ কেউ এই মাযহাবের ব্যাপারে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে দূরবর্তীতার অভিযোগ উত্থাপন করে। বাস্তবতা হলো অন্যান্য মাযহাবের তুলনায় হানাফী মাযহাব মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সবচেয়ে নিকটবর্তী। কেউ এটা বুঝতে না পারলে তার কথা ভিন্ন।

ইমাম আবু ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মুখে কোনো মাসআলা উত্থাপিত হলে তিনি আমাদের লক্ষ্য করে বলতেন, এ বিষয়ে আপনাদের নিকট কী কী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ আছে? আমরা আমাদের হাদীছ শরীফ সমূহ বর্ণনা করতাম। তিনিও উনার নিকট থাকা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ বর্ণনা করতেন। তখন তিনি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। যদি একাধিক মতামতের মধ্যে কোনো একটির পক্ষে বেশী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ পাওয়া যেতো, তাহলে তিনি সেটিই গ্রহণ করতেন। সুবহানাল্লাহ! (মানাকিবে আবী হানীফা লিল মাওয়াফফাক- পৃষ্ঠা ৮৫)

ইমাম ইবনে জুরাইজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, কোনো মাসয়ালার ক্ষেত্রে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফাতাওয়া প্রদান করলে তা অকাট্য মূলনীতির ভিত্তিতেই প্রদান করতেন। আমরা ইচ্ছা করলে সেই মূলনীতি বর্ণনা করতে পারবো।

উল্লেখ্য, ফিকহে হানাফী ও মালেকী সংকলন করা হয়েছে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও হযরত তাবেয়ীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মধ্যে হতে যারা ফতওয়ার ইমাম ছিলেন উনাদের পক্ষে থেকে স্বীকৃত ও গৃহীত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ ও আছারের সমন্বয়ে। (মা তামুসসু ইলাইহিল হাজা -১৬ পৃষ্ঠা)

সম্মানিত হানাফী মাযহাব যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ ভিত্তিক প্রণীত সে সম্পর্কে যুগশ্রেষ্ঠ ইমামগণ উনাদের কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হলো। আশা করি এতে ঐ সকল লোকদের ভুল ভাঙ্গবে, যারা ছিহাহ সিত্তাহর কোনো কিতাবে এই মাযহাবের বিপরীতে কিছু দেখতে পেলে কিংবা এই মাযহাবের পক্ষে কোনো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উদ্ধার করতে অক্ষম হলে সঙ্গে সঙ্গে বলে দেয়- হানাফী মাযহাব মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা এ মাযহাব কিয়াস নির্ভর। নাউযুবিল্লাহ! তর্কের খাতিরে যদি মেনেও নেয়া হয় যে, ছিহাহ সিত্তাহতে হানাফী মাযহাবের পক্ষে কোনো মাসআলায় পবিত্র হাদীছ শরীফ পাওয়া গেলো না; এর অর্থ তো এটা নয় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্বপক্ষে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নেই। ছিহাহ সিত্তাহর বাইরেও প্রচুর ছিহাহ, সুনান, মাসানিদ ও মাজামি বিদ্যমান রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে থেকে অনেকগুলো বর্তমানে কিতাব আকারে এসেছে। সেগুলোতে প্রচুর ছহীহ ও হাসান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ রয়েছে এবং তাতে হানাফী মাযহাবের পক্ষে অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়।

কেউ কেউ মনে করেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন উনার মাযহাব প্রণয়ন করেছেন তখন যেহেতু কুতুবে সিত্তাহসহ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অনেক কিতাবই রচিত হয়নি তাই উনার নিকট কোনো কোনো মাসয়ালার পবিত্র হাদীছ শরীফ পৌঁছেনি। বাহ্যিকভাবে তাদের এ ধারণা যুক্তিসংগত মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা মেনে নেয়া দুস্কর। নিম্নে এর কারণ সম্পর্কে কয়েকজন মহান আলিম উনাদের মন্তব্য তুলে ধরা হলো-

আল্লামা মোল্লা আলী কারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি এ সুধারণা করা যেতে পারে যে, তিনি সমস্ত ছহীহ ও জঈফ হাদীছ শরীফ আয়ত্ব করে নিয়েছেন। (মুসনাদে আবি হানিফা-৯১)

ইবনে হাযম জাহেরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম মুহাম্মদ ইবনে নসর আল মারওয়াযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের সম্পর্কে যে দাবী করেছেন এবং ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি ও উনার সমপর্যায়ের লোকদের জন্য যে দাবী করেছেন যে উনারা সমস্ত হাদীছ শরীফ জানতেন সে দাবীর ওপর ভিত্তি করে বলা যায়- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও উনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সমস্ত হাদীছ শরীফই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট পৌঁছেছে। সুবহানাল্লাহ!

বিখ্যাত তাবিয়ী ইমাম মাসরুক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, উনাদের সকলের ইলম মুবারক ছয়জনের নিকট এসে পৌঁছেছে। উনারা হলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত যায়েদ ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও সাইয়্যিদুনা হযরত উবাই ইবনে কাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। অতঃপর আমি এই ছয়জনকে পর্যবেক্ষণ করে উনাদের ইলম মুবারককে দুজনের মধ্যে পেয়েছি। উনারা হলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।

সিয়ারুল আলামিন নুবালা কিতাবে আল্লামা যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬৬৩-৭৪৮ হি.) নকল করেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইলিম অর্জন করেছেন এ দুই মহান ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনাদের ছাত্রদের থেকে। সুবহানাল্লাহ!

উপরোক্ত মন্তব্যগুলো পর্যালোচনা করে নির্দ্বিধায় একথা বলা যেতে পারে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বহু পবিত্র হাদীছ শরীফ ছুটে গেছে এ অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। (কাওয়ায়েদ ফী উলুমিল হাদীছ, মুকাদ্দামায়ে ইলাউস সুনান-১৯-১৬৭)

উল্লেখ্য যে, বর্তমানে যেসব কিতাবের পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশুদ্ধ বলে দাবী করা হয়, যেমন বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ ইত্যাদি সেগুলোর সনদের রাবী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সনদের রাবীদের তুলনায় অনেক বেশী। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কর্তৃক বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে যুগ যুগ ধরে উলামায়ে কিরাম নানা প্রশংসাবাণী দিয়ে গেছেন এবং মুহাদ্দিছগণ উনাদের নিকট উনার বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কদর বরাবরই ছিল। অধিকন্তু হযরত ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নির্ভরযোগ্য। মুহাদ্দিসগণ কর্তৃক বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহের মধ্যে যেগুলো বিশুদ্ধ এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বশেষ মহাসম্মানিত আমল মুবারক কেবল সেগুলোই তিনি গ্রহণ করেছেন। (আল ইন্তিকা, পৃষ্ঠা-২১২)

হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রসিদ্ধ উস্তাদ ইমাম ওয়াকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রহণ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে যে পরিমাণ সতর্ক পাওয়া যায় অন্য কাউকে তেমন পাওয়া যায় না। (আল খইরাতুল হিসান-৭৬)

ইমাম ইবনে মাঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন ছিকাহ । তিনি কেবল ওইসব পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করতেন যেগুলো উনার মুখস্থ থাকতো, আর যা উনার মুখস্থ থাকতো না. তা তিনি বর্ণনা করতেন না। (তাহযীবুত তাহযীব-১০/৪৫০)

ইমাম আব্দুল ওয়াহহাব শারানী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার মাযহাব প্রমাণ করার জন্য যেসব রেওয়ায়েত গ্রহণ করেছেন, সেগুলো তিনি শ্রেষ্ঠ তাবিয়ীগণের সূত্রে গ্রহণ করেছেন। মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত কোন রাবী সেখানে ছিল না, এমনকি এর কল্পনাও করা যায় না। উনার মাযহাবে কোনো দলীলের ব্যাপারে যদি দুর্বলতার অভিযোগ তোলা হয় তবে সেটা উনার বিছাল শরীফের পর কোনো রাবীর দুর্বলতার প্রতি লক্ষ্য করে বলা যেতে পারে। এতে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার গ্রহণকৃত রেওয়ায়েতের মাঝে কোন ছেদ পড়বে না। (মুকাদ্দিমাতু আওজাযুল মাসালেক-১/৬৪)

তিনি আরো বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুসনাদসমূহ এমন বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপি থেকে অধ্যয়নের সৌভাগ্য দান করেছেন, যেগুলোর উপর হুফফাযদের দস্তখত ছিল। উনাদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন হাফিয দিময়াতী রহমতুল্লাহি আলাইহি। সেখানে দেখেছি, তিনি আদেল, ছিকাহ, শ্রেষ্ঠ তাবিয়ীগণের সূত্রে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করতেন। যেমন হযরত আসওয়াদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আলকামা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আতা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইকরিমা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত মকহুল রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম শাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রমুখ। সুতরাং উনারা ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেকার সকল বর্ণনাকারীই হলেন আদেল ছিকাহ, জ্ঞানী শ্রেষ্ঠ, উনাদের মধ্যে নেই মিথ্যার কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত। (মিযানুল ই’তিদাল-১/৮৬, কাওয়ায়েদ ফী উলুমিল হাদীছ-২০)

হযরত ইয়াহইয়া ইবনে আদম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত হাসান ইবনে ছালেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ ও উনার মাসায়িল নকল করা হচ্ছিল আর তিনি সেগুলো খুব পছন্দ করছিলেন। (মানাকিবে আবী হানীফা লিল মুওয়াফফাক-২৯৩)

হাফেয মুরতাজা যাবীদী রহমতুল্লাহি আলাইগিহ উনার ‘উকুদুল জাওয়াহিরুল মুনীফাহ’ গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন, যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযহাবের দলীল-প্রমাণ বিষয়ে অধ্যায়ন করবে, সে অধিকাংশই ছহীহ ও হাসান হাদীছ শরীফ পাবে। আবার কিছু জঈফও পাবে, যেগুলো তিন থেকে দশ পর্যন্ত সূত্র বর্ণিত। আর এটা স্বীকৃত যে, জঈফ বলে আখ্যায়িত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের সূত্র অধিক হলে বহু হযরত মুহাদ্দিছীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের নিকট তা আমলযোগ্য হওয়ার স্তরে উন্নীত হয়। (উকুদুল জাওয়াহিরুল মুনীফাহ-১/২০)

উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো পবিত্র হাদীছ শরীফ ছহীহ হওয়ার জন্য যে সকল শর্ত পাওয়া জরুরী, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কতৃর্ক বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহে সেগুলো বিদ্যমান ছিল। উপরন্তু উনার বর্ণিত সনদে রাবী কম হওয়ায় সেগুলোর গুরুত্ব অনেক। প্রকৃত সত্য হলো যে ছুলাছিয়াত (তিনজন রাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদীছ শরীফ) নিয়ে সকল ইমামগণ গর্ব করেন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অধিকাংশ রেওয়ায়েত ছুলাছি। আর অনেক রেওয়ায়েতই ছুনাঈ তথা দুই জন রাবী কর্তৃক বর্ণিত। এমনকি সেগুলোতে উহদানিয়্যাত তথা এক রাবী কর্তৃক বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফও রয়েছে। কেননা কয়েকজন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সঙ্গে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাক্ষাত মুবারক ও উনাদের থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ শ্রবণের বিষয়টি প্রমাণিত।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইজতিহাদের মূলনীতি

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইজতিহাদ বা মাসআলা গবেষণানীতির প্রতি দৃষ্টি দিলেও এই বাস্তবতা অনুধাবণ করা যায়। উনার ইজতিহাদ বা গবেষণানীতি সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেন,

اٰخُذُ بِكِتَابِ اللهِ فَمَا لَـمْ اَجِدُ فَبِسُنَّةِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْاٰثَارِ الصِّحَاحِ الَّذِيْ فَشُذَّ فِيْ اَيْدِى الثِّقَاتِ عَنِ الثِّقَاتِ فَاِنْ لَّـمْ اَجِدْ فَبِقَوْلِ اَصْحَابِهٖ أٰخُذُ يَـقُوْلُ مَا شِئْـتُهٗ وَاَمَّا اِذَا اِنْـتَـهَى الْأَمْرُ إِلٰى اِبْـرَاهِيْمَ وَالشَّعْبِيْ وَالْـحَسَنِ وَعَطَاءٍ فَاَجْتَهِدُ كَمَا اِجْتَـهَدُوْا

অর্থ: “আমি (মাসআলার সমাধান পেশ করতে) সর্বপ্রথম কিতাবুল্লাহ অনুসন্ধান করি। মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কিতাবে সমাধান না পেলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ওই সকল ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অনুসন্ধান করি যেগুলো গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারীদের পরম্পরায় বর্ণিত হয়েছে। এখানেও সমাধান না পেলে কোনো একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মত গ্রহণ করি। (এখানেও সমাধান না পেলে) বিষয়টি যদি হযরত ইবরাহিম নাখয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার, হযরত শাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত আতা রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রমূখ উনাদের পর্যায়ের পৌঁছে তাহলে উনারা যেভাবে ইজতিহাদ করেন, আমরাও অনুরূপ ইজতিহাদ করি। (ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি মানাকিব-২০)

তিনি আরো বলেন-

مَاجَاءَنَا عَنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِاَبِیْ وَاُمِّیْ فَـعَلَى الرَّأْسِ وَالْعَيْنِ وَمَا جَاءَ عَنِ الصَّحَابَةِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْـهُمْ اَخْتَـرْنَا وَمَا كَانَ مِنْ غَيْرِ ذٰلِكَ فَـهُمْ رِجَالٌ وَنَحْنُ رِجَالٌ

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে যা আমাদের নিকট পৌঁছে, আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক, সেই মুবারক বিষয়সমূহ উনাদের স্থান আমার মাথা ও চোখের ওপর। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে যা পৌঁছে (তাতে ইখতিলাফ থাকলে) আমরা কোনো একটি মত গ্রহণ করি ।

আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ব্যতীত যারা রয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে আমাদের কথা হলো, তারাও মানুষ আমরাও মানুষ। অর্থাৎ তারা যেভাবে ইজতিহাদ করেন আমরাও সেভাবে ইজতিহাদ করি। (ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি এর মানাকিব-২০)

অসমাপ্ত-পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৪তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া   (১৭)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- ৪৫তম পরব

হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৮)